এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • দুর্বোধ্য চিকিৎসা নিদানপত্র

    Gautam Mistri লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৪ জুন ২০১৬ | ২০৫৮ বার পঠিত
  • সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ডাক্তারের চেম্বারে গাদাগাদি করে বসে থেকে, কড়কড়ে পাঁচশ টাকা খসিয়ে হাতে রইলো একখানা কাগজ। এ কাগজ যেমন তেমন কাগজ নয়, স্পেশালিষ্ট ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, অ্যাবস্ট্রাকট আর্ট। কিছুটি বোঝার উপায় নেই। বোঝার দরকারও নেই। বুঝিয়ে দেবে ওষুধের দোকানের সেলসম্যান। ডাক্তারের দুর্বোধ্য লেখা কেমন অবলীলায় পাঠোদ্ধার করে ফেলে এ দেশের ওষুধের দোকানের সেলসম্যানরা। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা মুঠিফোন দিয়ে শ্যামনগর থেকে সিঙ্গাপুরের সমুদ্রতরণীর শয়নকক্ষে থাকার ব্যাবস্থ্যা পাকা করে ফেলছি, কিন্তু প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধের নাম পড়তে পারছিনা। সেই ওষুধ কোন রোগের জন্য সেটা বুঝতে পারছিনা। ওষুধের দোকানের সদ্য নিয়োজিত ক্লাস এইট ফেল সেলসম্যান বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনটি পড়ে তার বুদ্ধিতে যে অন্তিম পরামর্শ দিলো সেটাই রোগমুক্তির একমাত্র ভরসা।

    মহামান্য পাঠক ও পাঠিকা, এইটা বলাই বাহুল্য, কেবল বিক্রেতা ও পরিষেবাপ্রদানকারী সংস্থা বা ব্যাক্তির শুভবুদ্ধির ওপর নির্ভর করে এই যুগের বিনিময়প্রথা চলেনা। বাজারে আলু কেনার সময় যেমন আপনাকে পচা আলু বাদ দিয়েই আলু কিনতে হয়, ওজন দেখে নিতে হয়; সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন আপনাকে চিকিৎসা পরিষেবা ক্রয়ের সময়ও দেখে নিতে হবে, আপনার অর্থ আর আয়াসের পূর্ণ সদ্‌ব্যবাহহার হচ্ছে কিনা এবং আপনার অসহায় অবস্থার সুযোগে কেউ তাঁর পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ পকেটে ভরছে কিনা। আপসোস করে লাভ নেই, আগেকার রুগী -চিকিৎসকের মধ্যে সেই ভরসার সেতুটি পুড়ে গেছে। সৎ-চিকিৎসা পরিষেবার নিয়ন্ত্রণ এখন আইনের হাতে। আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রিতার জন্য তা চিকিৎসার চিকিৎসায় অসফল, এটা প্রমাণের অপেক্ষা রাখেনা। শেষ অবলম্বন, রুগী আর উপভোক্তার সচেতনতা। জেনে নিন, ডাক্তারের পরামর্শ নেবার পর অথবা হাসপাতাল থেকে ছুটি হবার পরে ডাক্তার আর হাসপাতাল কতৃপক্ষ স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে না জানালে আপনাকে কোন কোন তথ্য জেনে নিতে হবে। চিকিৎসার উৎকর্ষ বিচার বা চিকিৎসা পদ্ধতির সমালোচনা এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। সঠিক, প্রাসঙ্গিক, পূর্ণ ও গুনগতভাবে উৎকৃষ্ট চিকিৎসা সঙ্ক্রান্ত তথ্য প্রদানের প্রয়োজনীয়তা ও পরিষেবা গ্রহণকারী রুগীর অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে এই প্রসঙ্গের অবতারণা।

    প্রেসক্রিপশন কার উদ্দেশে লেখা হয়?

    খেয়াল করে থাকবেন, ডাক্তাররা অনেক সময় ওষুধ লেখার আগে “Rx” নামে একটি সাঙ্কেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি ল্যাতিন ক্রিয়াশব্দ (recipe, recipere, “to take” or “take thou”) থেকে এসেছে, যার অর্থ “আপনি নিন”। লক্ষ্য করুন, কথাটা রুগীর উদ্দেশে লেখা, ওষুধের দোকানদার বা অন্য কারও জন্য নয়। তাই যদি হবে, তবে রুগীর বোধগম্য করে নিদান লেখা চিকিৎসকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠক্রমে প্রেসক্রিপশন লেখার বিধি শেখানো হয়। ব্যাবহারিক ফার্মাকোলজি শিক্ষায় দস্তুরমত এর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। আমেরিকায় প্রতি বছরে ৭০০০ রোগীর মৃত্যুর কারণ হিসাবে অস্পষ্ট হাতে লেখা প্রেসক্রিপশনকে দায়ী করা হয়েছে (ন্যাশানাল আকাডেমিস অব সায়েন্সেস, ইন্সটিউট অব মেডিসিন, জুলাই ২০০৬)। প্রেসক্রিপশন কথাটা এসেছে ‘Pre’ (before, পূর্বে) এবং ‘script’ (written, writing, লিখিত) থেকে। অর্থাৎ, প্রেসক্রিপশন হল রোগীর উদ্দেশে রোগ উপশমের জন্য পূর্বে লিখিত একটা নথি। এই নথিটি অন্তত চার ধরনের মানুষের কাছে বোধগম্য হওয়া বাঞ্ছনীয় — রোগী ও তার পরিজন , ওষুধের দোকানদার, অন্য কোন চিকিৎসক ও ঐ রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কিত অন্য যে কোন চতুর্থ ব্যাক্তি বা সংস্থা (যেমন চিকিৎসাবীমা সংস্থা বা বিচারবিভাগ ইত্যাদি)।

    যত বড় ডাক্তার তত দুর্বোধ্য লেখা !

    মাপ করবেন, ছোট বড়োর এই শ্রেণীবিভাগটা চলতি ধারণা অনুযায়ী, আমার সমর্থনপুষ্ট নয়। মোটা অর্থের সাম্মানিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দেখা মেলা ও খুব অল্প সময়ে খস খস করে লেটারহেডে দু’চারটা আঁকিবুঁকি এঁকে বিদায় দেন যারা, তাঁদের বড় ডাক্তার বলাটাই রেওয়াজ। একটা বেঠিক পদ্ধতি ক্রমাগত চলতে থাকলে, সেটাই ক্রমে অভ্যাসে পরিণত হয়। ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের দুর্বোধ্য লেখা আমরা কেমন যেন মেনে নিয়েছি। প্রেসক্রিপশন কেবল কিছু বিশেষ ওষুধের দোকানদাররাই কেন পড়তে পারবেন? ওষুধের দোকানদাররাও মাঝে মাঝে ভুল করে ফেলেন। আপনি নিরক্ষর না হলে আপনাকে তো মিলিয়ে দেখতে হবে যে আপনি ওষুধের দোকানদারের অসাবধানতার জন্য “ল্যাসিকস্‌” এর বদলে “ল্যাকজিট” কিনে আনলেন কিনা। ডাক্তারদের হাতের লেখা সব সময় যে দুর্বোধ্য হয় এমন কিন্তু নয়। একই ডাক্তার যখন বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসার আবেদন করেন, সে লেখা বেশ পড়া যায়। অর্থাৎ চাইলে পাঠযোগ্য লিপি ডাক্তাররা লিখতে পারেন। দৃষ্টিনন্দন বা ক্যালিগ্রাফির প্রয়োজন নেই, পড়ে অর্থ বোঝা যায় এমনটা লিখতে না পারলে, প্রেসক্রিপশন লেখার জন্য আলাদা পেশাদার অথবা টাইপরাইটার বা কম্প্যুটার ব্যবহার করতে হবে। আজকাল অবশ্য বেসরকারি হাসপাতালের কিছু নথি কম্প্যুটার থেকে বেরোয় বলে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। এখন আর বিনামূল্যে পরিষেবা না পাওয়া গেলেও সরকারি হাসপাতালের নথি এখন নিউজপ্রিন্ট সদৃশ্য ক্ষুদ্রকায় হরফে প্রত্নতত্ত্ববিদদের আগ্রহ উদ্রেককারী ছিন্নপত্র মাত্র। শেষোক্ত নথি দেখে একমাত্র সরকারি হাসপাতালের সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলি ওষুধ বেচতে পারে ও প্রয়োগবিধি বোঝাতে পারে। ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের সাংকেতিক ভাষার পাঠোদ্ধারে যে বেশ কিছুটা অনুমান মেশাতে হয় তা বুঝতে বেশি বুদ্ধির প্রয়োজন নেই। আপনার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের এই মধ্যযুগীয় অপব্যবহারে চিকিৎসক ও চিকিৎসা-পরিষেবা-প্রদানকারী সংস্থার কোন হেলদোল নেই। এর পরিবর্তন প্রয়োজন। সেটা সম্ভব হবে যদি আপনি আপনার অধিকারবোধ সম্বন্ধে সচেতন থাকেন।

    অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট ও অগোছালো শব্দে ভরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

    প্রথমে দেখা যাক, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনে কী কী তথ্য থাকা জরুরি। রুগীর নাম, বয়স, ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকবে। ডাক্তারের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ফ্যাক্স নম্বর, ই-মেল আইডি আর অনুমোদিত শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ থাকা দরকার। রুগীর কষ্টের বিবরণ এবং চিকিৎসকের পরীক্ষালব্ধ তথ্য দিয়ে প্রেসক্রিপশনের পাতা না ভরিয়ে সেই স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য অন্যত্র লিপিবদ্ধ করলে ভালো হয়। বরং চিকিৎসক যে প্রমাণিত বা অনুমিত রোগের ওষুধের নিদান দিচ্ছেন সেই রোগের নাম প্রেসক্রিপশনে থাকা বাঞ্ছনীয়। এইখানে অনেক চিকিৎসকে অসুবিধায় পড়তে হয়, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকদের অনুমানের ভিত্তিতে ওষুধ দিতে হয়। সেই সব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রোগের নাম লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন যাতে করে ঐ একই অথবা অন্য কোন চিকিৎসক পরবর্তী কোনও সময় আগেকার রোগের চিকিৎসার বিবরণ অনুধাবন করতে পারেন। উচ্চ-রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি নিরাময়ের অযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে পূর্বতন চিকিৎসার তথ্য জরুরি। আবার রিউম্যাটিক ফিবার, টাইফয়েড, আন্ত্রিক রোগের মতো বেশ কিছু রোগ কখনও কখনও দীর্ঘ সময় পরে অন্যরূপে প্রকাশিত হয়ে থাকে। সেই সব ক্ষেত্রেও আগেকার রোগের সুস্পষ্ট ও পুর্ণাঙ্গ বিবরণ মূল্যবান। উন্নত দেশগুলিতে সঠিক ভাবেই রুগীর হাতে ওষুধের ফর্দ দিয়ে রোগের বিবরণ অন্যত্র লিপিবদ্ধ করার প্রচলন আছে। আমাদের দেশে যেহেতু নির্ভরযোগ্যভাবে চিকিৎসা বিষয়ক নথি সংরক্ষণের উপায় ও সেই নথি প্রয়োজনমতো পুনরুদ্ধারের উপায় নেই, তাই চিকিৎসা বিষয়ক সম্পূর্ণ নথি সংরক্ষণের দায় রুগীকেই নিতে হয়। চিকিৎসকের দায়িত্ব হোল পড়ে বোঝা যায় এমনভাবে তথ্যসমূহ লিখে রুগীর হাতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দিয়ে দেওয়া। খুব ভালো হয় যদি প্রেসক্রিপশনের দুটো অংশ থাকে। এক অংশে থাকবে তারিখ আর সুস্পষ্ট, পাঠযোগ্য, পূর্ণাঙ্গ রোগের সুসংবদ্ধ বিবরণ (কেবল রুগীর কষ্টের তালিকা নয়) ও তৎসম্পর্কিত পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল। অপর অংশে থাকবে ওষুধের নাম, পরিমাণ ও প্রয়োগবিধি। পরের অংশটি রুগীর মাতৃভাষায় সাংকেতিক চিহ্ন পরিহার করে লেখা উচিত। প্রথম অংশটি গোপনীয় ও ব্যক্তিগত, ওষুধের দোকানে দেখানো বাধ্যতামূলক নয়।

    এ তো গেলও ছোটোখাটো ডাক্তারের চেম্বারের বা হাসপাতালের বহির্বিভাগের কথা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রুগীর ক্ষেত্রে আমরা ধরে নেবো সমস্যা গুরুতর ও চিকিৎসক যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন রোগনির্ণয়ের জন্য। হাসপাতাল থেকে রুগী ছাড়া পান দু’ভাবে। হয় মারা যান অথবা সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরেন। হাসপাতাল প্রথম ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট ও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে“ডিসচার্জ সামারি” প্রদান করে। ডিসচার্জ সামারি প্রায়শই হাসপাতালের বিল, ওষুধের বিল, হরেক রকমের চিকিৎসাসংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষার নথির ভিড়ে হারিয়ে যায় অথবা চিকিৎসা বিমার দপ্তরে জমা পড়ে যায়। ডিসচার্জ সামারি এমনই একটা গুরুতপুর্ন নথি যেটা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পর বহুদিন পর্যন্ত কাজে লাগে। সঠিকভাবে প্রস্তুত ডিসচার্জ সামারিতে রুগীর নাম, বয়স, ঠিকানা ইত্যাদির সঙ্গে ভর্তির ও ছুটি হবার তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকে। ছুটি হবার সময় অন্তিমভাবে নির্ণীত রোগের চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষা সম্মত নাম বা নামসমূহের (আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোড সহ) উল্লেখ থাকে। আরও থাকে ভর্তির সময় রোগীর রোগলক্ষণ ও ভর্তি হবার কারণ। হাসপাতালে ভর্তি হবার উপযুক্ত কারণ লেখা থাকাটা জরুরি, কারণ যে কোন রোগলক্ষণই হাসপাতালে ভর্তির কারণ হতে পারে না। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তারিখ সহ বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল লেখা থাকবে। ডিসচার্জ সামারির সবথেকে অবহেলিত অংশ হল ভর্তি থাকা অবস্থায় চিকিৎসার সংক্ষেপিত বিবরণ। উহাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক, আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসা পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করা কেন জরুরি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসার অংশ হিসাবে হৃদ-ধমনির মধ্যে জমাট বাঁধা রক্ত সাফ করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ কিছু ওষুধ (থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি) প্রয়োগ করা বা না করার উপর আপতকালীন চিকিৎসার পরবর্তী সময়ে রুগীর হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বহুলাংশে নির্ভর করে। আবার হৃদপিণ্ডের নিজস্ব স্পন্দন ক্ষমতা হ্রাস পেলে মাঝেমধ্যে ব্যাটারিচালিত ইলেক্ট্রনিক পেসমেকার প্রতিস্থাপন করতে হয়। প্রতিস্থাপিত পেসমেকারের ব্যাটারির আয়ু ও সফলভাবে কাজ করার ক্ষমতা নির্ভর করে পেসমেকারের ধরন, মডেল ও প্রতিস্থাপনের সময়ে পরিলক্ষিত হৃদপেশির সংবেদনশীলতা, ইলেকট্রিকাল সার্কিটের রেজিস্ট্যান্স ইত্যাদির উপর। এই তথ্যগুলো রুগীর কাছে সেই মুহূর্তে দুর্বোধ্য ও অপ্রয়োজনীয় ঠেকলেও ডিসচার্জ সামারিতে ভর্তি থাকা অবস্থায় চিকিৎসার সংক্ষেপিত বিবরণ আছে কিনা দেখে নেওয়া উচিত। ডিসচার্জ সামারিতে নিদান হিসাবে ওষুধের উল্লেখ থাকে, যেটা রুগীকে বাড়ি আসার পরে প্রয়োগ করতে হয়। এই নিদানে ওষুধের নাম, মাত্রা, প্রয়োগবিধি, চিকিৎসার স্থায়িত্বকাল ও পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট ভাষায় লেখা থাকতে হবে।

    চিকিৎসকদের সাংকেতিক ভাষাঃ

    আচ্ছা বলুন তো, hs, tdac, q6h, stat, TCA ইত্যাদি সাংকেতিক শব্দগুলোর সঙ্গে আপনার পরিচয় আছে? এর মধ্যে প্রথম চারটি ইংরেজদের ছেড়ে যাওয়া অজস্র অবাঞ্ছিত কুঅভ্যাসে ব্যবহৃত সাংকেতিক শব্দ। এগুলো সব লাতিন শব্দের সংক্ষেপ। নেটিভ ভারতবাসীদের ডাক্তারি শেখানোর সময় তাদের নিজেদের সহজবোধ্য তথ্য আদানপ্রদানের পদ্ধতিগুলো তাঁরা ব্যবহার করতো। স্বাধীন ভারতের নাগরিক ডাক্তাররা তাদের নিজেদের বুদ্ধিকে মগডালে তুলে রেখে ঐ সাংকেতিক শব্দগুলো ব্যবহারের মোহগুলো ছাড়তে পারেনি। পঞ্চম সাঙ্কেতিক শব্দও TCA অবশ্য দেশী সাহেবদের তৈরি, যার অর্থ “To Come After”, মানে এখানে রুগীকে কতদিন পরে ঐ ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হতে হবে সেই ব্যপারে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই সব সাংকেতিক শব্দগুলো চিকিৎসকের নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের ভাষা হলে আপত্তি ছিলোনা, কিন্তু প্রেসক্রিপশন যখন চিকিৎসকের দীর্ঘ খাটাখাটুনি ও চিন্তার এবং রুগীর কষ্টকর অপেক্ষা আর অর্থব্যয়ের ফসল, সেটার জন্য আর একটু যত্নবান হওয়া দরকার নয় কী?

    প্রেসক্রিপশনে সংক্ষেপিত শব্দ পরিহার করাই উচিতঃ

    একই ছাদের নীচে দু’জন ভিন্ন শাখার চিকিৎসক অবস্থান করলেও, বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের পরিষেবার প্রয়োজন আছে এমন রুগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদানের প্রথা আমলাতান্ত্রিক দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ ভরসা সেই প্রেসক্রিপশন। যদি কোন রুগীর চোখের অসুখের সঙ্গে হৃদরোগও থাকে, চক্ষুবিশারদ অপারেশনের আগে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের জন্য প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলেন সাংকেতিক ভাষা - “IOL (LE)” যেটা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বুঝলেন না, রুগীকে জিজ্ঞেস করে অনুমান করলেন চক্ষুবিশারদ বাম চোখের ছানি অপারেশন করতে চান। এবার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ খসখস করে তার লেখা প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলেন - “CAD, TVD, Recent ACS, LVEF 32%, CKD, ↓Na, ↑K, High risk case”। এর অর্থ চক্ষুবিশারদ না বুঝলে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। কিন্তু যদি লেখা হত, Coronary Artery Disease, Triple vessel disease, Recent Acute Corory Syndrome, Cardiac Failure with Left Ventricular Ejection Fraction of 32%, Chronic Kidney disease, Low Serum Sodium, High Serum Potassium এবং অপারেশনের ক্ষেত্রে এটি একটি High Risk Patient” তবে সেটা তার বুঝতে সুবিধা হোত। বিভিন্ন শাখার ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে তাল রাখা কোন একটি শাখার বিশেষজ্ঞের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকদের নিগের পেশার গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগের সময়েও সংক্ষেপ পরিহারযোগ্য।

    প্রেসক্রিপশনের অপ্রয়োজনীয় অংশঃ

    যদিও হাস্যকর, অল্প হলেও কোন কোন প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকদের উল্লেখ করতে দেখা যায়, ‘Complimentary’, ‘Not valid for medico-legal purpose’, ‘Don’t substitute’ এই সব অলঙ্করণ। এই উক্তিগুলো কোন উদ্দেশে লেখা হয়ে থাকে? ‘Complimentary’ বলতে মহানুভব চিকিৎসক এটা স্পষ্ট করে বিজ্ঞাপিত করতে চান, তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পরিষেবা প্রদান করেছেন। এই বিজ্ঞাপনটা কেন প্রেসক্রিপশনে লিখতে হবে সেটা বোঝা মুস্কিল। ইনকাম ট্যাক্স বিভাগ এই বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয় না। তেমনই কুচিকিৎসা বিষয়ে বিচারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ‘Not valid for medico-legal purpose’ এর বর্ম কে তোয়াক্কা করে না। অনেক সময়ে চিকিৎসক চাইছেন, তার উল্লেখিত ওষুধের বিকল্প ওষুধ যেন প্রয়োগ না করা হয়। সেই উদ্দেশে ‘Don’t substitute’ এর হুমকি। এটা হয়তো অনেক ক্ষেত্রে কাম্য বলে বিতর্ক করা যেতে পারে। যদিও সরকারি আশ্রয়, উদ্যোগ ও মদতপুষ্ট ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানগুলিতে ( অন্যগুলোকে অন্যায্য বলে দেগে দেওয়াও অন্যায্য মনে করা যেতে পারে) এই ইচ্ছের কতটা মর্যাদা দেওয়া হয় তাতে সংশয় আছে। এছাড়া কখনও কখনও প্রেসক্রিপশনে দেখা যায় চিকিৎসকের নিজস্ব বিশ্বাস ও রুচি অনুযায়ী দেবদেবীদের নাম ও তৎসম্পর্কিত ধর্মীয় চিহ্নের ব্যবহার। যেমন “আমি চিকিৎসা করি, ভগবান রোগ সারান” এই ধরনের প্রবচনের মাধ্যমে চিকিৎসক ডিস্ক্লেমার দিচ্ছেন রোগ সেরে গেলে চিকিৎসকের কৃতিত্ব, অন্যথায় ভগবানের অভিশাপ। চিকিৎসকদের এই ধরনের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশের জন্য প্রেসক্রিপশনকে ছাড় দিয়ে অন্য কিছু ভাবা যায় না? চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষায় এর অনুমোদন নেই।

    ডাক্তারদের প্রিয় কিছু সাংকেতিক ভাষার প্রতিশব্দঃ

    ওষুধের প্রয়োগবিধি সংকেতে লেখার সময়ে ঐতিহাসিক কারণে লাতিন শব্দের ( যেমনটি প্রাণীদের বৈজ্ঞানিক নামের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে) সংকেত লেখা হয়ে এসেছে। এটা না জানা থাকলে কেউ যদি মনে করেন যে, OD মানে Over Dose , BD মানে Behavioural Disporder আর TDAC মানে Therapeutic Discovery Credit Act (established under section 48D 2010) তবে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। দিনে এক বারের ব্যবহারের নির্দেশের আবার দু’রকম সংক্ষেপ লেখার চল আছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় সংক্ষেপটি হোল ‘od’ ( লাতিন, omne die) যেটার অর্থ কিন্তু ডান চোখের ওষুধ ( লাতিন occulus dexter) ও হতে পারে। দিনে এক বারের ব্যবহারের দ্বিতীয় সংক্ষেপটি হোল ‘qd’ ( লাতিন quaque die, daily বা ‘every day’) লিখলে ভুল করে কেউ qid দিনে চারবার (লাতিন quarter in die) মনে করতে পারেন। অতি ব্যস্ত ডাক্তারের প্যাঁচানো হাতের লেখায় ‘q’ আর ‘o’ পার্থক্য করা দুষ্কর হতেই পারে।

    ডাক্তারদের ব্যবহৃত গুটিকয়েক সংকেতঃ

    od - omne die - দিনে একবার

    od - oculus dexter - ডান চোখে প্রয়োগের জন্য

    os - oculus sisnister - বাম চোখে প্রয়োগের জন্য

    bid - bis in die / bis in summendus - দিনে দু’বার

    tds - ter die summemdus - দিনে তিন বার

    qd - quaque die - প্রতি দিনের জন্য

    qid - quarter in die - দিনে চার বার

    ac - anti cibum - খাবার আগে

    pc - post cibum - খাবার পরে

    hs - hora somni - রাতে শোবার আগে

    prn - pro re nata - আগে বুঝিয়ে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ সংকটকালে ব্যাবহারের জন্য

    sos - এটি prn সংকেতের বদলে প্রথাবহির্ভূত ভাবে ঐ একই কারণে ব্যবহার হয়

    cm - cras mane - পরদিন সকালে

    po - per os - মুখে খাবার ওষুধ

    q3h - quaque 3 hora - প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর

    stat - statim - এখনই প্রয়োগ করতে হবে

    ক্ষুদ্রকায় দশমিক ও অন্যান্য বিভ্রাটঃ

    সুস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন লেখার জন্য ওষুধের মাত্রা লেখার সময় কতকগুলি বিধি পালন করা উচিতঃ-

    ১) দশমিকের পরে অবাঞ্ছিত শূন্য বর্জনীয়। ৫.০ মিলিলিটারকে ভুল করে ৫০ মনে হতে পারে।

    ২) একক মাত্রার চেয়ে কম হলে, অর্থাৎ কেবল দশমিকের পরে সংখ্যা থাকলে দশমিকের আগে শূন্যের ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। নতুবা ‘.৫' কে ভুল করে ‘৫’ মনে হতে পারে।

    ৩) দশমিকের পরের সংখ্যার শেষে অতিরিক্ত শূন্য বাদ বর্জনীয়। ০.৫০ এর চেয়ে ০.৫ বেশি স্পষ্ট। না হলে ০.৫০ কে সঠিক ভাবে কেউ ০.৫ না ভাবতেও পারেন।

    ৪) তরল ওষুধের মাত্রা ‘cc‘ বা ‘cm3’ না লিখে ‘mL’ লেখা ভাল। কারণ প্রেসক্রিপশন অঙ্কের বাহাদুরি দেখানোর জায়গা নয়। ‘cc‘ এই সাংকেতিক চিহ্নটি আবার খাবার সাথে গ্রহন করুন (tahe with meals, লাতিন ‘cum cibo’ ) ভাবা যেতে পারে।

    ৫) যেখানে সম্ভব, দিনে তিন বার উল্লেখ করার চেয়ে, সময় উল্লেখ করে ( 6 am, 2 pm, 10 pm) ও খাবার আগে অথবা পরে উল্লেখ করা ভালো অভ্যেস।

    ৬) তরল ওষুধের ক্ষেত্রে, চা চামচের মাত্রার এককের বদলে মিলিলিটার ব্যবহার করলে চামচের মাপের বিভ্রান্তি এড়ানো যাবে কারণ, সব চা চামচ এর মাপের একরকম হবে না সেটা অনুমেয়। অর্থাৎ “ এক চা চামচের” বদলে ৫ মিলিলিটার উল্লেখ করা সুবিধাজনক।

    ৭) নির্দেশিকার ওষুধের মাত্রার রাশির সংখ্যার পাশাপাশি সেটা কথায় লিখে দিলে ভুলভ্রান্তি এড়ানো যাবে, যেমনটি ব্যাংকের চেকে আমরা লিখতে অভ্যস্ত।

    8) লুপ্তপ্রায় ‘apothecary’ মাত্রার একক এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে। আগের জমানার ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে ডাক্তাররা তরলের মাপ হিসেবে ‘০’ লিখে অনাবিল আনন্দ পেতেন। এটার অর্থ পাঁইট (pint)। তরল মাপকের ক্ষেত্রে পাঁইটের মাপ নিয়ে ব্রিটেন আর আমেরিকার মধ্যে মতপার্থক্য আছে; এক পাঁইট ব্রিটেনে ০.৫৬৮ লিটার আর আমেরিকায় ০.৪৭৩ লিটার বলে স্বীকৃত)। তা এই পাঁইট কে সাংকেতিক চিহ্নে মহাশূন্য বলে মনে হতে পারে। এমনি গ্রেন (grain, ৬৪.৭৯৮৯১ মিলিগ্রাম, সংকেত ‘gr’ ) কে গ্রাম (gram) এবং ‘dram’ (ড্রাম, এক আউন্সের ষোলো ভাগ্যের এক ভাগ, সংকেত ‘ℨ’ বা ‘dr’ ) কে তিন (৩) মনে হলে আশ্চর্য হওয়া অনুচিত। তেমনই মিনিমস (‘minims’, এক ফোটা বা এক ড্রামের ছয় ভাগের এক ভাগ, সংকেত ‘min’ বা ‘m’) কে মাইক্রোগ্রাম (microgram) বলে মনে করলেও দোষ দেওয়া যাবে না। পুরানো বিভ্রান্তিকর একক ছেড়ে সর্বজনগ্রাহ্য মেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহাত শ্রেয়।

    ৯) ডিগ্রির সাংকেতিক চিহ্ন হিসাবে ‘ ০’ -র ব্যবহার আর এক বিভ্রান্তির কারণ। প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রির সংকেত চিহ্ন সাধারণতঃ জন্য প্রাক্তন চিকিৎসকগন ঘণ্টা বোঝাতে ব্যবহার করতেন। যেমন q2-4০ মানে প্রতি দুই থেকে চার ঘণ্টা অন্তর ওষুধ ব্যবহার করার নির্দেশ। তা এই ডিগ্রির সংকেত চিহ্নটিকে ভুল করে শূন্য মনে হওয়াটা খুব একটা দোষের নয়। এই সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহারের সময়ে রুগীর তীক্ষ্ণ চোখের দৃষ্টি ও প্রখর মনোযোগ আছে এটা ধরে নিতে হয়। এটা বড়ো অন্যায় আবদার।

    সুখপাঠ্য লেখার সাধারণ নিয়মঃ

    অপরিকল্পিত ভাবে পাতা ভরা লেখার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আহরণ করা সময়সাধ্য ও চোখের পক্ষে ক্লান্তিকর। তথ্য লিপিবদ্ধ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, কাগজের কোথায় কী লিখতে হবে। এর জন্য প্রথমে কিছুটা পরিকল্পনা মাফিক অনুশীলন করলে ক্রমে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। শব্দগুলোর প্রতিটি অক্ষরকে সমমর্যাদা দিয়ে শব্দের শেষের অক্ষরগুলোও সমান মাপে (ফন্ট) লিখতে পারা চাই। আরও কিছু লেখা বাকি থাকলে প্রেসক্রিপশনের তলার দিকে সব তথ্যকে ঠাঁই দেবার জন্য শেষের দিকে অক্ষরের মাপগুলো ছোট হয়ে যায় অথবা পৃষ্ঠার উপরে অথবা ডান / বাম মার্জিনে লেখার ইচ্ছে হয় অনেক ডাক্তারদের। এই অভ্যাস পাল্টানো দরকার। মনে রাখা জরুরি, প্রেসক্রিপশন একাধিক পাঠককে পড়ে রোগ নিরাময় নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভাগীদার হতে হবে।

    আরও অস্পষ্টতা আছে!

    অনেক রুগী কিছু ওষুধ ব্যবহার করা কালীন চিকিৎসকের কাছে আসেন পরামর্শ নেবার জন্য। তাদের স্পষ্ট করে লিখে ও বলে দেওয়া দরকার আগেকার ওষুধগুলো চালু থাকবে কি না। অনেকে চিকিৎসক এই অস্পষ্টতা স্পষ্ট করার উদ্যোগ নিতে উৎসাহী হন না। এছাড়া খেয়াল করবেন, কাছাকাছি নামের একাধিক ওষুধ পাওয়া যায়। তাদের প্রয়োগের ক্ষেত্রও এবং শরীরের উপরে ক্রিয়া ভিন্ন। তাড়াহুড়ো করে লেখা অস্পষ্ট ও পাঠের অযোগ্য প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেবার সময় ওষুধ বিক্রেতার ভুল হলে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। যেমন ধরুন, হৃদরোগের দুটো ওষুধ, ‘আইসোপ্টিন’ ও ‘আইসোপ্রিন’ - এর প্রথমটায় হৃদস্পন্দনের হার কমে আর দ্বিতীয়টায় হৃদস্পন্দনের হার বাড়ে। আপনার হয়তো হৃদস্পন্দনের হার কমানো দরকার। চিকিৎসকের হাতে লেখার ‘আইসোপ্টিন’ - কে ‘আইসোপ্রিন’ ভেবে ওষুধ বিক্রেতা ওষুধ দিলে বড়ো ক্ষতির সম্ভাবনা। ওষুধের নাম হাতে লিখে দিলে প্যাঁচানো হরফের বদলে বড় হাতের হরফেই হওয়া উচিত।

    যে ওষুধ প্রয়োগবিধি হিসাবে prn বা sos লেখা থাকে, অর্থাৎ চিকিৎসক চাইছেন কোন বিশেষ আপতকালীন ক্ষেত্রে ওষুধটি ব্যবহৃত হোক, সে ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হওয়া প্রয়োজন, ওষুধটি ঠিক কোন ক্ষেত্রে, কত মাত্রায়, কতবার ও কতসময় ধরে ব্যবহার করতে হবে।

    আমাদের শৈশবে দেখেছি ডাক্তারবাবুরা রুগী দেখে ওষুধের পুরিয়া, মলম অথবা শিশিতে কাগজের নিশানা দিয়ে হাল্কা লাল রঙের মিক্সচার দিতেন। তিনি আলাদা করে প্রেসক্রিপশন দিতেন না আর ওষুধের দোকানেও যেতে হত না। ডাক্তারবাবুদের এখন আর মলম আর মিক্সচার বানানোর মতন অল্প পারদর্শিতার কাজ করতে হয় না। একবিংশ শতাব্দীর চিকিৎসকের জ্ঞান, বুদ্ধি আর পরিশ্রমের ফসল কেবল একফালি কাগজ। সেই কাগজটি শক্তিশালী, নিখুঁত ও কার্যকারী হওয়া চাই।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৪ জুন ২০১৬ | ২০৫৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Gautam Mistri | 123.21.70.13 (*) | ০৪ জুন ২০১৬ ০৭:৫৪54964
  • এই নিবন্ধটি পূর্বে উৎস মানুষ পত্রিকায় প্রকাশিত
  • avi | 113.24.86.13 (*) | ০৪ জুন ২০১৬ ০৮:১৪54965
  • বেশ ভালো লাগলো।
    ডাক্তারদের এই বাজে হাতের লেখার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়াটা ভীষণ বিরক্তিকর। নিতান্ত অপাঠ্য হস্তাক্ষর হলে ওষুধের নাম ক্যাপিটালে অন্তত তো লেখাই যায়।
  • Ekak | 53.224.129.44 (*) | ০৪ জুন ২০১৬ ০৮:৩২54966
  • ইচ্ছাকৃত অপাঠ্য হাতের লেখা ,প্রেসক্রিপশন না বোঝানো এগুলো পশ্চিমবঙ্গে বেশি । এখানে যতজন কে দেখিয়েছি আইদার প্রিন্ট আউট নইলে পরিস্কার করে লিখে এবং বুঝিয়ে দেন কোন ওষুধ কেন দিলেন । সেন্ট জনস এ হার্ট এর ডাক্তার , নিম্হ্যানস এ , রিসেন্টলি এপোলো তে সব জায়গায় । এমনকি অনেক সময় প্রশ্নোত্তর চলতে চলতে আন্ডারলাইন করে বলেছেন এটা গুগল করে দেখে নেবেন ,অল ইনফরমেশনস এভেইলেবল :)

    একজন ডাক্তারের যা রোজগার তাতে একটা ট্যাব , একটা মিনি প্রিন্টার এফর্দ করা কোনো ব্যাপার নাকি । হাতের লেখা খারাপ হলে ছাপিয়ে দিন । একচুয়ালি হাতের লেখা নয় , কেয়ার সীকারের থেকে ইনফরমেশন হাইড করার উদ্দেশ্যে ওরকম জড়িয়ে মরিয়ে লেখেন অনেকে । ওটাই ওই ব্যবসার ইউএস্পি ।
  • Ekak | 53.224.129.44 (*) | ০৪ জুন ২০১৬ ০৮:৪৫54967
  • সরকার একবার নিয়ম করে দিক যে প্রেসক্রিপশন ড্রাগের ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টরা ইয়ার এন্ড স্টক অডিট এ প্রেসক্রিপশন কপি জমা দিতে বাধ্য আর সেটা কম্পিউটার প্রিন্টেড হতে হবে গিভেন ফরম্যাটে যাতে ওসিয়ার রীড করতে পারে । ব্যাস , মাঝের চ্যানেলে বাঁশ দিলেই কোনো ওষুধের দোকান আর হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন গ্রাহ্য করবে না । ডাক্তার দের মাথায় হাত পরে যাবে । কিন্তু এরকম নিয়ম কোনদিন হবেনা , ঘুঘুর বাসায় কে আর হাত দেয় ।

    আরেকটা ব্যাপার , প্রেসক্রিপশনে কেয়ার সীকারের সিগনেচার নেওয়া হয়না কেনো ? এটা তো টু পার্টি সার্ভিস কন্ট্রাক্ট । নেওয়া উচিত ।
  • Arpan | 24.195.227.244 (*) | ০৪ জুন ২০১৬ ০৮:৫৬54968
  • একদম। পাঁচশো টাকা যিনি চার্জ করেন তিনি একটা প্রিন্ট আউট দেবার ক্ষমতা রাখেন না?
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ০২:৫০54969
  • গৌতম বাবুর লেখা টি সুখপাঠ্য। কিন্তু কিছু প্রশ্ন রয়ে গেল।ইউ কে; তে এন হেইচ এস এও হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ সামারি প্রাথমিক ভাবে হাতে লেখা হয়ে থাকে। পরে জিপি কে প্রিন্টেড কপি পাঠানো হয়।
    ওই হাতের লেখা ডিসচার্জ সামারি নিয়ে পেশেন্ট ফার্মাসিস্টের কাছে ঔষধ নিতে যান।ওখানে পেশেন্ট এর রোগ ও তার বিবরণ আর ঔষধের নাম লেখা থাকে।সুতরাং প্রাইভেসি ব্যাপার টি মেন্তেন্দ হচ্ছে না।তাহলে আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ফার্মাসিস্টের কাছে নিয়ে গেলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
    দ্বিতীয়ত আমাদের দেশে প্রাইভেট চেম্বার এ রোগী- ডাক্তারের সাক্ষাতকার, রোগীর চয়েস এর ওপর নির্ভর করছে।
    অর্থাত রোগী মাত্র এক বার ডাক্তারের কাছে এসেই ক্ষান্ত হতে পারে। এমত অবস্থায় প্রেসক্রিপশনে রোগীর রোগের বিবরণ না লিপিবদ্ধ করলে; প্পরবর্তী ডাক্তার বুঝবে কি করে কি হয়েছিল?
    বিদেশে রোগীকে কিন্তু একই জিপির কাছে বার বার যেতে হয়।অর্থাত রোগী অংশত বাধ্য ওই জিপির কাছে যেতে । তাই জিপি সমস্ত রেকর্ড নিজের কম্পুতে রেকর্ড করে রাখতে পারে।
    আর একটি কথা হলো, প্রেসক্রিপশন কি আদৌ কোর্টে কোনো রকম আইদেন্টিটি হিসেবে গ্রাঝ্য হয়? এখানে রোগী এসে যদি মিথ্যে এডড্রেস ও নাম বলে; ডাক্তার কি তার ভোটার কার্ড শো করতে দাবি জানাবে?
  • Gautam Mistri | 123.21.68.4 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ০৫:০৪54970
  • রুগী আইডেন্টিটি প্রমাণ করে নেবার প্রক্রিয়া আংশিক ভাবে শুরু হয়েছে। দরিদ্রসীমার নীচের রুগীদের অপারেশন জন্যে কেন্দ্রিয় আর্থিক সুবিধার প্রকল্পের জন্য ফটো আইডি কার্ড বাধ্যতা মূলক। যাতে ঐ পরিষেবা সে অন্যকে বিক্রি করতে পারে।
    প্রেসক্রিপশনে উপভোক্তার সাক্ষর থাকাটাও দরকার।

    আমেরিকায় চিকিৎসাধীন এক রুগীর রক্ত পরীক্ষার ফল আগের চিকিৎসক সরাসরি আমাকে ই-মেইলে পাঠিয়েছেন। আমার মেইল আইডি রুগী ওনাকে দিয়ে এসেছিলেন।

    রক্ত ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফল সরাসরি রুগীকে দিলে এক ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এই বিষয়ে আলোচনা সযত্নে এড়িয়ে গেছি। তেমন একজন রুগী অস্বাভাবিক পি এস এ রিপোর্ট নিয়ে চেন্নাই হায়দরাবাদ করে এখন মানসিক রোগগ্রস্ত। প্রস্টেটের কোন সমস্যা নেই।
  • emoticon | 11.39.56.83 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ০৫:১২54971
  • বিষয়টা বরাবরই প্রাসঙ্গিক। ছিল ও আছে। অদূর ভবিষ্যতে থাকবেও হয়তো। বিশ্লেষণ নিয়েও বলার ধৃষ্টতা নেই। শুধু ডাগদার বাবুর বাংলাটা আমার একটু দাঁত কিড়মিড়ে মতন লাগে। মানে সামগ্রিক গঠনশৈলীর নিরিখে ভাষার প্রয়োগটা। কেরম য্যানো ঘেঁটি ধরে টেক্সট বুক পড়ানো হচ্ছে মনে হয়।
  • dc | 132.164.111.1 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ০৫:৪১54972
  • লেখাটা খুব ভালো আর প্রয়োজনীয়। তবে একক যেটা লিখলেন সেটাই আমিও লিখতে যাচ্ছিলাম, যে অনেক সময়ে আজকাল কম্পিউটার প্রিন্টেড প্রেসক্রিপশান দেখি (যেমন অ্যাপোলোতে)। তাছাড়াও আমি কোন ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি যে প্রেসক্রিপশান দেন সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লাইন বাই লাইন জেনে নি যতক্ষন না পুরোটা আমার কাছে ক্লিয়ার হচ্ছে। ওষুধের ডোজ, সেটা খাবার আগে না পরে, আর কতোদিন খেতে হবে এগুলো নিয়ম করে জেনে নি।

    ইন জেনারাল আমার মনে হয়েছে কলকাতার চিকিৎসকরা একটু বেশী রুক্ষ মেজাজের বা অভদ্র হন, দক্ষিন ভারতের চিকিৎসকরা একটু বেশী ভদ্র হন বা রুগীকে একটু বেশী ইনফর্মেশান দেন (রোগটা কি, কেন হয়েছে, কিভাবে সারবে ইত্যাদি)। অবশ্যই দুদিকেই এর এক্সেপশান আছেন, তবে অন অ্যাভারেজ এটাই দেখেছি।
  • emoticon | 11.39.38.245 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:০৩54973
  • প্রিন্টেড প্রেস্ক্রিপশন কোলকাতার ছোট বড় নার্সিং হোম গুলো তো এখন সকলেই দেয়। তাতে ডায়াগ্নোসিস ম্যানেজমেন্ট সবটাই বিল সামারির সাথে এটাচড থাকে। তবে ডাক্তারের নিজস্ব ক্লিনিকে মানে চেম্বারে এটা এখনও তেমন চালু হয়নি। তুলনাটা ছেঁদো মনে হতে পারে, তবে চিকিতসাব্যাবস্থা সামগ্রিকভাবে প্রথম বিশ্বের মতো না হলে স্বচ্ছতা আসবে না বলেই বিশ্বাস।
    কিন্তু সরকার এদেশে 'নিয়ম' করে কিছু করবে বলে মনে হয়না। হলে জেনেরিক নেম টাই বাধ্যতামূলক করা যেতে পারত এদ্দিনে।
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:২৪54974
  • গৌতম বাবু প্রশ্ন টা সেখানেই। ডাক্তার কেন পেশেন্ট এর আই ডি নিয়ে মাথা ঘামাবে? পেশেন্ট এর আই ডি মানে কি?
    কোনো নেশনাল কোড নাম্বার না ভোটার, আধার ইত্যাদি। যার নেই, তার কি চিকিত্স্যা হবে না?
    তবে হ্যা পেশেন্ট এর হস্তাক্ষর নেওয়া যেতেই পারে। তবে তাতে দুটো কপি করে; একটা ডাক্তার আর একটা পেশেন্ট এর কাছে থাকতে হবে।
    আর পেশেন্ট কে তার টেস্ট এর রেসাল্ট জানানোই বর্তমান মেডিকেল এথিক্স এর দস্তুর। তাতে কারো মাথা খারাপ হলেও, সেটাই করা উচিত। কারণ রোগ সম্মন্ধে ডিটেল জানার অধিকার একমাত্র পেশেন্ট এর।না জানানো টাই নিয়মের পরিপন্থী।
    ডাক্তারের উচিত ইনভেস্টিগেশন এর রেসাল্ট ও পেশেন্ট এর রোগ সম্মন্ধে তাকেই খুলে বলা।হ্যা, ক্যান্সার এর রুগীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
    ট্রিট মেন্ট সম্মন্ধেও ডাক্তার কে নিরপেক্ষ হতে হবে। যেমন ধরুন এঞ্জিও করলে কি প্রগনসিস; আর না করিয়ে শুধু ওষুধ খেলেই বা কি ডিফারেন্স হবে।
    এগুলো সব বাস্তবে সম্ভব; যখন প্রত্যেক পেশেন্ট একটি হেলথ ইন্সুরানস কভারে থাকবে।ডাক্তার তার প্রেসক্রিপশন টি লিখে দেবে, আর ইন্সুরেন্স কোম্পানি রেকর্ড মেন্টেন করবে।
  • emoticon | 11.39.38.245 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:৩৬54975
  • তবে ডাগদার দের সাপেক্ষে ও স্বপক্ষে বলি - একটা জেলা হাস্পাতালের আউটডোরে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ানকে দিনে শ'তিনেক রুগি দেখতে হয়। সময়সীমা বরাদ্দ। হিসেব করলে রুগি প্রতি দেড় মিনিটেরও কম। তার মধ্যেই হিস্ট্রি শোনা ও লেখা সহ, ওষুধ লেখা ও বোঝানো, তায় সংকেত ব্যবহার না করে, বিস্তারে, কতটা প্র‍্যাক্টিকালি সম্ভব আমার জানা নেই। এটা সম্ভব তখনি হতে পারে যখন হিস্ট্রি ও একজামিনেশনের কাগজ, ক্লিনিকাল বা ল্যাব, বা দুইই, কন্সাইজলি লিখে ডাক্তারের কাছে আনা হবে, ডাক্তার চোখ বোলাবেন ও কেবল প্রয়োজনীয় ক্লিনিকাল এগজামিনেশানটুকু করে সংকেতেই ওষুধ লিখে ফারমাসিস্ট ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কাছে পাঠাবেন। সেই কাগজ কনভেয়েড হবে রুগির কাছে। এই পুরো সিস্টেমটা চালাতে গেলে অন্তত, আউটডোর প্রতি দুজন হাউস ফিজিশিয়ান, একজন সিনিয়ার ডাক্তার, দুজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন কম্পিউটার অপারেটার লাগবে। কিন্তু, এজ্ঞে, হেহে, সরকারি তহবিল থেকে এত লোক পুষে
  • emoticon | 11.39.38.245 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:৩৭54976
  • ... মাইনে দেওয়ার চেয়ে, পুরোনো পন্থায় চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজতর।
  • emoticon | 11.39.38.245 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:৩৭54977
  • ... মাইনে দেওয়ার চেয়ে, পুরোনো পন্থায় চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজতর।
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১০:৪৪54978
  • ইমোটিকন কে "ক"।সেই জন্যই বললাম সব পেশেন্ট এর জন্যই একটি ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কভার থাকা বাধ্যতামূলক।ওনাদের ফর্ম এই ডাক্তার ঔষধ ও এক্জাম ফাইন্ডিং লিখে দেবেন।রেকর্ড মেন্টেন এর দ্বায়িত্ব কোম্পানির।
  • emoticon | 11.39.39.65 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১১:০৬54979
  • পোড়া দেশে চিকিৎসাসাম্য ব্যাপারটাই গোলমেলে। একই পেডিয়াট্রিশিয়ান, সকালে সদর হাস্পাতালে বসে রুগি দেখছেন, সে রুগির বাপ মা পাচ্ছে হিজিবিজি হাতের লেখায় দায়সারা কাগজ, বিকেলে তিনিই নামী নার্সিং হোমের আউটডোরে, এবং অন্য বাপ মা পাঁচশ আটশ বারোশ মূল্যে কিনে নিচ্ছে ঝরঝরে প্রিন্টেড প্রেস্ক্রিপশন - সুতরাং যদ্দিন না সরকারি বেসরকারির এই প্রাথমিক বিরোধে একটা একতা আনা যাবে, ততদিন এই উভয়পাক্ষিক ক্ষোভ হাওয়ায় হাওয়ায় হচ্ছে বলে মনে হবে। এবং অবশ্যই ন্যাশানাল ইন্সুরেন্স কভারেজ এই জার্নিরই একটা পার্ট।

    বাই দ্য ওয়ে, শ্রমজীবী হাস্পাতালে কিছুটা এই পদ্ধতিতে রুগি দেখা হয়ে থাকে, যদি খুব ভুল না করি। একটা বড় গ্রামে একসাথে অনেক মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এইভাবে স্পেশালাইজড ফর্মে কাজ ভাগ করে দেওয়াটা বেশ সুবিধাজনক বলে মনে হয়েছে।
  • Gautam Mistri | 11.39.38.23 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১১:১১54980
  • ধন্যবাদ মতামত দেবার জন্য।

    কিন্তু যে প্রাণ বাঁচানোর পরিষেবার জন্য দশ মিনিট লাগবে তার জন্য পাঁচ মিনিট বরাদ্দ করা একদম সমর্থনযোগ্য নয়। অধিকপক্ষে একজন ডাক্তারের সীমিত রুগী দেখার সংখ্যা মেনে নেওয়া বোধহয় কম ক্ষতিকর।

    সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের সীমাহীন রুগী দেখা রুগীদের কাছে বড় অন্যায়। এটার সমাধান দরকার।
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১১:১৭54981
  • সমাধান কি করে হবে? ডাক্তারের সংখ্যা লিমিটেড।রোগী অগুন্তি।গ্রাম তো কোওয়াকেই চালিয়ে দেয়।
  • emoticon | 11.39.39.65 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১১:২৩54982
  • জনসংখ্যা কমানো হউক। আমাদের ধর্ম হোক জনসংখ্যার সুষম বণ্টন। :p
    দেশে বর্গকিলোমিটারের হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র/হাস্পাতালের নির্ধারিত সংখ্যাটা কারো স্মরণে আছে? আমি ভুলে গেছি। :(
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১১:৪৫54983
  • বোধ হয় প্রতি ৫০০০ জনসংখ্যায় আর হিলি এরিয়ায় ৩০০০ একটা সাব সেন্টার হিসাবে ।
  • Prativa Sarker | 37.63.149.87 (*) | ০৫ জুন ২০১৬ ১২:৩৮54984
  • এই লেখাটা পড়বার সময়ও এই সমস্যায় ভুগে যাচ্ছি। ঠিক ঐ পাঁচশো টাকা দিয়ে বহুক্ষণ বসে তবে দেখানো। সেই প্রেশক্রিপশন পাঠযোগ্য নয়। এদিকে আমার কিছু ওষুধে অসুবিধে। চেনা বন্ধু ডাক্তারের উপদেশ চাইতে গেলাম,তার ফোন বন্ধ।হয়তো সে কলকাতায় নেই। ফলে আজ ঐ কম্পাউন্ডার দাদাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। যস্মিন দেশে যদাচার।
    সরকারী পরিকাঠামোগত দুর্বলতা তো পাহাড়প্রমাণ। কিন্তু এত টাকা নিয়ে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিস যারা করেন তাঁদেরও এটুকু করতে এত অসুবিধে !
    এই লেখাটার প্লাস পয়েন্ট এর প্রাঞ্জলতা। আমার মতো লেম্যানও বুঝতে পারে।
  • viji | 125.187.34.197 (*) | ০৯ জুন ২০১৬ ১১:২৬54985
  • সমস্যাটি বহুমাত্রিক।চিকিৎসক, পাতি ডাক্তার,বড়ো ডাক্তার এইসব নিয়ে আমাদের কিছু বদ্ধমূল ধারনা আছে। তবে শিক্ষিত রোগীদের নিজের রোগ সম্বন্ধে পুরোপুরি জেনে নেওয়া উচিত। আজকাল অনেক ডাক্তার বলেও দেয়। আর পাঠযোগ্য প্রেসক্রিপশন না করার কোনো কারণ দেখি না।
  • viji | 125.187.34.197 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০২:৪৬54989
  • শিক্ষিত/অশিক্ষিত চোখে লাগে।।কিন্তু নিজের রোগ সম্বন্ধে মিনিমাম জানতে একটা মিনিমাম শিক্ষা লাগে। সেটা না থাকলে ভুল বোঝার চান্স বেশি। আর এখনো আমাদের যা চিকিতসা ব্যবস্থা তাতে পয়সা না থাকলে হাতে হ্যারিকেন।
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৪:০৩54986
  • এই শিক্ষিত/অশিক্ষিত প্রকার ভেদ টা বড় চোখে লাগে।শিক্ষিতরা সব বুঝে নিয়ে চলে গেল আর অশিক্ষিত রা কি করবে? পেছন চুলকোবে?
    যেসব রোগীরা বিনামূল্যে বা ২০-৩০ টাকার বিনিময়ে,সরকারী, দাতব্য, কর্পোরেশন হাসপাতালে চিকিত্সা করে তাদের জন্য প্রিন্টেড কপি, রেকর্ড মেন্টেন কে করবে?
    আর বড় ডাক্তার তো চায়ের দোকান আর ওষুধের দোকান দার দের বানানো।বিদেশে, হাসপাতালে রোগ দেখাতে গেলে কেউ বিচার করে অমুক বড় ডাক্তার আর অমুক ছোটো। ওখানে, খুব রেয়ার কেস ছাড়া ডিগ্রী, কথা বলে।
    আমাদের দেশে তো ওভার দা কাউন্টার সব ওষুধ মেলে!এন্টি বায়োটিক থেকে এন্টি হাইপার টেন্সিভ ।
    ট্রেনে বাসে প্রায় ই আলোচনা শুনি, প্রেসার এর জন্য টেল্মার থেকে স্ত্যাম্লো ভালো, গ্যাসের জন্য প্যান এ কাজ হবেনা প্যান ডি খান এইসব। সমিস্যে কি আর একটা রে ভাই!
  • sm | 53.251.91.253 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৪:২১54990
  • ভুল ধারণা।চরম অশিক্ষিত লোক ও খুব আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়; নিজের ভাষায় বললে বুঝতে পারে, সঠিক প্রশ্ন ও করে আর নিয়মিত ওষুধ খায় ও পাকামি কম করে। অনেক শিক্ষিত লোক ঠিক উল্টো ব্যবহার করে। দেশে ও বিদেশে সর্বত্র।এটা কিন্তু ফ্যাক্ট বললাম ।কোনো তর্কের খাতিরে নয়।
  • SS | 160.148.14.3 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৪:৪৩54991
  • sm এর সঙ্গে একমত। দেশে লোকে ডাক্তারকে কনসাল্ট না করেই যথেচ্ছ প্রেসক্রিপশান মেডিকেশন ইউজ করে। আর ইন্টারনেট থাকার জন্যে তো কথাই নেই, সব ভুলভাল ইনফর্মেশন হাতের মুঠোয়। সামহাউ বাঙালীদের এই প্রবণতা আরো বেশি মনে হয়।
    আমি রিসেন্টলি শুনলাম এক আত্মীয় নিজে নিজেই হঠাৎ নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়া শুরু করেছেন, ডাক্তারকে কনসাল্ট না করেই। কারণ, বয়েস হচ্ছে, অ্যাসপিরিন খেলে ব্লাড ক্লটের চান্স কম। ভাবাই যায় না যে কেউ নিজের ইচ্ছে মত ব্লাড থিনার ইউজ শুরু করে দিল।
  • Ekak | 53.224.129.45 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৫:০৭54992
  • ভলান্টারি সাবস্টেন্স এবিউস শিক্ষিত দের মধ্যে বেশি , ইন্ভলানটারি সাবস্টেন্স এবিউস অশিক্ষিত দের মধ্যে। এর থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায়না যে শিক্ষিত হওয়ার বা ইনফরমেশন চ্যানেল তৈরীর দরকার নেই । আমাদের উদ্দেশ্য কোনকিছু "ঠিক " করে দেওয়া নয় । উদ্দেশ্য সবকিছু সামনে রাখা । এবার যে সতর্কীকরণ পড়ার পরেও নিজে নিজে হাঁসের পেছনে যাবে সেটা তার ইনফর্মড চয়েস ।
  • SS | 160.148.14.3 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৫:১২54993
  • ঠিক করে দেবার উদ্দেশ্যেই তো রেগুলটরি এজেন্সির সৃষ্টি। যাতে লোকে ইচ্ছে করলেও সব কিছুর নাগাল না পায়। একটা লেভেলে তো রাশ টানতেই হবে।
  • avi | 125.187.34.197 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৭:৪০54987
  • এটা ভালো বলেছেন। বর্ধমানে একবার এক ভদ্রমহিলা টেন থেকে নেমে এক রিকশায় উঠে একটা ঠিকানা বললেন, এক গাইনেকলজিস্টের বাড়ি। তো, রিকশাচালক সমানে বলে যাচ্ছেন, দিদি ওনার কাছে যাবেন না, ভালো ডাক্তার নন, আপনি বরং অমুকের কাছে চলুন। কিছুক্ষণ পর ভদ্রমহিলা জানাতে বাধ্য হলেন, দেখুন, আমি ওনার স্ত্রী হই, বাড়ি ফিরছি।
  • sm | 53.251.88.168 (*) | ১০ জুন ২০১৬ ০৭:৪৬54988
  • এটা তো আরো ভালো দিলেন। এক ঘর!বর্ধমানের খোশ বাগান তো গিনেস এ নাম ওঠার যোগ্য।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন