এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ঃ বাঙালির মৃত্যু

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ জুন ২০১৬ | ১৭২৩৩ বার পঠিত
  • ২০ সে জুন ১৯৪৭ বাঙলার লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বাঙলা ভাগের পরিকল্পনা গৃহীত হয় । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ রোধে বাঙলার যে শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৪ দশকের ব্যবধানে বাঙলার সেই শিক্ষিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী অংশ দেশভাগের পূর্বে ধর্মের ভিত্তিতে প্রদেশকে ভাগ করার পক্ষে সংবদ্ধ আন্দোলন চালায় এবং প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে বাঙলা ভাগ মেনে নেয় । সেই অর্থে আজকে ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিবসের সূত্রপাত বটে কিন্তু একই সাথে নেহেরু ,প্যাটেল ,জমিদার শ্রেণী , মারোয়াড়ী লবি’র ক্ষুদ্র স্বার্থ এবং শ্যামাপ্রসাদবাবুর উগ্র জাতীয়তাবাদের কাছে সমগ্র সাধারণ বাঙালির পরাজয়ের দিন । তার অর্থ এই নয় যে একই অর্থনৈতিক শ্রেণীভুক্ত ঢাকার নবাব এবং উচ্চ বংশীয় মুসলিম লীগের নেতারা,হাসান ইস্পাহানী গ্রুপ ইত্যাদি স্বার্থান্বেষীরা চুপচাপ বসে ছিলেন বরংসমপরিমাণ তৎপরতায় তারাও হিন্দুদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি না করে নিজেদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার স্বার্থে দেশভাগের পক্ষে সায় দেন ।

    শেষ চেষ্টা একটা হয়েছিল বটে । ১৯৪৭ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী যেরকম শরৎ চন্দ্র বসু , সুরাবর্দি , কিরণ শঙ্কর রায় , আবুল হাসিম , সত্য রঞ্জন বক্সী এবং মোহাম্মদ আলি চৌধুরী বাঙলা ভাগের বিরোধী "সংযুক্ত স্বতন্ত্র বাঙলার “ স্বপক্ষে দাবী পেশ করতে থাকেন । সুরাবর্দি এবং শরৎ চন্দ্র বসু বাংলার কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের এক কোয়ালিশন সরকার গঠন করে বাংলার জনতাকে সাম্প্রদায়িক লাইনে বঙ্গ ভঙ্গের বিরোধিতা করার জন্য উৎসাহিত করতে থাকেন, সাক্ষরিত হয় বেঙ্গল প্যাক্ট । ২৭ সে এপ্রিল ১৯৪৭ সালে সুরাবর্দি দিল্লীতে এক প্রেস কনফারেন্স এই স্বতন্ত্র অবিভক্ত বাংলার পরিকল্পনা পেশ করেন । ২৯ সে এপ্রিল আবুল হাসিম কোলকাতায় সমরূপ ইচ্ছা প্রকাশ্য করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন । একই সময়ে ১৯৪৭ সালের ২১ এপ্রিল খ্যাতিমান বাঙালী নিন্মবর্ণ নেতা এবং তৎকালীন ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানান, বাঙলার নিন্মবর্ণ হিন্দুরা বাঙলা ভাগের প্রস্তাবের বিরোধী। কিন্তু অন্যদিকে প্যাটেল সার্বভৌম বাঙলার দাবীকে বর্ণনা করেন ‘ একটা ফাঁদ হিসাবে যেখানে কিরণ শঙ্কর রায় শরৎ বসুর সঙ্গে আটকা পড়বেন ‘ । পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস ততদিনে বিধান রায়ের নেতৃত্বে দিল্লী লবির অনুগত দাসে পরিনত । ইতিমধ্যে কুখ্যাত কোলকাতা রায়ট দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন রেখা গভীর এবং প্রায় অলঙ্ঘনীয় করে তুলেছে । এই সময়ে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দু প্রধান জেলাগুলির আইনপ্রনেতারা এক বৈঠকে ৫৮ জন বিভাজনের পক্ষে ভোট দেন কিন্তু সেই সভাতেই মুসলিম লীগের ২১ জনা বিভাজনের বিপক্ষে ভোট দেন। ৫৮ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ আরো সিদ্ধান্ত নেয় যে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো ভারতে যোগদান করবে। অন্যদিকে, মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোর আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ১০৬ জন যার মধ্যে ১০০ জন ছিলেন মুসলিম লীগের, ৫ জন ছিলেন নিন্মবর্নের হিন্দুদের প্রতিনিধি এবং এক জন ছিলেন খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি বাঙলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দেন। বাকি ৩৫ জন পক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলোর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে ১০৭-৩৪ ভোটে মুসলিমপ্রধান এলাকার আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত পাকিস্তানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, বেঙল ন্যাশনাল কংগ্রেসের সাথে তাল মিলিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার বেঙল শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা বাঙলা ভাগের পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন ।

    মুসলিম লীগের এক বিপুল অংশ এবং বাঙলার নিন্মবর্ণ মূলত নমঃশূদ্র হিন্দুরা বাঙলা ভাগের প্রস্তাবের বিরোধী হলেও ,কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা এবংকমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার বেঙল শাখার আগ্রহে ,নেহেরু প্যাটেল লবির কাছে শরৎ চন্দ্র বসু , সুরাবর্দি , কিরণ শঙ্কর রায় , আবুল হাসিম , সত্য রঞ্জন বক্সী এবং মোহাম্মদ আলি চৌধুরী বাঙ্লাভাগের বিরোধী সংযুক্ত স্বতন্ত্র বাঙলার স্বপ্ন পরাজিত হয়। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে ,বাঙলা ভাগের বিরুদ্ধে যে বাঙালী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলল সেই একই বাঙালী ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ মেনে নিলো কেন ? এর উত্তর লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগের ধারাবাহিক সত্যের মধ্যে ।

    এখন ব্যবসা বা শিল্প বাঙালী ভদ্রলোকদের সমৃদ্ধির ভিত্তি ছিলোনা -তাদের সমৃদ্ধির ভিত্তি ছিল ভূমি । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সম্পত্তির সাথে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তার অপরিহার্য উপজাত ফল হোল এই উচ্চবর্ণ বাঙালী ভদ্রলোক শ্রেণী । খাজনা আদায় কারি ,জমির পত্তনি স্বত্ব দেওয়ার অধিকারী ঠাকুর পরিবারের মত বড় জমিদার থেকে তালুকদার পর্যন্ত সবাই ছিল এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত । তারা জমিতে কাজ করত না , জমি থেকে প্রাপ্ত খাজনা দিয়েই তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহ হত -" ভদ্রলোক হোল দেশের অনুভূতিহীন মাটির সন্তানদের ঠিক বিপরীত ",কায়িক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকাকে এই বাবু শ্রেণীর লোকেরা নিজেদের ও সমাজের নিন্ম শ্রেণীর লোকেদের মধ্যে অপরিহার্য উপাদান বলে বিবেচনা কোরত । কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে এই আয় কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায় । কৃষি পণ্যের উৎপাদনের হার ক্রমেই কমে আসতে থাকে ,চাষের আওতায় অনাবাদী জমি আনার প্রয়াস ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে । ১৮৮৫ সালে জমিদারের ক্ষমতা সীমিত করবার আইন প্রণয়ন হয় ,জমির খাজনা থেকে আয়ের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু হয় । ভদ্রলোক শ্রেণী পাশ্চাত্য শিক্ষা কে আয়ের বিকল্প সূত্র হিসাবে আঁকড়ে ধরা শুরু করে ।ভদ্রলোক হিন্দুরা মনে করতে শুরু করে পাশ্চাত্য শিক্ষা তাদের জন্যই সংরক্ষিত , সে কারনে তারা ঐ মাথাভারি শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতটিকে বিস্তীর্ণ করবার প্রয়াস কে তীব্রভাবে বাধা দিতে শুরু করে -কারন নিন্ম পর্যায়ের লোকেদের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হোলে তাদের একচেটিয়া অধিকার হ্রাস পেতে পারে । বিংশ শতাব্দীতে ভদ্রলোকেদের পরিচিতি সম্পদের আভিজাত্যর সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে পরিবর্তিত হতে থাকে -তারা সংস্কৃতিবান ,আলোকিত ,বেঙ্গল রেনেসাঁর উত্তরাধিকারী অগ্রগতি এবং আধুনিকতার পতাকাবহন কারি সুতরাং বাঙলার রাজনীতি ,সমাজনীতি ,অর্থনীতি ,শিক্ষানীতি সমস্ত বিষয়ে তাঁদের মাতব্বরি স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া শুরু করে ।

    কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দুইএর দশক থেকে বাঙলায় এই চিত্র দ্রুত পাল্টাতে থাকে সব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি ঘটে চিরাচরিত কৃষি ভিত্তিক পেশার পরিবর্তে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মুসলমান বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের উদ্ভব । শিক্ষা ,চাকরী ,সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতে এই মুসলমান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ক্রমশ লক্ষিত হতে থাকে । ১৮৭০/৭১ সালে বাঙলার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৪% ছাত্র ছিল মুসলমান অথচ ১৯২০/১৯২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় প্রায় ১৪-১৫ % । বাংলার কোন কোন অঞ্চলে যেমন ঢাকা ,হুগলী এমনকি প্রেসিডেন্সি কলেজে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা হিন্দু ছাত্রদের সংখ্যার সমপরিমাণ এমনকি কোথাও কোথাও বেশি হয়ে দাঁড়ায় । আর এই নব্য শিক্ষিত মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী পরবর্তীতে বাঙলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । মুসলমানদের এই অভাবনীয় অগ্রগতি তাদের হিন্দু কাউন্টার পার্টের সাথে প্রতিযোগিতা একই সাথে মুসলমান জনসংখ্যার বৃদ্ধি ক্রমে বাঙলায় হিন্দু জনসংখ্যা কে পেছনে ফেলতে শুরু করে । ১৯৩১ সালে বাঙলায় মুসলমান জনসংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৫৪.২৯% । পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা । বাঙলার অধিকাংশ জেলায় তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা ,নব্য শিক্ষিত মধ্যবিত্ত যুবক সম্প্রদায় মুসলমান সমাজের মধ্যে এক প্রত্যয়ের জন্ম দেওয়া শুরু করে । অপ্রত্যক্ষ ভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে বলীয়ান , হিন্দুদের সাথে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে দর কষাকষি , রিজার্ভ সিট ,মুসলিম কোটার অধিকারের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হিন্দু আধিপত্যের সাথে মুসলমানদের সূক্ষ্ম সংঘাতের সূত্রপাত হতে শুরু হয় ।

    ১৯৩২ সালে ম্যাকডোনাল্ডের সম্প্রদায়ভিত্তিক রোয়েদাদের ফলে প্রদেশে নাটকীয় ভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায় । প্রায় একই সাথে ঘোষিত হয় পুনা প্যাক্ট ,প্রাদেশিক আইনসভায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পরে , ‘ মুসলমানদের কাছে তাদের চিরস্থায়ীভাবে অধীনতা সম্ভাব্য ভবিষ্যতের ছবি হয়ে পরে । একই সাথে কৃষিজাত পণ্যের মূল্য ও গ্রামীণ ঋণ আকস্মিক ও নাটকীয় ভাবে কমে যাওয়ায় খাজনা ও পাওনা আদায়ের পদ্ধতির ওপরে মারাত্মক চাপ পড়ে -অথচ এইগুলিই ছিল এতকালের আয়ের উৎস । খাজনা আদায়ে খাজনা আদায়কারিরদের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাওয়ার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি রায়তদের অনুকূলে চলে যেতে থাকে আর এই রায়তদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান । এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রায়তরা ক্রমবর্ধমান হারে জমিদারদের কর্ত্‌ত্ব অবজ্ঞা করে গ্রামীণ বাঙলায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে থাকে ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন উচ্চ শ্রেণীর কৃষকদের ভোটের অধিকার দেয় -এই প্রথম মুসলমান চাষি আইনসভার পরিমণ্ডলে নিজেদের কথা বলার অধিকার পায় ।মুসলমান রায়ত এবং মুসলমান বুদ্ধিজীবি এই প্রথম বাঙলার রাজনীতিতে এতকালের মধ্যসত্বভোগি, খাজনা আদায়কারী সুদ ব্যবসায়ী ভদ্রলোকদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে ।

    অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ইস্যুর ওপর ভদ্রলোক শ্রেণীর স্বার্থ প্রাধান্য বিস্তারের প্রাসঙ্গিকতার কারনে এবং এই আশু বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বার্থে ক্রমে কংগ্রেস ,মূলত বেঙ্গল কংগ্রেস হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় ডানপন্থীদের দখলে চলে যায় ,এই সময়ে বাঙালী ভদ্রলোক সম্প্রদায় ব্রিটিশ শাসনকে অত্যন্ত অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করে । মুসলিম শাসন কে হিন্দু সমাজের পক্ষে মারাত্মক ও তাৎক্ষনিক হুমকি হিসাবে দেখার সূত্রপাত শুরু হয় ।সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে উচ্চ ভদ্রলোক শ্রেণী মুসলমান শাসন মেনে নেয় কি উপায়ে ? সৃষ্টি হতে শুরু করে হিন্দু জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা বাদ । নিজেদের শক্তি বাড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে এতকালের অবহেলিত দলিতদের শুদ্ধি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের মধ্যে স্থান দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় , ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজ গঠনের প্রয়াস। অধস্তন মুসলমানদের শাসনকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি ,বিভাগের দাবী ও পৃথক আবাসভূমির স্বার্থে ভদ্রলোকেরা বেঙ্গল কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভা কে প্রকৃত অর্থে নিয়োজিত করে । বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃত্ব যা এককালে জাতীয় রাজনীতির নির্ণায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্রমে নিজেদের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষায় ,আঞ্চলিক ,সংকীর্ণ, গোষ্ঠী বিভক্ত এবং দিল্লী কংগ্রেসের আজ্ঞাবাহক হয়ে পড়ে । এমন একটা সময় ছিল যখন কংগ্রেস নেতৃত্ব অখণ্ড ভারতের কোন একটা অংশের বিচ্ছিনতা অভিশাপ হিসাবে বিবেচনা করতেন কিন্তু সেই কংগ্রেস ১৯৪৬ এর কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে মাত্র 1.3% মুসলমান ভোট পায় । বাঙলায় ২৫০ টি আসনের মধ্যে মুসলিমলীগ ১১৩ টি আসন দখল করে ক্ষমতা দখল করে । এই নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস দেশের এমন সব অংশ ছেড়ে দিতে চায় যেখানে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশা নেই এবং কেন্দ্রে তাঁদের ক্ষমতার প্রতি হুমকি হিসাবে প্রতীয়মান কিন্তু তারা সাবেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলির হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ জেলাগুলো ভারতের সাথে রাখতে হবে এই দাবী তোলে এবং দাবীর অর্থ বাঙলা এবং পাঞ্জাব অবশ্যই ভাগ হতে হবে ।

    ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস বাঙলায় বর্ণ হিন্দুদের সর্ব সম্মত পছন্দের দল হিসাবে গণ্য হয় - হিন্দু মহাসভা মাত্র 2.73% ভোট পায় এবং শ্যমাপ্রসাদ ইউনিভার্সিটি বিশেষ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন । কিন্তু মহাসভার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিপুল বিজয় হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের বিজয় ছিলোনা বরং কংগ্রেসের ওপরে বাঙালি হিন্দুদের বিশ্বাস দৃঢ় ছিল যে কংগ্রেস হিন্দু মহাসভার তুলনায় তাদের স্বার্থ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে । কিন্তু ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ সুরাবর্দি’র নেতৃত্বে পুনরায় ক্ষমতায় আসে -হিন্দু বাঙ্গালিদের প্রত্যাশা হতাশায় পরিনত হয় -অন্যদিকে সুরাবর্দি মন্ত্রিসভায় হিন্দু মুসলমান সমতা’র পূরানো ফর্মুলা বাতিল করে মন্ত্রীসভা ১৩ জন থেকে মাত্র ১১ জনে নামিয়ে আনেন এবং হিন্দু মন্ত্রীদের সংখ্যা ৩ এ নামিয়ে আনেন ,তার ওপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে এই তিনজন হিন্দু মন্ত্রীর মধ্যে দুই জন কে তপশীল সম্প্রদায় থেকে গ্রহণ করেন ।

    হিন্দু ভদ্রলোকেরা একেতে পরাজিত ,তার ওপর ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের সময়ের খাদ্যমন্ত্রি সুরাবর্দি বর্তমানে প্রধান মন্ত্রী , তার মন্ত্রীসভায় মাত্র একজন মন্ত্রী হিন্দু উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি , তাদের পক্ষে এই অপমান অসহ্য হয়ে ওঠে । বাঙলা ভাগের ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেসের যৌথ আন্দোলনে কংগ্রেস অগ্রণী ভূমিকায় ছিল । সারা বাঙলায় বাঙলা ভাগের জন্য ৭৬টি জনসভা সংগঠিত হয় তার মধ্যে কংগ্রেস একাই ৫৯ টি জনসভা সংঘটিত করে ,বারোটি মহাসভার উদ্যোগে আর মাত্র ৫টি সভা মহাসভার সাথে যৌথ ভাবে সংগঠিত হয় । ভদ্রলোকেরা ছিল এই আন্দোলনের মুল শক্তি , এতে বিস্ময়ের কিছু নেই । বস্তুত প্রাদেশিক রাজনীতিতে ক্ষমতা হারিয়ে ,জমিদারি পদ্ধতির দ্রুত অবক্ষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাশ ভদ্রলোক গ্রুপ তাদের এতকালের সুযোগ সুবিধা ক্ষমতা বজায় রাখতে স্বীয়শক্তি নিয়োগে তৎপর হয়ে ওঠে ।

    অন্যদিকে বাঙলার মারোয়াড়ী এবং বাঙ্গালী কোটিপতি ব্যবসায়ীরা মুসলমান বনিকদের ক্ষমতা প্রতিহত করতে সর্বশক্তি দিয়ে উঠে পড়ে লাগেন । বিড়লা ,ঈশ্বর দাস জালান , গোয়েঙ্কা ,নলিনী রঞ্জন সরকার -বাঙলার এইসমস্ত কোটিপতি প্রতিটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থিত থেকে দেশভাগের সমর্থনে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করতেন । বাঙলার সমস্ত এলাকা থেকে মারোয়াড়ী ব্যবসাদারেরা সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের কাছে দরখাস্ত প্রেরণ করেন , তারা বলেন যে ' মুসলিম লীগের সরকারের অধীন বাঙলায় ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তারা বাঙলা বিভাগের প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে সমর্থন করে' । কলকাতার মারোয়াড়ীদের কাছে বাঙলা বিভাগ তাঁদের স্বার্থের পক্ষে অতি উত্তম - অধিকাংশ মারোয়াড়ী পাটের ফাটকা বাজারে প্রভূত অর্থ উপার্জন করলেও পাটশিল্প কে ততদিনে তারা মেরে ফেলতে শুরু করেছে । তাদের মধ্যে আনন্দিলাল পোদ্দার ,কারনানি ,ঝুনঝুনওয়ালা , শেঠরা কয়লাখনি তে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছে । বিড়লারা চিনি ,বস্ত্র ,ব্যাংকিং ,বিমা ,ক্যেমিকাল শিল্পে ভারতজুড়ে বিনিয়োগ করছে কলকাতার পাট শিল্পের মৃত্যুর বিনিময়ে । অন্যদিকে সুরাবর্দি হাসান ইস্পাহানী গ্রুপের আর্থিক ক্ষমতার ওপরে নির্ভরশীল । অবিভক্ত বাঙলা মারোয়াড়ীদের ব্যবসা বিস্তৃতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে । মুসলিম লীগের অধীনে থাকলে তাদের উন্নতির সম্ভাবনা সীমিত অন্যদিকে বাঙলায় কংগ্রেস সরকার স্থাপিত হোলে সরকার তাদের পকেটে থাকবে এই নিখুঁত ব্যবসায়িক স্বার্থে বিড়লা এবং সমস্ত মারোয়াড়ী সম্প্রদায় বাংলাভাগের সমর্থনে তাঁদের সমস্ত ক্ষমতা (আর্থিক ক্ষমতা সমেত ) নিয়োজিত করে ।

    মূলত জমিদার ,পেশাজীবী ,বাঙলার অসংখ্য সন্মানীয় চাকুরীজীবী ,মধসত্ব ভোগী উচ্চ বর্ণের হিন্দু ভদ্রলোক ,মারোয়াড়ী ব্যবসাদার এবং দিল্লীর কংগ্রেস লবির ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে বাঙ্গালি পরজিত হয় আজকের দিনে । তৎপরবর্তী দুই দশকের ইতিহাস ,বঞ্চনা স্বজন হারানোর বেদনা এবং ভারতীয় রাজনীতিতে বাঙালির বৈশিষ্ট্যগত দুর্বলতা, বাম ডানের মধ্যে শক্ত মেরুকরণ এবং এখনো অনেক হিন্দু ভদ্রলোক কর্ত্‌ক উৎকট স্বাদেশিক সংস্কৃতির অব্যহত চর্চা সেই হিন্দু বাঙালি সাম্প্রদায়িকতার ধারবাহিকতা । জাতীয়তাবাদ বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে দেশে দেশে আর বাঙালি ভদ্রলোকের সাম্প্রদায়িকতা পরিচালিত হয়েছে নিজেদেরই জাতির বিরুদ্ধে তার সাথে সুচতুর পরিকল্পনা অনুযায়ী সঙ্গত করেছে মারোয়াড়ী সম্প্রদায় । এখনো আমাদের মধ্যে অনেকেই মুসলমানদের বাঙালি বলে স্বীকার করতে দ্বিধাগ্রস্ত এবং কতিপয় স্বার্থান্ধ মতবাদ প্রচারকারী প্রদেশ ভাগের থেকেও মারাত্মক বাঙালি জাতির ভবিষ্যতকেই হুমকি দিচ্ছে অবিরত ।

    আজ কোন আনন্দের দিন নয় -হিন্দুর বিজয়ের দিন নয় বরং অতি সংখ্যালঘিষ্ঠ ভদ্রলোক হিন্দু এবং মুসলমান বাঙালির হাতে আপামর বাঙালির পরাজয়ের দিন । স্বজন এবং স্বদেশ হারানোর দিন ।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২২ জুন ২০১৬ | ১৭২৩৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.103.54 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০১:০৩55212
  • এর সাথে একটি স্টেটসম্যানের পেপার কাটিংও বোধ হয় ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
  • প্রতিভা সরকার। | 11.39.37.155 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৬:১৮55213
  • প্রবন্ধটি আগ্রহ জাগালেও কয়েকটি কথা।
    ১) আপনি যেভাবে ভদ্রলোক হিন্দুর ভূমিকার কথা বলেছেন সেই একই ভূমিকায় ছিলেন ভদ্রলোক মুসলমান একথা না বললে একদেশদর্শিতা হবে। আক্রম খাঁর আজাদ লীগের মুখপাত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং আক্রম খাঁ প্রচন্ড লড়েছিলেন স্বাধীন বঙ্গের বিরুদ্ধতায়। তিনি ছিলেন পাকিস্তানপন্থী এবং ১৯৪৬ এর ১৪ই মে একথা ঘোষণা করেছিলেন যে সাড়ে তিনকোটি মুসলমান এবং অন্য তপসিলি হিন্দুদের অবধারিত সংযুক্তি পাকিস্তানের সঙ্গেই। তখন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলও সক্রিয়ভাবে লীগকে সমর্থন করেছিলেন।এই আক্রম খাঁকে পৃষ্ঠপোষণা দিয়েছিলেন মুসলমান জমিদার ও সচ্ছল শ্রেণী। অবাঙালি মুসলমান বণিক শ্রেণীও।

    ২)কমিউনিস্ট পার্টির ভবানী সেন ইত্যাদিরা বরাবরই কংগ্রেস ও লীগের ঐক্য চেয়েছিলেন। তারা অনেকগুলি শর্ত দেন, তার মধ্যে একটি হলো গণভোটের মাধ্যমে ইস্যুটির ফয়সালা করা। লীগ সেটি চায়নি। এখনো যখন কাশ্মীরের অবস্থা দেখি ভাবি নেহরু প্রতিশ্রুতিমাফিক গণভোট থেকে সরে না এলে এরকম হতো না।
    গণভোট একটি অত্যন্ত কার্যকরী গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। সীমিত সাধ্য ও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা করানো যায়নি বটে, কিন্তু তাই বলে আপনার উল্লিখিত অন্যান্য ধান্দাবাজদের সঙ্গে একাসনে তাদেরকে বসানো ঠিক হবে কি?

    ৩) প্রেসিডেন্সি কলেজে হিন্দুদের চেয়ে মুসলমান ছাত্র বেশি কবে হয়েছিল ? এই তথ্যের সূত্র কি ?

    কেন জানিনা আপনার লেখাটা পড়তে পড়তে বার বার মাণিক বাবুর একটি কথা মাথায় ঘুরেফিরে আসছে ----ভগবানকে এখানে পাওয়া যাবে না। তিনি থাকেন ভদ্রপল্লিতে।
  • প্রতিভা সরকার | 11.39.37.155 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৬:২৭55214
  • প্রথম পয়েন্টের উত্তর দেবব্রতবাবু এক জায়গায় দিলেন। তারপরও আমার জিজ্ঞাসা যে শিক্ষিত মোটামুটি সচ্ছল মুসল্মান শ্রেণীর উত্থানের কথা আপনি লিখলেন তাদের ভূমিকা এ ব্যাপারে কি ছিল।?
    যোগেন মন্ডল বঙ্গব্যবচ্ছেদ সমর্থন করেছিলেন অমলেশ ত্রিপাঠী, শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় পড়ে জেনেছি। সেকি ভুল জানা ?
    ভবানী সেন সম্বন্ধে লিখুন। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি তো ব্যক্তিবিশেষকে নিয়ে নয়। তাদের agenda ছিল গণভোট একথা কি ঠিক?
    প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্রের অনুপাতেও আগ্রহ রইল।

    এইরকম চিন্তাশীল আগ্রহী করে তোলা লেখা আরো লিখুন।
  • ranjan roy | 132.180.220.170 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৬:৩৩55215
  • যা সামান্য জানি তাতে প্রতিভা সরকারের সঙ্গে একমত হলাম।
    ঘটনাচক্রে আক্রাম খাঁকে তখন হিন্দুরা নাম দিয়েছিলেন আক্রমণ খাঁঃ))। তাঁর মেয়ে পার্কসার্কাসে আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে সিপিআইয়ের বিখ্যাত নেতা আবদুর রেজ্জাক খাঁর স্ত্রী। আমরা মাসিমা বলে ডাকতাম। রেজ্জাক খাঁ কালাপানি ফেরত কম্যুনিস্ট ও আদ্যোপান্ত সেকুলার। ওঁর বড়ছেলে মুমতাজ আহমেদ আইপিটিএর নামজাদা অভিনেতা ও পঞ্চাশের এবং ষাটের দশকের কিছু সিনেমাতেও ভাল কাজ করেছিলেন।
    এই লেখা পড়তে পড়তে সেসব স্মৃতি ফিরে এল।
  • ranjan roy | 132.180.220.170 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৬:৩৬55216
  • সেইসময়ের কম্যুনিস্ট কর্মীদের মুখে শুনেছি পার্টির মাস মিটিংয়ে কং-কম্যু-মুসলীম লিগ তিন দলের পতাকাই একসঙ্গে বেঁধে লাগানো হত, ঐক্য বোঝাতে।
    কমিউনিস্ট পার্টি কাশ্মীর ও বঙ্গভাগ দুটো প্রশ্নেই গণভোটের দাবি করেছিল বলে শুনেছি। ডকু দেখিনি।ঃ((
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.83 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৭:০৫55217
  • প্রতিভা দি ঃ- এই লেখাটির প্রথম প্যারায় আছে দেখুন " তাঁর অর্থ এই নয় যে একই অর্থনৈতিক শ্রেণীভুক্ত ঢাকার নবাব এবং উচ্চ বংশীয় মুসলিম লীগের নেতারা চুপচাপ বসে ছিলেন বরংসমপরিমাণ তৎপরতায় তারাও হিন্দুদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি না করে নিজেদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার স্বার্থে দেশভাগের পক্ষে সায় দেন ।" মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা তো ছিলই কিন্তু ১৯০৫ সালে যে জাতীয়তাবাদী হিন্দু বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সর্বান্তকরণে লড়াই করল সেই একই বাঙালি মাত্র চার দশকের ব্যবধানে কেবল হিন্দু পার্টি এবং হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার সমার্থক কি করে হয়ে গেল ? একটাই উত্তর " অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগের ধারাবাহিক সত্যের মধ্যে ।"
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.83 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৭:১৪55219
  • না যোগেন মণ্ডল দেশভাগের বিরোধী ছিলেন ,অখণ্ড বাঙলার পক্ষে ছিলেন " ১৯৪৭ সালের ২১ এপ্রিল খ্যাতিমান বাঙালী নিন্মবর্ণ নেতা এবং তৎকালীন ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানান, বাঙলার নিন্মবর্ণ হিন্দুরা বাঙলা ভাগের প্রস্তাবের বিরোধী। মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোর আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ১০৬ জন যার মধ্যে ১০০ জন ছিলেন মুসলিম লীগের, ৫ জন ছিলেন নিন্মবর্নের হিন্দুদের প্রতিনিধি এবং এক জন ছিলেন খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি বাঙলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এই সময়ে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দু প্রধান জেলাগুলির আইনপ্রনেতারা এক বৈঠকে ৫৮ জন বিভাজনের পক্ষে ভোট দেন কিন্তু সেই সভাতেই মুসলিম লীগের ২১ জনা বিভাজনের বিপক্ষে ভোট দেন। ৫৮ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ আরো সিদ্ধান্ত নেয় যে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো ভারতে যোগদান করবে। পরবর্তীতে বর্ধমান মহারাজের সভাপতিত্বে হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলোর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে ১০৭-৩৪ ভোটে মুসলিমপ্রধান এলাকার আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত পাকিস্তানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সাথে যোগেন মণ্ডল পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার সিধান্ত নেন -তার মতে জিন্নার সেকুলার পাকিস্তানে নিন্মবর্গের হিন্দু ভারতের উচ্চ বর্ণের হিন্দু আধিপত্যের তুলনায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে -পরবর্তীতে জিন্নার মৃত্যুর অবশেষে -ক্ষমতা পাঞ্জাব এবং সিন্ধ এর রক্ষণশীল মুসলমানদের হাতে চলে যেতে থাকে এবং তার প্রভাবে যগেন মণ্ডল পাকিস্তানের আইন মন্ত্রী ,শ্রম মন্ত্রী এবং কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রিপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তী ইতিহাস জটিল সে কথা অন্যদিন ।
  • ranjan roy | 132.180.220.170 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ০৭:১৪55218
  • "একটাই উত্তর " অর্থনৈতিক আধিপত্য ,দীর্ঘকাল যাবত সমস্ত সামাজিক বিষয়ে ক্ষমতার আধিপত্য , সাংস্কৃতিক আধিপত্য, শিক্ষার আধিপত্য এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর উদ্বেগের ধারাবাহিক সত্যের মধ্যে ।"
    --বড় হাতের ক !!
  • sg | 135.20.82.164 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ১২:১৩55210
  • দেবব্রত বাবু,

    এ ব্যাপারে একটু আলোকপাত করবেন? Facebook এ এই status টা পেলাম। শ্যামাবাবুকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে ও বলা হচ্ছে যে উনি চেষ্টা না করলে পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানে চলে যেত।

    "20th June is birthday of West Bengal. Abnormal it may sound but the fact remains that on this day of 1947 after too much of hardship Dr Shyama Prasad Mukherjee was able to influence Bengal Legisleture to include hindu part of Bengal within India.Md Ali Jinah very clearly said he will not settle for Bengal if Calcutta is not given.The entire Bengal and Assam were in the initial plan of demand for Pakistan.While our communists found the demand for Pakistan is very much justified the Congress was almost ready to gift entire Bengal to Pakistan ignoring the interest of it's huge hindu population.Calcutta then the biggest and richest city of India was Jinha's dream and all muslims of Bengal were almost sure that it will be given to majority community as it is their normal right.Thanks to Dr Mukherjee for the first time in history capital city of a divided state was not given to majority.It went to minority that is Bengali hindu who were little more than 32% of total population of undivided Bengal.Dr Mukherjee saved lives and dignity of 5 crore hindus by keeping western part of Bengal with India.Today he is almost forgotten in Bengal.He is counted a communalist because he saved hindus from the hands of death awaiting in Pakistan.I wonder what would have done to Bengali hindus if entire Brngal would have gone to Pakistan in 1947.It is simple.The same what hindus faced in Lahore, Karachi and Dhaka in last 67 years.A gradual death and fast vanishing of existence.Never forget this date of history if you are a Bengali hindu still living with a grace in West Bengal.On this day our future entity was born as a result of hardwork rendered by a towering leader.
    On 20th June 1947 creation of West Bengal was decided. It was finally declared on 15th August 1947."
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.103.54 (*) | ২২ জুন ২০১৬ ১২:৪১55211
  • এইটা ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুক /হোয়াটস অ্যাপএ আর তার উত্তরেই আমার এই প্রবন্ধটি লেখা
  • শিবু | 47.187.129.166 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০১:০৫55228
  • কিন্তু অন্য অপশনটা কি ছিল ? পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মুসলিম প্রদেশ হয়ে থাকা ? নাকি স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ?
  • রৌহিন | 181.49.148.161 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০২:০৭55229
  • এখানে আসবো। আপাততঃ নজর রাখছি। আমারো কিছু প্রশ্ন ছিলো কিন্তু জবাব পেয়ে গেছি মোটামুটি ফেবু আর এখানে মিলিয়ে।
  • শিবু | 195.100.85.132 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০৭:৪৩55220
  • অখণ্ড বাংলা ভারতের অংশ হওয়ার কথা ছিল ? শ্যামাপ্রসাদ তার বিরোধিতা করেছিলেন ? রাইট ?
  • প্রশ্ন | 190.179.40.19 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০৮:১০55221
  • চেরিপিকিং কি ঠিক ? যোগেন মন্ডল কে পাকিস্তানে যে লিয়াকত আলী মন্ত্রিসভায় ইস্তফা দিয়ে ভারতে ফিরে আস্তে হয় সেকথা চেপে যাওয়া কেন ? আর সুরাবর্দি কে অসাম্প্রদায়িক মহান বাঙালি জাতীয়তাবাদী করে দেখানোর প্রচেষ্টায় বা কেন ? direct action day ও great calcutta killing ভুলে গেলেন ? নোয়াখালী দাঙ্গাতে নমঃশুদ্র হিন্দুদের ওপর ওপর অত্যাচার ও যোগেন মন্ডলের লেখায় লিপিবদ্ধ ।
    https://en.wikisource.org/wiki/Resignation_letter_of_Jogendra_Nath_Mandal
    "সাবেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলির হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ জেলাগুলো" কোনগুলো তৎকালীন সেন্সাস অনুযায়ী ?সেখানে 1946 সালে কংগ্রেস জিতেছিল না মুসলিম লীগ ?
  • ... | 37.104.4.32 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০৮:২৮55222
  • Sorbogun somponno, sorbo somosya somadhakari Debu babur protiva r sakkhor to proti toi e fute utche.

    Groho nokhrotrer khub i kothin position e ei sab birol protiva r janmo hoy.
  • a | 213.219.201.58 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ০৯:৩৮55223
  • দাদার কি পার্সোনাল খার মেটানোর আছে? টই তে চুল্বুল করছেন Kএন?
  • DP | 117.167.106.158 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ১০:২৭55224
  • আহা অখণ্ড বাংলা যদি থাকত! দুই বাঙলা মিলে বাংলাস্তান হত। কলকাতেও নাস্তিক, মুক্তমনা, সমকামী, হিন্দু, খ্রীষ্টান জবাই করা হত। আর বাঙালীকে ভিনরাজ্যে গিয়ে খেটে খেতে হত। আঁতলামীর আর সময় পেতনা।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.124.53 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ১১:৫৯55225
  • পড়ে লিখলেন ? " চেরিপিকিং কি ঠিক ? যোগেন মন্ডল কে পাকিস্তানে যে লিয়াকত আলী মন্ত্রিসভায় ইস্তফা দিয়ে ভারতে ফিরে আস্তে হয় সেকথা চেপে যাওয়া কেন ? " অথচ এইটা লেখা হয়েছে

    " পরবর্তীতে জিন্নার মৃত্যুর অবশেষে -ক্ষমতা পাঞ্জাব এবং সিন্ধ এর রক্ষণশীল মুসলমানদের হাতে চলে যেতে থাকে এবং তার প্রভাবে যগেন মণ্ডল পাকিস্তানের আইন মন্ত্রী ,শ্রম মন্ত্রী এবং কাশ্মীর বিষয়ক মন্ত্রিপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তী ইতিহাস জটিল সে কথা অন্যদিন ।"

    @শিবু বাঙলা যাতে বিভক্ত না হয় সেই জন্য ঐক্যের প্রচেষ্টায় একজন মুখ্য ব্যক্তি হিসাবে একসময় খ্যাত শ্যামাপ্রসাদ ১৯৪৬ এ মত পালটান ।হাতে লেখা ব্যক্তিগত নোটে তিনি মুসলিম লীগের শাসনে বাঙলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল্যায়ন করেন ' বাঙলা যদি পাকিস্তানে রূপান্তরিত হয়------ বাঙলার হিন্দুরা স্থায়ীভাবে মুসলমান শাসনের অধীন হয়ে যাবে । হিন্দু ধর্ম ও সমাজের ওপর যেভাবে আঘাত আসছে তা বিবেচনা করলে বলা যায় ,এটা হোল বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির সমাপ্তি । কিছু নিন্ম শ্রেণীর হিন্দু থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিকে শান্ত করতে হলে অতি প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতিকেই বিসর্জন দিতে হবে '

    তাই " কিছু নিন্ম শ্রেণীর হিন্দু থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি" গনের হাত থেকে মুক্তির স্বার্থে মুখার্জি বাবু হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার পথ ধরলেন । মারোয়াড়ী ফান্ড নিলেন । ইউনিভার্সিটি রিসার্ভ সিট থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন এবং দেশবিভাগ অধিকতর পছন্দনীয় এই মূলত জমিদার ,পেশাজীবী ,বাঙলার অসংখ্য সন্মানীয় চাকুরীজীবী ,মধসত্ব ভোগী উচ্চ বর্ণের হিন্দু ভদ্রলোক ,ধান্দাবাজ মারোয়াড়ী ব্যবসাদার এবং দিল্লীর কংগ্রেস লবির ক্ষুদ্র স্বার্থের বিজ্ঞাপিত মুখ হইলেন ।
  • শিবু | 103.115.95.202 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ১২:০৫55226
  • তার মানে শ্যামাপ্রসাদ অবিভক্ত বাংলার পাকিস্তানে চলে যাওয়া চাননি ? তাই তো ? নাকি অবিভক্ত বাংলা ভারতে রাখতেও ওনার আপত্তি ছিল ?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.124.53 (*) | ২৩ জুন ২০১৬ ১২:৪০55227
  • হিন্দু মহাসভা /কংগ্রেসের একই অ্যাজেন্ডা । বাঙ্গালিরা তাদের প্রদেশ বিভক্তির সময়ে কেবলমাত্র অসহায় দর্শক ছিলোনা , নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনারও শিকার তারা নয় বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে নিজেদের মাতৃভূমির বিভক্তিকে গ্রহণ করার জন্যও তাদের বাধ্য করা হয়নি । বরং ব্যপারটি উলটো ছিল । হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেসের প্রাদেশিক শাখাগুলির সহায়তায় বাঙলার অধিক সংখ্যক হিন্দু ১৯৪৭ সালে বাঙলা বিভাগ এবং ভারতের অভ্যন্তরে একটি পৃথক হিন্দু প্রদেশে গঠনের জন্য ব্যাপক প্রচার অভিযান চালায় । এই প্রচার অভিযানে কংগ্রেস হাই কম্যান্ডের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল এমনকি বাঙলার খাদি গ্রুপের নেতারা শ্যামাপ্রসাদ বাবুকে কংগ্রেস নেতা হিসাবে পশ্চিমবাংলার মন্ত্রীসভায় যোগদানের আহ্বান জানায় । তাতে শ্যামাপ্রসাদের আপত্তিও ছিলোনা । সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ এবং কংগ্রেসের একই অ্যাজেন্ডা " কিছু নিন্ম শ্রেণীর হিন্দু থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি" গনের হাত থেকে মুক্তির স্বার্থে বাঙলা ভাগ এবং ভারতের অভ্যন্তরে হিন্দু প্রদেশ হিসাবে থাকা ।
  • কল্লোল | 125.185.150.76 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০১:৩৯55230
  • অখন্ড বাংলা ভারতে থাকলে, ভারতের রাজনীতিতে বাংলার প্রভাব অনেক বেশী হতো। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বাংলার সাংসদদের ভূমিকা প্রধান হতো, কারন ভারতে সবচেয়ে বেশী সংসদ আসন বাংলা থেকেই আসতো। আর যদি অখন্ড বাংলা পাকিস্তানে যেতো, তো নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হতো, যেমন হয়েছিলো ৭১এ। পশ্চিম পকিস্তান সেটা মানতে পারতো না। ফলে বাংলাদেশ অনেক আগেই হয়ে যেতো। আর অখন্ড বাংলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হলেও মুসলমান-হিন্দু অনুপাত ৬০/৪০ হতো। তাতে কোন সম্প্রদায়ই ততো ছড়ি ঘোরাতে পারতো না। আজকের বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরীই হতে পারতো না। বরং সম্ভাবনা ছিলো গোটা উত্তর পূর্ব ভারত থেকে বেরিয়ে এসে অখন্ড বাংলার সাথে ফেডারেশন তৈরী করতো, সাথে সিকিম, ভূটান, এমনকি হয়তো নেপালকেও পেতো।
  • Ranjan Roy | 132.162.202.216 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০২:১২55240
  • "৭১ বীরগাথা ওভার গ্লোরিফিকেশন করবেন না , বাংলাদেশ স্বাধীনতা হবার পিছনে প্রধান কারণ ভারতীয় সেনার প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ।"

    ---এ নিয়ে এখনও কারও সন্দেহ আছে নাকি?
  • amit | 213.0.3.2 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৩:২৬55231
  • 46 এর দাঙ্গার পরে অতদূর কষ্ট কল্পনা করা তখন সম্ভব ছিল কি-? আর 60:40 অনুপাত থাকলে যে সব শান্তিপূর্ণ থাকতো, লেবানন বা আরো অনেক দেশের এর ইতিহাস তো সেটা সমর্থন করে না। আর ইতিহাস 50-60 বছর কোন পথে যাবে সেটা জানা গেলে তো আজকের দুনিয়া অন্য রকম হতো। 1950-এ কে ভেবেছিলো যে রাশিয়া ভেঙে যাবে আর চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হয়ে উঠবে ? ইভেন বাংলাদেশ নতুন দেশ হবে, কে ভাবতে পেরেছিলো ?

    আর 1905 এর বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন এর সাথে 1947 এর তুলনা করার মানে কোথায় ? প্রথমটা ছিল অখণ্ড ভারতে একটা রাজ্য কে এক সাথে রাখার আন্দোলন, তখন দ্বিজাতি তত্ত্ব কোথায় ? মুসলিম লীগ কোথায় ? 1940 এ পলিটিক্যাল ডিনামিক্স সম্পূর্ণ আলাদা, অখণ্ড বাংলা কোন দেশে যাবে তার অপশন গুলো কি ছিল তখন ?
  • c | 144.159.168.72 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৩:৪৭55232
  • অমিতকে,
    যদ্দুর মনে পড়ছে দ্বিজাতিতত্ত্বের বীজ ঐ ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের সময়ই দিব্বি ছিল।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৩:৪৯55233
  • ^ উপরের পোস্টটা আমার।

    যাই হোক বাকী বক্তব্য নিয়ে কিছু বলছি না। শুধু এইটুকু বলার ছিল যে ১৯০৫ এ দ্বিজাতিতত্ত্ব ছিল, তাতে সার জল দেওয়াও চলছিল।
  • কল্লোল | 125.185.144.249 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৪:০২55234
  • আমি যা লিখলাম, সবই সম্ভাবনার কথা। হলে হতে পারতো।
    যুক্তিগতভাবে অখন্ড বাংলা ভারত বা পকিস্তান যেদিকেই থাকুক, একটা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতো, সংখ্যার কারনে। লেবাননের ইতিহাস নিয়ে খুব কিছু জানি না, তাই কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। তবে ভারত বা পাকিস্তানে (যেখানেই অখন্ড বাংলা থাকতো), সেখানে ভোটের রাজনীতিতে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতেই হতো। সামাজিকভাবেও একটা ভারসাম্য তৈরী হয়ে যেতো।
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.18 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৪:২২55241
  • এক্ষেত্রে কাশ্মীর এবং বাঙলার সাথে তুলনা চলেনা - একটি মুসলমান প্রজা প্রধান হিন্দু রাজার অধীন রাজ্য এবং ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সূতিকাগার প্রদেশের সঙ্গে তুলনা অমূলক । অখণ্ড ‘ সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ বাঙলা ( শরৎ বসু সহ কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী অংশ এবং আবুল হাসিম সুরাবর্দি সমেত মুসলিম লীগের অংশ ভেবেছিলেন সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান আসলে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব) স্বতন্ত্র রাষ্ট্র যদি হত তাহলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা অন্তত নেহেরু- প্যাটেলের ছিলোনা - সেই বাঙলা হায়দ্রাবাদের নিজাম রাজ্য নয় যে মিলিটারি ঢুকিয়ে দখল করা যেত ।

    তবে যাই হউক শরৎ বসুর প্রস্তাব এবং আবুল হাসিম সহ সুরাবর্দির অখণ্ড স্বতন্ত্র বাঙলার পরিকল্পনা সেই সময়ে সফল হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিলোনা । যদিও গান্ধী বাঙলাকে যুক্ত রাখার পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দিয়েছিলেন -তবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি তাঁকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেন । মুসলিম লীগের প্রতিটি গ্রুপই বাঙলা ভাগ করার বিরুদ্ধে বিরোধিতা করলেও জিন্নার অনুগামী আকরম খাঁ এবং ঢাকার নবাব বংশীয় খাজা নিজামুদ্দিন সুরাবর্দির প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে থাকেন । জিন্না এই বিষয়ে মতামত নিজের মনেই রাখেন - তিনি প্রকাশ্যে শরৎ বসুকে সমর্থনও করেননি আবার বিরোধিতাও করেন নি । শরৎ বসু যিনি এককালে বেঙ্গল কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিতেন তার সেই ক্ষমতা ততদিনে হাইকমান্ডের অনুগত বিধান চন্দ্র রায়ের কুক্ষিগত । ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে কংগ্রেস ঘোষণা করে বাঙলা ভাগ করা হবে এই সিধান্তের বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেস পার্টির কিছু করার ক্ষমতাও ছিলোনা -ইচ্ছাও ছিলোনা । তার ওপর ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গা এবং সুরাবর্দির ভূমিকা এবং শেষ মুহূর্তে তার এই মত পরিবর্তন উচ্চ বর্ণ হিন্দুদের কাছে সন্দেহজনক । এমনকি ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতৃত্ব স্থানীয়রা শরৎ বসু কে সমর্থন দিতে অস্বীকার করে ।

    ১৯৩২ সাল থেকে রোয়েদাদ এবং নানাবিধ কারনে বাঙলার রাজনীতি ,অর্থনীতি ,সমাজনীতি , সংস্কৃতি এবং প্রায় সমস্ত বিষয়ে কতিপয় মধ্যস্বত্ব ভোগী উচ্চ বর্ন হিন্দু বাঙ্গালীদের যে একাধিপত্য তা কমে আসতে শুরু করে । গ্রামে এবং শহরে প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে তাদের এই ক্রমআধিপত্য হ্রাস ক্রমে সংকীর্ণ হিন্দু সাম্প্রদায়িকতায় পরিনত হতে থাকে । আর যারা এই সাম্প্রদায়িক গতিপথের বিরুদ্ধে এই কতিপয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করতে পারতেন বা নিন্ম শ্রেণীর বিপুল বাঙ্গালি হিন্দু এবং মুসলমান কে দেশভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে পথে নামাতে পারতেন সেই পেটি বুর্জুয়া ,মধ্যবিত্ত শ্রেণী দ্বারা পরিচালিত কমিউনিস্ট পার্টি তেভাগা আন্দোলন কে অসমাপ্ত অবস্থায় ছেড়ে দেন । সাথে “ they failed to inspire the religious, ethnic, linguistic and other minorities, as well as the scheduled castes (untouchables) among the Hindus, in identifying their specific interests and to fight for them within the framework of their struggle for independence. The failure of the CPI was disastrous because they could open separate dialogues with Jinnah and the Sikhs and others on the question of national minorities. But instead, they pursued a policy of uniting the hands of Gandhi and Jinnah as leaders of the two most important and dominated religious communities and depended in a ridiculous manner on the prospect of a Congress-League understanding under the given conditions. “ আর এই কারনেই ২০ সে জুন রতনলাল বাবু এবং জ্যোতি বাবু বাঙলা ভাগের স্বপক্ষে ভোট দেন ।
  • amit | 230.245.40.8 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৬:৪১55235
  • অতগুলো সম্ভাবনা ভাবতে গেলে তো 1905 এর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন টাই ভুল ভালো ছিল বলা যায়। ওসব না হলে কলকাতা থেকে হয়তো (???) রাজধানী দিল্লিতে সরে যেত না, তখন হয়তো (??) ভারতের রাজনীতিতে বাংলার তথা কলকাতার প্রভাব অনেক বেশী হতো। আর কলকাতা রাজধানী থেকে গেলে হয়তো (??) 1947 এ কলকাতা পাকিস্তান এ যাওয়ার সম্ভাবনা টাই আসতো না। এ ভাবে ভাবার কি কোনো শেষ আছে ?

    জাস্ট বাংলাদেশ এর আজকালের হাল দেখে এটাই মনে হয় আমার অন্তত যে চাপাতির হাত থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং আরো কজন নেতা আমাদের বাচয়েছেন। নাহলে হয়তো গুরুর অনেকে আজকে চাপাতির ঘায়ে ওপরে যেতেন।
  • দেব | 135.22.193.148 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৭:২৩55236
  • অখন্ড বাংলা, স্থাপিত হলে ভারত পাকিস্তান কোন দিকেই যোগ দেওয়ার কোন প্রশ্ন উঠত না।

    টিকত কি? এই দেশের গত একশ বছরের সাম্প্রদায়িক ইতিহাস যা, বিশেষ করে বাংলার, আমি ২০০% নিশ্চিত হিন্দু-মুসলিম মারপিট লেবানন, কম্বোডিয়াকে অনেক পিছনে ফেলত। সেটা যারা বাংলাকে একজোট রাখার চেষ্টা করেছিলেন তাদের ব্যর্থতা নয়। বা যারা আলাদা হবার জন্য কাজ করেছিলেন শুধু তাদেরও নয়। তারা বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী হেঁটেছেন। এটা সকলের দায়।

    মুসলিম প্রায় ৬০% অথচ ৮০%+ জমির মালিক হিন্দু জমিদার। কোনদিকে যেত ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধা হয় কি? ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি এই ইস্যুতেই তো লড়ে ক্ষমতায় এলেন ৩৭এ। এটা ক্রমশঃ আরও বাড়তো। ১০-১৫ বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মতন শুরু হত গৃহযুদ্ধ। ভারতের সাহায্যে হিন্দুরা জিতত। বাংলা আবার ঢুকত ভারতের ভেতরে। মুসলিমরা ছেড়ে দিতেন না। গোটা পূর্ববঙ্গ জুড়ে ভয়াবহ বিদ্রোহ চলত দশকের পর দশক। কাশ্মীর কোন ছার। হিন্দুরা ঐ অবস্থায় পূর্ববঙ্গে আর থাকতে পারতেন না বলাই বাহুল্য। মুসলিমদের তাড়ানো হত এপার থেকে।

    আলাদা হয়ে এর থেকে কিছুটা কম হয়েছে। যদিও 'আত্মঘাতী' তকমা থেকেই যাবে চিরকাল।
  • প্রশ্ন | 56.165.230.5 (*) | ২৪ জুন ২০১৬ ০৭:৩৪55237
  • "অখন্ড বাংলা, স্থাপিত হলে ভারত পাকিস্তান কোন দিকেই যোগ দেওয়ার কোন প্রশ্ন উঠত না।"

    - কেন ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন