এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পাঠক্রম ও ফ্যাসিজম 

    Eman Bhasha লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৩১১ বার পঠিত
  • একালের প্রবন্ধ সঞ্চয়ন।
    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২-এ বইটি প্রকাশ করে আবশ্যিক বাংলা বইয়ের পাঠ্য হিসেবে। পাঠক্রম নির্মাতাদের এতদিন পর অভিনন্দন জানাতে হচ্ছে, অসাধারণ কিছু প্রবন্ধ সেখানে সন্নিবেশিত করায়। যা ৩১ বছর পর অসম্ভব প্রাসঙ্গিক।

    ইতিহাস ও সংস্কৃতি -- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
    মার্কসবাদ ও মনুষ্যধর্ম--নীরেন্দ্রনাথ রায়
    রামকথার প্রাক-ইতিহাস -- সুকুমার সেন
    যে দেশে বহু ধর্ম বহু ভাষা-- অন্নদাশঙ্কর রায়
    কৃষি সমস্যা ও আমরা-- অশোক মিত্র
    এছাড়াও ছিল ঐতিহাসিক সুশোভন সরকারের লেখা -- ফাশিজম।

    ২০০৯-এ সুশোভন সরকারের এই লেখাটি বাদ দিয়ে 'বাংলার রেনেসাঁস: রবীন্দ্রনাথ ও বাংলার নবজাগরণ ' নামে অন্য একটি প্রবন্ধ সংকলন করা হয়।

    ফাশিজমের বিপদ নিয়ে এত সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর লেখা দুর্লভ।
    প্রেসিডেন্সি কলেজে আমার প্রিয় ক্লাস ছিল আবশ্যিক বাংলা।
    বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা ভিড় করে আসতেন। কখনও কখনও দাঁড়িয়েও ক্লাস করতেন তাঁরা বা মেঝেতে বসে।
    পরীক্ষার সময় প্রলয় শূর 'ফাশিজম' একটা প্রশ্ন দিয়েছিলেন। পরে আমিও দিই। এবং ২০০২ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য জুড়ে ১৫ দিনব্যাপী সম্প্রীতি যাত্রার সময় প্রকাশিত বইয়ে সেটা কাজে লাগাই।
    পরে তো আবশ্যিক বাংলা অনেক বদলে গেল।
    একটু নিরীহ ও নিরাপদ।
    অবশ্য রবীন্দ্রনাথের 'নৈবেদ্য' অংশটুকু ছাড়া।
    আর নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রথম বর্ষের বাংলা সাম্মানিকের ছাত্রছাত্রীদের ছাড়া মাতৃভাষা বা বাংলা পড়ার সুযোগই রাখেনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

    কোথায় চলেছি।
    আজ অর্থনীতির অধ্যাপক অনিন্দ্যদা পুরানো বইয়ের দোকান থেকে বইটি কিনে এনে দেখাচ্ছিলেন।
    সেই সূত্রে এত কথা।
    পাঠক্রমকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সংঘ পরিবারের কাছে শিখুন।
    আগে মার্কসবাদীরা কিছুটা সচেতন ছিলেন। পরে গয়ংগচ্ছ।
    পাঠক্রম নির্মাণে সচেতনতা খুবই জরুরি।

    সুশোভন সরকারের লেখার একটু দেওয়া গেল:

    ইল্‌ ফাশিমো:

    প্রথমেই ফাশিস্টদের নেতৃত্বের ধারণার কথা মনে পড়ে। মানুষে সকলে সমান না, সকলের সমানাধিকার কিছু বাঞ্ছনীয় নয়, সংখ্যাধিক্যের আধিপত্য অমঙ্গলের
    আকর। জাতি ও দেশের পক্ষে প্রধান প্রয়োজন উপযুক্ত নেতার। নেতার আবির্ভাব হলে সকলের কর্তব্য তাঁর নির্দেশ অনুসারে কর্মে আত্মনিয়োগ। এই জন্য জার্মানিতে হিটলারের হাতে সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি ন্যস্ত হয়েছে, এই জন্যই ইটালিতে উচ্চৈঃস্বরে বলা হচ্ছে যে মুসোলিনির ভুল কখনও হতে পারে না।
    কিন্তু জাতির নেতা সম্পূর্ণ একক নন। তিনি বিশ্বাসীদের প্রতিভূ মাত্র, তাঁর পশ্চাতে সুসংবদ্ধ পার্টি বা দল বিরাজ করছে। ফাশিমোর প্রধান অবলম্বন আসলে এই দল—নেতা শুধু এর মুখপাত্র ও অধ্যক্ষ। 
    ফাশিস্টদের দলসংগঠন তাদের আধুনিকত্বের পরিচায়ক, এ ব্যাপারে তাদের পদ্ধতি সাম্যবাদীদের অনুকরণ বলেই সন্দেহ হয়। আধুনিক কালের এ-জাতীয় সম্প্রদায়ের তুলনায় সাধারণ গণতান্ত্রিক দেশের দলগুলি যে নিতান্ত দুর্বল ও অক্ষম সে-সম্বন্ধে কোন দ্বিধার অবকাশ নেই।
    মুসোলিনি কিংবা হিটলারের ব্যক্তিত্ব যে ইটালি বা জার্মানির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এ কথা বিশ্বাস করা শক্ত। অন্তত হিটলার যে অনেক সময় নেতা হয়েও ক্রীড়নক মাত্র তা মনে করা অযৌক্তিক নয়।
    নেতা ও দলের সম্মিলিত প্রভাবে দেশে একাধিপত্য স্থাপন ফাশিমোর উদ্দেশ্য।
    এই একনায়কত্ব জাতির ঐক্য ও মঙ্গলসাধনের জন্য। সাম্যবাদীদের অধিনায়কত্বের সঙ্গে এর পার্থক্য এই যে ফাশিস্ট ব্যবস্থা সাময়িক নয়, এ প্রথা শুধু যুগ থেকে যুগান্তরে পৌঁছবার সহায় না — এই ব্যবস্থাই চিরকালের আদর্শ ও সর্বোত্তম বিধি।
    ক্লাশিস্টেরা তাই ভবিষ্যৎ সামাজিক ব্যবস্থা কল্পনার মধ্যেও গণতন্ত্রের ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কান স্থান নির্দেশ করে না। ফাশিস্ট রাষ্ট্র totalitarian বা সমগ্রগ্রাসী—তার এই শেষত্ব শুধু সাময়িক নয়, ফাশিমোর আদর্শে এ চিহ্ন চিরকালের!
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন