ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  স্মৃতিচারণ

  • নিশি ভোর হল জাগিয়া

    সংগ্রামী লাহিড়ী
    স্মৃতিচারণ | ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৭৫১ বার পঠিত

  • মেয়েটার বাড়ি মফস্বলে। তার জীবনে আশির দশকের কলেজ-গান-বই-সিনেমা, "শহরের পিঠ তোলপাড় করা অহংকারের দ্রুত পদপাত।" পুরোনো বইয়ের জন্যে কলেজ স্ট্রিট আর নিপারের সন্ধানে ওয়েলিংটন ফুটপাথে নিয়মিত হানা দেয়। নিপার খুব পরিচিত, প্রিয় মুখ। নাম দিয়ে হয়তো চেনা শক্ত, কিন্তু একটু ধরতাই দিলেই বুঝবেন। সেই যে ছোট্ট একটি টেরিয়ার কুকুর গ্রামোফোনের চোঙের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে, শুনছে তার প্রভুর গলা। প্রভু আর বেঁচে নেই। তার গলার আওয়াজ গ্রামোফোন রেকর্ডে ধরা আছে। সে রেকর্ড বাজলেই নিপার বসে পড়ে তার সামনে। ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস।’ নিপারের ছবি দেওয়া লং প্লেয়িং রেকর্ড পাওয়া যায় ওয়েলিংটন স্কোয়ারে। বাড়িতে কালো রঙের টার্নটেবিল গ্রামোফোনে ছড়ায় সুরের সম্মোহন। কখনো সুচিত্রা মিত্রের ভরাট গলায় কৃষ্ণকলি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের রানার আর গাঁয়ের বধূ, কখনো বা বড়ে গোলাম আলির অপার্থিব কণ্ঠের শরক্ষেপণ – ‘ইয়াদ পিয়া কি আয়ে’ - একেবারে অব্যর্থ লক্ষ্যে মর্মে গিয়ে বিঁধবে।

    এমনই একদিন অঘ্রানের মন কেমন করা উদাস বিকেলে কলেজ ফেরত মেয়েটা বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে শুনল মিহি গলার চিকন সুরে কথার বুনট, "জাগে হো কহিঁ রয়না।" ভৈরবী ঠুমরী। নিমেষে কান খাড়া। সুর যেন গলে গলে পড়ছে। এ কার গলা? বড়ে গোলাম আলির পাতিয়ালা স্টাইল তো নয়? পাক্কা বেনারসি আদত, যেন গিরিজা দেবীর গুরুভাই!

    ঘরে ঢুকে দেখে কাকা মুদিত নয়নে গ্রামোফোনের সামনে, রসাস্বাদনে মগ্ন। মেয়েটা পাশে বসে পড়ে। ভৈরবীর কোমল গান্ধারে ফুটে উঠছে রাতজাগা দুটি চোখ। ষড়জ-ঋষভ-গান্ধারে আলোর ফুলকির মত ছোট্ট ছোট্ট সুরের কাজ, সঙ্গে অল্প একটু মধ্যম। মেয়েটার মন হারাচ্ছে। 'নিশি ভোর হল জাগিয়া, পরাণ প্রিয়া' নজরুলের সুর কোথায় যেন উঁকিঝুঁকি মারে।

    'আলসানে নয়না রসনারে' - এবার কোমল ধৈবত ছুঁয়ে ছুঁয়ে আসছেন, সঙ্গে কোমল ঋষভের মায়া জড়িয়ে দিচ্ছেন অপূর্ব কৌশলে। 'চাল লটপটি আয়ে হো তো' - এবার পঞ্চমে এসে স্থিত হলেন। কথা আর সুরে নিটোল একটি মালা গাঁথা হল। জড়োয়া কাজের মিনাকারী তার সর্বাঙ্গে। কি অবলীলায় ছোট ছোট মুড়কি লাগাচ্ছেন, সূক্ষ্ম, একটুও বাহুল্য নেই!

    আস্থায়ী গেয়ে ভৈরবী নিয়ে খেলছেন। কোমল ধৈবতের সঙ্গে পাশাপাশি শুদ্ধ ধৈবত, তারার ষড়জকে যেন আলতো আদর মাখিয়ে দিচ্ছে। সঙ্গে ঝিরিঝিরি মুড়কির বৃষ্টি। অন্তরায় যাবেন এবার। মেয়েটা নিজের অজান্তেই সে যাত্রায় সামিল। ধৈবত দু-হাত বাড়িয়ে ষড়জের প্রতীক্ষায় রয়েছে। যেন বলছে, "এস, পূর্ণ কর, ভরে দাও আমায়।"

    ছ’মিনিটের ঠুমরী শেষ। প্রথামত আস্থায়ী, বিস্তার, অন্তরা, লগ্গি - বাদ যায়নি কিছুই। মেয়েটা নিস্তব্ধ। অনুভবের নদী কূল ছাপিয়ে গেছে, রাতজাগা আরক্তিম দুটি চোখের নির্বাক চাহনি ছেয়ে আছে মনে। এমন করে সুরে সুরে ছবি আঁকা যায়?

    চোখ গেছে পাশে রাখা রেকর্ডের চওড়া মোড়কে। অতি পরিচিত এক নৃত্যরত গন্ধর্ব। পায়ে চওড়া ঘুঙুর। অপূর্ব বিভঙ্গে নমনীয় দেহে ঢেউ তুলছেন। কথক নাচের সম্রাট, বিরজু মহারাজ।
    কাকা হাসলেন। "অবাক হলি, তাই না?"

    "মহারাজজি গেয়েছেন?" বিস্ময়ের শেষ সীমায় সে।
    উল্টেপাল্টে দেখছে, এইচ এম ভি থেকে সদ্য বার হয়েছে এল পি রেকর্ড। শুধু মহারাজজির গাওয়া গান নিয়ে। লঘু শাস্ত্রীয় সংগীত। পাঁচটি পাঁচটি করে দু’দিকে মোট দশটি গান। নটরাজ তাঁর নৃত্য বিভঙ্গ ছেড়ে সুরের আকাশে ধ্রুবতারা হয়ে পথ দেখাচ্ছেন।

    প্রথম গান মিশ্র দেশি রাগে ভজন, প্রগতে ব্রিজ নন্দলাল, দাদরা তালে ছয় মাত্রায় বাঁধা। কৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলার মধুর রসটি ফুটিয়ে তুলেছেন।

    তার পরেই একটি ঝুলা। রাধাকৃষ্ণের প্রেম অমর হয়েছে ঘনবরষা আর মেঘকে সঙ্গী করে। রিমঝিম ধারাপাতে সতেজ ঘাস মাথা দোলায়। সবুজ মাঠে বৃষ্টি পড়ে আর তমাল ডালে বাঁধা হয় ঝুলনা। সেই চিরন্তন প্রেমের দৃশ্য-কল্পটিকে ধরে রাখতে 'ঝুলা'র জুড়ি নেই। কি দরদ দিয়ে গেয়েছেন, 'ঝুলতা রাধে নওলকিশোর'।

    এর পরেই পট পরিবর্তন! আকাশে ওঠে বাসন্তী পূর্ণিমার চাঁদ। হোলির সময় এল, আবির আর কুঙ্কুমের রঙে রাঙিয়ে নিতে হবে মন। গানও বদলে যায়। 'হোরি' গানের মাঝেই যেন এসে পড়ে ফাগের ছটা। 'কানহা খেলো কাহাঁ অ্যায়সি হোরি গুঁইয়াঁ' - মিশ্র গারা রাগে অভিমানের জাল বোনা হয়। 'কাসি কহুঁ, নাহি মানোগি মোহন' - 'আমার কথা তো কানহা শুনবে না, কোথায় না কোথায় গিয়ে হোরি খেলছে আজ!' শ্রীরাধিকার মন প্রিয়কে পাশে চায়, আবির-কুঙ্কুমে রাঙিয়ে দিতে চায়। সে অসহায় চাওয়ার ব্যাকুলতা ফুটল গানে। চোখে এল জল। এ গানে খুব কৌশলে তালের ব্যবহার করা হয়েছে। গানের মাঝে দ্বিগুণ লয়ে দুনি যেন নৃত্যের বিভঙ্গকে গানে নিয়ে আসে।



    পরের গান মিশ্র পাহাড়িতে একটি দাদরা। 'ছোড় ছোড় বিহারি নারি দেখে সগরি'। দুই ধৈবতকে নিয়ে খেলছেন, পাহাড়ি ধুনে মন উদাস। 'ম্যায় জল যমুনা, ভরন গয়ি বিন্দা, লপট ঝপট সে মে ফোরি গাগরি'। রাধার কলসি ভাঙে, মনও কি ভাঙে? ভাঙন কি একদিনের? একটু একটু করে ভাঙে নদীর পাড়। বিরহ অক্ষয় হবে, প্রিয় ফিরবে না কোনোদিন। তারই প্রস্তুতি চলে যেন, পাহাড়ির আকুল করা সুরে। এটি প্রচলিত কথা ও সুরের দাদরা। আগেও শুনেছে। কিন্তু এমন করে মন হারায়নি। সে নিশ্চিত, বিরজু মহারাজ জাদু জানেন।

    ভৈরবী ঠুমরীতে লং প্লেয়িং রেকর্ডের প্রথম অংশের শেষ। রেকর্ডের অপর দিকে নানা রঙের, নানা স্বাদের আয়োজন।

    লয়কারীর খেলা তুঙ্গে ওঠে 'লয় দিশা'তে। তিনতালের ষোল মাত্রার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তবলায় জাদুর খেলা দেখান দীননাথ মিশ্র। সারেঙ্গীতে সুর ধরে আছেন সহযোগী মেহমুদ খান। মহারাজজি মাঝে মাঝে তাতে বোল-বাণীর সুগন্ধি আতর ঢেলে দেন। শ্রোতার কানে মধু বর্ষণ হয়।

    কলাবতী রাগে তারানাটিই বা কম কিসে?
    পরহন্তএ শুধুই মুখে বোলবাণী শোনালেন, অবিশ্বাস্য দ্রুততা আর ক্ষিপ্রতায়।
    আর শিঞ্জিনীতে ঘুঙুরের বোল। হাজার হলেও, তিনি যে নটরাজ! নাচ তাঁর ধমনীতে, শিরায় বইছে।

    এমনই দশটি গানে বুঁদ হয়ে অনেকদিন গেল। ততদিনে সে বিরজু মহারাজকে নিয়ে পড়তে শুরু করেছে। নিয়মিত লাইব্রেরিতে যায়। সেটা ইন্টারনেটের যুগ নয়, তাই লাইব্রেরিই ভরসা।
    কালকা-বিন্দাদিন পরিবারে সাতপুরুষের সুর-তাল-লয়-নৃত্যের সাধনা। সেই কোন আদ্যিকালে পরিবারের বড়-বাবা দুর্গাপ্রসাদ ঠাকুর ছিলেন অওয়ধের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহএর দরবারে। পরিবারের সবাইকে ডেকে নিলেন হাড়িয়া গ্রামে, এলাহাবাদ থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে। সে গ্রাম কথকদের গ্রাম। সে গ্রামের মানুষ কেউ গায়, কেউ সারেঙ্গী বাজায়, কেউ তবলা। কেউ আবার কথা বলে নৃত্যের মাধ্যমে। কৃষ্ণর কথা বলতে গিয়ে বাঁশির বিভঙ্গ, সীতা মায়ের ঘোমটা, রামজিকে বোঝাতে এক হাতে ধনুক ধরে থাকার ভঙ্গি, আরেক হাতে আশীর্বাদ। দেহের ভঙ্গিমাই কথা বলে যাচ্ছে। এরাই কথক নৃত্যশিল্পী, নৃত্য দিয়েই কথা বলে। আকাশে বাতাসে সুর তাল আর লয়, সে গ্রামে পুকুরের নাম কথকো-কা-তালাও। গ্রামের বাচ্চারা পাঠশালায় পড়তে যায়। রামজির কথা, কিষেণজির গল্প শোনে। এত গুণী মানুষের সমাগমে নবাবও খুব খুশি। সখীদের নিয়ে কৃষ্ণলীলার নৃত্যাভিনয় খুব পছন্দ করেন। নিজেই বেগমদের নিয়ে কৃষ্ণের নাচের ছেড়-ছাড় দেখান।

    সেই পরিবারেরই উত্তরপুরুষ কালকা আর বিন্দাদিন - দুই ভাই, যাঁদের নামে কালকা-বিন্দাদিন ঘরানার জন্ম। তাঁদের উত্তরসূরি জন্মাল কালকা প্রসাদের পুত্র অচ্ছন মহারাজের কোলে। একমাত্র সন্তান ব্রিজমোহন। মুখে মুখে ডাকনাম হয়ে গেল বিরজু। রায়গড়ের নবাবের সভায় ছিলেন অচ্ছন মহারাজ। নবাব তাঁর গুণমুগ্ধ, অচ্ছন মহারাজকে বাড়ি দিলেন, ঘোড়ার গাড়ি দিলেন। পরিবারের সুখের অন্ত নেই। ছোট্ট বিরজুর ছন্দের বোধ জন্মগত। তা দেখে বাবা একেবারে শিশু বয়সে বিরজুকে তালিম দেওয়া শুরু করলেন। কয়েক বছরের মধ্যেই বিরজু বাবার সঙ্গে মঞ্চে ওঠে। শিশু হলে কি হয়, নাচে আর অভিনয়ে সে জাত শিল্পী। খুব সহজেই মুখে নানারকম এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তোলে। পায়ের কাজ দেখে দর্শকরা অবাক!

    সুখের দিনগুলি বেশিদিন রইল না, এল বিপর্যয়। পিতৃহারা হল ছোট্ট বিরজু। নয় বছর তখন বয়েস। অর্থকষ্টে পড়ল মা-ছেলের সংসার। আম্মা গয়না বেচে বেচে কোনোমতে সংসার চালু রাখার চেষ্টা করে। কত লোক ঠকিয়ে নেয়, বিরজু ওসব বোঝেও না। তবে কষ্ট করতে তার কোনো আপত্তি নেই। যা কাপড় জোটে তাই পরে। আম্মা যা দেয় সোনামুখে খেয়ে নেয়। রুটি আর পেয়াঁজ হলেই যথেষ্ট। যেদিন খিচুড়ি হয় সেদিন তো উৎসব!

    কোথায় না কোথায় ঘুরেছে সে সময়। এগার বছরের বিরজু টানা তিনদিন পায়ে হেঁটে হাজির হল কাঠমাণ্ডুতে, নেপালের রাজার কাছে। তবে যত কষ্টই হোক না কেন, নাচ বন্ধ হয়নি। আম্মা বলতেন, “চানা খেয়ে থাকলেও কিন্তু সাধনা বন্ধ করা চলবে না। এই নৃত্যকলা তোমার বাবার দান। রেওয়াজ চালু রাখতেই হবে।" নাচ শেখাও বন্ধ হয়নি। এবার কাকাদের সাগরেদি। লচ্ছু মহারাজ আর শম্ভু মহারাজ প্রতিভাবান বিরজুকে উজাড় করে দিলেন তাদের ঝাঁপি।

    আঠেরো বছরে হল বিয়ে, তেরো বছরের মেয়ের সঙ্গে। ততদিনে বিরজু দিল্লিতে ভারতীয় কলা-কেন্দ্রে নাচ শেখায়। ঠিক এই সময়ই জন্মায় গানের প্রতি আগ্রহ। শুধু কথকের বোলই নয়, বিরজু ছিল সবরকম গানের ভক্ত। মুঘল-ই-আজম, পাকিজা সিনেমার গান শুনতে খুব ভালোবাসে। সেখান থেকেই গানের চৰ্চা শুরু। এরপর এক রূপকথার জীবন। ব্রিজমোহন বা বিরজু মহারাজ ভারতীয় কথক নাচের মুখ হয়ে উঠলেন দেশে, বিদেশে। বোল-বাণী, পায়ের কাজ, অভিনয়, তার সঙ্গে কথার আবেদন - কথক নাচের পরিবেশনা এক অন্য মাত্রা পেল। পুরস্কারে, সম্মানে ঝুলি ভরল। সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার এসেছে সেই কবেই, মাত্র আঠাশ বছর বয়েসে।

    গায়ক বিরজু কিন্তু তখনো অতটা পরিচিত নন। যাঁরা শিষ্য ও কাছের মানুষ, তাঁরা জানতেন সে সোনার খনির সন্ধান। কিন্তু সাধারণ শ্রোতার কাছে তা অজানাই ছিল। যতদিন না এইচ এম ভি বার করল তাঁর গানের লং প্লেয়িং রেকর্ডটি। যে গান শুনে কলেজ ছাত্রী মেয়েটা সারাজীবনেও সম্মোহন থেকে বেরোতে পারেনি। ভেবে পায়নি, কার বেশি ভক্ত হবে সে, নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজ না কি ঠুমরী-দাদরার জাদুকর বিরজু মহারাজ! মখমলি কণ্ঠে এমন আবেদন, এমন ভাব নির্মাণ, এমন সূক্ষ্ম জড়োয়া কাজ! তার বিস্ময় বাধা মানে না। বারবার শোনে সেই লং প্লেয়িং রেকর্ডটি। সে রেকর্ড বেরোবার পর পরই বিরজু মহারাজ পেলেন পদ্মবিভূষণ। তখন তিনি পঞ্চাশ।

    এরপর কাটল অনেক, অনেকগুলো বছর। পারফর্মিং আর্টের জগতে যুগান্ত এল। ডিজিটাল মাধ্যম এসে দেখা ও শোনার সংজ্ঞাটাই বদলে দিল। মেয়েও আর তরুণী নয়, নৌকা বেয়ে বেয়ে মাঝবয়সের ঘাটে এসে তরণী ভিড়েছে। জীবন বদলেছে, ঠিকানা, দেশও বদলেছে। কিন্তু নটরাজের গাওয়া গানের সেই সম্মোহন কমেনি এতটুকুও। সেই কবে তরুণী বেলায় পড়েছে, বিরজু মহারাজই একমাত্র নৃত্যশিল্পী যিনি ঠুমরী গেয়ে তার সঙ্গে কথক নৃত্য পরিবেশন করতে পারেন। ডিজিটাল ভাণ্ডারে খুঁজে বেড়ায় বিভিন্ন নাচের অনুষ্ঠান, দেখে গিরিজা দেবীর সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দীর আসরগুলি। অপেক্ষায় থাকে, কখনো যদি গেয়ে ওঠেন একটি গানের কলি। মহারাজজির সুর-মুগ্ধ সে। প্রত্যাশা পূর্ণ হয় মাঝে মাঝে। পরিণত বয়েসের মহারাজজি নাচের অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝেই দু'কলি ঠুমরী বা তারানা শোনান। পিপাসিত চিত্ত ভরে যায়। তাঁকে সামনাসামনি দেখবার সৌভাগ্য তখনও হয়নি।

    সে সৌভাগ্য হল সাত সমুদ্র তের নদীর পারে, নিউ ইয়র্ক শহরে। বছর দশেক আগে, দু’হাজার বারো সালে তখন গ্রীষ্ম শেষ হয় হয়। গাছের পাতায় রং লাগতে শুরু করেছে। মনেও রং লেগে গেল যখন প্রবাসী ভারতীয় মহলে ছড়িয়ে পড়ল সুসংবাদ। মহারাজজি আসছেন নিউ ইয়র্কে। পঁচাত্তর বছর বয়সের তরুণ তাঁর ঘুঙুরের আওয়াজে পৃথিবী কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিউ ইয়র্কে আসছেন বেশ কয়েক বছর পর। তাই অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা, বিরজু মহারাজের দেখা পেতেই হবে। ব্রডওয়ের সিম্ফনি স্পেস অডিটোরিয়ামে হবে অনুষ্ঠান। ওয়ার্ল্ড মিউজিক ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায়। টিকিট জোগাড় হল।

    শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান। মহারাজের মতোই রাজকীয় প্রবেশ। চঞ্চল পায়ে ঘুঙুরের তোড়া, সাদা রঙের পোশাকে উজ্জ্বল নীলের রেখা। চিকন শ্যাম বর্ণের মুখমণ্ডলে ধনুকের মত ভ্রূ, বাঙময় দুটি চোখ। চোখ দিয়েই কত কিছু যে বলেন, কত কিছু মনে গেঁথে দেন! চোখের এমন ব্যবহার আর কে কবে করেছে?

    সেই প্রথম তাঁকে সামনাসামনি দেখা, তাঁর কথা শোনা। শিশুর সারল্য তাঁর গলার স্বরে। মিষ্টি কথায় সব কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছেন। একমুহূর্তেই মনে হয় কতদিনের চেনা! মাটির বড় কাছাকাছি তিনি, আমাদের সবার ধরাছোঁয়ার মধ্যে। অডিয়েন্সে বিদেশি মানুষ অনেক, তাঁদের জন্যে ভারতীয় কথকের নৃত্যশৈলী নিয়ে সুন্দর করে বললেন কিছু কথা। বোঝালেন কথকে পায়ের কাজ আর শরীরের ঊর্ধ্বাংশের ভূমিকা। পা যখন ঘুঙুরের বোল তুলছে, শরীর আর মুখমণ্ডল গল্প বলবে। সে অভিনয় করে দেখালেন। আঙুলের হিল্লোলে, কব্জির মোচড়ে আঁকলেন ছবি, ভ্রূ-পল্লবে পাঠালেন চন্দনের বনের ডাক। শ্রোতারা হর্ষ-ধ্বনি করে উঠল।

    বাস্তবেও মানুষটি বড়ই সাদাসিধে। সামান্য জিনিসেই সন্তুষ্ট, খুবই অল্প চাহিদা। ছাত্রছাত্রীরা যে পোশাক কিনে দেয় তাই পরেন। খাওয়ার বাহুল্য নেই। সাধারণ খাবার খান, স্বল্পাহারী। ছেলেবেলায় অনেক কষ্ট করেছেন, তার স্মৃতি বুকে আগলে রেখেছেন। তখন থেকেই খুব সাধারণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত।

    নাচে সহায়তার জন্যে সঙ্গে আছেন পুত্র দীপক মহারাজ, শিষ্যা শাশ্বতী সেন ও লুনা পোদ্দার। একেকটি নৃত্যের কম্পোজিশন সামনে আনেন, শুরুতেই বলে দেন দর্শক কী দেখতে চলেছেন। তারপর মঞ্চে হয় তার বাস্তব রূপায়ণ।



    বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠান বলেই বোধহয়, বাছলেন কিছু চমকদারি নাচ। তাঁর দেহের হিল্লোলে আর পায়ের কাজে আকাশে তারা ঝিকমিক করে উঠল, মা পাখি বাসায় এসে তার বাচ্চাদের খাওয়াতে লাগল। অরণ্যে সিংহের রাজকীয় মহিমা, হরিণ-হরিণীর চকিত চাউনি ফুটে উঠল নিউ ইয়র্কের সেই স্টেজে। আগেই বলেছেন, মঞ্চ হল তাঁর কাছে শিল্পীর ক্যানভাস, নৃত্য দিয়েই তাতে ছবি আঁকবেন। সে ছবি সার্থক ভাবে ফুটে উঠল দর্শকের সামনে। হাততালি আর থামেই না। শুনতে পাচ্ছি সামনে বসা প্রবীণ মানুষটি তাঁর সঙ্গিনীকে বলছেন, "mesmerizing, unbelievable..." পিছনে বসা মেয়ে গর্বিত। নিজের দেশের শৈলীর পতাকা উড়ছে ভুবন ডাঙায়।

    ভারী সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন ভারতীয় নৃত্যের বৈশিষ্ট্য। পা দৃঢ়ভাবে মাটিতে গেঁথে রেখে শৈলীর প্রদর্শন। কখনো পায়ের কাজে, কখনো দেহ বিভঙ্গে। শরীরের প্রতিটি মাংসপেশিকে তৈরি করতে হয় এর জন্যে। যদিও কথকে শূন্যে লাফানো আছে, বারবার ঘূর্ণন আছে, সবকিছুর শেষে পা কিন্তু ঘুরেফিরে মাটিতেই আসে, অসামান্য দ্রুততায় মাটিতে আল্পনা এঁকে চলে। সেখানে পশ্চিমী ধারার নৃত্য মাটির টান জয় করে আকাশে উড়তে চায়। তাঁর ভাষায়, “space conquering amplitude.”

    তখনও আরও বড় চমকটি রয়েছে অপেক্ষায়। এবার বার করলেন ঝুলি থেকে।

    ফোন ডায়াল করার আওয়াজ অবিকল ফুটিয়ে তুললেন পায়ের কাজে। ডায়াল হল, কিন্তু এনগেজড! অতএব আবার ডায়াল করা হল। বার বার তিনবারের পর ঠিকঠাক হল সব, অন্য প্রান্তে মানুষটি উত্তর দিলেন, "হ্যালো!"

    হল ভর্তি মানুষ এবার হাততালি দিতেও ভুলে গেছে।

    খানিক বিরতি নিয়ে একটু দাঁড়ালেন, কিছুটা পরিশ্রান্ত। ঘাম মুছলেন কপাল থেকে। আবার কথা বলছেন, সেই মায়াবী সুরে, যেন পাশের বাড়ির মানুষটি।

    "এই যে তবলা, ঢোল বা পাখোয়াজ, এরা তালবাদ্য, স্বভাবে পুরুষ। নৃত্য কিন্তু নারী। নারীসুলভ কমনীয়তা তার সর্বাঙ্গে।"

    একই অঙ্গে কত রূপ যে ফোটাচ্ছেন! শুধুই অভিনয় দিয়ে, চোখের চাহনি দিয়ে। স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটিতে তিনিই পুরুষ, আবার তিনিই নারী। বাড়ির দুই সদস্যের মধ্যে তুমুল ঝগড়া, একজন আলসে তো একজন ব্যস্তবাগীশ। সেই দু’জন মানুষই তিনি, মুহূর্তের মধ্যে বৈপরীত্য আনছেন শুধু নিজের শরীর আর মুখমণ্ডলকে ব্যবহার করে। স্টেজ এবার সহযোগীদের দিলেন। গুরুর কাছে পাওয়া শিক্ষা সার্থক ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন শাশ্বতী, লুনা, দীপক। একই সঙ্গে দ্বৈতভূমিকায় অভিনয় করছেন তাঁরা, কখনো পুরুষ, কখনো নারী। কখনো শ্যাম, কখনো রাধা। গুরুর শিক্ষা। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তৈরি করছেন মহাগুরু তিনি।

    বিরতির পর মহারাজজি স্টেজে বসেছেন হাঁটু মুড়ে। সঙ্গতকারীদের পাশেই আসন নিয়েছেন। গলায় উঠে আসছে গুন গুন সুর। মেয়ে রোমাঞ্চিত। গীত-সুধার কাঙাল সে, তাঁর কণ্ঠের ঝরনা তলায় নির্জনে ভিজেছে কতবার!

    হারমোনিয়ামটি টেনে নিলেন কোলের কাছে। প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়ে ধরে দিলেন কৃষ্ণ-বন্দনা। চার মাত্রায় বোনা সে সুরে ফুটে উঠল আকুতি, ভক্তের নিবেদন। সঙ্গে তবলায় ঢিমে বোল, কখনোই উচ্চকিত নয়। সে নিবেদন হৃদয় ছুঁয়ে গেল। একটি দাদরা গাইলেন। বৈচিত্র্যে ভরপুর। গানের মধ্যে মাঝেমাঝেই মুখে বলছেন তবলার বোল, অবিশ্বাস্য দ্রুত লয়ে। আসর নিঃশব্দ। হারমোনিয়ামে এবার ভৈরবীর সুর। 'নিশি ভোর হল জাগিয়া - জাগে হো কহিঁ রয়না।' গলে গলে পড়তে লাগল ঋষভ-ধৈবতের কোমল রস। রাতের অন্ধকার যেন ফিকে হয়ে আসছে, ভৈরবীতে বাজে ঊষার আবাহনী সুর। ক্যানভাসে অনেকদিন অপেক্ষায় থাকা চিত্রটি শিল্পী সম্পূর্ণ করে দিলেন। তরুণী বেলা পেরিয়ে এসে এই বেলা শেষের আঙিনায় আজ স্থানকাল-পাত্র মিলেমিশে একাকার। সহস্র নিশি জেগে কাটানো যায়, লক্ষ আলোকবর্ষের পথ হেঁটে আসা যায়, শুধু এমন একটি ভৈরবী শোনার জন্যে।

    (সঙ্গের ছবিগুলি লেখকের নিজস্ব)

  • | বিভাগ : স্মৃতিচারণ | ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৭৫১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সম্বিৎ | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৪৪502971
  • ভাল লাগল। এলপির আগেই বাঙালি শতরঞ্জ কি খিলাড়ীতে বিরজু মহারাজের গান শুনে ফেলেছেন, নয়?
  • Emanul Haque | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:১০502972
  • আপনার লেখা ভালো লাগে। এই লেখায় মুগ্ধ। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:8c12:2c71:56a3:683d | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৩৬502974
  • এই সংগ্রামীদি সম্ভবত আমার কোলিগ (লেভেল ওঁর বেশি ছিল) ছিলেন সেক্টর ফাইভে। 
  • Sangrami Lahiri | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৫৪502978
  • সম্বিৎকে বলছি - একেবারে ঠিক বলেছেন। শতরঞ্জ কি খিলাড়ি উনিশশো সাতাত্তরে। এল পি রেকর্ড উনিশশো পঁচাশিতে। বাঙালি নিশ্চয়ই জানতেন। মেয়েটা জানত না। সেই এল পি রেকর্ড শোনার আগে অজানাই ছিল। 
  • Sangrami Lahiri | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৫৬502979
  • Emanul Haque- কী বলি! আমি ধন্য
  • Sangrami Lahiri | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৫৭502980
  • "সে" - দিদি বললে যখন  সেক্টর ফাইভে নিশ্চয়ই আমার জুনিয়র ছিলে। নামটি জানতে পারি? 
  • Nina Gangulee | 2601:83:8001:5530:e04c:67a3:8b50:7cd8 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:৫৬502981
  • মুগ্ধ! ভাষা নেই ঠিক মনের ভাবটি বোঝাবার -
  • শিবাংশু | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ২১:০৮502984
  • ভালো লাগলো ।  এক অপার মেধাবান শিল্পী ছিলেন তিনি ....
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:a0e0:dccc:e2ca:8880 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ২২:২৯502989
  • সংগ্রামীদি,
    তুমি হয়ত আমার নাম বললে চিনবে না। আমার নাম যোষিতা। সূর্যদীপ্ত, চিত্রলেখা, মিসেস রামচন্দ্রন, এঁরা হয়ত চিনবেন। খুবই অল্প সময়ের জন্য ঐ কোম্পানীতে কাজ করেছি।
  • anandaB | 50.125.252.150 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০২:২৮502998
  • লেখাটা ভালো লাগল এবং আলাদা করে ধন্যবাদ জানাই কারণ ওনার গায়নশৈলীর দিকটা এতদিন অপরিচিত ছিল আমার কাছে 
    শুনতে শুরু করলাম :)
    আবারো ধন্যবাদ 
  • Sangrami Lahiri | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৪৯503009
  • নীনা গাঙ্গুলি - আমি আপ্লুত। 
  • Sangrami Lahiri | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৫১503010
  • শিবাংশু - হ্যাঁ বহুমুখী প্রতিভা। Polymath.
  • Sangrami Lahiri | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৫২503011
  • যোষিতা - খুব ভালো মনে আছে। কত্তদিন পর আবার যোগাযোগ হল। ভালোবাসা নিও। 
  • Sangrami Lahiri | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৫৩503012
  • AnandaB- জানিয়ে আমি ধন্য। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:a0e0:dccc:e2ca:8880 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৫৭503029
  • তুমিও ভালবাসা নিও।
  • রাজেশ কুমার রক্ষিত | 2401:4900:3bea:a8f7:19a4:15af:9a0b:223a | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:৪৪503271
  • অনন্য অসামান্য অতুলনীয় অব্যাক্ত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন