
স্থানীয় লোকদের মধ্যেও খুব প্রভাব পড়লো এগজিবিশনটার। প্রথম কয়েকদিন এখানকার মানুষরা অবাক হয়ে এতো বাইরের লোকের আনাগোনা লক্ষ্য করেছে, কিন্তু ভিতরে ঢুকতে সাহস করেনি। কিন্তু জলধর আর হেমন্ত সে সঙ্কোচ ভেঙে দিলো। কয়েকটা বাচ্চাকে ছবি দেখাতে নিয়ে এলো জলধর। তারা এতো ছবি এক জায়গায় দেখে অবাক। ধীরে ধীরে আসতে শুরু করলো তাদের বাড়ির লোকরা, বাবা-মা, ভাইবোন, সবাই। হেমন্তর উদ্যোগে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের একটা 'বসে আঁকো' প্রতিযোগিতাও হয়ে গেলো, এবং প্রতিযোগিতার ছবিগুলোর থেকে গোটা দশেক ছবি প্রদর্শনী কক্ষেও লাগিয়ে দেওয়া হলো। জয়ি বুঝলো শুভেন্দুদা কেন আদিবাসীদের মধ্যে এই ছবির প্রদর্শনী করতে বলেছিলেন। ... ...

সে মালঘরটার খোঁজ করতে লাগল, যে ঘরে আজ দুপুরে একটি সুন্দরী মধ্যবয়সী মেয়ে তার ভারী স্যুটকেসটা রেখে এসেছে। ওর মধ্যেই জমা রয়েছে তার এতদিনের না বলা সব গল্প কিম্বা ভালবাসা। ... ...

আজ পাঁচ তারিখ রোববার, সতেরো তারিখ শুক্রবার সে, জয়ি আর জুঁই পৌঁছোবে খুশিঝোরা – সুকান্তর যাওয়ার কথাটাও বললো সে, অ্যাজ আ গেস্ট – উনিশ তারিখ রোববারের মধ্যে সবাই যেন আসে। খুশিঝোরা সমিতির প্রথম ফর্মাল মীটিঙে। তুলি শুনে বললো আমি তো যেতে পারবো না এ কদিনের মধ্যে, তোরা সবাই মিলে যা ঠিক করবি, সেটাই হবে, আমার দিক থেকে কোন আপত্তি নেই। অরুণিমা শ্যামলিমা সুজয়, তিনজনেই বললো আসবে। খবর দেওয়া গেলো না নিলীনকে, যে টেলিফোনে ওর সাথে যোগাযোগ রাখে জয়ি, সেটা য়্যুনিভার্সিটিতে ওর ডিপার্টমেন্টের টেলিফোন, কাজেই কালকের আগে যোগাযোগ করা যাবে না ওর সাথে। এ দায়িত্বটা নিলো জয়ি, আর তার সাথে বাবার মারফত জলধরকেও খবর দেওয়া। ... ...

আমার সদ্য প্রকাশিত শারদীয় সংখ্যার উপন্যাস তিনি করবেন কি না জিজ্ঞেস করতে গিয়ে দেখি সমরেশ বসু। বললেন, ভালো লিখেছ উপন্যাস, তবে আরও নিবিষ্ট হতে হবে, তুমি পারবে উপন্যাস লিখতে। আমার পক্ষে ওই কথাগুলি যেন আশীর্বাদ হয়েছিল। প্রকাশক, কলেজ স্ট্রিট পাড়ার কর্তৃত্বময় ব্যক্তিত্ব। গম্ভীর কন্ঠস্বর। সমরেশ বসুর কথা শুনে বললেন, দিয়ে যাও, ছাপব। তারপরের কাহিনি হৃদয় বিদারক। বই ছাপা আর হয় না। আমি থাকি শালতোড়া। কলকাতায় আসি। এসে খোঁজ নিই। হবে হবে শুনি। এক বছর গেল, দু-বছর গেল, তিন বছর গেল, বই আর বেরোয় না। ১৯৯০-এর বইমেলার পর ফেব্রুয়ারি এক হঠাৎ হয়ে যাওয়া তপ্ত দুপুরে গেছি তাঁর কাছে। তাঁর সামনে বসে আছেন এক অগ্রজ লেখক। খুব সিনিয়র ছিলেন না তিনি। আমি বইয়ের কথা প্রকাশক মশায়কে জিজ্ঞেস করতে তিনি ক্রুদ্ধ গলায় বললেন, আপনি প্রায়ই আসেন কেন বলুন দেখি, বিরক্ত করেন কেন? ... ...

দাদু কয়েকদিন পরেই পাবনা চলে গিয়েছিলো। রূপালী রঙের প্যানাসনিক টেপ রেকর্ডার নিয়ে যখন রিক্সা থেকে বাইরবাড়িতে নেমেছিলো, তখন তাঁতিরা কত খুশি হয়েছিলো আমার মনে নেই। তবে মানিক কাকুর কথাগুলো ঠিক এমন ছিল, বাবু, এই টেপ রেকর্ডারে সন্ধ্যা মুখোপধ্যায়ের গান বাজলি তো সুচিত্রা সেন সামনে আইস্যা খাড়াইবো। ... ...

নীল রঙা জামা পরা মহিলাটি যেই মাত্র শেষ করল লোকটি দক্ষতার সাথে সুতোর সেই প্রান্তটি ধরে ফেলল৷ যেন রিলে রেসের স্কেল। একজন দিলেই আরেকজন দৌড়তে শুরু করবে,শুধু সময়ের অপেক্ষা। ... ...

হঠাৎ করেই একটা চিন্তা তার ভাল লাগাটাকে ঢেকে দিল৷ অর্ডারের চায়ের দামের ব্যাপারে এতক্ষণ খেয়ালই ছিল না তার৷ প্রয়োজনই মনে করেনি৷ সাধারণ চায়ের দাম বেশি না। তবে এমন চায়ের দাম নিশ্চয়ই বেশি হবে৷ সে ভাবল, ওয়েটারের গল্প ফ্রি, তবে অভিনেতাদেরকে অবশ্যই কিছু দেওয়ার কথা৷ কে আর বিনা পারিশ্রমিকে এখানে সময় নষ্ট করে বসে থাকবে! ... ...

নিলীন অকপটেই স্বীকার করে ছবির এগজিবিশন অর্গানাইজ করার ব্যাপারে কোনই ধারণা নেই ওর, কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করলে হবে না কেন? বান্দোয়ানে ওর বন্ধু আছে জলধর, সাঁওতাল সমাজে তার খুব প্রতিষ্ঠা, তার সাহায্য নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। তা ছাড়া সুদেশ আর জয়ি মিলে কলকাতায় একটা এগজিবিশন তো করেছিলো আগেই। আর বোম্বেতে মহেশের সাথেও ছিলো, সেগুলোর থেকেও তো নিশ্চয়ই খানিকটা শিখেছে ওরা। খুশিঝোরাতে এগজিবিশন করার কথা জয়ির মাথায় আসেনি আগে, কিন্তু এখন সে রীতিমতো উত্তেজিত। শুভেন্দুদাকে জিজ্ঞেস করে, খুশিঝোরাতে যদি করি এগজিবিশন, যাবেন আপনি? ... ...

লাবণ্যপ্রভা আমার বউদির দিদিমা । তিনি ছিলেন সাগরদাড়ির কন্যা। মাইকেল মদুসূদন দত্ত ছিলেন তাঁর সম্পর্কিত দাদু। মানকুমারী বসু তাঁর পিসিমা। বউদির বাবা আমার বাবার বাল্যবন্ধু। সেই সূত্রে তাঁর শ্মশ্রুমাতার বেলগাছিয়ায় আসা ছিল নিয়মিত। জামাইয়ের বন্ধু তো। আর পূর্ববঙ্গের শিকড়ও ছিল। অদ্ভুত তিনি। ওপার থেকে তেমন কিছুই আনতে পারেননি। অল্প বয়সে বিধবা। থাকতেন বসিরহাটে। তাঁর পুত্রটি তহসিলদার। খাজনা আদায় করেন। তখন এই বৃত্তি ছিল খুবই কষ্টের। তহসিলদার অন্য রাজ্যে তহসিলের শাসনকর্তা, এই রাজ্যে ছিল খাজনা আদায়ের কমিশিন এজেন্ট। যত আদায় তত আয়। যেতেন আবাদ অঞ্চলে। আবাদ অঞ্চল মানে সুন্দরবন এলাকা। মাসিক বেতন ছিল না। তো তিনি আবার ছিলেন আলাভোলা মানুষ। মুখখানি মনে পড়লে এখন মায়া জন্মায়। ... ...

প্রফেসরের ধারণা এর নিচে লুকানো আছে আরো নানা রহস্যময় ও অজানা জিনিস। তাঁর অনুমান সঠিক বলেই প্রাথমিকভাবে দেখা গেল। সেই মন্দিরের নিচে সন্ধান পাওয়া গেল অমূল্য সম্পদের এক গলির৷ সেই দেওয়াল জুড়ে অজানা হায়রোগ্লিফিকস্৷ ... ...


ঘুমের অতলে হঠাৎ জেগে ওঠে হলুদ আলোর চাঁদ। আমি আর ঠাকুমা সেই আলোয় নিশ্চিন্তিপুরের পথে। ক্ষেতের আইল, নদীর ঘাটে ভাঙা বাড়ি, মরিচের ক্ষেত, আমবাগান সব পেছনে রেখে আমি আর ঠাকুমা ছুটছি। আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি যে! ঠাকুমা আর আমি বারবার একই ক্ষেতের আইলে ঘুরপাক খাচ্ছি। কোথা থেকে যেন ভেসে আসছে তাঁত মাকুর আওয়াজ। চাঁদের আলোয় আরেক পোচ হলুদ জমলো। বাতাস কেটে ভেসে এলো সুর। বাঁশির সুর। ... ...

এতো সমৃদ্ধ এবং এতো প্রাচীন ভাষার নিজস্ব কোন লিপি নেই। সংস্কৃতের কন্যা নয়, অতএব উত্তরভারতীয় ভাষাগুলোর মতো দেবনাগরী-সম্ভূত লিপি গড়ে ওঠেনি সাঁওতালি ভাষার জন্যে। লিপিহীন এই কথ্য ভাষা তাই হোঁচট খেতে খেতেই চলতে বাধ্য হচ্ছে ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির জগতে। এই অবস্থার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম চালাচ্ছেন ভাষাবিদ এক শিক্ষিত লড়াকু সাঁওতাল, তাঁর নাম রঘুনাথ মুর্মু। শুধু লিপি তৈরি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, ছাপাখানার কাজ শিখে, একটা একটা করে তৈরি করেছেন সাঁওতালি অক্ষর – জন্ম নিয়েছে অলচিকি লিপিমালা। তাঁর একনিষ্ঠ শিষ্যদের মধ্যে জলধর একজন, সে সাঁওতালি এবং বাংলা, দুটি ভাষাতেই সমান স্বচ্ছন্দ, দুটি ভাষাতেই কবিতা লেখে। রঘুনাথ নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালায় সে, পত্রিকাটি দ্বিভাষিক – সাঁওতালি আর বাংলা – সে-ই সম্পাদক এবং প্রকাশক। এই পত্রিকায় মাঝে মাঝে লেখে নিলীন এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহকর্মী কয়েকজন। ... ...

পরের দিন সকালে কারারক্ষীরা বুড়োকে ছুটি হয়ে যাবার আদেশ শুনিয়ে বাইরে নিয়ে যাবার জন্য এল। তারা তাকে বিছানার এককোণে বিধ্বস্ত, এলোমেলো, অবস্থায় আবিষ্কার করল৷ সঙ্গে বদ্ধ উন্মাদের মত বুনো চাউনি। ডান হাতের আঙুলগুলো দিয়ে কিছু একটা গণনা করছিল সে, আর বাঁ হাতটা অনবরত এদিক সেদিক ঘোরাচ্ছিল৷ ... ...

আমি আর ঠাকুমা পা চালিয়ে সাহাপাড়া ছেড়ে গৌর-নিতাই আঙিনার দিকে এগোই। রাস্তার দু-পাশে তাঁতঘরে মাকুর টানা ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে। বসাকপাড়া ঢুকতেই পিসিঠাকুমার আঙিনা দেখা যায়। ওই তো কুটিপিসি উঠোনে চরকি নিয়ে বসে গেছে। কুটিপিসির কাছে এলেই সোনালি জরির ভাঙা ববিনটা আমার হয়ে যায়। ... ...

মনে পড়ে গেল পরের কথা। বলেই নিই। এখন ফেব্রুয়ারি চলছে। ২১ আসছে। আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা দিবস। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতার আগে যত না বাংলাচর্চা ছিল, এখন তা কমেছে। ক্রমশ কমেছে। বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ব কম আমাদের এখানে যত সরকার এসেছে, সকলের। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, বা বর্তমান সরকার কেউ বাংলা ভাষাকে আলাদা ভাবে মর্যাদা দেয়নি। ১৯৯৩ সাল ছিল বাংলা ১৪০০ সালের আরম্ভ। নতুন শতাব্দী। আমরা একটি আন্দোলন করেছিলাম, সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহার, কলকাতা সহ সমস্ত পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা স্কুলশিক্ষায় আবশ্যিক করা, বাংলা ভাষাকে দূরদর্শনে হিন্দি ও অন্য ভাষার সম-মর্যাদা দেওয়া। তখন কেবল টিভি আসেনি। দূরদর্শন ভরসা। দূ্রদর্শনে বাংলার সময় কমিয়ে দিয়ে হিন্দির আধিপত্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই আন্দোলনের কথা লিখিত থাকা উচিত। আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক আশিস ঘোষ, এবং সমাজকর্মী রতন বসু মজুমদার ছিলেন আন্দোলনের নেতৃত্বে। আমি ছিলাম, আফসার আমেদ ছিলেন, প্রবুদ্ধ মিত্র, কবি গৌতম চৌধুরী, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সব নাম এখন আর মনে নেই। ভাষা শহিদ স্মারক সমিতির উদ্যোগে এই আন্দোলন। আমরা দূরদর্শনের সামনে ধর্না দিয়েছিলাম মঞ্চ বেঁধে। স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে একটি অপূর্ব অনুষ্ঠান করেছিলাম। সেখানে আমজাদ আলি সরোদে ‘আজি বাংলা দেশের হৃদয় হতে কখন আপনি…’ বাজিয়ে মুগ্ধ করে দিয়েছিলেন। এই আন্দোলন সমস্ত কলকাতায় ছড়িয়ে গিয়েছিল। আমি শিয়ালদা স্টেশনে পথসভায় বক্তৃতা করেছিলাম। আমাদের আন্দোলনের চাপে সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের এক উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তখন আমি আলিপুরে চাকরি করি সদর মহকুমা ভূমিসংস্কার আধিকারিকের দপ্তরে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (বর্তমান মুখ্যসচিব) ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক ( ভূমি সংস্কার )।। তাঁর একটি অসামান্য গুণ, এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলেও একটিও ইংরেজি বা অন্য ভাষার শব্দ ব্যবহার করবেন না। তাঁকে দেওয়া হয়েছিল এই কাজের দায়িত্ব। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তাঁর সঙ্গে এই কাজে যুক্ত হতে চাই কি না। যুক্ত হয়েছিলাম। আমাদের প্রথম কাজ ছিল পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ব্লক অফিসে কত বাংলা টাইপ রাইটার লাগতে পারে এই কাজের জন্য, তা হিসেব করা। কম্পিউটার আসেনি তখন। তারপর পরিভাষা তৈরি। বাংলাদেশে পরিভাষা তৈরি আছে, তার সাহায্য আমরা নিতে পারি। কত মিটিং করেছি আমরা। তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরেও গিয়েছি। তারাপদ রায় তখন ডিরেকটর অফ কালচার। তিনিও পরামর্শ দিতেন। কাজ অনেকটা এগিয়েছিল। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই কাজে আমাকে যুক্ত করে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে আদেশনামা বের করতে উদ্যোগী হলেন। এক সকালে অফিসে গিয়ে শুনি এডিএম (এলআর) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এডিএম (জেলা পরিষদ) করে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। ... ...

সুদেশের বাড়ি সারপেন্টাইন লেনে। মিনিট তিনেক হেঁটেই ওরা পৌঁছিয়ে যায়। ঠিক এরকম বাড়ি কখনও দেখেনি জয়ি। ছোট দরজাটা প্রায় রাস্তার ওপর। সেটা দিয়ে ঢুকলে সামনেই একটা সিঁড়ি। সিঁড়িটা সিমেন্টের, যথেষ্ট অপরিসর, এবং পুরোপুরি শুকনো নয়। সিঁড়িটার আংশিক ভিজে থাকার কারণটা বুঝতে সময় লাগে না। সিঁড়ির পাশেই একটা খোলা জায়গা, জায়গাটা ভিজে, এবং সেখানে দু-তিনটে লোহার বালতি। খোলা জায়গাটার শেষে প্লাস্টার-খসা যে দেয়ালটা ওপরে উঠে গেছে, রং-চটে যাওয়া সেই দেয়ালের নীচের অংশে খানিকটা ক্ষয়ে যাওয়া একটা দরজা। বোঝা যায় ওটার ভেতরটায় স্নান করার জায়গা, যেখানে কোন জানলা আছে বলে অন্তত বাইরের থেকে বোঝা যায় না। খোলা জায়গাটা ভেজা কেন, এবং কেনই বা ওখানে বালতিগুলো, সেটা বোঝা যায় এবার। ... ...

সব ছবি দেখার পর সে একটি ছবি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো৷ ছবিটার গভীরতা দেখে যেন পাথর হয়ে গেল কিছুক্ষণের জন্য৷ নরকের দৃশ্যায়নের ছবি৷ কুৎসিত মুখশ্রীর শয়তান উপভোগ করছে কোন এক পাপীর উপর অত্যাচারের ভয়ঙ্কর দৃশ্য, যে নিজে তার জীবনকালে নানা পাপে নিমজ্জিত ছিল৷ ... ...

সেই পাচক মাশরুম, শৈবাল আর শামুক দিয়ে তৈরি চমৎকার খাবার বানিয়ে সেই বিধবার নজর কেড়ে নিল৷ অনেকে বলে সে সেই খাবারের মধ্যে নেশা বা সম্মোহন সৃষ্টিকারী কিছু মেশাত। অবশ্য এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। ... ...

এটা আসলে একটা লাক্ষার কারখানা ছিলো, বললো হেমন্ত। কারখানা মানে এমন কিছু নয়, সোজা জঙ্গল থেকে নিয়ে এসে এখানে জমা করতো লোকজন, তারপর রোদ্দুরে দেওয়া, ধোয়া, শুকোনো টুকোনো, এই সব। এক্সপোর্ট হতো, লাভও হতো ভালোই। কম্পানির মালিক মারোয়াড়ি, সে লোকও ভালো। আমার সাথে যখন আলাপ হলো তখন মনে হলো ও বেঁচে গেছে। পুরুলিয়া শহরে আর কলকাতায় ওদের নানা রকমের ব্যাবসা আছে, এখানকার ব্যাবসায় সময় দিতে পারছিলো না। সে দায়িত্বটা নিলাম আমি। কিন্তু শুধু সেটাই নয়, কারখানা দেখাশোনার জন্যে আমার মতো লোক ও হয়তো আরও পেতে পারতো। ওর সমস্যা ছিলো অন্য জায়গায়। এই যে কম্পাউণ্ডটা, প্রায় বিঘে চল্লিশ জমি, এই জমিটা ওর নিজের নয়। এটা ট্রাইবাল ল্যাণ্ড। আইন অনুযায়ী এই জমিটা ও নিতে পারছিলো না। লোকটা আমাকে খুবই বিশ্বাস করে। ওকে আমি যখন আমার শিডিউল্ড্ ট্রাইব স্টেটাসের কথা বললাম, ও যেন হাতে স্বর্গ পেয়ে গেলো। জমিটা ও কিনে নিলো আমার নামে। ... ...