এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ফলতার পর

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ মে ২০২৬ | ২৬০ বার পঠিত
  • সারা ভারতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের তরফে বহু বছর ধরে অভিযোগ জানানো হচ্ছে। এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে এইসব অভিযোগের যথার্থতা আরও প্রকট। কিন্তু এ পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্য কতটা হিন্দু মেরুকরণ আর কতটা তৃণমূলের স্বৈরতান্ত্রিক অপশাসনের ফলাফল সেটাও আলোচনার বিষয় আর তার অনুমান এখনই করা যাবে না। তবে অনুমান নির্ভর অনেক কথার পর একটা কথা পরিস্কার যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল হাওয়া। আমি নিজে ডায়মন্ড মাফিয়া চক্র অভিষেকের যুব তৃণমূলের এলাকায় থাকি। দূর থেকে বসে বুঝতেই পারা যাবে না এইসব তিনু মাফিয়াদের অত্যাচারের মাত্রা কী ছিল। তৃণমূল খাড়াখাড়ি ভাগ হয়ে ছিল গোটা ডায়মন্ড হারবারে। সাধারণ লোক তো ভয়ে কাঁটা ছিল। অভিষেকের এই যুবরা পুরোনো বা মাদার তৃণমূলকে মেরে বসিয়ে দিয়েছিল বছর দশেক ধরে। তার মধ্যে ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক প্রয়াত তমোনাশ ঘোষও পড়েন। তৃনমূলের এই চূড়ান্ত মাফিয়া নির্ভর তথকথিত মুসলিম ভোট ব্যাংকের সংহতকরণের রাজনীতির ফলে বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ যে সহজ হচ্ছে এই অভিযোগ স্বয়ং রাহুল গান্ধীকেও করতে দেখা গেছে নির্বাচনী প্রচারে। বামের ভোট রামে নয়, গোটা ডায়মন্ড হারবারে হিন্দু তৃণমূলের লোকেরাই বড় সংখ্যায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। আর ফলতার উপনির্বাচনের ভোটে দেখা গেল তৃণমূলের মুসলিম ভোটই বামে গেছে। আমার মনে হয় ওইজন্য বিকাশ ভট্টাচার্য ইচ্ছে করে কিছু মামলা লড়ছেন তিনু পার্টির ওপর বাড়াবাড়ির অভিযোগের সুরাহায়। এটা করে একটা বার্তা যাচ্ছে। তার ফল বামেরা পাবে। ফলতা তারই নমুনা। আগে রাম পরে বাম এসব ঊনিশ একুশের বাস্তবতা। তিনটে ভোটে যারা তিনু ঠেকাতে বিজেপিকে দিয়েছে সে ভোট আর বামের ভোট নেই। নইলে যাদবপুরে বিজেপি জেতে? এখন বামেরা যা লাভ করবে সেটা হলো তৃণমূলের ভোট। কংগ্রেসের দুর্বল উপস্থিতির জন্য তৃণমূলের মুসলিম ভোট দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বেশিটা বামেই যাবে আর যেখানে কংগ্রেসের সবল উপস্থিতি আছে সেখানে উল্টোটাই স্বাভাবিক। ময়দানে তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে এই প্রবণতা কমবেশি সব জায়গাতেই দেখা যাবে। সত্যি বলতে কী বিজেপি–আরএসএস এর তীব্র আক্রমণের মুখে মতাদর্শহীন অধঃপতিত দুর্নীতিগ্রস্থ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটের নতুন বিন্যাস আগে হলেই ভালো হতো। তা যখন হয় নি তখন পরে, মানে পরিবর্তিত বাস্তবতায় হবে। ফলতার ভোট তারই ইঙ্গিত দিয়েছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৫ মে ২০২৬ ২০:৫৪740841
  • "পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) বা মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের (MSC) নাম সবার আগে সামনে আসে। কিন্তু একটু গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট সংস্থায় বেলাগাম দুর্নীতির জাল বুনতে পারে, তাদের পক্ষে অন্যান্য নিয়োগ সংস্থাকে পবিত্র রাখা অসম্ভব। রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ যেমন শিকারের খোঁজে ব্যাকুল থাকে, তেমনই দুর্নীতির এই চক্র অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে রেয়াত করেছে—এমনটা ভাবা নিতান্তই সরলতা।

    পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC), কলেজ সার্ভিস কমিশন (CSC), কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশন, হেলথ কিংবা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না বললেই চলে।

    সাম্প্রতিককালে ডাব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষা নিয়ে জনমানসে কিছুটা হেলদোল দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের ব্যাচগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু এরপরই যেন এক রহস্যময় নীরবতা নেমে এসেছে। প্রশ্ন জাগে, দুর্নীতি কি তারপর সত্যিই কর্পূরের মতো উবে গেল?

    আসলে দুর্নীতি কমেনি, উবে গেছে সেইসব সাহসী 'হুইসেলব্লোয়ার' (Whistleblower) বা তথ্যফাঁসকারীদের কণ্ঠস্বর। পিএসসির কিছু সৎ কর্মী নিজেদের ক্যারিয়ার, পদোন্নতি বা দূরবর্তী বদলির তোয়াক্কা না করে সংবাদমাধ্যমের কাছে ভেতরের অনিয়ম তুলে ধরেছিলেন। তৎকালীন সময়ে হাতেগোনা কিছু সংবাদমাধ্যম এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার জেরেই এই হিমশৈলের চূড়াটি দৃশ্যমান হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনিয়মের প্রতিবাদ করা সেইসব সন্দেহভাজন কর্মীদের দূর-দূরান্তে বদলি করে দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে। 'নটে গাছটি মুড়ালো'—আর দুর্নীতির চক্রটি আড়ালে থেকে গেল।

    WBCS থেকে শুরু করে ক্লার্কশিপ—পিএসসির প্রায় প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আজ প্রশ্নের মুখে।

    এটা নিশ্চিত যে সমস্ত চাকরিপ্রার্থী অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পাননি; বহু যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী নিজের যোগ্যতায় স্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু দুর্নীতির এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যোগ্যতার শতাংশ ১০% আর দুর্নীতির শতাংশ ৯০% কি না—সেই প্রকৃত অনুপাত আজো কুয়াশাচ্ছন্ন।

    দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে, তা জানতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান প্রয়োজন:

    ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান কেন হঠাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন, তার পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

    জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভাই দেবপ্রিয় মল্লিক এবং দীপঙ্কর দাশগুপ্তদের কার্যকালে যত নিয়োগ হয়েছে, তার প্রতিটি স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা দরকার।

    বিগত সরকারের সময়কাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হওয়া সমস্ত পরীক্ষার ওএমআর শিটের স্ক্যানড কপি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক, যাতে স্বচ্ছতা প্রমাণিত হয়।

    বিগত সরকারের আমলে শুধু রোল নম্বর দিয়ে যে সব মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলি নাম সহ আবার প্রকাশিত হওয়া দরকার।

    এ যাবতকাল পর্যন্ত যারা কমিশনের চেয়ারম্যান বা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আইনি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হোক।

    পিএসসির ভেতরে কর্মরত বহু নিম্ন ও মধ্যপদস্থ কর্মচারী অনেক গোপন তথ্যের সাক্ষী। তাদের ভয়মুক্ত পরিবেশে এনে গোপন জবানবন্দি নেওয়া হলে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

    আজ আমরা যেটুকু অনিয়ম বা অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছি, তা আসলে এক বিশাল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। যদি শিক্ষাক্ষেত্রের মতো বাকি কমিশনগুলোরও ওএমআর শিট এবং মেধা তালিকা সততার সাথে খতিয়ে দেখা হয়, তবে যে কেলেঙ্কারি সামনে আসবে তা হয়তো স্কুল সার্ভিস বা পুরসভা দুর্নীতিকেও টেক্কা দিতে পারে। মেধার অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে এই তদন্ত আজ সময়ের দাবি।"
  • Dhuttor | 2a0d:*:*:*:*:*:*:* | ২৫ মে ২০২৬ ২১:০৪740842
  • এই দিপশুয়োর নিজের লেখার হ্যাডম নেই অন্যের লেখা এনে অন্যের ট্টয়িতে ডাম্প করিস কেন লাথখোর?
  • Ni Pa | 2405:*:*:*:*:*:*:* | ২৬ মে ২০২৬ ১০:১২740844
  • চটিবিদায়ের পরে শোকের আবহে এই খবরটা চাপা পরে গিয়েছিল। সাদা খাতার বিডিও প্রশান্ত বর্মন কাল গ্রেপ্তার হয়েছে। এরকম আরো ৫০ -৬০ জন আছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন