এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • এইচডিএফসি ব্যাংকের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে দু-এক কথা

    সূর্যদীপ্ত নাগ লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৮ জুন ২০২৩ | ১০৯২ বার পঠিত
  • ছোটবেলায় যারা ইকোলজির চ্যাপ্টারটা একটু ভালো করে পড়েছেন তারা খুব ভালোভাবেই জানবেন ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স জিনিসটা ঠিক কি পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যারা ভুলে গেছেন তাদেরকে একবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। ধরুন একটা জঙ্গলে যদি বাঘ, সিংহ, হায়না জাতীয় জন্ত একগাদা হয়ে যায় তাহলে তারা সেখানকার হরিণ, ছাগল, মোষ ইত্যাদি প্রাণীকে খেয়ে সাফ করে দেবে, এবং একটা সময় ওদের খাবারের টান পড়বে বলে সংলগ্ন মানুষের গ্রামে এসে উৎপাত শুরু করবে বা আশপাশের জঙ্গলে মাইগ্রেট করে যেতে বাধ্য হবে (যদি আশেপাশে যাবার মত জায়গা কিছুই না থাকে তাহলে হয়তো দলবদ্ধভাবে অবলুপ্ত হবে)। অন্যদিকে আবার যদি বাঘ-সিংহ-হায়না-নেকড়ে আদৌ না থাকে তাহলে কিন্তু হরিণ-ছাগল-গরু মিলে এন্তার বংশবৃদ্ধি করে যাবে, এবং একটা সময় সমস্ত সবুজ উদ্ভিদকে জাস্ট খেয়ে সাফ করে দেবে। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রেও খাদ্যের সংকট তৈরি হবে, এবং যথাসময় সম্ভবত তারা ওই অঞ্চল থেকে ঝারেবংশে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
     
    এই কথাগুলো মনে এলো সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিও ক্লিপ দেখে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এইচডিএফসি ব্যাংকের একজন সিনিয়র এবং ক্ষমতাশালী এক্সিকিউটিভ পুষ্পল রায় google মিটে তার জুনিয়রদেরকে নোংরা খিস্তিখেউর করছেন এবং প্রায় কুকুর বিড়ালের মত ট্রিট করছেন। যারা নিজেরা প্রাইভেট সেক্টরে আছেন বা যাদের বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন প্রাইভেট জায়গাতে কাজ করেন তারা এটা খুব ভালো করেই জানেন, যে ধরনের ছোটলোকামি এবং অসভ্যতা আমরা ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে দেখতে পেয়েছি সেটা মোটেই এক্সেপশন নয়, বরং ওটাই হচ্ছে নর্ম। তবে, আশার কথা এই যে, এইচডিএফসি ব্যাংকের এই ক্লিপ সম্ভবত আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখালো। লোকজন যেরকম উত্তেজিতভাবে নিজেদের রাগকে উগড়ে দিচ্ছেন, এবং যেভাবে এইচডিএফসি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে ওই লোকটিকে সাসপেন্ড করতে, তাতে এটা ভাবা যেতেই পারে যে ভবিষ্যতে এরকম আরো ভিডিও ক্লিপস আমাদের সামনে আসতে চলেছে।
     
    বিভিন্ন ফোরামে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। 'হঠাৎ যদি উঠল কথা' নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে একটা ভিডিও গতকাল দেখছিলাম। সেখানে প্রথম 'করোশি'র ব্যাপারে জানতে পারলাম। করোশি হলো একটি জাপানি কনসেপ্ট, যার মানে হল death due to overwork। মাত্রাতিরিক্ত কাজের প্রেসার, কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় দিনের পর দিন ঠিকঠাক ঘুম না হওয়া, সময় মত না খাওয়া এবং আরও বিভিন্ন ভাবে শরীরের উপর অত্যাচার করে যাওয়ার ফলে আচমকা সেরিব্রাল স্ট্রোক বা কার্ডিয়ক অ্যারেস্ট এর ফলে মৃত্যু জাপানে একটি অত্যন্ত কমন ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মচারীরা কিভাবে কাজ করেন তার বাস্তব ছবিটা এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে উঠে আসার পর অনেকের মনেই করোশির কথা আসছে। 
     
    কিন্তু, আমি এখানে এটাই বলব যে, একচুয়ালি যা হচ্ছে সেটা করোশির থেকেও খারাপ।
     
    ইন্টারনেটে ইমেজ সার্চ করে জাপানের কয়েকটা ছবি বের করুন - বুঝতে পারবেন জায়গাটা কি পরিমানে ঝাঁ চকচকে এবং ওয়েস্টানাইজড। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে যাই মনে হোক না কেন, জাপানের মত এতটা ট্র্যাডিশনাল সমাজ খুব কমই আছে পৃথিবীতে। জাপানের এই বাহ্যিক ওয়েস্টার্নাইজেশন শুরু হয় উনিশ শতকের দ্বিতীয় অর্ধে। এটাকে মেইজি রেস্টোরেশন বলে। জাপানে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষজন এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইউরোপের উপনিবেশিক আগ্রাসনের হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে গেলে জাপানকে মডার্নাইজড হতে হবে। তাই পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যে মডার্নাইজেশন ইউরোপের হাত ধরে এসেছিল, সেটা জাপানিরা অন্যের উপর নির্ভর না করে নিজেরাই নিজেদের দেশে ঘটিয়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ জাপান কখনো ইউরোপের কলোনি হয়ে ওঠেনি। একই রকম ভাবে এই মডার্নাইজেশন এর ফলে জাপানি সমাজের মূল ভ্যালু সিস্টেমগুলিও কখনো প্রশ্নের মুখে পড়েনি। ফলত, বহিরঙ্গে ওয়েস্টারনাইজড হলেও অন্তরঙ্গে জাপানি সমাজ থেকে গেছে ট্র্যাডিশনাল।
     
    জাপানের সমাজটা ঠিক কেমন? Martin Jacques তাঁর When China Rules the World গ্রন্থে জানাচ্ছেন যে, এটা যাকে বলে এক ধরনের রেস্পেক্ট সোসাইটি। একটি পরিবারে প্রত্যেকের একটি পূর্বনির্দিষ্ট স্থান আছে, এবং সেই অনুযায়ী কিছু পূর্বনির্ধারিত কর্তব্যও আছে। আর, জাপানি সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্র এবং অন্যান্য সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ইনস্টিটিউশন হল পরিবারেরই এক্সটেনশন। অর্থাৎ পরিবার যদি হয় মাইক্রোকজম, তাহলে রাষ্ট্র এবং তার ইনস্টিটিউশনগুলি হল ম্যাক্রোকজম। এবং একজন মানুষ যে জায়গাতে কাজে জয়েন করছে সেটিও তার থেকে পৃথক নয়। স্বাভাবিকভাবেই এখানে একজন এমপ্লয়ির যেমন বেশ কিছু নির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব আছে, সে রকম তার কোম্পানিরও পূর্ণ দায় রয়েছে কর্মীদেরকে দেখাশোনা করার। এবং এই ব্যাপারটা কিন্তু শুধুমাত্র একটা খাতায়-কলমে থাকা আইন এমনটা নয়। এটা ওদের সংস্কৃতির অংশ। ফলে জাপানে একজন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা মানুষের জব সিকিউরিটি প্রায় সরকারি চাকরির মত। আমাদের দেশে বা ইউরোপ কি আমেরিকাতে প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করা মানুষজন যে রকম ক্রমাগত চাকরি বদল করতে থাকেন, জাপানে সেরকম হয় না। এবং সময়ের সাথে সাথে (অর্থাৎ সিনিয়রিটির ভিত্তিতে) একজন মানুষ ক্রমশই তার কোম্পানির উচ্চতর পদে অধিষ্ঠিত হন।
     
    প্রশ্ন হল, তাহলে জাপানিরা এমন অস্বাভাবিক পরিমাণ overwork করেন কিসের জন্য? কারণ হল জাপানি সংস্কৃতি অনেকটাই ইংরেজিতে যাকে বলে shame কালচার। 'হঠাৎ যদি উঠল কথা'র ভিডিওটা থেকে জানতে পারলাম যে, জাপানিরা নাকি দিনের পর দিন ছুটি নেন না। এবং কেন নেন না সেটা জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দেন - আমি ছুটি নিলে আমার কাজের ভারটা এসে পড়বে আমার সহকর্মীদের উপর। স্বাভাবিকভাবেই তারা অসন্তুষ্ট হবেন এবং আমার নামে খারাপ কথা বলবেন। এছাড়া আমার সুপিরিয়রও আমাকে অসম্মানজনক কিছু বলে ফেলতে পারে। আশা করি বুঝতে পারছেন যে, গোটা জিনিসটার মধ্যে এক্সপ্লইটেশন অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটা অনেকটাই ইন্টারনালাইজড। তাছাড়া কর্মীরা যে আর্থিকভাবে শোষিত হন এমনটাও শুনিনি। কোম্পানি তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেয়, আমাদের এখানকার প্রাইভেট সেক্টর এর মত কাজ করিয়ে সমস্ত শক্তি নিংড়ে নিয়ে তারপর হাতে লবেঞ্চুশ ধরিয়ে বিদায় করে দেয় না।
     
    এইচডিএফসির ভাইরাল ভিডিওতে যে জিনিসটা দেখলাম সেটা তো নতুন কিছু নয়! প্রাইভেট সেক্টরে প্রচুর মানুষজন আছেন যারা এভাবে ট্রিটেড হন। এবং এটা বিশেষভাবে সত্যি ভারতের মতো দেশে, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের অধিকারের ব্যাপারগুলো মোটামুটি নির্দিষ্ট থাকলেও প্রাইভেট সেক্টরটা প্রায় 'মুক্তাঞ্চল'। আমার মনে আছে, প্যান্ডেমিকের সময় যখন বহু জায়গায় কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম দেওয়া হচ্ছিল, তখন বিশেষ করে এদেশীয় কোম্পানিগুলিতে কর্মরত মানুষজনের টিম লিডার এবং বসেরা তাদের জীবন কার্যত অতিষ্ঠ করে তুলেছিল! নির্দিষ্ট ওয়ার্ক আওয়ার এর বিষয়টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এরা যখন তখন তাদেরকে এটা করে দাও ওটা করে দাও বায়না নিয়ে হাজির হচ্ছিল। শুধুমাত্র সারভাইভ করার জন্য বা ছাটাই এর হাত থেকে বাঁচার জন্য আট ঘন্টার জায়গায় ১২ বা ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন এমনটা আমার নিজেরই পরিচিত সার্কেলেই অনেক আছে। এবং, এখানেই শেষ নয়। প্রচুর প্রাইভেট কোম্পানি আছে যেখানে কর্মীদের বসেরা 'বাপের চাকরে'র মতো করে ট্রিট করে। প্রচুর কোম্পানিতে লোকজনকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলে। এটা বিশেষ করে ঘটে একজন জুনিয়র এমপ্লয়ির সাথে। একটি কল সেন্টারের কথা শুনেছিলাম যেখানে জুনিয়র বা সদ্য জয়েন করা কর্মীরা সময়মতো পৌঁছেও কোন এক রহস্যময় কারণে কিছুতেই যথাসময়ে লগইন করতে পারতেন না। ফলে, সিস্টেমে সর্বদাই তাদেরকে দেখানো হতো লেট হিসেবে। এইভাবে সারাদিন কাজ করেও তারা দিনের শেষে বাড়ি ফিরতেন অর্ধেক কাজের স্যালারি নিয়ে। 
     
    আর এইখানেই চলে আসে ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্সের প্রসঙ্গটা। আমাদের এখানে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নগুলি একটা সময় এতটাই বাড়াবাড়ি এবং দৌরাত্ম্য করেছে যে এখানকার বহু শিল্পপতি পাততাড়ি গুটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিয়েছেন। সেই জন্যই বোধহয় আজকাল প্রাইভেট সেক্টরের কেউ আর ইউনিয়নের নাম মুখেও আনে না! অথচ, প্রাইভেট সেক্টরে পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা টক্সিক ওয়ার্ক কালচার ভারতের খুব কম জায়গাতেই আছে। আমার পরিচিত বহু মানুষজন ব্যাঙ্গালোর, হায়দারাবাদ, বোম্বে বা দিল্লিতে কর্মরত আছেন। এ কথাটা তাদের মুখ থেকেই শোনা। অনিয়ন্ত্রিত ইউনিয়নবাজির কুফল পশ্চিমবঙ্গবাসী একদা ভোগ করেছে বলেই হয়তো এই ধরনের এক্সপ্লয়টেশন সত্ত্বেও কেউ ওটা নিয়ে এখানে উচ্চবাচ্য করে না। কিন্তু সমস্যা হল, মালিক, এমপ্লয়ার বা পাওয়ার ল্যাডারের উপরের দিকে থাকা মানুষজনের উপর কোনরকম চাপ যদি না থাকে তাহলে তাদের মাত্রা এবং নীতিজ্ঞানহীন লোভ যে কি চেহারা নিতে পারে তা এই পুস্পল রায়-এর ভিডিওই দেখিয়ে দিচ্ছে। 
     
    এই জন্যই মনে হয় পুরনো কর্মী সংগঠনগুলি আবার একটু একটু করে ফিরে আসা দরকার। এরা একজন কর্মচারীকে তার ন্যায্য পাওনাগুলি আদায় করতে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে মালিক বা বসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে। কোন কর্মচারীকে অন্যায় ভাবে ছাটাই করা হলে কর্তৃপক্ষকে কিছুটা হলেও অ্যাকাউন্টেবল হতে বাধ্য করবে। পূর্বতন ইউনিয়নবাজির পিরিয়ডটা যদি থিসিস হয়ে থাকে তবে বর্তমানে চলতে থাকা এই 'মুক্তাঞ্চল' অবস্থাটা হল অ্যান্টিথিসিস। এবার সিন্থেসিস হিসেবে একটা মধ্যপথ বেরিয়ে আসার প্রয়োজন খুব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
     
     
     
     
    এই বিষয়টি নিয়ে আমার করা একটি  ইউটিউব পডকাস্টের লিংকও সাথে দিচ্ছি: 
     

     
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৮ জুন ২০২৩ | ১০৯২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুদীপ্ত পাল | ০৮ জুন ২০২৩ ২২:১১520321
  • খুব ভালো লাগল। ভারতে ট্রেড ইউনিয়ন জিনিসটার অনেক সমস্যা আছে, ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কখনোই ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়নের মতো হতে পারবে না। কারণ খুব সিম্পল- ঐ পুষ্পলের মতো লোকেরাই নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা হবে।
  • | ০৯ জুন ২০২৩ ০৯:২২520327
  • এবার থেকে যেটা হবে সেটা হল মিটিংগুলো ফেস ট্যু ফেস হয়ে যাবে আর তাতে মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ হবে। 
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ১০ জুন ২০২৩ ০০:৫৪520344
  • ঘটনাটা হৃদয় ভেঙে দিল! 
    'রেস্পেক্ট সোসাইটি' কবে গড়ে উঠবে উপমহাদেশে? 
  • :|: | 174.251.162.0 | ১০ জুন ২০২৩ ০৩:১৫520345
  • মোবাইল নিষিদ্ধ করে কোনও লাভ হবে না। ফেস টু ফেসে ইনভিজিবল ক্যামেরা রেকর্ডারের ব্যবহার খুব কিছু বিরল না। কিন্তু সেটা কোনও সমাধানও না। 
    অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা পপুলেশন সমস্যার এবং সেটা নিয়ন্ত্রণের কথা বললে ভালো লাগতো। নিজেই বললেন একজন চাকরি ছেড়ে দিলে চল্লিশ জন সেটার জন্য বসে আছে। তারপরও বললেন না কুকুর বেড়ালের মতো জনসংখ্যা হলে সমাজ তেমনই ঘেউ ঘেউ ফ্যাস ফ্যাস করবে। 
    এতে লোকটার দুর্ব্যবহার জাস্টিফায়েড হয় না তবুও এটা নিয়েও চিন্তা ভাবনা হয়তো করা দরকার। 
  • ডি সন্দীপ | 49.37.47.250 | ১০ জুন ২০২৩ ০৭:২২520348
  • আমাদের একমাত্র পুত্র, কর্কট রোগগ্রস্ত পিতা মাতার একমাত্র উপার্জক , ১৯ বছর বয়সে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ থেকে Larsen tubero construction এ কর্মরত, গত ১২ বছরে চারবার বদলি হয়েছে, বর্তমানে জামশেদপুরে গত তিন বছর ছয় মাস, কোম্পানির ষড়যন্ত্রে AMIE group A clear করেও B group এর দুটি paper clear করেও আর পরীক্ষা দিতে পারে নি। দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা এমনকি lockdown এর সময় ও কাজ করেছে, সদ্যজাত কন্যা কে ফেলে, অসুস্থ বাবার chemo ও রেডিয়েশন না করিয়ে, সংস্থার project management এর চূড়ান্ত চাপের শিকার, আর্থিক ভাবেও শোষিত। অমানবিক management একমাত্র রোজগেরে হওয়ার সুযোগ ও চাপে উন্নতির সুযোগ বঞ্চিত । কোথায় প্রতিকার
  • ডি সন্দীপ | 49.37.47.250 | ১০ জুন ২০২৩ ০৭:২৮520349
  • ৩২ বছর বয়সে উচ্চ রক্তচাপ, মধুমেহ, উচ্চ কলেস্টেরলের জন্য দায়ী সংস্থার অতিরিক্ত চাপ আর অমানবিকতা , উপার্জন ও সীমিত রাখার চক্রান্ত। যাতে অভাব থেকেই। এই হল দেশের সেরা construction congromelate Larsen and toubro এর  Human resource department এবং welfare!
  • কলির সন্ধ্যে | 2402:3a80:1983:7632:278:5634:1232:5476 | ১০ জুন ২০২৩ ১৬:৫৪520356
  • এতো শিল্প শিল্প করে কারা যেন শিম্পাঞ্জির মতো নাপাচ্ছিলো?ন্যানো না হলে নাকি মরুভূমি হবে পব!
    শিল্প এলে কি হয় বুঝায় যাচ্ছে।
    এর চেয়ে,দুমুঠো খেয়ে নিজের ক্ষেতে চাষ করা ভালো।
  • Amit | 203.221.140.6 | ১১ জুন ২০২৩ ০৫:৪৫520361
  • নিজে কর্পোরেট না মারিয়ে চাষ করে খেয়ে সুখে আছেন নিশ্চয় ? নাকি দিদির হয়ে তোলাবাজি করে ঘর চলছে ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন