এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।

    লতিফুর রহমান প্রামানিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ জুন ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত
  • দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।

    দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য টা কমপক্ষে দশ বার ঘুরে ঘুরে শুনেছি। একজন ঝানু রাজনীতিবিদ ও কুটনৈতিকের বক্তব্য আলাদা করে দেখার চেষ্টা করেছি। কুটনৈতিক একজন ব্যক্তির বক্তব্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভার সম্পন্ন। প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা চলিত আছে। সম্প্রতি বিধান সভার নির্বাচন এবং বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের জন্য অনেক নতুন হিসাব নিকাশ গড়ে দিচ্ছে। কয়েক দিন ধরে সীমান্তে পুশইনের খবর টাও ভারতীয় মিডিয়া ফলাও করে প্রচারণা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের মিডিয়া ও কম যায়নি। হঠাৎ করে বিডিআর এর সাহসী আর দেশপ্রেমের মশাল জ্বেলে ওঠাও বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতি এন সি পির কাছে অস্বস্তিকর মনে হলেও বিরোধীদল জামাতে ইসলাম উদার কুটনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় সেটা হজম করেছে বা মেনে নিয়েছে। নির্বাচনের পরে সরকারের মুখে ও বিরোধী শিবিরে ভারত বিরোধী কোন উল্লেখযোগ্য বক্তব্য আর আসেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও হিস্যা আদায় করে নিতে অনড় অবস্থানের ও চিত্র বহাল যে আছে তার প্রমাণ এসেছে সম্প্রতি বি ডি আর এর গলায় যখন শুনি, আপনি গুলি করলে, আমাদের ও গুলি আছে। আমরা চুপচাপ বসে থাকবো না।
    ঠিক সেই মুহূর্তের কিছু আগে, হাদী খুন হবার অন্তরালে ভারতীয় সরকারের পরোক্ষ অংশগ্রহণের একটা গোপন ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ফাস করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি ও নতুন করে প্রশ্নের মুখোমুখি করার কিনার থেকে আপাতত ফিরে আসার ঘটনা ও আলোচনার বারুদ জমা করা থাকছে। শুভেন্দু বাবুর বিগত সময়ের বাংলাদেশ নিয়ে উগ্রতা খানিকটা প্রশমিত হয়েছে বলে আপাত দৃষ্টিতে তারই চিত্র দেখেছি সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে তার এড়িয়ে যাওয়া উত্তর থেকে। দুই দেশের এই অসহিষ্ণু সম্পর্ক দুই দেশকে স্বস্তিতে রাখতে পারবে না ধরে নিয়েই কি ত্রিবেদীর সুর পালটে যাওয়া? এবার সেই কথায় আসি।
    হেটে হেটে সীমারেখা পার হয়ে কুটনৈতিক দায়িত্ব নেওয়ার এই ঘটনা বিরল। করোনা কালে বিমান বন্ধ থাকার সময়ে আখাউড়া দিয়ে ভারতীয় সরকারের প্রতিনিধি আসার ঘটনা প্রথম হলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পুর্ন আলাদা এবং ঘিয়ে জল ঢেলে দেওয়ার মতো বিরলতম ঘটনার স্বাক্ষী হলেন ভারতীয় সরকারের প্রতিনিধি কুটনৈতিক ত্রিবেদী ও স্ত্রী। সাবেক রেলমন্ত্রী ও তুখোড় পার্লামেন্টারি রাজনৈতিক নেতার এই পদে প্রথম বার নিয়োগ এবং বাংলাদেশের সাথে যে মুহূর্তে একটা নাজুক সম্পর্ক বিদ্যমান তা অনেক চিন্তার খোরাকেরই জোগান দিচ্ছে। তার সহাস্যে আগমন, কুশলাদি বিনিময়ের মাধ্যম ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাথে ভারতীয় ক্রিকেট দলের একিভুত করার স্বপ্ন কি শুধু কথার কথা নাকি এর পিছনে আরও রাজনৈতিক বিষয় জড়িয়ে আছে তা নিয়ে আলোচনা করার পথ প্রসারিত হয়েছে আরেকবার। আগেই বলেছি ত্রিবেদীর পরিচয়। তিনি ঝানু রাজনীতিবিদ এবং কুটনৈতিক। প্রথমে কংগ্রেস তারপর মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃনমুল কংগ্রেসের সাথে এরপর ভারতীয় জনতা পার্টির পলিসি মেকানিক ত্রিবেদীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার তুলনা হয় না। তাই বাংলাদেশের সাথে সখ্যতা রয়েছে যাদের, তারা হোক কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের বা জনতা পার্টির। সবার সাথে তার রয়েছে ভালো সম্পর্ক। তাই বাংলাদেশ কে সামলাতে হবে দু দিক থেকেই। ভারতীয় সরকারের ও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে বিচার করতে হবে তার এই বক্তব্য টা। তার সরল বিশ্বাসী কথা যেমন, আমাদের ১৪০ আর বাংলাদেশের ২০ এই নিয়ে ১৬০ কোটি জনগণের দেশ যে বিশ্ব শক্তির উদাহরণ তা চীনের প্রতি একটা হুমকি দিয়ে রাখাই কি না তা ভবিষ্যতে জানা যাবে। যে মুহূর্তে চীনের তিস্তা প্রকল্পে ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ করার হাতছানি দিচ্ছে ঠিক এই মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশের একই আকাশ বাতাস আর একই যন্ত্রণার ইংগিত নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে। কেউ কেউ অখংড ভারতের পুরনো স্মৃতি নতুন করে ভাবাচ্ছে এক সাথে থাকা দীর্ঘ বছরে ও যখন বাংলাদেশ বঞ্চিত ছিলো তা নতুন করে সীমান্ত তুলে দিয়ে আবারও ভারতের সাথে একীভূত করার স্বপ্ন ঠিক কোন দৃষ্টিতে বলা হয়েছে তা ভাবনার বিষয়। যা কিনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর চোখ কিনা সেটাও ভাবায়। পক্ষান্তরে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দুই দেশের চিরাচরিত সুশীল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বার্তা যদি হয় তাহলে সেটা রাজনৈতিক গুগলি হিসাবে ভারতীয় সরকারের পলিসি কিনা তাও অগ্রাহ্য করা যায় না। ঠিক এই মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশের এই অসুস্থ সম্পর্ক দ্রুত সেরে উঠার জন্য ভারতীয় সরকারের প্রতিনিধি কুটনৈতিক ত্রিবেদী কে নিয়োগের পিছনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে সেই হিসেবে দেখতে হবে। সীমানা বেড়া, পুশইন সমস্যা, মাদক, অস্ত্র পাচার সহ বানিজ্যের অনেক বিষয় নিয়ে দেনদরবার করার ও সর্বোপরি ত্রিবেদী কে ডিল করার যাবতীয় প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সময় অপেক্ষা করে আছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এবার টোটো | 14.*.*.* | ১৩ জুন ২০২৬ ২৩:১৪741185
  • টোটো চালক, হকার এরা প্রান্তিক গরীব মানুষ। বিজেপি ছক কষেই এদের ভাত কাড়ছে। পরে হয়তো আবার ফাঁদে ফেলে গেরুয়া ঝান্ডা বেঁধে তাদের নিয়ে আসবে।
    যেমন তৃণমূলের ডাকাত লম্পটরা আদি সনাতনী হয়ে গেছে।
    মূল রাস্তায় যদি টোটো না চলে তবে গলির মধ্যে কে চড়বে টোটোয়? স্টেশন বাসস্ট্যান্ড হাসপাতাল সরকারি দপ্তর হাট বাজারের মতন জায়গায় যদি টোটো চলতে দেওয়া না হয় তাহলে নতুন করে কয়েক লাখ বেকারের ভাত কাড়বে বিজেপি।
    শিলিগুড়ি শহর সহ বহু এলাকায় ইতিমধ্যেই যা শুরু হয়েছে। টোটো চালকরা এর আগে ১৫ হাজার টাকা রেজিষ্ট্রেশন ৫ হাজার টাকা ইনস্যুরেন্স ফিজ দিয়ে এক লাখি গাড়ি নিয়ে বাঁচতে নেমেছেন, অনেকের আবার নিজের গাড়িও না রোজ পাঁচশো টাকা মালিককে দেওয়ার শর্তে গাড়ি চালান। এই গরীবদের ওপর এত জুলুম, সরকারটা তো সদ্য জন্ম নিল!
     
    - জয়দীপ সরকার
     
    অর্জুন সিং এর বক্তব্য শুনুন:
  • দু:খিত | 14.*.*.* | ১৩ জুন ২০২৬ ২৩:১৬741186
  • অন্য সুতোয় পোস্ট করতে গিয়ে এখানে ভুল করে এই মন্তব্য হয়ে গেছে, এই বিষয়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। এডমিনরা এটি মুছে দিলে ভাল হয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন