এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  •  বুলিয়ান বীজগণিত আর রাজনীতি: যুক্তির অপব্যবহার , কীভাবে রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষকে বোকা বানায় 

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪৮ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13
    আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের ১০টা অধ্যায়ে শিখেছি, কীভাবে সঠিক যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। AND, OR, NOT, XOR — এসব অপারেটর আমাদের শেখায় কখন কোনো বক্তব্য সত্যি হয়, কখন মিথ্যা হয়। কিন্তু রাজনীতির জগতে এই যুক্তিগুলোকে মাঝে মাঝে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। আজ আমরা দেখব, কীভাবে রাজনীতিবিদরা বুলিয়ান বীজগণিতের নিয়মগুলোকে কাজে লাগিয়ে (বা উল্টোভাবে ব্যবহার করে) মানুষকে বোকা বানায়।

    ১. OR-এর অপব্যবহার: "হয় এইটা না হয় ওইটা" — মিথ্যা দ্বিধা

    বুলিয়ান বীজগণিতে OR ( + ) অপারেটর বলে, দুটো শর্তের যেকোনো একটা সত্যি হলেই ফল সত্যি। কিন্তু রাজনীতিতে অনেক সময় OR-কে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন দুটো অপশনের বাইরে আর কিছু নেই। একে বলে "মিথ্যা দ্বিধা" (False Dilemma)।

    উদাহরণ:
    "তোমরা হয় আমাদের দলকে ভোট দাও, না হয় দেশ ধ্বংস হবে।"

    এখানে বক্তা বলছেন: A = আমাদের দলকে ভোট দেওয়া, B = দেশ ধ্বংস। তিনি বলছেন, A অথবা B — একটা সত্যি হবেই। কিন্তু আসলে তো আরও অনেক অপশন আছে — অন্য দলকে ভোট দেওয়া, কাউকে না দেওয়া, ইত্যাদি। বক্তা OR-এর মাধ্যমে সম্ভাবনাগুলোকে সীমিত করে ফেলছেন।

    বুলিয়ান এক্সপ্রেশন: A + B = 1 (মানে A অথবা B সত্যি) — কিন্তু এটা সত্যি না, কারণ A+B=1 হওয়া জরুরি না। C (অন্য দল) থাকতে পারে।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ ভাবে, সত্যিই হয় এই দল না হয় ধ্বংস। তাই ভয় পেয়ে ওই দলকেই ভোট দেয়।

    ২. AND-এর অপব্যবহার: সবগুলো শর্ত একসাথে দেখানো

    AND অপারেটর বলে, সবগুলো শর্ত সত্যি হলেই ফল সত্যি। রাজনীতিবিদরা অনেক সময় অনেকগুলো শর্ত একসাথে বলে, কিন্তু পরে দেখা যায় সবগুলো পূরণ হয় না।

    উদাহরণ:
    "আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ — সব খাতে উন্নয়ন করব।"

    এটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু বুলিয়ান বীজগণিতের ভাষায়, এই বক্তব্য সত্যি হওয়ার জন্য সবগুলো শর্ত (শিক্ষা উন্নয়ন AND স্বাস্থ্য উন্নয়ন AND কৃষি উন্নয়ন AND যোগাযোগ উন্নয়ন) সত্যি হতে হবে। কিন্তু বাজেট সীমিত, তাই সব খাতে একসাথে উন্নয়ন সম্ভব না। তবুও মানুষ শুনে খুশি হয়।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ AND-এর পুরো টার্মটাকে সত্যি ধরে নেয়, কিন্তু পরে যখন দেখা যায় সব হয়নি, তখন বলার থাকে — "আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ ছিল।"

    ৩. NOT-এর অপব্যবহার: অস্বীকার করে দেওয়া

    NOT অপারেটর একটা বিষয়ের উল্টোটা বলে। রাজনীতিতে NOT-এর সবচেয়ে বড় ব্যবহার হলো "আমি ওই কথা বলিনি" বলা, যখন স্পষ্ট প্রমাণ থাকে যে বলেছেন।

    উদাহরণ:
    সাংবাদিক: "আপনি তো বলেছিলেন কর কমাবেন, কিন্তু বাড়ালেন কেন?"
    নেতা: "আমি কখনো কর কমানোর কথা বলিইনি।"

    এখানে নেতা তার আগের বক্তব্যকে NOT করে দিচ্ছেন। বুলিয়ান বীজগণিতে A = "আমি কর কমানোর কথা বলেছিলাম", এখন তিনি বলছেন NOT A। কিন্তু সত্যি যদি A হয়, তাহলে NOT A মিথ্যা। তবুও তিনি বারবার NOT A বলে যান, মানুষ বিশ্বাস করতে থাকে।

    কীভাবে বোকা বানায়: বারবার একই মিথ্যা বললে মানুষ eventually বিশ্বাস করতে শুরু করে। এটা NOT-এর অপব্যবহার।

    ৪. XOR-এর অপব্যবহার: এক্সক্লুসিভিটির ভান

    XOR অপারেটর বলে, দুটো শর্তের মধ্যে ঠিক একটা সত্যি হবে, দুটো একসাথে না। রাজনীতিতে অনেক সময় বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন দুটো জিনিস একসাথে সম্ভব না, অথচ বাস্তবে সম্ভব।

    উদাহরণ:
    "তোমরা হয় উন্নয়ন চাও, না হয় পরিবেশ চাও — দুটো একসাথে সম্ভব না।"

    এটা একটা মিথ্যা XOR। বাস্তবে উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষা একসাথে সম্ভব (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট)। কিন্তু রাজনীতিবিদ XOR প্রয়োগ করে মানুষকে বাধ্য করেন একটা বেছে নিতে।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ ভাবে, সত্যিই দুটো একসাথে সম্ভব না, তাই একটা বেছে নেয়। পরে দেখা যায়, দুটোই সম্ভব ছিল, কিন্তু ওরা চায়নি।

    ৫. ইমপ্লিকেশন (যদি-তবে) এর অপব্যবহার

    বুলিয়ান বীজগণিতে ইমপ্লিকেশন বলে: A → B মানে "যদি A সত্যি হয়, তাহলে B সত্যি হবে"। এর উল্টোটা সবসময় সত্যি না। রাজনীতিবিদরা এই উল্টোটাকে সত্যি বলে চালান।

    উদাহরণ:
    "যদি তুমি শিক্ষিত হও, তাহলে তুমি চাকরি পাবে।" (A → B)
    তারপর তারা বলেন: "তুমি চাকরি পাচ্ছ না, তাই তুমি শিক্ষিত না।" (NOT B → NOT A — এটা বৈধ, এটা কন্ট্রাপজিটিভ)

    কিন্তু তারা বলেন: "তুমি শিক্ষিত, তাই তুমি চাকরি পাবে" — এটা সবসময় সত্যি না। আরও বলেন: "তুমি চাকরি পেয়েছ, তাই তুমি শিক্ষিত" — এটাও সত্যি না (কারণ অশিক্ষিতরাও চাকরি পেতে পারে)।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ A → B শুনে মনে করে B → A-ও সত্যি। কিন্তু বুলিয়ান বীজগণিত শেখা মানুষ জানে, এটা ভুল।

    ৬. টাট্টোলজি: সবসময় সত্যি কথা বলে চমক দেখানো

    টাট্টোলজি হলো এমন বক্তব্য যা সবসময় সত্যি, কিন্তু কোনো তথ্য দেয় না। যেমন "আমরা যদি কাজ করি, তাহলে কাজ হবে" — এটা সবসময় সত্যি, কিন্তু কিছু বলে না।

    উদাহরণ:
    "আমরা জনগণের জন্য কাজ করি।" — কে না বলে? সব দলই বলে। এটা একটা টাট্টোলজি, কারণ সব দলই দাবি করে তারা জনগণের জন্য কাজ করে।

    বুলিয়ান বীজগণিতে A + A' = 1 — সবসময় সত্যি, কিন্তু কোনো তথ্য দেয় না। রাজনীতিবিদদের অনেক বক্তব্য এই ক্যাটাগরিতে পড়ে।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ মনে করে, বক্তা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলছেন। কিন্তু আসলে কিছুই বলছেন না।

    ৭. কনট্রাডিকশন: পরস্পরবিরোধী কথা বলা

    কনট্রাডিকশন হলো A AND NOT A — যা কখনো সত্যি হতে পারে না। রাজনীতিবিদরা মাঝে মাঝে পরস্পরবিরোধী কথা বলেন, কিন্তু মানুষ সেটা খেয়াল করে না।

    উদাহরণ:
    "আমরা কর বাড়াব না, কিন্তু উন্নয়নের জন্য টাকা লাগবে। কর না বাড়ালে টাকা কোথা থেকে আসবে?"

    একই বক্তব্যে বলা: কর বাড়াব না (NOT A), আবার উন্নয়ন করতে হবে (যার জন্য টাকা দরকার, যা কর থেকেই আসে — A)। স্পষ্ট কনট্রাডিকশন।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ দুটো কথা আলাদাভাবে শোনে, একসাথে ভাবে না। তাই কনট্রাডিকশন টের পায় না।

    ৮. ডি মরগানের সূত্রের অপব্যবহার: উল্টোটা সত্যি বলে চালানো

    ডি মরগানের সূত্র বলে: (A AND B)' = A' OR B'। মানে "A এবং B দুটোই সত্যি না" বোঝায় "A মিথ্যা অথবা B মিথ্যা"। রাজনীতিবিদরা অনেক সময় এর উল্টোটা ব্যবহার করেন।

    উদাহরণ:
    ধরুন, সরকার বলে: "আমরা দুর্নীতি করিনি AND অপপ্রচার চালাইনি" — যদি এটা মিথ্যা হয়, তাহলে ডি মরগান বলে: "আমরা দুর্নীতি করেছি OR অপপ্রচার চালিয়েছি"। কিন্তু সরকার হয়তো বলবে: "ওরা বলছে আমরা দুর্নীতি করেছি AND অপপ্রচার চালিয়েছি — এটা মিথ্যা!" — আসলে ওরা যা বলেছে, সেটা OR, AND না।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ AND আর OR গুলিয়ে ফেলে। বিরোধীরা যা বলে, তাকে AND আকারে উপস্থাপন করে সহজেই মিথ্যা প্রমাণ করা যায়।

    ৯. অপূর্ণ সত্য: শুধু কিছু তথ্য দেওয়া

    বুলিয়ান বীজগণিতে একটা ফাংশন সত্যি হওয়ার জন্য সবগুলো শর্ত দরকার। রাজনীতিবিদরা শুধু সেই অংশটুকু দেখান যা তাদের স্বার্থে কাজে লাগে, বাকিটা লুকিয়ে ফেলেন।

    উদাহরণ:
    "আমাদের শাসনামলে জিডিপি বেড়েছে ৭%" — এটা সত্যি হতে পারে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্ব বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে — সেটা বলেন না।

    বুলিয়ান এক্সপ্রেশন: ভালো শাসন = (জিডিপি বেড়েছে) AND (বেকারত্ব কমেছে) AND (মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে)। শুধু প্রথম অংশ দেখিয়ে তারা AND-কে সত্যি বলে চালান।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ শুধু একটা তথ্য দেখে খুশি হয়ে যায়, বাকিগুলো খোঁজে না।

    ১০. শর্ত বদলে দেওয়া

    রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের আগে কিছু শর্ত দেন, পরে সেগুলো বদলে দেন।

    উদাহরণ:
    নির্বাচনের আগে: "আমরা ক্ষমতায় এলে পেট্রোলের দাম কমাব।"
    ক্ষমতায় এসে: "আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, তাই কমাতে পারছি না।"

    এখানে A = আমরা ক্ষমতায় আসা, B = পেট্রোলের দাম কমানো। আগে প্রতিশ্রুতি ছিল A → B। পরে তারা বলে, (A AND C) → NOT B, যেখানে C = আন্তর্জাতিক বাজার। শর্ত বদলে গেছে।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ আগের প্রতিশ্রুতি মনে রেখেছে, কিন্তু নতুন শর্ত যোগ করার কারণে সেটা আর ধরা যায় না।

    ১১. সংখ্যার কারসাজি

    বুলিয়ান বীজগণিত সংখ্যা নিয়ে কাজ করে না, কিন্তু রাজনীতিবিদরা সংখ্যা নিয়েও কারসাজি করেন। যেমন ৫০% কমেছে বলে, কিন্তু বেস কত ছিল তা বলেন না।

    উদাহরণ:
    "আমাদের সময় দুর্নীতি ৫০% কমেছে।" — আগে যদি দুর্নীতি ছিল ২ টাকা, ৫০% কমে ১ টাকা হলেও ৫০% কমেছে। কিন্তু আগের পরিমাণটা জানা না থাকলে এই তথ্য অর্থহীন।

    বুলিয়ান লজিকে এটা TRUE হতে পারে, কিন্তু পুরো সত্য না।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ ৫০% কমেছে শুনেই খুশি, পেছনের তথ্য খোঁজে না।

    ১২. সংবেগজনিত আবেদন: যুক্তির বদলে অনুভূতি

    বুলিয়ান বীজগণিত যুক্তি দিয়ে কাজ করে, কিন্তু রাজনীতিবিদরা যুক্তির বদলে আবেগ দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করেন।

    উদাহরণ:
    "ওই দল ক্ষমতায় এলে দেশ ধ্বংস হবে। আমাদের দেশ বাঁচান।" — এখানে কোনো যুক্তি নেই, শুধু ভয় দেখানো।

    বুলিয়ান এক্সপ্রেশন: A → B, যেখানে A = ওই দল ক্ষমতায় আসা, B = দেশ ধ্বংস। কিন্তু A আর B-এর মধ্যে কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ ভয় পেয়ে যুক্তি ভুলে যায়।

    ১৩. লেবেলিং: ভালো-মন্দের লেবেল লাগানো

    বুলিয়ান বীজগণিতে ভালো-মন্দের কোনো মানে নেই। কিন্তু রাজনীতিবিদরা কিছু শব্দের সঙ্গে ভালো আর খারাপের লেবেল লাগিয়ে দেন।

    উদাহরণ:
    "আমরা দেশপ্রেমিক, ওরা বিদেশি এজেন্ট।" — নিজেদের লেবেল ১ (ভালো), অন্যদের লেবেল ০ (খারাপ)। কিন্তু এগুলো প্রমাণিত না।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ লেবেল দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়, ভাবে না আসলে কে কী।

    ১৪. অতি সাধারণীকরণ

    বুলিয়ান বীজগণিতে একটা মামলা দিয়ে সব মামলা প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু রাজনীতিবিদরা একটা ঘটনা দিয়ে সব ঘটনার সিদ্ধান্ত টেনে ফেলেন।

    উদাহরণ:
    "ওই দলের এক নেতা দুর্নীতি করেছে, মানে ওই দলের সবাই দুর্নীতিবাজ।"

    এটা বুলিয়ান লজিকে: A = ওই নেতা দুর্নীতিবাজ, B = সব নেতা দুর্নীতিবাজ। A থেকে B প্রমাণিত হয় না। কিন্তু মানুষ এটা মেনে নেয়।

    কীভাবে বোকা বানায়: একটা ঘটনা দেখে সব সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।

    ১৫. মিথ্যা সমতুল্যতা

    দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিসকে একই বলে চালানো।

    উদাহরণ:
    "যে আমার বিরুদ্ধে, সে দেশের বিরুদ্ধে।" — A = আমার বিরুদ্ধে, B = দেশের বিরুদ্ধে। এদের সমান করে দেওয়া হচ্ছে, অথচ এরা সমান না।

    বুলিয়ান লজিকে A = B বলা হচ্ছে, কিন্তু সেটা প্রমাণিত না।

    কীভাবে বোকা বানায়: মানুষ নেতাকে দেশের সঙ্গে এক করে ফেলে, তাই নেতার বিরুদ্ধে গেলে দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া হয় বলে মনে করে।

    বুলিয়ান বীজগণিতের শিক্ষা

    লিলি আর মিমি বুলিয়ান বীজগণিত শেখার পর এখন এসব ফাঁদ চিনতে পারে। তারাও জানে, যখন কোনো নেতা বলেন "হয় আমাদের ভোট দাও, না হয় দেশ ধ্বংস", সেটা একটা মিথ্যা OR। যখন কোনো নেতা বলেন "আমরা সব খাতে উন্নয়ন করব", সেটা একটা অসম্ভব AND। যখন কোনো নেতা বলেন "আমি ওই কথা বলিনি", সেটা একটা সন্দেহজনক NOT।

    বুলিয়ান বীজগণিত শুধু গণিতের বইয়ের জন্য না, এটা আমাদের বাস্তব জীবনেও দরকার। এটা আমাদের শেখায়, কীভাবে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হয়। আর যারা যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারে, তাদের বোকা বানানো কঠিন।

    তাই লিলি আর মিমি এখন প্রতিটি রাজনৈতিক বক্তব্য শোনার সময় মনে করে — এটা কি AND? OR? NOT? কোন শর্তগুলো বলা হচ্ছে? কোন শর্তগুলো লুকানো হচ্ছে? কোনটা টাট্টোলজি? কোনটা কনট্রাডিকশন? এই প্রশ্নগুলো করলেই বোঝা যায়, কে সত্যি বলছে, কে বোকা বানাচ্ছে।

    বুলিয়ান বীজগণিতের জ্ঞান আমাদের শুধু ইলেকট্রনিক সার্কিট বুঝতে সাহায্য করে না, এটা আমাদের যুক্তিবাদী মানুষ হতে সাহায্য করে। রাজনীতিবিদরা যতই যুক্তির ফাঁদ পাতুক না কেন, বুলিয়ান বীজগণিত জানা মানুষ সেই ফাঁদ এড়িয়ে চলতে পারে।

    তাই লিলি আর মিমির মতো তোমরাও বুলিয়ান বীজগণিত শেখো। এটা তোমাদের বোকা বানানোর সব ফাঁদ চিনতে সাহায্য করবে। আর মনে রেখো, প্রকৃত গণতন্ত্র তখনই সফল হয়, যখন মানুষ যুক্তিবাদী হয়।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন