এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ফেসবুক থেকে কিছু পুরনো লেখা

    sosen
    অন্যান্য | ১৮ আগস্ট ২০১২ | ২৪০৮২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sosen | 125.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২১:১৫570124
  • দিন বইছে ঝুরঝুরিয়ে। ছোট পুকুর একদম দখলে এনে ফেলেছি আমি। আরো কয়েকজন বন্ধুও এখন আমার সাথে ছোট পুকুরে স্নান করতে আসে। রোববার দুপুরগুলো একঘন্টা, দুঘন্টা, কতবার পুকুর এ পার ওপার। শুধু ডুব সাঁতার দিতে গেলে আচমকা ফিরে আসে সেই পুরনো ভয়। আর আসে ঘুমের মধ্যে ডুবে থেকেও। এখন বার বার ফিরিয়ে ওই স্বপ্ন দেখা অভ্যেস হয়ে গ্যাছে আমার। ভালো করে মনে রাখার চেষ্টা করি, কে ওই মেয়ে? চিনি কি ওকে? হাত বাড়িয়ে যে বিষণ্ণ মুখে তাকিয়ে থাকে আমার পানে! সাঁতার শিখেও আমি স্বপ্নে সাঁতরে গিয়ে ধরতে পারিনা ওর হাত, ডুবেই যাই, তলিয়েই যাই। দম আটকে এলে ঘুমের মধ্যে থেকে প্রাণপণ জেগে ওঠার চেষ্টা করি, জেগে উঠে সেই এক ছবি মনে পড়ে।

    ঘুমের মধ্যে, স্বপ্নের মধ্যে, অদৃশ্যে কোথাও সে নজর রাখে আমার দিকে। শিরশির করে দাঁড়িয়ে ওঠে আমার ঘাড়ের রোম। মিথ্যে নয়, গুণে তার চড়ানই আছে বাণ।

    সেদিন একটা রোববার। হুল্লোড় করে স্নান চলছে। ছ'জন বন্ধু -বান্ধবী পুকুরে রয়েছে, অনেকেই নামছে এপার ওপার থেকে। আড্ডা চলছে তুমুল।

    আগেই বলেছি, এই পুকুরটায় যে যার মত বাঁশের ঘাট বানিয়ে নিত। সেগুলো হত যার যার বাড়ির পার্সোনাল ঘাট। দু' বাড়ির কোনো ঝগড়াঝাঁটি থাকলে তারা একে অন্যকে ব্যবহার করতে দেয় না ঘাট। নতুবা দু তিন বাড়ি মিলে এক একটা ঘাট ব্যবহার করে। আর বাচ্চাদের কেউ আটকায় না। তারা চষে বেড়ায় এদিক ওদিক।

    সেদিন অলরেডি আমার দুবার পুকুর পারাপার হয়ে গেছে। উঠতে যাচ্ছি, এমন সময় ওপারে দেখতে পেলাম আর এক দল ছেলেপুলে নামছে। তারা আমাদের দলকে ডাকলো। চলো আর একবার পার ই হওয়া যাক, এই না বলে আবার চল্লাম ওপার। ওপার অব্দি যাওয়ার আগেই মাঝপুকুরে তারাও চলে এলো। ভেসে ভেসে একটু গুলতানি চলল।

    এবার উঠতে হয়। কিন্তু এসে পড়েছি উল্টো পারের কাছে। দমে আর পোষাচ্ছে না। কোনো একটা ঘাটে উঠে একটু বসে নিয়ে তার পর পুকুর ক্রস করব, এই ভেবে দু চারটি মেয়ে মিলে, ঘোষেদের ঘাটের দিকে সাঁতার দিলাম।

    ঘোষেদের ঘাটে বসে রয়েছে মহা খিটকেল বুড়ো ঘোষ। ছানাপোনা দেখলেই সে খিঁচিয়ে যায়। জল ছিটিয়ে এগিয়ে আসা চারটি মেয়েকে দেখেই সে মহা খচে আমাদের দুচ্ছাই করে তাড়াতে শুরু করলো। লাঠি উঁচিয়ে চেঁচামেচি শুরু করলো। আমরা বাঁশের ঘাটের এদিক ওদিক ছত্রভঙ্গ হয়ে এক একটা বাঁশ ধরে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। আর হাসাহাসি করতে লাগলাম। তারপর আমার সঙ্গীরা যে যার বাড়ির দিকে সাঁতরে গ্যালো। আমিই হয়ে পড়েছিলাম একটু বেশি ক্লান্ত। আরো একটু অপেক্ষা করতে লাগলাম।

    বুড়ো ভয়াবহ খিঁচিয়ে আমায় বললে-যা যা শিগগির এখান থেকে যা-আরো কিছু ভালোমন্দ বাণী, ভুলে গেছি আজ। আমি হঠাত রেগে গেলাম, বললাম, কি করবে তুমি ঘাটে এলে? উঠবোই তো, বসবই তো, তোমার ঘাট না কি?

    বলে আমি চট করে উঠে বসলাম সেই ঘাটে। আসলে ক্লান্ত শরীর কিছু রেস্ট চাইছিল, ভেবেছিলাম হয়ত বুড়ো চেঁচামেচি করবে, সেই ফাঁকে একটু বসে নেব।

    কি করব, দেখবি? বলে সহসা এগিয়ে এলো দুটো হাত, আমায় ঠেলে ফেলে দিল জলে। সোজা জলে পড়লে হয়ত কিছুই হতনা, পড়লাম ঘুরে ঘাটের এক কোনাচে, মাথায় লাগলো, বাঁশের এক কোনা। সহসা আঘাতে চোখে অন্ধকার দেখতে দেখতেই পায়ে জড়িয়ে গেল ঘাটের পাশে শাপলার লম্বা ডাঁটা। আবার আমি ডুবতে শুরু করলাম। যতই পা ছুঁড়ি ততই জড়িয়ে ধরে ডাঁটা। কাঁটায় আটকে যায় আমার লম্বা জামা। আবার মাথার ওপর উঠে আসে সেই ভারী, আঠালো জল, আর চোখের পাতায় এসে ধাক্কা দেয় সেই করুণ মুখ, হাত বাড়িয়ে থাকা জলবালিকা।
    নাক বন্ধ করি। মুখ বন্ধ করি। ডুব সাঁতার দিতে আমি পারিনা, জলের নিচে গেলেই দম আটকে যায় আমার। কিন্তু আজকে প্রাণপণে নিচু হয়ে জামা আর কাঁটা ছাড়াবার চেষ্টা করতে থাকি। ওই বাড়িয়ে থাকা হাত ধরতেই হবে আজ। কিছুতেই না, কিছুতেই না, এত কষ্টের পর কিছুতেই জিততে দেব না জলের দৈত্যকে। আমি মৃত্যুকে দেখতে পাই, কিন্তু এই মৃত্যুকে তো আমি চিনি। একবার যদি অন্য কেউ বার করে নিয়ে এসেছে আমায়, এই দফা আমাকেই বাঁচাতে হবে আমাকে, চেনা মৃত্যুকে দুবার কেন ভয় পাব? আমি দম বন্ধ করি। না, আমার ফুসফুসেও অন্য সবার মতই জোর। পারব ই, নিশ্চয় পারব। জলের নিচে চোখ কষ্ট করে খুলে দেখার চেষ্টা করি লতা পাতা ফ্রকের ফুলছাপ, হাতড়াই আর ছাড়িয়েও ফেলি। আর সঙ্গে সঙ্গেই ভুস করে ভেসে উঠি। নিজে নিজে। একা একা।

    মুখ তুলে হাঁপ ছেড়ে দেখি সেই বুড়ো বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। সে একেবারেই ভাবেনি, আমার লাগতে পারে। আমি ডুবে যেতে পারি। চারিদিকের ঘাট থেকে প্রচুর লোকজন চেঁচামেচি করছে। সোজা সাঁতরে আসি এপারে, প্রায় ছ-সাত মিনিট ধরে, এসে ঘাটে উঠে বসা মাত্র মা এসে টেনে নেয় আমায়। চতুর্দিকে সবাই কলরোল করে বলতে থাকে, মেয়েটা দু-বার বাঁচলো, দুবার! টের পাই, কপালের ক্ষত জ্বালা করছে, রক্ত গড়াচ্ছে। ওপারে বুড়োকে সকলে যা নয় তাই বলছে। কিন্তু মনটা বেশ ফুরফুরে লাগে এইবার।

    রাত্রের স্বপ্নে অথৈ জল ফিরে এলেও আর ভয় পাই না। মনে হয়, ওই বাড়ানো হাত আমারই, ধরতেও হবে আমাকেই। মুঠোর উপর ছোট্ট কালো আঁচিলটাও দেখতে পাই যেন, যেমনটা আছে আমার নিজের হাতে।
    আজও, মাঝে মাঝেই ফিরে আসে সেই স্বপ্ন। কিন্তু আমি ঘেমে উঠে বসি না। জাগি না। চেষ্টা করে যাই, স্বপ্নের মধ্যে যদি একবারও ধরতে পারি ওই ছোটো হাত, ছুঁতে পারি আমার অন্য আমিকে।

    ________________________________________________________________________________________
  • sch | 125.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:০১570125
  • আপনি আত্মজীবনী লিখুন সোসেন - দশ বছরেই এত্ত কিছু করেছেন - বাকি দশে আর কত্ত কি না জানি করেছেন - শিগগির লিখতে থাকুন আর আমরা পড়তে থাকি। অসাধারণ লেখা - কি মশাই আপনি রিসার্চ করছেন - ফুলটাইম লেখিকা হোন
  • I | 24.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:০২570126
  • ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর লেখা ! গা শিরশির করছিল।
    আমিও ফ্যান হয়ে গেলাম। গুরুতে এত ভালো ভালো লিখিয়ে কোত্থেকে আসে! তারা কেন সিরিয়াসলি লেখে না তবে! সব ফেলে দিয়ে শুধু লেখা !
  • siki | 24.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:১১570127
  • দুটোই সত্যি ঘটনা? মাই গুডনেস! দ্বিতীয়টা পড়ে আমি ভাবছিলাম গল্প বলছো নিশ্চয়ই ...
  • sosen | 125.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:১৪570128
  • আরে! নিয্যস সত্যি কথা !
  • | 24.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:১৫570129
  • একদম তোমার সাথে সাথে ডুবে ভেসে উঠলাম। অসহ্য ভাল।
  • pinaki | 24.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২২:৪১570130
  • সত্যিই গা শিরশিরে লেখা। আরো ভালো লাগলো, কারণ আমিও দুবার জলে ডুবতে ডুবতে বেঁচেছি। তাই কিছু মুহুর্তের সাথে আইডেন্টিফাই করতে পারলাম মনে হল। তবে আমার ক্ষেত্রে কোনোবারই এতটা সিরিয়াস জায়গায় যায় নি। তার আগেই কেউ না কেউ সেভ করেছে। কিন্তু রিস্কের দিক দিয়ে দুটোই খুব ডেঞ্জারাস ছিল। একটা অদ্ভুত ফীলিং এর কথা বলি। প্রথমবারের তুলনায় আমি দ্বিতীয়বার জলে খাবি খেয়েছি অনেকটা বেশী সময় ধরে। কিন্তু সেবারে অনেক সাঁতার জানা বন্ধু ছিল জলে। তাই বেঁচে যাওয়ার চান্স বেশী ছিল। বেঁচে গেছিও। কিন্তু প্রথমবারটায় আমার বাঁচিয়েছিল ক্লাস ফাইভ না সিক্সে পড়া একটা বাচ্চা। খুব একটা খাবি খাওয়ার আগেই। কিন্তু এখন ভাবতে গিয়ে দেখি, সেই প্রথমবারের ঘটনাটাই মনে ছাপ রেখেছে বেশী। কারণ, মনে হয় অবচেতন যখনই ঘটনাটাকে র‌্যাশনালাইজ করতে যায়, তখনই সে বুঝতে পারে, আসলে সেবারে (প্রথমবারে) বেঁচে ফিরে আসাটা নেহাৎই কাকতালীয়। অতটুকু বাচ্চার ওটা পারার কথা ছিল না। তাই সত্যি বলতে জলের তলায় ধীরে ধীরে দমবন্ধ হয়ে আসার কোনো স্মৃতি আমায় তাড়া করে না। যেটা মাঝে মাঝে মনে আসে - সেটা একটা অস্বস্তি। কি হত যদি বাচ্চাটা ঠিক সময়ে ঠিক কাজটা না করত?

    তবে সাঁতার আমি এখনো শিখে উঠতে পারি নি। ডুবজলে যে কোনো সাঁতার জানা লোকের ভরসায় নেমে পড়ার সাহসটা চোট খেয়ে গেছে। তবে প্রফেশনাল ট্রেনার এর কাছে শেখার সুযোগ পেলে আবার একটা ট্রাই নেওয়ার ইচ্ছে আছে।

    যদিও সোসেনের এই লেখাটা মোটেও কেবল ডুবতে বসার অভিজ্ঞতা আর সাঁতর শেখা না শেখা বিষয়ক নয়। তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু। সেটাকে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঐ জায়গায় রিডিউস করে ফেলতে খারাপ লাগল। তবু শেয়ার করার ইচ্ছেটাকে চেপে রাখতে পারলাম না।
  • ম্যাক্সিমিন | 69.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২৩:১৪570131
  • টেনশন ছিল। পড়ে ভালো লাগল।
  • ম্যাক্সিমিন | 69.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২৩:১৮570132
  • পিনাকীর অভিজ্ঞতাও ইন্টারেস্টিং। প্রথমবারেরটাই ছাপ রেখেছে বেশি।
  • aka | 178.*.*.* | ২৯ নভেম্বর ২০১২ ২৩:৫৪570134
  • সোসেনের লেখা অদ্ভূত ভালো।

    আমি সাঁতার জেনেও দুই বছর আগে আপাতদৃষ্টিতে নেহাতই সহজ সরল গোলগাল জায়গায় ডুবে যাচ্ছিলাম, নীচে এডি কারেন্টের জন্য। ঠিক সময়ে লোকজন এসে চেন ফর্ম করে তুলেছিল।
  • pipi | 139.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ০০:২৯570135
  • বাহ!
  • sosen | 125.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ০৮:৩৬570136
  • আরে সবাইকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য। তবে ইহা সকলি নিখাদ সত্য। স্বপ্নটি ও।
  • a x | 118.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ০৯:৪৩570137
  • পড়তে পড়তে আমারও কেমন ভয় চেপে ধরছিল! ঠিক দম যেমন বলল, সঙ্গে সঙ্গে যেন ডুবছিলাম - অদ্ভূত ডিটেল! আরো লেখো!
  • a x | 118.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ০৯:৪৪570138
  • ইন্দোর কথা শুনে ইন্দোকে বেদম পিট্টি দিতে ইচ্ছে করল!
  • nina | 79.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ১০:১৪570139
  • সোসেনের লেখায় অতল জলের আহ্বান---মন ডুবে আছে----আর বলছে আরও ডুবতে রাজি আছি আমি ডুবতে রাজি আছি-----
  • de | 190.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ১০:৫৬570140
  • উফ!! সোসেন! আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো --- গা শিরশির করে উঠলো --

    কি ভালো, কি ভালো !! আমি বড়াইয়ের কথা সাপোর্টালুম, সিরিয়াসলি লেখা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত তোমার!
  • ঐশিক | 132.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ১২:৩১570141
  • সোসেনদি গোবেল আপনার হবেই হবে, আরো লিখুন।
    আপনি মশাই সাংঘাতিক লোক, যেমন ছবি-তেমন রান্না আর লেখা তো ছেড়েই দিলুম।
    এরকম লেখা পড়ার জন্যই গুরুতে ফিরে ফিরে আসি।
  • sosen | 24.*.*.* | ৩০ নভেম্বর ২০১২ ১৪:৪৪570142
  • সবাইকে ধন্যবাদ। আমি খুব ই এক্সিডেন্টপ্রোন, বার কয়েক মরে বেঁচেছি। তবে জলে ডোবা টা লেখা একেবারে অন্যকারণে। এই সময় থেকে মৃত্যু নিয়ে প্রচুর ভাবনা চিন্তা পড়াশুনো শুরু করি। এখনো, মৃত্যুবোধ আমাকে সব সময়ই হন্ট করে। যার শুরুটা বোধ হয় ওই সময়ে হয়েছিল। তাই লিখব ভাবছিলাম অনেকদিন ধরে। আবার পরেরটা কখন লিখব কে জানে। :)
  • nina | 79.*.*.* | ০১ ডিসেম্বর ২০১২ ০৩:৩০570143
  • সোসেন
    মৃত্যুবোধ নিয়ে আরও লেখ প্লিজ----তোমার দেখার চোখ --অনুভব করার বোধ সব খুব স্বচ্ছ----তোমার হাত ধরে তাই অনেক অজানাকে জানতে, অচেনা কে চিনতে ইচ্ছে করছে।

    আর ছবি ও লেখার স্বাদ তো অবশ্যই অসা--
    কিন্তু ঐশিক রান্নার স্বাদও পেয়েছে--এইবার একটা সলিড হিংসে দিলুম ঐশিককে ঃ-(।
  • sosen | 125.*.*.* | ০১ ডিসেম্বর ২০১২ ০৭:৫৪570145
  • সেই তো নিনাদি , আমি তো ঐশিককে রেঁধে খাওয়াই নি? রেসিপির স্বাদের কথা কইছে বোধহয়।
  • T | 24.*.*.* | ০১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৪:৪৫570146
  • এতদিনে পুরোটা পড়লাম। খুব ভালো লাগল।
  • kiki | 69.*.*.* | ০১ ডিসেম্বর ২০১২ ১৯:৫১570147
  • বাঃ
  • ঐশিক | 132.*.*.* | ০৩ ডিসেম্বর ২০১২ ১০:২৩570148
  • @নিনাদি,
    আমায় কেউ কিছুই রেধে খাওয়ায় নি, আমি নিজেই রাঁধি নিজেই খাই, কিন্তু সোসেনদির রেসিপি গুলো বেশ সরেস। কেউ নেমন্তও করে না আজকাল :(
  • achintyarup | 69.*.*.* | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ ০৪:৪৩570149
  • তারপর?
  • sosen | 125.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ১৮:৩১570150
  • এসব কোনো বিস্মৃত যুগের কথা। যখন অট্টালিকা ভেঙ্গে পড়ে ঝুর ঝুর, কোনো শরিকে পিদিম জ্বালে না। এক এক করে রাণীমার শীর্ণ দেহ থেকে গহনা খসিয়ে নেওয়া হয়। অবাক ছোট ছোট চোখের সামনে সাদা বিয়ের মনোগ্রাম করা রুমালে বাঁধা হয় অন্নপ্রাশনের মটরমালা- পোখরাজ বসানো শিশু-আংটি, বাঁধানো আনন্দমেলা "কাগজ আছে গো, পুরনো কাগজ " গাড়িতে উঠে গড়গড়িয়ে কোথায় চলে যায়। গরমের ছুটির ধোঁয়াটে দুপুর বাক্স-বিছানায় রোল হয়ে ম্যাটাডরে ওঠে। নতুন কোনো অজানিতের উদ্দেশ্যে।

    সে এক অজানা দেশই বটে। এক বিরাট খাঁ খাঁ মাঠের এক কোনায় এক চিলতে ইঁটের বাড়ি, আক্ষরিক অর্থেই ইঁটের, নেই তার গায়ে সিমেন্ট কিংবা রঙের ধোঁকা, মাথায় তপ্ত টিনের চাল। সামনে এক মেঠো উঠোন, তার এক কোণে স্নানের ঘর, স্নিগ্ধতা-হীন, মাথায় নেই তার লজ্জাবরণ, দরজায় এক পুরনো টিন ঠেস দেওয়া। এক গহীন কুয়ো। জানালায় নেই জানালা, হাঁ করা গর্ত শুধু, পায়ের নিচে লাল সিমেন্টের জায়গা নেয় ঝুরঝুরে মাটি। কোথায় আঁটে এই ছোট ঘরে কারুকাজের বই আলমারি, আমার শঙ্খ, সুনীল, সমর সেন, রাজলক্ষ্মী, জীবনানন্দ? মস্ত দরজা টানা টিভি কারা যেন কিনে নিয়ে যায়। আমাদের তো কারেন্টই নাই এই নতুন রাজপাটে। আমি নতুন আমকাঠের গন্ধঅলা দরজার পেছন থেকে লুকিয়ে চুরিয়ে দেখি। বলে দিতে ইচ্ছে হয়, ওগো, ও যে বুড়ো টিভি, ওর বাম দিকের দরজা যত্ন করে টেনো, একটু আটকে যায়। কিছু বলিনা। কে যেন আমার সব কথা চুরি করে নিয়ে গেছে।
    এখানে সব ছেলেপুলেরা খস্কুটে কালো অযত্নে, মুখে তাদের অনি:শেষ গালাগালি, নতুন কোনো ভাষা যা শেখা হয়নি আমার। পুকুর আছে বটে, স্নিগ্ধ জল নাই, ছায়া নাই, ঘাটের রানা নাই। রাত্রে হ্যারিকেনের আলোয় পড়তে বসি। এবছর এখনো কোনো বই কেনা হয়নি আমার। দু একটি পুরনো বই ছাড়া। এ তল্লাটে ইস্কুলের বাস আসেনা, এই প্রথম পাবলিক বাসে করে ইস্কুল যেতে হবে আমায়। সে তো লম্বা গরমের ছুটি ফুরোলে, কিন্তু এ ছুটি তো কিছুতেই শেষ হয় না!
    টিনের চালের গরমে পিঠ, শরীর লাল করে অজস্র, ব্যথাময় ঘামাচি বেরোয় আমাদের। মায়ের আর আমার গায়ে সে ঘামাচি ইনফেকশন হয়ে ওঠে। আমরা পাউডারে বোরিক এসিড মিশিয়ে গায়ে লাগাই। বাবা রোজ টাকার সন্ধানে ফেরে, না হলে ফ্যাক্টরি চালু হবে না আমাদের, তার জন্য বানাতে হবে এক চুল্লি, অনেক টাকা, অনেক টাকা লাগে তাতে, কত টাকা কে জানে। বাবা আর কবিতা পড়ে না, হিসেব লেখে শুধু। ছোট্ট ভাই ভর্তি হয় কাছেই সবচেয়ে ভালো এক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। পড়াশুনায় আপস আমাদের বাড়িতে চলে না, তাই তাতেও নাকি বেশ টাকা লাগে। টাকা বলে একটা এত জরুরি জিনিস হয়, তা জানতে পেরে আমার গলার কাছটা ব্যথা করে, পাটিগণিতের পাতায় কত টাকা। কোনটাই সত্যি নয় কেন? মা বলে আত্মীয়স্বজনেরা নাকি দু:খের দিনে দূরে সরে যায়। তাই হয়, কেউ আর আমাদের বাড়ি আসে না। নতুন এ দিগরে একলা আমরা।

    এখানে আছেন এক রিফিউজি সেনগুপ্ত পরিবার। দেখা যায়, তাদের সাথে আমাদের আত্মীয়তা আছে। তাঁদের বাড়িটি লোকালয়ের প্রান্তে, পাশে পুকুর, তারপর দিগন্তবিস্তৃত ধানক্ষেত। সে কি হাওয়া; ঠান্ডা হাওয়া নিভিয়ে দেয় স্টোভ, উড়িয়ে নেয় সব কাগজ কাপড়, দীর্ণ রাতের ক্লান্তি। ধানক্ষেতের মাঝে দাঁড়ালে আমাকে আর দেখা যায় না। সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর, আমার চোখ দিয়ে বোকা বোকা জল গড়ায়। একটি মৃত্যু, আর তার সাথে সম্পর্কহীন আরেকটি পতন আমায় নড়া ধরে হিড় হিড় করে টেনে এনে রৌদ্রতপ্ত এক দিগরে দাঁড় করিয়ে দেয়। যেখানে আর কে কার অবলম্বন, কেউ নয়। কেউ বড়, বুঝদার নয় আর, সবাই অন্ধকারের সামনে একই রকম ভীত, আমার বাবা, মা, অন্ধকারের মধ্যে হাঁটুতে মুখ গোঁজা একই রকম অসহায় সিল্যুয়েট। আমার দু হাতে আর কোনো ভর নেই, কারুকে বলার কিছু নেই, ছোঁয়ার মত শরীর নেই একটিও। আমিই আমার মা এখন থেকে।

    ওই প্রান্তিক বাড়ির ছোট মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে বছর সাতেক আগে। তার পুরনো বইয়ের ট্রান্ক ঘেঁটে কিছু বই পাই আমি। ক্লাস সেভেনের অঙ্ক বই, তার অর্ধেক উইয়ে খাওয়া। প্রশ্নমালা ৫ থেকে অঙ্ক শুরু করি, তার আগেটা পুরোই উধাও । একটা খাতায় পেন্সিলে লিখে, তারই উপর পেন দিয়ে লিখি, দুবার লেখা যায় তাতে। রাতের লন্ঠনের আলোয় আমরা যখন পড়তে বসি, বিকট চিত্কারে মাঠে খেলে বেড়ায় শিশুকুল, তাদের মায়েরা ও বাপেরা উদ্দাম ঝগড়া করে। অসুবিধা হচ্ছে জানালে তারা আমাদের নিয়ে হাসে, বলে বেশি শিক্ষিত! আমরা গুটিয়ে যাই।

    বাড়ির পিছনে এক অনি:শেষ কচুবন। তা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। কচুর শাক, কচু পাতা বাটা, আলু, ভাত, সর্ষের তেল। কদাচিত আত্মীয়-পুকুরে মাছ ধরা হলে মাছ খেতে পাই। এক বিহারী মুদি আমাদের ধারে রসদ যোগায়, এক নিতান্ত অচেনা কাগজ ওলা কি করে যেন বুঝতে পারে, ছাপার অক্ষর ছাড়া আমরা বড় দু:খী। সে আমাদের আনন্দবাজারটি দেয়। তবু এক এক রাতে গরমে ঘুম হয়না যখন, উঠে বসে দেখি, বাবা অমনি চুপ করে বসে আছে। একটু একটু কাঁপছে ফর্সা, সুঠাম শরীর।

    দাঁতে দাঁত চেপে নিজের কানে ফিসফিসিয়ে বলি "শোনো হে মেয়ে। কেউ যেন জানে না, কেউ যেন জানতে পায় না। এ রাস্তা কেটে সমান করার দায় তোমার।"
  • dd | 132.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ১৮:৪৮570151
  • বাপরে বাপ।
    সোসেনের লেখা যেনো কামড়ে দ্যায়।
  • pharida | 192.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ১৮:৫৩570152
  • সত্যিই, ভিত নাড়িয়ে দেওয়া লেখা
  • | 24.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ১৮:৫৮570153
  • আমি চিনি ওকে।
    পেন্সিলের ওপরে নীল কালি, তার ফাঁকে লালকালি, তাতেই বাড়ীর অঙ্ক, লেখা। ওতে অনেকদিন চলে টনসুতো দিয়ে সেলাই করা খসটে খাতা .................
  • sosen | 111.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ২০:০৮570154
  • ইস্কুল খোলে ছুটির শেষে।
    এক আছে বই-খাতার দোকান এ বাজারে। তার নাম বৈতরণী। বৈতরণী -কাকুর সঙ্গে প্রচুর খেজুরে আলাপ করে শেষটায় একটা ডিল সেট করে ফেলে বাবা। বৈতরণী -কাকু কিঞ্চিত কানে খাটো, ভারী বিরক্ত হয়ে থাকেন তাই। কি করে যেন, তাঁর সদাবিরক্তির অবরোধ ভেঙ্গে ভাই এবং আমার বইপত্রের কিছু যোগাড় হয়, অনিশ্চিত সময়ের ধার কর্জে।

    এ রাস্তায় চলে ৯১ বাস। কেউ কি সে বাসে চড়েছে? বাসে উঠলেই বমি আসে আমার, স্কুল বাসে ছাড়া আজ অব্দি তেমন বাসে উঠিনি। সাদা -লাল পোশাক, পরিপাটি দুই বিনুনি নিয়ে আমি ও বাবা বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েই থাকি। প্রত্যেকটি বাস হেলে পড়ছে মানুষের চাপে, মুরগি, ছাগল, মাথায়, গায়ে ফোঁড়া ওলা শিশুকুল, উকুনে ভর্তি মাথারা। সূঁচ গলবার জায়গা নেই, আস্ত একটা মানুষ? একের পর এক বাস চলে যায়। শেষে মরিয়া হয়ে বাবা আমাকে ঠেলে দেয় সেই মানুষের কবরের মধ্যে। চিঁড়ে-চ্যাপটা হতে হতে ঠ্যালা খেতে খেতে আমি শুনতে পাই বাবার করুণ আকুতি, কন্ডাক্টর এর উদ্দেশে, একটু ঠিকঠাক নামিয়ে দিও ভাই, ক্লাইভ হাউসে, নতুন যাচ্ছে ছোট মেয়ে, কখনো একা যায়নি---সে যেন এখনো শুনতে পাই, যখন তখন ---

    ইস্কুল খোলে। কিন্তু এ ইস্কুল আর যেন সে ইস্কুল নয়। এ ইস্কুল যেন রোজকার পাহাড় চড়া আর নেমে আসার ঘাম, শিরদাঁড়ার ব্যথা।

    বন্ধুদের হুল্লোড় আর কলরোল, ফাংশন, নতুন ক্লাস, নতুন ক্লাসটিচার, সেকশন ভাগ এসবের মধ্যে আমি কেমন তর বেভুল হয়ে যাই। চেনা মুখেদের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে থাকি, যদি কেউ বুঝে ফেলে আমি, আমার গোটা অস্তিত্ব বদলে গেছে হঠাত? টিফিন বক্স খুলে দেখতে পাই আলু সেদ্ধ, নুন গোলমরিচ দেওয়া, একদিন নয়, রোজ। আমার কেডস ছিঁড়ে কুচিমুচি হয়ে গেছে। তাই নিয়ে একদিন স্টাফরুমে ঢুকি, আর যূথিকাদি বলেন, একি অবস্থা রে তোর জুতোর ? শিগগির জুতো কিনবি।
    আমি পালাই, ক্লাস মনিট্রেস হয়েও খাতা আর জমা দিতে যাই না। রোজ রোজ এটার চাঁদা, আর ওটার, বাবাকে বলতে গিয়ে জিভ জড়িয়ে আসে। ক্লাসে ছোট হয়ে বসে থেকেই কি স্বস্তি? সংস্কৃত নির্ভুল রিডিং পড়ার পর-ও হঠাত নিবেদিতাদি বলেন, একি সোনালী, তোমার চুল এমন লাল কেন? এত রুক্ষ কেন? চুলে তেল দাও না? এখন থেকেই এত স্টাইল, পরে দেখবে চুল পেকে সব সাদা হয়ে যাবে।
    আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকি। বলতে পারিনা, দিদি, স্টাইল করিনি, নারকেল তেল বাড়িতে আসে না কত দিন- বাবা আর ভাই চুলে সর্ষের তেল মাখে, আমার এলার্জি হয়---তাই তো তেল দেওয়া হয়না-

    আমার বুকের ভেতর একটা থলথলে বেলুন মাঝে মাঝেই ফুলে গলার কাছে এসে গলার গহ্বর বন্ধ করে দিতে থাকে। তার ভারী চাপ। মনে হয়, ফেটে যাব না তো?
    অবসর সময়ে বসে আমি এর ওর বই থেকে টুকি। সব বই তো নেই। বিকেলে বাড়ি ফিরে খুব খিদে পায়, খুব, তখন কি খাই? আমি জল ঢালা ভাতে সর্ষের তেল ঢেলে শুধু শুধু খাই, মাকে বলি, জানো মা, সর্ষের তেল খুব উপকারী। মা কষ্ট করে হাসে।

    আমরা সবাই একে অন্যকে ধোঁকা দি। বাবা আমাদের শেষ কুটো কুড়িয়ে এক ভাটি, চুল্লি খাড়া করছে, ওতে বেকিং পাউডার হবে। সেই বেকিং পাউডার বেকারী বেকারী দৌড়বে, কেকের গন্ধে ঘর ভরে উঠবে, জানলায় কপাট বসবে, বাথরুমের ছাদ, ঘরে ইলেকট্রিকের আলো। এই সব স্বপ্ন চুপি চুপি দেখার চেষ্টা করি আমরা, একে অন্যকে লুকিয়ে।
    সইয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সইয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তখন জীবনে এসে গেছে বড় হওয়ার পতনশব্দ। চেনা কেয়ারফ্রি প্যাকেটের বদলে মা আমাকে ঠোঁট টিপে হাতে ধরায় ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো, অসহ সে পরিবর্তন, কিন্তু, আমরা তো রাস্তা কাটছি। তাই চোখে চোখে বোঝাপড়া হয়ে যায়। আমরা সইতে থাকি, উপেক্ষা করতে থাকি। ভিড় বাসে ঠেলে ঠুলে আমি লেডিজ সিটের কাছে গিয়ে দাঁড়াতে শিখি। প্রতি ৪০-৬০ মিনিটে একবার আসা বাসের সময় মুখস্থ করি। ৯১ এ স্টুডেন্ট দের দশ পয়সা ভাড়া, তা জেনে যাই। আর ইস্কুলে গিয়ে সব লুকিয়ে ফেলি বুকের খাঁচায়, আমার সব বন্ধুরা শুধু আমার মুখোশের বন্ধু, এ-ই আমার আপস। জন্মদিনে মুঠোভর্তি লজেন্স আর নেওয়া হয়না। কেউ আর আসেনা আমার বাড়ি, কোনো বন্ধু না, কোনো পাখি না, জলের স্নিগ্ধতা না। তবে বর্ষা আসে। গোটা মাঠ হাঁটু ছোঁয়া কাদায় ভরে যায়। দূর রাস্তায় কেডস খুলে খালি পায়ে বাড়ি আসি, তার চেয়েও মুশকিল, ছাতা ধরে বাথরুমে যাওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজ, কাদা ঠেলে বাবাকে বেশ কিছুটা দূরে পানীয় জলের টিপকল থেকে জল আনতে হয়। কাদা কাদা হয়ে ওঠে মাটির মেঝে। বিচ্ছিরি লাগে। জোঁক ঢোকে ঘরে। ব্যাং ও ঢুকে পড়ে মাঝে মাঝেই। খাটের উপর, ছেঁড়া চাদরের উপর বসে, লন্ঠনের আলোয় আমি ইস্কুলের সেলাই শেষ করি।
    আর আমার একখানা ডায়রি ভরে উঠতে থাকে কবিতায়। ওভাবে শরীর থেকে জল বের না করে দিলে বুকের ভেতরে সেই থলি হাতুড়ি পেটায়, শ্বাস বন্ধ করে, বাঁচতে দেয় না। এ আমার নিজস্ব ডায়ালিসিস।

    [এই কিস্তি থেকে ফোজ্জি প্রমুখ আমার স্কুলীয় বন্ধুদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তারা আমায় অন্যভাবেই চেনে হয়ত। সে চেনানোর দায় আমার। ]
  • 4z | 152.*.*.* | ২৭ মার্চ ২০১৩ ২০:১৫570156
  • তোর পরিবর্তন বন্ধুরা কিন্তু লক্ষ্য করেনি, যাদের চোখে পড়ার তাদের পড়েছে কিন্তু তোকে তোর মত করেই আমরা চিনেছি, সেভাবেই এখনো চিনি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন