এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ঃ বাঙালির মৃত্যু

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ জুন ২০১৬ | ১৭২৩৫ বার পঠিত
  • ২০ সে জুন ১৯৪৭ বাঙলার লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বাঙলা ভাগের পরিকল্পনা গৃহীত হয় । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ রোধে বাঙলার যে শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৪ দশকের ব্যবধানে বাঙলার সেই শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ দেশভাগের পূর্বে ধর্মের ভিত্তিতে প্রদেশকে ভাগ করার পক্ষে সংবদ্ধ আন্দোলন চালায় এবং প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে বাঙলা ভাগ মেনে নেয় । সেই অর্থে আজকে ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিবসের সূত্রপাত বটে কিন্তু একই সাথে নেহেরু ,প্যাটেল ,জমিদার শ্রেণী , মারোয়াড়ী লবি’র ক্ষুদ্র স্বার্থ এবং শ্যামাপ্রসাদবাবুর উগ্র জাতীয়তাবাদের কাছে সমগ্র সাধারণ বাঙালির পরাজয়ের দিন । তার অর্থ এই নয় যে একই অর্থনৈতিক শ্রেণীভুক্ত ঢাকার নবাব এবং উচ্চ বংশীয় মুসলিম লীগের নেতারা,হাসান ইস্পাহানী গ্রুপ ইত্যাদি স্বার্থান্বেষীরা চুপচাপ বসে ছিলেন বরংসমপরিমাণ তৎপরতায় তারাও হিন্দুদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি না করে নিজেদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার স্বার্থে দেশভাগের পক্ষে সায় দেন ।

    শেষ চেষ্টা একটা হয়েছিল বটে । ১৯৪৭ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী যেরকম শরৎ চন্দ্র বসু , সুরাবর্দি , কিরণ শঙ্কর রায় , আবুল হাসিম , সত্য রঞ্জন বক্সী এবং মোহাম্মদ আলি চৌধুরী বাঙলা ভাগের বিরোধী "সংযুক্ত স্বতন্ত্র বাঙলার “ স্বপক্ষে দাবী পেশ করতে থাকেন । সুরাবর্দি এবং শরৎ চন্দ্র বসু বাংলার কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের এক কোয়ালিশন সরকার গঠন করে বাংলার জনতাকে সাম্প্রদায়িক লাইনে বঙ্গ ভঙ্গের বিরোধিতা করার জন্য উৎসাহিত করতে থাকেন, সাক্ষরিত হয় বেঙ্গল প্যাক্ট । ২৭ সে এপ্রিল ১৯৪৭ সালে সুরাবর্দি দিল্লীতে এক প্রেস কনফারেন্স এই স্বতন্ত্র অবিভক্ত বাংলার পরিকল্পনা পেশ করেন । ২৯ সে এপ্রিল আবুল হাসিম কোলকাতায় সমরূপ ইচ্ছা প্রকাশ্য করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন । একই সময়ে ১৯৪৭ সালের ২১ এপ্রিল খ্যাতিমান বাঙালী নিন্মবর্ণ নেতা এবং তৎকালীন ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানান, বাঙলার নিন্মবর্ণ হিন্দুরা বাঙলা ভাগের প্রস্তাবের বিরোধী। কিন্তু অন্যদিকে প্যাটেল সার্বভৌম বাঙলার দাবীকে বর্ণনা করেন ‘ একটা ফাঁদ হিসাবে যেখানে কিরণ শঙ্কর রায় শরৎ বসুর সঙ্গে আটকা পড়বেন ‘ । পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস ততদিনে বিধান রায়ের নেতৃত্বে দিল্লী লবির অনুগত দাসে পরিনত । ইতিমধ্যে কুখ্যাত কোলকাতা রায়ট দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন রেখা গভীর এবং প্রায় অলঙ্ঘনীয় করে তুলেছে । এই সময়ে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দু প্রধান জেলাগুলির আইনপ্রনেতারা এক বৈঠকে ৫৮ জন বিভাজনের পক্ষে ভোট দেন কিন্তু সেই সভাতেই মুসলিম লীগের ২১ জনা বিভাজনের বিপক্ষে ভোট দেন। ৫৮ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ আরো সিদ্ধান্ত নেয় যে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো ভারতে যোগদান করবে। অন্যদিকে, মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোর আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ১০৬ জন যার মধ্যে ১০০ জন ছিলেন মুসলিম লীগের, ৫ জন ছিলেন নিন্মবর্নের হিন্দুদের প্রতিনিধি এবং এক জন ছিলেন খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি বাঙলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দেন। বাকি ৩৫ জন পক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলোর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে ১০৭-৩৪ ভোটে মুসলিমপ্রধান এলাকার আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত পাকিস্তানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, বেঙল ন্যাশনাল কংগ্রেসের সাথে তাল মিলিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার বেঙল শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা বাঙলা ভাগের পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন ।

    মুসলিম লীগের এক বিপুল অংশ এবং বাঙলার নিন্মবর্ণ মূলত নমঃশূদ্র হিন্দুরা বাঙলা ভাগের প্রস্তাবের বিরোধী হলেও ,কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা এবংকমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার বেঙল শাখার আগ্রহে ,নেহেরু প্যাটেল লবির কাছে শরৎ চন্দ্র বসু , সুরাবর্দি , কিরণ শঙ্কর রায় , আবুল হাসিম , সত্য রঞ্জন বক্সী এবং মোহাম্মদ আলি চৌধুরী বাঙ্লাভাগের বিরোধী সংযুক্ত স্বতন্ত্র বাঙলার স্বপ্ন পরাজিত হয়। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে ,বাঙলা ভাগের বিরুদ্ধে যে বাঙালী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলল সেই একই বাঙালী ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ মেনে নিলো কেন ? এর উত্তর লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগের ধারাবাহিক সত্যের মধ্যে ।

    এখন ব্যবসা বা শিল্প বাঙালী ভদ্রলোকদের সমৃদ্ধির ভিত্তি ছিলোনা -তাদের সমৃদ্ধির ভিত্তি ছিল ভূমি । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সম্পত্তির সাথে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তার অপরিহার্য উপজাত ফল হোল এই উচ্চবর্ণ বাঙালী ভদ্রলোক শ্রেণী । খাজনা আদায় কারি ,জমির পত্তনি স্বত্ব দেওয়ার অধিকারী ঠাকুর পরিবারের মত বড় জমিদার থেকে তালুকদার পর্যন্ত সবাই ছিল এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত । তারা জমিতে কাজ করত না , জমি থেকে প্রাপ্ত খাজনা দিয়েই তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহ হত -" ভদ্রলোক হোল দেশের অনুভূতিহীন মাটির সন্তানদের ঠিক বিপরীত ",কায়িক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকাকে এই বাবু শ্রেণীর লোকেরা নিজেদের ও সমাজের নিন্ম শ্রেণীর লোকেদের মধ্যে অপরিহার্য উপাদান বলে বিবেচনা কোরত । কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে এই আয় কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায় । কৃষি পণ্যের উৎপাদনের হার ক্রমেই কমে আসতে থাকে ,চাষের আওতায় অনাবাদী জমি আনার প্রয়াস ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে । ১৮৮৫ সালে জমিদারের ক্ষমতা সীমিত করবার আইন প্রণয়ন হয় ,জমির খাজনা থেকে আয়ের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু হয় । ভদ্রলোক শ্রেণী পাশ্চাত্য শিক্ষা কে আয়ের বিকল্প সূত্র হিসাবে আঁকড়ে ধরা শুরু করে ।ভদ্রলোক হিন্দুরা মনে করতে শুরু করে পাশ্চাত্য শিক্ষা তাদের জন্যই সংরক্ষিত , সে কারনে তারা ঐ মাথাভারি শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতটিকে বিস্তীর্ণ করবার প্রয়াস কে তীব্রভাবে বাধা দিতে শুরু করে -কারন নিন্ম পর্যায়ের লোকেদের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হোলে তাদের একচেটিয়া অধিকার হ্রাস পেতে পারে । বিংশ শতাব্দীতে ভদ্রলোকেদের পরিচিতি সম্পদের আভিজাত্যর সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে পরিবর্তিত হতে থাকে -তারা সংস্কৃতিবান ,আলোকিত ,বেঙ্গল রেনেসাঁর উত্তরাধিকারী অগ্রগতি এবং আধুনিকতার পতাকাবহন কারি সুতরাং বাঙলার রাজনীতি ,সমাজনীতি ,অর্থনীতি ,শিক্ষানীতি সমস্ত বিষয়ে তাঁদের মাতব্বরি স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া শুরু করে ।

    কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দুইএর দশক থেকে বাঙলায় এই চিত্র দ্রুত পাল্টাতে থাকে সব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি ঘটে চিরাচরিত কৃষি ভিত্তিক পেশার পরিবর্তে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মুসলমান বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের উদ্ভব । শিক্ষা ,চাকরী ,সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতে এই মুসলমান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ক্রমশ লক্ষিত হতে থাকে । ১৮৭০/৭১ সালে বাঙলার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৪% ছাত্র ছিল মুসলমান অথচ ১৯২০/১৯২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় প্রায় ১৪-১৫ % । বাংলার কোন কোন অঞ্চলে যেমন ঢাকা ,হুগলী এমনকি প্রেসিডেন্সি কলেজে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা হিন্দু ছাত্রদের সংখ্যার সমপরিমাণ এমনকি কোথাও কোথাও বেশি হয়ে দাঁড়ায় । আর এই নব্য শিক্ষিত মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী পরবর্তীতে বাঙলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । মুসলমানদের এই অভাবনীয় অগ্রগতি তাদের হিন্দু কাউন্টার পার্টের সাথে প্রতিযোগিতা একই সাথে মুসলমান জনসংখ্যার বৃদ্ধি ক্রমে বাঙলায় হিন্দু জনসংখ্যা কে পেছনে ফেলতে শুরু করে । ১৯৩১ সালে বাঙলায় মুসলমান জনসংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫৪.২৯% । পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা । বাঙলার অধিকাংশ জেলায় তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা ,নব্য শিক্ষিত মধ্যবিত্ত যুবক সম্প্রদায় মুসলমান সমাজের মধ্যে এক প্রত্যয়ের জন্ম দেওয়া শুরু করে । অপ্রত্যক্ষ ভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে বলীয়ান , হিন্দুদের সাথে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে দর কষাকষি , রিজার্ভ সিট ,মুসলিম কোটার অধিকারের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হিন্দু আধিপত্যের সাথে মুসলমানদের সূক্ষ্ম সংঘাতের সূত্রপাত হতে শুরু হয় ।

    ১৯৩২ সালে ম্যাকডোনাল্ডের সম্প্রদায়ভিত্তিক রোয়েদাদের ফলে প্রদেশে নাটকীয় ভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায় । প্রায় একই সাথে ঘোষিত হয় পুনা প্যাক্ট ,প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পরে , ‘ মুসলমানদের কাছে তাদের চিরস্থায়ীভাবে অধীনতা সম্ভাব্য ভবিষ্যতের ছবি হয়ে পরে । একই সাথে কৃষিজাত পণ্যের মূল্য ও গ্রামীণ ঋণ আকস্মিক ও নাটকীয় ভাবে কমে যাওয়ায় খাজনা ও পাওনা আদায়ের পদ্ধতির ওপরে মারাত্মক চাপ পড়ে -অথচ এইগুলিই ছিল এতকালের আয়ের উৎস । খাজনা আদায়ে খাজনা আদায়কারিরদের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাওয়ার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি রায়তদের অনুকূলে চলে যেতে থাকে আর এই রায়তদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান । এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রায়তরা ক্রমবর্ধমান হারে জমিদারদের কর্ত্‌ত্ব অবজ্ঞা করে গ্রামীণ বাঙলায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে থাকে ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন উচ্চ শ্রেণীর কৃষকদের ভোটের অধিকার দেয় -এই প্রথম মুসলমান চাষি আইনসভার পরিমণ্ডলে নিজেদের কথা বলার অধিকার পায় ।মুসলমান রায়ত এবং মুসলমান বুদ্ধিজীবি এই প্রথম বাঙলার রাজনীতিতে এতকালের মধ্যসত্বভোগি, খাজনা আদায়কারী সুদ ব্যবসায়ী ভদ্রলোকদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে ।

    অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ইস্যুর ওপর ভদ্রলোক শ্রেণীর স্বার্থ প্রাধান্য বিস্তারের প্রাসঙ্গিকতার কারনে এবং এই আশু বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বার্থে ক্রমে কংগ্রেস ,মূলত বেঙ্গল কংগ্রেস হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় ডানপন্থীদের দখলে চলে যায় ,এই সময়ে বাঙালী ভদ্রলোক সম্প্রদায় ব্রিটিশ শাসনকে অত্যন্ত অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করে । মুসলিম শাসন কে হিন্দু সমাজের পক্ষে মারাত্মক ও তাৎক্ষনিক হুমকি হিসাবে দেখার সূত্রপাত শুরু হয় ।সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে উচ্চ ভদ্রলোক শ্রেণী মুসলমান শাসন মেনে নেয় কি উপায়ে ? সৃষ্টি হতে শুরু করে হিন্দু জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা বাদ । নিজেদের শক্তি বাড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে এতকালের অবহেলিত দলিতদের শুদ্ধি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের মধ্যে স্থান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় , ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজ গঠনের প্রয়াস। অধস্তন মুসলমানদের শাসনকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি ,বিভাগের দাবী ও পৃথক আবাসভূমির স্বার্থে ভদ্রলোকেরা বেঙ্গল কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভা কে প্রকৃত অর্থে নিয়োজিত করে । বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃত্ব যা এককালে জাতীয় রাজনীতির নির্ণায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্রমে নিজেদের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষায় ,আঞ্চলিক ,সংকীর্ণ, গোষ্ঠী বিভক্ত এবং দিল্লী কংগ্রেসের আজ্ঞাবাহক হয়ে পড়ে । এমন একটা সময় ছিল যখন কংগ্রেস নেতৃত্ব অখণ্ড ভারতের কোন একটা অংশের বিচ্ছিনতা অভিশাপ হিসাবে বিবেচনা করতেন কিন্তু সেই কংগ্রেস ১৯৪৬ এর কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে মাত্র 1.3% মুসলমান ভোট পায় । বাঙলায় ২৫০ টি আসনের মধ্যে মুসলিমলীগ ১১৩ টি আসন দখল করে ক্ষমতা দখল করে । এই নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস দেশের এমন সব অংশ ছেড়ে দিতে চায় যেখানে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশা নেই এবং কেন্দ্রে তাঁদের ক্ষমতার প্রতি হুমকি হিসাবে প্রতীয়মান কিন্তু তারা সাবেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলির হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ জেলাগুলো ভারতের সাথে রাখতে হবে এই দাবী তোলে এবং দাবীর অর্থ বাঙলা এবং পাঞ্জাব অবশ্যই ভাগ হতে হবে ।

    ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস বাঙলায় বর্ণ হিন্দুদের সর্ব সম্মত পছন্দের দল হিসাবে গণ্য হয় - হিন্দু মহাসভা মাত্র 2.73% ভোট পায় এবং শ্যমাপ্রসাদ ইউনিভার্সিটি বিশেষ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন । কিন্তু মহাসভার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিপুল বিজয় হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের বিজয় ছিলোনা বরং কংগ্রেসের ওপরে বাঙালি হিন্দুদের বিশ্বাস দৃঢ় ছিল যে কংগ্রেস হিন্দু মহাসভার তুলনায় তাদের স্বার্থ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে । কিন্তু ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ সুরাবর্দি’র নেতৃত্বে পুনরায় ক্ষমতায় আসে -হিন্দু বাঙ্গালিদের প্রত্যাশা হতাশায় পরিনত হয় -অন্যদিকে সুরাবর্দি মন্ত্রিসভায় হিন্দু মুসলমান সমতা’র পূরানো ফর্মুলা বাতিল করে মন্ত্রীসভা ১৩ জন থেকে মাত্র ১১ জনে নামিয়ে আনেন এবং হিন্দু মন্ত্রীদের সংখ্যা ৩ এ নামিয়ে আনেন ,তার ওপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে এই তিনজন হিন্দু মন্ত্রীর মধ্যে দুই জন কে তপশীল সম্প্রদায় থেকে গ্রহণ করেন ।

    হিন্দু ভদ্রলোকেরা একেতে পরাজিত ,তার ওপর ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের সময়ের খাদ্যমন্ত্রি সুরাবর্দি বর্তমানে প্রধান মন্ত্রী , তার মন্ত্রীসভায় মাত্র একজন মন্ত্রী হিন্দু উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি , তাদের পক্ষে এই অপমান অসহ্য হয়ে ওঠে । বাঙলা ভাগের ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেসের যৌথ আন্দোলনে কংগ্রেস অগ্রণী ভূমিকায় ছিল । সারা বাঙলায় বাঙলা ভাগের জন্য ৭৬টি জনসভা সংগঠিত হয় তার মধ্যে কংগ্রেস একাই ৫৯ টি জনসভা সংঘটিত করে ,বারোটি মহাসভার উদ্যোগে আর মাত্র ৫টি সভা মহাসভার সাথে যৌথ ভাবে সংগঠিত হয় । ভদ্রলোকেরা ছিল এই আন্দোলনের মুল শক্তি , এতে বিস্ময়ের কিছু নেই । বস্তুত প্রাদেশিক রাজনীতিতে ক্ষমতা হারিয়ে ,জমিদারি পদ্ধতির দ্রুত অবক্ষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাশ ভদ্রলোক গ্রুপ তাদের এতকালের সুযোগ সুবিধা ক্ষমতা বজায় রাখতে স্বীয়শক্তি নিয়োগে তৎপর হয়ে ওঠে ।

    অন্যদিকে বাঙলার মারোয়াড়ী এবং বাঙ্গালী কোটিপতি ব্যবসায়ীরা মুসলমান বনিকদের ক্ষমতা প্রতিহত করতে সর্বশক্তি দিয়ে উঠে পড়ে লাগেন । বিড়লা ,ঈশ্বর দাস জালান , গোয়েঙ্কা ,নলিনী রঞ্জন সরকার -বাঙলার এইসমস্ত কোটিপতি প্রতিটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থিত থেকে দেশভাগের সমর্থনে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করতেন । বাঙলার সমস্ত এলাকা থেকে মারোয়াড়ী ব্যবসাদারেরা সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের কাছে দরখাস্ত প্রেরণ করেন , তারা বলেন যে ' মুসলিম লীগের সরকারের অধীন বাঙলায় ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তারা বাঙলা বিভাগের প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে সমর্থন করে' । কলকাতার মারোয়াড়ীদের কাছে বাঙলা বিভাগ তাঁদের স্বার্থের পক্ষে অতি উত্তম - অধিকাংশ মারোয়াড়ী পাটের ফাটকা বাজারে প্রভূত অর্থ উপার্জন করলেও পাটশিল্প কে ততদিনে তারা মেরে ফেলতে শুরু করেছে । তাদের মধ্যে আনন্দিলাল পোদ্দার ,কারনানি ,ঝুনঝুনওয়ালা , শেঠরা কয়লাখনি তে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছে । বিড়লারা চিনি ,বস্ত্র ,ব্যাংকিং ,বিমা ,ক্যেমিকাল শিল্পে ভারতজুড়ে বিনিয়োগ করছে কলকাতার পাট শিল্পের মৃত্যুর বিনিময়ে । অন্যদিকে সুরাবর্দি হাসান ইস্পাহানী গ্রুপের আর্থিক ক্ষমতার ওপরে নির্ভরশীল । অবিভক্ত বাঙলা মারোয়াড়ীদের ব্যবসা বিস্তৃতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে । মুসলিম লীগের অধীনে থাকলে তাদের উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত অন্যদিকে বাঙলায় কংগ্রেস সরকার স্থাপিত হোলে সরকার তাদের পকেটে থাকবে এই নিখুঁত ব্যবসায়িক স্বার্থে বিড়লা এবং সমস্ত মারোয়াড়ী সম্প্রদায় বাংলাভাগের সমর্থনে তাঁদের সমস্ত ক্ষমতা (আর্থিক ক্ষমতা সমেত ) নিয়োজিত করে ।

    মূলত জমিদার ,পেশাজীবী ,বাঙলার অসংখ্য সন্মানীয় চাকুরীজীবী ,মধসত্ব ভোগী উচ্চ বর্ণের হিন্দু ভদ্রলোক ,মারোয়াড়ী ব্যবসাদার এবং দিল্লীর কংগ্রেস লবির ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে বাঙ্গালি পরজিত হয় আজকের দিনে । তৎপরবর্তী দুই দশকের ইতিহাস ,বঞ্চনা স্বজন হারানোর বেদনা এবং ভারতীয় রাজনীতিতে বাঙালির বৈশিষ্ট্যগত দুর্বলতা, বাম ডানের মধ্যে শক্ত মেরুকরণ এবং এখনো অনেক হিন্দু ভদ্রলোক কর্ত্‌ক উৎকট স্বাদেশিক সংস্কৃতির অব্যহত চর্চা সেই হিন্দু বাঙালি সাম্প্রদায়িকতার ধারবাহিকতা । জাতীয়তাবাদ বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে দেশে দেশে আর বাঙালি ভদ্রলোকের সাম্প্রদায়িকতা পরিচালিত হয়েছে নিজেদেরই জাতির বিরুদ্ধে তার সাথে সুচতুর পরিকল্পনা অনুযায়ী সঙ্গত করেছে মারোয়াড়ী সম্প্রদায় । এখনো আমাদের মধ্যে অনেকেই মুসলমানদের বাঙালি বলে স্বীকার করতে দ্বিধাগ্রস্ত এবং কতিপয় স্বার্থান্ধ মতবাদ প্রচারকারী প্রদেশ ভাগের থেকেও মারাত্মক বাঙালি জাতির ভবিষ্যতকেই হুমকি দিচ্ছে অবিরত ।

    আজ কোন আনন্দের দিন নয় -হিন্দুর বিজয়ের দিন নয় বরং অতি সংখ্যালঘিষ্ঠ ভদ্রলোক হিন্দু এবং মুসলমান বাঙালির হাতে আপামর বাঙালির পরাজয়ের দিন । স্বজন এবং স্বদেশ হারানোর দিন ।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২২ জুন ২০১৬ | ১৭২৩৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.228 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ০৭:৪২55273
  • হুম ছাড়ান দেন ভোট হয়ে গেছে , আর শব্দ ব্যবহারএর ক্ষেত্রে পিটি বাবুর পরামর্শ মনে রাখব ।

    এইবার বলছেন " অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তেতে একটা পুরো দেশ বিভক্ত হয়েছে সেটা আদৌ ভাবা দরকারি নয়, কিনতু বঙ্গ দেশ যে বিভক্ত হয়েছে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রমান করা বেশি জরুরি? আর মুসলমানেরা যে এতো আন্তরিক ভাবে (??) অবিভক্ত পাঞ্জাব বা বাংলা চেয়েছিলেন, সেটা কি তৃতীয় একটি বা দুটি দেশের অপশন হিসেবে নাকি এই দুটিকে পাকিস্তান এর পার্ট & পার্সেল হিসেবে ? এই বেসিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ঘুরে ফিরে সেই এক গরুর রচনা হচ্ছে।"

    এটা নিশ্চয়ই আমরা জানি 1946 সালের প্রথম ক্যাবিনেট মিশন কমিশনের প্ল্যান ছিল “ to create a united dominion of India as a loose confederation of provinces, came to be known by the date of its announcement:
    1.A united Dominion of India would be given independence.
    2.The Muslim-majority provinces would be grouped, with Sind, Punjab,Baluchistan and North-West Frontier Province forming one group, and Bengal and Assam would form another.
    3.The Hindu-majority provinces in central and southern India would form another group.
    4.The central government, stationed in Delhi, would be empowered to handle nationwide affairs, such as defense, currency, and diplomacy, and the rest of powers and responsibility would belong to the provinces, coordinated by groups.

    “ ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান অনুযায়ী একটি কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকারের অধীনে উপমহাদেশের প্রদেশগুলিকে নিয়ে তিনটে স্বায়ত্তশাসিত গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব করেন এবং এটাই ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান নামে পরিচিত । মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান গ্রহণ করেছিল । যদি ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান কার্যে পরিনত করা হতো তাহলে উপমহাদেশের বিভাজন পরিহার করা যেত । ঠিক এই সময়ে কংগ্রেসের সভাপতিরূপে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের পরিবর্তে নেহেরু কংগ্রেসের সভাপতি হলেন । নেহেরু ঘোষণা করলেন যে কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ নয় । এই উক্তির সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া হয়েছিল । মুসলিম লীগ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের দিকে ফিরে গেলো । নেহেরুর প্রেস বিবৃতির যুক্তিগ্রাহ্য পরিণতি হিসাবেই মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রামের প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং পরবর্তী বিধানসভা বর্জন করেছিল । “ ---------- মুসলিম লীগ এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের কংগ্রেস তো মেনেই নিয়েছিল এই প্ল্যান , আর এই প্ল্যান মেনে নিলে তো দেশ ভাগ হতোনা , ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও হতোনা দেশ হিন্দু এবং মুসলমান সাম্প্রদায়িকতার হাতে বিভক্ত হতোনা । এখন কেন নেহেরু ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান মেনে নেননি সে প্রসঙ্গে ঢুকলে সেই হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার প্রসঙ্গ আসবে ।
  • PT | 213.110.242.23 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ০৯:৩০55265
  • ক্রমাগত "ধান্দাবাজ" ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার মোটেই কোন লেখার মান উন্নয়ন করেনা। আমি বেশ কিছু সাইটে জয়া চ্যাটার্জীর কোট পড়ে বুঝেছি যে এই লেখাটিতে ঐ বইটির প্রভূত সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনিই এসব প্রসঙ্গে শেষ কথা বলেন কিনা সেটাও বিচার্য বিষয়।
  • amit | 230.245.40.8 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ১০:৪৪55266
  • কেও যদি একটা তখাকথিত সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের দোষ ধরাতে গিয়ে নির্লজ্জভাবে আর একটি সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের পা চেটে আত্মরতির সুখ পায়, সেটা তার সম্পূর্ণ নিজের ব্যাপার। তার জন্য অর্ধ ইতিহাস চর্চার ন্যাকামি করার আদৌ দরকার কি ?

    আর প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে প্রশ্নকারীদের "কাঠমোল্লা " ইত্যাদি নানাবিধ সুভাষিত বিশেষণে আখ্যায়িত করার প্রবণতা মূল লেখকের আগেও দেখা গেছে। সেই ট্রাডিশন এখনো চলছে। অন্যকে বার বার চাড্ডী বললে অনেক সময় নিজের চাড্ডী ভাব আগে সবার কাছে ধরা পড়ে যায়।
  • sm | 233.223.157.211 (*) | ২৬ জুন ২০১৬ ১০:৪৮55267
  • ক্রমাগত "ধান্দাবাজ" ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার মোটেই কোন লেখার মান উন্নয়ন করেনা।
    --
    এটা কি কইলেন স্যার।আপ্নে তো ক্রমাগত ধান্দাবাজ শব্দ লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে "ধা বা" নামক নতুন শব্দ বন্ধই তৈরি করে ফেললেন।এটা কি ভালো হলো?আপ্নেই বলেন।
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০২:৪৯55274
  • দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল প্রবক্তা কে ? সেটা কি হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা শুরু করেছিল ? যে আবুল কালাম এর কথা বলা হলো, তাকে তো জিন্না আদৌ মুসলিম দেড় প্রতিনিধি বলেই স্বীকার করেন না। আর নেহেরু কে হিন্দু জাতিয়তাবাদী আখ্যা দিলে আজকে চাড্ডিদের থেকে বেশি খুশি আর কেও হবে না। এতদিন ধরে এরা নেহেরু গান্ধীকে মুসলিম দের পক্ষে বুঝিয়েছে সবাইকে ।

    কেবিনের মিশন এর প্রস্তাব যে মুসলিম লীগে সমর্থন করবে, তাতে আশ্চর্য কি ? তাতে জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্বে সিলমোহর লাগানো আছে, সুতরাং তিনি খুশি হবেন বলাই বাহুল্য। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত কংগ্রেস জাতের ভিত্তিতে দেশ ভাগের বিরোধিতা করে এসেছে, এবার সেই বিরোধিতা যদি কারোর কাছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক দের প্যাম্পের করা মনে হয়, সেটা আবার তার নিজের ধারণা। তার কোনো ইতিহাস ভিত্তি নেই। অন্য কেও যদি সেই একই বিরোধিতা কে জাতের ভিত্তিতে দেশ ভাগ এর বিরোধিতা মনে করতেই পারেন। কিন্তু মূল লেখা পরে যে ধারণা হয় , বাংলা ভাগের জন্য মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা বা নিরীহ (??) বাঙালিরা আদৌ দায়ী নয় , যত দোষ কংগ্রেস আর মাড়োয়ারি দের , সেটা কেই বার বার অর্ধ সত্য বলা হচ্ছে ।

    হিন্দু এবং ইসলাম দুটি সাম্প্রদায়িকতাই ঘৃণ্য এবং দু পক্ষই দায়ী দেশ ভাগের জন্য । আর বাঙালি রা কোনো ধোয়া তুলসীপাতা নয় যে মাড়োয়ারি এসে নাড়ু খাইয়ে ভুলিয়ে দেশ ভেঙে চলে গেলো । কেও যদি একের পিঠে সব দোষ চাপিয়ে , অন্য পক্ষের কাছে হাটু মুড়ে বসে , তাহলে তার লেখার উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ জাগে ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.192 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৩:৪৭55283
  • অনেকগুলি মতামত । ধন্যবাদ সকলকে যে একটা সিরিয়াস আলোচনা চলছে । তবে মুল প্রশ্ন “ ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে ,বাঙলা ভাগের বিরুদ্ধে যে বাঙালী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলল সেই একই বাঙালী ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ মেনে নিলো কেন ? এই প্রশ্নের এর উত্তর এখনো আসেনি এবং কারন হিসাবে মুল নিবন্ধে যা বলা হয়েছে যে “ উত্তর লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগের ধারাবাহিক সত্যের মধ্যে ।” তার তথ্য সংগত বিরোধিতাও আসেনি । তবে আমিত বাবু বলেছেন “ হিন্দু এবং ইসলাম দুটি সাম্প্রদায়িকতাই ঘৃণ্য এবং দু পক্ষই দায়ী দেশ ভাগের জন্য “ সে বিষয়ে আমি কোথাও দ্বিমত প্রকাশ করেছি বলে দেখতে পারছিনা ।

    ১৯৪৬ সালে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ৩০-১৭-৩ কংগ্রেসের স্বপক্ষে ফলাফলের কারন আব্দুল গফফর খান , ঈপির ফকির এবং আপাত সেকুলার রাজনীতি । এই অঞ্চল দেশভাগ চায়নি এবং পরবর্তীতে নেহেরুর বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাকিস্তান মেনে না নেওয়ার ফল স্বরূপ স্বতন্ত্র আব্দুল গফফর খানের পাখতুনিস্তানের দাবী ,ঈপির ফকিরের পাকিস্তান বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন এবং আজকেও চলমান অশান্তি ।

    “ অধুনা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সুইপ করে “ ঠিকই কারন তখন বর্ধমান বিভাগে মাত্র ৬ টি মুসলিম সিট ছিল আর এই ছটিতেই মুসলিম লীগ জয়লাভ করে -বর্ধমানে বাঙলার মুসলিম লীগ সেক্রেটারি আবুল হাসিম এর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আব্দুস সাত্তার ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ৭৬৩টি এবং এম এন রায়ের পার্টির প্রার্থী নূর নেওয়াজ ২৬৩টি ভোট পান । উল্লেখ্য কলকাতা ,কলকাতা দক্ষিণ এবং ২৪ পরগনা মিউনিসিপ্যাল কেন্দ্রে কিন্তু মুসলিম লীগ প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছিল । ১৯৩৬ সালের নির্বাচন মুসলিম লীগের কাছে চ্যলেঞ্জ ছিল এইটা প্রমাণ করা যে তারাই ভারতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবীদার । পশ্চিম বঙ্গের ১১৯ টি মুসলিম সিটের মধ্যে ১১৩ টিতে মুসলিম লীগ জয়যুক্ত হয় । কংগ্রেস ততদিনে হিন্দু মহাসভার থেকেও কট্টর হিন্দুবাদী পার্টি এই নির্বাচনে সারা ভারতে কংগ্রেস মাত্র 1.3% মুসলিম ভোট পেয়েছিল ।

    সাইড নোট হিসাবে উল্লেখ্য ঃ- বাঙলায় মুসলিম লীগের সাথে কমিউনিস্ট পার্টির এক অলিখিত নির্বাচনী সমঝোতা হয় যে শ্রমিকদের জন্য সংরক্ষিত নির্বাচনী কেন্দ্রে মুসলিম লীগ কমিউনিস্ট পার্টিকে সমর্থন দেবে বিনিময়ে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত কেন্দ্রে কমিউনিস্ট পার্টি প্রার্থী দেবেনা - যদিও নোয়াখালী এবং ময়মনসিংহে কমিউনিস্ট পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল কিন্তু তাদের জমানত জব্দ হয় । কিন্তু মুসলিম লীগের সমর্থনে জ্যোতি বসু জয়লাভ করেন ।

    “ যাগ্গে দেবব্রত বাবু একটু নিজের মত লেখেন (এই যেমন একজন কুর্দিশ সৈন্যবাহিনীর কমান্ডারের ISIS যুদ্ধে শহীদ হওয়ায় ভক্তিগদগদ অবিচুয়ারি !)। এখন কি করা যাবে ? বাঙালি নেপলিয়ান থেকে স্তালিনগ্রাদের বীরগাথা পর্যন্ত জানে কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কতিপয় শক্তি যে জীবন মরণ পণ করে আইসিসের মত কদর্য শক্তির সাথে স্রেফ সাহসে ভর করে কোন রাষ্ট্রের ব্যাকআপ ছাড়া লড়ে যাচ্ছে তাদের কথা জানেনা এখন অক্ষম লেখনীতে সেই কাহিনীর সাথে পরিচয়ের চেষ্টা বলতে পারেন- শিবাংশু , ডিডি বাবু বা কল্লোল দা লিখলে ঢের ভালো লিখতেন । ধন্যবাদ আপনি লেখাটি পড়েছেন ।

    আরেকটু ধরিয়ে দি “ (কারণ মেজরিটি হিন্দু ভোট যার মধ্যে চাকুরীজীবি - ব্যবসায়ী - উচ্চবর্ণ আর কতটুকু ! বেশিটাই তো ছিল নমঃশুদ্র ভোট ) “ না তা নয় তখন আজকের মত সার্বজনিক ভোটাধিকার ছিলোনা সম্ভবত ৮৬% ভোটাধিকারের আওতাতেই ছিলোনা ( এই মুহূর্তে সঠিক % মনে নেই ) সুতরাং উভয়পক্ষেই ভোট যারা দিয়েছেন তারা কেউই গরীব মানুষ নয় কেননা তাদের ভোটাধিকারই ছিলোনা যারা ভোট দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই চাকুরীজীবি - ব্যবসায়ী - উচ্চবর্ণ জমিদার ( সংরক্ষিত শ্রমিক কেন্দ্র ছাড়া ) । সেই অর্থে বাঙলার বিপুল মানুষের দেশভাগের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত গণ্য করাই হয়নি ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.192 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৩:৫৭55284
  • হ্যা মুজিবর রহমান ১৯৪৬ এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের বামপন্থী লবির হয়ে খাজা নাজিমুদ্দিন লবির বিপক্ষে ফরিদপুরের দায়িত্বে ছিলেন , পরবর্তীতে কোলকাতা পার্টি অফিসে থাকতেন ,এবং ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময়ে কোলকাতাতেই ছিলেন । মুসলিম লীগের কাউন্সিল , পার্টি এবং পার্লামেন্টারি বোর্ডের মধ্যে ব্যাপক গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ছিল কিন্তু কংগ্রেসের মত প্রকাশ্যে ছিলোনা । গ্রামের দিকে দুই পক্ষ রাম দা লাঠি ইত্যাদি নিয়েই মিটিঙে আসতেন এবং মুজিবর রহমান বেশ লড়াকু নেতাই ছিলেন । খাজা নাজিমুদ্দিনের বিরোধী গ্রুপ -আবুল হাসিম এবং সুহরাওয়ার্দির পক্ষের গ্রুপের অগ্রণী যুব নেতা ।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.167 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৪:০৮55275
  • মূল লেখা পরে " যে ধারণা হয় , বাংলা ভাগের জন্য মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা বা নিরীহ (??) বাঙালিরা আদৌ দায়ী নয় , যত দোষ কংগ্রেস আর মাড়োয়ারি দের , সেটা কেই বার বার অর্ধ সত্য বলা হচ্ছে ।" তাহলে মূল লেখাটি পুনরায় পড়ুন যেখানে বলা হচ্ছে
    " মূলত জমিদার ,পেশাজীবী ,বাঙলার অসংখ্য সন্মানীয় চাকুরীজীবী ,মধসত্ব ভোগী উচ্চ বর্ণের হিন্দু ভদ্রলোক ,মারোয়াড়ী ব্যবসাদার এবং দিল্লীর কংগ্রেস লবির ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে বাঙ্গালি পরজিত হয় আজকের দিনে " এখন জমিদার , পেশাজীবী , বাঙলার অসংখ্য সন্মানীয় চাকুরীজীবী'র মধ্যে উচ্চ বর্ণের হিন্দু এবং আশরাফ / আতরাপ শ্রেণীর মুসলমানের পড়ে বৈকি ।

    দ্বিতীয়ত প্রথম ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব যেটি কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ উভয়েই মেনে নিয়েছিল তার মধ্যে দেশভাগের প্রশ্ন কোথায় ? উল্টে নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার থেকে বার্মা সীমান্ত পর্যন্ত অখণ্ড ভারত !!
  • PT | 213.110.242.8 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:০৬55285
  • "সেই অর্থে বাঙলার বিপুল মানুষের দেশভাগের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত গণ্য করাই হয়নি ।"

    ইংরেজরা আবার কোথায় "বিপুল মানুষের" মতামত নিয়ে দেশভাগে মদত দিয়েছে?

    তবে রেলগাড়ী এবার "মুসলিম লীগের বামপন্থী লবির" ন্যাজ ধরে লাইনে নেমেছে.........এবার গড়গড় করে গাড়ী ছুটবে.......
  • PT | 213.110.242.20 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:১৩55276
  • Interesting!!

    "At the Muslim League conference in 1930, the philosopher-poet-politician, Muhammad Iqbal first proposed the idea of a separate state for Muslims. In that this would consist of majority-Muslim areas, which would have to be partitioned off from Hindu-majority areas, it took its cue from the 1905 Partition of Bengal. Some geographical specificity was given to the nation of a separate Muslim state by Choudhary Rahmat Ali in "Now or Never; Are We to Live or Perish Forever?" (January 28, 1933) suggesting that a state called Pakistan could be formed from Punjab, Afghanistan Province, Kashmir, Sind, Baluchistan. As well as being an acronym, Pakistan means the "land of the pure." This became known as the two-nation thesis; Hindus and Muslims were each a nation and when independence came two separate nation-states should be established.

    It was unclear whether Bengal was to be included, given the failure of the 1905 partition and the still strong although less strong existence of a cross-religious Bengali nationalism. Later, when it was pointed out to Rahmat Ali that he had not included Bengal, he suggested that the Bengali Muslims should form their own, third state, which might be called "Bangistan.""
    http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Partition_of_Bengal_(1947)
  • প্রশ্ন | 209.116.174.51 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:৪৭55277
  • 1946 সালে নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স এ কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল 30 - 17 ব্যবধানে । কিন্তু মুসলিম মেজরিটি স্টেট বলে তা পাকিস্তানে যায় ।বাকি স্টেট গুলো সুস্পষ্ট মত দেয় । ইলেকশনে শুধু দুটি স্টেটে আড়াআড়ি ভাগ হয় জনমত বাংলা আর পাঞ্জাব । অধুনা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সুইপ করে (কারণ মেজরিটি হিন্দু ভোট যার মধ্যে চাকুরীজীবি - ব্যবসায়ী - উচ্চবর্ণ আর কতটুকু ! বেশিটাই তো ছিল নমঃশুদ্র ভোট ) , পূর্ববঙ্গে মুসলিম লীগ সুইপ করে (কারণ ঐ মেজরিটি মুসলিম ভোট ) । পূর্ব পাঞ্জাবে কংগ্রেস ও অকালি সুইপ করেছিল , পশ্চিম পাঞ্জাবে মুসলিম লীগ। তখন এই ঐক্যবদ্ধ মতবাদের উদ্গাতারা কিন্তু জনমত নেননি। ভবিষ্যতে কং লীগ নেতারা এটাকেই রেফারেন্ডাম হিসেবে ধরে দেশভাগের ভিত্তি হিসেবে এবং সেন্সাস ভিত্তি করে জেলা বাটোয়ারা হয় ।
    যাগ্গে দেবব্রত বাবু একটু নিজের মত লেখেন (এই যেমন একজন কুর্দিশ সৈন্যবাহিনীর কমান্ডারের ISIS যুদ্ধে শহীদ হওয়ায় ভক্তিগদগদ অবিচুয়ারি !)। তা মানা না মানা পাঠকের ব্যাপার ।

    "হিন্দু এবং ইসলাম দুটি সাম্প্রদায়িকতাই ঘৃণ্য এবং দু পক্ষই দায়ী দেশ ভাগের জন্য । আর বাঙালি রা কোনো ধোয়া তুলসীপাতা নয় যে মাড়োয়ারি এসে নাড়ু খাইয়ে ভুলিয়ে দেশ ভেঙে চলে গেলো । কেও যদি একের পিঠে সব দোষ চাপিয়ে , অন্য পক্ষের কাছে হাটু মুড়ে বসে , তাহলে তার লেখার উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ জাগে ।" - amit কে ক
  • d | 144.159.168.72 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৫:৫৯55278
  • "হিন্দু এবং ইসলাম দুটি সাম্প্রদায়িকতাই ঘৃণ্য এবং দু পক্ষই দায়ী দেশ ভাগের জন্য । আর বাঙালি রা কোনো ধোয়া তুলসীপাতা নয় যে মাড়োয়ারি এসে নাড়ু খাইয়ে ভুলিয়ে দেশ ভেঙে চলে গেলো । কেও যদি একের পিঠে সব দোষ চাপিয়ে , অন্য পক্ষের কাছে হাটু মুড়ে বসে , তাহলে তার লেখার উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ জাগে ।"

    অমিতকে সম্পূর্ণ সমর্থন।

    আচ্ছা একটা জিনিষ কেউ কনফার্ম করতে পারেন? কোথাও দেখেছিলাম গ্রেট ক্যালকাটা কিলিঙের সময় শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ সুরাবদীর সঙ্গী বা সহকারী হিসেবে কাজ করতেন -- এটা কি সত্যি?
  • Ranjan Roy | 192.69.166.24 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ০৬:৪৬55286
  • দু'একটি কথাঃ

    এক,"“ হিন্দু এবং ইসলাম দুটি সাম্প্রদায়িকতাই ঘৃণ্য এবং দু পক্ষই দায়ী দেশ ভাগের জন্য “
    --এই বক্তব্য নিয়ে এই পাতায় কোন দ্বিমত আছে বলে আমার অন্ততঃ মনে হয় নি। এমনকি বর্তমান নিবন্ধকারেরও নয়।

    দুই,
    কিন্তু একটি নিশ্চিত ঐতিহাসিক সময় বিন্দুতে কো০ন শক্তি কীভাবে তাদের ভূমিকা পালন করেছে এবং কার কী পরিস্থিতিগত বাধ্যবাধকতা ছিল অথবা কার কী স্টেক ছিল এবং কী কী স্বার্থে কোন কোন অ্যালায়েন্স হয়েছিল --অতীতএর সেই বিশ্লেষণ করার চেষ্টাই তো ইতিহাসচর্চা। এবং তাতে ভিন্নমত ও বিতর্ক স্বাভাবিক।
    ধরুণ, বিশ্বযুদ্ধের কারণ হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বাজার দখলের প্রতিযোগিতা মূল কারণ বলে সবাই জানি এবং মানি।
    তবুও যখন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ নিয়ে কথা হয় তখন ওই শক্তিগুলোর স্ট্র্যাটেজিক পজিশন ও কে উঠতি কে পড়তি, কারা কিভাবে যুদ্ধের সপক্ষে জনমত তৈরি করল এগুলো আলোচনা হয় না?

    তিন,
    যদি মনে করি যে সুদূর আতীতে কে কি কেন করেছিল তা আজ বোঝা সম্ভব নয়-- তাহলে তো ইতিহাসচর্চাকেই শিকেয় তুলে রাখতে হয়।
    এটা সত্যি যে সেটা কখনই পুরোপুরি সম্ভব নয়, অতীতে ফেরা সম্ভব নয়, ওদের মনের ভেতরে ঢোকা সম্ভব নয়--কিন্তু ঐতিহাসিক বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যুগে যুগে approximately সেই চেষ্টা করেন। তাই জিন্নার ভূমিকা বা নেহেরুর ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা বদলায়। বিতর্ক থেকে যায়। নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।

    চার,
    এ'ধরণের নিবন্ধকে আমরা দু'ভাবে সমালোচনা করতে পারিঃ তথ্যের ভুল বা চেরিপিকিং করা, আর সঠিক তথ্য হলেও ভুল যুক্তিপরম্পরায় ভুল কনক্লুশনে পৌঁছনো।
    যাঁরা অন্য মত পোষণ করেন তাঁরা এই দুটো জায়গাই ধৈর্য ধরে দেখিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। উস্ষ্মার কারণ (উভয়দিকেই) ঘটে না।
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১০:৩৬55287
  • মুল প্রশ্ন যদি এটা হয় “ ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে ,বাঙলা ভাগের বিরুদ্ধে যে বাঙালী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলল সেই একই বাঙালী ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ মেনে নিলো কেন ? এর উত্তর 24 June 2016 08:56:08 IST এই দেওয়া হয়েছিল। 1905 এর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন আর 1946 এর ভিত্তি এক নয়। 1905 এর বাঙালি সত্তা ছাড়িয়ে 1946 এ হিন্দু মুসলিম identity টাই বড়ো হয়ে উঠেছিল। সুতরাং এক ফল আশা করাটাই ভুল।

    মূল লেখায়: "অন্যদিকে বাঙলার মারোয়াড়ী এবং বাঙ্গালী কোটিপতি ব্যবসায়ীরা মুসলমান বনিকদের ক্ষমতা প্রতিহত করতে সর্বশক্তি দিয়ে উঠে পড়ে লাগেন । বিড়লা ,ঈশ্বর দাস জালান , গোয়েঙ্কা ,নলিনী রঞ্জন সরকার -বাঙলার এইসমস্ত কোটিপতি প্রতিটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থিত থেকে দেশভাগের সমর্থনে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করতেন । বাঙলার সমস্ত এলাকা থেকে মারোয়াড়ী ব্যবসাদারেরা সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের কাছে দরখাস্ত প্রেরণ করেন , তারা বলেন যে ' মুসলিম লীগের সরকারের অধীন বাঙলায় ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তারা বাঙলা বিভাগের প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে সমর্থন করে' ।

    এবার ওপরের এই লাইনে গুলো পড়ে যদি কারো মনে হয় বাংলা ভাগের জন্য কংগ্রেস আর মাড়োয়ারি দের দোষ দেওয়া হচ্ছে , তাকে খুব দোষ দেওয়া যায় কি ?

    ব্যবসায়ী দের সমর্থন শুধু কংগ্রেস এর দিকে ছিল না । করাচির বিশাল বিসনেস হাউসে আব্দুল্লা হারুন আর গুজরাট এর মুসলিম ব্যবসাদারদের এর মদত পুরোপুরি জিন্নার দিকে ছিল। দাবার বোর্ড এ সবাই যে যার মতো ঘুটি সাজিয়েছিল।

    আর 1905 এর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, তথাকথিত বাঙালি আবেগের চশমা ছাড়া দেখলে 1947 এর থেকে অনেক ডামাজিং। কলকাতা রাজধানী থেকে গেলে হয়তো বাংলাদেশ হতেই পারতো না , ভাঙাভাঙির প্রশ্নই আসতো না। শুধু পশ্চিম দিকের স্টেট গুলো নিয়ে পাকিস্তান হতো।
  • কল্লোল | 125.242.186.18 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১১:১৮55279
  • ডি উবাচ। "আর বাঙালি রা কোনো ধোয়া তুলসীপাতা নয় যে মাড়োয়ারি এসে নাড়ু খাইয়ে ভুলিয়ে দেশ ভেঙে চলে গেলো"
    এরকম কি কোথাও লেখা হয়েছে?
    মাড়োয়াড়ী ব্যবসায়ী লবি, যারা বহুদিন ধরে অন্ততঃ ১৯০০সাল থেকে কলকাতার তথা বাঙ্গলার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রন করতো তারা কংগ্রেসের স্পনসর ছিলো।
    দেবব্রত লিখলেন - "অন্যদিকে বাঙলার মারোয়াড়ী এবং বাঙ্গালী কোটিপতি ব্যবসায়ীরা মুসলমান বনিকদের ক্ষমতা প্রতিহত করতে সর্বশক্তি দিয়ে উঠে পড়ে লাগেন । বিড়লা ,ঈশ্বর দাস জালান , গোয়েঙ্কা ,নলিনী রঞ্জন সরকার -বাঙলার এইসমস্ত কোটিপতি প্রতিটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থিত থেকে দেশভাগের সমর্থনে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করতেন । বাঙলার সমস্ত এলাকা থেকে মারোয়াড়ী ব্যবসাদারেরা সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের কাছে দরখাস্ত প্রেরণ করেন , তারা বলেন যে ' মুসলিম লীগের সরকারের অধীন বাঙলায় ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তারা বাঙলা বিভাগের প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে সমর্থন করে' । কলকাতার মারোয়াড়ীদের কাছে বাঙলা বিভাগ তাঁদের স্বার্থের পক্ষে অতি উত্তম - অধিকাংশ মারোয়াড়ী পাটের ফাটকা বাজারে প্রভূত অর্থ উপার্জন করলেও পাটশিল্প কে ততদিনে তারা মেরে ফেলতে শুরু করেছে । তাদের মধ্যে আনন্দিলাল পোদ্দার ,কারনানি ,ঝুনঝুনওয়ালা , শেঠরা কয়লাখনি তে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছে । বিড়লারা চিনি ,বস্ত্র ,ব্যাংকিং ,বিমা ,ক্যেমিকাল শিল্পে ভারতজুড়ে বিনিয়োগ করছে কলকাতার পাট শিল্পের মৃত্যুর বিনিময়ে । অন্যদিকে সুরাবর্দি হাসান ইস্পাহানী গ্রুপের আর্থিক ক্ষমতার ওপরে নির্ভরশীল । অবিভক্ত বাঙলা মারোয়াড়ীদের ব্যবসা বিস্তৃতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে । মুসলিম লীগের অধীনে থাকলে তাদের উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত অন্যদিকে বাঙলায় কংগ্রেস সরকার স্থাপিত হোলে সরকার তাদের পকেটে থাকবে এই নিখুঁত ব্যবসায়িক স্বার্থে বিড়লা এবং সমস্ত মারোয়াড়ী সম্প্রদায় বাংলাভাগের সমর্থনে তাঁদের সমস্ত ক্ষমতা (আর্থিক ক্ষমতা সমেত ) নিয়োজিত করে"
    এই বিষয়টা ঠিক "মাড়োয়ারি এসে নাড়ু খাইয়ে ভুলিয়ে দেশ ভেঙে চলে গেলো" এমন নয়।
    মুসলমান রাজনীতিকরা তা সে সাম্প্রদায়িক হোক বা অসাম্প্রদায়িক, নিজেদের স্বার্থেই বাংলা ভাগ চায়নি। অখন্ড বাংলা পাকিস্তানে যাক বা স্বাধীন হোক বা ভারতেই থাকুক, তাতে মুসলমান রাজনীতিকদের খুব ইতর বিশেষ হতো না। তারা বংলার মসনদেই থাকতেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে। বরং বাংলা থেকে এমপির সংখ্যা উত্তরপ্রদেশের চেয়েও বেশী হতো, ও তার জোরে নানান দরকষাকষি তারা করতেই পারতেন।
    অন্য দিকে বর্ধমানের মহরাজের নেতৃত্বে হিন্দুপ্রধান জেলাগুলো থেকে দেশভাগের স্বপক্ষে সই সংগ্রহ হয়েছে। বাঙ্গালীর দুর্ভাগ্য সে সময় কোন বাঙ্গালী রাজনৈতিক নেতা/দল দেশভাগের বিপক্ষে রুখে নেতৃত্ব দাঁড়ায় নি ১৯০৫এর মতো।
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১১:২০55288
  • আর রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য, অংশীদারি বা পক্ষপাতিত্ব কোনোটাই নতুন নয়। আজকে যদি দার্জিলিং ভেঙে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য তৈরি করার আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে, সেখানে বাঙালি হোটেল ব্যবসায়ীরা কি নেপালি রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা পছন্দ করবেন , নাকি যাতে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য না হয় তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মদত দেবেন ?

    নিজের দেখা, বাঙালি রা 1980-90-এ নেপালি দের সাথে যা ব্যবহার করতো (আমার যা দেখা, সবার অভিজ্ঞতা এক নাই হতে পারে) সেটা খুব বলার মতো নয়। এখনো আমার পরিচিত বেশ কজন প্রবাসী বাঙালি কথায় কথায় নেপালি দের দারোয়ান বা ওড়িয়া দের রাঁধুনি হিসেবেই সম্মোধন করেন। সুতরাং বাঙালি দের যে খুব বাকিদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, সেটা বলা একটু মুশকিল।
  • Arpan | 233.227.244.24 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১১:৩২55280
  • অন আ হিন্ডসাইট, ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবের ইম্প্লিমেন্টেশন আরো বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হত বলে আমার ধারণা। ভারতের বল্কানাইজেশন পূর্ণ হত, প্রচুর কোল্যাটেরাল ড্যামেজ সমেত। আর সেটা বহু বছর ধরে চলত।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১২:৫৪55281
  • ঐ বক্তব্য আমি কোটেশানে রেখেছি কারণ বক্তব্যটি অমিতের। এবং অমিতের বক্তব্য আমি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি। কাজেই আমার বয়ানে 'উবাচ' সঠিক ক্রিয়াপদ নয়। ওটা উদ্ধৃত হবে।

    সে যাই হোক বক্তব্যটি আমি সমর্থন করেছি কারণ লেখা ও লেখকের বিভিন্ন মন্তব্য থেকে আমার কাছেও এই ইমপ্রেশনটাই এসেছে।
  • PT | 213.110.242.8 (*) | ২৭ জুন ২০১৬ ১২:৫৮55282
  • "মুসলমান রাজনীতিকরা তা সে সাম্প্রদায়িক হোক বা অসাম্প্রদায়িক, নিজেদের স্বার্থেই বাংলা ভাগ চায়নি।"

    ডমিনেট করতে পারলে ভাগ করতে চাইবে কেন? অন্য কোন বৃহত্তর বা মহান কারণে এই না চাওয়া নয়। কিন্তু তারা ভাগ না করে ভারতের মধ্যে থাকতে চাইত কি? আর আজকের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অব্স্থা দেখলে তো মনে হয় বাংলা ভাগ হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালই হয়েছে??!!
  • কল্লোল | 125.242.165.35 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০২:৩৯55289
  • অমিত/পিটি।
    বারবার লেখা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক মুসলমান রাজনৈতিক শক্তিও বাংলাভাগের পক্ষে ছিলো - এটা নাকি দেবব্রত "চেপে" যাচ্ছেন।
    কটা জিনিস পরিষ্কার করে বোঝা দরকার - ১) সিন্ধ, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, নঃইঃফ্রঃর সাম্প্রদায়িক মুসলমান রাজনৈতিক শক্তিসমূহ বাংল ভাগের পক্ষে ছিলো - তাদের নিজেদের স্বার্থে। অখন্ড বাংলা পাকিস্তানে এলেও, বাঙ্গালীরা জাতিগত সংখ্যাগুরু হয়ে যাবে। সেদিনের হিন্দু-মুসলমান আবহে এটা ততো বিপদ না হলেও অচিরেই বিপদ আসতে পারে, সেটা তারা বুঝতেন, ও ঠিকই বুঝতেন। ২) বাংলার সাম্প্রদায়িক মুসলমান রাজনৈতিক শক্তিসমূহ নিজেদের স্বার্থেই বাংলাভাগের পক্ষে ছিলো না। আবারও লিখছি নিজেদের স্বার্থে। তারা বংলা ভাগের পক্ষে ছিলেন না, এটাই ঘটনা, সেই বাস্তবতা উল্টে দেখাতে হবেই কেন?
    বিড়লা ,ঈশ্বর দাস জালান , গোয়েঙ্কা ,নলিনী রঞ্জন সরকার - চারজনের মধ্যে একজন বোধহয় বাঙ্গালী। তারপরেও মনে হলো মাড়োয়ারীরা চক্রান্ত করেছে? বর্ধমানের মহারাজা হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলি থেকে দাবী তুলেছেন বাংলা ভাগের - এটাও নিশ্চই মাড়োয়ারী ষড়যন্ত্র না। হ্যাঁ, সে সময় মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী লবির প্রভাব কংগ্রেসে খুবই প্রবল ছিলো, এটা অস্বীকারের কোন তথ্য আছে? এরা নিজেদের স্বার্থেই বাংলাভাগ চেয়েছিলো। যেমন উল্টদিকে - বাংলার সাম্প্রদায়িক মুসলমান রাজনৈতিক শক্তিসমূহ নিজেদের স্বার্থেই বাংলাভাগের পক্ষে ছিলো না।
    ১৯০৫ সালেও সাম্প্রদায়িকতার চাষ বেশ ভালোভাবেই হয়েছিলো। এটা অস্বীকার করা অদ্ভুত লাগছে। এতোটাই সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছিলো যে রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষকে রাস্তায় নেমে রাখীবন্ধন করতে হয়েছিলো। বাংলার দুর্ভাগ্য ১৯৪৬/৪৭এ তেমন কেউ ছিলেন না, যিনি সাম্প্রদায়িকতার এই বিষ সমুদ্রের উল্টদিকে সটান দাঁরিয়ে পড়বেন।

    যারা লিখছেন - বাংলাভাগ হয়ে ভালো-ই হয়েছে, নয়তো আমাদের (হিন্দুদের) চাপাতির কোপ কপালে ছিলো। এটা তাদের ভাবনা। আমি এমনটা মনে করি না। দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না।
  • PT | 213.110.242.20 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৩:১৭55290
  • "যদি মনে করি যে সুদূর আতীতে কে কি কেন করেছিল তা আজ বোঝা সম্ভব নয়-- তাহলে তো ইতিহাসচর্চাকেই শিকেয় তুলে রাখতে হয়।"
    তার কেন? পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত নিয়ে লেখাটা শুরু না করলেই হয়। আর ইতিহাস লেখাটা এত সহজ সেটা কি করে ধরে নেওয়া গেল?

    যেমন এই বইটাঃ "My People, Uprooted"। "ইতিহাস" লিখছেন তথাগত রায় আর বইয়ের সমালোচনা করছেন স্বপন দাশগুপ্ত।**
    কি চমৎকার ইতিহাস চর্চা। তো এই বইটাকেই বা পুরোপুরি মেনে নিতে বাধা কোথায়?

    **http://indiatoday.intoday.in/story/book-review-of-tathagata-roy-my-people-uprooted/1/220728.html
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৩:৪৪55291
  • কল্লোল এর জন্য :

    লেবানন:
    খৃষ্টান - মুসলিম অনুপাত : 50:50 , সিভিল ওয়ার : 1975 তো 1990, এস্টিমেটেড ডেথ: 250000, বেশির ভাগ খৃষ্টান।

    রুয়ান্ডা

    হুতু: টুটসি অনুপাত: 60 : 40, সিভিল ওয়ার: 1994, এস্টিমেটেড ডেথ: 1000000, বেশির ভাগ টুটসি।

    আপনার মন্তব্য "দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না" তাহলে সর্বত্র খাটে না ? নাকি বাংলা নিয়ে আপনার অগাধ বিশ্বাস ?
  • sm | 53.251.91.216 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৩:৪৮55292
  • কল্লোল বাবু, কিছু টা ভাবের ঘরে চুরি হচ্ছে। পলাশীর যুদ্ধে জগৎ শেঠ আর উম্মি চাঁদের ভূমিকা ছিল না এমন কথা কোনো ঐতিহাসিক ই বলতে পারবে না। তাদের বেশ বড় ভূমিকায় ছিল।
    তেমনি বাংলা ভাগের সময় তেও, প্রত্যেকে নিজের নিজের এজেন্ডা নিয়ে খেলে গেছে। বাংলা ভাগ হলে এই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এর সবিশেষ লাভ ছিল। তাই তারা তাদের মতো করে খেলেছেন। পূর্ববঙ্গে অবাঙালি হিন্দি ব্যবসায়ী দের ফুলে ফেঁপে ওঠা ব্যবসা এখন প্রায় চুপসে গেছে।
    জাতীয় কংগ্ৰেস কেও ব্যবসায়ী মহল নিজের স্বার্থেই মদত দিতো। গান্ধীজির ব্যবসায়ী দের সঙ্গে এতো মাখা মাখি যথেষ্ট দৃষ্টি কটু।
    আর বাংলা ভাগ হলে," দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না।" ; এটা আপনার মত। ইতিহাস কিন্তু এরূপ বলে না
  • কল্লোল | 125.242.165.35 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:০১55293
  • অমিত। এভাবে কোন তুলনা হয় না। ঐতিহাসিকভাবে বাংলা আর লেবানন রুয়ান্ডার কোন তুলনা হয় না।
    ফলে এমনটাই হতেই হবে এরকমও নয়। পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেই তুলনা চলে না, তো অন্য পরে কা কথা।
    অখন্ড বাংলা হলে মুসলিম লীগ একাই ছড়ি ঘোরাতে পারতো না। কংগ্রেস (যা পূর্ব পাকিস্তান থেকে উবে গিয়েছিলো, কমিউনিষ্ট পার্টি (যা পূর্ব পাকিস্তান থেকে উবে গিয়েছিলো) ও এর সাথে কৃষক প্রজা পার্টি, ফব এরাও থাকতো ও কোথাও একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হতো।
    হয়তো বাঙ্গালী হিন্দু, মুসলমান বাঙ্গালীকে বাঙ্গালী বলে মানতে শিখতো। হয়তো দুই সম্প্রদায় আরও কাছাকাছি আসতে পরতো।
  • কল্লোল | 125.242.165.35 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:১২55294
  • এসএম। ভাবের ঘরে চুরি কে করছে? মনে হয় কোন একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে?
    আপনি লিখেছেন - আর বাংলা ভাগ হলে," দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না।"
    আমি এরকম কথা কখনই লিখিনি। আমার মত - বাংলা ভাগ না হলে দুই সম্প্রদায় সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না। বাংলা ভাগ না হলে, হতো না।
    আর হঠাৎ পলাশির যুদ্ধ এলো কেন? জগৎ শেঠ, উম্মিচাঁদ মাড়োয়ারী বলে?
    আপনি লিখলেন - তেমনি বাংলা ভাগের সময় তেও, প্রত্যেকে নিজের নিজের এজেন্ডা নিয়ে খেলে গেছে। বাংলা ভাগ হলে এই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এর সবিশেষ লাভ ছিল। তাই তারা তাদের মতো করে খেলেছেন। পূর্ববঙ্গে অবাঙালি হিন্দি ব্যবসায়ী দের ফুলে ফেঁপে ওঠা ব্যবসা এখন প্রায় চুপসে গেছে।
    জাতীয় কংগ্ৰেস কেও ব্যবসায়ী মহল নিজের স্বার্থেই মদত দিতো। গান্ধীজির ব্যবসায়ী দের সঙ্গে এতো মাখা মাখি যথেষ্ট দৃষ্টি কটু।"
    আমিও তো অন্য ভাষায় তাইই লিখেছি!!
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:১৫55295
  • এক জায়গার সাথে অন্য জায়গার তুলনা হয় না সত্যি, তবে 1946 এর সারা বাংলা জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরে ভয় পাওয়া টাই স্বাভাবিক। যেখানে বেশির ভাগ জমিদার হিন্দু আর বেশির ভাগ ভাগচাষি দরিদ্র মুসলিম, 1946 এর পরে দুই সম্প্রদায় এর মধ্যে চূড়ান্ত অবিশ্বাস, সেখানে একবার বড়ো গোছের দাঙ্গা হলে লেবানন কেও হার মানাতে পারতো।

    যাই হোক, এটা আলোচনার মূল বিষয় নয়। মূল লেখা পরে আমার এটাই মনে হয়েছে, লেখা টির সুর বড়োই এক পেশে। তার কারণ ও উল্লেখ করা হয়েছে, হয়তো লেখক অন্য ভাবে বলতে চাইতে পারেন , কিন্তু লেখাতে তার সুর ফুটে ওঠে নি । ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক যে তলানিতে পৌঁছেছিল, সেখানে দেশ ভাগ হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। এর সাথে 1905 এর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এর তুলনা করা যায় না। করে লাভ ও নেই।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.32 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:১৬55296
  • তুরস্কে প্রায় সবাই মুসলমান ঃ- ৪০ বছর ধরে কুর্দ আত্মধিকার এবং তুর্কি আধিপত্য নিয়ে লড়াই চলছে
    পাকিস্তান প্রায় সবাই মুসলমান ঃ- বালুচ এবং উত্তর পশ্চিম সীমান্তে রোজ ঝগড়া চলছে ,শিয়া বা সুন্নি বাদ দিলেও ।

    সুতরাং অবিভক্ত বাঙলায় হিন্দু মুসলমান কাটাকাটি করে মরত একথার ভিত্তি দুর্বল - যেমন কুর্দ এবং তুর্কী ধর্ম এক হলেও ভাষা ,সংস্কৃতি আলাদা । বালুচ পাখতুন এবং পাঞ্জাব সিন্ধ ধর্ম এক হলেও ভাষা সংস্কৃতি আলাদা আর সেই কারনেই মারামারি ,তার সাথে অবশ্যই অন্যান্য বিষয় যুক্ত । কিন্তু বাঙলার এই শক্তি টা ছিল - ভাষা ,সংস্কৃতি ,খাদ্যাভ্যাস সমস্ত কিছু প্রায় এক এমনকি ধর্ম তেও গোঁড়ামি তুলনামূলক কম ছিল । সুতরাং "দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না" অন্য জায়গায় না খাটলেও বাঙলার ক্ষেত্রে অবশ্যই খাটে । কারন জাতি একটাই ছিল আর সক্ষম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এই বিভেদ দুরে রাখতে পারত । কিন্তু ওই - " অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগ " এবং সেই উদ্বেগে সাম্প্রদায়িকতার বাতাস ।

    যারা লিখছেন - বাংলাভাগ হয়ে ভালো-ই হয়েছে, নয়তো আমাদের (হিন্দুদের) চাপাতির কোপ কপালে ছিলো। বলতে দ্বিধা নেই জ্ঞানত অথবা অজ্ঞানত তারা রক্তে প্রোথিত সেই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বহন করছেন যেখানে মুসলমানদের বাঙালি বলে গণ্য করতেও অসুবিধা আছে ।
  • sm | 53.251.91.216 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:২২55297
  • একদম ভুল হয়েছে; ক্ষমা চাইছি কল্লোল বাবু। মাড়োয়ারি বা অবাঙালি ব্যবসায়ী নিয়ে মত তা অমিত এর পোস্টের উত্তরে।
    আর ওটা বাংলা ভাগ না হলেই হবে। টাইপো হয়েছে। মোদ্দা কথা হলো;সংখ্যার বিচারে নেগোসিয়েশনের জায়গায় হয়তো থাকতো কিন্তু অবস্থার উন্নতি বিশেষ কিছু হতো বলে মনে হয় না।
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:২৭55298
  • "দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যাগতভাবে তুল্যমূল্য জায়গায় থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টিই হতো না" অন্য জায়গায় না খাটলেও বাঙলার ক্ষেত্রে অবশ্যই খাটে"। এটা যার যার বিশ্বাস, তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই ।

    অন্য কেও বিশ্বাস করতেই পারেন যে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো। সেটাও তাদের বিশ্বাস ,1946 এর দাঙ্গার ইতিহাস থেকে। এবার কি হলে কি হতে পারতো, বলতে পারলে তো টিয়াপাখি নিয়ে গণৎকার হতে হয়।

    তবে যখন লিখলেন "যারা লিখছেন -বাংলাভাগ হয়ে ভালো-ই হয়েছে, নয়তো আমাদের (হিন্দুদের) চাপাতির কোপ কপালে ছিলো। বলতে দ্বিধা নেই জ্ঞানত অথবা অজ্ঞানত তারা রক্তে প্রোথিত সেই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বহন করছেন যেখানে মুসলমানদের বাঙালি বলে গণ্য করতেও অসুবিধা আছে"।

    তাহলে প্রশ্ন - গত 60 বছর এ বাংলাদেশ এ সংখ্যা লঘু দের ওপর কত অত্যাচার হয়েছে আর পশ্চিম বঙ্গে সংখ্যা লঘু দের ওপর কত অত্যাচার হয়েছে ? দু দিকে কতজন সহকালঘু মারা গেছেন ? এবার তুলনামূলক সংখ্যা দেখিয়ে যদি কেও দাবি করে বসেন, হিন্দুরা মেজরিটি হলেই এক মাত্র সবাই নিরাপদে থাকে, মুসলিম রা মেজরিটি হলেই বিপদ, তাকে অংকের হিসেবে ভুল বলা যাবে কি ? একই সংখ্যা তো কত ভাবে এনালিসিস করা যায়।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:৩৮55299
  • মুজিবুর রহমানের বিষয়টি কনফার্ম করার জন্য দেবব্রতকে ধন্যবাদ।

    এইবার 'অখন্ড বাংলা যদি ১৯৪৭ এ আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতও তাহলে হিন্দু মুসলমান ইক্যুয়াল পাওয়ারে কখনও থাকত না। বর্ণহিন্দুর আধিপত্য সেখানে হতই আর বঙ্গদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য হিন্দুপ্রধান ভারত থেকে রাজনৈতিক মদত ও সামরিক সাহায্য ইত্যাদিও বর্ণহিন্দুরা পেত। সেক্ষেত্রে আবার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম।

    সেটা হয়েওছে পশ্চিম পাকিস্তানের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হবার জন্য।
    কিন্তু তাতে ৪৭ থেকে ৬০ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসা বা আসতে বাধ্য হওয়া লোকেরা রেহাই পেয়েছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন