• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বনমালী তুমি...

    স্বাতী
    বিভাগ : ব্লগ | ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩৮ বার পঠিত
  • ১.
    ঘুম চোখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁতে ব্রাশ ঘষতে ঘষতে ভালো করে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো অনামিকা, চোখের তলায় কালী জমেছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি, রাত তিনটেয় প্যাকআপ করে ক্লান্তিতে নুইয়ে আসা শরীর টা কোনো মতে বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিলো। আজ আবার সকাল থেকে শুট আছে। আজ আজই তার পিরিওডস হওয়ার ছিল। তলপেট ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। ব্রেকফাস্ট করেই একটা পেইনকিলার খেতে হবে। সারা দিনের শুট, ওই ভারি ক্যামেরা নিয়ে দৌড়োদৌড়ি অসম্ভব না হলে। কেনো যে প্রতিমাসের এই যন্ত্রণা। অসহ্য লাগে। এই পিরিওডস তার মতো মেয়ের কাছে বিলাসিতা। সিক্স পকেট ট্রাউজার আর কটন শার্ট টা গলাতে গলাতে গোলাপি প্যাকেট টার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলো অনু - আমাদের অনামিকা। ব্যাগপ্যাক রেডি করে পিঠে চাপিয়ে প্রিয় বজ্রপাখির কান মুলে চালু করার আগে অ্যাসিস্ট্যান্ট অনুপকে প্রাত্যহিক কল'টা করে নিলো। কল টাইম ৮ টা, ট্রাইপড, লাইট সব রেডি রাখতে। যাওয়ার পথে তুলে নেবে বাইপাস থেকে। শহরের বিখ্যাত মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের পরিসেবার উপর ডকুমেন্টারি ছবি তুলছে অনামিকা, ৩২এই প্রতিষ্ঠিত ফটোগ্রাফার অনামিকা।


    ১-২-৩ থেকে পাঁচ গুনলেই অন এয়ার হবে সৌম্য। আজ প্রথম দিন এই রেডিও স্টেশনে। এর আগে অন্য একটা বিখ্যাত রেডিও স্টেশনে রেডিও জকি ছিল। অসাধারণ আওয়াজের মালিকানা তাকে রেডিও জকি থেকে বাচিক শিল্পী করে তুলেছে, সঙ্গে ছিল ছোট থেকে আবৃতি করার অনুশীলন। আজ এই চ্যানেলে তার প্রথম একক অনুষ্ঠান। "কথোপকথন " অন এয়ার হবে রাত আটটায়। ধারাভাষ্যকারের কাজ সে আগে অনেক করেছে, বা স্টেজ শো'ও। কিন্তু লাইভ প্রোগ্রাম তার আঠাশ বছরের জীবনে এই প্রথম। বিকেলে বেরোবার সময় চন্দন রঙের পাঞ্জাবি আর জিন্স পরা সুঠাম চেহারার সৌম্যকে সত্যিই বড় সৌম্য লাগছিল। পছন্দের ডিও চেস্টিটি গায়ে স্প্রে করে বেরোবার সময় আজও নাক কুঁচকে ছিলেন বাবা।

    ৩.
    বুলেটের শব্দ মিলিয়ে যেতে ব্যালকনি তে এসে দাঁড়ালেন চিন্ময়ী। এই ৬৫ বছর বয়েসেও রূপ পূর্ণচন্দ্রের সমস্ত প্রভা নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এ চাঁদে ক্ষয় কবে লাগবে? কাঁচাপাকা চুল কোমর অবধি। মেয়ে কিছুতেই চুল কাটাতে দেয়নি, খুব ইচ্ছে ছিলো বুড়ো বয়েসে চুল ছেঁটে ফেলবেন ঘাড় অব্ধি। তা অনুর কথায় চুলে হাত দেবে না, এত সুন্দর চুল তোমার। সারাদিনের ক্লান্তি আমি কোথায় মুখ গুঁজে ভুলবো? অথচ নিজের চুল দেখো, কাজের অসুবিধার অজুহাতে দেড় ইঞ্চি করে ছেঁটে রাখে। তার রূপ পেয়েছে অনু, স্বভাব একেবারেই উল্টো। ডাকাবুকো, নির্ভীক তার চেয়েও বড় মেয়ে সুলভ কোনো ইনহিবিশন সাজ গোজ কিছুই নেই। প্রোফেশন বেছেছে এক খান। দিন রাতের মাথা মুন্ডু নাই। খেটে খেটে চোখের তলায় কালী। সারাদিন বাইক নিয়ে শহরের এ মাথা ও মাথা চরে বেড়াচ্ছে। কখন খায়, কি খায় কে জানে। ছোট থেকেই এই মেয়ে বড় চিন্তায় ফেলেছে তাকে। এই কার সাথে মারামারি করে হাত পা কেটে ছড়ে এলো। এই কোথায় রাস্তায় কুকুরছানা মরা মায়ের পাশে বসে কাঁদছিলো, তাকে তুলে নিয়ে চলে এলো, লেগেই আছে। স্মিত হেসে অনুর যাওয়ার রাস্তার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের ঘরে ফিরে এলেন চিন্ময়ী। অপরেশ আজ তিনদিন হল ব্যবসার কাজে ব্যাংকক গেছে। তিনদিন তাঁর অখণ্ড অবসর।

    ৪.
    যত দিন যাচ্ছে ছেলে যেন চোখের কাঁটা হয়ে যাচ্ছে বিনয় সান্যালের। হাইকোর্টের জাঁদরেল উকিল, তার ছেলে কিনা রাবীন্দ্রিক ঢঙে পাঞ্জাবি চাপিয়ে মেয়েলি পারফিউম মেখে কাব্যি করে বেড়ায়। ছোটোবেলায় একদিন কি একটা আবৃতি করতে করতে কাঁদতে দেখেছিলেন, রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ঠাস করে একটা থাপ্পর মেরেছিলেন, সৌম্যর ফর্সা গাল লাল হয়ে গেছিলো। "একে তো মেয়েছেলেদের মত স্বভাব, আবার কাব্যি করতে গিয়ে চোখে জল, ব্যাটাছেলের কলঙ্ক "। ভাষা ও চোখমুখ দেখে উকিল বাবুকে সেদিন গলির চুল্লুখোরদের মত লাগছিলো, মনে হচ্ছিল বাড়ি ফিরে নিয়ম মতো বউ পেটাচ্ছে। সেই যে বছর বারো বয়স থেকে ছেলের সাথে দূরত্ব তৈরি হলো, তা আর মিটলো না। নিজের চেষ্টায় ছেলে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত, দেশে বিদেশে কাজও করছে আজ কাল। নিজের মত থাকে। কিন্তু গোটা বাড়িতে দুটি প্রাণী বাস করে তা আর বোঝা যায় না। ওর মা থাকলে হয়তো এরকম হত না। ছেলের বিয়ের জন্য চেষ্টা করতো। বিনয় বাবু এক দু বার বলার চেষ্টা করেছেন, ছেলে সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। চাপাচাপি করায় বলেছিল যে বাড়িতে "মেয়েছেলেদের জন্য এত ঘেন্না, সেখানে কি করে আবার একটা মেয়েছেলেকে এনে জীবন নরক বানাবো বাবা? সবাই তো আর মায়ের মত কপাল করে আসেনি"! থমকে গেছিলেন একসময় বাঘে গরুকে এক ঘাটে জল খাওয়ানো ব্যারিস্টার সান্যাল। তাঁর দুর্ব্যবহার ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বছর পাঁচেকের সৌম্যকে রেখে ঘর ছেড়ে একটি কলেজে পড়ানোর চাকরি নিয়ে দক্ষিণভারত চলে গেছিলেন তাঁর স্ত্রী, সৌম্যর মা অপরাজিতা। পালিয়ে বেঁচেছিলেন বংশের কূলতিলককে তার বাবার কাছে রেখে। এই ছেলে চাই বলে এর আগে তিন বার স্ত্রীর গর্ভ নষ্ট করিএছিলেন বিনয় সান্যাল। ছেলের একটু বড় হওয়া অব্ধি অপেক্ষা করেছিলেন। যাওয়ার সময় কি বলে গেছিলেন তা আজও জানেননা সান্যাল বাবু। তবে ছেলে যে মায়ের সাথে ভালোই যোগাযোগ রাখে তা বোঝেন এখন। মাসে একবার করে ব্যাঙ্গালোর যায় ছেলে। দিন কয়েক বাদে ঝলমলে হয়ে ফিরে আসে।

    ৫.
    সেটে ঢুকে সামনে ভাস্কর কে দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেলো অনামিকার। এই হারামী টা এখানে কি করছে? সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসেছে চুতমারানিটা। বছর আটেক আগে একেই একটা কাজে অ্যাসিস্ট করছিল সে। সেদিন অনেকরাত অবধি কাজ করার পর বিধ্বস্ত শরীরে বাড়ি ফেরার সময় টের পাচ্ছিলো তার পাশে বসে জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে এই হারামীটা। অনামিকা বলেছিলো এতে আমার ভালো লাগছে না ভাস্করদা এটা আমার ইচ্ছেতে তুমি করছো না, খারাপ বেশী লাগছে কারণ আমি খুব ক্লান্ত। সহকর্মীর থেকে এই টুকু সহমর্মিতা আশা করেছিলাম। সেদিনের মত ক্ষান্ত হলেও প্রজেক্ট শেষ হওয়ার রাতে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেদিন আরোও ক্লান্ত থাকায় মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেনি, খপাৎ করে প্যান্টের উপর দিয়ে সজোরে ভাস্করের পুরুষাঙ্গ ধরে রাম টিপুনি দিয়েছিলো, আর ঠাণ্ডা হাসি দিয়ে বলেছিলো " কি কেমন লাগছে? আমারও জাস্ট এরকমই লাগে।" হাসিও পায় অনুর, আগের দিনের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভেবেছিলো উদগান্ডুটা, বোঝেনি যে এসবে তার কিছুই আসে যায়না, অন্যান্য মেয়েদের মত শরীর নিয়ে ছুৎমার্গ বা লজ্জাবোধ তার নেই।

    না তার সাথে অসভ্যতা করেছিলো বলে এই লোকটাকে সহ্য হয়না তা নয়। সেটে বা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন মেয়ে নেই কখনো ভাস্করের সাথে কাজ করেছে অথচ মলেস্টেড হয়নি। বিচিতে টেনে এক লাথ মারতে ইচ্ছে করে এখনো অনুর এই ফুটোবাজটাকে দেখলেই। শালা সাতসকালে মেজাজ টাই চটকে গেলো।

    ৬.
    কোথাও যেনো বিসমিল্লার সানাই বাজছে। বিয়ের সিজন। সানাই শুনলেই বুকের ভিতরটা কেমন হুহু করে সৌম্যর। একটা গুমরনো দুঃখ, যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ে, পায়ের তলা থেকে বালি টেনে নিয়ে চলে যায়। একা একা এসে লেকের পাশে বসে ছিল। খুব ভালো লাগে এই জায়গাটা সৌম্যর। সূর্য ডোবার সময় লেকের জলে লালচে রঙের জলে আলপনা কেটে যায় রোয়িং ক্লাবের সরু সরু নৌকো গুলো। কি সুঠাম চেহারা ছেলে গুলির। বেশ কিছু মেয়ে ও রোয়িং করে, তাদের ভালো করে দেখা হয়নি কখনো। আচ্ছা, মা বাদে আর কোনো মেয়েকেই কি ভালো করে তাকিয়ে দেখেছে সৌম্য?

    সেই যে ছোটোবেলায় মা কোন দূরে চলে গেলো, শুধু বলেছিলো একটু বড় হলে মা আসবে তার কাছে, এখন এখানেই থাকতে হবে। প্রতি বছর বার কয়েক করে মা এসে দেখে যেতো তাকে স্কুলে। ছোট্ট মাথায় ঢুকতো না সৌম্যর যে বাকিদের মত সে ও কেন মা বাবার সাথে থাকতে পারবে না। মনে পড়ে মা তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে কত রাত মা'কে লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছে, গলায় কাঁধে আঁচড়ের দাগ। কালশিটে। বড় হওয়ার পর মা এসেছিলো। একে একে জানতে বলেছিলো সব। প্রাণে বাঁচার তাগিদে মা চলে গেছিলো সব ছেড়ে। অকথ্য অত্যাচার করতো বাবা, সেসব আর ভেঙে না বললেও সৌম্য মায়ের গায়ের দাগ গুলো ভোলেনি। শুধু বলেছিলো "আমায় কেন নিয়ে গেলেনা মা?" মা বলেছিলো "তুই ও বাড়ির যখের ধন, তোকে নিয়ে পালালে দুজনেই মারা পড়তাম। ওখানে তোর অযত্ন হবে না জানতাম। আর কোনো পরিচয় ছিলনা আমার, বেঁচে থাকতে হলে পালাতে আমাকে হতই। মরে গেলে আর তো তোকে দেখতে পেতাম না সোনা।"
    মা কে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো, এই ভালো মা। তুমি তোমার মত করে বাঁচো, আমার মা তুমি পরে, আগে একজন মানুষ। ছেলে তার বাবার মত অমানুষ হয়নি দেখে প্রথম বার খুশির কান্না কাঁদলেন অপরাজিতা। আজ তিনি সত্যিই জিতে গেছেন। মা'র কথা ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো আজ তার একটা শুট আছে রাত আটটায়। বড় জাঁদরেল একটি ডিওপি। সেটে দেরী করে গেলে, ডিরেক্টর কিছু না বল্লেও এই অনামিকা বড় ধমকায়। আলস্য আর স্মৃতিমেদুরতা কাটিয়ে উঠে গোলপার্কের দিকে হাঁটা দিলো সৌম্য।

    ৭.
    একটা শর্ট ফিল্মের শ্যুট শেষ করতে এক মাস কাটিয়ে দিলো। আজ এটা অ্যাড হয়, কাল পুরনো রাশ ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে সব করতে হয়। শর্ট ফিল্ম হচ্ছে না বিরিয়ানি রান্না কে জানে বাবা। স্ক্রিপ্ট কম্পলিট না করে শুট শুরুর কি দরকার। নিজের মনেই গজগজ করছিল অনু। যদিও এতে তার আর্থিক কোনো ক্ষতি হয়নি, পয়সা গুনে গুনেই দিচ্ছে। কিন্তু এই দেরি হওয়ার জন্য ব্যাঙ্গালোরের একটা বড় প্রোজেক্ট হাতছাড়া হয়ে গেলো অনুর। চোখে মুখে জল দিয়ে রুমালে মুখ মুছতে মুছতে এগোচ্ছিলো, এমন সময় নাক ছুঁয়ে গেলো বড় মিষ্টি একটা মেয়েলি গন্ধ। চোখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস নিয়ে তাকাতে দেখলো সৌম্য যাচ্ছে। বিগত এক মাসে টানা এই ছেলেটির সাথে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছে এ অন্য পুরুষ গুলোর মতো নয়। মানে আজ অবধি যত পুরুষ দেখেছে অনু, তেমন নয়। ইগো নেই, ডমিনেট করার মানসিকতা নেই, ছোঁকছোঁকানি নেই, সবজান্তা ভাব নেই - মোদ্দাকথা পুরুষ হওয়ার অহংবোধটাই নেই। অত্যন্ত ভদ্র, নরম সরম একজন মানুষ, হ্যাঁ শুধুই মানুষ।

    সেটে সবাই সৌম্য কে মেয়েলি বলে হাসাহাসি করে আড়ালে। শুরুর দিকে একবার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বোধয় অনুর সামনেই বলেছিলো এই মৌগা টাকে ছাড়া আর লোক পেলেনা অভ্রদা? তো ঠাণ্ডা মাথার ডিরেক্টর হেসে বলেছিল কি করবো বল, তোদের মত সিউডো আঁতেল মদ্দা গুলোকে দিয়ে তো ও উচ্চারণ আর অভিনয় হল না, মৌগাই সই। খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলো অনু - "মৌগা কি?" উত্তরে সেই এডি বলে মেয়েলী পুরুষ। সে অনু কে চিনতো না। অনু ট্রাইপড টা বাগিয়ে ধরে ঠাণ্ডা হেসে বলেছিল ও তোমার মত হামবাগ পুরুষ না হলে মৌগা? আচ্ছা এসো দেখি চাঁদ, পিছন দিয়ে এই ট্রাইপড টা আলতো করে ঢুকিয়ে দিই, একটাতে এত অহংকার, আরো তিনটে ফ্রি পাবে। বেচারা জানতো না অনু এটা করতে পারে। সেদিন ব্যাপারটা অভ্রর হস্তক্ষেপে সাময়িক চাপা পড়ে গেলেও পিছনে হাসাহাসি হয়, টের পায় অনু, তাকে নিয়েও তো কম হয়না। পরে সৌম্য বলেছিল " কি দরকার লোকের সাথে ঝামেলা করার? আমি এতে অভ্যস্ত।" অনু মুখ ঝামটা দিয়ে বলেছিল 'এই সমাজ আমাদের দুর্বল ভেবে আনন্দ পায়, আমি সেই আনন্দ এক মুহূর্তের জন্য নষ্ট করতে পারলে আনন্দ পাই।" সুন্দর একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল দুজনের। আজ শুটিঙের শেষ দিন অনুর প্রথম কোনো পুরুষের জন্য মনখারাপ হচ্ছিল, প্রথম কোনো মানুষ কে অন্যরকম ভালো লাগছিলো।

    ৮.
    দিন সাতেক হয়ে গেলো শর্ট ফিলমের কাজ শেষ, এখন আপাতত কয়েকটা রেকর্ডিং বাদে আর কোনো কাজ নেই। মায়ের কাছে ঘুরে এলে কেমন হয় ভাবছিলো সৌম্য। চটকা ভাঙলো - মায়ের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যেন অনামিকার কথা ভাবছিলো সে। অদ্ভুত! আজ অবধি কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়েও দেখেনি সে। আজ অবধি সে মনের মানুষ খুঁজে পায়নি। তবে এই গভীর চোখের মেয়েটা তাকে এত টানছে কেন? মনের ভিতর প্রাণপণে হাতরায় সৌম্য। চোখে ভাসে দৃঢ়চেতা, প্রাণবন্ত, সংবেদনশীল, সাহসী একজন মানুষ। আজই মা কে সব বলতে হবে, মায়ের ফোন নাম্বার ডায়াল করতে থাকে সৌম্য হাসি মুখে।

    ৯.

    সকাল থেকে এসে এই রেকর্ডিং স্টুডিওর সামনে দাঁড়িয়ে আজ অনু দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমে এসেছে। অসময়ের কালো মেঘ আকাশের কোনে উঁকি দিচ্ছে, হুড়মুড়িয়ে নামলো বলে। একটা গাছের তলায় বুলেট টা দাঁড় করিয়ে ঘনঘন ঘড়ি দেখছে। গত কয়েকদিনে চোখের পাতা এক ককরতে পারেনি অনু, বন্ধ করলেই সৌম্যর মুখ, যা থাকে কপালে ভেবে আজ চলেই এসেছে ওর রেকর্ডিং স্টুডিওর সামনে। ওই তো আসছেন বাবু। কোনদিকে চোখ কে জানে। "অ্যাই সামনে তাকিয়ে হাঁটতে কি হয়?" আচমকা ধমকে চমকে ফিরে তাকায় সৌম্য। ওমা, এ যে অনু। এর কথাই তো ভাবতে ভাবতে আসছিলো এতক্ষণ। সৌম্যর স্মিত হাসি চোখ এড়ায়না অনুর। দৃঢ় পায়ে হেঁটে গিয়ে সৌম্যর কাঁধে আলতো হাত রাখলো অনামিকা। সৌম্যর শরীর ছাপিয়ে আসছে তার প্রিয় গন্ধ। পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো সৌম্য, চোখের কোনে জল চিকচিক করছে? নাকি ভুলকো তারার ছায়া? প্রায় সংযুক্তা হরণের মত করেই বাইকের পিছনে সৌম্যকে বসিয়ে বজ্রপাখি ছোটায় অনু, কোথাও একটা ফাঁকা যায়গায় গিয়ে বসতে হবে। অনেক কথা বলার আছে আজ তার সৌম্যকে, তার প্রথম মনের মানুষকে। বাইকে বসে পরম আশ্লেষে জড়িয়ে ধরলো সৌম্য অনুকে। চিরন্তন যুগলমূর্তি, কিন্তু আধার আলাদা। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো, জনশূন্য রাস্তা, কোথা থেকে যেন ভেসে আসছে এক আকুল আওয়াজ - "বনমালী তুমি, পর জনমে হইয়ো রাধা"...
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩৮ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ ০৪:২৯50193
  • এটা ফেবুতে গত্বছর মনে হয় পড়েছিলাম। অসম্ভব ভাল লেগেছিল। ভারী ভাল।

    ইতি
    দ-বাবু ;-)
  • Suhasini | 90045.206.1212.31 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ ০৫:০১50194
  • ভালো লাগলো খুব।
  • de | 90056.185.673423.53 (*) | ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ ০৮:২০50195
  • খুব সুন্দর!
  • AS | 340112.56.9003423.12 (*) | ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ ০৫:৪১50196
  • বাঃ খুব সুন্দর
  • Biplob Rahman | 340112.231.126712.75 (*) | ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ ০১:৫৩50197
  • মিডিয়াতে এমনই হয়। টুকরো দৃশ্যগুলো ছায়াছবির মতো।

    উড়ুক
  • dc | 232312.174.670123.206 (*) | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০১:৩৭50198
  • গল্পটা ভালো। কিন্তু লাস্টে যে টুইস্টটা আসবে ভাবছিলাম সেটা এলো না। তাও ভালো।
  • aranya | 3478.160.342312.238 (*) | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০৩:৩৬50199
  • বাঃ
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত