এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ

  • কলকাতার ভূগর্ভের জল: আমরা কোথায় চলেছি?

    প্রদীপ সেনগুপ্ত
    আলোচনা | পরিবেশ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৭৭১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৫ জন)
  • মূল ছবি: Vlad Chețan




    একসময়, মানে আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে কলকাতায় অনেকগুলি জায়গায় বাড়িতে ইঁদারা থাকত। টালার জল তো একেবারে দক্ষিণ অংশে বিশেষ পৌঁছাতো না; সেখানে এই কুয়োগুলিই ছিল ভরসা। কালে-দিনে কলকাতা শহর দক্ষিণদিকে বাড়তে শুরু করল। তখন সেখানে জল সরবরাহের জন্য নলকূপ খোঁড়া হতে লাগল। আমি ত্রিশ বছর আগে ব্রহ্মপুরে বাড়ি করেছিলাম। সেখানেও আমাকে একটা টিউবওয়েল বসিয়ে নিতে হয়েছিল। কলকাতা কর্পোরেশনও দক্ষিণ কলকাতার সংযোজিত অংশে নলকূপ থেকেই জল সরবরাহ করত। গড়িয়া থেকে বেহালা পর্যন্তই তাই নলকূপের ছড়াছড়ি। তবে নলকূপ কলকাতার সর্বত্রই ছিল ও আছে। মধ্য কলকাতায় শিয়ালদহ, পার্ক সার্কাস, এমনকি ফোর্ট উইলিয়ামেও জল সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল বসেছিল। এখন আবার কলকাতার বড় বড় আবাসনগুলিতেও জলের সমস্যা মেটাতে কর্পোরেশনের জলের পাশাপাশি টিউবওয়েল বসাতে হচ্ছে।

    এত যে টিউবওয়েল বসছে আর বিপুল পরিমাণে জল তোলা হচ্ছে – তার ভবিষ্যৎ কী? আর এ’রকম চললে আর কিছুদিন পরে ভূগর্ভের জলের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যাবে না তো? এইসব প্রশ্ন সকলের মনের মধ্যে নিশ্চয়ই উঁকি মারে। অনেকে তো এই ভয়টাও পাচ্ছেন, যে জল তুলে মাটির নীচে অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বাড়িঘর এর ফলে ধসে পড়বে না তো? সত্যিই ভয়ের ব্যাপার। অনেকগুলি অঘটনের আগাম সঙ্কেত রয়েছে। আর যদি কলকাতার ভূগর্ভের ভূতত্ত্বের দিকে তাকাই, তবে দেখব ভয়গুলি অমূলক নয়।

    কলকাতার ভূগর্ভের কী অবস্থা, এ নিয়ে লোকের মনে প্রশ্ন থাকলেও ধারণাগুলি ভাসাভাসা – কারণ মাটির নীচে কী আছে তা তো দেখতে পাওয়া যায় না – আরা যাঁরা এই নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের তথ্যগুলি সরকারের হেফাজতে রয়েছে। এমনকি যাঁরা নিজেদের উৎসাহে এই বিষয়ে কাজ করতে চান, সঠিক তথ্যের অভাবে তাঁদেরও কিছু ভুল ঘটে। আমাকেও একবার এ’রকম সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ঘটনাটা ঘটেছিল কলকাতার গলফ ক্লাবে। তাঁরা চেয়েছিলেন সেখানকার বৃষ্টির জল মাটির নীচে ঢুকিয়ে দেবেন। তার ফলে ভূগর্ভের জলের ভাণ্ডার পুষ্ট হবে, সমস্যা কমবে। কিন্তু তাঁদের ধারণা ছিল, যে কলকাতার এই অংশে যে অল্প গভীর ইঁদারা ছিল – সেখানে জল ঢোকালেই সব জল মাটির নীচে চলে যাবে। কিন্তু তা হল না। দু’-এক পশলা বৃষ্টির পরেই সব কুয়ো উপচে উঠল। আর জল ঢোকে না। এ’রকম কেন হল? তাঁরা ডাকলেন আমাকে। আমি তাদের বোঝালাম, এই যে কুয়োগুলি আছে – সেগুলি আসল অ্যাকুইফার বা ভূসলিলাধারের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। ‘তাহলে তা কীসের সঙ্গে সংযুক্ত?’ ‘এর জল তাহলে কোথা থেকে আসছে?’ – এই সব নানা প্রশ্ন উঠে এল।

    একটু গভীরভাবে ব্যাপারটা দেখা যাক। কলকাতায় প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভূগর্ভের ভূতত্ত্ব নিয়ে কাজ হচ্ছে। তার আগে থেকেও হত। ’৪৭ সালে একবার ঠিক হয়েছিল কলকাতায় লন্ডনের মত টিউবরেল বসানো হবে। তখন মাটির নীচে কী আছে তাই নিয়ে সমীক্ষা হয়েছিল। তবে তা কুড়ি মিটারের বেশি গভীরতা পর্যন্ত ছিল না। এরপর ধীরে ধীরে আমাদের তথ্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হতে থাকে। সরকারিভাবে কলকাতায় ভূগর্ভের জলের স্তরের গভীরতার মাপ নিয়মিত নেওয়া হতে থাকে। সেই সাথে কয়েক জায়গায় সমীক্ষার জন্য নলকূপ বা পিজোমিটার বসানো হল। এর সাথে কলকাতার মেট্রো রেলের কল্যাণে আরো তথ্য উঠে এল। ফলে, এখন আমরা বলতে পারি, কলকাতার ভূগর্ভের ভূতত্ত্ব ও সলিলতত্ত্ব সম্বন্ধে অনেকটাই আমরা জানি।

    কিন্তু জানাটাই শেষ কথা নয়। কলকাতার ভূগর্ভের জল যে পরিমাণ প্রতিদিন তোলা হচ্ছে তার জন্য নানা সমস্যা ঘনিয়ে এসেছে। সে সম্পর্কেও যা তথ্য আছে তা আমাদের কপালে ভাঁজ পড়ার পক্ষে যথেষ্ট।

    ভূগর্ভের জল যে স্তরে থাকে, তা সাধারণত মিহি, মাঝারি ও মোটা বালুকণা দিয়ে গঠিত। এই বালুকণাগুলির ফাঁকে ফাঁকে জল সঞ্চিত হয়, ফাঁকগুলির ভিতর দিয়ে আবার প্রবাহিত হয়। প্রবাহিত হওয়ার জন্যই আমরা জল তুলতে পারি। এই স্তরগুলিকে বলা হয় অ্যাকুইফার বা ভৌমসলিলাধার। এগুলি মাটির নীচে বিভিন্ন গভীরতায় পাওয়া যায়।
    আপনি যদি একটা টিউবওয়েল বসাতে চান, সেটা কোথায় কত গভীরে বসাবেন আর তার থেকে কতটা জল উঠবে – এসব চিন্তা আপনার মাথায় আসতেই পারে। যেমন ধরুন, দক্ষিণ কলকাতার একটা বড় আবাসন তাদের নতুন একটা টাওয়ারে জল সরবরাহের জন্য একটা নতুন গভীর নলকূপ খোঁড়ার অনুমতি চাইছে। ঠিক কোথায় বসালে ভালো জল পাওয়া যাবে, আর তার জন্য অন্য কারো জলে টান পড়বে না এটাও একটা বড় ভাবনা। তাই কলকাতার গভীরে কী আছে তা একটু জেনে রাখা ভালো।

    কলকাতায় সবার উপরে রয়েছে ১০ থেকে ৫০ মিটার পুরু পলির স্তর, যার মধ্যে কর্দমের পরিমাণই বেশি এবং যার ভিতর দিয়ে জল চলাচল করতে বাধা পায়। অথচ এই স্তরের সান্দ্রতা বেশি এবং প্রচুর পরিমাণে জল ধরে রাখতে পারে। তার ঠিক নীচেই রয়েছে ১০ থেকে ২০ মিটার পুরু একটা মিহি বালুর স্তর, যেটাকে আমরা প্রথম ভূসলিলাধার বা ফার্স্ট অ্যাকুইফার বলব। এটা খুব একটা ভালো জল দেয় না। এর ঠিক নীচে রয়েছে একটা কাদার স্তর যেটা প্রায় পঞ্চাশ মিটার পুরু। তার ঠিক নীচেই, মানে ৯০ মিটার থেকে ১২০ মিটার গভীরতায় আরো একটি বালুর স্তর আছে যেটিতে মাঝারি বালু আছে। এর নাম দিলাম দ্বিতীয় ভূসলিলাধার। এই স্তরটিও ১০ থেকে ২০ মিটার পুরু। কলকাতার অধিকাংশ হ্যান্ড পাম্প বসানো নলকূপ এই স্তর থেকে জল নেয়। এর নীচে আবার ছাই রঙের কর্দমের স্তর রয়েছে এবং ২৪০ থেকে ৩০০ মিটার গভীরতায় আরো একটি অর্থাৎ তৃতীয় ভূসলিলাধার রয়েছে। এর থেকেও প্রচুর পরিমাণে জল তোলা হয়। এই জল আসছে কোথা থেকে?

    একটা জিনিস খুব স্পষ্ট – কলকাতার প্রথম অ্যাকুইফারের উপরে ১০ থেকে ৫০ মিটার পুরু একটি অ্যাকুইটার্ড বা কর্দমের স্তর আছে, যা অপ্রেবেশ্য বা আংশিক প্রবেশ্য। এটি থাকার জন্য এবং কলকাতার অধিকাংশই কংক্রিট বা অ্যাসফল্টে ঢাকা বলে কলকাতার বৃষ্টির জল সরাসরি ভূগর্ভে প্রবেশ করতে পারে না বা পারলেও এত ধীরগতিতে, যে তা হিসাবের মধ্যে আসে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, কলকাতায় এত যে বৃষ্টি হচ্ছে – তা কলকাতার কোনো কাজেই আসছে না। প্রায় সবটাই বয়ে চলে যাচ্ছে। উল্টে তা আবার জলমগ্নতার সমস্যা সৃষ্টি করছে।
    কলকাতায় তো বৃষ্টির জল ভূগর্ভে যেতে পারে না, তবে এই ভূগর্ভের অ্যাকুইফারগুলি পুষ্ট হয় কীভাবে? উত্তর হল, এই অ্যাকুইফারগুলি উত্তরদিকে নদীয়া মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সেখানে এগুলি প্রায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি। সেখানকার বৃষ্টির জল মাটির তলা দিয়ে কলকাতার নীচ পর্যন্ত চলে আসে।




    আসলে কলকাতার ভূগর্ভের জল নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ জল তুলে ফেলা। যতটা জল তোলা হচ্ছে, ততটা জল মাটির নীচে ঢুকছে না। ১৯৫৬ সালে কলকাতা কর্পোরেশন দ্বারা কলকাতার ভূগর্ভের দৈনিক জলোত্তলনের পরিমাণ ছিল ৫.৫ কোটি লিটার। ১৯৯২ সালে তা বেড়ে হয় ২১.৯ কোটি লিটার। এর সাথে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত নলকূপের মাধ্যমে জল তোলা। কেন্দ্রীয় ভূজল বোর্ড তাদের একটা প্রতিবেদনে বলেছে, ২০০৬ সাল নাগাদ কর্পোরেশন ও ব্যক্তিগত নলকূপের মাধ্যমে জলোত্তলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩০.৫ কোটি লিটার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৩৫ কোটি লিটার হতে পারে। এখন এই ভূতাত্ত্বিক পরিবেশে সমস্যাগুলি কী দাঁড়িয়েছে তা দেখা যাক।

    অতিরিক্ত জল তোলার ফলে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে গিয়েছে। ষাট-সত্তর বছর আগে কলকাতার ভূগর্ভের জলের প্রবাহ ছিল উত্তর থেকে দক্ষিণে। তার পর থেকে কলকাতায় কয়েক হাজার নলকূপ বসানো হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে জল তোলা হয়ে থাকে। এর ফলে ২০০০ সাল নাগাদ ভূসলিলের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা গেল ভয়ঙ্কর ব্যাপার। দেখা গেল কলকাতার মাঝামাঝি জায়গায় এক গভীর ‘গ্রাউন্ডওয়াটার জোন অফ ডিপ্রেশন’ তৈরি হয়েছে। মধ্য কলকাতায় জলস্তর ১৭ থেকে ২৫ মিটার নীচে চলে গিয়েছে। তাই চারদিক থেকে জল কলকাতার কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। কলকাতার জলের লেভেল এখন সমুদ্রের জলের লেভেল থেকে ১০ থেকে ২০ মিটার নীচে।




    আর একটা ব্যাপার হল সরকারিভাবে সুইড এবং কেন্দ্রীয় ভূজল বোর্ড নিয়মিতভাবে ভূগর্ভের জলের সমীক্ষা করে জল অনুপ্রবেশ ও উত্তোলনের হিসেব রাখে। তাদের হিসেবমত কলকাতার ভূগর্ভের জল এত বেশি পরিমাণে তোলা হচ্ছে, যে ভুগর্ভের জলের বিচারে এর অবস্থা ক্রিটিকাল বা সঙ্কটজনক।

    কলকাতার দক্ষিণে, পূর্বে এবং দক্ষিণপূর্বে শহরতলীতে কয়েকটি স্তরে নোনা জল আগে থেকেই ছিল। এখন সেখান থেকে সেই জল কলকাতার কেন্দ্রের দিকে বয়ে আসছে। ফলে জলে লবণের পরিমাণ বাড়ছে। উদাহরণ দিই: ব্রহ্মপুরে ১৯৯২ সালে ১০০ ফুট গভীরের জলের মোট দ্রবীভূত লবণ ছিল ৩০০ পিপিএম। ২০০৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৬০ পিপিএম। এর পর আসছে আর্সেনিকের কথা। কলকাতায় ভূগর্ভের জলে আর্সেনিক আছে – এটা পরীক্ষিত সত্য। বাঁশদ্রোণীর একটা হোটেলের ভিতরের একটা টিউবওয়েলে আমি সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আর্সেনিক পেয়েছি। টালিগঞ্জেও পেয়েছি। আমার নিজের ব্যক্তিগত সমীক্ষার থেকে ধারণা – আর্সেনিক আদিগঙ্গার পুরোনো অবক্ষেপ ও তার সমসাময়িক খাঁড়িগুলির অবক্ষেপের সাথে সম্পর্কিত। এর জন্য আরো সমীক্ষার দরকার।

    কলকাতার ভূগর্ভের জলস্তরের এই যে বিশৃঙ্খলা এবং তার সাথে ভবিষ্যতে জল পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে, তার থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য কী রাস্তা আছে – তা একটা বড় প্রশ্ন। মোটামুটি দু’টি পথ আছে, তার একটা হল ভূগর্ভের জলের উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নদীর জলের উপর নির্ভর করা। দ্বিতীয়টি হল বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও ব্যবহার – যাকে জনপ্রিয় ভাষায় বলা হয় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং।

    অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কী এবং কলকাতায় এর প্রাসঙ্গিকতা কতটা। আসলে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং বা বৃষ্টির জল সংগ্রহ, জলসম্পদ সংরক্ষণের এটা একটা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং মানে ক্ষেত থেকে ফসল তোলার মত ব্যাপার একটা। বৃষ্টির জল মানে – যে জল বর্ষায় প্রকৃতি আমাদের পরিবেশের জন্য বরাদ্দ করেছে। সে জলের কতটা বয়ে যেতে দেব আর কতটা আমরা নিজের গোলায় ভরব, সেটা মূল প্রশ্ন। কিছুটা জলে বয়ে যেতে দেওয়া প্রয়োজন, কারণ বয়ে যাওয়া জল আমাদের নদী-পুকুর এসবকে পুষ্ট রাখে, বাস্তুতন্ত্রকে সজীব রাখে। কাজেই খুব ভেবেচিন্তে হিসাব করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা উচিত।

    কলকাতায় সারা বছর যা বৃষ্টি হয়, তার পরিমাণ ১.৪ মিটার প্রায়। কলকাতার আয়তন ১৮৭ বর্গ কিলোমিটার। মোট বৃষ্টি ২৬১৮ লক্ষ ঘনমিটার। এর ৪০ শতাংশ হল ১০৪৭ লক্ষ ঘনমিটার। এতটা জল আমরা পেতেই পারি। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। কিন্তু এর কিছুটা অবশ্যই সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর জন্য ব্যক্তিগত, সংগঠনগত ও সরকারিভাবে চেষ্টা দরকার।

    এতে লাভ কী হবে?
    কিছুটা হলেও ভূগর্ভের জলের উপর চাপ কমবে। ভূগর্ভে কৃত্রিম অনুপ্রবেশ ঘটালে জলের গুণগত মান কিছুটা উন্নত হবে। ব্যাপকভাবে করতে পারলে অবশ্যই উন্নত হবে। কলকাতায় অনেক জলাশয় আছে, যেগুলিকে এই ব্যবস্থার অধীনে আনা যায়। পুরোনো আবাসনগুলি, যেখানে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং নেই, সেখানে এই ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত। এটাও দেখতে হবে – কোনো রাসায়নিক দূষিত পদার্থ যেন সেই জলের সাথে ভূগর্ভে চলে না যায়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে প্রথম বর্ষণের পর বৃষ্টির জল ভূগর্ভের জল বা নদী বা পুকুরের জলের থেকে অনেক বেশি পরিষ্কার ও মৃদু। কাজেই ধোওয়ার কাজে এই জল ব্যবহার ডিটারজেন্টের খরচ কমাবে। বৃষ্টির জল ব্যাপকভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার ও ভূগর্ভে চালান করতে পারলে অবশ্যই জলসঙ্কট ও জলমগ্নতার কিছুটা যে সমাধান হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।


  • আলোচনা | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৭৭১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • guru | 103.249.39.66 | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৩৪512334
  • ভীষণ প্রাসঙ্গিক একটি লেখা | লেখককে অনেক ধন্যবাদ |
  • | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১০512336
  • বেশ ভাল লেখা। 
     
    পুণেতে নতুন হাউজিঙের অনুমোদন  পেতে রেলওয়াটার হার্ভেস্টিং আর সোলার প্যানেলের প্রভিশান দেখাতেই হয়। কলকাতায় সম্ভবতঃ এরকম কিছু নেই। নিউ টাউনেরলম্বা লম্বা বাড়িগুলোতে এরকম কোনও ব্যবস্থা দেখি নি। 
     
    ভূর্গভস্থ জল সংরক্ষণের বিষয় আরেকটা কথা উল্লেখ করতে চাই। বিভিন্ন জায়গায় চকমকে টাইলস বসিয়ে রাস্তার ধারের ঘাসমাটির অংশটুকু বুজিয়ে দিচ্ছে এর ফলেও বর্ষাকালে ইক্যুইফায়ার রিচার্জ হতে পারে না।  আর শহর সাজানোর নামে বড় বড় গাছ কেটে দিয়ে যে বিতিকিশ্রি বেঁটে বেঁটে পাম বা কৃষ্ণচুড়া আকাশমণি জাতীয় গাছ লাগানো হচ্ছে তারা প্রচন্ড জল টানে। ভূগর্ভস্থ জলের লেভেল অনেক নেমে যায় ঐ জাতী গাছ রাখলে, ফলে ওদের লাগানোর জন্য খুবই সামান্য অংশে কন্ট্রোলড চাষ করা উচিৎ।
  • Subhadeep Ghosh | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৬512338
  • খুবই জরুরী একটা আলোচনা। অনেক ধন্যবাদ।
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:38fa:11da:14e:42b0 | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:০৯512363
  • ভালো লাগলো লেখাটা। সঙ্গের ছবিও সুন্দর।
  • Sobuj Chatterjee | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৩৯512376
  • দারুন প্রাসঙ্গিক তো বটেই। সরকারি মাথাব্যথাটা দরকারি। বাঙ্গালোরে সমস্ত নতুন আবাসনে Rain harvesting system compulsory! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন