• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)

    I লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২১৪৩ বার পঠিত
  • (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে)
    ----------
    ১৯৪৩-এর মে মাস নাগাদ রংপুর, ময়মনসিংহ, বাখরগঞ্জ, চিটাগং, নোয়াখালি থেকে অনাহারে মৃত্যুর খবর আসতে থাকল। 'বিপ্লবী' পত্রিকার ২৩ শে মে সংখ্যায় মেদিনীপুরে ৫টি অনাহারে মৃত্যু আর ৮টি ধান লুঠের খবর বের হল।জানানো হল-প্রতিদিন ছ' থেকে সাতশো মানুষ তমলুক থেকে রেলে চাপছে ওড়িশায় গিয়ে সস্তায় চাল কিনবে বলে। বহু মানুষ তাদের ঘটিবাটি বেচে দিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়ে যাচ্ছে-স্রেফ দুমুঠো খেতে পাবে এই আশায়। পাবনা থেকে খবর এল জেলেরা দলে দলে না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে।

    ২রা জুলাই বাংলার গভর্নর হার্বার্ট লিনলিথগোকে জানালেন-"Bengal is rapidly approaching starvation"(1)। হার্বার্টের চিঠির মার্জিনে লিনলিথগো লিখলেন-"আমার সন্দেহ হয়, লোকটা বাংলার অবস্থা সত্যিই কদ্দুর জানে.."। লিনলিথগো হার্বার্টকে দুচক্ষে দেখতে পারতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর গভর্নরদের মধ্যে সবচেয়ে অপদার্থ হলেন হার্বার্ট। সে কথা সত্যি হতেও পারে; কিন্তু এই ক্ষেত্রে অন্ততঃ পরিস্থিতি-বিচারে হার্বার্ট ভুল করেন নি, দেরী করেছেন যদিও অনেক।

    এই অবস্থাতেও কিন্তু বাংলা জুড়ে সরকারী 'ফুড ড্রাইভ'এর পোষাকী নামের আড়ালে চাল বাজেয়াপ্ত করা চলছে। গ্রামের মানুষ যেটুকু পারছে , বাধা দিচ্ছে। চব্বিশ পরগণা থেকে কলকাতা আসার পথে ধানের নৌকো লুঠ হওয়ার ঘটনা ঘটছে আকছার (2)। কিন্তু সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর কাছে নিরস্ত্র গ্রামবাসী আর কতদূর অবধি পেরে উঠবে ! তার ওপরে ছিল Punitive Tax, গ্রামীণ বাঙালীর মুখে মুখে যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল 'পিটুনি কর'। নদীপথে ধান-ছিনতাই কিংবা বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটলে নদীর আশেপাশের বেশ কিছু গ্রামের সবার কাছ থেকে গণ-জরিমানা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।

    এদিকে লণ্ডনে ওয়ার ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে লিনলিথগো'র আবেদন নিয়ে তখনো আলোচনা চলছে তো চলছেই-কোনো সিদ্ধান্ত দূর অস্ত। একটি মেমো'র ড্রাফ্‌টে বলা হচ্ছে-অক্ষশক্তি পরাজিত হলে ইতালীর জনগণকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাহাজ লাগতে পারে-সেক্ষেত্রে দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলায় ত্রাণ পৌঁছনোর কাজ-"...scarcely seems justified..." (3)। শ্রীলঙ্কা ও মধ্য প্রাচ্যের জন্য প্রতি মাসে ৭৫০০০ টন গমের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলির জন্য অস্ট্রেলিয় গমের স্টক তৈরী করা হচ্ছে, যদিও সে গম কবে কাজে লাগবে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই, কেননা পূর্ব ইউরোপ তখনো জার্মানি-অধিকৃত। ওয়ার ক্যাবিনেট বলছে, ভারতের জন্য বড়জোর এক লক্ষ টন ইরাকী বার্লির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সামান্য পরিমাণ গম (৫০,০০০ টন) আসলেও আসতে পারে; চাল তো নৈব নৈব চ। যদিও ১৯৪৩ সালে দেড় লক্ষ টন চাল মিশর থেকে পাওয়া গিয়েছিল, যার অধিকাংশই শ্রীলঙ্কায় রপ্তানী হয়। অজানা সূত্র থেকে পাওয়া আরো ১,৩০,০০০ টন চাল গ্রেট ব্রিটেন স্বয়ং আমদানী করে। (4)

    কাজেই চাল যখন বিশ্বের 'কোথাও নেই', তখন ব্রিটিশ সরকারের আর কী করার থাকতে পারে ক্ষুধার্ত বাঙালীদের জন্য- 'ভাত ছাড়া যাদের রোচে না, গম যারা সহ্যই করতে পারে না; তাছাড়াও গম থেকে রুটি বানানোর কায়দাও যারা জানে না'! নিজদোষে বাঙালীর আজ এই অব্স্থা; ব্রিটিশ শুধু বদনামের ভাগী হয় !

    যদিও নিন্দুকে বলে বাঙালী গম খায় না, তার কারণ রুটি/লুচি তাদের কাছে বিলাসিতা। রুটি তারা খেতেই পারে, যদি যথেষ্ট সংখ্যক গম পেষাই কলের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়। আর অস্ট্রেলীয় গম আনলে সেটা এক্ষেত্রে কোনো সমস্যাই নয়, কেননা অস্ট্রেলিয়া জাহাজবোঝাই গম পাঠায় দানা হিসেবে নয়, আটা/ময়দার আকারে-যা থেকে রুটি তৈরী করা কোনো ব্যাপারই নয়।

    আর হজমের কথা বলতে গেলে আরো অনেক কথা আসে। দীর্ঘকাল অনাহারক্লিষ্ট থাকলে মানুষের পৌষ্টিক তন্ত্রের বারোটা বেজে যায়-সেক্ষেত্রে সে গম কেন, কোনো শক্ত খাবারই হজম করতে পারে না-এমন কি ভাতও না। সে অবস্থায় শক্ত খাবার খাওয়া মানেই সাক্ষাৎ মৃত্যু। কিন্তু তারও ব্যবস্থা ছিল। প্রশাসক ওলাফ মার্টিন তাঁর ক্যাম্পে অনাথ শিশুদের খাওয়াতেন ময়দা/আটা, গুড় আর মাখনের মিশ্রণ জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু পরিজ বানিয়ে। বাচ্চারা তা দিব্যি খেত, সহজেই হজম করত, দিন দশেকের মধ্যে ভাত-ডাল -তরকারী খাওয়ার অবস্থাতেও পৌঁছে যেত। (5)

    চাল না জুটুক, গম পাঠালেও 'ভাত-খেকো' বাঙালীর তা কাজে আসত; কেননা গমের অভাবে পশ্চিমা সৈন্যদেরও ভাত খাওয়াতে হচ্ছিল-আর সেই ভাত আসছিল ভুখা বাঙালীর মুখের গ্রাস কেড়ে। যথেষ্ট গম বাংলায় পৌঁছলে তার সমপরিমাণ চাল অন্ততঃ বেঁচে যেত-গ্রামের মানুষদের কাছে বিলি-বন্দেজ করার একটা সুযোগ থাকত; করা হত কিনা, সে অবশ্য অন্য প্রশ্ন।

    'বিপ্লবী' পত্রিকার পাঁচই অগাস্ট সংখ্যায় রিপোর্ট বেরোলো-পরিবারকে খাওয়াতে না পেরে এক মুসলমান তাঁতী ঘর ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।তার বৌ সন্দেহ করে সে কাঁসাইয়ের জলে ডুবে মরেছে। বুভুক্ষু বাচ্চাদের কান্না সইতে না পেরে সে-ও ছোটটাকে ভরানদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বড়টাকে ছুঁড়তে গেলে সে কাঁদতে কাঁদতে মাকে জড়িয়ে ধরে; অগত্যা অনাহারক্লিষ্ট হাতে কবর খুঁড়ে বাচ্চাটিকে মা সেই কবরে মাটিচাপা দিতে চেষ্টা করে; বাচ্চার কান্না শুনে এক পথচারী এসে তাকে বাঁচায়। জনৈক কাগমারা এসে বাচ্চাটির ভার নেয়। মা'র কী হল কেউ জানে না। সম্ভবতঃ সেও কাঁসাইয়ের বুকে শেষ আশ্রয় নিয়েছে।

    এবং এটা যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সে কথা কাউকে বলে দেওয়ার দরকার নেই।ক্ষিদের জ্বালায় পরিবার-পরিজন-স্ত্রী-সন্তানকে খুন করা ও শেষে নিজেও আত্মহত্যা করা নিত্যকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে সংসার ফেলে রেখে উধাও হয়ে যাচ্ছিল। একলা মাঠে একা বাচ্চা ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিংবা মৃত সন্তান কোলে নিয়ে মা বুভুক্ষুর মত ক্যাম্পের খাবার খাচ্ছে- এও একদিন লোকের গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল।বাংলা চলচ্চিত্রের এক অভিনেত্রী (?কাননদেবী) বর্ণনা দিয়েছিলেন- তাঁর পরিচারিকার কাছ থেকে এক কঙ্কালসার মহিলা এসে একদিন পাত্র ভরে ফ্যান নিয়ে যায়। ফ্যানের গন্ধ পেয়ে মহিলার চারটি হাড়-জিরজিরে বাচ্চাও সাথে সাথে ছুটে আসে; কিন্তু সন্তানদের নির্দয়ভাবে মেরে তাড়িয়ে দিয়ে মা এক চুমুকে যতটা পারে ফ্যান শেষ করে দেয়; তারপর হঠাৎই শিউরে উঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে (6)। মার্কিন কনসাল জেনারেল ফরিদপুর ঘুরে এসে রিপোর্ট করেন- একজন মানুষ কুকুরের মত চেটে চেটে ফ্যান খাচ্ছে...আরেকজন খাবারের খোঁজে এসে কালেক্টরের ঘরের দরজার সামনেই পড়ে গিয়ে তৎক্ষণাৎ মারা যায়। মৃতদেহ যখন সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, এক কোণে জবুথবু হয়ে বসে থাকা এক মহিলা একটি পুঁটলি ছুঁড়ে দিয়ে নিস্পৃহ গলায় বলে-'এটাও নিয়ে যাও'। পুঁটলি খুলে দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে তার শিশুর লাশ ! (৭)

    মহিষাদলের কালিকাকুণ্ডু গ্রামের জনৈক গৌরহরি মাঝির বয়স তখন আট; পরবর্তীকালে মধুশ্র্রী মুখার্জীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন-মাসের পর মাস তাঁরা কচুডাঁটা-লতাপাতাসেদ্ধ-তেঁতুল পাতা-কষ্‌টা কলাইগাছ (অন্য সময় যা গরুকে খাওয়ানো হত) সেদ্ধ করে খেয়েছেন। দূর্বা ঘাসের খুদে খুদে বীজ খুঁড়ে খুঁড়ে খেতেন নিরন্ন মানুষেরা-"মাঠে একটাও দুব্বো ঘাসের পাতা বাকি ছিলনি" (8)।মহিষাদলের এক স্কুল মাস্টার দেখেছিলেন-একজন ভিখারী মরে পড়ে আছে, আর তার উদরাময়ের মল থেকে অজীর্ন ভাতের দানা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে অভুক্ত বাচ্চারা।

    'মানবিকতা' শব্দটা একধরণের তেতো হাসির জিনিষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গেঁওখালি (মহিষাদল) থেকে জনৈক ব্যক্তি জানান-একজন ভিখিরি দোকানে রাখা কলাইয়ের বস্তা থেকে একমুঠো কলাই তুলে নিয়ে মুখে পোরে; তাই দেখে দোকানী তাকে এক ঘুষি মারে, মানুষটি তক্ষুনি সেখানে পড়ে মারা যায় (9)।অনাহারক্লিষ্ট শরীরটি একটি ঘুষির আঘাতও সহ্য করতে পারে নি; চড়-থাপ্পড় খেয়েও লোকে তখন মারা যেত। ১০ই অক্টোবরের 'বিপ্লবী' রিপোর্ট করে একজন ভুখা মানুষ রেল লাইনে ছড়িয়ে পড়ে থাকা শস্যদানা তুলে তুলে খাচ্ছিল; তাই দেখে রেল পুলিশের লোকেরা তার দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পালাতে গিয়ে লোকটি খালে পড়ে গিয়ে মারা যায়। ফরিদপুরের জেলা জজ এফ এ করিম জেলা পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন রাস্তায় একজন বৃদ্ধ অচৈতন্য হয়ে পড়ে আছে, তার চোখদুটি ঘোলাটে-আসলে সে মারা যাচ্ছে। আর চার পাশে জড়ো হওয়া জনতা খুব হাসছে, আমোদ করছে, চেঁচাচ্ছে-"বুইড়াডা মরত্যাসে! দ্যাহেন দ্যাহেন, বুইড়াডা মরত্যাসে !" (10)

    মৃতদেহ সৎকার করা ছিল আর এক যন্ত্রণা। বিশেষ করে হিন্দুদের শব। মড়া পোড়ানোর মত যথেষ্ট জ্বালানীর অভাব সর্বত্র। অনেক সময়েই মৃতদেহ স্রেফ নদী কিংবা খালের জলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হত। ফ্রেন্ডস অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের একজন কর্মী বিবরণ দিয়েছেন-"... আপনি কাঁথি থেকে পানিপিয়া অবধি ক্যানালের ধার ধরে হেঁটে যেতে পারবেন না, গন্ধে গা গুলিয়ে উঠবে; রাশি রাশি পেটফোলা লাশ ক্যানালের জলে ভাসছে।" (11) আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানাবেন-মুমূর্ষু শিশুদের চারপাশ ঘিরে শেয়াল-কুকুর-শকুন ভীড় করে আসছে ; অনেক সময়ই তারা শিশুটি মরে-যাওয়া অবধি অপেক্ষা করে না। গ্রামের সাধারণ নেড়ি কুকুর গুলিই ভয়ানক হয়ে উঠেছে; এরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই বাচ্চা ছিনিয়ে নেয়, দুর্বল মানুষকে মরবার আগেই কামড়াকামড়ি শুরু করে দেয়। (12)

    অনেক পরিবারই সন্তান বিক্রি করতে শুরু করল। কিন্তু ঐ আকালে সন্তান আর কে কেনে ! নারীশরীরের ক্রেতার অবশ্য অভাব ছিল না।শরীর বেচা দুভাবে চলছিল। গ্রামের অনেক বাড়িতে মা-মেয়ে-বৌয়েরা বাড়ি বসেই দেহবিক্রি করে চাল কিনত; তাই দিয়ে পরিবারের ক্ষুন্নিবৃত্তি হত। অনেক মেয়ে আবার গ্রাম থেকে চালান হয়ে যাচ্ছিল কলকাতা ও অন্যান্য বড় শহরের পতিতাপল্লীতে; সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে সৈন্যরা আর যুদ্ধের মুনাফাখোররা। জাপানীদের মত ব্রিটিশদের জোরজবরদস্তি করে যৌনদাসী সংগ্রহ করতে হয় নি; আকালের দেশে তারা পালে পালে আপনিই এসে ধরা দিচ্ছিল। আর্মি ক্যান্টনমেন্টগুলিতে সরকারীভাবে স্বীকৃত পতিতাপল্লী খোলা হচ্ছিল ।(১৩)

    গ্রাম পুড়লে শহরও এড়ায় না। কলকাতাতেও লাশের স্তূপ তৈরী হতে লাগল। তপন রায়চৌধুরী লিখেছেন-" রাস্তায় বের হলেই মৃত মানুষ পড়ে আছে দেখা নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়াল। এরকম কতজন মৃত বা অর্ধমৃত মানুষ দেখেছি যদি জিজ্ঞেস করেন তো সঠিক উত্তর দিতে পারব না। তবে তার সংখ্যা ছ'-সাত সপ্তাহে পাঁচ-ছ' হাজারের কম হবে মনে হয় না। দুঃস্থ মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশী দেখা যেত চৌরঙ্গি অঞ্চলে। তখন বিদেশী সৈন্যের ভিড়ে কলকাতা শহর সরগরম । ঐসব অল্পবয়সি ছেলেরা বোধ হয় ভিক্ষে দেওয়ার ব্যাপারে মুক্তহস্ত ছিল। কিন্তু পয়সা দিয়ে কী হবে? বাজারে চাল কোথায়?" (14)

    এইসব মানুষ নামধারী প্রাণীরা কলকাতার রাস্তাঘাটে-অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতে লাগলঃ মাংস-চর্বিহীন কঙ্কালসার দেহ, পাগুলো আর পেটটা শুধু ফোলা, চোখে পিঁচুটি, সর্বাঙ্গে ঘা-চুলকানি দাদ-হাজা,অসাড়ে পায়খানা করে দিচ্ছে, কোনমতে একটা শতচ্ছিন্ন নোংরা ন্যাকড়া গায়ে জড়ানো,গা থেকে অদ্ভুত বিশ্রী গন্ধ বেরোচ্ছে, গায়ের লোমগুলি আলপিনের মত খাড়া (অনাহারে মৃত্যুর অন্তিম লক্ষণ), মুখে সেই ভয়ংকর আর্তি-"ফ্যান দাও!" সেই আর্তনাদ কানে শোনা যেত না, এতই মর্মান্তিক; মধ্যবিত্ত গেরস্তরা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে খেতে বসত।

    অনাহার সয়েও যারা বেঁচে থাকত, তাদের মারত ম্যালেরিয়া, কলেরা আর গুটি বসন্ত (small pox) এক ধরণের উদরাময় চালু হয় ভুখা মানুষদের মধ্যে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'ফ্যামিন ডায়োরিয়া।' এই ডায়োরিয়া সারানো ছিল অত্যন্ত কঠিন।শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মানসিক রোগ। সার্জন-জেনারেলের অফিস থেকে ভুখা মানুষের মানসিক অসুস্থতা নিয়ে একটি রিপোর্ট বের হয়- এরা শিশুর মত আচরণ করে, হাসপাতালের খাবার-আর স্বাচ্ছ্যন্দ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়, পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র খাবারের খোঁজ কর, হাতের সামনে খাবার রাখা থাকলেও 'খাবার দাও', 'খাবার দাও' বলে চীৎকার করে, না খেয়ে কাঁদে, সারাক্ষণ বিরক্ত,উত্তেজিত, সারাক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করছে, অসম্ভব নোংরা; এরা যেন ঠিক মানুষ নয়, মনুষ্যেতর কোনো জীব, "....the nadir of human misery and the epitome of famine".(15)

    তা সত্ত্বেও কলকাতার মোচ্ছবে কিছুমাত্র ভাটা পড়ে নি। সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষদের কৃচ্ছসাধন করতে হয়েছে বটে, কিন্তু তারা কেউ না- খেয়ে মরে নি। আর একবার তপন রায়চৌধুরী'র কাছে ফেরত যাই-"..... '৪৩-এর কলকাতা রীতিমত 'বুম টাউন'। চৌরঙ্গি অঞ্চলের রাস্তায় নানা বর্ণের সৈন্যরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের হাতে প্রচুর কাঁচা পয়সা এবং তা তারা মুড়ি-মুড়কির মত খরচা করছে। নতুন নতুন রেস্তোরাঁ আর ক্যাবারে হয়েছে। শহরের অলিতে-গলিতে মাসাজ পার্লারেরও সমারোহ...কালোবাজারের কৃপায় অনেকের পকেটেই প্রচুর কাঁচা পয়সা। সে পয়সা নানা বিলাসব্যসনে খরচ করার উপায় শহর কলকাতায় অজস্র... কোনও রহস্যজনক কারণে চালের দাম হু-হু করে বাড়া সত্ত্বেও রেস্তোরায়ঁ খাবারের দাম প্রায় একই ছিল। এমনকী ফারপোর সেই বিখ্যাত তিন পদ লাঞ্চের দাম দুর্ভিক্ষ যখন চরমে তখনও মাত্র তিন টাকা।.... বাড়ির দরজার বাইরে মানুষ আক্ষরিক অর্থেই না খেতে পেয়ে তিলে তিলে শুকিয়ে মরছে, এবং তারা সংখ্যায় একজন-দু'জন না, বিশ-ত্রিশ লক্ষ, এই দৃশ্য দেখে বা এই তথ্য জেনে সাহেব বলুন, দেশী লোক বলুন, কারো্‌ই গলায় ভাত আটকে যায় নি। আমাদের গতানুগতিক জীবনযাত্রা তথা ফূর্তি-আমোদেও কোনো বাধা পড়ে নি(16)।" 'কইলকাত্তার বীভৎস মজা' অব্যহত।


  • ফ্রেণ্ডস অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের কর্মী রিচার্ড ব্র্যানসন তাঁর সেসময়কার কলকাতাবাসের সবচেয়ে মর্মন্তুদ দুটি অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন- প্রথমটি এক পথকুকুর একটি শিশুর মুণ্ড মুখে নিয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়চ্ছে। অন্যটি হল-হাসিখুশী দেশী-বিদেশী সায়েব-মেমগণ ঝকঝকে সাদা ডিনার জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ফারপো -তে ঢুকছে, এবং তারা আক্ষরিক অর্থেই অজস্র মরা-আধমরা দেহ মাড়িয়ে ঢুকছে। (17) সিনেমাটোগ্রাফার কমল বোস সেসময় বিমল রায়ের ইউনিটের সঙ্গে কলকাতার রাস্তাঘাটে দুর্ভিক্ষের ছবি তুলে বেড়াচ্ছিলেন। যে বর্ণনা তাঁরা দিয়েছেন, তা ভয়াবহ। একটা রুটির টুকরো রাস্তায় পড়ে থাকলেও তাই নিয়ে ভিখিরিদের মধ্যে মারপিট লেগে যেত। সেইসব রীল সরকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল-সরকার তাই নিয়ে কী করে কেউ জানে না। সে ছবি আজ পর্যন্ত কোথাও প্রদর্শিত হয় নি। (18)

    ব্রিটিশ কমিউনিস্ট ক্লাইভ ব্র্যানসন ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়বার জন্য ব্রিটিশ ফৌজে নাম লিখিয়েছিলেন। তাঁর পোস্টিং হয় ভারতে। ভারত থেকে তিনি তাঁর স্ত্রী-কে চিঠি লিখছিলেন-'কলকাতায় বোমা পড়েছে শুনেছো নিশ্চয়! কিন্তু গোটা বাংলা জুড়ে যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছে, সেটা জানো কি?' ব্র্যানসন তখন ছুটিতে বম্বে এসেছেন। যে হোটেলে তিনি থাকেন, সেখানকার বন্দোবস্ত এলাহি। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার সবেতেই ফাইভ কোর্স মিল পরিবেশন করা হয়। এদিকে খবরের কাগজ পড়ে ব্র্যানসন বিষণ্ন হয়ে যান;স্ত্রী-কে লেখেন-'ভয় হচ্ছে, আবার হয়তো আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে লাগানো হবে। তা বলে অবশ্য ভেবো না আমরা ফাটকাবাজ, জমিদার আর সরকারী অফিসারদের গুলি করে মারবো; আমাদের কাজ হবে খিদের জ্বালায় উন্মত্ত মানুষদের সামলানো।'
    ব্র্যানসনেরই এক সহকর্মী অবশ্য বাগান থেকে লেটুস পাতা চুরি করার অপরাধে জনৈক ভারতীয়কে গুলি চালিয়ে জখম করেন। সার্জেন্ট মেজর দুঃখ করে বলেন-'এঃ, বেজন্মাটা বেঁচে গেল! ৪০ কোটি লোকের মধ্যে একটা মরলে কী ক্ষতি হত! ব্লাডি ইন্ডিয়ানগুলোকে ধরো আর গুলি করে মারো।' (19)

    অক্টোবর মাসে বাংলায় পোস্টিং দেওয়া হয় ব্র্যানসনকে। ট্রেনে করে ভারতের বিস্তীর্ণ প্রান্তর-চাষের ক্ষেত-ছোট ছোট রেল স্টেশন দেখতে দেখতে মুগ্ধ হয়ে যান ব্র্যানসন। কিন্তু বাংলার সীমানার মধ্যে ট্রেন ঢুকতেই দৃশ্য বদলে যায় পুরোপুরি। ট্রেনের সমান্তরালে চলতে থাকে ভুখা মানুষের এক অন্তহীন সারি। ব্র্যানসন লিখছেন- "যখনই ট্রেন থামে, বাচ্চাদের দল মাছির ঝাঁকের মত ট্রেনের জানলার কাছে ভিড় করে আসে-ফাটা রেকর্ডের মত একঘেয়ে সুরে বলতে থাকে-বখশিস, সাহেব ! বাকিরা মাটিতে বসে অপেক্ষা করে।মেয়েদের দেখি-অস্থিচর্মসার, গায়ের কাপড় ধূলিধূসর, অভিব্যক্তিহীন মুখ; তারা যেন হাঁটছে না, এক পা দিয়ে অন্য পায়ের ভারসাম্য বজায় রাখছে শুধু-কোথায় যাবে, জানে না।কলকাতার যত কাছে এগো্‌ই,ছোট ছোট ন্যাংটো বাচ্চাদের ভিড় বাড়ে।কাঠির মত পা, পেটটা ফোলা-তারা আমাদের দিকে খালি টিন এগিয়ে ধরে। হাজার হলেও-বাচ্চা তো-ওরা হাসে, আমাদের দেখে হাত নাড়ে। ওদের পেছনে ধানক্ষেতের আভাস দেখতে পাওয়া যায়। নতুন ধানের সবুজ রং, যেন পিশাচের হাসি হাসছে।" (20)

    ব্র্যানসনেরই মত আর এক সৈনিক উইলিয়ামস বার্নস তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন-' চট্টগ্রামে আমার ক্যাম্পের বাইরে অজস্র পাঁচ থেকে দশ বছরের নিরাশ্রয় শিশু ভয়ানক কাশে আর করুণ সুরে কাঁদে। ভোর তিনটে থেকে চারটের মধ্যে খোলা আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে তারা অবিরল বর্ষায় সমানে ভিজতে থাকে। ওদের কারো গায়ে একটা সুতো অবধি নেই। ওদের মা নেই, বাবা নেই, ঘরসংসার -বন্ধুবান্ধব কেউ নেই। থাকার মধ্যে আছে শুধু একটা খালি টিন, ওটাতে টুকরোটাকরা খাবার যা পায় কুড়িয়েবাড়িয়ে রাখে। ' (21)

    ১৯৪৩-এর ১৫ই নভেম্বর হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড পূর্ববঙ্গের ইসলামপুরের একটি ঘটনা বের করে- অজানা সূত্রে খবর পেয়ে তিনজন খ্রীষ্টান সন্ন্যাসিনী একটি স্থানীয় গোয়ালে গিয়ে দেখেন অন্ধকারের মধ্যে নোংরা মেঝেতে জনা কুড়ি বাচ্চা শুয়ে আছে। কেউ ক্ষিদেয় কাঁদছে, কেউ টেনে টেনে শ্বাস নিচ্ছে, বাকিরা এত ক্লান্ত ও দুর্বল যে টুঁ শব্দটুকু করতে পারছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এদের মায়েরা সব শহরে ভিক্ষে করতে বেড়িয়েছে-এতটা পথ বাচ্চাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া-আসা করা তাদের ভুখা শরীরে আর সম্ভব নয় বলে বাচ্চাদের এখানেই রেখে গেছে। এদের মধ্যে অনেকেরই মা ফিরে এসে তার বাচ্চাকে আর জীবিত দেখতে পাবে না(22)। গীতা মুখার্জি তাঁর লঙ্গরখানা চালানোর এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন। লাইনের পেছনদিকে দাঁড়ানো এক মা বারবার লাইন ভেঙে বেরিয়ে আসছিল, হল্লা করছিল-'আমার বাচ্চাকে দুধ দাও, এখুনি দাও'-বলে। কিন্তু লাইনের সামনের লোকেরাও ছাড়নেওয়ালা নয়। গীতা যখন লাইনের শেষে সেই মায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন, তখন সে শান্ত গলায় বলল-'আর দুধ লাগবে না।' তার বাচ্চাটি ততক্ষণে মারা গিয়েছে। তপন রায়চৌধুরী বর্ণনা করেছেন, ঝোঁকের মাথায় সমাজসেবা করতে নেমে কিভাবে তাঁরা অনভিজ্ঞতার মাসুল দিয়েছেন। বহুদিনের অভুক্ত মানুষকে পেট পুরে ভাত-ডাল খাইয়ে দিয়েছেন। পরের বেলাতেই সে মানুষ মারা গিয়েছে। আই সি এস অশোক মিত্রের জবানী আবার কিছুটা ভিন্ন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি মুন্সিগঞ্জে ত্রাণের কাজ দেখাশুনো করতেন। কলকাতা থেকে যা চাল আসে, তা আধপচা, কাঁকড়ে ভর্তি। তাই দিয়েই লঙ্গরখানা খোলা হল। প্রথমদিকে গলা ভাত, ফ্যান দেওয়া হত। পরের দিকে চাল, মুসুর ডাল, সামান্য আলু, নুন-হলুদ-তেজপাতা-অল্প তেল দিয়ে খিচুড়ি বানিয়ে খাওয়ানো হতে লাগলো। বুভুক্ষু মানুষদের আনন্দ দেখে কে ! সব হামলে পড়ে খিচুড়ি খেতে লাগল। এত আনন্দ করে খেত যে বেশী খেয়ে ফেলার জন্য বকতে গিয়েও ওঁর মায়া হত। এমনিতেও মানুষগুলো অনাহারের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছিল; তাদের মৃত্যু ঠেকানোর কোনো উপায় ছিল না। মরার আগে অন্ততঃ তারা একবেলা পেটপুরে সুস্বাদু খাবার খেতে পেরেছিল-এটুকুই ছিল মিত্র'র সান্তনা। (23)

    বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের প্রধানের স্ত্রী শীলা চ্যাপম্যান -মর্টিমার বর্ণনা দিয়েছেন-গভর্নর হাউজের (অধুনা রাজভবন) পাশ দিয়ে তিনি যখন গাড়ি করে যাচ্ছিলেন, তখন দেখতে পান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অহ্ঙ্কার, গ্রেকো-রোমান স্থাপত্যে তৈরী সাদা মার্বেলে মোড়া এই সুরম্য প্রাসাদের এক কিলোমিটার ব্যাপী পরিধির গোটাটা জুড়ে পড়ে রয়েছে মরা-আধমরা কালো কালো মানুষের সারি। যেন এম্পায়ারের আসন্ন বিদায়ের কথা জানতে পেরে ভগবান অথবা শয়তান ব্রিটিশ রাজকে শেষ অভিনন্দন (বা শেষ বিদায়) জানাচ্ছে মৃত মানুষের এক দীর্ঘ,অতি দীর্ঘ মালা সাজিয়ে। এ কিরকম সমাপতন, যে ব্রিটিশ শাসনের সূচনার তিন বছরের মধ্যেই শুরু হবে বাংলার ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ; এবং আর এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের বছর তিনেক কাটতে না কাটতেই ইন্ডিয়া গেট দিয়ে বিউগল বাজিয়ে দেশে ফিরে যাবে ব্রিটিশ সৈন্যে ভরা শেষ ব্রিটিশ জাহাজটি !

    Notes
    1.Janam Mukherjee, p. 120
    2.Ibid,p.118
    3.Madhushree Mukherjee, p. 146 (Cherwell Papers, H290/1,2)
    4.Ibid, p.150
    5.Ibid, p. 151
    6.Ibid, p. 158
    7.Janam Mukherjee, p.131
    8.Madhushree Mukherjee, p. 159
    9.Ibid, p. 168
    10.Janam Mukherjee, p. 134
    11.Ibid, p. 131 (K. C. Ghosh, p.90)
    12.Madhushree Mukherjee, p. 172
    13.Ibid, p.163
    14.তপন রায়চৌধুরী, পৃ ১২৬-২৭
    15.Janam Mukherjee, p. 130
    16.তপন রায়চৌধুরী, পৃ ১২৭-২৮
    17.http://gypsyscholar.com/31620historiceventsfaminet.html
    18.Rinki Bhattacharya: “Bimal Roy – A Man of Silence” New Delhi: Indus, 1994, p. 40-41
    19.Madhushree Mukherjee, p. 173
    20.Ibid, p.174 (Branson, British Soldier in India, p.101)
    21.Ibid, p. 191 ( CSAC, William Barnes Papers, Box 8, Diary,p.125)
    22.Ibid, p.192
    23.Ibid, p.195 (অশোক মিত্র, তিন কুড়ি দশ, পৃ ১৬১-৬৩)
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২১৪৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dd | 90045.207.90045.3 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৫৩65248
  • সত্যিই ভয়ংকর।

    কীরকম মনে হয় - শহুরে ভদ্রোলোক গোষ্ঠীর এক উদাসীনতা ছিলো। "ইহাই ভবিতব্য" গোছের।

    জয়নুল আবেদিন ছবি এঁকেছিলে, চিত্তপ্রসাদও। বাংলার কাগজপত্রে কি প্রতিবাদ হতো খুব? পোলিটিকাল পার্টীরা? ইন্দোদার কাছে এই বিষয়ে খবর থাকলে সেটাও জানতে চাই।
  • I | 785612.35.5689.129 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:০৪65252
  • হ্যাঁ সৈকত, ইচ্ছাকৃতভাবেই।খুব দরকার না পড়লে সাহিত্যের সাহায্য নিচ্ছি না।এখন পর্যন্ত অশনি সঙ্কেতের এক- দু লাইন নিয়েছি। হয়তো গোপাল হালদার কিছুটা উদ্ধৃত করবো পরের পর্বে। ' ছিনিয়ে খায় নি কেন' খুব মনে পড়ছিল।
  • I | 785612.35.4578.203 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:৩৭65249
  • হ্যাঁ, সেটা পরের পর্বে আসবে।
  • Amit | 9003412.130.1278.63 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:১০65250
  • এই লেখাটা বড়ো গ্রাফিক । পড়তে পড়তে নার্ভ জাস্ট নাম্ব হয়ে গেলো ।
  • সৈকত | 340112.99.675612.98 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:১৫65251
  • ইন্দো কী ইচ্ছাকৃতভাবেই শুধু ইতিহাস বই আর স্মৃতিকথার ওপর নির্ভর করছে, সাহিত্যের উল্লেখ না করে ? নিদেন, মাণিকবাবুর 'ছিনিয়ে খায়নি কেন' গল্পটা এই পর্বের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত। অথবা 'কে বাঁচায়' গল্পটা। নাকি, ঐসব লেখালেখি থেকে খুঁড়তে খুঁড়তে এতদূর ?
  • | 230123.142.34900.84 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:৫৭65253
  • ইন্দো র তো হাতে সরস্বতী আছেন , এক লাইন লিখলেও মুগ্ধ হতে হয়। একজন স্বাভাবিক ভাবে গিফটেড ফিকশন রাইটার শুধু নিজের দেশ কে, নিজের ইতিহাসকে জানার তাগিদে তন্ন তন্ন করে পড়ছে , ভারাক্রান্ত হৃদয় সামলে লিখছে দেখলে ভালো লাগে। এবারে কিন্তু এবং নিন্দে মন্দর পার্ট টা। মাবাবার পূর্বসুরীদের দেশ/জন্মভূমি আবিষ্কার/থিংকিঙ্গ অ্যালাউড ছাড়া এই লেখাটার পারপাস আমার কাছে ক্লিয়ার না।

    একটা হতে পারে , অ্যাকসেসিবল ইতিহাসের একটা অভাব। বুঝলাম। কিন্ন্তু যারা প্রচুর ভালো অ্যাকসেসিবলে কাজ থাকা সত্ত্বেও আনান্দবাজার ছাড়া কিসু পড়ে না, ওয়েব দু চারটে এদিক ওদিক লেখা দেখে মন ছুঁয়ে গেল করে, শুধু তাদের ফাঁকিবাজি তে উৎসাহ দিয়ে লাভ কি? আরেকটা আরেকটু বড় ধন্দ আমার আছে। অ্যানালিসিস এর দিক থেকে ঘটনার সম্পূর্ণ নতুন ইন্টারপ্রিটেশন বা নতুন অদ্যাবধি অনাবিষ্কৃত প্রাইমারি সোর্স বা স্বল্পপঠিত বা অবহেলিত সেকন্ডারি সোর্স এর উল্লেখ আমি এখনো ইন্দোর লেখায় পাই নি। একদল লোক যারা বই পড়তে চায় না, দীর্ঘ চর্চা চিন্তাশীলতার বিরুদ্ধ মতামত পোষণ করে তাদের জন্য একটা ক্লিকেবল স্ক্রোলেবল কন্টেন্ট হয়ে ওঠা ছাড়া এই প্র্যাকটিকালি হাড়ভাঙা পরিশ্রম এর উদ্দেশ্য আমার কাছে পরিষ্কার না। জনম মুখারজি যাঁরা নেড়ে দেখবনে না, তাঁদের জন্য আমরা সামারি কেন করব। জনম মুখারজির অ্যানালিসের গ্যাপ ধরতেই পারি তাহলে ঠিকাছে। নইলে শুধু যদি বইটার প্রতি শুভেচ্ছা থাকে, তাইলে একটা রিভিউ করে ছাড়ব। বুঝি যেকোনো পত্রিকার/কন্টেন্ট এর মধ্যে ধারাবাহিকের একটা নেশা আছে, আজে বাজে মালের বদলে, এই ধারবাহিক ভাবে নিয়মিত প্রকাশিত কাজ আমাদের বহুদিন মনে থাকবে শুধু না, আমরা যখন মরে টরে ভুত হয়ে যাবো গুরুচন্ডালি কে যে কয়েকটা জিনিসের জন্য লোকে মনে রাখবে, তার মধ্যে এটা হয়তো থাকবে, অন্য অনেক এখন শুনএত প্রয়োজনীয় আলোচনাই কালের গর্ভে পটল তুলবে সেটাই স্বাভাবিক।

    আমি জানিনা সৈকত (দ্বিতীয়) এই রকম কিসু ভেবেছে কিনা। পার্টিশন সাহিত্য নিয়ে আলাদা কাজের কয়েকটা ইন্টারেস্টিং কম কাজ হওয়া স্কোপ রয়েছে। প্রথমত ?যে দিক টা নিয়ে একেবারে কাজ কম হয়েছে, প্র্যাকটিকালি সজল নাগ ছাড়া কারো কাসে শুনি নি, পার্টিশনের বিষয়ে উত্তর পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্য গুলোর এক্সপেরিয়েন্স। খাসি সাহিত্যে অ্যাপারেন্টলি এই বিষয়ে ভালো রেফারেন্স আছে। অহমিয়া সাহিত্যে থাকবে। সেখানকার পোলিটিকাল রাইটিং এ থাকবে। আমি জানি ত্রিপুরা আসাম আর পব র একসঙ্গে রিফিউজি এক্সপেরিয়েন্স কে এক জায়গায় এনে কাজ সবে শুরু হয়েছে, খুব বেশি হয় নি। আগুন পাখি ইত্যাদির পরে মুসলমান এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে একটা চর্চা শুরু হয়েছে বটে, কিন্তু তাতে তাইলে বাংলাদেশের সোর্স ব্যবহার আরো বেশি করতে হবে। এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ কে কোশ্চেন করেই তার মেমোয়ার্স , পোলিটিকাল হিস্টরি দেখতে হবে। নিম্নবর্ণের বিষয়ে কাজ দেবেশ রায়ের যোগেন মন্ডল আর মনোরঞ্জন বাবুর লেখা হই হই একটু হয়েছে বটে সেটা সাম্প্রদায়িকতার আবহে মাঝে মাঝেই চাপা পড়বে। সেটা কে বাঁচিয়ে রাখার একটা দরকার আ্ছে। এই কাজ গুলো বিশেষ হয় নি। এগুলো ইন্দো করতে পারে। আমার কাছে নইলে বিষয়টা পরিষ্কার না। ফ্র্যাংকই সুন্দর লেখা পড়ছি পড়ব, একটা মানুষের হৃদয় বিদারক ভাষায় একটা হৃদয় বিদারক ঘটনার আখ্যান পড়বো, কিন্তু ইফ আই অ্যাম লিকিং ফর ওরিজিনাল কনটেন্ট, আই নিড টু আনডারস্ট্যান্ড হোয়াই আই উড রিড হিম। এটা গভীর ভালোবাসার শুধু না , তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রদ্ধার ও দাবী। যার হাত আছে সে বড় করে ভাববে না কেন, হোয়াই।

    আরেকটা বিষয় আছে, ফ্র্যাংকলি, তিরিশের দশকের আধুনিকতা বলতে যেমন আমাদের বাঙালি র কাজকর্ম দেখতে গেলে যেমন কল্লোল কালিকলম দেখতে হয়, চল্লিশের দশক পঞ্চাশের দশক দেখতে গেলে যেমন পরিচয় ঘাঁটতেই হবে, ৭০ এর দশক দেখতে গেলে যেমন বারোবাস ঘাঁটতেই হবে, অনুষ্টুপ এক্ষণ যেমন লোক কে পড়তে ই হবে ৭০ পরবর্তী ইন্টেলেকশুয়াল ডিসকাসন এর সন্ধান পেতে গেলে, আমি চাই আজ থেকে দুশো বছর পরেই, যেন লোক নব্বই পরবর্তী বাঙালির আত্মানুসন্ধান খুঁজতে মামুর কল লোকে পড়ে। এবং তাতে ইন্দোর লেখা পড়ে , না হবার কোন কারণ নেই, দ্য ওয়ার্ক হ্যাজ টু বি ফর অরিজিনাল কনটেন্ট। খ
  • | 230123.142.34900.84 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:৫৯65254
  • খ - *লুকিং
  • dd | 670112.51.2323.240 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:০০65256
  • অতীতদিনের দুই খ্যাতনামা মাস্টার মশাই, ভবতোষ দত্ত আর হীরেন মুখার্জি,এঁদের মেমোয়ের্স আমার সংগ্রহে আছে।

    ৪৩' সালে ভবতোষ দত্ত অধ্যপনার কাজ শুরু করেছেন। আবার করে পড়ে দেখলাম ৪৩'র মন্বন্তর নিয়ে কুল্লে একটা প্যারা লিখেছেন। খুবই দায়সারা। (বইএর নাম "আট দশক")

    হীরেন মুখার্জির বইটা কোন ঘুপচিতে লুকিয়ে আছে, ঝট করে হাতে পেলাম না। আবার ফিরে পড়তে ইচ্ছে করছে জানতে ওনার চোখে কেমন ছিলো এই মন্বন্তর। উনি তো চিরকালই রাজনীতোর মানুষ ছিলেন।
  • সুকি | 90045.205.012323.215 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ১২:২৫65255
  • ভালো লাগছে, দুই একটা জিজ্ঞাস্য আছে, পরে লিখছি.
  • Ishan | 89900.222.34900.92 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:৩৯65257
  • খ র সঙ্গে আমি একমত না। কারণটা বলি। এই মাসখানেকের মধ্যেই কোনো এক সময়ের কথা। ফেবু গ্রুপে লিখতে গিয়ে দেখলাম নতুন ছেলেপুলেরা দেশভাগের পরের অবস্থা, খাদ্য আন্দোলন, মাশুল সমীকরণ, কিছুই জানেনা। এবার, এর কারণ এই নয়, যে, তারা কিছু পড়েনা বা পড়তে চায়না। আমরাই বা কম বয়সে কী পড়েছি? আমি তো জনম মুখার্জি বা জয়া চ্যাটার্জি কিছুই পড়িনি কচি কালে। কিন্তু তবুও এইসব ইতিহাস জানতাম। বোধহয় ইশকুল থেকে। কারণ গণস্মৃতি বলে একটা ব্যাপার ছিল। ভূগোলের মাস্টারমশাই, মনে আছে, হুগলী শিল্পাঞ্চল পড়াতে গিয়ে উদাস হয়ে গিয়েছিলেন। কী ছিল আর কী হল। পাটশিল্পের ভূত ও ভবিষ্যত, সুতোকলের ইতিবৃত্ত। তার কতটা সিলেবাসে ছিল জানিনা। মনেও নেই। কী বলেছিলেন, তাও মনে আছে, এমনও না। কিন্তু ছাপটা গেঁথে আছে। তেতাল্লিশের মন্বন্তরও এভাবেই জানা। ফ্যান দাও, লাশের সারি, কালোবাজারি। এসব 'কেড়ে খেলনা কেন' পড়ার অনেক আগে থেকেই জানা। সিঙ্গুর স্টেশনে লালমুখো আমেরিকানরা ঘুরে বেড়াত। বোম পড়েছিল কলকাতায়। কোন গল্পটা কার মুখে শোনা, কোনটা পড়া, জানা নেই। এভাবেই মাইলো জানি, কানা অতূল্য জানি। খাদ্য আন্দোলন জানি। ৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনে ৮০ জন মারা গিয়েছিলেন পুলিশের গুলিতে। কী করে জানি? কোথাও পড়েছি হবে। কিন্তু তার থেকেও বেশি মনে আছে, দিগড়ার একটি লোকের গল্প। যে ওই মিছিলে ছিল, তারপর নিখোঁজ। সাত দশ বা পনেরোদিন পরে অবশেষে সে ফিরল। না মরেনি। মিছিল থেকে সোজা বৃন্দাবনে চলে গিয়েছিল। তীর্থ করতে। বৈষ্ণব ছিল সে। এ মনে হয় বাবার কাছে শোনা। তা, এগুলো ছিল গণস্মৃতি। যে কারণে, আমি আমার কথাই বলতে পারি, এসবের রেফারেন্স দেওয়া মুশকিল আমার পক্ষে। কোনটা কী করে জানি, কোনটা শোনা আর কোনটা পড়া আমার গুলিয়ে যায়। নতুন ছেলেপুলেরা, এই গণস্মৃতি থেকে বঞ্চিত। কেন, সে আমি জানিনা, কিন্তু বঞ্চিত। আর যে স্মৃতিই নেই, সে ঘটনা তো ঘটেইনি, তা নিয়ে লোকে পড়বে কেন। ৪৭ সালে স্বাধীনতা এল, তারপর বিধান রায়। তারপরে কংগ্রেস রাজত্ব, তারপরই ৭৭ সাল। জ্যোতি বসু। এই হল এখন ন্যারেটিভ। অতএব এইগুলো বলার, লেখার দরকার আছে। ইন্দো লিখুক। থামিয়ে যেন না দেয়। মন্বন্তর লিখুক, দেশভাগ লিখুক, শিল্পাঞ্চল লিখুক, খাদ্য আন্দোলন লিখুক। সব লিখুক। আমার ভূগোলের মাস্টারমশাইয়ের মতো লিখুক। তার প্রচুর মূল্য।
  • | 230123.142.560112.201 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:৪৯65261
  • বেশ , একটা কমেন্ট কে একটা টই এর ডিসটারব‍্যানস হিসেবে দেখলেন কিন্তু রেসপন্ড ও করলেন, ডিডি দা দেখছি বেশ ঝগড়ূটে হয়ে উঠেছেন, আমাদের ই প্রভাব হবে
  • সৈকত | 342323.176.120112.149 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:১৫65262
  • আসলে আমি চিরকালই মনে করে এসেছি শুধু মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা নিয়েই দুর্ভিক্ষ আর সমসময় নিয়ে একটা সংকলন হতে পারে এবং অন্যদের লেখালেখি তো ছিলই। তারাশংকরের 'মন্বন্তরে' তো শহর কলকতায় না খেতে মানুষদের চলে আসা, লঙ্গরখানা এইসব কিছু খুব রিয়ালিজম নিয়ে এসেছে, নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বা সুশীল জানা এদেরও কি্ছু গল্প দগদগে হয়ে সময়টাকে ধরে আছে। অপিচ সলিল চৌধুরীরও তো একটা গল্প ছিল, কলকাতায় মধ্যবিত্ত সংসারের একটি লোক, ক্রমশঃ খরচ সামলাতে না পেরে, আত্মহত্যা করছে, পুরো গল্পটার হিসেবের খাতার, যেখানে চালের দাম ক্রমশঃ বাড়তে থাকে, ফলে হিসেব থেকে একসময় চালটা বেরিয়ে যায়, এরকম কিছু। মাণিকবাবুর 'ছিনিয়ে খায়নি কেন', সেখানে তো, যতদূর মনে পড়ে, শহরের বাবুশ্রেণীর লোক, লেখক বা সাংবাদিক, সে গ্রামে গেছে এটা জানতে যে সেখানকার লোকেরা, চাল না পেয়ে, ছিনিয়ে খায়নি কেন, যখন সেসব পাচার হচ্ছিল। গ্রামের লোকটি তো বিবিধ উদাহরণ দিতে থাকে, বিভিন্ন ঘটনা, প্রতিটা ঘটনাই শেষ হয়, এই আক্ষেপ দিয়ে যে ছিনিয়ে খাবে কী করে, কেননা ছিনিয়ে খেতে গেলেও তো জোর লাগে, গায়ের জোর, মনের জোর, আর না খেতে পেয়ে তো সেসবই চলে গেছে !!

    এসবই আমার কাছে lived experience, ঐ সময়ের লেখকদের, সরাসরি বা চারপাশে যা ঘটছে, যা প্রচার হচ্ছে, সেসবই তাদের ক্রিয়েটিভ লেখার জন্ম দিচ্ছে, ঐগুলোই তাদের রিয়াক্ট করা। মাণিক বন্দ্যোপাধায়েরই 'কে বাঁচায়' গল্পটা, যতদূর মনে পড়ে এরকমই ছিল যে কলকাতা শহরের নিম্নবিত্ত প্রিবারের একটি লোককে যুদ্ধ আর আকালের সময়ে ক্রমশঃ চাকরি হারিয়ে লঙ্গরখানায় লাইন দিতে হচ্ছে। লেখ সর্ব্ত্রগামী, সেরকম ভেবে নিতে পারলে এই দুটো গল্পেই যেন মাণিকবাবু নিজেই গল্পের চরিত্র, বাবুশ্রেনীর লোকটি অথবা লাইনের না খেতে পাওয়া চরিত্রটি। অতএব এইসব লেখাপত্তর পড়েই ইতিহাসের অত বড় ঘটনার কাছে গেছি, এটা মনে করে যে সাহিত্য বলে যা বুঝি, সমসময়টা সেখানে ফুটে ওঠে আগে, পরবর্তীতে তার বিচার বিশ্লেষণ হয়, কারও স্মৃতিতে থেকে যায়, পরে সেসব নিয়ে কাজ হয়। প্রতিবাদের সাহিত্য হিসেবে এসব লেখাকে আমি দেখিনি, বরং ফুটে ওঠে এটাই যে কারোরই যেন কিছু করার নেই, শুধু খসে যাওয়া থেকে নিজেদের আঁটকানোর চেষ্টা করা ছাড়া।

    সত্যি বলতে কী, ইন্দোর এই লেখাটি নিয়ে আমার প্রথম থেকেই অসুবিধে হচ্ছিল, বোধি যেমন বলেছে, সেরকমই ভেবেছিলাম , শুধুই কী জনম মুখার্জীর বইটাই কারণ এই লেখাটা লেখার (একই মনে হওয়া দেশভাগ নিয়ে লেখাটাতেও, সেখানে মূলতঃ জয়া চ্যাটার্জী) ? এখন, শুরু হতেই পারে, যে কোন ঘটনা থেকে বা বই থেকে, ইন্দো হয়ত এই বইগুলো থেকেই এটা বুঝেছে বা বুঝতে চেয়েছে, যে অতখানি তুমুল ধ্বংসের কারণ গুলো কী, ইতিহাস আর ব্যক্তির সিদ্ধান্ত কীভাবে বক্র আর সর্পিল হয়ে উঠে সমাজ আর জাতিকে নষ্ট করে দিতে পারে - ঈশান যেমন লিখেছে, নিছকই আর পাঁচজনকে অতীতটা জানানোর জন্য বা প্রাইমার লেখা নিস্চয় উদ্দেশ্য নয় - সেরকম যদি হয়, তাহলে মানুষের lived experience গুলো, যা ক্ষত হয়ে সেই সময়ের ক্রিয়েটিভ কাজকর্মে ধরা আছে, সেটা ইন্দো নিজের লেখায় নিয়ে আসছে না কেন ? তাহলে কী লেখাটা আরোই সম্পূর্ণ হয়ে উঠত না ?

    (ডিডিদা, সব পড়িনি, কিন্তু বেশ কিছুই পড়েছি ঃ-) )
  • | 230123.142.5678.18 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:২২65258
  • ইন্দো না লিখলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে, সোনা ছেলেটা সেটা বুঝবে এবং আমার মন্তব্য সত্ত্বেও লিখবে আশা করি। যদি অসুবিধে সৃষ্টি করে থাকি, সরি। কিন্তু আমার আশা বেশি। তাছাড়া আমরা ইশানের কলে দু কলম লিখতে শিখে চাট্টি লোক শিক্ষে করে দেশের উপকার করছি এ জায়গায় পৌচেছি বলে অন্তত নিজেকে মনে করি না, হয়তো করার যোগ্যতা তোদের আছে, আমার সত্যি ই নেই।

    চিরটিন ইশানের ও দেখছি বয়স হয়ে গেল। এখন গণস্মৃতি নাই এটা মনে করার কারণ কি বুঝলাম না। কলকেতে বাবুয়ানির ঐতিহ্য , পারিবারিক দুগ্গোপুজো ইত্যাদি কেই একমাত্র জানার মত জাতির ইতিহাস বলে বেচার চেষ্টা কি আমাদের ছোটোবেলায় আনন্দবাজার বা এমনকি অন্য জাতীয়তাবাদী বোগাস পজিশন নেবা লোকজন করে নি? ছেলেমেয়েদের কে টিন এজ কনজিউমার ভেবে আনন্দমেলা র সূত্রপাত কি হয় নি সত্তরের দশকে , সেটা সরাসরি ছাত্র চাত্রী দের সমাজ বদলের স্বপ্নের থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা। সুন্দর স্মৃতি বলতে কিশোর পাঠ্য কমিক স্ট্রিপ বা মেরে কেটে একটি খেলা নিয়ে গল্প বা বোকা বোকা রহস্য উপন্যাস ... এই ইন্টারপ্রিটেশন থেকে আমাদের প্রজন্ম এখনো মুকত। একটা বড় অংশের বাঙালির ছেলেবেলা কে রাস্তার সৌন্দর্যায়ন এর মত করে ইতিহাস বর্জিত করে তোলার প্রচেষ্টা কি আগে হয় নি? এবং তাই নিয়ে অসম্ভব সমাজ সচেতন মানুষের মধ্যেও কি অজীব ইনসুলারিটি কি কিসু কম পড়িয়াছে?

    ১৯৮০ র শেষ দিক থেকে, ১৯৯০ পর থেকে বিশেষ করে গোটা ছোটোবেলাগুলো ই গঠনমূঅক জয়েন্ট এন্ট্রান্স এবং এম বি এ মেম বি এ গোছের জিনিসে চলে গেছে বলে মনে করি না।

    জনম মুখার্জি ২০১৪-২০১৫ র বই কি করে ছোটো বেলায় পড়ব? কিন্তু বাড়ির গল্প সমাজ থেকে উঠে গেছে মনে করার কারণ নেই। হ্যাঁ তার সাংঘাতিক চর্চা হয়তো নেই। একটা অবসারভেশন হয়তো ঠিক (মানে যদি সেভাবে ইশানের কথা কে বোঝা যায়), কমিউনিটি লিভিং এর প্রয়োজন টা উঠে যাওয়ায় হয়তো পরিবারের মধ্যে সামাজিক বিশেষত রাজনৈতিক স্মৃতি চর্চা একটু কমেছে, কিন্তু সেটা তো আর কজনের হয়েছে, এটার সঙ্গে তো সোশাল চেঞ্জে বেনেফিসিয়ারি যারা তাদের সম্পর্ক বেশি, বাকি দের?

    আমার ব্যক্তিগত কথা একটা বলি। এমনি ই বলছি, তর্কে জেতার জন্য বলছি না, নট ট্রেডিং মেমরিজ ইয়েট। বাবার স্মৃতি বিলোপের অসুখ হবার পর থেকে শুধু না, নানা বসন্ত ও হরমোনগত কারণে ইতিহাসে আগ্রহ বাড়ার পর থেকে গত বছর পঁচিশেক ধরেই আমি বাড়ির বুড়ো দের নানা কথা বলিয়ে নিয়ে অল্প সল্প লিখে রাখার চেষটা করছি। তাতে স্টানিং স্টোরিজ একেবারে নেই তা না, দু চারটে ডিনার কনভারসেশন জমিয়ে দেবার মেটেরিয়াল যথেষ্ট, কিন্তু তার যে বায়াস সেটা সাধারণ ভাবে আমাদের আগের প্রজন্মের হিস্টরি রাইটিং এর নানা বায়াস। পরিবার নিয়ে স্থান তথা ব্যাদ মাহাত্ম্য নিয়ে অকারণ ডিফেন্স, নতুন পোলিটিকাল টার্ম্স এ তার আর্টিকুলেশন দেখে দেখে হেজিয়ে গেলাম। খুব স্বাভাবিক ভাবেই জাতির ইতিহাসে যেগুলো রিজনেবলি রিসেন্ট দগ দগে ঘা , সেটা নিয়ে শুধুই লোকশিক্ষে না, ইন্দো র কাছে অন্তত আরেকটু বেশি ই আশা করি। খ
  • dd | 670112.51.0123.105 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:৫৮65259
  • এই একবারই লিখছি এই টইতে, এই বিষয়ে। আর লিখবো না। খামোখাই এইটইটা অন্য সবজেক্টের আখড়া হয়ে ওঠে এই ভয়ে।

    "ছেলেমেয়েদের কে টিন এজ কনজিউমার ভেবে আনন্দমেলা র সূত্রপাত কি হয় নি সত্তরের দশকে , সেটা সরাসরি ছাত্র চাত্রী দের সমাজ বদলের স্বপ্নের থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা"। আমরা অর্থাৎ ভামেরা তো ছোটোবেলার থেকেই নানান শিশুসাহিত্য পড়ে এসেছি - মৌচাক,শিশুসাথী, শুকতারা, সন্দেশ। আরো ছিলো কয়েকটা।

    সন্দেশের কথা বাদই দিলাম। অন্য পাত্রিকাতেও নিয়মিত ঘনাদা বা টেনিদা বা আরো নামকরা সাহিত্যিকদের কতো লেখাই গোগ্রাসে পড়েছি। সেগুলোও কি ঐ টিনে এজারদের বিপথগামী করার ষড়যন্ত্রমূলক প্রয়াস ছিলো?
  • dd | 90045.207.1256.205 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:১৯65260
  • হীরেন মুখার্জির "তরী হরে তীর" বইটায় উনি দুর্ভিক্ষের সময়কার লেখা/আঁকা নিয়ে লিখেছেন।

    সৈকতের হয়তো সবই পড়া।

    হীরেন বাবুর লিস্টে আছে তারাশংকরের মন্বন্তর,গোপাল হালদারের উপন্যাস। "মানিকবাবুর অসংখ্য শাণিত গল্প, নারায়ণ গংগোপাধ্যায়, ননী ভৌমিক, সুশীল জানা প্রমুখের বহু মর্মস্পর্শী কাহিনী।"

    ছবি আঁকিয়েদের মধ্য জয়নুল আবেদিন বাদ দিয়েও গোপাল ঘোষ, নীরদ মজুমদার ,গোপাল ঘোষ,সোমনাথ হোড়, রথীন মৈত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। ক্যামেরা কাঁধে প্রচার করেছিলেন সুনীল জানা,শম্ভু সাহা,

    এঁদের প্রতিবাদী শিল্পকীর্ত্তির কথা আগে জানতাম না। আঁকিয়েদের অমন ছবি কখনো চোখে পড়ে নি।

    হীরেন বাবুর বইটা ৩০+ বছর পরে re read করতে গিয়ে মনে হলো, তাই তো।
  • I | 3445.239.2389.55 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৬:৫৪65263
  • খুব বেশী লেখার সময় এখন নেই, কিন্তু এটা আমি বুঝতে পারছি না আমার এই লেখাতে বাকি রেফারেন্সগুলি ছেড়ে দিয়ে শুধুই জনম মুখার্জি কেন চোখে পড়ছে বা দেশভাগ নিয়েই বা শুধু জয়া চ্যাটার্জি কেন উল্লিখিত হচ্ছে। বাকি যে অন্যান্য রেফারেন্সসমূহ, তারা কেন ওভারলুকড হচ্ছে।
  • I | 3445.239.2389.55 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:১৪65264
  • সমালোচনাকে স্বাগত জানাই। একটা ব্যাপার বেশ পরিষ্কার যে সমালোচনাগুলি ( বিশেষ করে 'খ'-এর) আসছে একটা স্নেহজনিত প্রত্যাশার জায়গা থেকে। আশা করা হচ্ছে আমি মন্বন্তর ও দেশভাগ সম্পর্কিত চালু ডিসকোর্সে নতুন কোনো, মৌলিক কোনো কনট্রিবিউশন যোগান দেবো।
  • Ishan | 89900.222.34900.92 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:২৪65265
  • হনু একেবারে হৃদয়ে নিয়ে নিয়েছে, যে, কেন ছোটোবেলায় জনম মুখার্জি পড়েনি। :-) থাকলে অবশ্যই পড়ত সে নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ওটা শুধু এমনি উদাহরণ দিতে বলা আর কী।

    আর ইন্দোকে মোটেই প্রাইমার লিখতে বলিনি। গণস্মৃতি রচনা করতে বলেছি। সেটার জন্য ইতিহাস প্লাস একটা ব্যাপার লাগে। যেটা এই লেখায় হচ্ছে। এটা মোটেও জনম মুখার্জি মেড ইজি হচ্ছে না।
  • I | 3445.239.2389.55 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:২২65266
  • সরি, লেখা শেষ করার আগেই ভুল করে আপডেট হয়ে গেল। কেন, কে জানে। যেমন আমার ইতিহাস জ্ঞান, তেমনি কম্পু স্কিল। তেমন জুটেছে আমার একটি ল্যাপটপ। সেয়ানে সেয়ান চেনে।

    তো, যে কথাগুলি বলবার। এটা কৈফিয়ত মনে হলে কৈফিয়ত। আমি ইতিহাসের ছাত্র নই, এটা যাঁরা আমায় ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা চেনেন, তাঁরা জানেন। তাতে করে আমার অথবা অন্য কারোরই কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। পার্ট টাইম ডাক্তারি, পার্ট টাইম গপ্প-উপন্যাস পাঠ, পার্ট টাইম ছেলে-পড়ানো- বৌয়ের সঙ্গে গপ্পোগাছা এসব করে দিব্যি ছিলাম। গোলমালটি পাকালো আমার বোন বছর দুয়েক (নাকি দেড়েক?) আগে এরকমই এক মাঝরাতে মেসেঞ্জারে কিছু প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে। তাতে বার খেয়ে আমার মনে হল দেশভাগের ইতিহাসটা একটু খুঁটিয়ে পড়ে দেখলে হয়। আর যেহেতু ছোট থেকে আমাদের মাস্টারমশাইরা পই পই করে বলে এসেছেন-যা পড়বি সব লিখে লিখে পড়বি- এবং আমি ঘোর শিক্ষকবাধ্য ক্যাডারমানসিকতার লোক হওয়ার ফলে তাঁদের কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলি-এই আজ পর্যন্ত- ফলতঃ আমার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা বালখিল্য লেখারও শুরুয়াৎ হয়ে গেল; যেটা হওয়াই উচিৎ ছিল না, কেননা ইতিহাসে আমি অনধিকারী।

    কেন অনধিকারী? কারণ আমার কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই ইতিহাস-পাঠের, আমার দৌড় ক্লাস টেনের কিরণ চৌধুরী বা প্রভাতাংশু মাইতি (নাম ভুল লিখলাম নাকি?) মুখস্ত অবধি, যা কিনা মাধ্যমিক টপকানোর সঙ্গে সঙ্গে মগজের ফুটো দিয়ে গলে বেরিয়ে গেছে। আপনি বলবেন-প্রথাগত শিক্ষার বাইরের লোক কি তাহলে ইতিহাস নিয়ে লিখবে না? আমি বলব-নিশ্চয়ই লিখবে, যদি সে বা তারা নিজেদের অতন্তঃ একটা স্তর অবধি স্বশিক্ষিত করে তুলতে পারে। আমার সে গুড়েও বালি। ফলে এই ভেঞ্চারে আমার যাওয়াই উচিৎ হয় নি। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। আমি বার খেয়ে গেলাম। বাঙালবাড়ির ছেলে, এখনো দেশভাগের জ্বালা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে; আমার বেশ কিছু আত্মীয়স্বজন আছেন, যাঁদের পরের প্রজন্ম -মানে আমার থেকে কমবয়সী ছেলেমেয়ে সব-তারা দেশভাগের ফলে জীবনের লড়াই থেকে স্রেফ হারিয়ে গেল। তাদের কথা ঠারে ঠোরে লিখেওছি এক-আধবার। এইসব হিউম্যান ট্রাজেডির দিক থেকেই ইতিহাসের এই বিশেষ পর্বের দিকে আসা-যেমন করে আমি সাহিত্যের দিকে যাই।

    লিখতে লিখতে -কেন লিখছি-এ কথা যে আমিও ভাবিনি তা নয়। আপনাদের নেহাত পশ্চাদ্দেশ জ্বালাবো এমন মহৎ উদ্দেশ্য থাকলে এত খাটুনি না করলেও চলতো। আসলে লিখছি, যেমন আর সকলেই লেখে -রোগা-বেঁটে-কালো-ফর্সা-প্রতিভাবান ও প্রতিভাহীন-লেখক -অলেখক প্রাথমিকভাবে লেখে তার নিজের জন্য।নিজের ভালো লাগবে বলে। তার পর তো কে কী বললো। ভালো বললে একটুখানি চাপা আনন্দ হয়। কিন্তু একটা ব্যাপার নিয়ে নিশ্চিৎ ছিলাম, আমার টার্গেট অডিয়েন্সের ব্যাপারে। আমি জানতাম, এবং এখনো জানি ও মানি-আমার লেখার অডিয়েন্স পণ্ডিতরা নন।আমি লিখছি এই আমারই মত যারা ইতিহাস নিয়ে কৌতূহলী কিন্তু ইতিহাস যাদের বিষয় নয়, অথচ লাল মসজিদে বোমা ফাটলে যাদের মনটা খারাপ হয়, পাকিস্তানের কাছে ভারত হারলে অতটা হয় না।ডাক্তার-আইটি গাই-বিজ্ঞানের মাস্টার, যারা মলসভ্যতায় দিব্য আছে, কিন্তু অবরেসবরে প্রাণটা হু হু করে, গুরুতে টুকটাক ঢুকে পড়ে, ছ-সাত মাসে এক বার একাডেমিতে যায়। যাদের জনৈক নাম-না-জানা ব্যক্তি একদা গুরুর পাতাতেই 'ছদ্ম-আঁতেল' বলে গালি দিয়েছিলেন (ভ্দ্রলোক/মহিলা ঠিকই বলেছিলেন বোধ হয়,বোধিদা কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিবাদ করেছিল, কেননা স্নেহ নিম্নগামী)। সেই তারা যদি একটু-আধটু পরিষ্কার করে ইতিহাস জানে। মেনস্ট্রীম ইতিহাসের বাইরের যে ইতিহাসের ধারা, সেইটে খানিকটা। এই অফ ব্রডওয়ে ধরণ আর কি।এখন আমার কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে অফ অফ ব্রডওয়ে। আমি কেঁদে-কঁকিয়ে জনম মুখার্জি কিনে পড়েছি, কেসি'র সৌজন্যে অমলেন্দু মুখোপাধ্যায়- মণিকুন্তলা সেন-আবুল হাশিমের সফ্ট কপি পড়েছি। আগে তো এসব জানতামই না। আমার একতলয় চড়া হল না, আমি টাটা সেন্টারের মাথায় কী করে উঠব খ-দা?

    সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বা অন্য কারো লেখায় বোধ হয় পড়েছিলাম-সুকান্ত'র কবিতার এস্থেটিকস নিয়ে সমালোচনা করলে সে নাকি বলত-আমার লেখা পার্টিকর্মীদের জন্য লেখা, কমরেডদের কাজে লাগলেই আমি খুশী। সত্যি মন থেকে বলত না, না পিঠ বাঁচানোর জন্য বলত জানি না।

    এখন আমি যেমন সুকান্ত নই, আমার সমালোচকরাও কেউ সুভাষ মুখোপাধ্যায় নন। তবে কী- ঐ জাতীয় কিছু একটা কথাই আম্মো বলতে চাই। সত্যি মন থেকে বলছি, না পিঠ বাঁচানোর জন্য বলছি-জানি না। পিঠ এভাবে বাঁচে কিনা তাও জানি না, সম্ভবতঃ বাঁচে না।

    আর সৈকতকে বলবার- মানিক এট অল লিখলে তো ভালোই হত রে দাদা। যত গুড় তত মিষ্টি এই কথা আমার মত ট্যালাও শুনে ফেলেছে-আজ থেকে ছত্তিরিশ বছর আগে, তাও আবার খোদ শ্রীনগরে, এক কাশ্মীরী শালওলার কাছ থেকে, ভাঙা ভাঙা বাংলায়। সৈকত কিনা সাহিত্যের লোক, সে ইতিহাসকে আরো ভালো করে বুঝে নিতে চায় সাহিত্যের মধ্য দিয়ে। ভালোভাবে পারি মন্দভাবে পারি, সৈকতের দাবী আজ যদি মেটানোর চেষ্টাও করি, তাহলেও কিন্তু ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, গুরুবন্ধুরা ভেবে দেখুন। আগামীকাল একজন সিনেফিল যদি এসে বলেন-ওহে, লিখ্ছ তো খারাপ না, চলে যায় একরকম, কিন্তু এতে মন্বন্তর-দেশভাগ নিয়ে ফিল্ম কই? এবং তাঁর আব্দার শেষ হতে না হতেই নাটকের লোক এসে যদি নাটক দাবী করেন, নাচের লোক দাবী করেন নবনৃত্যের কাহিনী-তাহলে? এখন, এত গুড় আমি পাই কোথায় !

    কাজেই বন্ধুরা, এই লেখা নিয়ে এত আশাফাশা করার কিস্যু নাই। হাত সুড়সুড় করে, তাই লিখতে বসা, লিখতে লিখতে অনেক অনেক বই পড়া হয়ে যাচ্ছে, পাওনা বলতে এটুকুই আমার। আমি আঁতেলফাঁতেল কিছু নই ( আঁতলামোকে ছোট করছি না একটুও), মৌলিক কিছু কাজকম্মো করি না। কপি-পেস্ট মারছি বসে বসে। কম্পিউটারের সামনে গোমড়া মুখ করে বসে থাকি, বৌ-ও ভাবে দেশোদ্ধার হচ্ছে-ছেলে পড়াতে হয় না, শীতের রাত্তিরে হাঁটতে যাওয়া কি মুদিখানায় যাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছি।

    ব্যাস, এটুকুই।
  • I | 3445.239.2389.55 (*) | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:৩৫65267
  • আবার সে এসেছে ফিরিয়া
    --------------------------------
    তবে কিনা বস, ঐ জনম মুখার্জি কিংবা জয়া চ্যাটার্জি টুকে দিচ্ছি শুধু- এই কথাটা বোলো না। ওটা বোগাস কথা। টুকছি অবশ্যই, কিন্তু নানান জায়গা থেকে। অনেক বই থেকে। ও কথা বললে বুঝব মন দিয়ে পড়ো নি।
  • সিকি | 670112.215.56900.104 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:৪৫65268
  • ইন্দোদাদার এই কৈফিয়তপর্বটা যেন বইয়ের শুরুতে থাকে।
  • সৈকত | 340112.99.675612.98 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:২৬65269
  • লিখিও, লিখিও। আর যা ভাবা আছে।
    সবার দাবী মেটাতে গেলে তো ব্যাসদেব হতে হবে । ঃ-)

    @ ইন্দো।
  • dd | 670112.51.6712.20 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:১০65270
  • আরে পেশাদার ঐতিহাসিক আবার কেমন কথা ?ঐতিহাসিক হতে হলে ইতিহাস পড়তে হয় না কি?

    শুধু নেশাদার হতে হয়। আমি তো গুচ্ছের লিখি। লিখেই চলি। যারা ঐ সব এলেমওয়ালা প্রাবন্ধিক ,তাদের থেকে কপি পেস্ট করে। উনারাই তো খেটে খুটে সাতটা ভাষা জেনে নানান প্রাইমারী সোর্স ঘেঁটে ঘুঁটে বই লিখেছেন। আমি আবার খামোখা পরিশ্রম করতে যাবোই বা কেনো ?

    তাই আমার কোনো লেখাতেই ভুলেও রেফারেন্স দি' না। কোন শালাই বা আর খুঁটিয়ে চেক করবে? আর সত্যি কথা পয়সা দিয়ে তো আর পড়ছেন না, মাগনায় এর থেকে বেশী হয় না।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:২৬65271
  • আম্মো দিই না। কোনো লেখায় রেফারেন্স দিতে কী বিরক্ত যে লাগে আমার! আরে বাপু, নিজেরা দেখে নিন, বিশ্বের তথ্যভান্ডার তো বহুরূপে সম্মুখে বিরাজিছে। ঃ-)
  • I | 785612.40.89.202 (*) | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৩৯65273
  • দেখি। এটা আগে লিখি।তুমি / তোমরা খুঁত গুলি বলতে থাকো। ঠিক করার ক্ষমতা থাকলে দ্বিতীয়বার লেখার সময় ঠিক করবো।আমার এইধরণের লেখার প্রথম অ্যাটেম্প্ট গুরু, বোঝো না কেন!
  • সৈকত | 342323.191.3456.98 (*) | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:০৬65274
  • ঈশান গণস্মৃতির কথা বলে নিজের ক্ষেত্রে যে ঘটনাগুলোর উল্লেখ করেছিল সেগুলো সবই তার চেনাজানা মানুষদের কাছ থেকে শোনা কথা, যে স্মৃতি তার নেই অথচ হাওয়ায় আছে সেগুলো সে জেনে গিয়েছে, বইতে না পড়ে ইতিহাসের কাছে ঐ কথাগুলোর মাধ্যমে পৌছতে পেরেছে। কিন্তু এই লেখাটায় আমি সেই জিনিস পাইনি। ইন্দোর কৈফিয়ৎ পড়ে মনে হয়, তার উদ্দেশ্য ছিল ঐ সময়টাকে জানার, কিন্তু জানতে গিয়ে সরাসরি বইয়ের কাছে, ইতিহাস আর অন্যান্য বইয়ের কাছে গেছে এবং সেখান থেকেই শুরু এবং হয়তবা শেষও। আমার অসুবিধে হচ্ছে, এই এত বড় ঘটনা যা সে লিখছে সেখানে আমি তাকে খুঁজে পাচ্ছি না, কিছু ঘটনার উল্লেখ পাচ্ছি আর আরও কিছু বইয়ের কথা। হয়ত এই সমস্যাটা আমার হত না, যদি আরও কাছকাছি সময়ের কোন ঘটনা/ইতিহাস নিয়ে সে লিখত যেখানে ইন্দোর আত্মপ্রক্ষেপ ঘটত, সেখান থেকে ইতিহাসের দিকে যেত। এখন এ অসুবিধে তার হবে না, যার, তখন, সেই সময়ে মোটমাট কী হয়েছিল সেগুলো অজানা, ফলে ডিটেলস আর রেফারেন্স নিয়ে এই লেখাটার মাধ্যমে সেই সময়ে সে পৌছতে পারে; ফলে, আমার কাছে পড়ে থাকছে যেটা সেটা হল ইন্দোর শ্রমের ব্যাপারটা, যে এতকিছু পড়াশোনা করে সে গুছিয়ে একটা কিছু খাড়া করছে। কিন্তু তারপর ?

    সমস্যাটা কী তাহলে বিষয়ের ? বিশেষ করে এই মন্বন্তর নিয়ে লেখার সমস্যা, দেশভাগ নিয়ে অতটা না ? কারণ দেশভাগের স্মৃতি এখনও অবলুপ্ত হয়নি, পরিবারে-সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, জড়ো করলে এখনও কিছু বাকী থাকা জিনিস খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভিক্ষে তো লোকগুলোই মরে গেছে, যারা বেঁচে-বর্তে ছিল কোনক্রমে, তাদের ডাইরেক্ট একস্পিরিয়েন্সগুলো আর ধরে রাখা নেই (আমি অন্তত জানিনা), উপায়ও নেই ফিরে পাওয়ার। যেসব লেখাঅগুলো ইন্দো কোট করছে, সেইসব লেখাতেও কী ঐ মানুষগুলোর সরাসরি কথা ছিল, তাদের মুখের কথা, কোথা থেকে তারা এসে কোথায় মরল, সেগুলো ধরে রাখা হয়েছিল ? সেগুলো থাকলে বা সেগুলো এই লেখায় এলে কী লেখাটা অন্যরকম হত ? আমি হয়ত সেই জিনিসটা খুঁজছি, কারণ ঈশান যে স্মৃতির কথা বলছে, আমার ধারণা সেগুলো হেরে যাওয়া মানুষদেরই থাকে বা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কথায় (নস্টালজিয়া অবশ্যই এটা নয়, ওটা জিতে যাওয়া মানুষের থাকে), গত কয়েক দশক ধরেই ইতিহাস লেখাটাই সে জন্য বদলে গেল।
  • Ishan | 89900.222.34900.92 (*) | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৯:১১65275
  • দেশভাগ নিয়ে বেশ কিছু জিনিস অনালোচিত এবং অনেকটাই অস্পর্শিত। বাংলার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
    ১। ১৯৩৭-৩৮ এ বাম ঘরানার বসু ভ্রাতৃদ্বয়ের কংগ্রেস থেকে বিতাড়নের সূত্রপাত। সুভাষ বসু হেরে গিয়ে কংগ্রেসচ্যূত হলে কিছু বলার ছিলনা। কিন্তু ইতিহাসে অভূতপূর্ব যেটা, উনি কংগ্রেসে গান্ধীকে হারিয়ে তারপর বিতাড়িত হন। যা ইঙ্গিত পাওয়া যায়, গান্ধী-প্যাটেল-নেহেরু এবং উত্তর ও পশ্চিম ভারতীয় বানিয়াদের আঁতাত, এই কর্মটি ঘটাতে সক্ষম হয়। অথচ এর কোনো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা অমিল। সুমিত সরকার, জয়া চ্যাটার্জি, নীতীশ সেনগুপ্ত, স্রেফ ঘটনার বিবরণ দিয়েই দায় সেরেছেন, কিংবা সুভাষের আবেগপ্রবণতাকে দায়ী করেছেন। কিন্তু ইতিহাসের এত বড় পটপরিবর্তন স্রেফ আবেগের কারণে হয়না। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের দখল সেকুলার চিত্তরঞ্জনের বাঁদিক ঘেঁষা উত্তরাধিকারীর হাত থেকে বানিয়া গোষ্ঠীর হাতে চলে গেল, যারা কখনও হিন্দু মহাসভা, কখনও সমাজতন্ত্রী -- একদিকে প্যাটেল অন্যদিকে নেহেরুকে নিয়ে এইরকম নানা ভেক ধরেই চলবে, এটা তার সূচনাবিন্দু। এর পিছনে বড় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া অবশ্যই ছিল। সেটা মূলত অনালোচিত।

    ২। ১৯৪৬-৪৭। মূলত ৪৭। জয়া চ্যাটার্জি এবং সুমিত সরকার, দুজনেই ভদ্রলোক ও তাদের পরগাছাপনা, বর্ণহিন্দু জমিদার এবং মুসলমান ও নিম্নবর্গ হিন্দু চাষার দ্বৈত, ভদ্রলোক হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার উত্থান, এসব নিয়ে বিস্তর লিখেছেন। জয়া চ্যাটার্জি তো হিন্দু মহাসভার অ্যাজেন্ডা কীভাবে কংগ্রেস গাপ করল এবং হাতে হাত মিলিয়ে প্রচার শুরু করল সেটাও দেখিয়েছেন। এই প্রচারের অংশ হিসেবে, জয়া বলছেন, শেষ ধাপে আসে অমৃতবাজার পত্রিকার সেই বিখ্যাত সমীক্ষা, যেখানে ৯৮% মানুষই দেশভাগের প্ক্ষে রায় দেন। জয়া মূলত এটাকে দেখেছেন ভদ্রলোকের মধ্যে হিন্দু মহাসভা / কংগ্রেসের প্রচারাভিযানের ফল হিসেবে। এটা আবার প্রচারের অংশও বটে। যেটা তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরিতে সাহায্য করেছিল।

    জয়ার এখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল যে সাধারণভাবে দেশভাগের জন্য যে 'মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা' কে দায়ী করা হয়, তার বিপরীতে হিন্দু ভদ্রলোক সাম্প্রদায়িকতাকে চিহ্নিত করা। সেটা তিনি সাফল্যের সঙ্গেই করেছেন। মুসলমান সাম্প্রদায়িকতাকেও নেগেট করেননি ( যেমন ফজলুল হক মুসলিম লিগে যোগদান করেন, কংগ্রেসের অবিমৃষ্যকারিতার জন্যই করেন, কিন্তু করেন) । এইবার এইটা করতে গিয়ে যেটা দাঁড়িয়েছে, দেশভাগের পুরো ডিসকোর্সটাই তীব্র একটা মেরুকরণের জায়গায় পৌঁছে গেছে। যেন সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ, মেরুকরণ, এগুলোই সে সময়ের একমাত্র চালিকাশক্তি ছিল। বিদ্বেষ, মেরুকরণ এগুলো ছিল, নিঃসন্দেহে, বিশেষ করে কলকাতায় এবং অবশ্যই নোয়াখালিতে, এত বড় কান্ডের পর থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাই গোটা বাংলার চিত্র ছিল কী? মনে রাখতে হবে, মিহির সেনগুপ্তই হোন আর শরদিন্দুই হোন বা তপন রায়চৌধুরি, আমরা হত্যা, নৃশংসতার কথা পড়ি স্রেফ কলকাতার। তার বাইরে? আমি শোনা গল্প থেকে সিঙ্গুরের কথা জানি। দাঙ্গার গুজব রটানো হয়েছিল সেখানেও। আমার মামার বাড়ির সবাই সেখানে একজন ক্রিশ্চিয়ানের বাড়িতে ঢুকে বসে ছিলেন। কিন্তু দাঙ্গা হয়নি। এই ফাঁকে মুসলমানের জুতোর দোকান কে বা কার লুঠ করে নিয়ে যায়। তারপর দুই কমিউনিটি সক্রিয়ভাবে গুজব আটকায়। এইসব। এ জিনিস মিহির সেনগুপ্তয় নেই। শরদিন্দুতে সারপ্রাইজিংলি আছে। যেখানে সত্যবতী দাঙ্গা এড়াতে কলকাতার বাইরে চলে যায়। কোথায় মনে নেই, বাংলার বাইরে হলে অবশ্য সার্টিফিকেট ফিরিয়ে নেব। মিহির বা তপন কারো একটা লেখায় পূর্ব বাংলার একটা দাঙ্গার কথাও আছে। কিন্তু সেও একটা স্থানীয় দাঙ্গা।

    তা, প্রশ্নটা হল গোটা বাংলাই কি এরকম মেরুকরণের শেষ সীমায় পৌঁছেছিল? দাঙ্গায় যেমন হয়? ইন্দোর সঙ্গে এই নিয়ে একটা হাল্কা তর্কও হয়েছিল একবার। ইন্দো লিখেছিল, যে পরিমানে বিদ্বেষের কথা পড়ছে, ইত্যাদি। তা, সেটাই কি সাধারণ চিত্র ছিল?

    (আরও লিখছি)
  • Ishan | 89900.222.34900.92 (*) | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:১৪65276
  • জয়া চ্যাটার্জি পড়লে মনে হয়, মেরুকরণ এইরকমই তীব্র ছিল। আবার তথাগত রায় পড়লেও। :-) কলকাতার ধারাবিবরণী পড়লেও তাই মনে হয়। আবার অমৃতবাজার পত্রিকার সার্ভে পড়লেও। উল্টোদিকে এক আধজন দু-একটা অন্যস্বর তুলেছিলেন বটে, কিন্তু সেসব খুবই অপ্রাসঙ্গিক। জয়া যেমন শরৎ বসু-সুরাবর্দী-কিরণশংকর রায়ের প্রস্তাবকে 'অলীক স্বপ্ন' বা এই জাতীয় কিছু বলেছেন।

    মজা হল, এই মেরুকরণে জোর দিতে গিয়ে প্রতিটি প্রতিবেদনেই বহু কিছু অনুপস্থিত বা প্রান্তিক হয়ে যায়, যেমন ১। বহুস্বর, দেশভাগ কী এই নিয়ে কনফিউশন এবং বিতর্ক। ২। কেন্দ্রীয় এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব। বাংলা ভাগটা আসলে যাঁরা করেছিলেন। নেহেরু প্যাটেল গান্ধী জিন্না মাউন্টব্যাটেন অ্যাটলি। বাংলার মানুষ ভাগের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে অলীক হলেও এঁদের ভূমিকা অশেষ গুরুত্বপূর্ণ (এবং অন্য আরেকটা ব্যাপার আগেই বলেছি, এরা বহুলাংশে কলকাতা কেন্দ্রিকও। সিঙ্গুরে থাকা আমার মা কখনও সম্প্রীতির ইতিহাস লেখেননি, লিখবেনও না)।

    তা, দেশভাগ এবং বহুস্বরে যদি ফিরি, হৈমন্তী রায় দেখিয়েছেন, ওই ৪৭ সালেই কনফিউশন নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র বেরোচ্ছে, ওই অমৃতবাজারেই। ছবিটা তুলে দিলাম।

    বাই চান্স কেউ যদি চিনতে না পারেন, চরিত্ররা হলেনঃ সুরাবর্দী, শ্যামাপ্রসাদ, জিন্না, গান্ধী। এবং কার্টুনটি আর কিছু দেখাক না দেখাক, এইটুকু দেখায়, যে, ১। মূলধারায় তখনও প্রবল কনফিউশন (নইলে এটা ব্যঙ্গচিত্র হয়না)। ২। ভাগের প্রশ্নে মূলধারায় অন্তত চারটি মত। মেরুকরণ তখনও শেষ কথা বলছেনা। ৩। আলোচনার কেন্দ্রে দুজন বাঙালি এবং দুজন 'কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব'। ফলে ভাগের উত্তর খুঁজে গেলে স্রেফ বাংলায় খুঁজলে হবেনা।

    তা, জয়া চ্যাটার্জিকে এই তিনটি সমালোচনা যদি করে ফেলা যায়, তো, তাঁর সঙ্গে দুটি বিষয়ে দ্বিমত হতেই হয়। এর মধ্যে প্রথমটি এই, যে, বসু-সুরাবর্দী-কিরণশংকর-হাশিম এর অবিভক্ত বাংলার দাবী, সেই মুহূর্তে কোনো অলীক স্বপ্ন ছিলনা। বরং পাবলিক ডিসকোর্সের অংশ ছিল। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ, এঁরা সবাই সে মুহূর্তের বড় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ফজলুল হকও, সেই সময়ে দেশভাগের বিপক্ষেই ছিলেন (শেষ ভোটে দুবার বিরত ছিলেন) ।

    এই পাবলিক ডিবেটের খবর নানাভাবে পাওয়া যায়। এক, অমৃতবাজারের চিঠিপত্রের কলম থেকে, যা, তুলনায় আন এডিটেড। হৈমন্তী রায় দেখিয়েছেন, বেশ অনেকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বাংলা ভাগকে সমর্থন করেছিলেন। অর্থাৎ বাংলা একই থাক, কিন্তু মুসলিম লিগ 'বিশ্বাসঘাতকরা' করলে ভাগ হোক। এঁরা অনেকেই ওই কার্টুনের গান্ধী অনুগামী। কার্টুনের শ্যামাপ্রসাদের অনুগামীও কেউ কেউ ছিলেন অবশ্যই। এঁরা একেবারেই জয়া বর্ণিত 'হিন্দু ভদ্রলোক', যাঁরা, বলাবাহুল্য পুরো জনসমাজের একটি অংশ, সমগ্রতা নয়।

    বাকি দুটি মতের সমর্থক কারা ছিলেন? খবরের কাগজ এবং বাস্তব ডেপুটেশন থেকে জানা যাচ্ছে, পূর্ব বাংলার পাটচাষীরা। সমিতির সভাপতি এবং সচিব (ধর্মে মুসলমান) ঐক্যবদ্ধ বাংলা চেয়ে চিঠি এবং ডেপুটেশন দিচ্ছেন। আর তীব্রভাবে বিপক্ষে ছিলেন নমঃশূদ্রদের প্রতিনিধিরা। প্রবাদপ্রতিম যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ও তাঁর সহযোগীরা। এই দুই পক্ষকে যোগ করে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকেই পাওয়া যাবে। এছাড়াও কিছু উচ্চবর্ণ হিন্দুও অবশ্যই ছিলেন এই পক্ষে, শরৎ বসু, এবং কিরণশংকর রায়ের কথা আগেই বলেছি। সুরাবর্দী, ফজলুল হককে যোগ করলে এই গোষ্ঠীর কিছু সমর্থন যে ছিলই, ব্যাপারটা অলীক স্বপ্ন নয়, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    তাহলে প্রশ্ন উঠবে এঁদের এতই যদি সংখ্যার জোর, তো আইনসভায়ও কিছু জোর থাকার কথা। দেশভাগ নিয়ে ভোটাভুটিতে সেই জোর গেল কোথায়? এই খানেই আসে দ্বিতীয় সমালোচনাটি। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নানা রেফারেন্সে পাওয়া জায়, ভাগের পক্ষে/বিপক্ষে বাংলা ও পাঞ্জাবে গণভোটে নেহেরু রাজি হননি। শরৎ বসু নিশ্চিত ছিলেন গণভোট হলে বাংলা ঐক্যবদ্ধই থাকবে। গান্ধী এই 'বাংলাওয়ালা' দের ভর্ৎসনা করেন, টাকা ছড়াচ্ছে বলে। এবং গণভোট তো বাতিল হয়ই, প্রাদেশিক আইনসভায় ঐক্যবদ্ধ বাংলার পক্ষে ভোটাভুটিও বাতিল হয়। লন্ডন এবং দিল্লি থেকে নির্দেশ আসে ( এটা জয়া চ্যাটার্জির পরের বইটিতেই পাবেন) বিভাজন নিয়ে ভোট হবে স্রেফ ভারত এবং পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে। পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলার প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা আলাদা করে। পশ্চিম বাংলার প্রতিনিধিরা বিভাজনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দেন । হিন্দু মহাসভা এবং কমিউনিস্টরা, উভয়েই বিভাজনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে। এবং পূর্ববাংলার প্রতিনিধিরা বিভাজনের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দেন। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল এবং তাঁর সহযোগীরা বিভাজনের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

    সোজা ভাষায় এর মানে হওয়া উচিত, সংখ্যাগরিষ্ঠরা অর্থাৎ পূর্ব বাংলা বাংলা ভাগ চায়না। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাষা আলাদা। পশ্চিম বাংলায় বিভাজনের পক্ষের ভোটকে ধরা হয় ভারত অন্তর্ভুক্তির পক্ষের ভোট হিসেবে। আবার পূর্ব বাংলায় বিভাজনের বিপক্ষের ভোটকে ধরা হয় পাকিস্তান অন্তর্ভুক্তির পক্ষের ভোট হিসেবে। কারণ, হিংটিংছটের মতো শোনালেও, হাইকম্যান্ডের মতানুসারে, বাংলা বিভাজনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ভোট হয়নি। ওটা আগেই স্থিরীকৃত। ভোট হয়েছে শুধু অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে। রসিক জনে প্রশ্ন করতে পারেন, যে, বিভাজনের পক্ষে এবং বিপক্ষে ভোট দেবার যখন একই মানে, তো ভোটটার প্রয়োজন কী ছিল? আমার নিজেরও সেই একই প্রশ্ন। কিন্তু ঐতিহাসিকরা, কোনো অজ্ঞাত কারণে, এই জায়গাটা খুব সফটলি এক লাইনে বলে এড়িয়ে যান। জয়াও গেছেন। সুমিত সরকার কী করেছেন মনে নেই, কিন্তু জোরে সোরে কিছু বললে মনে থাকত।

    তা, এখানে অনালোচিত দুটো জায়গা। ১। বিভাজনের প্রশ্নে ভোটের নামে যে ফ্রড হয়েছিল। এবং না হলে কী হতে পারত। কাকে ঠেকানোর জন্য এই ফ্রড। বস্তুত ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াটিই আলোচনা করা উচিত এখানে। গান্ধী-টাটা-বিড়লা-গোয়েঙ্কা-নেহরু-প্যাটেল-নলিনী সরকার -- এই ক্লিকের শক্তির উৎস কী? ২। ঐতিহাসিকরা এই ফ্রডের বিশ্লেষণে ঢোকেননা কেন। নীরবতার কী অর্থ?
  • | 340123.99.121223.134 (*) | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ১২:২৭65272
  • শেষ দিক থেকে শুরু করি।

    ক - নন ফিকশন লেখায় রেফারেন্স ব্যবহার করে না দেওয়ার কথা, অন্তত বড় লেখায়, ভাবি না। লেখকের নিজের প্রেরোগেটিভ, কিন্তু আমার কিরকম নিজেকে চোর চোর লাগে না দিলে। অন্যের আইডিয়া সমর্থন , বিরোধিতা , উল্লেখ সাধারণত স্বীকার করি। অনেক সম্পাদক এটাকে গুরুত্ত্ব দেন না, আমার লেখাতেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নোট, পরে চেচামেচি করে আনতে হয়েছে এই অভিজ্ঞতা আছে। এটা আমার কাছে সামান্য ব্যাপার না, আলোচনার কন্টিনিউইটি তে ন্যুনতম শর্ত। হ্যা এবার বাক্যের উপরে নির্ভর করে। ধরুন ছত্তিসগড়ে কংগ্রেস জিতেছে এই কথাটা বলতে রেফারেন্স না দিলেও চলে, কিন্তু এবার ছত্তিসগড়ে সুকমা অঞ্চলে মাওবাদী বয়কট কাজ করে নি বা অমুক জায়গায় রেশন না পৌছনো তে ক্ষোভ ছিল, সেটা বলতে গেলে রেফারেন্স দিতে হতে পারে যদি না, আমি ই প্রাইমারি তথ্য সংগ্রাহক হই। সাংবাদিকতার উদা দিলাম বুঝতে সুবিধে হবে বলে। সোশা সায়েন্সে উদা ভুরি ভুরি, সেটা প্রকাশিত বইয়ের লেখক , স-ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত তরুণ বৈজ্ঞানিক কে আমাকে বলে দিতে হবার কথা না। এবার বাকি রইল গুরুতে দেব কিনা, আমার মতে গুরু কে সিরিয়াস চিন্তার বাহন মনে করলে না দেবার কিছু নেই, গুরু কে শুধুই টুইটার বা ফেসবুক মনে করলে হয়তো না দিলেও হয়, তবে মাগনা মনে করলে না দিলেও হয়তো চলে। স্টাইল শিট তো এরা কিছু করে নি, এক্সপ্রেশন এর বাধা বলে মনে করেছে, না দিলেও চলছে অতএব চালান ঃ-)
    খ -
    ১- এরকম দাদা যেন বাংলাদেশে সব বোন ভাই দের হয়। তার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই পড়াশুনো, লাভ দ্যাট, অ্যাবসোলিউটলি লাভ দ্যাট।

    টুকে দিছিশ কোথায় বললাম। এবার বাড়ি গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গাল দিয়ে আসবোঃ-))))))))) অবশ্যই নানা জায়গা থেকে নিয়ে একটা তোর ন্যারেটিভ তৈরী হয়েছে। অকারণ মুখে কথা বসাস না। আমার কাছে দ্যাট ইজ নট এনাফ , তোর নিজের বক্তব্য আরো চাই। আমি মরা পর্যন্ত তোকে জ্বালাবো। কারণ দাবী আছে, হতে পারে এবং হবে।

    উদাহরণ দিচ্ছি। তোর ব্যবহার করা সোর্স থেকেই দিচ্ছি। জনম মুখারজির মূল কনট্রিবিউশন টা কি। কলোনিয়াল হিস্টরি , বিশেষতঃ পার্টিশন এবং ৪০ এর দশক প্রসঙ্গে, ইকোনোমিক ফ্যাকটর অ্যানালিসিস কমিউনাল বাইনারি তে বাদ পরে, পপুলার ইমাজিনেশনে তো পড়েই, সিরিয়াস সেকুলার কাজেও পড়ে, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ হিস্টরি সরকারি পলিটিকাল চালের অ্যানালিসিস করতে করতে লোকে ভুলে যায় মানুষের জীবনে মতাদর্শ যেমন আছে, প্রজা বা নাগরিক হিসেবে টিঁকে থাকা যেরকম আছে, কিন্তু তার একটা দৈনন্দিন ও আছে। সেটা কে ম্যাট্রিক্স টার মধ্যে নিয়ে আসাই ওনার মেন কাজ। এবার জয়া চ্যাটারজি, মূল কন্ট্রিবিউশন টা কি, বাংলার ক্ষেত্রে হিন্দু কমিউনালিজম আর্টিকুলেশন এর বিশেষত গুলো কি সেটা আর্টিকুলেট করা, এটা ওনাকে কেন করতে হয়েছে? কারণ পার্টিশনের যে পারসিভড উইসডম এবং স্কলারশিপ এবং সর্বোপরি যেটা 'গণস্মৃতি' তে সর্বত্রই মুসলমান (ওয়েস্টার্ন ইউপি র লিগ লিডারশিপ মূলতঃ) মুসলমান সেপারেটিজম টা হল পার্টিশনের মূল কন্স্পিরেটর। এই কাজ টা ওয়েস্টারন ইউ পি র ক্ষেত্রে মুশিরুল হাসান কে করতে হয়েছে, ইংরেজ রাই একমাত্র আর্বানিটি মডার্নিটি এনেছে ভারতে, এবং মুসলমান দের সিভিল সোসাইটি বলে কিছু ছিল না, মুসলমান সংস্কৃতি বলতে শুধু কোর্ট কালচার, এবং সেটা কে ধরে রাখতে না পেরেই তারা পার্টিশনের কনস্পিরেসি শুরু করলও, এবং লীগ নেতৃত্ত্ব আর মিলিয়ান মিলিয়ান মুসলমানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, এই পারসেপশন কে বদলানোর জন্য চেষ্টা করতে হয়েছে।
    তো সেরকম ই আমি আশা করি তোর লেখায় আমরা সম্পূর্ণ আনটাচ্ড কিসু পাব। যেটা আকাডেমিয়া, পোলিটিকাল রেফারেন্সেস , এবং গণস্মৃতি সব কিছুকেই চ্যালেঞ্জ করবে, না পাবার কিছু নেই। বিনয়ের গাছ বা টাটা সেন্টার সরিয়ে রাখলে সেটা ন হবার কারণ নেই। এবার এই প্রসঙ্গে ইশান কে কিচুহ বলছি, সেটা সময় পেলে একবার দেখে নিশ।
    গ -
    ইশান ।।। আমি প্রাথমিক ভাবে যেটা বলেছিলাম, যে আজকাল ছেলেমেয়েরা কিছু জানে না খবর রাখে না ভাবছিলি, সেটা য় আমার আপত্তি ছিল। দেশে যদি সব জায়গায় এনলাইটেনড শিক্ষা পৌছতো, সব ধরণের কনফ্লিক্ট জোন থেকেই গণস্মৃতির নানা এভিডেন্স পাবা যেত। নব্বই পরবর্তী মিডল ক্লাস অ্যাস্পিরেশনাল মডেলে নতুন ভবিষ্যতের জন্য তৈরী হতে গিয়ে নব্বই পরবর্তী প্রজন্ম কিছুই খেয়াল করে না, কিছুই শিখছে না এটা হয় না, সবাটি মৃত সত্তা কিসু না। ঝুঁটি বেঁধে গান গাইতেই বলা যায় না হয়তো লোকে অজানা কবিদের সন্ধানে লিটল ম্যাগাজিন তোলপাড় করে ফেলবে , হয়তো করছেও।
    গণস্মৃতি প্রসঙ্গে বলছি, মিহির সেঙ্গুপ্ত দিয়ে যে সবটা কভার হবে না, এটা বুঝতে পেরেই ইন্দো তার লেখার ফর্মের পিচিং করেছে , পারফেক্ট সিদ্ধান্ত। শুধু ই পারিবারিক এবং জাতীয় ট্রমার স্মৃতির ভিত্তি তে লিখতে বসে নি, ঢের বেশি অবজেকটিভলি লিখছে। তো এটা তাকে কেন করতে হচ্ছে, সে বুজছে দেয়ার আর গচাজ ইন দ্য ফ্যামিলি স্টোরি বা ওভারাঅর্কিং ন্যারেটিভ্স। বাঙালনামা তো খ্যাতনামা পেশাদারী ফেনোমেনল কাজ করা ঐতিহাসিক এবং সেকুলার রাষ্ট্রের পক্ষে কড়া ডিবেটার, তাঁর মেমোয়ার্স এ, তিনি বলছেন, ৪০ এর দশকে বাঙালি হিন্দু যুবক চাকরি নিয়ে ইনসিকিওর্ড ছিল। তো সেই ইনসিকিউরিটি তিনি অন্যদের মধ্যে কেন দেখতে পান নি, বলা মুশকিল। তো সেই গ্যাপটা আছে বলেই ইন্দো কে মেমোয়ার্স এর থেকে বেশি অবজেক্টিভ অথচ সুধুই পোলিটিকাল ডিবেটের রেটোরিকের থেকে বেশি অবজেকটিভ আবার অ্যাকসেসিবল ইতিহাস করার জন্য প্রাইমারি ডেটার উপরে নির্ভরতা কমিয়ে লিখতে হচ্ছে। অতএব আমাদের আকাঙ্খিত পিচিং এর দিকে তার সেন্সিবিলিটি, এমনকি পারিবারিক দায় বদ্ধতাই এবং সত্য নিষ্ঠা তাকে নিয়ে যাচ্ছে।
    তাহলে আমি সন্তুষ্ট হচ্ছি না কেন। এবার আমি ক্লিয়ার করছি।
    বাংলা মুদ্রন অর্থে ছাপা জিনিসটা হবার পরে যেমন , আত্মপরিচয়ের সন্ধানের জন্যই বাঙ্লায় লোকে লিখেছে চর্চা করেছে, দেশ কে ভালো বেসেছে, বিদেশী শাসক কে গাল দিয়েছে, দেশের মানুষকে অ্যাড্রেস করার জন্য নানা ধরণের ভাষা র টোন অ্যাডপ্ট করেছে, তেমনি আধুনিকতা নামক বস্তু টাকে, আর্বানিটি বা শহরের বাইরের এক্সপেরিয়েন্স কে রেকর্ড করার জন্য নানা ধরণের পত্র পত্রিকা করেছে। খবরের কাগজ আর পত্র পত্রিকা একেকবার একেকরকম রোল প্লে করেছে। ম্যাগাজিন জিনিসটা লিটল হয়েছে, দেশপ্রেমী, স্বাধীনতাকাঙ্খী কাগজ যখন রাষ্ট্রের ডিফেন্সে চলে গেছে। ৪৭-৮০ পিরিয়ড টা যদি দেখিশ, মূলতঃ দু ধরণের ট্রেন্ড , প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার একটা তাগিদ আমাদের বুদ্ধিজীবিরা করছেন, ইউনিভারিসিটি, ইনস্টিটিউট গড়ে উঠছে, সেটা সবসময়ে একেবারে আজকের অর্থে দেশের হয়ে রাস্তায় নামছে তাও না, লিবেরাল স্কুল হচ্ছে, কলোনিয়াল উচ্চ শিক্ষার সেন্টার গুলো ও সেদিকে আসছে, কিন্তু তাহলে লিটল ম্যাগাজিন কে আসতে হচ্ছে কারণ প্রতিটা লোক ই মনে করছে প্রতিষ্ঠানের বাইরেও আমার ন্যাশনাল কনভারসেশনে একটা পার্ট আছে। ছাপা খানা চালানোর খরচ, ডিস্ট্রিবিউশন এর নেটওয়ার্ক তৈরীর সমস্যা , উচ্চতম মানের শিক্ষার সব জায়গায় না পৌছনো, ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিক উৎপাদনে সাহায্য করছে। এগুলো কোনো টাই তোর অন্তত অজানা নয়, আমার থেকে ঢের বেশি ভালো ভাবে জানা। এবার ইনটারনেট কে তোরা ধরলি কেন, কারণ তার আগের যে স্ট্যাটাস কুয়ো, ছাপা সোজা হয়ে এলেও ডিস্ট্রিবিউশন এর বেহেমথ দের ভাঙা যাবার একটা কল পেলি বলে। কিন্তু আই অ্যাম শিয়োর প্রতিটা টেকনোলোজি এবং কালচারাল এবং পলিসি ট্রানসিশন যে গতিতেই হোক না কেন তার লেজিটেমেসির একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। লিটল ম্যাগে যে সিরিয়াস বিষয়ে ভালো লেখা সম্ভব, এবং বিষয়ের পরিধি বড়ানো সম্ভব সেটা তাতে এস্টাবলিশ করতে হয়েছে, কিন্তু কন্টেন্টের লড়াই এ অন্তত একটা সময়ে এগিয়ে থাকলেও, ডিস্ট্রিবিউশন এর লড়াই এ সে হেরে গেছে। ইনটারনেট এর ক্ষেত্রে সেটার উলটো হয়েছে, কারণ টা টেকনোলোজির নেচার টা। এখানে ডিস্ট্রিবিউশন টা, পার্টিসিপেশন টা যত হারে বাড়ছে, হুইচ ইজ অ গ্রেট থিং, কনটেন্ট এর ক্ষেত্রে একটা গ্যাপ থাকছে। আমাকে একটা কথা বল, এটা প্রতিষ্ঠিত, ভারতবর্ষের আকাদেমিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক , যিনি ইতিহাস চর্চার মোর ঘুরিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজে পোলিটিকাল সাইন্সের , অ্যান্থ্রোপোলোজি ইত্যাদি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা লোক, ইতিহাস ছাত্র হিসেবে কোর্স করেন নি। তেমন ই, ইন্টারনেট এর বাঙ্লার কিন্তু এক্টা পার্টিসিপেশন এবং ডিস্ট্রিবিউশনের চ্যালেঞ্জ, ফন্ট এর চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার পরে, নেক্স্ট স্টেপ হল সিরিয়াস কন্টেন্টের প্রাইমারি সোর্স হয়ে ওঠা। এটা না হবা কোন কারণ নেই। এই তোদের মধ্যে থেকেই সেটা হবে, একটা বিষয়ের প্রাইমারি কাজের সন্ধান পেতে লোকে তোর এখানেই আসবে কিছুদিন পরে, আমরা যত্নবান হলে না হবার কারণ নেই। এবং আরো ভালো হবে সেটা শুধু অন্য ডিসিপ্লিনের না, অন্য প্রোফেসন বা একেবারে নো হোয়ার ম্যান গোছের মানুষেরা সেটা সম্পাদন করবে। দ্যাট উইল বি আ বিউটিফুল থিং। এই ধর টেলিভিসন এসে, স্কুপ নিউজ এর বাজার চলে গেছে ইলেক্ট্রোনিক মেডিয়া তে, কিন্তু বুজ অফ রেকর্ডস এর কাজ, লং ফর্ম অ্যানালিসিসের কাজ, সাসটেইন্ড ইনভেস্টিগেশনের কাজ এখনো কিন্তু খবরের কাগজ কেই করতে হচ্ছে, তেমন ই নতুন টেকনোলোজির আসার পরে একই সঙে পুরোনো পাবলিশিং কে যেমন ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বা ইনটারনেট কে ব্যবহার করতে হচ্ছে, তেমন ইনটারনেট বাংঅলার লেখালিখির ও একটা দায় থাকছে, শুধু নানা বয়ান না, অভিজ্ঞতা কে ইমপারসোনাল করতে সবাই পারে না, অ্যাজ আ প্রাইভেট সিটিজেন আমি মনে করে আমরা পারি আকাডেমিক, পোলিল্টিকাল ডিসকোর্স এবং গণস্মৃতি তিনটে কেই ডিসরাপ্ট করতে । কেন পারবো না। এটাই আমার দাবী, এটা ইন্দো র না পারার কারণ নেই। আমি এরকম আজগুবি দাবী যাদের লেখা পড়ে মুভড হই তাদের বেলায় করেই থাকি। এতে ইন্দো কেনো ডিফেন্সিভ হয়েছে আমি বেশি অবাক হয়েছি।

    এবার কয়েকটা পার্সোনাল উদাহরণ। আমার ঠাকুমার বাবা খুব ভালো লোক ছিলেন, তিনি ঠাকুমা কে বরিশালের গ্রামে ডাকঘর নাটকে সুধা হতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ঠাকুমার বিয়ে দেবার পরে সাংঘাতিক কান্নাকাটি করতেন আর ছেলে মানুষের মত মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে তাকে বার বার দেখতে যেতেন এবং পরিচিত দের এমব্যারাস করতেন। তাঁর পেশা কি ছিল। তিনি তশিলদার ছিলেন সম্ভবত, জমিদারের খাজনা আদায় করতেন, মনিবের মুসলমান প্রজাদের জুটো পেটা করতেন খাজনা না দিলে, লেঠেল দিয়ে পেটাতেন, ভালো লোক ছিলেন, মুসলমান মাঝি দের সঙ্গে লুকিয়ে লুকিয়ে নিষিদ্ধ মাংস খেতেন, আর তগো প্যাটে এইসব সয় কি করগিয়া বলে এমন খেতেন যে তাদের নিজেদের পেট ভরাতে আরেকটি প্রাণী হত্যা করতে হতে পারে খেয়াল করতেন কিনা জানা যায় না। তো যাই হোক, তিনি ভালো লোক ছিএন, তার পরিবারের এক অংহ্শ কে এক কাপড়ে চলে আসতে হয় পার্টিশনের সময়ে, এসে খুব কষ্ট করে কোন মতে দাঁড়াতে হয়, তাঁরা অনেকেই ইতিহাসের ভুল ঠিক করার জন্য বিজেপি হয়েছেন। তো হয়েছেন। এইবার গণস্মৃতি কে অ্যাড্রেস করতে গেলে আমাকে শুধু আহা উহু মন ছুঁয়ে গেল লিখতে অসুবিধে আছে, আমার বীরভূম ভালোবাসাকে যদি অ্যাকট অফ বাঙালত্ত্ব ডিনাইয়াল হিসেবে দেখি, তাহলেও , বেসিকালি এটা ডিনাই করা কঠিন, আমরা আদিবাসী বীরভূমি দের জায়্গার বেফালতু সেটলার। এবং এলাকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দাবীতেও প্রতিষ্ঠানের কাজ কর্ম ই ভরসা আর বাকিটা ফাঁকা কলসি। সম্ভবত নাদিন গর্ডিমার এর ই কথা আছে, (প্যারাফ্রেজ্ড) , একেবারে ঘনিষ্ঠ লোক এর থেকে দূরে যেতে প্রস্তুত না থাকলে লেখালিখি করা ই উচিত না, সেক্ষেত্রে এই অবজেকটিভিটি পিচিং ইজ ফাইন। এইবার আমি নিন্দে তো আগেও করেছি। এবারে এত লোকের অবাক লাগছে কেন, আই অ্যাম নট ক্লিয়ার। মিঠুন এর উদা ঃ রেফারেন্সিং এর বিষয়টা দেখা ছারা ওকে আমি বলেছিলাম কাশ্মিরী সোর্সে ব্যবহার বাড়াতে পারিশ আর কাশ্মিরী সিভিক লাইফের রেফারেন্স ও বাড়াতে পারিশ। কারণ কনফ্লিক্ট ছাড়াও একটা সোসাইটি আছে এটা সরকারকে মনে করানো টাও সেনসিবলে লোকের একটা কাজ, পাত্তা দেয় নি, ফাইন, সে লেখক সে ঠিক করবে কি (বিশেষতঃ গায়ে পড়া অ্যাডভাইস) নেবে আর কি নেবে না। পরের সংস্করণে দেখে নেব আদৌ কিছু ভেবেছে কিনা। শাক্য কে আমি বলেছি, ইনফ্যাক্ট ওর বই টা রিভিউ করার সময়ে লিখেওছি, ইট ইজ বিউটুফুলি স্ট্রাকচার্ড, প্রটিটা চ্যাপটার ই একেকেকটা স্বল্প পঠিত লেখার জন্য, এত ভালো ট্রিবিউট হয় না, কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, হি ইজ লুকিম` ফর আ ড্রামাটিক মোমেন্ট অল দ্যা টাইম, আই ডিড নট সি দ্যাট ওয়াজ নেসেসারি। তো এই। আই অ্যাম সরি, আমি কোনো কিছু নিয়ে এক্সাইটেড বোধ করলে বেশি কথা বলে ফেলি।
    গ- সৈকত (দ্বিতীয়) সাক্ষাতে কথা হবে , lived experience টাই আসল কথা।
  • aranya | 3478.160.342312.238 (*) | ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:৫২65278
  • পাটনায় দাঙ্গার-ও কিছু রেফারেন্স ছিল শরদিন্দু-র লেখায়, যদ্দুর মনে পড়ছে। অজিতের বন্ধু, কট্টর পাকিস্তান সমর্থক, দাঙ্গায় মারা যায়, ঈশাক সাহেবের বইএর দোকান আগুনে ভস্মীভূত ইঃ
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন