• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • LoveinCentralPark, NewYork.

    Monorama Biswas
    বিভাগ : অন্যান্য | ১৫ নভেম্বর ২০১১ | ৩৫ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • Monorama Biswas | 71.167.46.249 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ০৭:০৬503121
  • রিকশায় চড়া নিয়ে আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, আজ সেই রিকশায় চড়া নিয়েই লিখছি। আমি নিউইয়র্কে রিকশায় চড়েছিলাম আচমকা। আমি নিজেও জানতাম না যে ঐদিন রিকশায় চড়ব, তাও আবার অচেনা-অদেখা এক লোকের সাথে।

    আমার বড় ছেলের স্কুল ম্যানহাটানের সে¾ট্রাল পার্কের কাছে। আমি অনেকবার ঐ স্কুলে গিয়েছি। বলতে গেলে প্রত্যেক মাসে একবার কিংবা দু'বার। টিচার বা থেরাপিস্টের সাথে কথা বলে অপেক্ষা করতাম ওর স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত। ছুটি হলে আমরা মা-ছেলে দু'জন একসাথে খেয়ে-দেয়ে বাসায় আসি। এই অপেক্ষার সময় আমি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াই। স্কুলের কাছেই কলম্বাস সার্কেল,তার সাথে সে¾ট্রাল পার্ক। এখানে আছে একটা বড় মূর্তি, চারদিক ঘিরে ফোয়ারা। আমি এই ফোয়ারার মাঝখানে, মূর্তির পাদদেশে বসে-বসে ম্যাগাজিন পড়েছি, সামনেই একটা টিভি চ্যানেলের বিশাল উঁচু বিল্ডিং। বিল্ডিংটা ঝকঝক করতে থাকে। এই বিল্ডিং-এর ভিতর মার্কেট, বইয়ের লাইব্রেরি আছে। আমি এই মার্কেটের ভিতরটাও অনেকবার ঘুরে-ঘুরে দেখেছি। এই দেশের মানুষ যে কত বড়লোক, তা যদি আমি এই দোকানগুলোর জিনিস না দেখতাম, তা হলে বুঝতে আরও সময় লাগত। এক-একটা ভ্যানিটি ব্যাগের কি যে দাম! কি সুন্দর সেই ব্যাগ! দোতলায় আছে বিশাল লাইব্রেরি, অনেকবার গিয়েছি ছেলের সাথে। ছেলে তো বই পাগল, ও বই পড়ে আমি কফি সপে বসে কফি খাই আর ফেসবুকে চোখ বুলাই আমার সেল ফোনে।

    একদিনের স্মৃতি আমার খুব মনে পড়ে। আমি বুড্ডিজমের উপর একটা ম্যাগাজিন নিয়ে ঝরনার মাঝখানে মূর্তির পাদদেশে বসে পড়ছিলাম, পড়তে-পড়তে এতই তন্ময় হয়ে গিয়েছিলাম যে ঝরনার কুলুকুলু রব ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার কানে ঢুকছিল না। এই ঝরনার চতুর্দিক দিয়ে দ্রুত বেগে কত গাড়ি ছুটে চলেছে, কিন্তু কোনো শব্দই আমার কানে আসেনি। এত কোলাহল, অথচ কিছুই টের পাইনি। বুদ্ধের দর্শন আমাকে অনেক শান্তি দেয়।

    এই সপ্তাহের প্রথম দিকে আবার ছেলের স্কুলে গেলাম, মিটিং শেষে বাসায় ফেরার পথে দেখি কলম্বাস সার্কেল, রিকশা, সে¾ট্রাল পার্ক। এই রিকশা দেখলেই আমার বুকের ভিতর ছ্যাঁত করে ওঠে। আমি এমন সমাজে জন্মেছি, এমন সমাজে বড় হয়েছি, ছোটকাল থেকেই আমার ব্রেনের ভিতর কিছু সংস্কার ঢুকে আছে, যেটা থেকে আমি বিমুক্ত হতে পারিনি। এই যেমন বিবাহিতা মহিলা কোনো পুরুষের প্রেমে পড়তে পারবে না, পড়লে সেটা হবে পাপ, পাথর ছুঁড়ে মারার মতো পাপ। রবি ঠাকুরের মতে— 'মানুষ কি লোহার কল,যে ঠিক নিয়ম মেনে চলবে? মনের কত বিস্তৃত গতি, একটু এদিক-ওদিক তো হতেই পারে।'

    সেদিন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, আমার কাছে কোনো ছাতা ছিল না, এ দেশের বৃষ্টি অবশ্য বাংলাদেশের শর্ৎ কালের বৃষ্টির মতো। এই আসে তো, ঐ চলে যায়। আমি সে¾ট্রাল পার্কের কাছে গিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়লে কত ভাড়া,রিকশায় চড়লে কত ভাড়া ইত্যাদি কৌতূহল বসত জিজ্ঞেস করছিলাম। এটা আমার একটা বাজে স্বভাব, খালি দাম জিজ্ঞেস করা। একটা লোক (দালাল) বলতেছিল— সে¾ট্রাল পার্কের ভিতর কী-কী দেখতে পারবো ইত্যাদি। সেখানে আরও লোকজন ছিল। আমার পাশেই দাঁড়িয়ে একজন টুরিস্ট আমার দামাদামি খেয়াল করছিলেন। ভেবেছিলেন আমি বুঝি সত্যি-সত্যি রিকশায় বা ঘোড়ার গাড়িতে উঠব। দালাল লোকটা রিকশা ভাড়া চাচ্ছিল আশি ডলার। এখানেও দামাদামি। আরেকজন রিকশাঅলা এগিয়ে এসে বলল সে পঞ্চাশ ডলার হলে সে¾ট্রাল পার্ক ঘুরে দেখাবে। এই রিকশাওয়ালা ধরে নিয়েছিল, ঐ কালো আফ্রিকান টুরিস্টটা বুঝি আমার চিরচেনা। আমাদের দু'জনকে সে বার-বার তার রিকশায় চড়তে আহ্বান করছিল। আমি তো চড়ব না, কিন্তু সেই সময় শুরু হল বৃষ্টি, আমি দৌঁড়ে গিয়ে রিকশায় উঠে বসলাম, টুরিস্ট লোকটা আমাকে বললেন— 'MayIgetin?' আমি কিছু না ভেবেই বলে ফেললাম— 'Okay!' উনি উঠে বসলেন। একজন অপরিচিত লোকের জন্য যতটা দূরত্বে বসা উচিত তিনি তার চেয়ে একটু অধিক দূরে বসলেন। উনি চাচ্ছিলেন আমি যেন তাঁর সাথে রিকশায় ঘুরি। আমি খুশি মনেই রাজি হয়ে গেলাম। আফ্রিকান লোকটা এই প্রথম আমেরিকা এসেছেন। আমেরিকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে-ঘুরে দেখছেন।

    রিকশাঅলা ধরেই নিয়েছে আমরা দু'জন একসাথে এসেছি, চিরচেনা, কিন্তু না,আমরা কেউ কাউকে চিনি না। তোমরা হয়তো ভাবছ,চিনি না, জানি না, কীভাবে একটা বিদেশি লোকের সাথে রিকশায় উঠে বসলাম। আমেরিকার রিকশা কিন্তু অনেক বড়, পাশাপাশি ৩/৪ জন একসাথে বসা যায়। আর আমি কোনোকিছু ভয় পাইনে, বিশেষ করে পুরুষ মানুষ। এ দেশে পুরুষ মানুষ উলটো মেয়েদেরকে ভয় পায়। ঐ লোকটার স্‌ৎ সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যদি পুলিশকে মিথ্যে করেও কোনো নালিশ করতাম, লোকটার আর দেশে ফিরে যাওয়া হত না। লোকটার সাহস আছে বলতে হবে। উনি ওনার দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক, এ দেশে এসেছেন গবেষণার কাজে, কাজ শেষে আমেরিকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখছেন। ওনার কাছ থেকেই জানলাম, পরদিন স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে যাবেন, এলিস আইল্যান্ডের জাদুঘরে যাবেন, সেখানে নাকি ক্রীতদাসদের স্মৃতি রক্ষিত আছে। আমি বললাম হাডসন রিভারে ক্রুইজে যেতে,আমার ক্রুইজে যেতে খুব ভালো লাগে, উনি আমাকে ওনার সাথে যেতে বললেন, কিন্তু আমি যাই কীভাবে? আমি যে সময়ের কাছে বন্দিনী। রিকশায় বসেই আমরা অনেক-অনেক গল্প করি।

    উনি খুবই জ্ঞানী লোক, দেখলাম আমার চেয়ে অনেক বেশি জানেন নিউইয়র্ক সম্পর্কে। উনি বললেন, এই নিউইয়র্কেই নাকি ব্রিটিশের সাথে শেষ যুদ্ধে কর্নওয়ালিসকে পরাজিত করে ওয়াশিংটন আমেরিকা স্বাধীন করেছিলেন। আমি এর আগে অনেকবার সে¾ট্রাল পার্ক গিয়েছি, তাই দেখার চেয়ে গল্প বলা, বা শোনার দিকে ঝোঁক ছিল বেশি। তখন আমার ভ্যানিটি ব্যাগে সব সময় ক্যামেরা থাকত, আমি ক্যামেরা বের করতেই রিকশাঅলা ক্যামেরাটা নিয়ে আমাদের অনেক ছবি তুলল। সে¾ট্রাল পার্ক কিন্তু অনেক বড় পার্ক। প্রচুর গাছ। উনি এত বৃক্ষরাজি দেখে একটু অবাকই হয়েছিলেন। ওনার নাকি খুব ভালো লেগেছিল। আমি ছেলেদের নিয়ে অনেকবার গিয়েছি, কিন্তু ঐদিন যত ভালো লেগেছিল, আগে কখনো লাগেনি। রিকশা এক সময় লেকের পাশে এসে থামল, রিকশাঅলা বলল— 'তোমরা লেকের পাশে ঘুরে এসো, ছবি তোলো।' আমি তাঁর ক্যমেরা নিয়ে তাঁর বেশ কয়েকটা ছবি তুলে দিলাম। আমার তোলা ছবি দেখে আমার ছবি তোলার গুণগান করলেন। বললেন— 'তোমার তো অনেক গুণ।' আমি শুধু হাসছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি যেন একটা কিশোরী মেয়ে। লেকের ভিতর কেউ-কেউ নৌকা চালাচ্ছিল, কিছু জলচর পাখি ভাসছিল। সব কিছুই অপরূপ লাগছিল। পুণ্যবান মানুষ স্বর্গে গেলে কী দেখতে পায়? এগুলৈ তো। মনে-মনে ভাবলাম ব্যাসদেব মনে হয় আফ্রিকা গিয়েছিলেন, না হলে উনি কৃষ্ণের গায়ের রং কালো বানালেন কী করে?
    লেকের পাড় থেকে উঠেই দেখি,কিছু বাংলাদেশি লোক আইসক্রিম বিক্রি করছে,আমি সচরাচর আইসক্রিম খাই না, আমি উনাকে বললাম— 'এরা আমার দেশি, আমি আইসক্রিম খাব',বলেই একটা আইসক্রিম তুলে নিলাম। উনি হয়তো এটার জন্যে প্রস্তুত ছিলেন না। যা হোক, উনিও একটা আইসক্রিম নিলেন। আমি ভ্যানিটি ব্যাগে হাত দেওয়ার আগেই উনি দাম দিয়ে দিলেন। আবার রিকশায় চড়লাম। আবার গল্প! দু'জন অপরিচিত নর-নারীর মধ্যে কী গল্প হতে পারে? আমরা যদি ডাক্তারি ভাষায় কাউকে বিচার করি, তা হলে কিন্তু কেউই অপরিচিত নয়। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়ো-কেমিস্ট্রি— সবারই তো এক। সবাই সবার চিরচেনা। পার্থক্য শুধু মনোজগতে। বাইরের আবরণ তো কোনো ব্যাপার না।

    যাঁকে আমি চোখে দেখিনি, তাঁর সাথে একান্ত আপনভাবে গল্প করা, এ এক অন্য রকম অনুভূতি। অন্তত: এখন আমার তা-ই মনে হচ্ছে। লোকটা ছিলেন জ্ঞানী, তাঁর জ্ঞানের কাছে আমি হলাম শিশু। তবুও তিনি নাকি আমাকে খুব পছন্দ করেছেন। কেন করেছেন জানি না। আমি জ্ঞানীলোক পছন্দ করি, বাহ্যিক চেহারা বা অবয়ব কিংবা গায়ের রং কোনো ব্যাপার না। বয়সও না। বয়সে তিনি আমার চেয়ে বেশি বড় নন, তবুও আমার কাছে মনে হল উনি জ্ঞানবৃদ্ধ । হঠাৎ উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি 'বলকান' এলাকার মেয়ে কি না? আমি বললাম—'আপনার এমন মনে হল কেন?' উনি বললেন— 'তোমার গায়ের রং দেখে মনে হল।' আমি বললাম— 'আমি বাংলাদেশি', উনি অবাক হয়ে বললেন— 'ওখানকার মানুষের রং তো ব্রাউন!' তিনি বললেন— 'তোমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু খুব ভালো লোক ছিলেন, তোমরা তাকে মেরে ফেলেছ।' তিনি অবাক করে দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি রবীন্দ্রনাথকে চিনি কিনা? তিনি বললেন, তিনি রবি ঠাকুরের অনেক লেখা পড়েছেন। 'আফ্রিকা' নামক কবিতা নাকি তাঁর দেশের কোনো কবির পক্ষেও লেখা সম্ভব হয়নি। উনি বললেন— 'তোমরা তো এক উন্নত সভ্যতার উত্তরাধিকারী, গান্ধীর মতো মহান মানুষ জন্মেছে তোমাদের উপমহাদেশে, তাঁকেও তোমরা হত্যা করেছ।' শুনে লজ্জা পেলাম, বললাম— 'যিশুকেও তো ক্রুশবিদ্ধ করে মারা হয়েছে!' অবাক হওয়ার তখনও অনেক বাকি, আমার সমস্ত চিন্তাকে অবশ করে দিয়ে তিনি বললেন— 'জগতের সর্বকালের সেরা দার্শনিক মহামতি বুদ্ধ, তিনিও তো তোমাদের এলাকায় জন্মেছিলেন!' আমি বললাম— 'আপনি এত কিছু জানলেন কীভাবে?' তিনি বললেন—'আমি যে ইতিহাসের বাসিন্দা!' এরপর তিনি তাঁর দেশের কালো মানুষদের দু:খের কথা বলতে চাইলেন। আমি বললাম— 'থাক, এ বিষয়ে আমি য্‌ৎসামান্য জানি।' উনি জেনে খুশী হলেন যে আমি কালোদের জন্যে কাজ করছি-জাতি সংঘের তরফ থেকে। আমার একটা কার্ড তাঁকে দিলাম।

    এই যে আমরা একসাথে ঘুরলাম, লোকটি একবারও আমার শরীর স্পর্শ করলেন না। এই দেশে দেখা হলে বা বিদায় নেওয়ার সময় একে-অপরকে হাগ করে, কিস করে। এক অবর্ণনীয় গভীর চাহনির উঙ্কÄল চোখ দু'টি যেন আমাকে আবিষ্ট করে রাখল। ভেবে পাচ্ছি না, এ কি মর্তের মানুষ,না ভিন গ্রহের কেউ! মনে-মনে ভাবলাম তা হলে ঈশ্বর এতদিনে আমার কল্পনার সুহৃদকে এই স্বর্গ-উদ্যানে পাঠিয়েছেন। রিকশা থেকে নেমে আমরা হেঁটে-হেঁটে পাতাল রেলের দিকে চললাম। উনি বললেন, উনি আবার নিউইয়র্ক আসবেন, এলে আমাকে কল করবেন (ডাক দেবেন)। আমি আস্তে-আস্তে পাতালে ঢুকে পড়ি,বাইরে বৃষ্টি, হয়তো এই মুহূর্ত নিয়েই রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, 'এমন দিনে তারে বলা যায় ...।' ট্রেনে বসে মনে হচ্ছিল ফিরে যাই, ওনার সাথে গল্প করি। আবার সেই ডাক হরকরার কথা মনে পড়ল, 'জগতে কে কার ...।'

    তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন, আবার আসবেন, আমাকে নিয়ে হাডসনে ভাসবেন। রহস্যময় ভঙ্গিতে বলে গেলেন, চাইলেই নাকি তিনি আমাকে দেখা দেবেন। আমি তাঁর ডাকের আশায় কান পেতে রই। আমি রোজই কল্পনা করি তিনি এলে তাঁকে এই গানটা শোনাব—'আমি চিনি গো চিনি ওগো বিদেশিনী ...।' শ্যামল মিত্রের ঐ গানটার কথাও তাঁকে বলব—'আমি দেখে এলেম তারে, সাত সাগরের পাড়ে ...।' আর জিজ্ঞেস করব এই গানের সাথে তাঁর অনুভূতি কতটুকু মেলে। হাজার হোক, দুই দেশের, দুই ভাষার, দুই বাসিন্দা। তাঁর সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে আমার কানে সব সময় বাজে—'একা মোর গানের তরী, ভাসিয়েছিলাম নয়ন জলে ...।'

    কত বন্ধু আমার লেখার সমালোচনা করে, কিন্তু হায় আমার এই পরম বন্ধু তো কোনো খবর নেন না। এক রাতে মনে হল তিনি আকুল স্বরে বলছেন— 'সে¾ট্রাল পার্কের বৃক্ষরাজি ঠিক আছে তো!' আমি খুশিতে উত্তর দিতে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার কঠিন বিছানার 'পরে! তিনি তো আমার ভাষা জানেন না। মেয়েরা আবেগ দ্বারা তাড়িত, পুরুষেরা বুদ্ধি দ্বারা। আমি যেভাবে তাঁকে অনুভব করি, তিনি কি তা করেন? নাই বা করলেন, আমার কল্পনার প্রেম তো আর মিছে নয়।
    ‘প্রেম যদি খেলা হত, ভাল হত তবে
    এ জীবন কেটে যেত নিশ্চিন্ত নীরবে।
    শুধু কল্পনার সুখে, দূরে র'লে তুমি,
    সংসার হল মোর শূন্য মরুভূমি।'
  • Sibu | 108.23.41.126 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১৫:৩৯503124
  • লেখার ভাল-মন্দ বলার কোন মানেই হয় না। তবু বলি, বড্ড ভাল লাগল। সবচেয়ে ভাল লাগল লেখার অসংস্কৃত কোনা খামচি। 'লোকটা'। হে ঈশ্বর, আমার পাড়ার বান্ধবীটি তো এই ভাবেই বলত! এ যদি আপনার ইচ্ছাকৃত হয় তো আপনি অনেক বড় লেখিকা মনোরমা।
  • PM | 117.194.39.81 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১৭:০৫503125
  • Name:PMMail:Country:

    IPAddress:86.96.228.84Date:15Nov2011 -- 04:04PM

    আমার আগের কমেন্ট-টা উড়ে গেছে। আপ্নার লেখা ভাল লাগল। ভাষা ঈর্ষনিয় ভাবে সহজ সরল কিন্তু আপনার অনুভুতি প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট। আপ্নার একদিনের বন্ধুকেও ভালো লাগলো আপনার চোখ দিয়ে দেখে।

    শেষ পদ্যটা না থাকলেও চলত।

    আরো লিখুন

  • aka | 168.26.215.13 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১৮:৫১503126
  • মনোরমা আপনার লেখা আগেও ভালো লেগেছিল, এবারেও ভালো লাগল। সহজ, সরল, মেদবর্জিত লেখা।
  • pi | 72.83.76.29 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১৮:৫৩503127
  • হ্যাঁ, আগের আইরিনের লেখাটা নিয়েও বলা হয়নি। ভালো লেগেছিল।
  • rimi | 168.26.205.19 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১৮:৫৮503128
  • আমারো খুব ভালো লাগল।
    রিকশায় চড়ে অপরিচিত টুরিস্টের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘোরা, এভাবে বন্ধুত্ব হওয়া- ভালো লাগল।
    "আমার কল্পনার প্রেম তো মিছে নয়" - ভালো লাগল।
    আর সবচেয়ে ভালো লাগল, সাহস - যে সাহসের অভাবের জন্যে বিপ্লববাবু বাঙালীকে ধিক্কার দিয়েছেন পরকীয়ার টইতে, অথচ নিজেও সেই সাহস দেখাতে পারেন নি। :-)

    তবে একটা কথা, "চিনি গো চিনি বিদেশিনী" আর "দেখে এলেম তারে" - এই দুটো গানের বদলে পরশুরামের কবিতা বেশি অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হত, "আমি চিনি গো চিনি তোমারে / তুমি থাকো মহাপ্রাচীরের ওপারে (অর্থাৎ চীনে), টাকাকে বলো লুপি" ইত্যাদি।

    আর পিএমের সঙ্গেও একমত। শেষের কবিতাটা না থাকলেই ভালো হত।

  • Nina | 12.149.39.84 | ১৫ নভেম্বর ২০১১ ২০:০১503129
  • আমার ভিষণ ভাল লাগল ---এমন প্রাঞ্জল করে একটি গভীর অনুভুতির গল্প আগে পড়িনি---মনোরমা আরও লিখুন প্লিজ!

    "আমি কিছুকে ভয় পাইনা, পুরুষমানুষকে তো নয়ই" ভাল ট্যাগ লাইন :-)))
  • Prantikjon | 202.56.7.130 | ১৬ নভেম্বর ২০১১ ১৮:০৪503130
  • #২৪৮২;#২৫০৩;#২৪৫৪;#২৪৯৪;#২৪৬৩;#২৪৯৫; #২৪৮৮;#২৪৯৭;#২৪৫৪;#২৪৭৪;#২৪৯৪;#২৪৬৪;#২৫০৯;#২৪৭৯; #২৪৭৬;#২৪৮২;#২৪৯৪; #২৪৭৯;#২৪৯৪;#২৫২৭;#২৪০৪; #২৪৭৮;#২৪৭২;#২৫০৭;#২৪৮০;#২৪৭৮;#২৪৯৪;#২৪৮০; #২৪৭৬;#২৪৮২;#২৪৯৪;#২৪৮০; #২৪৮৮;#২৫০৯;#২৪৬৩;#২৪৯৪;#২৪৩৯;#২৪৮২;#২৪৬৩;#২৪৯৪; #২৪৩৮;#২৪৭৮;#২৪৯৪;#২৪৮০; #২৪৫৪;#২৪৯৭;#২৪৭৬; #২৪৭৭;#২৪৯৪;#২৪৮২;#২৫০৭; #২৪৮২;#২৫০৩;#২৪৫৫;#২৫০৩;#২৪৫৯;#২৫০৩;#২৪০৪; #২৪৬৮;#২৪৭৬;#২৫০৩; #২৪৫৩;#২৪৯৫;#২৪৫৯;#২৪৯৭;-#২৪৫৩;#২৪৯৫;#২৪৫৯;#২৪৯৭; #২৪৮৬;#২৪৭৬;#২৫০৯;#২৪৭০; #২৪৭৪;#২৫০৯;#২৪৮০;#২৫২৭;#২৫০৭;#২৪৫৫; #২৪৮২;#২৫০৩;#২৪৫৪;#২৪৯৪;#২৪৬৩;#২৪৯৫;#২৪৫৩;#২৫০৩; #২৪৩৭;#২৪৭৮;#২৪৮৮;#২৪৯৯;#২৪৬৭; #২৪৫৩;#২৪৮০;#২৫০৩;#২৪৫৯;#২৫০৩;#২৪০৪; #২৪৭৯;#২৫০৩;#২৪৭৮;#২৪৭২; #২৪৬৮;#২৪৯৫;#২৪৭২;#২৪৯৫;/#২৪৪১;#২৪৭২;#২৪৯৫;, #২৪৬৮;#২৪৯৪;#২৪৩৩;#২৪৮০;/#২৪৫১;#২৪৭২;#২৪৯৪;#২৪৮০; ।।।
  • ranjan roy | 115.118.236.131 | ১৬ নভেম্বর ২০১১ ২৩:৩২503131
  • মনোরমা,
    আপনি অশেষ ভাগ্যবতী। একটু একটু হিংসে হচ্ছে। এমন অকপট সরল গভীর অনুভূতির লেখার জন্যে।
  • Biplob Rahman | 202.164.212.14 | ২০ নভেম্বর ২০১১ ১৪:৫৬503122
  • মনোরমা,

    অসাধারণ লিখেছেন! এই লেখাটি অনেকদিন মনে থাকবে। ধন্যবাদ।
  • madhuchhanda paul | 14.99.82.252 | ২৫ ডিসেম্বর ২০১১ ২২:৩৬503123
  • মনোরমার লেখটি হৃদয়গ্রাহী । খুব ভালো লাগলো ।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত