বালিকা ও ইস্ত্রিওয়ালা : অদিতি দাশগুপ্ত
বুলবুলভাজা | ইস্পেশাল : উৎসব | ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১০৭৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৭
একটি বালক প্রায় প্রতিদিনই শ্রেণীকক্ষে নানারূপ উৎপাত করিত। সহপাঠীদের জিনিস ছুঁড়িয়া, তাহাদের ঠেলা মারিয়া, চিমটি কাটিয়া তাহার কী সন্তোষ হইতো সেই জানে! সে ইদানিং বালিকাকে ধরিল। তাহার কলম ইত্যাদি কাড়িয়া লইতে লাগিল, চিমটি কাটিতে লাগিল, অবশেষে জলপানের বিরতিতে তাহাকে সহসা এমনই ধাক্কা মারিল যে, সে মুখ থুবড়াইয়া পড়িল, তাহার চশমা ভাঙিল, রক্তপাতও ঘটিল। কী মত অবস্থায় সে গৃহে ফিরিল সেই জানে! কাহাকে নালিশ করা তাহার স্বভাবে ছিলোনা, বন্ধু তাহার হয় নাই তেমন। কাজেই ঘটনার গুরুত্ব পরবর্তী পাঠদানরত শিক্ষকের কাছে ততটা পৌঁছাইলোনা কেবল দু একটি শিশুর অগোছাল বক্তব্যের মধ্য দিয়া ছাড়া। তাহাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হইল মাত্র। মাতৃহৃদয় উদ্বেল হইল। পরবর্তী বিপদের আশংকায় মাতা দৌড়াইলেন।
এক রোমাঞ্চকর রিভিউ : অদিতি দাশগুপ্ত
বুলবুলভাজা | পড়াবই : প্রথম পাঠ | ১০ মে ২০২৬ | ৩৭৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
আর এই সব ঘটনার, এই সব ভাবনার চারপাশ জুড়ে ছেয়ে থাকে মন কেমন করা সেই সুগন্ধের ছায়া। সেই তিনি! যাঁর থাকা না থাকাতেই তৈরি হয় গল্পের আবহ, বিশেষ বিশেষ মোড়গুলি।
বই এর সবচে উপরের যে মোটা পাতাটা থাকে- ‘প্রচ্ছদ’ বলে যেটাকে- তার উপর দেখি তুই নীল আকাশে পক্ষীরাজ ঘোড়া ছোটাচ্ছিস, হাতে তরোয়াল। দুপাশে লাল লাল বাড়িগুলো অবাক হয়ে দেখছে তোকে আর নিচে মানুষজন কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, তো কেউ আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
হারিয়ে যাওয়া টিলার গল্প : অদিতি দাশগুপ্ত
বুলবুলভাজা | আলোচনা | ০৫ জুন ২০২৬ | ১৪৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ৫
এখন আর সেই টিলাগুলো তেমন উঁচু দেখায় না। আমি মাথায় একটু, আর চওড়ায় বেশ অনেকটা ছড়িয়েছি বলে নয়, সেগুলি কাটা পড়েছে বলে। রাস্তা আর বাড়ী-ঘর তৈরিতে ওরা ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে গেছে। ওদিকে রিং রোড হয়েছে। শান্তিনিকেতনের মত এখানেও এখন হাট বসছে। কিছু মাটির গয়না,গামছার সাথে চীনদেশের প্লাস্টিকের সস্তা পুতুল,গাড়ি, মাথার ক্লিপ ও পাওয়া যায়। জিলিপির পাশেই মস্ত বড় চিপসের প্যাকেটে র মালা ঝোলে। মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে চড়ে অনবরত মানুষ ছুটে আসে ফি শনিবার। পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর তাই তেমন পাওয়া যায়না। লাল ধুলোয় থার্মোকলের গুঁড়ি, ছেঁড়া প্লাস্টিকের টুকরো মিশে থাকে। ওদিকে নদীর ধারটি আলিশান সাদা পাথরে বাঁধিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গঙ্গা আরতি শুরু হবে কদিন পরেই--- যদিও নদীটি গঙ্গা নয়। তার মাসতুতো বোনও নয়। শহরের মোড়ে, রাস্তায় আলোচনা চলে এ নিয়ে। এই উন্নতি নিয়ে। তাহলে জাতে উঠল এ শহর --- উন্নয়নের পথে।