বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পূর্ব ভারতের কোর ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর কি ধ্বংশের মুখে ?

    Dipankar Patra লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | ১৩ মার্চ ২০১৬ | ১৯৮৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Dipankar Patra | ১৩ মার্চ ২০১৬ ২২:১১698016
  • রবিবার দূপুর। বেশ জম্পেশ করে খেয়ে দেয়ে খবরের কাগজের রবিবারের পাতা খুলে বসেছি, ফোন টা এল।
    - হ্যালো, দীপঙ্কর, চিনতে পারছ? আমি অমুক দা বলছি।
    আলাপ থাকলেও তেমন পছন্দের তালিকায় থাকা লোক নন। তাই কিছুটা নিরুৎসুক গলাতেই জানালাম চিনতে ভুল হয় নি। কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলাম। যদিও ইনি কেমন থাকেন না থাকেন তাতে আমার কিছুই এসে যায় না।
    - ভাই, বড় বিপদে পড়ে গেছি। আমি এর আগে তোমাকে কোনদিন ফোন করিনি। কিন্তু আর না করে পারলাম না ভাই।
    ভাবলাম, আবার শুরু হল। এই সমস্যা, সেই সমস্যা। কি যে মুসকিল হয়েছে আজকাল। যার যেখানে যত চাকরি করতে গিয়ে যত সমস্যা আমি কি তার সমাধানের ঠিকেদারি নিয়েছি না কি! যতদূর জানি আমার পুরনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ খুইয়ে ইনি এখন অন্য আর এক জায়গাতে কাজ করছেন। সেখানে আবার কি হলো? অবশ্য কোথাও তো গতিক সুবিধার নয়।
    - ভাই, তুমি তো জান, ওখান থেকে ছাড়িয়ে দিল। তার পর কন্ট্রাক্ট বেসিসে কাজ করছি। বিশ্বাস কর ভাই, সেই নভেম্বর থেকে টাকা আটকে রেখেছে। এদিকে চাকরি চলে যাওয়ার পরে যা দিয়েছে, মাসে হাজার দশেক ইন্টারেস্ট পাই। এই টাকায় কি করে চলে বলতো। মেয়ে টা কলেজে বি এস সি অনার্স পড়ছে। তার টিউটর দিতে পারছি না। তোমাকে কোনদিন বলিনি আমি। কিন্তু আর যে পারছি না। মাস গেলে আমার যা হোক কিছু একটা টাকা দরকার। যাতে মেয়েটাকে আমার পড়াশুনা টা করাতে পারি। একটু দেখো না ভাই।
    ধাক্কা লাগল একটা। ফোন টা ছেড়ে দিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকলাম। হ্যাঁ, জানি, খুব যে একটা কাজের লোক, তা ইনি নন। যার ফলে প্রায় পঁচিশ বছর চাকরি করার পরেও কম্পানির দূরাবস্থায় প্রথম ছাঁটাই লিস্টেই নাম উঠে গেছে। শুধু ইনি একা নন, আরো অনেকের। পাঁচ থেকে পঁচিশ- বিভিন্ন বছরের অভিজ্ঞতা সবার। প্রথমে গুজব। লিস্ট হচ্ছে। আতংক মাস তিনেক ধরে। তার পর গত দূর্গাপুজোর আগে আগে নাম ধরে ডেকে শ'খানেক কর্মী ছাঁটাই।
    এই যে ধরনের প্রতিষ্ঠানের কথা আমি বলছি, এগুলো সব যাকে চলতি কথায় বলে " কোর সেক্টর " ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি। যারা ওয়াকিবহাল, তাঁরা জানেন যে স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সারা দেশ জুড়ে যে ভারী শিল্প গড়ে উঠেছিল, তার মূল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রাণকেন্দ্র ছিল পূর্বভারত, বিশেষ করে কলকাতা। আটের দশকের শেষে আমরা যখন কলেজ থেকে বেরোচ্ছি, তখন আমাদের কাছে স্বপ্নের মত ছিল কলকাতায় যে বিখ্যাত কয়েকটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান আছে, তার কোথাও চাকরি পাওয়া। সরকারী চাকরির প্রতি এক ধরনের তীব্র অনিহা ছিল সবার। এমন অবস্থাও হয়েছে যে পি এস সি র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেনা বলে সরকারী সাহেব রা বাড়ি বয়ে এসে বোঝাতেন সরকারী চাকরির সুবিধা। এতটুকু বাড়িয়ে বলছিনা। ৯৬ কি ৯৭ সালের ঘটনা এটা। কলকাতায় নামকরা সংস্থা গুলির ও প্রচুর নাক উঁচু ব্যাপারস্যাপার ছিল। শিবপুর বা যাদবপুরের প্রথম জনা দশেক ছাড়া এরা কাউকে ইন্টারভিউ নেওয়ার যোগ্যই মনে করত না। তবে এই বড় সংস্থা গুলিকে ঘিরে আরও অনেক ছোট বা মাঝারি মাপের সংস্থা ছিল। ছিল বেশ কিছু পুরনো সাহেবি কম্পানিও, অবশ্যি দেশী মালিকানায়। আর এই সব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাইনেকড়ির কিন্তু একটা সমতা ছিল। ছোট কম্পানি মানে খুব কম মাইনে, বা কাজ শেখার সুবিধা কম - তা নয়। কাজের যোগান ছিল প্রচুর। ইঞ্জিনিয়ারিং আর আরেকটি কেন্দ্র ছিল রাঁচি। এরকম দাবী করা বোধায় খুব অযৌক্তিক হবে না যে ভারতবর্ষের লৌহ-ইস্পাত এবং বিদ্যৎ কেন্দ্র গুলির সিংহ ভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং এই কলকাতা আর রাঁচি থেকে হয়েছে।
    ৯৫ সালের পর থেকে হাওয়া ঘুরতে লাগল। দেশ জুড়ে আই টি বিপ্লব চলছে তখন। আমার পুরনো সংস্থা, যেটি কলকাতার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যতম সেরা, দেশের বাইরেও প্রচুর নাম ডাক - ৯৫ থেকে ২০০৩ অব্ধি কোন ফ্রেশ গ্র‍্যাজুয়েট নেয় নি। ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান গুলি এই ধাক্কা সামলাতে পারলো না। বন্ধ হয়ে গেল। কোর সেক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রশিক্ষিত রিসোর্স গুলি শুকিয়ে গেল এর ফলে। তার পরেও একটু ভাল দিন এসেছিল। চীনের অলিম্পিকের প্রাক্কালে। হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের একটা ক্রাইশিস তৈরি হল, বা তৈরি করা হলো। দেশে খনি বিকেন্দ্রীকরণ এর নামে অবাধে টাকার লুট হলো। যে ছিল জুতোর দোকানদার, বা তোয়ালের ব্যাবসায়ী, সেও খোয়াব দেখল একটা ইস্পাত কারখানা বানাবে। সেই কারখানার নামে আসলে খনি দখলের চেষ্টা। খনি পেলে সেখান থেকে আকরিক নিয়ে বিদেশে চালান। এর থেকে সহজে কোটি কোটি টাকা কামানোর রাস্তা কোথায়। ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, ছত্তিসগড় - পাহাড় কে পাহাড় কিনে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল শকুনের দল। রাজনীতির মাফিয়ারা তালে তাল মেলালো। তার পর একদিন ফুলতে ফুলতে বেলুন নিজেই তার স্বাভাবিক নিয়তির শিকার হয়েছে। আবার মুখ থুবড়ে পরেছে দেশ জুড়ে শিল্পের ফানুস। এদিকে ইরাক আর আফগানিস্তান পর্ব শেষে আমেরিকার তেল কম্পানি গুলোও তাদের স্বহস্তে তৈরি আইসিস রূপী নিয়তির সম্মুখীন।মার্কিন বহুজাতিক অফিস গুলির দিল্লী বা অন্যান্য শহরের কেন্দ্র গুলি ধুঁকছে। যে কোনদিন এদেশ থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার দিন গুনছে। বছর দশেক আগে যে গোটা দশেক নতুন ইস্পাতকেন্দ্র গড়ে ওঠার কথা ভাবা হয়েছিল, তার বেশির ভাগ কাগজেই থেকে গেছে।
    সরকার আসে, সরকার যায়। আচ্ছে দিন আর আসে না। শহর কলকাতার ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস গুলি একে একে বন্ধ হবার উপক্রম। ৮৯ সালে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কলকাতার ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের গর্ব ছিল,তাদের ইঞ্জিনিয়াররা এখন প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরে আর ভাবে আজকের দিনটা কেটে গেল, কাল কি হবে? শিবপুর বা যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং এর সেরা যে ছেলে বা মেয়েটি অনেক শখ আর আশা ননিয়ে ঢুকেছিল চাকরিতে, পনেরো বা কুড়ি বছর চাকরি করার পরে সে জানতে পারে তাকে আর দরকার নেই কম্পানির। মাথায় হাত দিয়ে সে ভাবে কি ভাবে চালাবে সব কিছু। ফ্ল্যাটের লোন শোধ হয়নি। গাড়িও কিনেছিল শখে, সেটা না হয় বিক্রি করে দেবে। ছেলেমেয়েকে যে ভর্তি করেছে শহরের নাম করা ইংরাজি মিডিয়াম স্কুলে। আশা, তারাও নামকরা কলেজ থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার হবে- তাদের পড়াশুনার খরচা চলবে কি করে? একবার ছাঁটাই লিস্টে নাম উঠে যাওয়া মানুষ কে যে কেউ আর চাকরি দিতেও চায় না।
  • | ১৩ মার্চ ২০১৬ ২২:২৬698027
  • আইটিতেও খুব আলাদা কিছু নয় রে ভাই। মিডল ম্যানেজমেন্ট থেকে নিয়মিত ছাঁটাই চলছে এদিক ওদিক।
    বাজে অবস্থা।
  • sm | 53.251.91.253 | ১৩ মার্চ ২০১৬ ২২:৩১698033
  • একটা কথা বলুন তো,এত যে রাস্তা ঘাট, ফ্লাই ওভার,হাউসিং কমপ্লেক্স ,গাড়ি কারখানা বানানো হচ্ছে; তা সিভিল। আর্কিটেক্ট, মেক্যানিকাল; এদের চাকরি হচ্ছে না?
    আমাদের আমলে; মানে ৯০ এর দশকে তো ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির আকাল ছিল না। গত একদশক তো কোরের অধিকাংশ লোক ; আই টি তে চাকরি নিয়ে নিয়েছে। হিসেব মতো তো, চাকরি সুলভ হওয়া উচিত।
    বিস্তারিত লিখুন। অন্য স্টেট গুলোরই বা কি অবস্থা?ভালো লাগছে পড়তে।
  • !! | 134.123.67.156 | ১৩ মার্চ ২০১৬ ২২:৪২698034
  • '৯০ এর শুরুর দিক M N dastur ছাড়া কলকাতার আর কোন কোর ইঞ্জি কোং ভাল করছিল? সাইমন কার্ভ্স ছিল, ডিসিপিল, ম্যাকনেলী, স্টুয়ার্ট্স এন্ড লয়েড ইত্যাদি কোন কোম্পানীই ভাল করছিল না।
  • kc | 132.163.62.210 | ১৩ মার্চ ২০১৬ ২৩:১০698035
  • ওই সময়ে সেইলের মডার্নাইজেশন ছিল, টিসকো, এসার, নিপ্পন ডেনরো, নালকো এরকম কটা গামা সাইজের প্রোজেক্ট ছিল। তাই দস্তুর, মেকন ভাল চলছিল। ডিসিপিএলও। তারপর এই কাজগুলো শেষের দিক আসতে আসতেই, এমেন দস্তুর সাধন দত্ত এঁরা বুড়ো হয়ে গেলেন। নতুন কাজও তৈরী আর হল কই? বাজপেয়ীর সময় মেকনতো হাইওয়ে প্রোজেক্টও ধরছিল। কিন্তু সেখানে চক্রবর্তী সাহেবের সিইএস আর আলিমচান্দানি সাহেবের স্টুপ আর এল অ্যান্ড টির ইডিয়ারসি ভাল ব্যবসা করছিল। তা সে সেক্টরও শুকিয়ে এসেছে প্রায়। নতুন কাজইতো আসছেনা।

    আর সাইমন কার্ভস, স্টুয়ার্টস অ্যান্ড লয়েডস কে তো প্রায় ষড়যন্ত্র করেই মারা হয়েছে। উঠে এসেছিল নিক্কো করপোরেশন। তারাও কাজ বিশেষ পাচ্ছেনা। নতুন কাজ প্রায় নাই।
  • Abhyu | 85.137.4.219 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ০০:১৫698036
  • smএর প্রশ্নটা আমারও। নগরায়ণ তো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ওদিকে দমুদির কথাটাও ভাবার। আইটিতে এখনো নিম্ন/মধ্যমেধার লোক (মানে আমার দুই একজন আত্মীয়-বন্ধুর অভিজ্ঞতায়) উচ্চ উপার্জন করে বলে ধারণা ছিল। কলকাতায় অবশ্য। দেখা যাচ্ছে দমুদির কথামত অবস্থা সেখানেও ভালো না। এটা কি শুধু পূর্ব ভারতের কথা?
  • !! | 134.123.67.156 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ০০:২০698037
  • আই টি তে ৩০-৪০% লোক কমবে ২০১৮ এর মধ্যে ভারতে। এরমধ্যে থাকবে মধ্যভাগের লোকজন আর ম্যানেজারবর্গ যাদের অনেক মাইনে কিন্তু সমানুপাতিক কাজ ন্য।
  • ranjan roy | 24.97.188.7 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ০৫:২৭698038
  • কেন? একটু বিস্তারিত লিখুন সবাই। তবে কি সেই বড় বিশ্বব্যাপী মন্দা এসে গেল?
  • d | 144.159.168.72 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ১০:৪৫698039
  • না আইটি শুধু পুর্ব ভারতের কথা নয়।

    কিন্তু কোর সেক্টর তো ইনি যা বলছেন তাতে শুধু পুর্ব ভারতেই সমস্যা মনে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাকী ভারত যথা পশ্চিম, মধ্য ইত্যাদি থাকলে খুব সমস্যা হওয়ার তো কথা নয়।
  • D | 213.197.123.134 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ১৭:০৫698017
  • আমি মূলতঃ পূর্ব ভারতের কথা লিখেছি। বিশেষ করে কলকাতা। ৯০ নাগাদ সারা ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাইনে-কড়ি র বিশেষ তারতম্য ছিল না। দস্তুর বা ডিসিএল এর মত কম্পানি গুলোর নাম এবং কাজ ছিল প্রচুর। দিল্লী তে সিইএস - সেও বাঙালী কম্পানি। শিবপুর-যাদবপুর-দূর্গাপুর থেকে পাশ করে ছেলেপুলেরা কলকাতায় চাকরি না পেলে দিল্লী তে দাদাদের বাড়িতে বেডিং নিয়ে হাজির হতো। তাদেরকে ঘাড় থেকে নামাতে দাদারাই ব্যাবস্থা করে দিত কোথাও। আর একটা ব্যাপার ছিল। প্রথমে ছোটখাট কোথাও শিখে তার পর বড় কম্পানিতে ঢোকা যেত। আস্তে আস্তে এই ছোট কম্পানি গুলো উঠেই গেছে প্রায়। ৯৫ এর পর থেকে একের পর এক মাল্টিন্যাশানাল কম্পানি এসে টাকা ছড়াতে আরম্ভ করে। কাজ ভাল করে শিখে ওঠার আগেই ইঞ্জিনিয়ার রা এইসব বিদেশী প্রতিষ্ঠানে যেতে আরম্ভ করল। ম্যক্সিমাম দু-তিন বছর এক জায়গাতে, তার পরে অন্য কোথাও - এই চলতে থাকে। মূলতঃ তেলের কম্পানি এসব।ভারতে কোন দিনই খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে না। সে সব হয় বিদেশে। যে কাজ এখানে হয়, তাতে খুব বেশি জানার দরকার হয়না। তেলের বাজার পড়তেই এদের ব্যাবসায়েও টান ধরেছে। যে সব ইঞ্জিনিয়ার রা প্রতি দু-তিন বছর চাকরি পালটে বেড়াত, তারাও এখন প্রমাদ গুনছে। তার ওপর এই সব বিদেশী কম্পানির চাকরি বেশির ভাগ কন্ট্যাক্ট জব। যে কোন দিন বসিয়ে দিলেই হল।
    সমস্যা টা হলো, দস্তুর, মেকন, ডিসিএল এর মত উচ্চ মেধাভিত্তিক কম্পানি গুল প্রায় বসে যাওয়াতে দেশ জুড়েই কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং এ এক তীব্র আকাল এসে উপস্থিত। মেকন তো অনেক আগেই নিজে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে। ছোটখাট কম্পানি অনেক ছিল, যারা মেকনের হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে। বাজার খারাপ বলে এরা সব বসে যাচ্ছে। কলকাতার অনেক ছোট কম্পানি আগেই বসে গেছে। এইভাবে চললে ভারতে আর কিছুদিন পরে সাধারন ইঞ্জিনিয়ারিং করার মত কেউ থাকবে না।
  • kc | 132.163.62.210 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ১৮:৪৮698018
  • আরে এছাড়াও কারণ হ্যাজ। প্রভূত পরিমাণ অটোমেশন। আগে যে প্ল্যান্ট লেয়াউট কত্তে মিনিমাম ছয় থেকে আট মাস লাগত, এখন তিন দিনের মামলা। প্রপোজাল ড্রয়িং চোখের নিমেষে বেরুচ্ছে। আগে পাইপিং লেয়াউট থেকে আইসোমেট্রিক বার করতে ফেটে যেত। ড্রাফটসম্যানেরা হেব্বি ডিমান্ডে ছিল, আজ কম্পিউটার নিজেই হুশ করে বার করে দিচছে। সঙ্গে মেটেরিয়াল টেক অফ ফ্রি। কিন্তু এই ড্রয়িংকে সাইটে বা শপে বুঝিয়ে দিতে বললে ইঞ্জিনিয়ারদের ফেটে যায়। একটা উপরচালাক জেনেরেশন তৈরি হয়েছে। যারা দরকার মত নিজেদের স্কিল আপগ্রেড করছে তাদের ভাতের অভাব (মোটা নয় সরু চালই ) নেই।
  • !! | 134.123.67.156 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ২০:৩৩698019
  • এই ছোট (এম এন দস্তুর বাদে) কোম্পানীগুলি একদম দাদা-দিদিদের কোম্পানী ছিল। পলিটিক্সের আখড়া ছিল, যদুপুর আর বিক্কলেজের লোকেরা গুছিয়ে দলবাজি করত। আবার কলেজ এক হলে কে মেক আর কে সিভিল এই নিয়ে গর্ব করত আর ইঞ্জিনিয়ার বলে গর্বে অন্যদের মানুষ মনে করত না। এই কোম্পানীগুলির উঠে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা ছিল।
  • avi | 125.187.41.132 | ১৪ মার্চ ২০১৬ ২১:৩৫698020
  • দুজনকে দেখেছি। এক ভদ্রলোক খড়গপুরের। বেরিয়ে নিয়মিত চাকরি পাল্টে ২০০৭-০৮ অব্দি মোটের ওপর ভালোই ছিলেন। ওই রিশেসনের স্ট্রেস গাঁজার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়, তারপর গুছিয়ে সাইকোসিস, বাড়ির সমস্যা আরো বেশি বেড়ে যাওয়া, স্কিৎসোফ্রেনিয়া নিয়ে প্রায় দুবছর ভর্তি ছিলেন। এখন বেটার, কিন্তু কর্মক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যজন দক্ষিণের মেকানিক্যাল। এম এন দস্তুরে দীর্ঘদিন, তারপর তেলের এম এন সি তে মিডল ইস্ট আর সেন্ট্রাল এশিয়ায়। গত বছর থেকে চাকরি নেই। কোম্পানি নাকি ইরাকে পাঠাচ্ছিল, যান নি। দেশে ফিরে স্ত্রীর সাথে লার্জ স্কেল সমস্যা, কাজ না থাকার অবসাদ মিলে আলকোহল ডিপেনডেন্স। তার সাথে ডিপ্রেশন, আইনী সমস্যা মিলে নিজেকে ও বাকিদের আঘাত করা ইত্যাদি নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে।
  • bip | 132.163.47.42 | ১৬ মার্চ ২০১৬ ২১:১১698021
  • খুব ভাল থ্রেড। আমি নিজের অভিজ্ঞতাও লিখে রাখি-কারন কোর সেক্টরেই কাজ করেছি চিরকাল -তবে ভারতে না। কিন্ত এখন ভারতেই কোম্পানী খুলে কোর সেক্টরে কিছু কিছু বিক্রি করি -সেই সূত্রে আমার অভিজ্ঞতাটাও লিখি

    (১) কোর সেক্টরে ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক লেয়ারে হয়- যারা সলিড ইঞ্জিনিয়ারিং হ্যান্ডস অন করে-আমার দেখা মতে হ্যান্ডস অন ভাল ইঞ্জিনিয়ার এখনো বিরল প্রজাতি

    (২) চাকরির সমস্যা তাদের নিয়ে যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ভুলে ম্যানেঞ্জমেন্টে ঢুকেছে। আই টি সেক্টরেও তাই। আই টিতে, ভাল কোডারদের কোন দিন ভাল চাকরির অভাব ছিল না-আজও নেই। সব সমস্যা ওই ম্যানেজমেন্ট লেয়ারে যারা ঢুকেছে তাদের নিয়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং ভোলাটাই ( যদি কোনদিন শিখে থাকে) মূল সমস্যা

    (৩) ৯৫% ইঞ্জিনিয়ারং গ্রাজুয়েট সে যেস্কুলেরই হৌক ইঞ্জিনিয়ারং সায়েন্স বা ম্যাথ ঠিক ঠাক শেখে না স্কুলে। চাকরির জন্য চাকরি করে। ৫% দারুন প্যাশনেট ইঞ্জিনিয়ার থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং যাদের লাইফ। তাদের চাকরির সমস্যা নেই।

    (৪) ইঞ্জিনিয়ারিং কোন গ্লোরিফায়েড চাকরি না-গ্লোরিফায়েড টেকনিশিয়ান। এটা মন থেকে না মেনে নিলে সমস্যা আছে।

    (৫) সময়ের সাথে সাথে সব ইঞ্জিনিয়ারদেরই নিজেদের আপডেট করতে হয়। অনেক স্কিল শিখতে হয়। শিখেই যেতে হয় প্রতিটা দিন। আপডেটেড ইঞ্জিনিয়ারদের ও চাকরির অভাব নেই।

    (৬) খুব ভাল ইঞ্জিনিয়াররা যারা সত্যিই প্রোডাক্ট ডিজাইন শেখে, তাদের প্রায় সকলেই নিজের কোম্পানী খুলবে বা কনসাল্টিং খুলবে। কাল দিল্লীতে একজনের বাড়িতে নেমতন্ন ছিল-ভদ্রলোক মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার-১৯৭৪ সালে নিজের কোম্পানী খুলেছিলেন ১০,০০০ টাকায়। আজ তার চারটে কোম্পানী, ১০০ মিলিয়ান রেভিনিউ। ছেলেরাই সামলাচ্ছে। উনি এখনো মনের আনন্দে নতুন প্রোডাক্ট ডিজাইন করছেন। ভেরী প্যাশনেট ইঞ্জিনিয়ার। এটা আমেরিকাতেও দেখেছি।

    মোদ্দা কথা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে চোতা মেরে পাশ করব, কিছু না শিখে বেড়োব-তারপরে একটা ব্রান্ডে চাকরি নামিয়ে ম্যানেজমেন্টে ঢুকবো-ইঞ্জিনিয়ারিং গভীরে গিয়ে শিখব না-আর কাজ না পেলে ইঞ্জিনিয়ারিংকে গালাগাল দেব-তাত হয় না বস।

    হ্যা, আমার অনেক আই আই টির অনেক বন্ধু আছে-যারা ঢুবেছে। আবার অনেকেই লাইফে খুব ভাল আছে-এবং আরো ভাল করছে। পার্থক্যটা ফোকাস এবং প্যাশনে।

    তবে আলোচনা চলুক। কাউকে ছোট করা আমার উদ্দেশ্য না। আমি যা দেখেছি-সেটাই লিখলাম
  • Robu | 11.39.39.84 | ১৬ মার্চ ২০১৬ ২১:১৫698022
  • মোটামুটি বিপকে ক।
  • শ্রী সদা | 212.142.113.69 | ১৬ মার্চ ২০১৬ ২২:৩২698023
  • হুম বিপকে মূলতঃ ক।

    আইটিতে স্বল্প অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি বা দেখছি, শুধু মিডল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এই চাপটা নয়। বছরখানেক আগে আমার এক পরিচিত ভদ্রলোক কনট্যাক্ট করেছিলেন, ওনার প্রায় মাসছয়েক চাকরী নেই - ফ্যামিলি নিয়ে খুব অসুবিধায় আছেন। প্রায় ১২-১৩ বছর এক্সপিরিয়েন্স। তখন বোধয় গুরুতেও লিখেছিলাম কারো কোং এ ওপেনিং থাকে যদি। তো আমাকে সিভি পাঠিয়েছিলেন, দেখলাম সবচেয়ে রিসেন্ট এক্সপিরিয়েন্স একটা প্রথম সারির সার্ভিস কোং এ একটা পার্টিকুলার ভার্চুয়ালাইজেশন সার্ভারের অ্যাডমিন - প্রায় ছয়-সাত বছর ঐ টেকনলজিতে। কোনো ডেভেলপমেন্ট এক্সপিরিয়েন্স নেই। তো যদ্দুর বুঝি এই টাইপের টেকনলজি রোলগুলো ও লং টার্মে খুব ভালনারেবল, আর ইজিলি রিপ্লেসেবল। ভদ্রলোককে তেমন সাহায্য করতে পারিনি, রিসেন্টলি শুনলাম আরেকটা চাকরী পেয়েছেন। ওনার জায়গায় থাকলে আমি কখনোই এই সাপোর্ট রোল এ এতবছর বসে থাকতাম না।

    অন্যদিকে ভালো ডেভেলপার, মানে কোনো একটা অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ল্যাংগুয়েজে স্ট্রং ফান্ডা, ভালো ডি এস অ্যালগো ডিজাইন প্যাটার্ণ কম্পুটার আর্কিটেকচার নেটওয়ার্কিং ও এস জানা লোকজনের এখনো বিশাল ডিমান্ড। আর ঐ স্কিল আপডেট করে যাওয়াটা খুব কাজে দেয়। লুরুর প্রোডাক্ট কোং গুলোতে এই ক্রাইটেরিয়াগুলো মিট করা ভালো ডেভেলপাররা পাঁচ-সাত বছরের এক্সপিরিয়েন্সে হেসেখেলে ১৫-২০ লাখ কামায়। মার্কেট স্যাচুরেট করা দূরে থাক উল্টে কোং গুলো গাদা গাদা রেফারেল বোনাস দিয়েও অনেকসময় ভালো ডেভেলপার এর ওপেনিং ক্লোজ করতে পারেনা।
  • # | 118.166.168.158 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৮:০৬698024
  • কোনো সেক্টর ধ্বসে পড়ছে বা সংকুচিত হয়ে পড়েছে, অথবা কোনো বিশেষ টেকনিক্যাল কর্মকান্ড এক জিওগ্রাফিক এরিয়া থেকে সরে গেছে। শয়ে শয়ে লোকে চাকরি হারিয়ে/স্যালারি কাট হয়ে পরিবারসহ অসুবিধায় পড়েছে। এখন আপনারা বলতেই পারেন সেটার জন্য এক্সটার্নাল ইকোনোমিক ফ্যাক্টর দায়ী, এবং সেটা খুব ভুল হবে না।

    কিন্তু না, সেটার ব্যাখ্যা দাঁড়াল গিয়ে ওদের 'প্যাশন' ছিল না/চোতা পড়ে পাশ করেছে/ম্যানেজমেন্ট ট্র্যাকে (মহাপাপ) গিয়ে মহাপাতক হয়েছে। অতএব লেঅফ তো তাদের প্রাপ্যই ছিল, কর্মফল।

    আপনারা পারেনও!
  • lcm | 83.162.22.190 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৮:১০698025
  • বিপ পার্শিয়ালি ঠিক। কিছু ইঞ্জিনিয়ার কোর জিনিসটা ভালো করে রপ্ত করে নি, তাই এখন না ম্যানেজমেন্ট না টেকনলজি - ধন্ধে পরে গেছে। একথা যেমন ঠিক, আমার কিছু প্যাশনেট কোর নলেজসমৃদ্ধ ইঞ্জিনিয়ার নিজের ফিল্ডে তেমন কাজকম্মো নেই বলে বিপদে পড়েছেন।
  • aranya | 83.197.98.233 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ০৮:৪৮698026
  • এই কাজের প্রতি প্যাশন জিনিসটা যাদের থাকে, তারা খুবই ভাগ্যবান
  • Dipankar Patra | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১৪:১৮698028
  • আমার চেনা এমন অনেক ইঞ্জিনিয়ার আছেন, সারা জীবন খুব ভালবেসে কোর সেক্টরে কাজ করেছেন। টাকা পয়সা কিছুই ভাবেন নি। ফলে এখন সত্তর পেরিয়েও ছোটখাট কাজের আশায় ঘুরে বেড়চ্ছেন। পেনসন নেই। সঞ্চয় নেই। মেডিক্লেম নেই। মাসে কিছু অন্তত দরকার।
    আবার এমন অনেকে আছেন। শুধু ভালবেসে এই কাজ ছেড়ে যাননি। বয়স হয়ে এল। আর কোনো উপায় নেই যে বাইরের রাজ্যে চলে যাবেন। এই বয়সে সু্যোগ ও কম। এবার শুনছেন এত দিনের সাধের কম্পানি প্রায় বন্ধ হবার দশা। লিস্ট তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন অফিসে এই আলোচনা।
  • bip | 37.63.147.69 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ২০:৪০698029
  • আরো কিছু ক্ল্যারিফিকেশন করি

    (১) একটা সাবজেক্টে প্যাশন নিয়ে বসে থাকলে মুশকিল আছে। আলটিমেটলি তুমি নিজেও একটা প্রোডাক্ট । মার্কেটের চাহিদার সাথে সাথে আপডেট না করলে যে কোন প্রোডাক্ট ই আউটডেটেড হয়

    (২) আমার সৌভাগ্য এই অভিজ্ঞতা আমার চাকরি জীবনের প্রথম তিন বছরেই হয়ে গেছে। ফলে একটা সাবজেক্টে প্যাশনটা ভুল সেটা বুঝেছিলাম অনেক আগে। পি এই চ ডি করে একদম নিজের রিসার্চের লাইন টেলিকম সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং এর আর এন্ডিতেই ঢুকেছিলাম। সেই ২০০১ সালে তখন পি এই চ ডি ফ্রেশাররা আমেরিকাতে আমার লাইনে সিক্স ডিজিট পেত-এত ডিমান্ড ছিল। দুই মাস বাদে আমার সেই স্টার্টাপ সি ই ও র সাথে বসে মাল খাচ্ছি-উনি বোধ হয় লক্ষ্য করেছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রতি আমার তাচ্ছিল্য-কারন আমি তখন বড় বড় সিমুলেটর চালিয়ে নেটওয়ার্ক সিম্যুলেট করতাম-প্রচুর হাই ফাই টাফ কাজ করি-বিশাল ঘ্যাম ছিল। সেই সিইও বললেন-বিপ্লব আমেরিকাতে টিকতে গেলে এই স্টার্টাপে যা সুযোগ পাচ্ছে সব কিছুই শেখ। ভাবলাম লোকটা বলে কি? শালা এত হাইফাই কাজ করি, সাথে পি এই চ ডি ডিগ্রি আমাকেও মেকানিক্যালের বেসিক গুলো শিখতে হবে কেন?

    ২০০৩ সালে টেলিকম ধ্বসে গেল। আমাদের স্টার্টাপ, তার সাথে সিক্স ডিজিট স্যালারিও গেল। তখন এইচ ওয়ান বিতে। দুই সপ্তাহ চাকরি না থাকলে দেশে ফিরতে হত। ১৭টা ইন্টারভিঊ দিলাম-১৫ টা নিজের ফিল্ডে-বাকী দুটোর একটা সেন্সরে, আরেকটা ইনফর্মেটিক্সে। ওই দুটো ফিল্ডের কিছুই জানি না। কিন্ত নিজের ফিল্ডের ১৫ টাতে -যে ফিল্ড এত ভাল জানি-ওই স্টারটাপে এম আই টির এক বিখ্যাত অধ্যাপকের কাছেই কাজ শিখেছিলাম-কিন্ত কোন চাকরিই ত নেই টেলিকমে! কিন্ত বাকী দুটো চাকরি হয়ে গেল-সেই সব ফিল্ড কিছু না জেনেই। শ্রেফ আমার ফিজিক্স ম্যাথের নলেজেই বাকি দুটো চাকরি পেয়ে গেলাম। সেন্সরের চাকরিটা নিলাম। পি এই চ ডিতে যা কিছু শিখেছিলাম সব মায়ের ভোগে।

    কিন্ত এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে-ইঞ্জিনিয়ারিং এর শুধু ভাল জেনে কিছু হয় না। সেই ফিল্ডের ডিম্যান্ড থাকা দরকার। ফলে বাকী দিনগুলিতে মেকানিক্যাল, হার্ডওয়ার, ফার্ম ওয়ার থেকে শুরু করে ওয়ার্কশপ প্রাক্টিসের হ্যান্ডস অন অনেক কিছুই শিখেছি। সাথে সাথে আই টিতে আধুনিক যা কিছু টেকনলজি আসে-সেগুলো কোথায় কি কেন লাগে-সব কিছুই আপডেটেড থাকতে হয়। এগুলো যথেষ্টই ইন্টারেস্টিং-কিন্ত টিকে থাকতে গেলে জানা দরকার। নেহাত ব্যবসা করি-কিন্ত যদি শুধু কনসাল্টিং ও করতাম-করেওছি ব্যবসার শুরুর দিকে যখন ব্যবসা থেকে যথেষ্ট ইনকাম ছিল না-চাকরির থেকে অনেক বেশী ইনকাম ছিল। কিন্ত ওই কিছুদিন বেকার থাকার অভিজ্ঞতাটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিভাবে টিকে থাকতে হয় মার্কেটে।

    অনেকের এই অভিজ্ঞতা হয়ত আগে হয় নি-তাই সতর্ক হয় নি।
  • lcm | 60.242.74.27 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ২০:৫২698030
  • বিপ,
    কন্টিনিউয়িং এডুকেশন - তার গুরুত্ব নিয়ে তো প্রশ্ন নেই। কিন্তু একটি ফিল্ডে বহুদিন কাজ করে যাওয়া, সেই ফিল্ডে নতুন জিনিসপত্র জানা, তাই নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা - এসবও ঐ কন্টিনিউড এডুকেশনএর মধ্যেই পরে, যাকে পেশাগত টার্মে জব এক্সপেরিয়েন্স বলে। এসবের পরে, দুম করে যদি ঐ ফিল্ডে কোনো কাজক্ম্মো না থাকে - তখন অন্য একটি ফিল্ডে আবার - স্টার্ট ফ্রম জিরো - এটা একটু মুশকিলের।
    তিরিশে বেকার হওয়া একজিনিস, আর শেষ চল্লিশে বা পঞ্চাশে বেকার হওয়া অন্য ব্যাপার।
  • dc | 132.164.88.15 | ১৭ মার্চ ২০১৬ ২০:৫৫698031
  • নিজেকে পাল্টাতে পারা, নতুন নতুন জিনিস শেখা (যাকে হালো বাংলায় বলে স্কিলসেট অ্যাকুয়ার করা), একটা ফিক্সড আইডিয়াল ধরে বসে না থাকা, ফ্লেক্সিবল হওয়া - এগুলো বোধায় সব সেক্টরে, সবরকম চাকরিতে জরুরি, শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং না। মার্কেটিং এর লোক, এইচ আর, ফিনান্স, সবরকম চাকরির ক্ষেত্রে জরুরি হল নতুন কিছু শেখা, যেটা কাজে দিতে পারে, আর এক জায়গায় আটকে না থাকা। বিপ এর মতো বড়োভাবে না হলেও মার্কেটে টিকে থাকতে পারার প্রয়োজনীয়তা আমিও আমার জীবনে ভালোমত উপলব্ধি করেছি।
  • AniBis | 133.63.63.65 | ২৩ মার্চ ২০১৬ ০২:০৯698032
  • এই ফিল্ডে থাকার জন্য, হেডিং দেখে অনুসন্ধিৎসু হয়ে ঢুকেই পড়লাম। কোর সাবজেক্ট বলতে সিভিল, মেকানিকাল, ইলেকট্রনিকস এর আলোচনা চলছে দেখছি, ইলেক্ট্রিকাল বিষয়ে কিছু বলি?

    গত নয় বছর আমি এক আধা সরকারী কোম্পানিতে আছি। ইউটিলিটি সংক্রান্ত কাজ, এক্কেবারে হার্ডকোর ইলেক্ট্রিকাল বলতে যা বোঝায়, ব্যপারটা তাই। আমার অবসার্ভেশান হল, যেসব ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার পাওয়ার সেক্টরে রয়েছেন, তাঁর ভয় পাওয়ার কোনই কারণ নেই। প্লিজ ভাববেন না, সরকারের ঘর থেকে মাইনে তুলে দুপুরবেলা খাবার পর ঢেঁকুর তুলতে তুলতে এ কথা বল্লুম। :) সরকারী তো বটেই, যাঁরা পাওয়ার সেক্টরের কোনও বেসরকারী কোম্পানিতেও ইলেক্ট্রিকাল বা মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার , তাঁদের সবার ক্ষেত্রেই মোটামুটি এ কথা বলা চলে। আমাদের কোম্পানির কথাই ধরুন, গত তিন-চার বছর ধরে শোনা যাচ্ছে গুটিয়ে যাবে বা রাজ্যের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে ফের বম-বম করে উঠে দাঁড়িয়েছে। আসলে, প্রতি বছর চাহিদা যেভাবে সমানুপাতিক হারে বাড়ছে অদূর ভবিষ্যতেও পাওয়ার সেক্টরের কোনও ক্ষয় দেখি না। আর প্রতিদ্বন্দ্বীও এখানে কিঞ্চিত কমই। তাই...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন