• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • ধারাবাহিক উপন্যাস: গল্প চা (পর্ব-৪)

    বিতস্তা ঘোষাল
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৩৩৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • তিয়াসার মনে হল মহিলার ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে মিনিট দুয়েকের মধ্যেই এসে বসবেন হিসাবরক্ষক। সে হাতদুটো এক করে মিলিয়ে হাততালির মতন করলো৷ তখনো সে গল্পের মধ্যেই বিরাজ করছিল। তার মনে হচ্ছিল এই যে এক জনের ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে আরেকজন এসে বসছে তা আসলে দৃশ্যান্তরে যাবার প্রস্তুতি। নাটকে যেমন সাময়িকভাবে পর্দা ফেলে আরেকটি পর্বের প্রস্তুতি নেওয়া হয় ঠিক সেভাবেই এখানেও প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই সুযোগে কুশীলবরা পরের দৃশ্যের ডায়লগ ঝালিয়ে নিচ্ছে।

    সে ভাবছিল, এই দুটি গল্প শুনে ধরনটা মনে হলো ভালবাসার ও গোপনীয়তার, কিন্তু উত্তেজনায় ভরপুর৷ যদিও দু’জন মূল চরিত্রের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়াটা বেশ রহস্যের, কিন্তু ভালবাসাই তাদেরকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে গেল৷ প্রথমটা নয় ত্রিভুজ প্রেম, কিন্তু দ্বিতীয়টা?

    নিজের মনেই গল্পের নিখোঁজ চরিত্রের বিশ্লেষণ করছিল তিয়াসা। সে বেশ উৎসাহী ছিল ভাই-বোনের মধ্যেকার সম্পর্কের রহস্য জানতে।

    সে ভাবছিল হিসাবরক্ষককে জিজ্ঞাসা করবে এরপর এ টেবিলে কে গল্প শোনাবে৷ ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। কারণ প্রথম দুটো গল্পের মাঝে সেতুবন্ধন ছিল৷ তাছাড়া শেষটায় সে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে নি। শুধু দু-একটা কথা বলেছে। যদি তার ভুল না হয় এখনও যথেষ্ট চা আছে, হয়ে যাক চায়ের সাথে আরেকটা নতুন গল্প৷ 

    মৃদু উত্তেজনা নিয়ে সে কাপে চুমুক দিল। এখন কে গল্প বলবে? সম্ভবত বাইরের কেউ৷ এরা তো পেশাদার অভিনেতা নয় যে দীর্ঘক্ষণ অভিনয় বজায় রাখতে পারবে। যদিও তারা বেশ পটু গল্পকথনে আর শ্রোতাও সহজে মিশে যায় গল্পে৷ কোন পুনরাবৃত্তি না করেই এক্ষেত্রে চমৎকার দক্ষতা তাদের৷ নিঃসন্দেহে গল্প চা-ই পছন্দের শীর্ষে এই টি-শপে৷

    কিন্তু যখন হিসাবরক্ষক ক্যাশের পিছন থেকে মাথা নুইয়ে দেখালো তখন তিয়াসা কথা ভুলে গেল। যারপরনাই অবাক করা ঘটনা অপেক্ষা করছে দোকানে৷ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে সে দেখলো জানালার পাশে বসা অল্পবয়সী সেই যুগল এগিয়ে এলো৷ হাসতে হাসতে কোন কথা না বলে তারা দুই চেয়ারে বসে পড়ল৷ অন্যকিছু ভাবার মতন সময়ই পেল না তিয়াসা, কারণ ততক্ষণে যুবকটি গল্প বলা শুরু করে দিয়েছে৷

    সার্কাস ছাড়ার পর দুই জাদুকর মিস্টার কামু আর মিস কামনা আলাদা হয়ে গেল৷ কামু সমুদ্রে ভাসমান দামি প্রমোদতরীর রেস্টোরেন্টে পাচক হিসেবে চাকরি পেল৷ আরব সাগরে থাকা অবস্থায় তার পরিচয় হল ধনী যুবতী বিধবার সঙ্গে৷ তার স্বামী ছিল উচ্ছৃঙ্খল, মাতাল ও আরো নানা গুণে ভরা। তার মৃত্যুও ঘটল অদ্ভুতভাবে। কপালে কোনো কিছুর প্রচণ্ড আঘাতে। সেই চিহ্ন দেখে সংবাদপত্র, মিডিয়া এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, খুন, বলে প্রচার করল৷ অনেক ক্লু তারা আবিষ্কারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে কাউকেই ধরা গেল না। ফলে ক’দিনের মধ্যেই সব কিছু ধামাচাপা পড়ে গেল৷

    এদিকে সেই পাচক মাশরুম, শৈবাল আর শামুক দিয়ে তৈরি চমৎকার খাবার বানিয়ে সেই বিধবার নজর কেড়ে নিল৷ অনেকে বলে সে সেই খাবারের মধ্যে নেশা বা সম্মোহন সৃষ্টিকারী কিছু মেশাত। অবশ্য এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।

    ব্ল্যাক ম্যাজিক? তা আবার হয় নাকি? তিয়াসার প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না সামনে বসে থাকা গল্পকার।

    শুধু একবার নিজের নাকে হাত বুলিয়ে আবার বলতে শুরু করে দিল, বেশ কিছুদিন সেই খাবার খাওয়ার পর যুবতী চাইল পাচকের সঙ্গে দেখা করতে৷ প্রথম দর্শনেই যুবতী তার কথা আর রূপের মুগ্ধতায় মজে গেল৷ এরপর যুবতী নানান অছিলায় তাকে প্রায়ই ডেকে পাঠাতে লাগল৷ রোজই সে তাকে বিপুল টিপস্ ও উপহার দিচ্ছিল।

    কিন্তু এই বিষয়টা দীর্ঘদিন চলল না। জাহাজের ক্রুরা যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন যাত্রীদের মেলামেশায়। ফলে বিনা প্রয়োজনে অন্য কারোর কেবিনে বিশেষ করে একা কোনো মহিলার কেবিনে প্রবেশাধিকার গুরুতর অন্যায় বলে ধরা হয়৷ কামুর আনা-গোনাও তাই নিষিদ্ধ হল।

    এত কিছুর পরেও কোন এক ঘোরলাগা বিকেলে মহিলার প্রত্যাশা পূরণ হল৷ যুবক কামু তার রূপ ও শরীরী আকর্ষণে তার কেবিনে প্রবেশ করল। অবশ্য শোনা যায় সে পানীয় পানে আপত্তি জানিয়েছিল৷ নিজেকে সংযত রাখারও অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘি আর আগুন একসঙ্গে থাকলে শেষ অবধি কী ঘটবে আগে থেকে অনুমান করা খুব কঠিন নয়।

    তারপর, তিয়াসার কৌতূহল। তারপর কী হল?

    কেউ জানে না আসলে কী ঘটেছিল ওই রাতে কেবিনে৷ সকালে যখন রুম বয় কেবিন সাফ করতে এল তখন সে দেখল মেঝেতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তাদের রাঁধুনি। আর সেই মহিলা শুয়ে বিছানায়৷ অনেকক্ষণ ধরে তাদের ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় জাহাজের ম্যানেজারকে খবর দেওয়া হল। জাহাজের ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন মহিলার মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাট্যাকে৷ কামুর ঘুম ভাঙে প্রায় সারা দিন ঘুমোবার পরে। কেন সে এতক্ষণ ঘুমোচ্ছিল, কীই বা ঘটেছিল সেসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি সে। কিন্তু মহিলার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হওয়ায় এর সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেল না। তাই এই মৃত্যুতে সরাসরি দোষ পড়ল না তার উপর৷ তবু সেই মুহূ্র্তে চাকরি চলে গেল তার। এবং পরের বন্দরে তাকে নামতে বাধ্য করা হল কোনো রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই৷

    সে কী? যুবকের ভাগ্যটাই দেখছি খারাপ। তিয়াসা নিজের ঘোরে বলে।

     

    পরের পর্ব আগামী শনিবার


    গ্রাফিক্স: মনোনীতা কাঁড়ার
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৩৩৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শ্যামলী সেনগুপ্ত | 2409:4061:90:67ee::804:e0a5 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:৩১102551
  • আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। এমন জায়গায় এসে থেমে গেলে খুব রাগ হয় 

  • ভজন দত্ত | 2405:201:9006:1955:bcac:9c2a:5b4e:1b45 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২৩:১১102560
  • ভালো চলছে 

  • :|: | 174.251.160.53 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৪:০৬102564
  • এবারের পর্বটা অন্য বারের তুলনায় ছোট মনে হলো যেন! আরও একটু পেলে ভালো হতো। 


    এই প্রত্যাশাটাই লেখকের হাতযশ।  

  • moulik majumder | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:১৮102712
  • ভালো লাগল

  • মিনতি ঘোষ | 49.37.3.190 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৯:২৫102832
  • খুব আকর্ষণীয় ...রহস্যে ভরা। ভালো লাগছে

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

Bangla Novel, Bangla Literature, Bitasta Ghoshal Novel, Saturday Literature, Weekend Novel
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন