এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মুসলিম ভ্রাতৃত্ব একটি মিথ

    Eman Bhasha লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ জুন ২০২৫ | ৮৯৩ বার পঠিত
  • জর্ডান ইজরায়েলের পক্ষে কাজ করছে। ইরানের পাঠানো দ্রোন জর্ডান নামাচ্ছে। অথচ ইজরায়েলের বিমান যাচ্ছে অবাধে ইরানে হামলা করতে।
    ইসলামি ভ্রাতৃত্ব একটা মিথ।
    ইরাক কুয়েত লড়াই
    ইরান ইরাক লড়াই
    সৌদি আরব ইয়েমেন লড়াই

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কৌতূহলী | 115.*.*.* | ১৫ জুন ২০২৫ ১০:৫৫732016
  • ধর্ম দিয়ে ভ্রাতৃত্ব ব্যাপারটাই মিথ। ক্যাপিটালিস্ট ইন্টারেস্ট বিভিন্ন রাষ্ট্রের তথাকথিত বন্ধুতা বা শত্রুতা নির্ণয় করে। শ্রেণী দিয়ে ভ্রাতৃত্ব নির্মাণ করতে হবে। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে নিপীড়িতের পক্ষে থাকতে হবে
  • :|: | 2607:*:*:*:*:*:*:* | ১৫ জুন ২০২৫ ১১:১৪732018
  • দশটা ৫৫ -- নিপীড়িত বলে কিছু হয়না। সাপেক্ষে আর প্রেক্ষিতের ঘোলা জলে সকলেই নিপীড়নকারী। তাই নিরপেক্ষ থাকাই ভালো।
  • PRABIRJIT SARKAR | ১৫ জুন ২০২৫ ১১:২৯732019
  • ওই ইসলামিক ভ্রাতৃত্ব এত তীব্র নয় যে একটা শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে লড়াই এ নামবে। প্রথম দিকে অনেক মুসলিম দেশ একজোট হয়ে ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংস করতে চেয়েছিল। একাধিক যুদ্ধে ইসরাইল জিতে ওদের বিষ দাঁত ভেঙে দিয়েছিল। ইরান ছাড়া সব পশ্চিমের মুসলিম দেশ ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। ফেসবুকে কিছু বাংলাদেশির উল্লম্ফন দেখে এই ভ্রাতৃত্ব আছে মনে হতে পারে। ভারত পাক যুদ্ধে বাংলাদেশিদের ইচ্ছা ছিল সেভেন সিস্টার্স দখল করতে লড়াই করবে। ভারতের আগ্রাসন দেখে ওদের সরকার দমে গেছে।
  • কৌতূহলী | 115.*.*.* | ১৫ জুন ২০২৫ ১৪:১০732025
  • ১১.১৪, নিপীড়নকারী থাকলে নিপীড়িতও থাকবে তো। নাহলে নিপীড়নকারী নিপীড়ন চালায় কার ওপর?
  • PRABIRJIT SARKAR | ১৫ জুন ২০২৫ ১৪:৩১732026
  • ভাতৃত্ব এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশের স্বার্থ কূটনীতি। ভারতে যদি ব্যাপক মুসলিম নিধন শুরু হয় বিশ্বের মুসলিম দেশ ভারত কে আক্রমণ করবে না যদি ভারত ওই সব দেশকে রসে বশে রাখে। চীন উইঘুর দের মাথা থেকে ধর্মের ভুত নামাচ্ছে। পাকিস্তান তার জন্য প্রকাশ্যে কখনো কিছু বলেছে?
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:৫২735737
  • মুসলমান সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। বিশ্বের সভ্য দেশগুলোয় মানুষ কোনও মুসলমান দেখলেই আজকাল সন্দেহ করে, এ বোধহয় সন্ত্রাসী, এ বোধহয় আত্মঘাতী বোমা! গোঁফ নেই দাড়ি আছে, বস্তিতে বাস করা কিছু অশিক্ষিত কট্টর মুসলমানকে সন্ত্রাসী বলে ভাবার দিন শেষ হয়েছে, এখন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পাওয়া স্যুটেড বুটেড ডাক্তাররাও দেখিয়ে দিয়েছে তারাও চরম সন্ত্রাসী হতে পারে। বিজ্ঞান পড়ে তারা মানুষ হয় না, কারণ বিজ্ঞানের পাশাপাশি তারা ইসলামটাও পড়ে। বিজ্ঞান তাদের বলে মানুষকে বাঁচাতে, ইসলাম তাদের বলে মানুষকে মারতে। বিজ্ঞান বিশ্বাস করলে ইহলোকে আরাম আয়েশ জুটবে। কিন্তু ইসলামে বিশ্বাস করলে পরলোকে আরাম আয়েশ জুটবে। ইহলোক ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরলোক অনন্তকাল। পরলোকের প্রতি তাই আকর্ষণটা বেশি।

    তসলিমা নাসরিন
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫২737788
  • "আমরা মুসলমান না আমরা পার্সিয়ান" এটা ধারণ না করলে ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক ধ্বংস করা যাবে না। এটা ইরানি তরুণ তরুণীরা বুঝেছে। এটা বুঝতে তাদের ইসলামী শাসনে যেতে হয়েছে। আধুনিক একটা দেশকে মধ্যযুগীয় শাসন সহ্য করতে হয়েছে। যে দেশে মাঠে গিয়ে মেয়েরা খেলা দেখতে পারতো না, মাথা খোলা রাখতে পারতো না।

    বাংলাদেশের তরুণ তরুণীরা যেদিন বলতে শুরু করবে "আমরা মুসলমান না আমরা বাঙালি" সেদিন এই দেশের মুক্তি মিলবে মৌলবাদ আগ্রাসন থেকে।

    সমস্যা হচ্ছে পার্সিয়ান ও বাঙালিদের মধ্যে পার্থক্য আছে। পার্সিয়ানরা মুসলমান হলেও কোনদিন আরবি ভাষার উপনিবেশ গ্রহণ করেনি। অগ্নি উপাস্য থাকার সময় তারা প্রার্থনাকে নামাজ বলেছে, উপোসকে রোজা বলেছে ইসলাম গ্রহণের পরও নিজেদের ভাষায় সেটাই বলেছে। সালাত, সওম বলেনি আরবিতে। আল্লা না বলে খোদা বলেছে। কিন্তু বাঙালি মুসলমান হওয়ার পর আরবি ফারসি উর্দু গ্রহণ করাকে মুসলমানিত্ব মনে করেছে। এদের মধ্যে যারা সাহিত্য চর্চা করে তারাই সবচেয়ে বড় মুসলমান! এখন আবার নতুন করে স্বাধীনতাকে আজাদী বলছে। বিপ্লবকে ইনকিলাব বলছে! বাঙালি জাতির বড় কোন সমস্যা আছে মনে হয় যা জেনেটিক। বাংলাদেশের হিন্দু বাঙালি ও ভারতের হিন্দু বাঙালি ভিন্ন দুই কারণে অলরেডি কালচারাল মুসলমান হয়েই গেছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা মুসলমান সমাজে নিগৃহীত না হতে এটা কৌশল হিসেবে নেয়, বিশেষত শিক্ষিত সেলিব্রিটি বড় চাকুরে মিডিয়া পার্সোন যারা। আর ভারতের হিন্দু বাঙালি কালচারাল মুসলমান হয় অতি লিবারেল সেক্যুলার বাম সাজতে গিয়ে বাঙালির হিন্দুয়ানীকে অস্বীকার করতে চায়।

    ©সুষুপ্ত পাঠক
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৪737891
  • Sweden is facing a major political debate after its Deputy Prime Minister made a strong statement about immigrants and national values. She said that those who do not integrate into Swedish society must leave the country.

    The statement highlighted serious issues like honour killings, violence, and strict religious laws, saying such practices have no place in Sweden. She stressed that everyone must follow Swedish laws and respect the country’s values.
  • albert banerjee | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৭737902
  • ইসলামভীতি হল ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামক সেই অস্পষ্ট ও অন্তহীন সংঘর্ষের অপরিহার্য আদর্শিক ইন্ধন। এই যুদ্ধ লাভবান করে একাধিক শিল্পখাতকে: অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংস্থা, ও ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ শিল্প-পরিসরকে।

    একীভূত ‘ইসলামী হুমকি’র প্রতি এক গভীর, অন্তর্নিহিত ভয় ছাড়া, ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট, বৈদেশিক হস্তক্ষেপ ও গৃহোত্তর নজরদারি যন্ত্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। ইসলামভীতি এই পণ্য ও সেবার চাহিদাকে সৃষ্টি ও টিকিয়ে রাখে। এটি ভোটার ও আইনপ্রণেতাদের কাছে ভীতিকর এক আবেগ হিসেবে বিপণনযোগ্য করে তোলে। ফলাফল? সরকারি করের রাজস্ব—যা মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ—একটি প্রবাহ হিসেবে প্রবাহিত হয় সেইসব ব্যক্তিগত কর্পোরেশনের ভাণ্ডারে, যারা নিজেরা কর ফাঁকি দেয়ার জন্য লবিং করে। একটি অদ্ভুত দ্বৈততা: যেসব প্রতিষ্ঠান কর হ্রাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তারা একটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যন্ত্র থেকে লাভবান হয়, যা আবার তাদের এড়িয়ে যাওয়া কর থেকেই অর্থায়িত হয়।

    তদুপরি, ইসলামভীতির অজুহাতে তৈরি গৃহোত্তর নিরাপত্তা রাষ্ট্র শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, বরং সকল নাগরিকের নজরদারিকে স্বাভাবিক করে তোলে। এর প্রভাব পড়ে প্রতিবাদের সংস্কৃতিতে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ও শ্রমিক অধিকারের আন্দোলনও অন্তর্ভুক্ত। মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি সরঞ্জাম ও আইনী যুক্তি (যেমন প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট) পরিবেশবাদী কর্মী, অধিকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হয়েছে। একটি নজরদারির মধ্যে থাকা, ভীত সমাজ কর্পোরেট ক্ষমতার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

    একটি উচ্চ মুনাফা, কর-ফাঁকিবাজ পুঁজিবাদ তার সাফল্যের জন্য একটি নমনীয়, পরিবর্তনযোগ্য ও অধিকার-বিহীন শ্রমশক্তির উপর নির্ভর করে। ইসলামভীতি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে সার্বজনীন মানবিক ও নাগরিক অধিকারের ধারণাকে ক্ষয়시키ার মধ্য দিয়ে। যখন কোনো সমাজ মান্য করে যে ধর্ম বা উৎসের ভিত্তিতে একদল মানুষের উপর বিশেষ নিবন্ধন, ‘নো-ফ্লাই’ তালিকা বা বৈষম্যমূলক পুলিশি তৎপরতা চালানো যাবে, তখন সকলের জন্যই অধিকারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
     
  • albert banerjee | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩২737903
  • কারো জবাবের অপেক্ষায় আছি?
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৬739181
  • The Telegraph reports certain schools are being warned that children’s drawings could be considered 'blasphemous' under Islamic law. They're also told music and dance classes could be 'contrary' to the teachings of Islam.

    I am absolutely sick of this, to be entirely honest.

    Rupert Lowe
    MP, Great Britain
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০739224
  • “ একাত্তরের রাজাকারগুলো অনেক ভালো ছিল আজকের গুলোর থেকে, সেগুলোর ছদ্মবেশ ছিলো না, দেখলেই চেনা যেতো।
    আজকের রাজাকারগুলো ব্ল্যাক ম্যাজিক চলচ্চিত্রের শয়তানের মতো, প্রথম যখন দেখা হয় মনে হয় একান্ত আপনজন, কিন্তু কিছুক্ষন পরেই তার ভয়ংকর মুখটি দেখা যায়।”

    – হুমায়ুন আজাদ
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ০৭ মে ২০২৬ ২২:৪৯740551
  • ঘটনাটি ইউরোপের স্বর্গরাজ্য সুইজারল্যান্ডের। সেখানে গণভোটের মাধ্যমে বোরকা নিষিদ্ধ হয়েছে—কারণ সুইসরা মনে করে বোরকা নারীর স্বাধীনতা হরণ করে এবং নাগরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কিন্তু আমাদের এক অতি-পরহেজগার মুমিনা বোন কি আর দমে যাওয়ার পাত্রী? তিনি কাফেরদের দেশে বসে দ্বীন কায়েমের এক অভিনব মিশনে নামলেন।
    ​যথারীতি, বোরকা পরে আইন অমান্য করায় তাকে ১০০ সুইস ফ্রাঁ (১২৬ ডলার) জরিমানা করা হলো। কিন্তু বোনটি তো 'ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাকই দায়ী'—এই তত্ত্বে বিশ্বাসী এক আপসহীন লড়াকু! তিনি গর্জে উঠলেন। এই জরিমানাকে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা 'ইসলামবিদ্বেষী' বলে লেবেল সেঁটে দিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলেন।
    ফলাফল? সুইস প্রশাসন তার ইমানি জোশ দেখে মুগ্ধ হয়ে জরিমানার অংকটা এক লাফে বাড়িয়ে ১,০০০ সুইস ফ্রাঁ (১,২৬০ ডলার) করে দিল!

    ​বোনটির জেদ দেখে মনে হচ্ছে, প্রয়োজনে তিনি ঘরবাড়ি বেচে জরিমানা দেবেন, এমনকি কারাদণ্ডও ভোগ করবেন; তবুও তিনি তাঁর এই অমূল্য প্রতিবাদ থামাবেন না। মজার ব্যাপার হলো, তিনি কিন্তু চাইলে খুব সহজেই আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো ‘পবিত্র’ দেশে গিয়ে নির্বিঘ্নে বোরকা পরে, কোনো জরিমানা ছাড়াই শান্তিতে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু না!
    ​তিনি বরং ইহুদি-নাসারাদের দেশেই থাকবেন, তাদের ট্যাক্সের টাকায় চলা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, তাদের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবেন এবং হাজার হাজার ডলার জরিমানা গুনে প্রমাণ করবেন যে—কাফেরদের দেশে 'বোরকা ট্যাক্স' দিয়ে থাকাও সওয়াবের কাজ, কিন্তু মুসলিম দেশে গিয়ে শান্তিতে থাকাটা মোটেও পোষায় না!

    Sunny Window
  • দীপ | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ মে ২০২৬ ১৫:০৪740675
  • "আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে খ্রিস্টানদের উপর রীতিমত গণহত্যা চালাচ্ছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য ইসলামী সন্ত্রাসীরা। পরিবারের সামনেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, শিরোচ্ছেদ করে খ্রিস্টানদের খুন করছে এই মুসলমান জঙ্গিরা।

    এবং এই মুসলমান সন্ত্রাসীরা শুধু কঙ্গোতে না, নাইজেরিয়াতেও একইভাবে গণহারে খ্রিস্টানদের হত্যা করছে।

    তাদের অপরাধ?
    তারা খ্রিস্টান!

    মানবতার ধ্বজাধারীরা সারাদিন গাজা, ফিলিস্তিন করে করে কান্নাকাটি করে। অথচ, নাইজেরিয়া, কঙ্গোতে শুধুমাত্র খ্রিস্টান হওয়ার কারণে মানুষকে কচুকাটা করছে মুসলমান সন্ত্রাসীরা- এটা নিয়ে কিন্তু তাদের টু শব্দটি নেই!

    শুধুমাত্র অন্য ধর্মের হওয়ার কারনে মানুষকে খুন করে ফেলছে এরা। হাইপোথিটিক্যালি, আজকে যদি খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলো যদি শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে একজনকেও খুন করে- তখন এদের ভিক্টিম কার্ডের তোড়ে টিকতে পারতেন না কিন্তু!"
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৯ মে ২০২৬ ১৮:১৪740904
  • লালের কাছাকাছি একটা পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম মোগাদিসুর আল জিমালি মসজিদে। এটি মোগাদিসুর সবচেয়ে বড় মসজিদ, এক সাথে ৫০০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারে। সাদা পাথরে তৈরি চমৎকার একটি মসজিদ!

    কিন্তু আমার দিকে লোকজনের বেশ আগ্রহভরে তাকানো দেখে খানিকটা খটকা লাগল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি, আমিই একমাত্র বিদেশী যে ওখানে নামাজ পড়তে গেছে। গায়ের রঙ ধূসর হলেও, সোমালিয়ানদের চেয়ে আলাদাতো বটেই! ভাবলাম, তাকানোর এটিই বোধহয় কারণ!

    আমার সাথে থাকা দুইজন গানম্যানকে জিজ্ঞেস করার পর তারা জানালো যে, তোমার পাঞ্জাবির কারণে লোকজন এভাবে তাকাচ্ছে। আমি একটু লজ্জা পেলাম। বললাম যে, দেখো আমার সাথে এই একটাই পাঞ্জাবি আছে, তাছাড়া এটা আমার খুব পছন্দের পাঞ্জাবি, ১০ বছর ধরে পরছি।

    এরপর যা জানলাম সেটা শুনে আমি পুরো থ এবং ভয়ে শরীর হিম হয়ে গেল।

    সমস্যা হল, আমি দুইপাশে কাটা যে পাঞ্জাবি পরেছি, এই ধরনের পাঞ্জাবিকে সাধারণ সোমালিয়ানরা প্রচন্ড ঘৃণা করে।

    ১৯৯১ সালে যখন প্রচন্ড দুর্নীতি, স্বৈরাচার ও তার বাহিনীর অত্যাচার মানুষের সহ্যের সীমানা ছাড়িয়ে গেল, তখন গোটা দেশে, গোত্রে গোত্রে দাঙ্গা শুরু হয়, যেটি সিভিল ওয়ার নামে পরিচিত। লাখ লাখ মানুষ একে অপরকে হত্যা করে। রাস্ট্র হিসেবে সোমালিয়া ভেঙ্গে পড়ে। শহরের নানা স্থানে গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া দেয়াল এখনো সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

    সেই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এখানে কিছু বিদেশীদের আনাগোনা দেখা যেতে লাগল। এদের বড় একটা অংশ আফগানিস্তান থেকে আসা! এরা মসজিদে মসজিদে ঘোরে, মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয়। এদের গায়ে ঢোলা কানিকাটা পাঞ্জাবি, পরনে কুচিওয়ালা সালওয়ার, মাথায় পাগড়ি। মানুষ ভাবল, এসব পরহেজগাররা (!) বুঝি আমাদের উদ্ধার করতে এসেছে।

    প্রথমে মসজিদ থেকে ধর্মপ্রচার শুরু করল তারা। এরপর ধীরে ধীরে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ল। এদের দলে যোগ দিতে থাকল ছোট ছোট শিশু, তরুণেরা। প্রচন্ড বেকারত্ব, মাত্র ২০/২৫% শিক্ষার হার নিয়ে মানুষ তখন দিশেহারা। দূর্ভিক্ষ চারদিকে, পেটে ক্ষুধা, হাসপাতাল নাই, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় নাই। মানুষ কিছু একটা করার সুযোগ পেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

    দেখা গেল হুট করে বাড়ি থেকে তরুণেরা হারিয়ে যায়, কয়েক মাস পরে ফিরে আসার পর মায়েরা দেখে, তার ছেলে বদলে গেছে। মা’র সাথে পর্দা ছাড়া কথা বলেনা, খারাপ ব্যবহার করে, দ্বীনি ভাইয়ের সন্তুষ্টির জন্য বোনকে তুলে দেয় ওই কানিকাটা পাঞ্জাবি পরা মোল্লাদের হাতে। সেই বোন দিনের পর দিন ধর্ষণের শিকার হতে থাকে। ভাইয়ের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই, তাকে জানানো হয়েছে, তার বোনকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    দিন গড়ায়। ওদের সমর্থন বাড়ে! ওদের হাতে দেখা যায় অস্ত্র। নারীদের বাইরে আসা নিষেধ হয়ে যায়। কারো বাড়িতে ফরমান আসে, আজ রাতে অমুকের স্ত্রীকে যেতে হবে। স্বামী-সন্তান ফেলে সেই স্ত্রী গোপনে চলে যায় মোল্লাদের ক্যাম্পে, ফিরে আসে তিনদিন পর, গোপনে। কেউ যেনো জানতে না পারে! সেই ক্যাম্প আবার কোনো একটা মসজিদে!

    প্রাচীনকাল থেকে এখানকার নারীরা যেকোনো উৎসবের সময় মুখ দিয়ে একটি আওয়াজ করতো, অনেকটা আমাদের দেশে উলুধ্বনির মত! এর পেছনে কারণ আছেতো। সমুদ্রের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে ভারত মহাদেশের সাথে সোমালিয়ার গভীর সংযোগি ছিল। মোল্লারা খুঁজে খুঁজে সেসব নারীদের জিহ্বা কেটে দিত লাগল, যেনো এরা আর কোনোদিন ওই আওয়াজটা করতে না পারে। ফলে এখনো সোমালিয়ার অসংখ্য নারীর জিহ্বার অর্ধেক নেই।

    এভাবে গত আড়াই দশকে আফ্রিকার হর্ন, ভারত ও লোহিত সাগরের পাড়ের এই দেশ হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক জঙ্গিগোষ্ঠির একটি, আল শাবাবের তীর্থভূমি। আল শাবাব মূলত আল কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠান, সদস্যদের বড় একটা অংশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসত! ধীরে ধীরে পারস্য ও ভারত মহাদেশের সাথে বাণিজ্য, ইসলামি সংস্কৃতি ও সমুদ্রপথের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত দেশটি ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠল!

    এভাবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলল। দেশটা খাদের কিনারে তলিয়ে গেল। সোমালিয়ার পুলিশ বাহিনী, আমেরিকা ও তুর্কির সহায়তায় একসাথে অভিযান চালালো আল শাবাবের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে রাজধানী মোগাদিসু এবং আশেপাশের গ্রামে। তীব্র যুদ্ধে দুই পক্ষেরই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারালো।

    অভিযান শেষে দেখা গেল, মসজিদ থেকে লাখ লাখ কন্ডমের প্যাকেট উদ্ধার হচ্ছে, পাওয়া যাচ্ছে পর্নোগ্রাফির সিডি, জঙ্গি বিষয়ক বই। অসংখ্য মসজিদ ছিল, যেখানে একটাও কোরআন শরীফ পাওয়া যায়নি। সেসব খবর ব্যাপকভাবে মিডিয়ায় আসতে লাগল।

    সাধারণ মানুষের মনে ঘৃণাতো আগে থেকেই ছিল, সেসব আরও কয়েকগুণ বাড়ল। সোমালিয়ার কমিউনিটি চলে গোত্রের ভিত্তিতে। গোত্রের কোনো এক সদস্যের ভাল মন্দের জন্য হেসেখেলে প্রাণ দিতে পারে সেই গোত্রের আরেক সদস্য। তারা ক্ষেপে ‍উঠল। সেই যুদ্ধে তারাও যোগ দিল। হত্যা করল হাজার হাজার আল শাবাব সদস্য। তাড়ালো ওদের। এখন কাবুলি ধরনের পোশাক দেখলেই সোমালিয়ানরা ঘৃণা করে। ঈদে-চান্দে সাড়ে ৯৯ ভাগ মুসলমানের দেশটার মানুষ সৌদি স্টাইলে সাদা জুব্বা পরে!

    শান্তি এখনো আসেনি! সমাজের গভীরে যদি জঙ্গি মানসিকতা একবার ঢুকে পড়ে, তাকে তাড়ানো কি এত সহজ?

    গোটা মোগাদিসু নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। হাজার হাজার জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী দেড়/দুইশ মিটার পর পর নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে! কানিকাটা পাঞ্জাবি গায়ে সেসব নিরাপত্তা চৌকি পার হতে হতে আমি ভাবছিলাম, এই তাহলে ধর্ম?

    ছবিটা মোগাদিসুর এক মসজিদের, যেখানে নারীরাও নামাজ পড়ে, আর এ নিয়ে আল শাবাব এর খুবই আপত্তি ছিল।

    © Raju Norul
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন