• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • অন্য মেয়েটা

    শিবাংশু লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৯ আগস্ট ২০১৫ | ৯৭৮ বার পঠিত
  • -অন্য মেয়েটা'কে সবাই ভিলেন কেন মনে করে? সে তো অনেক রিস্ক নিয়ে ভালোবাসতে চেয়েছিলো। অনেক বেশি আবেগ নিয়ে তার আঁকড়ে ধরা.....বিয়ে করতে কী লাগে? একটা নোটিস, দু'চারশো টাকা, একটা সইকরা কাগজ....
    -বড্ডো উত্তেজিত হয়ে পড়েছো... কফি খাবে? আরেকটা?
    -তুমি এড়িয়ে যাচ্ছো....
    -কে জানে... কাছে আসার জন্য দূরে যেতে হয় বোধ হয়...
    -ঐ সব শেষের কবিতা টাইপ ডায়ালগ দিও না... অসহ্য লাগে...
    -অসহ্য কী লাগে? কাকে লাগে? মানুষ'কে? বিয়ে'কে? না নিজেকে....?
    -তোমাকে.... তোমার এই সো কল্ড দায়িত্ব, দায়িত্ব মার্কা মাস্টারিকে... সব বুঝে চোখ বুজে থাকার ভন্ডামি'কে....

    আমি হাত নেড়ে ওয়েটার'কে ডাকি। আরেকবার কফি দিয়ে যাক।
    ----------------------------------------
    মেয়েটার নাম অনন্যা। ডাকনাম অবশ্যই অনু। দিল্লির মেয়ে। বয়স? কে জানে? তিরিশ পেরিয়েছে মনে হয়। মাস্টার্স করে পাঁচ বছর বিদেশে ছিলো। চাকরিও করছে তা কিছুদিন । আমার সঙ্গে পরিচয় নন্দিনীদির বাড়ি। নন্দিনীদি এখানে খুব পরিচিত একজন মানুষ। উচ্চতম পদের সরকারি আমলা। চিত্রশিল্পী, কবি, সংগঠক। রবীন্দ্রনাথের দেড়শো বছর আসছে। তিনি সিএম'কে বলে বেশ কিছু টাকা জোগাড় করেছেন। কবির নিয়ে কয়েকটি অনুষ্ঠান হবে। একটায় এপার আর ওপারের বাংলার কবিদের নিয়ে একটা সারাদিনের ওয়র্কশপ। কবির ছবি নিয়ে তিনটে সেমিনার। হায়দরাবাদের সব বাঙালি সংস্থাদের নিয়ে দু'দিনের গানের উৎসব। বড়ো প্ল্যান। একদিন অফিসে ফোন এলো । ম্যাডাম ওয়ন্টস টু স্পিক। বুঝলুম নন্দিনীদির পি এস বলছে। ইয়েস... জাস্ট হোল্ড অন। লাইনটা দিতেই প্রশ্ন করি, "কী হলো নন্দিনীদি?"
    -আজ সন্ধে'র দিকে একটু আসতে পারবে...?
    -দেখি কখন বেরোতে পারি অফিস থেকে...
    -আরে এসো এসো... গ্লেনফিডিচ খাওয়াবো...
    -কখন?
    -যে কোনও সময়... দশটা পর্যন্ত...
    -দেখছি...

    অফিস সেই লিঙ্গমপল্লি। থাকি মেহদিপটনম। সন্ধে সাড়ে সাতটায় বেরোলে একঘন্টা লেগে যায় এই ষোলো কিমি পেরোতে। আবার জুবিলি হিলসে আসা। বাড়িতে বলি, নন্দিনীদির বাড়ি হয়ে আসবো।
    -খুব দেরি কোরোনা...
    -হুমম....
    -------------------------------------
    সন্ধে আটটার মধ্যে পৌঁছে যাই নন্দিনীদির বাড়ি। দরোয়ান সেলাম করে। ম্যাডাম স্টাডিমেঁ হ্যাঁয়....
    -ঠিক হ্যাঁয়....
    বাড়িটা মস্তো। একটু ভুলভুলাইয়া গোছের। প্রথম প্রথম দিকভুল হয়ে যেতো। এখন চেনা হয়ে গেছে। ড্রইং রুম থেকে একটু নেমে, আবার একটু উঠে নন্দিনীদির স্টাডি কাম স্টুডিও। চারদিকে ইজেলে ক্যানভাস চড়ানো। একদিকের দেওয়ালে ছাদ পর্যন্ত টানা বইয়ের আলমারি। মাঝখানের গোল টেবিলের দুদিকে দুজন বসে ধোঁয়া ওড়াচ্ছেন। একজন নন্দিনীদি, অন্যজনকে চিনিনা।
    -এসো, এসো.... এবার তো সিগারেট নেভাতে হবে, তুমি তো আবার তামাকুবিরোধী সঙ্ঘের সভাপতি....
    -আরে না, রিল্যাক্স...
    -ঘনশ্যাম... সাহব কে লিয়ে এক পেগ বনাও....
    -নন্দিনীদি, নিজে গাড়ি চালিয়ে এসেছি... জানেন তো ...
    -আরে একটা খাও তো, তোমার কিস্যু হবেনা..
    -হয়তো হবে না, কিন্তু ....
    -অ, তোমার সেই প্রিন্সিপল....
    -আরে না, এক হি বনানা বাবু... বস...
    -এসো তোমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। এ হলো অনু, ভালো নাম অনন্যা। সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়, বায়োকেমিস্ট্রি...
    এই বলে চোখের কোণে একটু হাসেন নন্দিনীদি।
    -ভেবো না সত্যিই অতোটা ড্রাই....
    -দিদি, তুমি কেন অলওয়েজ এ ভাবে লেগপুল করো আমার....
    -না রে এমনি। শিবাংশুর কথা তো তোকে আগে বলেছি
    -হাই...
    -নমস্কার
    মেয়েটা এবার সিগারেটটা অ্যাশট্রে'তে গুঁজে দেয়। মুখোমুখি ঘুরে বসে। সত্যিই সুন্দরী...
    ----------------------------------
    নন্দিনীদি তাঁর নানা প্ল্যানের ঝুড়ি খুলে বসেন। কী কী হবে। সি-এম'কে দিয়ে উদ্বোধন হবে। তার পর সারি দিয়ে এখানে ওখানে অনুষ্ঠান। আমি বলি, লোক লাগবে। তিনি বলেন, চিন্তা নেই। লোক অনেক জোগাড় হয়ে যাবে। প্ল্যানটা ফুলপ্রুফ করি আগে। সবার সঙ্গে কথা হবে। লজিস্টিকস নিয়ে তোমার কোনও চিন্তা নেই। তবে তোমার ব্রেনটা কাজে লাগাতে হবে। কী বুঝলে?
    -বুঝিনু...
    -অনু আমার সহকারী, যখন যা মনে হয় ওকে বলে দেবো... তার পর তোমরা একটা ডুয়েবল প্ল্যান বানাবে...
    -নন্দিনীদি, এতো মস্তো প্ল্যান... জানিনা সময় পাবো কি না...
    -দ্যাখো, নামটা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তোমারও দায় আছে, আমার একার নয়...
    -ডোবাইবেন দ্যাখতাসি... সাকরিটা রাখা দায় অইবো....
    -ওকে, চাকরিটা গেলে বোলো, আরেকটা চাকরি জোগাড় হয়ে যাবে...
    -------------------------------------
    অনু জিগ্যেস করে, তুমি কোথায় থাকো?
    যাঃ বাবা। বাপের না হলেও কাকার বয়সি একটা লোককে পরিচয় হবার আগেই 'তুমি' করে কথা বলে এরা নাকি? তবু বলে দিই।
    -অফিসটা কোথায় তোমার?
    তাও বলি,
    -আরে ওটাতো আমার বাড়ির খুব কাছে....
    -হুমম...
    -তবে তো কন্ট্যাক্টে থাকা যাবে...
    -আপনি কি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই থাকেন?
    -হ্যাঁ, এক নমবর গেটের কাছেই... ওটার উল্টোদিকেই তো তোমাদের অফিস...
    -হুমম...
    নন্দিনীদি বলেন, পরের শনিবার একটু তাড়াতাড়ি আমরা বসবো। তোমার তো হাফডে...
    -সে তো নামেই... দেখি কতো শিগগির আসতে পারি...
    -তুমি তাহলে একটা কাজ কোরো। অফিস থেকে ফেরার সময় তোমার গাড়িতেই অনু'কে নিয়ে চলে এসো এখানে। ফেরার সময় আমার গাড়ি ওকে ছেড়ে দেবে.....
    -ঠিক আছে....
    -------------------------------------
    রাতে খেতে বসে বলি,
    -বুঝলে আজ একটা সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো...
    -হলো ! 'কতো' সুন্দরী?
    -সে আর কী বলি? তোমার মন খারাপ হয়ে যাবে...
    -নন্দিনীদিকে বলতে হবে দেখছি...
    -আর সে কী তোমার বলার অপেক্ষায় আছি নাকি?
    -শুধরোবে না কোনওদিন....
    (ক্রমশঃ)
    -------------------------

    মিটিংটা শেষ হতে হতে আড়াইটা বেজে গেলো। ফাইলপত্র গুছিয়ে নিজের কেবিনে যাচ্ছি, ফোনটা বাজছে। অচেনা নম্বর।
    -আমি ইউনিভার্সিটি এক নম্বর গেটের দিকে যাচ্ছি। ওখান থেকেই পিক আপ করে নেবে...
    -আমার মিনিট পনেরো লাগবে। আরাম সে আসুন...

    কাগজপত্র গুছিয়ে, সিস্টেমস বন্ধ করে, পার্কিং থেকে গাড়ি বার করে, পৌঁছোতে একটু সময় লাগলো। দূর থেকে দেখি যথাস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এদিক ওদিক দেখছে, একটু অস্থির ভাবসাব। পাশে গিয়ে গাড়িটা থামাই। ভিতরে উঁকি মেরে ভিতরে এসে বসে।
    -দেরি হলো কিন্তু...
    -বললুম তো, একটু দেরি হবে
    -আমি একটু স্মোক করবো, আপত্তি নেই তো...
    আমি জানালার কাচগুলো নামিয়ে দিলুম,
    -একটা প্রশ্ন করেছি...
    -উত্তর দিলুম তো...
    -শুনতে পাইনি...
    -না শোনাই ভালো...
    আর কিছু না বলে সে ধোঁয়ায় ডুবতে চায়।

    গাছি'বাওলি ক্রসিং পেরিয়েছি, ফোনটা আবার বেজে উঠলো। নন্দিনীদির ফোন।
    -শিবাংশু, একটা আর্জেন্ট মিটিঙে ফেঁসে গেছি। ঘন্টা দুয়েক লাগবে। তোমরা কী আসছো? তবে বাড়িতে বোসো... আমি বলে দিচ্ছি...
    -নন্দিনীদি, রিল্যাক্স। আপনি মিটিং সেরে আসুন। আমরা ছটা নাগাদ পৌঁছে যাবো...
    -ওকে...
    অনু'কে বলি, নন্দিনীদি ছটার আগে আসতে পারবেন না। ওঁর বাড়িতে বসবেন কি?
    - অ্যাজ ইউ লাইক...
    গাড়ি ততোক্ষণে দর্গাহের মোড় পৌঁছে গেছে। বাঁদিকে ঘুরিয়ে নিই। এখান থেকে জুবিলি হিলস পাহাড়ের মতো চড়াই রাস্তা। ডানদিকটায় হুইস্পার ভ্যালি ক্লাব। ভারি সুন্দর জায়গাটা। সন্ধের পর ওটার পুলসাইড আবহ প্রাণ জুড়োনো। প্রায় নিস্তব্ধ আলো আঁধার। কখনও গরম লাগেনা। চুপ করে বসে শুধু শীতল জিন এন লাইম। হায়দরাবাদের তাবৎ বৃহৎ রুইকাৎলারা এখন এই জায়গাটায় থাকেন। বঞ্জারা হিলসের গ্ল্যামার হাইজ্যাক করে নিয়েছে জুবিলি হিলস। পাহাড়ে উঠে যাবার পর ডানদিকের ছবির মতো উপত্যকাটির নাম সাইলেন্ট ভ্যালি।
    -------------------------------
    -টাবু'র বাড়ি দেখেছেন?
    -না তো, এখানেই থাকে নাকি?
    -হুমম, চলুন দেখি ওখানে নাগার্জুন'কে দেখতে পাওয়া যায় নাকি...
    -আচ্ছা, তুমি আমাকে এখনও আপনি করে কথা বলছো মনে হচ্ছে...
    -ঠিকই মনে হচ্ছে..
    -কেন?
    -একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাকে আপনি বলতেই আমি স্বস্তি বোধ করি..
    -নন্দিনীদি ঠিকই বলেছিলো। সে স্বগতোক্তি করে....

    জানতে চাইনা নন্দিনীদি কী বলেছিলেন। দুজনেই চুপ করে থাকি। একটু পরে বলে,
    -ইউ আর রিয়ালি ডিসেপটিভ... নট অ্যান ইজিগো'ইং পার্সন... বেশ হার্ড নাট...
    -ইজ ইট আ কমপ্লিমেন্ট ? দেন আই অ্যাকসেপ্ট....

    দু'জনেই হেসে উঠি। অনু'র ভিতরের ধোঁয়াটা মনে হচ্ছে একটু কেটেছে।
    -দ্যাখো আমি কাউকেই আপনি বলতে পারিনা। আর তুমি যদি আপনি আজ্ঞে চালিয়ে যাও, তবে তো মুশকিল...
    -বিধান রায় কি তোমার আত্মীয় হ'ন।।
    -হু ইজ হি?
    -পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী,
    -ইউ মীন বি সি রয়
    -আজ্ঞে...
    -কেন?
    তিনি শুনেছি কখনও কাউকে 'আপনি' করে কথা বলেননি। ইনক্লুডিং জবাহরলাল নেহরু...
    -ডোন্ট বি সার্কাস্টিক...
    -ওকে, আপনি বন্ধ করছি...
    ---------------------------------
    রোড নম্বর ছত্রিশ ধরে জুবিলি হিলস চেক গেট পেরিয়ে যাই।
    -এদিকে কোথায় যাচ্ছো?
    -ব্যারিস্টা, যাবে?
    -হুমম, যাওয়া যায়...
    ততোক্ষণে বন্জারা হিলস একনমবর রোডে শনিবার বিকেলের ভিড় শুরু হয়ে গেছে। সিটি সেন্টারে গাড়ি রেখে ব্যারিস্টায় গিয়ে বসি। প্রথম কফিটা আসে। অনু আবার একটা সিগারেট ধরায়।
    আমি বলি, তুমি শীর্ষেন্দু পড়েছো?
    -হ্যাঁ, সব লেখা...কেন?
    -কেন পড়েছো? কী ভালো লাগে ওঁর লেখার...
    -চরিত্রগুলো... দারুণ
    -ছেলে না মেয়ে...
    -বলা মুশকিল...
    -আমি বলি?
    -নিশ্চয়...
    -শীর্ষেন্দু শুধু মেয়েদের চরিত্রই সৃষ্টি করেছেন, ছেলেরা সব প্রপের রোলে...
    -এইভাবে ভাবিনি তো...
    -ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো... আরেকটা ব্যাপারও বলি শীর্ষেন্দুকে কি তোমার কাকুমণি মনে হয়েছে?
    -না তো, কেন?
    -ওঁর লেখায় সবাই কেন পাল্টিঘর দেখেই প্রেমে পড়ে?
    এইবার উচ্ছল হাসিতে ঝরে পড়ে সে।
    -ঠিকই তো...
    -এবার একটা কথা বলি?
    -হুমম...
    -আমি বয়সে তোমার কাকুমণি'র বরাবর হবো হয়তো। কিন্তু মানসিকতায় তা নই। তবু বলি যদি এই নেশাটা একটু কমাতে... জানি প্রথমদিনই কারুর সঙ্গে এসব কথা বলতে নেই... তবু মনে হলো। কিছু মনে কোরোনা... সরি ...
    -আমি জানি। জানো এতোটা ডিপেনডেন্ট ছিলাম না। ওদেশ থেকে ফেরার পর এমন হয়ে গেছি...
    -ওদেশ আবার কী দোষ করলো?
    -না ওদেশের কোনও দোষ নেই , ইটস মাই প্রবলেম...

    চুপ করে যায়, একেবারে।
    -----------------------------------

    হঠাৎ দেখি নীলা আর সঞ্জয় এগিয়ে আসছে আমাদের টেবিলের দিকে। নীলা গান গায় আমাদের সঙ্গে। সঞ্জয়ও আমাদের বন্ধু।
    -আরে এখানে কী করছেন?
    -দেখতেই পাচ্ছেন, ফক্সট্রট নাচছি...
    সঞ্জয় হাসিতে ফেটে পড়ে,
    -তোমায় বলেছি না, শিবাংশু'র সঙ্গে ভেবে কথা বলবে...
    -আহা, সব সময় শুধু লেগপুল করতেই আছেন আপনি।..
    নীলার চোখ অনু'র দিকে...
    -এ হলো অনু, আর এঁরা নীলা, সঞ্জয়, আমার বন্ধু...
    -হাই...
    সঞ্জয়ের সপ্রশ্ন চোখ। ইশারা করি, পরে হবে...বুঝে যায়।
    আর ঘন্টা খানেকের মধ্যে অন্ততঃ বিশ-তিরিশ জন লোক জেনে যাবে।নিউ রিলিজ, ব্যারিস্টায় বাড়াবাড়ি......
    -------------------------------------------
    (ক্রমশঃ)
    এখানে এপ্রিলের মধ্যে বেশ গরম পড়ে যায়। কিন্তু সূর্য ডুবলেই এক আধ বার দমকা হাওয়া। সন্ধে নামলে হলকাফুলকা হাওয়াবাজি, জুড়িয়ে দেওয়া। আমাদের দেশঘরে এখন ফুটপাথে সারিসারি কলাপাতায় বেলফুল আর জুঁইয়ের গোড়েমালায় জল ছড়ানো । দিনশেষের সৌরভসফর, বাড়ি ফেরার পথে। বাঙালিনীর অলকে ঝরে পড়া ফুলের একটি দল আর চোখে পড়েনা। তারা আজ অতীত, অপরিচিত। কিন্তু দক্ষিণে অলককুসুম বালিকা থেকে বৃদ্ধা সবার অলংকার। বসন্তমুখারি যেন,পুষ্পপ্যাশনের বহতা রুটমার্চ।
    -----------------------------
    নন্দিনীদির মস্তো প্ল্যান। স্বয়ং সি এম বলেছেন অর্থাভাব হবেনা। এগিয়ে যাও। তেলুগু মানুষের কাছে কবি'কে নিয়ে আসতে হবে। তিনি নিজে উদ্বোধন করবেন সেই উদযাপন। উনকোটি খবর নিয়ে অনু দুবেলা ফোন করে। যতোটা ফোনে হয়ে যায়, ভালো কথা। কিন্তু দিন দিন শেষ হয়ে হইলো না শেষ গোছের সংলাপ বেড়ে চলে। অস্বস্তি? তা একটু হয় তো। সব সপ্তাহান্তে নন্দিনীদির বাড়ি যাবার ফুরসত পাইনা। গানের অনুষ্ঠানের মহলা শুরু হয়ে গেছে। সেই লিঙ্গমপল্লি থেকে সন্ধে সাড়ে সাতটায় অফিস থেকে বাড়ি পৌঁছোতে একঘন্টা। তৎক্ষণাৎ স্নান করে, গাড়ির ডিকিতে হারমোনি চড়িয়ে শহরের একেবারে অন্যপ্রান্তে সেকন্দ্রাবাদে পৌঁছোতে ন'টা বেজে যায়। তার পর মহলা, আড্ডা, গুলতানি। সবগুলো'ই জরুরি। এর মধ্যে ফোন এলো অনু'র।
    -তোমাদের অনুষ্ঠানে আমাকে কবিতা রেসিটেশন করতে হবে। নন্দিনী'দি বলছে তোমার কাছে ট্রেনিং নিতে। কখন সময় পাবে?
    -বোঝো? তুমি বাংলা কবিতা পড়ো?
    -না, না, আমাদের কি আর সেই রাইট আছে?
    -আরে না, দিল্লির লোক... বল্লে বল্লে টাইপ ব্যাপার স্যাপার।।।তার পর আবার বিলিতি কানেকশনও আছে ...
    -বেশ, আমি বলে দেবো... আমার দ্বারা হবেনা...
    -দাঁড়াও দেখি...
    -না, না কোনও দরকার নেই...বুঝতে পেরেছি...
    -ওফ... এতো দেখি মুলায়ম সিংয়ের মতো সেন্স অফ হিউমার হয়ে গেছে...
    -বাই
    ফোন কেটে দেয়।
    ------------------
    ঘন্টা দুয়েক পরে মোবাইলে নন্দিনী'দির নম্বর।
    -বলুন..
    - তোমাদের অনুষ্ঠানে গ্রন্থনার একটা দায়িত্ব অনু'কে দিয়েছি। ওকে একটু ট্রেনিং দিতে হবে তোমাকে...
    -হুমম, আমাকে ফোন করেছিলো ...
    -তাই !! আমাকে এখুনি বললো ওর দ্বারা হবেনা। হাফ পঞ্জাবি, বাংলা জানেনা, এসব হাবিজাবি...কী বললো তোমাকে?
    -ও রকমই কিছু একটা?
    - না, না, ওকে একটু ট্রেন করে দাও। মেয়েটা কিন্তু খুব শার্প... আর নিজেই আমাকে বারবার বলে পার্টিসিপেট করতে চাইছিলো... এখন আবার উল্টোপাল্টা বলছে...
    -ঠিক আছে দেখছি...

    বাবুজি ধীরে চলনা, এতো বাড়াবাড়ি ভালো নয়। নিজেকেই বলি। যাকগে, একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিলুম।
    ----------------------------
    উত্তর নেই। আবার একটা।
    তারও উত্তর নেই। এবার একটা ফোন করতেই হয়। তা ফোন ধরিলেন,
    - হ্যালো...
    - জব উস জুলফ কি বাত চলি...
    -মানে??
    - ঢলতে ঢলতে রাত ঢলি...
    -হোয়াট আ স্টুপিডিটি...
    - কোন কবিতা?
    -কবিতা? কার কবিতা?
    -খাতির ঘজনভি...
    -হু ইজ হি?
    -এই ঘজলটার শ্যায়র...
    -তো...
    -আমি এখন শুনছি, গানটা... ঈশ্বরের গলায়...
    -কী শুরু করেছো?
    -মেহদি হাসান...প্রায় পাগল হয়ে গেছি...
    -তা আমি কী করতে পারি?
    -কিস্যু না, একটু বাংলা কবিতা শুনিয়ে আমাকে সুস্থ করে তোলো..
    -দ্যাটস দ্য পয়েন্ট.... সরি, আই কান্ট হেল্প
    -দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে মোহতির্মা ... আপকি শান লোগোঁ কে জুবান পে হোগি...
    -ওসব বাঙালিদের গিয়ে বলো...
    -বলছি তো, এখন তো বলছিই...
    -নো, মেরি সির্ফ বল্লে বল্লে বিজনেস...
    -রহুয়া, তনি মুলায়জা ফরমায়া জায়..
    -এটা কোন ভাষা?
    - মাথাটা ভোজপুরি, ল্যাজটা উর্দু...
    -ওফফ....
    -শম্মা কা অঞ্জাম ন পুছ, পরওয়ানে কে সাথ জলি...
    -মানে?
    -ঢলতে ঢলতে রাত ঢলি...
    -মা-আ-আ-নে-এ-এ?
    -সরি...

    (ক্রমশঃ)

    সন্ধেবেলার এসি গার্ডের মোড়। আটটা বাজে। ওয়ান ওয়ে দিয়ে লকড়ি কা পুল। ফ্লাই ওভার পেরিয়ে মেহদি ফাংশন হলের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এতো দূর তো ঠিক আছে। কিন্তু পরিধানে শাড়ি ? অ্যায় হুস্ন বেপরওহা তুঝে...! এটুকুই মনে এলো।
    -ইশে, দেখো বলা উচিত না, আগমার্কা প্রৌঢ় বিবাহিত বাঙালি আমি... তোমাকে ফাস কেলাস লাগছে দেখতে...
    -আমিও বিবাহিত...
    ওহ আচ্ছা, তবে আমার রিস্কটা একটু কম হয়ে গেলো কী...? এসব তোমাদের বাচ্চাকাচ্চার ব্যাপার তো... ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারিনা।।
    -আমি বাচ্চা নই, কমপ্লিটেড থার্টি ফাইভ...
    -বাহ, ব্রেশ...
    -তোমার কৌতুহল এতো কম কেন?
    -মানে?
    -কখনও আমার সম্বন্ধে কিছু জানতে চাওনি...
    -কী দরকার... সব কিছু জানতে নেই। পৃথিবীটা খুব ছোটো হয়ে যায়। হারিয়ে যাবার সব জায়গা ফুরিয়ে যায়...মুদ্দতেঁ গুজরি , ফির উওহ ঠিকানা ইয়াদ হ্যাঁয় । জীবনটা এরকমই থাক...শুনেছো শ্যেয়রটা?
    -হুমম, হসরত মোহানি...
    -প্রশ্নটার উত্তরে প্রথম এই নামটা কেউ বললো। সবাই বলে ঘুলাম আলি...যাকগে, তোমাকে কয়েকটা কবিতা বেছে দেবো। পুরো কবিতাগুলো পড়া হবেনা, দু'চার স্তবক, গানের মাঝে মাঝে, যেমন হয়...
    - ঠিক আছে, একটু দেখিয়ে দেবে..
    -তুমি একটা গাড়ি কিনে নাও, হায়দরাবাদে সোমস্কৃতি করতে গেলে নিজের বাহন লাগে, নয়তো বহুত পরেশানি...
    -আমার গাড়ি আছে তো...
    -কোথায়?
    -এখানেই...
    -তবে??
    -ইচ্ছে করেই আনিনি। তোমার লিফট দিতে কি খুব অসুবিধে হচ্ছে?
    -অবকে ভি উওহ দূর রহেঁ
    অবকে ভি বরসাত চলি...
    -বুঝলাম না।।
    -ঢলতে ঢলতে রাত ঢলি...
    -এই গানটায় পেয়েছে নাকি তোমাকে আজ...
    -গান থেকে গান্ধর্বী, সব্বাই আজ পেয়ে বসেছে... জায়েঁ তো জায়েঁ কঁহা?
    -আর ইউ ফিলিং আনকম্ফর্টেবল...?
    -কেন?
    -ফর মী...

    গাড়ি চালাবার সময় শুধু সামনের দিকেই তাকাতে হয়।

    - এই কবিতাটা তোমাকে দেবো, পড়ার জন্য ... বড়ো প্রিয় হে আমার...
    -কোন কবিতাটা?
    -কেন অবেলায়, ডেকেছো খেলায়, সারা হয়ে এলো দিন...
    -----------------
    বাড়ি ফিরতে অনেক দেরি হয়ে গেলো সেদিন। মহলা দিতে প্রায় পুরো ব্রিগেড হাজির। তবু নিশ্চিন্ত, হাইটেক সিটি যাবার চড়নদার পাওয়া গেলো একজন। অনু'কে তাদের সঙ্গেই পাঠিয়ে দিলুম। বাড়ি এসে দেখি সঙ্গিনী অপেক্ষা করছেন, না খেয়ে। খেতে বসে তিনি জিগালেন,
    -কেমন চলছে রিহার্সাল?
    -দেশের অবস্থা খুব খারাপ...
    -জানি, শর্মিলা ফোন করেছিলো...
    শর্মিলা আমাদের গানের দলের অধিকারী মশাই। খুব ভালো গান গায়। আর আমার চরিত্ররক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় দিদিমণির দায়িত্ব নিয়েছে।
    -কী বললো...?
    -তোমার নতুন মিউজের খবর কী?
    -বললুম তো, দেশের অবস্থা খুব খারাপ...
    -সাবধানে থেকো, বিজয়া'কে সামলানো সব কা বস কি বাত নহিঁ....
    -হুমম, ঠিকই বলেছো।।। হয়তো কাল সকালে ঘুম ভেঙে দেখলুম সান ইসিদ্রো পৌঁছে গেছি...
    -শর্মিলা খুব কনসার্নড, বললো, তুমি কী করে ছেড়ে দাও শিবাংশুদা'কে এভাবে...? বয়সটা ভালো নয়...
    -তুমি কী বললে?
    -একই কথা, কোথায় আর যাবে...?
    ------------------------------
    (ক্রমশঃ)
    নন্দিনীদি কবি'কে নিবেদিত একটা মেগা কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এপার আর ওপার বাংলার অন্ততঃ কুড়ি জন কবি আসছেন। সঙ্গে কিছু স্থানীয় কবিও থাকবেন নিয়ম মতো। আমাকে বললেন, তুমি সভা পরিচালনা করো। আমি রাজি নই। অতোজন অতিথি আসবেন। সেজেগুজে স্টেজে উঠে ঘুরে বেড়ালে গদ্যময় কাজগুলো কে করবে। নন্দিনীদিকে আরো বলি, কবিরা একটু সুন্দরী সান্নিধ্য পছন্দ করেন। অনু'কে লাগিয়ে দিন। সভার শোভা বর্ধন করবে, কবিরাও 'অনু'প্রেরিত হয়ে থাকবে।
    -কেন, তুমিও তো পদ্য করো। তোমার কি সান্নিধ্যের প্রয়োজন নেই?
    -আমার? জানেনই তো ওটাই আমার অক্সিজেন... ওরকম এক আধ ঘন্টায় আমার কী হবে?
    -বেশ, তবে বাংলা কবিতা সম্বন্ধে অনু খুব একটা ওয়াকিফ নয় বোধ হয়... একটু তৈরি করে নিও...
    -হুমম,কোথা থেকে শুরু করি...ভাবছি?
    ---------------------------
    বাংলা কবিতার আবহে জন্ম, কম্মো, বেড়ে ওঠা। কিন্তু এই মাধ্যমটি এখনও আমার কাছে তার রহস্য উন্মোচন করেনি। কীভাবে কবিতা পড়তে হয়, তার ক্র্যাফট, তার আত্মা, ত্বক, হাওয়ায় ভাসা চুল, দিনশেষের পোড়া রুটি, কোনও কিছুই এখনও আমার মুঠোর মধ্যে আসেনি। পড়তেই শিখিনি, আবার লেখা। চালাকিটা কিন্তু খুব শিখেছি। লাগসই কোটেশন দেওয়া, জিজ্ঞাসু জনতাকে চমকে দেওয়ার কালাবাজি, সবই কিন্তু মুঠোর মধ্যে। উনি 'কবিতা' করেন জাতীয় মন্তব্য বা কটাক্ষ শুনতে পাই মাঝেমাঝেই। কিন্তু কোনও সৎ মানুষের কাছে কবিতাকে স্তরে স্তরে উন্মোচন করার ধৃষ্টতা করার সময় বেশ গ্লানি অনুভব করি। কিন্তু লোকে তো জানে....

    -আজ বিকেলের দিকে ক্লাস শেষ হলে একটা মিসড কল দিও। কথা আছে....
    ত্বরিত উত্তর এলো,
    -হোয়াই মিসড, কথা বলা বারণ হয়েছে কি?
    -নাহ, তবে ফোন কোরো...
    ঠিক পাঁচটার সময় ফোন এলো...
    -আমি বাসস্ট্যান্ডের শেডে দাঁড়িয়ে আছি, আসতে পারবে?
    -আসছি, পাঁচ মিনিট...
    কয়েকটা কবিতার বই গুছিয়ে নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। আমার প্রিয়তম সব কবিতার বই। ভালোমন্দ জানিনা। যে পড়ে সে স্থির করে, ভালো লাগলো না অন্য কিছু। দূর থেকে দেখি শেডের বেঞ্চিতে একা বসে আছে। নাহ, স্মোক করছে না।
    -দেরি হলো কি?
    -নাহ, ঠিক আছে...
    -একা একা বসে আছো... ধোঁয়া নেই কেন?
    এবার মুখ ঘুরিয়ে তাকায় সোজা চোখের দিকে,
    -খোঁচাচ্ছো... তুমি কী জানো কিছু...? কিসের আগুন, কেন ধোঁয়া...?
    -নাহ জানিনা, কী দরকার? শুধু এইটুকু জানি ভিতরের আগুন নিভে গেলেই বাইরের আগুন ধার করতে হয়...
    -তোমার দুনিয়াটা খুব থিওরিটিক্যাল, লেসড উইথ মিস্টিক রোম্যান্টিসিজম, টূ জাজমেন্টাল...
    -ঝগড়া করবে...?
    -এই বইগুলো কী?
    -তোমার জন্য, মানে তোমার পড়ার জন্য... বাংলা কবিতার বই....
    -সত্যি...
    -হমম...
    -আমরা কোথায় বসবো?
    -এখানে অবশ্যই নয়...
    -তবে চলো...
    -আরে, আমার মেলা কাজ আছে। এখন বসতে পারবো না.... তুমি নিয়ে যাও, পড়ো, তারপর কথা হবে...
    -তবে বইগুলো তুমিই নিয়ে যাও... যখন সময় পাবে তখনই কথা হবে..
    -আরে না... তুমি পড়ো আগে...
    -আমি একা একা কবিতা পড়িনা...
    - তোমার দুনিয়াটা খুব থিওরিটিক্যাল, লেসড উইথ স্টুপিড রোম্যান্টিসিজম... রিল্যাক্স ...হ্যাঁ, এই বইগুলো আমার কাছে হোলি স্ক্রিপচারের মতো... প্লিজ বী রেসপেক্টফুল...

    এর থেকে রূঢ় হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা।

    পলকের মধ্যে অনু'র মুখটা নিষ্প্রভ হয়ে যায়। নিভন্ত স্বরে বলে,
    - সরি, রাগ কোরোনা... আমার যে কী হয়ে যায়.. বুঝতে পারিনা.... আমি আজ সারা রাত পড়বো মন দিয়ে... সব কবিতা... কবে আবার আসবে?
    -দেখি... আগে পড়ো তো, তারপর....
    --------------------------------
    একজন বড়ো লেখকের বই প্রোমো আছে, তাজ কৃষ্ণা'য়। কেউ একটা আমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেলো। সঙ্গিনীকে বলি , যাবে নাকি? তিনি রাজি। সন্ধেবেলা গিয়ে দেখি হায়দরাবাদের পেজ-থ্রি সব হাজির। বেশ কিছু চেনা মুখ এদিক ওদিক। জমিয়ে বসি। নানা আলিম লোকজন নানা উমদা কথাবাত্তা পেশ করে যাচ্ছেন। লেখক নিজেও কিছু বললেন। তার পর বইটি থেকে কিছু গদ্যপাঠ করবেন টাবু। তিনি এলেন, পড়লেনও ভালো। তবে তারকার জ্যোতি তো ভক্তের চোখে। পলকের মধ্যে শ্রোতার দল ভক্ত হয়ে গেলেন। সঙ্গিনী জনান্তিকে শুধোলেন, নাগার্জুন এসেছে নাকি? বলি,
    -তাকে দেখতে পেলে পায়ের ধুলো নিয়ে আসবো একটু...
    -হুমম, তোমার স্বপ্নের পৃথিবী...
    -আলবাৎ, একদিকে অমলা, অন্যদিকে টাবু... কী শান্তিপূর্ণ প্রেমময় সহাবস্থান... আহা...
    -দেখছি তো, জিভে জল এসে গেছে একেবারে...
    -ছিঃ, এরকম একটা সড়কছাপ উপমা দিওনা...
    বলো, হৃদয়ের একূল ওকূল দুকূল ভেসে যায়.... হায়....
    -বুঝিনা কী করে টাবু'র মতো একজন মানুষ, যার জীবনে যা কিছু চাওয়ার, সব আছে... সে কী করে এমন আদার উওম্যান হয়ে মানিয়ে নিতে পারে...?
    -হোরেশিও, এমন বহু কিছু আছে, যা তুমি জানোনা...জানতে চেয়ো না...
    -হুমম, না জানাই ভালো। আরো ভালো যদি সেটা তুমি আমাকে না জানাও...
    -তওবা তওবা, মেরা কো'ই মজাল হ্যাঁয়...

    অনুষ্ঠান শেষ হলো। বেরোবার সময় দেখি হলের পিছনের দরজার পাশে, একটু দূরে, অনু এদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। দেখতে পেয়ে হাত নাড়ার আগেই সে ত্বরিত দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে তাকে আর দেখতে পাইনা। মনে পড়লো, ফোন করেছিলো দুপুরদিকে, সন্ধেবেলা ফ্রি আছি কি না।
    (ক্রমশঃ)

    -----------------------
    ...ইশারা তোমার বাতাসে বাতাসে ভেসে
    ঘুরে ঘুরে যেত মোর বাতায়নে এসে,
    কখনো আমের নবমুকুলের বেশে,
    কভু নবমেঘভারে।
    ------------------

    জানতুম আসবে, এলো শেষ পর্যন্ত। পরদিনই অনু'র ফোন। সেদিন আবার শনিবার। বিকেলে গানের রিহার্সাল।
    -তুমি আজ কখন বেরোতে পারবে?
    -দেখছি, কেন?
    -আমি তোমার দেওয়া বইগুলো সব পড়েছি। কয়েকটা কবিতা নিয়ে একটু কথা বলবো। তোমার একটু সময় হবে?
    -হুমম... তবে কাল তুমি আমাদের দেখে পালিয়ে গেলে কেন?
    -পালিয়ে যাবো কেন? তোমরা ব্যস্ত ছিলে... বিরক্ত করলাম না...একটা কথা, বৌদি'কে দেখতে খুব মিষ্টি...
    -'বৌদি'?? আমাকে কি তুমি 'দাদা' বলতে শুরু করেছো? গুড, পজিটিভ ডেভলপমেন্ট... কাকা'ও বলতে পারো...
    -নাহ, ওসব কিচ্ছু বলবো না...
    -তবে ?
    -আমার যা ইচ্ছে বলবো, যেভাবে ইচ্ছে বলবো, যখন ইচ্ছে বলবো...
    -হাঁপিয়ে যাবে যে, আস্তে ...
    -তুমি কখন আসবে ?
    -দেখছি, জানাবো....
    ------------------------------
    ....অযাত্রা-পথে যাত্রী যাহারা চলে
    নিষ্ফল আয়োজনে?
    কাজ ভোলাবারে ফেরো বারে বারে
    কাজের কক্ষ-কোণে।

    জানতে চাইনি, কিন্তু নন্দিনীদি অনু'র সম্বন্ধে কিছু কথা আমাকে বলেছিলেন। দিল্লির একটি অবাঙালি ছেলের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়েছিলো, নিজের ইচ্ছেয়। ছেলেটি সম্বন্ধে নেতিবাচী কিছু কথা সে বলেনি খোলাখুলি। ওর সহজাত সম্ভ্রমবোধটা তীব্র ।দু'জনের পরস্পর কল্পনার অঙ্কগুলো মেলেনি নিশ্চয়। কিন্তু ওরা এখনও বিবাহিত। তিনি অনুমান করেন সম্পর্কের মধ্যে হয়তো কোনও তৃতীয় ব্যক্তির ছায়াও এসেছিলো কখনও।

    ভাবি, যদি তাই হয়, তবে তো অনু ব্যতিক্রম নয়। সেও কি 'অন্য' মেয়েটিকে নিজের অসম্মান মনে করে? অথচ একবার আমাকে তর্কের খাতিরে বলেছিলো অন্য মেয়েটার সম্পর্কের টান অনেক বেশি ইনটেন্স, অনেক বেশি ঝুঁকি নেয় সে। সে কেন ভিলেন হবে? সে তো দেয়ও অনেক কিছু। তবু তার স্বীকৃতিটা অধরা কেন থেকে যাবে চিরকাল? তার মূল্যটা নীরবে বুঝলেও কেউ সোচ্চার হয়না কোনওদিন? জীবনে তার স্পেসটা ব্যতিক্রম নয়, ন্যায়তঃ প্রাপ্য।

    সেটা কি অনুর শুধু কলেজ ডিবেট ছিলো? বুঝতে পারিনা।আসলে বাইরে থেকে যেমনই লাগুক না কেন, অনু পুরোপুরি বাঙালি মেয়ে। কতোগুলো মডেলে বিশ্বাস করে, যেটা অন্য মানসিকতায়, অন্য আবহে বেমানান। কিন্তু সে অসম্ভব জেদি, তাই ভালনারেবল। স্ট্র্যাটেজিক আপোসে বিশ্বাস করেনা। ভালো চাকরি ছেড়ে সে বিদেশ থেকে ফিরে এলো, ছেলেটি এলোনা। বোঝা যায়না, এই মূহুর্তে তাদের সম্পর্কটি ঠিক কী? ওর বাবা-মা দিল্লিতেই থাকেন। তাঁরা চা'ন অনু সেখানেই থাকুক। কিন্তু তার কাছে দিল্লি শ্বাসরোধী লাগে। সহ্য করতে পারেনা। এতোদূরে প্রায় পালিয়ে এসেছে। হয়তো আবার পালিয়ে যাবে। নিজের থেকে।
    -------------------------------
    নন্দিনীদি বলেছিলেন,
    -জানিনা তোমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তোমায় অসুবিধেয় ফেললাম কি না.... তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছো আমি কী বলতে চাইছি....?
    -হুমম...
    -আমি লক্ষ্য করছি অনু তোমার উপর ইমোশন্যালি ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়ছে...ব্যাপারটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে...
    -আমি বাড়িতে বলেছি... ঐ জায়গাটা আমার খুব স্ট্রং... আপনি তো জানেন...
    -জানি, তবে একটা অনুরোধ... বিরক্ত হওয়া হয়তো স্বাভাবিক... তুমি অনু'র প্রতি কখনও খুব রুড হয়োনা... মেয়েটা খুব গুণী, কষ্টে থাকে...

    -চেষ্টা করবো নন্দিনীদি...
    --------------------------
    বস'কে বলি, একটু তাড়াতাড়ি বেরোবো । ভদ্রলোক জানেন আমার এই সব ব্যস্ততার কথা। বিকেল নামার আগেই ফোন করি অনু'কে। ইউনি শপিং সেন্টারের পিছনে যে দুটো বিশাল অর্জুন গাছ, তার নীচে সবুজ বেঞ্চি, আর ঝরাপাতার কার্পেট, সেইখানে চলে আসতে বলি। জায়গাটা আমার খুব ভালো লাগে।

    নেভা রোদের আলোর মতো সে আসে...বিষন্ন, নির্লিপ্ত তার পা ফেলা, পা তোলা।

    -কী ব্যাপার... সায়ন্তনের ক্লান্ত ফুলের গন্ধ হাওয়ার পরে...
    - আমি সত্যিই খুব ক্লান্ত... অসম্ভব ক্লান্ত...
    -'আট বছর আগের একদিন' মুখস্ত করেছো নাকি?
    -ঐ কবিতাটা আমার বহুদিন ধরেই মুখস্ত...
    -কও কী মক্কেল? তয় যে লোকে কয় তুমি কবিতা পড়োনা...
    -আমাকে নিয়ে সবাই নিজের নিজের মতো ভাবে... আমার কথা... যাকগে, বোর হয়ে যাবে....
    -হুমম, কোন কোন কবিতা নিয়ে কথা বলা যায়, তুমিই বলো...?
    -সত্যি কথা বলি?
    -নিশ্চয়...
    -তোমার দেওয়া সব বইগুলো'ই আমার নিজের কাছে আছে...সব কবিতা.... পড়েছি বহুবার...

    কিছু বলিনা.... চুপ করে থাকি... শুনি

    -শুধু তোমার সঙ্গে একটু বসবো, আড্ডা দেবো, তর্ক করবো.... এ টুকুই... আমি তোমাকে আগে এসব কিছুই বলিনি....অনেক ভেবেছি.... আমার এরকম করা উচিত কি না। তোমার সাজানো সাম্রাজ্যে যদি এক চিলতে জায়গা... কোথাও... না, আমি তোমাকে ...ধ্যুৎ, কী সব বলছি...পাগল ভাবছো... তাই না?
    -না, ভাবছি না...
    -সত্যি?
    -সত্যি...
    -আমাকে ছুঁয়ে বলো...
    হাতটা বাড়িয়ে দেয় । আমি তার হাতের দিকে চেয়ে থাকি। গৌরী, মসৃণ ত্বক, নিটোল আঙুল, নির্ভর, নির্ভার, নিঃশর্ত... তাকিয়েই থাকি অপলকে। এই হাত ছুঁয়ে আমি কি কখনও কোনও পাপ করতে পারি...?

    দু'তিনটি অনিঃশেষ মূহুর্ত এভাবেই নিস্পন্দ, নিস্পলক। বাড়িয়ে দেওয়া হাতটি আবার একা একা তার বাড়ি ফিরে যায়... ধীরে....

    -তোমার আঙুলগুলো সুন্দর, খুব সুন্দর...

    এইবার অনু হেসে ওঠে। ঝর্ণার মতো, বোন'চায়না বাসন ভেঙে পড়ার মতো, ওফেলিয়া'র কান্নার মতো শব্দ পাই আমি, পেতে থাকি, জানিনা কতোক্ষণ....
    -------------------------
    সন্ধেবেলা একটা মেসেজ পেলুম, ফোনে।

    -তোমাকে আর এমব্যারাস করবো না, সরি। হায়দরাবাদে আর থাকতে ভালো লাগছে না। কোথায় যাবো ঠিক করিনি।

    ভালো থেকো...

    (শেষ)

     

  • বিভাগ : ব্লগ | ২৯ আগস্ট ২০১৫ | ৯৭৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • শিবাংশু | 127.201.144.156 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৭:১৩67598
  • আরে বাহ....

    এই লেখাটি এতোজন পাঠকবন্ধু পড়েছেন। তার পর এতো পরিশ্রম করে মতামত দিয়েছেন। সত্যিই বখে যাবো মনে হচ্ছে। :-)

    যাঁদের ভালো লেগেছে বা লাগেনি, সবকা কদ্রদানি সর আঁখো পর....

    একটা লেখা যখন প্রকাশিত হয়ে যায় তখন তা দশের সম্পত্তি। তাই যিনি লিখেছেন তাঁর আর আলাদা করে বলার কিছু থাকেনা। প্রত্যেক পাঠকই নিজস্বভাবে লেখাটি গ্রহণ বা বর্জন করবেন। সেটাই হওয়া উচিত।

    তবু একটু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ঠিক কৈফিয়ৎ নয়, গুস্তাখি মাফ। বহুদিন ধরে নানা পত্রিকায় একের পর এক গ্রাম্ভারি লম্বা লম্বা লেখা লিখতে লিখতে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলুম। সেই সব লেখা কিছুটা নিজের গরজে, বেশিটা বন্ধুদের আদেশে। গুরু'তে সামান্য কয়েকজন হলেও যাঁরা আমার লেখা পড়েন তাঁরা হয়তো বুঝতেও পারেন, বাংলাভাষাটা আমার প্যাশন। আখ্যান লেখাটা খুব সহজ আর আরামের। কারণ তা লিখতেও ভালো লাগে আর মানুষের পড়তেও ভালো লাগে। কিন্তু রক্তের দোষ। আখ্যান লেখার ইচ্ছে হয়না। আমায় টানে গ্রাম্ভারি বিষয়-আশয়।

    বিষয় অনুযায়ী শৈলি পাল্টে লেখার চেষ্টা করি। বিষয়ের চাহিদা অনুযায়ী কখনও তা ক্ল্যাসিসিস্ট হয়ে যায়, কখনও তা একান্ত রকের ভাষা। এই দুটি মেরুর মাঝখানেও অনেকগুলো স্তরভেদ থাকে। মহাযানী বৌদ্ধমতে নির্বাণের ক্রমবিবর্তন থেকে উত্তরবিহার বা উত্তরপ্রদেশের গেঁও কাঁচা খিস্তি থেকে স্ল্যাঙনির্মাণ বা শহুরে শোভনতার বিনির্মাণ, অবশ্যই ভিন্ন গদ্যশৈলি দাবি করবে। মানুষের পোষাকটা যেমন একটা স্টেটমেন্ট, ভাষাশৈলিটাও তাই। গদ্য বা পদ্য উভয়ক্ষেত্রেই তা সত্য। বিবাহসভা, শ্রাদ্ধবাসর, অফিস পার্টি, মাছের বাজার, পিকনিক বা দেবমন্দিরে মানুষ যেমন আলাদা আলাদা পোষাক পরে যায়, তেমনি বিষয়ভেদে ভাষার ব্যবহারটাও একেবারে বদলে যায়। অনেকে এটা স্বীকার করেন, অনেকে করেন না।

    বেশ কিছুদিন ধরে গবেষণাভিত্তিক লেখাজোখা করতে করতে বেশ ক্লান্তবোধ করছিলুম। এইসব লেখায় চার লাইন লিখতে গিয়ে পাঁচটা বইয়ের সাহায্য নিতে হয়। তথ্য নির্ভুল না হলে, সত্যের কাছে পৌঁছোনো যাবেনা। বড়ো চাপ...মনে হচ্ছিলো সংলাপ লেখা বোধ হয় ভুলেই গিয়েছি। এই ভাবেই উপরের লেখাটি আসে। যেখানে প্রথমেই ঠিক করেছিলুম কোনও আখ্যান যেন না থাকে। কারণ আখ্যান থাকা মানেই কিছু সপ্রমাণ করার সচেতন চেষ্টা। কিছু প্রমাণ করতে চাওয়া মানেই যেচে টেনশন নেওয়া। তবু নিজস্ব কমজোরি বশতঃ নিশ্চয় কিছু ন্যারেটিভ থেকেই গেছে। কারণ একজন লিখেছেন "কাহিনীতে ওজন কম"। একশোবার সত্যি। বস্তুতঃ এতে কোনও কাহিনীই নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এটা বাংলাভাষার একটা বিশেষ শৈলি নিয়ে একটু ছেলেখেলা। এক ঘন্টায় যেখানে আরামসে চারপাতা লিখে ফেলা যায়। কিছুদিন ধরে যা আমার কাছে যা একটা বিলাস হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। যাঁদের ভালো লেগেছে, তাঁদের এই নির্ভার ধুলোখেলাটিই মনে আছে।

    ন্যারেটিভ না থাকলেও একটা 'বিষয়' ছিলো। শীর্ষকটি তো সেরকমই। তবে সেটি গাছ নয়, মাচামাত্র। যাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পড়েছেন, স্বভাবতই তাঁদের মনে নানা প্রশ্ন এসেছে। সম্ভাব্যতা বা অসম্ভবের দোলাচল কাজ করেছে। অনুচরিত্রটির চতুর্থমাত্রা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অনু যদি সুন্দরী বা গুণী না হতো তবে কী আর লেখাটি হতো? এমন প্রশ্নও এসেছে। এই সব দেখেশুনে আমি সত্যিই বিশেষ শ্লাঘা বোধ করছি। লেখার সময় যেহেতু কীবোর্ডটিকে দায়হীন হার্মোনিয়মের মতো বাজিয়ে গিয়েছি, কখনও ভাবিনি কাউকে লেখাটি এতোটা ট্রিগার করবে।

    যদি সিরিয়সভাবে কখনও ন্যারেটিভ লেখার ইচ্ছে হয়, তখন নিশ্চয় চরিত্রগুলিতে রক্তমাংসের জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

    আর কল্লোল'দা, আমার মনে হয় সততা একটা কৃত্রিম, ক্রমবিবর্তিত সামাজিক মানুষের মানসিক দোলাচল। এতো দ্রুত তার মাত্রাবদল হয় যে তাল রাখা যায়না। নিজেকে দিয়েই তা বুঝি, তুমিও বোঝো। আমার কাছে এবং তোমার কাছেও পৃথিবীর একটাই শাশ্বত সৎ মাত্রা আছে, সাত আর পাঁচ পর্দা'র ম্যাজিক। শব্দই ব্রহ্ম, অক্ষর নয়। শ্রুতির থেকে লিপি এসেছে, আবার সেখানেই তার ফিরে যাওয়া। বাউল হওয়া আটকাবে কে?:-)

    সবাই কে আবারও অনেক ধন্যবাদ।
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৭:৪২67599
  • ভালো আখ্যান লেখা অত সোজা না।
    আখ্যানের মধ্যে দাঁতালো ভুট্টার মতন "আমাকে দেখুন আমাকে দেখুন" বার হতে থাকলে সেই আখ্যান পাঠকের বিরক্তি আর ক্লান্তি জাগায়। কষ্ট করে সেই জিনিস পড়তে যাবে কেন লোকে?
  • | 24.96.106.5 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৭:৫১67600
  • "আমাকে দেখুন" নামে এক পিস বই ছিল না? কার প্রফুল্ল রায়ের কি? আটোজ মনে আছে?
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৭:৫৩67601
  • কোন্‌ প্রফুল্ল? সেই কেয়াপাতার নৌকোর প্রফুল্ল?
    ঃ-)
  • JOY | 69.162.55.134 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:৩০67574
  • ভারী সুন্দর!!
  • aranya | 154.160.226.95 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:৫১67602
  • "আমাকে দেখুন" শীর্ষেন্দু-র, যদ্দুর মনে পড়ে।

    আতোজের কমেনগুলি - 'ভালো আখ্যান লেখা অত সোজা না', 'আমাকে দেখুন' ইঃ সুপ্রযুক্ত নয়।

    প্রথমতঃ, শিবাংশু আখ্যান লেখার চেষ্টা করেন নি। ওর শেষ পোস্টে আছে - 'এই ভাবেই উপরের লেখাটি আসে। যেখানে প্রথমেই ঠিক করেছিলুম কোনও আখ্যান যেন না থাকে।'

    দ্বিতীয়তঃ, নার্সিসিস্টিক লেখা হলেই, তা বিরক্তিকর বা ক্লান্তিকর হতে হবে - এমন কোন নিয়ম তো নেই। লেখকের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে, লেখাটা উৎরাবে কিনা। একই লেখা পড়ে বিভিন্ন পাঠকের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হবে।
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:২৩67603
  • নার্সিসিস্টিক লেখা হলেই বিরক্তিকর হয় না, কিন্তু কষ্টকল্পিতভাবে আশেপাশের অন্য চরিত্রগুলোকে হেয় করে ন্যাকা টাইপের দেখানো, মরে গেলাম গলে গেলাম জ্বলে গেলাম গো নার্সিসাস তোমার জন্যে---এইরকম দেখানো টা বিরক্তির হতে পারে। শুধু বিরক্তির না, রীতিমতন অপমানজনক মনে হতে পারে কারুর কারুর কাছে। তবে ঐ, যে টেবিলের যেদিক থেকে দেখছে আরকি।
  • aranya | 154.160.226.95 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:৩১67604
  • টেবিলের একই দিকে অবস্থানকারী মানুষদের মধ্যেও কিন্তু মতপার্থক্য থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য থাকবে :-)
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:৩৫67605
  • টেবিলের চেয়ে নৌকোর তুলনাটা ভালো লাগে।
    নৌকোর একদিকে সবাই এসে গেলে নৌকো কাত হয়ে ডুবে যেতে পারে, তাই নৌকোর দুইদিকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসা ভালো।
    ঃ-)

    দৃষ্টিভঙ্গীর তফাৎ তো থাকবেই, দুনিয়ার দুটো মানুষেরও দৃষ্টিভঙ্গী কখনো এক হয় না, কাছাকাছি হতে পারে মাত্র।
  • lochabaxulaa | 215.174.22.26 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:৫৮67606
  • এইটা পড়ে মনে হলো, রবিবাবু কি কেটি মিটারকে হেয় করেছেন?
  • 0 | 132.163.63.181 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:০২67575
  • "আমার একূল ছাড়ি, তব বিস্মরণের খেয়া
    ভরাপালে ওকূলে দিয়েছে পাড়ি..."

    খুব ভালো লাগলো।
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:০৭67607
  • হেয় মানে, শুধু কি হেয়? হেয়স্য হেয়!
    লাবণ্য স্তব করতে গিয়ে ঘুঘুচক্করে ফেলে দিয়েছেন অমিতকে।
    ঃ-)
  • phutki | 209.67.138.49 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:৩৮67576
  • পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
    অন্য মেয়ে হয়ে ওঠার মত ঘটনা কি ঘটল আদৌ? দুদিন দুটো কবিতা, গান আর দেখতে ভাল, এতেই অন্য মেয়ে হওয়া যায়? প্রথমার মত বিশ্বাস অর্জন হয়ে যায়?

    সুন্দর বাংলা। কাহিনী ওজনহীন।
  • সে | 94.75.173.148 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:৪৫67577
  • আগের পোস্টে ক।
  • প্রবাসী | 116.51.16.242 (*) | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:০৫67578
  • সে র সঙ্গে +১।
  • de | 24.139.119.173 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৫:৪৮67608
  • দূর মশাইরা - অ্যাতো হিসেব করে প্রেম হয় নাকি? কার কতো বয়্স, মাইনে কত, কোন শহরে কেমন চাগ্রী - অতো ভেবে কেউ ভালোবাসে? অনুর মতো মেয়েরা নেই নাকি আমাদের সমাজে - অতো ক্রিটিক্যাল হবার দরকার আছে নাকি? সম্পর্ক ভাঙলে তার ব্যথা তো সবার সমান হয় না -

    আর যাবতীয় গপ্পো-উপন্যাস লোকশিক্ষের জন্য নাই হোলো - কিছু জিনিস অকারণ থাক!

    মেয়েদের লড়াই তো আছেই, থাকবেও - সমস্ত গল্পের প্রেক্ষাপট তাই দিয়েই রচিত হোক, এটাও চাই না।

    লেখাটা খানিকটা নার্সিসিস্ট পুরুষের রচনাদোষে সমৃদ্ধ - কিন্তু রোম্যান্টিক ফ্লার্টিংয়ের অংশগুলো বড্ড ভালো লেখা হয়েছে - এমন করে কথা বলতে পারার মতো লোকও আজকাল কমে যাচ্ছে! ঠিকঠাক হলে ফ্লার্টিংও আর্ট ঃ))
  • Bratin | 122.79.36.64 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৫:৫৭67609
  • দে র লেখা টা অনেক টা ব্যালেন্সড লাগলো।

    " মেয়েদের লড়াইতো আছেই, থাকবেও - সমস্ত গল্পের প্রেক্ষাপট তা দিয়ে রচিত হোক, এটাও চাই না" - এই ভাবে ভাবলে চাপ কমে যাবে।

    হুমমম দে, ফ্লার্টিম চির কাল ই আর্ট ঃ))
  • vaal laagal | 132.161.8.161 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:৫৪67610
  • ভাল লাগল।
  • সুকি | 129.160.188.177 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:২৯67611
  • শিবাংশুদার অন্য লেখা গুলোর থেকে এটা আলাদা মনে হল এবং ব্যক্তিগত ভাবে অন্য লেখা গুলির মত তত ভালো লাগল না।

    তবে লেখকের মনে হয়েছে, তাই লিখেছেন - এটা কি খুব কাঙ্খিত যে লেখককে ব্যখ্যা করতে হবে কেন তিনি লিখেছেন? আমার কাছে সেটা জরুরী মনে হয় না।
  • Atoz | 161.141.84.176 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:১৯67613
  • আহা মরে যাই মরে যাই
    কীত্তন কত্তে এলেন কেনারাম গোসাঁই।
    বয়েই গেছে এতোজের ধরতে ঝাঁটা
    ঝাঁটায় যায়্না কভু চোরবাগানের কাঁটা।
    ও জিনিস দূর কত্তে লাগে আরো বহু কন্টক
    বুঝেশুনে সেইসব করতে হবে বন্টক।
    ততক্ষণ ভাই ওহে গোসাঁই কেনারাম
    ধোসা খেয়ে ধোসা গায়ে করুন আরাম।

    ঃ-)
  • ranjan roy | 132.180.163.108 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:০৫67612
  • এতোজ ধরেচে ঝাঁটা,
    আমরা যে ভয়ে কাঁটা,
    নেই কো বুকের পাটা,
    চেপে বসে থাকি তাই।

    জমে পেঁয়াজের খোসা,
    চাল ডাল পিষে ধোসা?
    গিন্নির নাকে গোঁসা,
    তবুও হাত চালাই।

    ভালোলাগা ভালোবাসা?
    কোথায় যে বাঁধে বাসা,
    শুধু একফোঁটা আশা,
    নিয়ে বেঁচে আছি, ভাই!
  • lochabaxulaa | 77.191.245.247 (*) | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:১০67617
  • একদম এটাই ভাবছিলাম!
  • ranjan roy | 132.176.188.86 (*) | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:৫০67614
  • এবার সত্যি ভয় পেয়েছি।ঃ))))

    বুঝেছি এর পর আসবে নিদানঃ

    "হেঁটোয় কন্টক দাও উপরে কন্টক,
    ডালকুত্তাদের মাঝে করহ বন্টক।"
  • Du | 107.79.230.34 (*) | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:৩৯67618
  • বেটার সমকামী গল্প লেখা। কেউ রেগে যাবে না ঃ)
  • robu | 122.79.35.203 (*) | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:১৩67616
  • আমারো ঃ-)
  • ranjan roy | 24.97.58.247 (*) | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:০৫67619
  • দুদিদি,
    সত্যি অভয় দিচ্ছেন? তাহলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারি।
  • Du | 107.79.230.34 (*) | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৪৫67620
  • লিখুন না। সিরিয়াসলি~ তবে ব্রোকব্যাক বা ফিলাডেলফিয়ার মত এত দুঃখের করবেন না।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন