এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  গপ্পো  শনিবারবেলা

  • ঠাঁইনাড়া – অন্য পর্ব (৭, ৮)

    ষষ্ঠ পাণ্ডব
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩৪১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • মূল ছবি - Zaid mohammed




    জাহেরা দু’দিন ভাবলেন, তিনি কি এখানেই থাকবেন নাকি পাকিস্তানে চলে যাবেন! গাঁয়ে থেকে পচে মরার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁর নেই। তাঁর ইচ্ছে কলকাতায় ফিরে যাওয়া, কিন্তু সেখানে চাইলেই যদি ফেরার কোনো উপায় থাকত তাহলে তিনি মেয়ে নিয়ে গাঁয়ে ফিরে আসতেন না। জাহেরা কলকাতার জীবনের আকর্ষণীয় দিকগুলো যেমন কিছু কিছু জানেন, তেমন সেখানে থাকার জন্য কেমন মূল্য চুকাতে হতে পারে তাও আঁচ করতে পারেন। আগের দফা আশ্রয় দিয়ে নাজির খাঁ তাঁকে নিয়মিত ভোগ করেছেন, এখন অবস্থা তারচেয়ে খারাপ হতে পারে। জল আর পানি যখন আলাদা হয়েই গেছে তখন হিন্দুস্তানে মুসলমান পরিচয় নিয়ে একটা মেয়েসহ একজন যুবতী বিধবার পক্ষে একা টেকা একজন হিন্দু বিধবার টেকার চেষ্টার চেয়ে কঠিন হবার কথা। তবু জাহেরা কলকাতার কথাই ভাবতে চান। কলকাতায় না গেলে সায়েরাকে খুঁজে বার করার, উদ্ধার করার কোনো পথই যে অবশিষ্ট থাকবে না। খলিলের সাথে গেলে বেলডুবি থেকে বের হওয়া হবে তবে কলকাতায় থাকা হবে না। কলকাতায় থাকতে গেলে প্রথমে কয়েক দিনের একটা আশ্রয় লাগবে। সেখানে থেকে একটা থাকার ঘর আর একটা দোকান ভাড়া নিতে হবে। এই কাজগুলো সহজ নয় এবং একা তাঁর পক্ষে সেগুলো করা সম্ভবও না। হাবিব থাকলে একটা উপায় হয়তো হতো, কিন্তু তাঁর সাথে যোগাযোগের উপায় একটু কঠিন। বেলডুবি থেকে বুড়িখালী হেঁটেই যাওয়া যায়, কিন্তু হাবিব সেখানে এখন আছেন কিনা জানা নেই। তাছাড়া হাবিবের বৌ তাঁকে দেখতে পেলে ঝাঁটাপেটা করার সমূহ সম্ভাবনা আছে। হাবিব এখন কলকাতার কোথায় থাকেন সেটাও জানা নেই। এতো ‘না’ নিয়ে মেয়েসহ কলকাতা যাবার কোনো উপায় নেই। তবু জাহেরা একবার ভাবেন খলিলের সাথে একবার কলকাতা পর্যন্ত পৌছালে মাহিরাকে নিয়ে তিনি কেটে পড়বেন। কপালে তো দুর্গতি আছেই – সেটা পাকিস্তানে গেলেও হবে, কলকাতায় থাকলেও হবে। অচেনা পাকিস্তানে যাবার চেয়ে অল্প চেনা কলকাতায় যাওয়া বরং ভালো। সেখানে আর কিছু না থাক, সায়েরাকে খুঁজে পাবার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা হলেও আছে। আবার দাঙ্গার রাতের ঘটনা যখন মনে পড়ে তখন ভেতরে ভেতরে তিনি চুপসে যান। আধফোঁটা কলির মত মেয়ে মাহিরাকে তিনি কি আবার একদল জানোয়ারের মুখে ছেড়ে দিতে পারেন! হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে আর ফিরে পাবেন কিনা তা কারো জানা নেই। তার জন্য চেষ্টা অবশ্যই করা যেতে পারে, কিন্তু সেই চেষ্টা করতে গিয়ে আরেক মেয়েকেও তিনি হারাবেন? জাহেরা নিজেকে শত বার প্রশ্ন করেও তার উত্তর খুঁজে পান না।

    নতুন আড়কাঠির নাম গিয়াস উদ্দিন। তিনি ঢাকার লোক, কিন্তু বাবার কর্মসূত্রে বড় হয়েছেন হাওড়ার পাটকল এলাকায়। ঢাকা আর হাওড়ার সব কিছু নাকি তাঁর নখদর্পণে আর দুই জায়গাতেই তাঁর আত্মীয়স্বজনের অভাব নেই। খলিল মনস্থির করাতে বাড়িতে গিয়াস ঘন ঘন আসা শুরু করলেন। কী করে এখানকার সব কিছু গোছাতে হবে, ওখানকার জন্য কী রকম প্রস্তুতি নিতে হবে, কী করে যেতে হবে ইত্যাদি নিয়ে গিয়াস নানা কথা বলেন। বাড়ির ছেলেবুড়ো সবাই হাঁ করে সেই কথা শোনেন। বাড়ির বড়রা পর্যন্ত এসবের কিছুই জানতেন না। মাঝে মাঝে গিয়াস খলিল আর ফরিদাকে একটু আড়ালে ডেকে বোঝান কী করে এজমালী (যৌথ) সম্পত্তি ভাগজোক করে নিজেরটা আলাদা করে নামজারী করতে হবে। গোটা আয়োজনের এটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার জমি গিয়াসকে, আসলে গিয়াস যার মুখপাত্র সেই অদৃশ্য ক্রেতাকে, ঠিকমত বুঝিয়ে না দিলে যাতায়তের খরচ, সীমানা পার করা, ঢাকায় ঘর ভাড়া করা, মুহাজির হিসাবে সরকারের খাতায় নাম লেখানো, জমির বরাদ্দ আর কাজ পাওয়া – এসবের কিছুই হবে না। সুতরাং ফরিদা খলিলকে তাড়া দেন ভাইদের সাথে কথা বলে দ্রুত জমির বিলিবন্দোবস্ত করতে। খলিল একটু দ্বিধা নিয়ে ভাইদের সামনে জমি ভাগের কথা তোলেন। এই কথা যে উঠবে করিম আর গফুর তা ভালো করেই জানতেন, তবু তারা মোটামুটি আকাশ থেকে পড়ার ভাণ করলেন। তাঁদের ভাষ্য, জমি আছেই কতটুকু আর সেটা ভাগ করলে থাকবেই বা কী? তারচেয়ে বড় কথা পাকিস্তানে যাবার দরকারটা কী? একান্তই যদি পাকিস্তানে যাবার খায়েশ (শখ) হয় তাহলে খলিল তার ঘরদোর ভেঙে বিক্রি করে গেলেই পারে। খলিলের ঘর ভেঙে বেচলে যে কলকাতা যাবার ভাড়াও হবে না সেটা সবাই জানেন। তাঁদের বেচার মত কোনো অস্থাবর সম্পত্তিও নেই। সুতরাং করিম ও তাঁর বৌ নাজরুন, গফুর ও তাঁর বৌ চান্দা’র সাথে খলিল ও তাঁর বৌ ফরিদার প্রতিদিন ঝগড়া চলতে থাকল।

    এই ডামাডোলে পড়ে জাহেরা ভাবলেন একবার কপাল ঠুকে দেখা যাক। সুতরাং তিনি একদিন সকাল সকাল হাবিবের খোঁজে বেলডুবি থেকে বুড়িখালীর পথে রওনা দিলেন। বুড়িখালী যেতে বেশি সময় লাগে না। জাহেরা ইচ্ছে করেই সরাসরি হাবিবদের বাড়িতে না গিয়ে প্রতিবেশী এক বাড়িতে গিয়ে জানতে চাইলেন হাবিব বাড়িতে আছেন কিনা। প্রতিবেশীরা পালটা জিজ্ঞেস করলেন, সরাসরি হাবিবদের বাড়ি না গিয়ে এখানে আসার মানে কী? জাহেরা জানালেন, তাঁর স্বামী কলকাতায় হাবিবের সাথে এক জায়গায় থাকতেন, আজ দুই মাস হয় তাঁর কোনো খোঁজ নেই তাই হাবিবের কাছে আসা যদি কোনো সংবাদ জানা যায়। এদিকে পুরনো কিছু লেনদেন নিয়ে হাবিবের ভাইদের সাথে জাহেরার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনোমালিন্য চলছে তাই তিনি সরাসরি হাবিবদের বাড়ি যেতে পারছেন না। প্রতিবেশীরা জাহেরার সমস্যা বুঝলেন, তাঁরা জানালেন হাবিব কবে বাড়িতে আসেন, কয়দিন থাকেন তার ঠিকঠিকানা নেই। গত সপ্তাহখানেক ধরে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না – তার মানে তিনি বাড়িতে নেই। ব্যর্থ হয়ে জাহেরা বেলডুবিতে ফেরার পথ ধরলেন। বুড়িখালীতে কোনো বাজার নেই। বুড়িখালীর লোকজন সওদা করতে সাধারণত বাউড়িয়া অথবা চেঙ্গাইল যান। বাজার না থাকলেও বুড়িখালীতে মন্দিরের কাছে কয়েকটা মুদি দোকান আছে, হাবিব তারই একটায় বসেছিলেন। ঘোমটা দিয়ে পথ চলা জাহেরাকে দেখলেও হাবিব চিনতে পারার কথা নয়, কিন্তু জাহেরা হাবিবকে দেখে ফেলায় তিনি নিজেই দোকানের দিকে এগিয়ে যান। হাবিব তাঁকে দেখে একটু অবাক হলেও বুঝতে পারেন ঘটনা সঙ্কটাপন্ন না হলে জাহেরা ঝুঁকি নিয়ে তাঁর খোঁজে বুড়িখালী আসার কথা না। একটু আড়ালে নিয়ে জিজ্ঞেস করাতে জাহেরা সংক্ষেপে খলিলের পাকিস্তানে যাবার উদ্যোগ, খলিল চলে গেলে তাঁর পক্ষে বাপের বাড়িতে টিকে থাকার বিপদ, এবং কলকাতায় থাকা নিয়ে তাঁর নিজের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। হাবিব জাহেরাকে জানান আড়কাঠি গিয়াস উদ্দিনের সাথে তাঁরও যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি মনে করেন এখানে না থেকে পাকিস্তানে চলে যাওয়াটাই উত্তম হবে। এত বছর ধরে কলকাতায় কাজ করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা পাকিস্তানে খুব ভালোভাবে কাজে লাগানো যাবে। তাছাড়া পাকিস্তান নতুন দেশ, সেখানে নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা তৈরি হবার কথা। জাহেরা বুঝলেন যে আশায় তিনি বুড়িখালীতে এসেছিলেন তার পুরোটাই জলে গেছে। এখন খলিলের সাথে মিলে পাকিস্তানে যাওয়া ভিন্ন আর কোনো উপায় থাকছে না।

    যতই ঝগড়া চলুক খলিলের পক্ষে নিজের ভাগের জমি বুঝে নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। গিয়াস উদ্দিন কিছু দিন অপেক্ষা করে খলিলকে বলেন,
    - মিঞাভাই, এভাবে দু’চার বছর চেষ্টা করলেও আপনি নিজের জমি বুঝে নিতে পারবেন না।
    - তাহলে কী করব?
    - ভাগ না করেই আমি আপনাকে আপনার অংশের জমি বিক্রির বন্দোবস্ত করে দিতে পারি।
    - সেটা কী করে?
    - সেটা আপনার বিস্তারিত না জানলেও চলবে। যিনি কিনবেন তিনি নিজেই জমি ভাগ করার, নামজারী করার ব্যবস্থা করবেন। এসব কাজে তাঁর খরচপত্র আছে বলে আপনি বাজার দরের চেয়ে একটু কম দর পাবেন। তবে তাতে আসলে কোনো ক্ষতি নেই। এভাবে বিক্রি না করলে আপনার জমি সহসা বিক্রি হবে না। আর এদিকে পাকিস্তানে এখন সরকার যা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সেগুলো খুব বেশিদিন থাকবে না।
    খলিল বুঝলেন গিয়াসের ক্থায় রাজি না হলে তাঁর আর পাকিস্তানে যাওয়া হবে না। অতএব জমি ব্যাবসায়ী মদন ব্যানার্জী মোটামুটি বাজার দরের অর্ধেক দামে খলিলের ভাগের জমি কিনে নিলেন। জমি বেচার টাকার খুব কমই খলিল হাতে পেলেন, বেশিরভাগটা গিয়াস নগদে নিয়ে নিলেন। নিরুপায় না হলে এসব কাজে বাকি বকেয়া রাখা হয় না।

    খলিলদের পোঁটলাপুঁটলি খুব বেশি কিছু হতে পারল না। গিয়াসের কথা, পাকিস্তান তো জঙ্গলও না, মরুভূমিও না। সেখানে বাজারহাট সবই আছে, সব কিছুই কিনতে পাওয়া যায়। সুতরাং এখান থেকে খামাখা পুরনো জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই। তার ওপর পথে কোনো গোলমাল হলে কিছু কিছু জায়গায় হাঁটতে হতে পারে, বড় বোঝা নিয়ে হাঁটা যাবে না। সীমান্তে খুব কড়াকড়ি নেই বটে তবে লুটেরা-রাহাজানদের দল সীমান্তের দুই পাড়েই আছে। দল আর তার বোঝা দেখেই তারা বুঝে ফেলে কারা দেশ ছাড়ছেন। তখন সেসব দলের ওপর হামলা হয় – নগদ টাকাপয়সা, স্বর্ণালঙ্কার, রূপো-তামা-কাঁসার জিনিস, জোয়ান মেয়েমানুষ লুটে নিয়ে যায়। এজন্য খুব সাবধানে পাড়ি দিতে হয়। ভারি বোঝা থাকলে হাঁটাচলায় অসুবিধা, দৌড় দেয়া অসম্ভব। দেশের জিনিসপত্র সব বেচে নগদ টাকা সাথে নিতে পারলে বরং উপকার আছে। পাকিস্তানে গিয়ে কাজ না পাওয়া পর্যন্ত হাতে নগদ টাকা না থাকলে খুবই বিপদ – দুই দেশেই এখন সারা দিন ঘুরলেও ভিক্ষে মিলবে না। খলিল বা ফরিদা অবুঝ নন্‌, তাছাড়া তাঁদের খুব বেশি কিছু ছিলও না। গাঁয়ে ঘরগেরস্থালীর জিনিসপত্র, কমদামি তৈজসপত্র, পুরনো কাপড়চোপর-বিছানাপত্র-আসবাব কেনার লোক নেই। তাই কিছু বেচে আর কিছু বিলিয়ে দিয়ে হাতে বিশেষ একটা টাকা আসলো না।

    ঢেঁকিঘরে থাকা জাহেরাদের কাছে বেচার মত কিছু ছিল না। কেবল যাবার আগের দিন রাতের বেলা ঢেঁকিঘরের বিছানার নিচে মাটি খুঁড়ে নাজির খাঁ’র গয়না আর টাকার পোঁটলা দুটো বের করে নিলেন। গত কয়েকদিন খুব ভোরে ভোরে উঠে জাহেরা গোপনে মোটা কাপড় কেটে কয়েকটা সরু, লম্বা থলে বানিয়ে নিয়েছিলেন। সেগুলোর চারটাতে টাকাপয়সা-গয়না অল্প অল্প করে ভাগ করে নিয়ে মুখ আটকে দিলেন। দুটো থলে তাঁর নিজের দুই উরুর একেবারে উপর দিকে আর একটা থলে নাভীর নিচে কোমরে এমনভাবে পেঁচিয়ে নিলেন যাতে এগুলো না খুলেও পেশাব-পায়খানা করা যায়। একটা থলে মাহিরার নাভীর নিচে কোমরে পেঁচিয়ে বেঁধে দিলেন। বলা যায় না, খোদা না করুন, যদি মাহিরা দলছুট হয়ে হারিয়ে যায় তাহলে যেন বিপদে না পড়ে। টাকাপয়সা সাথে থাকলে আর কিছু না হোক বেলডুবি ফিরে আসার একটা উপায় হবে। পাকিস্তানে যাবার খরচ হিসাবে জাহেরাকে গিয়াসের হাতে তার শাদীর জেওরগুলো আর বিয়ের পরে টুকটাক যা কিছু গড়েছিলেন তার সবটা তুলে দিতে হয়েছে। গিয়াস বলেছেন, মোট খরচ যা তাতে ঐটুকু অলঙ্কার যথেষ্ট নয়। তবে গিয়াস অবিবেচক নয়, তিনি রুস্তমের জমি উদ্ধার করে বেচার চেষ্টা করবেন। সেটা যদি করা যায় তাহলে তো ভালোই, নয়তো পাকিস্তানে কাজ করে জাহেরাকে বাকি টাকা শোধ করতে হবে। শাদীর জেওরগুলো দিয়ে দেবার সময় জাহেরা মনে হল রুস্তমের সব স্মৃতিচিহ্ন এক এক করে তাঁর জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, তিনি চাইলেও তা ঠেকাতে পারছেন না। প্রথমে বড় মেয়ে চুরি হল, তারপর ভিটেমাটি গেল, এখন গেল শাদীর জেওর। জাহেরা চাইলে এই জেওরগুলোর বদলে নাজির খাঁ’র অলঙ্কারগুলো থেকে গিয়াসকে খরচটা দিতে পারতেন। তবে সেটা করলে অলঙ্কারের কথা ফাঁস হয়ে যেত। তখন তাঁর ভাইয়েরা সেসব কেড়ে নিতেন।

    দেশত্যাগ বিয়ের কনে বিদায় দেবার মত ব্যাপার নয়। এখানে সবাইকে জানিয়ে যাওয়া যায় না। যথাসম্ভব চুপিচুপি চলে যেতে হয়। বিদায়ের কষ্টের চেয়েও ঢেড় বড় হচ্ছে নিরাপত্তা। ১৩৫৪ সনের পৌষের এক কুয়াশাঢাকা ভোরে খলিল আর জাহেরা পরিবার নিজেদের সামান্য পোঁটলাপুঁটলি নিয়ে বেলডুবি ছাড়লেন। পেছন ফিরে তাকাতে সারি সারি তাল, নারকেল আর সুপুরি গাছের মাথাগুলো দেখা গেল; তার নিচে বাকি গাছপালা আর গাঁয়ের বাড়িগুলো কুয়াশায় ঢাকা পড়ে গেছে। মনে হচ্ছিল তাঁরা সবাই যেন এক প্রাগৈতিহাসিক গুহার ভেতর থেকে বের হয়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হাঁটছেন। দলটা গিয়াসের সাথে পায়ে হেঁটে নলপুর স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে হাওড়া, তারপর ট্রামে করে শিয়ালদহ স্টেশনে গেলেন। কলকাতায় থাকা জাহেরা, মাহিরা ট্রামে চড়লেও তাঁদের কখনো ট্রেনে চড়া হয়নি। খলিল এক-আধবার ট্রেনে চড়লেও ট্রামে কখনো চড়েননি। ফরিদা আর তাঁর বাচ্চারা নৌকা, গরুর গাড়ি আর ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে কখনো চড়েননি। গিয়াস জানেন দেশত্যাগী দলকে পথে চমৎকৃত করে রাখতে হয় যাতে দেশত্যাগের বেদনা তাদেরকে গ্রাস করতে না পারে, পথে যেন তারা আবেগাপ্লুত হয়ে কোনো ঝামেলা পাকাতে না পারে। ভালোয় ভালোয় একবার সীমান্ত পার করে গোয়ালন্দ ঘাটে নারায়ণগঞ্জগামী স্টিমারে চড়িয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতেহ্‌! তখন দেশত্যাগী পার্টি চাইলেও আর কোনো ঝামেলা করতে পারবে না। তাই তিনি দলের সবাইকে কখনো ট্রেন বা ট্রামের চমৎকারিত্ব বোঝান, কখনো দু’পাশের দৃশ্য দেখান, কখনো কোনটা কোন ভবন এবং সেখানে কী কাজ হয় তা বলেন, আবার কখনো হকারদের কাছ থেকে হালকা খাবার কিনে খাওয়ান। গিয়াস এমনভাবে সব পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যেন খুব কম সময়ের মধ্যে দলটিকে শিয়ালদহ থেকে গোয়ালন্দগামী ‘ঢাকা মেইল’-এ তুলে দেয়া যায়, দলের কেউ পথিমধ্যে অন্য কারো সাথে যেন কোনো আলাপ করতে না পারেন, এবং কেউ যেন দলছুট হয়ে না পড়েন বা দল থেকে পালাতে না পারেন। যেহেতু জাহেরা-মাহিরা আগে কলকাতায় থেকেছেন তাই তাঁদের নিয়েই গিয়াসের বেশি ভয়। এ’কারণে তিনি গোটা পথ শক্ত করে মাহিরার হাত ধরে থাকেন। ট্রামে এক একটা স্টপেজের নাম শুনে জাহেরার বুকের ভেতরটা গুড় গুড় করে ওঠে। তাঁর খুব ইচ্ছে করে মাহিরাকে নিয়ে এক লাফে ট্রেন থেকে নেমে দৌড় দেন, কিন্তু চাইলেই তো আর হয় না, কলকাতায় আশ্রয় পাবার, নিরাপদে টিকে থাকার উপায় আসলে নিঃশেষ হয়ে গেছে।

    শালপাতার ঠোঙায় করে আনা কচুরি, আলুর দম দিয়ে দুপুরের খাবার সারা হল। এই খাবারে জাহেরাদের পোষালেও খলিলদের পোষায় না। তিনি একবার গিয়াসকে বলার চেষ্টা করেছিলেন,
    - মিঞাভাই, একটু ডাল-ভাত খাবার ব্যবস্থা করা যায় না?
    - আপনার কি মাথা খারাপ হয়েছে? দেখেছেন স্টেশনে কী পরিমাণ ভিড়! কাউকে না হারিয়ে, কোনো কিছু না খুইয়ে ঠিকমত সবাই ট্রেনে ওঠাটাই এখন বড় ব্যাপার। এই সময়ে কোথায় মুসলমান হোটেল আছে, সেখানে ডাল-ভাত পাওয়া যাবে কিনা তা খুঁজে বের করা সম্ভব নাকি!
    গিয়াসের ধমকে খলিল কেবল চুপসেই যান না, কিছুটা ঘাবড়েও যান। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে যে দৃশ্যের অবতারণা হল সেটা গিয়াস ছাড়া দলের কারো কল্পনাতে ছিল না। তাঁদের কাছে মনে হল গোটা পূর্ববঙ্গ থেকে লোকজন তাঁদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে কলকাতায় চলে এসেছেন। তাঁদের সব হারানো বেদনাক্লিষ্ট মুখ, অপরিচিত ভূমিতে উদ্ভ্রান্ত চাহনি দেখে খলিলদের দল ভয় পেতে শুরু করলেন। এইবার মরিয়া হয়ে খলিল গিয়াসকে বলেন,
    - মিঞাভাই, পাকিস্তানে তো মনে হয় কিছু আর নাই। নয়তো এই মানুষগুলো এমন পালিয়ে এসেছেন কেন? আর তাঁদেরকে দেখলে মনে হয় পথে রাহাজানের দল তাঁদের সবকিছু লুটে নিয়েছে।
    খলিলের কথা শুনে ফরিদা ভয়ে ছোটো বাচ্চাটাকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলেন। মাকে কাঁদতে দেখে বাকি বাচ্চারাও জোরে কেঁদে উঠল। বিরক্ত গিয়াস এক ধমকে সবাইকে চুপ করালেন। তিনি জানেন কান্না ও ভয় খুবই সংক্রামক জিনিস। একবার কেউ কাঁদলে বা ভয় পেলে গোটা দল তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তিনি চাপা গলায় বোঝান,
    - আরে এরা তো সব হিন্দুর দল। মুসলমানের দেশ পাকিস্তানে এরা থাকবে কেন? তাই চলে এসেছে। হিন্দুরা যত পাকিস্তান থেকে হিন্দুস্তানে চলে আসবে, পাকিস্তানে মুসলমানদের সুযোগ সুবিধা তত বাড়বে। আর মিঞাভাই, রাস্তাঘাটে রাহাজানের কথা আপনাকে কে বলেছে? চারদিকে কত পুলিশ দেখেছেন? কারো সাধ্য আছে এখানে রাহাজানি করবে?
    সবাই এদিক ওদিক তাকিয়ে জিআরপি আর আরপিএফ-এর সদস্যদের দেখতে পেয়ে ভাবেন আসলেই তো! অল্প সময়ের মধ্যে গিয়াসের দলের আরও কিছু মানুষ, আরও কিছু দেশত্যাগী দলকে নিয়ে এসে যায়। তাঁদেরকে দেখে খলিলদের দলটা একটু ভরসা পায়। গিয়াসের নেতৃত্বে তাঁরা সবাই ট্রেনে উঠতে এগিয়ে যান।





    টাইমটেবল মানলে ট্রেন শিয়ালদহ আসার কথা দুপুর দেড়টায় আর ছেড়ে যাবার কথা দুটোয়, কিন্তু আজকাল সেটা খুব কম ঘটে। গেদে আর দর্শনা কাস্টমসে ভিড় বেড়েছে আগের চেয়ে বহু গুণ। নানা রকমের দালাল, চোর-বাটপারে চারদিক গিজগিজ করছে। সহজে কাস্টমস পার করে দেয়ার কথা বলে টাকাপয়সা, গয়নাগাটি চোখের পলকে হাতসাফাই হয়ে যাচ্ছে। ‘আপনার সাথে নিষিদ্ধ জিনিস আছে’ এমনসব কথা বলে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফলে পুলিশ আর কাস্টমসের লোকজনের তৎপরতা বেড়েছে। এসব ডামাডোলে ট্রেনের সময় ঠিক থাকছে না। ট্রেন এসে পৌঁছালো দুপুর তিনটার দিকে, যাত্রী তুলে ছাড়তে ছাড়তে বিকেল চারটা বাজলো। লাল রঙের ‘ঢাকা মেইল’ শিয়ালদহ ছাড়তে গিয়াস একটা চাপা নিঃশ্বাস ছাড়েন। ভালোয় ভালোয় দলের কাউকে না হারিয়ে, পোঁটলাপুঁটলি বিশেষ কিছু না খুইয়ে যে ট্রেনে যে ওঠা গেছে সেটা বিরাট অর্জন। এখন ভালোয় ভালোয় দর্শনা কাস্টমস পার করা আর গোয়ালন্দে সবাইকে নারায়ণগঞ্জগামী স্টিমারে তুলে দিতে পারলেই তাঁর দায়িত্ব শেষ। স্টিমারে দলের দায়িত্বভার নেবার জন্য তাঁর বড় ভাই জসীম উদ্দিন আছেন, আর একবার পাকিস্তানে ঢুকে গেলে দলের লোকজনের শক্তি-সাহস এমনিতেই নাই হয়ে যাবে। শীতের বিকেল দুম করে শেষ হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেলে এতক্ষণ ধরে ট্রেনের কামরা মুখর করে রাখা কণ্ঠগুলো আস্তে আস্তে থেমে যেতে থাকে, তারপর একসময় ট্রেন চলার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ থাকে না। হঠাৎ হঠাৎ কেউ কাউকে ডেকে ওঠেন, অথবা একটা শিশু কেঁদে ওঠে – এর বাইরে সবাই চুপ। ট্রেনের কামরার টিমটিমে আলো সবার মধ্যে যেন আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ট্রেন গেদে পৌঁছায়।

    দুই পাশের কাস্টমসের ঝামেলা শেষ করতে সময় যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে সেটা পুষিয়ে নিতে ট্রেনের লোকো মাস্টার বেশ জোরে ট্রেন চালিয়ে একে একে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, পোড়াদহ, কুষ্টিয়া, কুমারখালী, খোকসা, পাংশা, কালুখালী পার হয়ে গোয়ালন্দ পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় এগারোটা বেজে যায়। সারা দিন ধরে ভাত না খেয়ে কেবল শুকনো মুড়ি-চিঁড়ে চিবিয়ে সবাই বেশ কাহিল হয়ে পড়েছিলেন। স্টিমার ঘাটে পৌঁছাতে তাই সবাই আগে খেয়ে নিতে চাইলেও গিয়াস তা হতে দিলেন না। তিনি বললেন,
    - আগে স্টিমারে ভালো জায়গা দেখে গুছিয়ে বসে নিন, তারপর ভাত খাবার জন্য সারা রাত পড়ে আছে। দেরি করলে শোয়া দূরে থাক, ঠিকমত বসার জায়গাও মিলবে না।
    স্টিমারে ওঠার মুখে সাদা ব্যাপারি শার্ট, চেক লুঙ্গী আর তালের আঁশের টুপি পরা হাসিখুশি চেহারার একজন মধ্যবয়স্ক লোক এগিয়ে আসেন – তাঁর মুখভর্তি কাঁচা-পাকা দাঁড়ি, পায়ে চামড়ার স্যান্ডেল আর গালভর্তি পান। গিয়াস পরিচয় করিয়ে দেন, ইনিই তাঁর বড় ভাই জসীম উদ্দিন। এখন থেকে জসীম উদ্দিন দলের সবার দেখাশোনা করবেন, তাঁদেরকে ঢাকা নিয়ে যাবেন, ঢাকায় যাদের আত্মীয়স্বজন আছে তাঁদেরকে সেখানে পৌঁছে দেবেন, যাদের ঢাকায় আত্মীয় নেই তাঁদেরকে ভাড়াকরা বাসায় তুলে দেবেন। পরে এক এক করে সবার সাথে দেখা করে যার যা দরকার তা কিনে দেবেন, কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন। সপ্তাহখানেক পরে মুহাজির হিসাবে সরকারী খাতায় নাম তোলার ব্যবস্থা করে দেবেন। গিয়াস দলের সবার নাম, বয়স, সম্পর্ক লেখা একটা সাদা কাগজ জসীমকে দেন। সেখানে প্রতিটি পরিবারের নামের পাশে কার কাছ থেকে কত টাকা নগদ, কত টাকার জমি পাওয়া গেছে এবং কার কাছে কত টাকা বকেয়া আছে সেসব লেখা। ওই কাগজে জাহেরার নামের পাশে ‘১ জন বিধবা ও ১ জন নাবালিকা = গয়না বাবদ আদায় ৩৬০/- টাকা, ২ কাঠা জমি বেদখলে আছে, জমি বাবদ আদায় উসুল না হৈলে একুনে বকেয়া ৮৪০/- টাকা, আদায় উসুল হৈলে পরবর্ত্তীতে পুনরায় হিসাব হৈবেক’ লেখা আছে। গিয়াস জানালেন তিনি রাতটা ঘাটেই এক ঠাঁইয়ে কাটিয়ে ভোরের ট্রেনে কলকাতা ফিরে যাবেন।

    গিয়াস দলের কারো আত্মীয়-স্বজন নয়, তবু তিনি চলে যেতে সবার আরেক দফা মন খারাপ হল। গত কয়েকটা মাস ধরে তাঁরা কেবল গিয়াসকেই চিনতেন, জসীমের নামও তখন শোনেননি। তাই তাঁর বিদায়ে সবাই একটু দ্বিধায় পড়লেন। জসীম উদ্দিন ঘোড়েল লোক, তিনি ব্যাপারটা ধরতে পারলেন সাথে সাথে। আগ বাড়িয়ে বললেন,
    - আরে ভাই, এতো মন খারাপ করছেন কেন? কাজ আছে বলে গিয়াসকে চলে যেতে হল, গিয়াসের ভাই এই জসীম তো রইলো আপনাদের খেদমতে। এখন নিজের আসল দেশে এসে পড়েছেন, মুসলমানের দেশে। এখানে আপনাকে ধমক দেবে, হেকারত করবে এমন কেউ নেই। খোদার রহমতে থাকবেন, খাবেন, কাজকর্ম করবেন, আল্লাহ্‌-বিল্লাহ্‌ করবেন। আচ্ছা ওসব তো পরের কথা। এখন তাড়াতাড়ি চলুন স্টিমারে জানালার পাশে একটা জায়গায় শোয়া-বসার ব্যবস্থা করে ভাত-মাছ খাবার এন্তেজাম করা যাক।
    ভাতের কথা শুনে সবার খিদেটা আবার চাগাড় দিয়ে উঠল। সবাই জসীমের পিছু পিছু সিঁড়ি বেয়ে স্টিমারে উঠে পড়লেন। এত রাতে ভাত খাবার অভ্যাস দলের কারো নেই, কিন্তু সারা দিন প্রায় না খাওয়া থাকায় সবাই গোগ্রাসে বোয়াল মাছের ঝোল আর মসুরের ডাল দিয়ে ভাত খেলেন। স্টিমারের ডাইনিং থেকে খেয়ে এসে ক্লান্তিতে, স্টিমারের দুলুনি আর পদ্মার খোলা হাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন।

    ঘুমের মধ্যে জাহেরা টের পেলেন কে যেন ‘মৈনট, মৈনট’ বলে ডাকছেন। মৈনট আবার কেমন নাম? এটা কি পুরুষের নাম, নাকি নারীর? এমন ভাবতে দেখা গেল স্টিমার কোন ঘাটে ভিড়ছে। জাহেরা বুঝলেন এই ঘাটের নাম মৈনট ঘাট। মনে মনে ‘মৈনট, মৈনট’ বলতে বলতে জাহেরা আবার ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর যতবার স্টিমার কোনো ঘাটে থামে প্রায় ততবার জাহেরার ঘুম ভেঙে যায়। এভাবে জাহেরার কানে নারিসা, ভাগ্যকুল, মাওয়া, লৌহজং, সুরেশ্বরের মত কোনো এক ভিন্ন পৃথিবীর নাম কানে বাজে। এসব নামের মধ্যে কেবল সুরেশ্বর নামটাকে আপন লাগে, শুনতে কিছুটা তারকেশ্বরের মত লাগে বলে। স্টিমার পদ্মা ছেড়ে মেঘনাতে পড়তে জাহেরার ঘুম একেবারে টুটে যায়। এতক্ষণে চারপাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। বাইরের দিকে তাকিয়ে জাহেরা হতভম্ব হয়ে যান – যে দিকে তাকান কেবল নিঃসীম সায়র! নদী জাহেরার অপরিচিত কিছু নয়, তবে সেটা মূলত হুগলী নদী, এই পদ্মা-মেঘনা সঙ্গমের সাথে তার কোনো তুলনা হয় না। স্টিমার একটু পাড়ের কাছ ঘেঁষে চললে দূরে যে লোকালয় দেখা যায় সেগুলো ছোটো ছোটো বিচ্ছিন্ন গ্রাম। গাঁয়ের মেয়ে জাহেরার মনে হয়, মুন্সীডাঙ্গা, বেলডুবি, বুড়িখালী এসবও গ্রাম কিন্তু পশ্চিমের বর্ধিষ্ণু গ্রামগুলোর বিবেচনায় পূর্বের এসব গ্রাম কয়েকটা ঘর মাত্র। নদী আর গ্রাম দেখে জাহেরার মন দমে যেতে শুরু করে। ষাটনল ঘাটে স্টিমার ভিড়তে দেখা গেল সেটা একটা পন্টুন মাত্র যা স্টিমারের ধাক্কায় প্রবলভাবে দুলে উঠছে। এ কেমন ঘাট! কমলাঘাটে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বেশ বেলা হয়ে যায়। এই ঘাটটা অনেক ব্যস্ত, ঘাটে নৌকার ভিড়ও অনেক। নারায়ণগঞ্জ স্টিমার টার্মিনালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায়।

    স্টিমার টার্মিনাল থেকে বের হতে সারি সারি বাঁশের দরমার বেড়া দেয়া খাবারের দোকান ওরফে হোটেল। দোকানগুলো আর দশটা ঘাটের দোকানগুলোর মতই অপরিসর ও নোংরা। সেসব হোটেলে দলে দলে মেয়ে-মর্দ্দ ডাল আর মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে সপাসপ খেয়ে ছুটছেন – কেউ ট্রেন ধরতে আর কেউ স্টিমার ধরতে। চারপাশে তাকাতে জাহেরা টের পেলেন এটা ভিন্ন দেশ! কলকাতার তুলনায় পথে মুসলমানের সংখ্যা বেশি, পথচলতি মেয়েদের সংখ্যা বেশ কম। মেয়েদের মাথায় সাধারণত ঘোমটা টানা, অল্প কয়েকজন কালো বোরখায় ঢাকা। জাহেরা-খলিলরা কসাই বাড়ির মানুষ, প্রতি বেলায় মাছ-ভাত খেতে তাদের ভালো লাগে না, কিন্তু এখন নিরুপায় তাই মাছ-ভাতই খেতে হল। ভ্রমণের ক্লান্তিতে, ক্রমাগত পরিবর্তনের ধাক্কায়, আর অচেনা চারপাশ দেখে মাহিরা ভয়ে মূক হয়ে গেছে। সে কেবল বার বার দুহাতে মায়ের হাত আঁকড়ে ধরে। স্টিমার টার্মিনালের ঠিক পাশেই রেল স্টেশন। ঘন সবুজরঙা পাঁচ-ছয়টা কোচের গায়ে সাদা রঙে লেখা ‘ইবিআর’, সেগুলোকে টেনে নিয়ে যাবে একটা কালোরঙের কয়লার ফার্নেসের স্টীম এঞ্জিন। ট্রেন চলতে না চলতে ‘চাষাড়া’ স্টেশন চলে আসল, আর চাষাড়া পার হতে না হতে নারায়ণগঞ্জ শহরটাই শেষ হয়ে গেল। তারপরে দুই পাশে কেবল দিগন্তপ্রসারী ঝিল, আর কোথাও কোথাও অল্প কয়েকটা ঘরের গ্রাম। জাহেরা বুঝলেন পশ্চিমের লোকেরা কেন এই দেশটাকে জল-জংলার দেশ বলেন। গেণ্ডারিয়া স্টেশনে না আসা পর্যন্ত ঢাকা শহর যে শুরু হয়েছে সেটা ঠিক বোঝা যায় না। তাও রেল লাইনের বামে নারিন্দা-ওয়ারীর দিকে শহরটা যতটা ঘন ডানে দয়াগঞ্জ-টিকাটুলীর দিকে ততটা ঘন নয়। অবশ্য টিকাটুলী পার হয়ে রেল লাইনটা বাঁয়ে মোড় নিয়ে যখন নবাবপুর-পল্টন-ফুলবাড়িয়ার দিকে যায় তখন দু’পাশেই শহর জমজমাট। ফুলবাড়িয়ার ‘ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন’-এ ট্রেন থামতে দলের সবাই নামার পরে এক দফা গোনাগুনতি হল। দেখা গেল মানুষ বা মালপত্র কিছু হারানো যায়নি। স্টেশনটা হাওড়া বা শিয়ালদহের মত বড় নয়। জাহেরা বুঝলেন ঢাকা কলকাতার মত বড় শহর নয়। ঢাকা আসলেই তখন বড় শহর ছিল না। বুড়িগঙ্গার উত্তর তীর ঘেঁষে পূর্বে পোস্তগোলা থেকে পশ্চিমে হাজারীবাগ ট্যানারী-পিলখানা-সেনানিবাস-ধানমণ্ডি পর্যন্ত, আর দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উত্তরে তেজগাঁও-মহাখালী-অ্যারোড্রাম-মিরপুর পর্যন্ত। এরই মধ্যে বড় বড় পুকুর-জলা-ঝিল, ঝোপ-ঝাড়-জংলা জায়গাও আছে।

    ফুলবাড়িয়া স্টেশনের বাইরে সারি সারি ঘোড়ার গাড়ি দাঁড় করানো, রিকশাও আছে তবে সেগুলো হাতে টানা নয় – সাইকেল রিকশা। পথে মোটর গাড়ি খুব কম। বোঝা গেল ঢাকা ট্রামের-মোটরের শহর নয়। কয়েকটা ঘোড়ার গাড়িতে সবাইকে ভাগাভাগি করে তুলে দিয়ে জসীম উদ্দিন কোচোয়ানদেরকে গন্তব্য বুঝিয়ে বললেন। দুই ঘোড়ায় টানা গাড়ি কাপ্তান রোড ধরে একটু এগিয়ে হাতের ডান দিকে নবাবপুর রোডে ঢুকল। তার একটু এগিয়ে হাতের বামে বামাচরণ চক্রবর্ত্তী রোড ধরে আগাতে লাগল। এই রাস্তাটা বেশ সরু, উলটো দিক থেকে আরেকটা গাড়ি আসতে নিলে চেপে দাঁড়াতে হয়। মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতে হাতের ডান দিকে অমনই এক সরু রাস্তায় গাড়ি ঢুকল – এই রাস্তাটার নাম বনগ্রাম রোড। শহরের অভিজাত এলাকা ওয়ারীর র‍্যাঙ্কিন স্ট্রীট, হেয়ার স্ট্রীট, ওয়্যার স্ট্রীট, লারমিনি স্ট্রীট, মদন মোহন বসাক রোডের পশ্চিমে বনগ্রাম রোড, তাহেরবাগ লেন, মদন পাল লেনে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র মানুষের বসতি; দুই অংশের মাঝখানে যোগীনগর রোড যেন ভারসাম্য বজায় রেখেছে। গাড়ি বনগ্রাম রোডের একটা কালী মন্দিরের পাশ দিয়ে আরও সরু একটা রাস্তার গাড়ি ঢুকে কিছুটা গিয়ে একটা বাড়ির সামনে থামল। বাড়িজুড়ে আস্তর ছাড়া ইটের দেয়াল দিয়ে তোলা অগণিত ঘর, উপরে লাল টালির চাল। বাইরে ঠিকানা লেখা – ১১/৩ চন্দ্রমোহন বসাক স্ট্রীট। এই বাড়ির একটা ভাড়াকরা ঘর নবগঠিত পাকিস্তানে জাহেরা আর মাহিরার নতুন ঠাঁই হল। পাশের আরেকটা ঘরে খলিলের পরিবারের ঠাঁই। উঠানের এক কোনে বারোয়ারী কুয়ো যেটার পানি সবার পেয়, যার পাশে মেয়ে-মর্দ্দ সবাই ঐ পানি দিয়েই খোলা স্নান করেন। কুয়োর পাশে বেড়ার দেয়াল দেয়া দুটো পায়খানা যাদের মাথায় কোনো ছাদ নেই। প্রত্যেক ঘরের সামনে যে বারান্দামত জায়গা সেখানে যার যার মাটির উনুন। কেউ কয়লা, কেউ কাঠ, কেউ ধানের তুষ বা করাতকলের গুঁড়ো দিয়ে উনুন জ্বালান।

    ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে একটা ছোটো ঘরের মেঝেতে হোগলার বিছানায় শুয়ে জাহেরা ভাবলেন বেলডুবি ছাড়া ঠিক আছে, কিন্তু এত দূর ঢাকায় চলে আসাটা কি ঠিক হল? কলকাতায় তার আত্মীয়স্বজন কেউ নেই বটে তবে সেখান থেকে নিজের গাঁ নিজের ঠাঁইয়ে সহজে ফেরা যায় যেটা এখান থেকে সম্ভব না। অবশ্য তাঁর নিজের ঠাঁই কোনটা? চৌদ্দ বছর বয়সে রুস্তমের সাথে বিয়ে হবার আগে পর্যন্ত বেলডুবিতে বাপের বাড়ি ছিল তারঁ ঠাঁই। বিয়ের পরে তাঁর ঠাঁই হয় মুন্সীডাঙ্গার কসাইপাড়ায় স্বামীর ঘরে। রুস্তম খুন না হলে নিশ্চিতভাবেই জাহেরা দুই মেয়ে নিয়ে এখনো সেই ঘরেই থাকতেন। তখন হয়তো আমৃত্যু তাঁর ঠাঁই বদল হতো না। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে তিন বছরের জন্য ঠাঁই হয় নাজির খাঁ’র ওয়াটগঞ্জের বাড়িতে। নাজির খাঁ খুন না হলে কী হতো বলা মুশকিল। হয়তো তিনি আজীবন নাজির খাঁ’র কাছে থাকতে পারতেন। হয়তো কোনো একদিন নাজির খাঁ তাঁকে তাড়িয়ে দিলে কলকাতার কোথাও ঠাঁই খুঁজে নিতেন। সারা দুনিয়ায় মহাযুদ্ধ না বাঁধলে, দেশে মহাআকাল শুরু না হলে, সাহেবরা এদেশ ছেড়ে চলে না গেলে, দেশটা ভেঙে পাকিস্তান না হলে, ডাকাতদের হাতে রুস্তম শেখ খুন না হলে, দাঙ্গায় নাজির খাঁ খুন না হলে, হাবিব লস্কর পাকিস্তানে চলে যেতে না চাইলে হয়তো জাহেরাকে আজ ১১/৩ চন্দমোহন বসাক স্ট্রীটের এই অন্ধকূপে পড়তে হতো না। এমন গণ্ডা গণ্ডা ‘না’ আর ‘যদি’ মিলে জাহেরাদেরকে বার বার ঠাঁই নাড়া করতে করতে ভবিষ্যতে আরও কোথায় নিয়ে যাবে কে জানে!

    রুস্তমের মায়ের একটা পেতলের পানের ডাবর-বাটা, আর একটা সুরমাদানী ছিল। পেটমোটা গোল ডাবর আর ফুলকাটা বাটাটা তেঁতুল দিয়ে মাজলে সোনার মত ঝকঝক করতো। ডাবরের পেটটা এতো মসৃণ ছিল যে সায়েরা সুযোগ পেলেই তাতে হাত বুলাতো। সুরমাদানীটার হাতলের সূক্ষ্ম কারুকাজ মুগ্ধ হয়ে দেখার মত। জীবনে কখনো না দেখা শ্বাশুড়ির কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে জাহেরা এগুলো পেয়েছিলেন। তাঁর শ্বাশুড়িও নাকি ওসব তাঁর নিজের শ্বাশুড়ির কাছ থেকে পেয়েছিলেন। বার বার ঠাঁই নাড়ার এই জীবনে জাহেরা কখনো এই জিনিসগুলো হাতছাড়া করেননি। এগুলো খুব কাজের কোনো জিনিস না, বিশেষ দামি কিছুও না। কিন্তু জাহেরার মনে হতো এগুলো হচ্ছে এই পরিবারের বধূদের স্বপ্ন, আশা আর আশীর্বাদের প্রতীক। যেহেতু তাঁর কোনো পুত্র নেই তাই তাঁর কখনো পুত্রবধূ হবে না যার হাতে এগুলো তুলে দিতে পারবেন। সায়েরা ডাবরটা ভালোবাসতো – সেও আজ কাছে নেই। বেঁচে থাকলে, সবকিছু ঠিক থাকলে মাহিরার বিয়ের পরে তাকে এগুলো উপহার দেয়া যাবে। অন্ধকার ঘরের বিছানায় শুয়ে পানের ডাবরটার পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবেন – না, এখনো সব ফুরিয়ে যায়নি। এখনই হার মানা যাবে না। মঙ্গলময়ী নারীদের আশীর্বাদ তাঁর সাথে আছে, এখন সাহস ভরে আগাতে হবে। যদি এখানেও ঠাঁই না মেলে তাহলে দুনিয়ার যে প্রান্তেই হোক সেখানেই যেতে হবে, লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।

    এই অনিঃশেষ উদ্বাস্তু ভ্রমণের কোথাও জাহেরার কি আবার হাবিবের সাথে দেখা হবে? আলী কি তার মাহিরাবু’কে ফিরে দেখতে পাবে? আর সায়েরাই বা কোথায়? কোথায় গেলে তার ঠাঁই খুঁজে পাওয়া যাবে? সেসব গল্প অন্য কোনো দিনের জন্য নাহয় তোলা থাক।



    (আশ্বিন, ১৪২৯)

    জেওর = অলঙ্কারাদি
    খেদমত = সেবা
    হেকারত = তাচ্ছিল্য
    রহমত = করুণা
    এন্তেজাম = বন্দোবস্ত
    দরমা = চাঁচরি/চাঞ্চালি


  • ধারাবাহিক | ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ৩৪১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Aranya | 2600:1001:b012:6385:c098:44b7:a58e:dac8 | ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:১৩514844
  • baa:
  • রেমিন রায়হান খান | 43.245.123.146 | ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৩:৫৯514907
  • নিস্থুর, করুণ, অসহায়ত্ব, জুলুমের শিকার হওয়া নারীর জীবন কাহিনী।  ভীষণ মর্মপীড়া বোধ করেছি আখ্যানটি পড়ে 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:38d6:bde7:3d01:29ab | ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:০৯514910
  • আবার পড়লাম।  জাস্ট অসাধারণ। খুবই ভাল আর  জরুরী একটা কাজ হচ্ছে এটা 
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 103.98.204.123 | ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৪৭514929
  • @রেমিন রায়হান খানঃ

    এটি আসলে বিশেষ কোন নারীর জীবন কাহিনী নয়। এটি মহাযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশভাগের মতো বড় বড় ঘটনার কালে প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষদের অবস্থার আখ্যান। এই অংশটিতে (অন্য পর্ব ১-৮) জাহেরা প্রেক্ষিত থেকে দেখা হয়েছে, যেমন মূল পর্বে আলীর প্রেক্ষিত থেকে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যতে 'ঠাঁইনাড়া' নিয়ে আরও লিখলে হয়তো অন্য কারো প্রেক্ষিত থেকেও দেখা হতে পারে। তবে সেখানেও এই চরিত্রগুলো থাকবে।    
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 103.98.204.123 | ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৪৯514930
  • @aranya:
     
    পড়া ও মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। এই পর্বটি এখানেই শেষ। তবে আখ্যান শেষ হয়নি। সময় সুযোগ পেলে এই আখ্যানে আবার হাত দেবার আশা রাখি।
  • Kuntala | ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:২৯515241
  • আর কতদিন  অপেক্ষা  করাবেন ?
  • | ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৫৮515246
  • এটা ত শেষ হয়ে গেছে।
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 103.98.204.123 | ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৯515380
  • @Kuntala

    একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মনে হচ্ছে। এই গল্প আপাতত এখানে শেষ। তবে আলী-জাহেরাদের ইতিহাস শেষ হয়নি। সেটা লেখাও হয়নি। ভবিষ্যতে কখনো আবার লেখার ইচ্ছে রাখি। তখন আপনাদের কাছে নিবেদন করবো। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন