বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  হেঁশেলে হুঁশিয়ার  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • অনলাইনে বাজার নাকি বাড়ির রান্না?

    দীপঙ্কর দাশগুপ্ত
    খ্যাঁটন | হেঁশেলে হুঁশিয়ার | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৮৪৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)

  • চাপড় ঘন্ট, চিতল মাছের মুইঠ্যা আর ছাল চচ্চড়ি


    শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।
    যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।।
    উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।
    ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল ।।
    সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।
    শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই ।।
    ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।
    কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী ।।
    কুব্জা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি।
    চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী।।


    ছোটবেলায় উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় এলে সকালবেলায় ঠাকুরঘর থেকে বাবুমার (আমরা ঠাকুমাকে ওই নামেই ডাকতাম) সুরেলা কণ্ঠ ভেসে আসত। দেখতাম ভোরবেলাই স্নান সেরে, ধবধবে সাদা থান পরে ঠাকুরের সিংহাসনের সামনে আসন পেতে বসেছেন বাবুমা। ঝকঝকে তামার পাত্রে গঙ্গাজল, ত্রিপত্র বেলপাতা আর কিছু কুচো ফুল নিয়ে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহকে জবাকুসুম তেল মাখিয়ে স্নান করাতে করাতে শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম জপছেন। স্নান করানো হলে গোলাপি ফুলছাপ কালচে সবুজ পুরনো টিনের বাক্স থেকে জরির পাড় আর চুমকি বসানো নানা রঙের ছোট্ট ছোট্ট পোশাক আর উড়ুনি বেরোবে। শীত পড়লে শ্রীকৃষ্ণের জন্যে গরম জামা বা সোয়েটার আর রাধারানীর জন্যে সুতোর কাজ করা ছোট্ট শাল বেরোত। ততক্ষণে বাবুমার কাছে বসে আব্দার করতাম, সেদিন যেন আমার পছন্দ অনুযায়ী কোনও রঙের পোশাক পরানো হয়। বাবুমা তাঁর জপোচ্চারণ না থামিয়েই আমার আব্দার মেনে গোপালকে পোশাক পরিয়ে ঝকঝকে সোনালি রঙের সিংহাসনে বসাতেন। পুজোর কাজ শেষ হলে ঠাকুরঘরের দরজার পাল্লায় পিঠ দিয়ে বসবেন বাবুমা। বড়মা, কাকিমণি বা মা এসে কাঁচের গেলাসে চা আর দুটো ক্রিমক্র্যাকার বিস্কুট দিয়ে যাবেন। বসার ঘরে, বইয়ের শো-কেসের ওপরে, কাঠের ক্যাবিনেটের ভালভ রেডিয়োয় ভরাট আওয়াজে তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে। রবিবারের ছুটির দিন। বেলা হলে অবধারিতভাবে কোনও না কোনও আত্মীয়-স্বজনের আগমণ ঘটবে। যারা অবশ্যই একেবারে খাওয়া-দাওয়া করে বিকেলের চা-পর্ব সেরে ফিরবেন। মেজজেঠু বা ফুলকাকু কলকাতার বাইরে থাকেন। বাবাদের পাঁচ ভাইকে সকলে বলতেন পঞ্চপাণ্ডব। আমার এক বড়পিসি ছিলেন – বড়জেঠুরও বড়। তাঁর অপরূপ স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, পড়াশুনা আর নম্র ব্যবহারের কথা পারিবারিক কিংবদন্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। তাঁকে তো কখনও দেখিনি, দেশভাগের আগে পূর্ববঙ্গেই অকালে তিনি চলে যান কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে। বাবুমা বলতেন, আমার ছবি ছিল রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী। পিসির চেহারাটা কল্পনা করার চেষ্টা করতাম, ভিতরের ঘরে ঢোকার দরজার ওপরে টাঙানো ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাচের নিচে সাদা-কালো ধূসর ছবিটার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে। সকলের একসঙ্গে হওয়া তো ঘটত কদাচিৎ - কোনো বছরে দুর্গাপুজো বা পারিবারিক কোন শুভ অনুষ্ঠান থাকলে। কাজেই বাবা অফিসের কাজে বা ছুটিতে কলকাতা এলে, রবিবারের সকালে কয়েক ভাই মিলে একসঙ্গে বাজার করতে যাওয়া ছিল দস্তুর। বড়জেঠু, বাবা আর টুক্কা (আমার ছোটকাকা) এমন সময় কথা বলতে বলতে থলি-ভর্তি বাজার আর বাড়তি কোনও একটি খবরের কাগজ নিয়ে ঢুকবেন। বড়জেঠুর হাতে শালপাতার চ্যাঙাড়িতে গরম মুচমুচে জিলিপি আর হরিণঘাটার দুধের বোতল, বাবার দু’হাতে শাক-সবজির উপচে পড়া থলি আর টুক্কার হাতের থলি থেকে উঁকি দিচ্ছে ইয়া বড় চিতল মাছের ল্যাজা। তখন প্লাস্টিকের প্যাকেট বা নাইলনের ব্যাগের বদলে মোটা কাপড়ের থলি নিয়েই বাজার-দোকানে যাওয়া হত। সেই সব থলি নিয়মিত কাচাও হত। বাবাদের গলা পেয়েই বড়মা তাড়াতাড়ি ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে টুক্কার হাত থেকে মাছের থলিটা নিয়ে সটান চলে যাবেন রান্নাঘরে। তারপর বড় একটা গামলায় মাছের থলে উপুড় করে লেজের ওপরে তিনটে কালো বিন্দুওলা পুরু পিঠের সেই টাটকা চিতল এবং ‘দাড়ি-গোঁফ’ ওয়ালা হলদে হলদে তোপসে মাছ নিয়ে এসে বাবুমাকে একটু দূর থেকে দেখিয়ে নিয়ে যাবেন। সেটাই ছিল বাড়ির রীতি। ভালোবাসার আতিশয্যে বাড়িতে আমাকে নানাজনে নানা নামে ডাকতেন। হাসতে হাসতে টুক্কা আমার দিকে তাকিয়ে বলতেন, “গোপীন, তপস্বী মাছ দেখেছ?” সত্যিই উত্তরবঙ্গের মফঃস্বলে দাড়ি-গোঁফওলা এমন মাছ তো কখনও দেখিনি। আমার কৌতূহল আর বিস্ময় দেখে টুক্কা আরও উৎসাহিত হয়ে বলতেন, “তোমাকে একদিন মানিকতলা আর পাতিপুকুর বাজারে নিয়ে যাব। এই দুটো বাজার মাছের জন্যেই বিখ্যাত। দেখবে কতরকমের তাজা মাছ! সেই সময় কেটারারের চল ছিল না। বিয়ে-অন্নপ্রাশন বা জন্মদিন এখনকার মত ইভেন্ট, নেটওয়ার্কিং আর স্টেটাস সিম্বল হয়ে ওঠেনি। পরিবারে শুভ অনুষ্ঠান থাকলে বাড়ির অভিজ্ঞ বাজারুরা পছন্দসই মাছ কিনতে ছুটতেন ওই বাজারে। আমাদের বাড়িতে ব্যাপারের রান্না করতেন ওড়িশা থেকে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়া হরি ঠাকুর আর তাঁর তিন সহযোগী। আহা! তাঁর হাতের রান্নার স্মৃতি ভোলার নয়। তবে সে তো অন্য প্রসঙ্গ। বলছিলাম রোববারের বাজারের কথা।

    বাবুমা রাঁধবেন নিরামিষ রান্না – সাধারণ উপকরণ দিয়ে অনন্য সব পদ। সেই রান্নার অমৃত-স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতেন না কেউই। তাই নিরামিষ রান্নার বহর ও পরিমাণ কিছু কম ছিল না। তখন সব বাড়িতে রান্নার গ্যাস এমন জনপ্রিয় হয়নি। রান্না হত তোলা উনুনে। যেমন তেমন করে উনুন ধরালে তো হবে না, ঠিকমত আঁচ না হলে সব উদ্যোগ-আয়োজন করেও রান্না করতে গিয়ে হবে চরম হয়রানি। তাই ঘুঁটে-কয়লা সাজিয়ে চটপট উনুন ধরিয়ে গনগনে আঁচ ওঠানোটা বাড়ির মায়েদের কাছে ছিল বিশেষ কৃতিত্বের ব্যাপার। উনুন ধরিয়ে ঠাকুরঘরের বাইরের জায়গায় রেখে বাবুমার জন্যে পিঁড়ি পেতে দিলে বাবুমা চা খেয়ে উঠে আসবেন। পাশের ঘরে বড়দি, মেজদি, ছোড়দি পড়তে বসেছে। তারই ফাঁকে চলছে জলখাবার পর্ব, নানান গল্প-গুজবে গোটা বাড়ি গমগম করছে। এরই মধ্যে একে একে মায়েদেরও সকলের স্নান সারা। স্নান না করে রান্নায় বা তার আয়োজনে হাত দেওয়ার চল ছিল না। বাবুমার উনুনে সব নিরামিষ রান্না আর রান্নাঘরে আমিষের আয়োজন – পেঁয়াজ সম্বরা দেওয়া দুর্দান্ত পাতলা মসুরির ডাল, বেসনের হালকা গোলায় চুবিয়ে তোপসে মাছ ভাজা, আলু-বেগুনের ফালি দেওয়া তেল-তেল, ঝাল-ঝাল, মাখো মাখো চিতলের ছাল চচ্চড়ি, মুইঠ্যা আর আলু-বড়ি দিয়ে চিতল পেটির হাল্কা ঝোল। মুইঠ্যা আর মাছের সেই ঝোলটা কলকাতায় থাকলে মা-কেই করতে বলতেন আমার বড়জেঠু। চিতলের পিঠ থেকে মুইঠ্যার জন্যে যত্নের সঙ্গে মাছ কুরিয়ে নেওয়ার পরে যে ছাল আর কাঁটাকুটো পড়ে থাকত, তা দিয়ে দারুণ রসিয়ে চচ্চড়ি রাঁধতেন বড়মা বা ফুলকাকিমণি। রান্নাঘরে খুব তরিবত করে যখন আমিষের জোগাড়যন্ত্র চলছে তখন বাবুমা এসে বসেছেন তাঁর উনুনের সামনে। উনুনে প্রথমেই পেতলের ডো-তে ফোটানো হত কয়েক বোতল হরিণঘাটার দুধ। রুপোলি রঙের ছিপি খুললেই দেখা যেত ওপরে ভেসে থাকা মাখন। সেই ছিপি আবার হত নানা রঙের – রুপোলি ছাড়াও লাল, সোনালি আর বোধহয় নীল। দুধের মান ও গোত্র অনুযায়ী ছিপির রঙ। সেই ননী জমিয়ে রেখে পরে ঘি তৈরি করতেন বাবুমা। আর কড়াই থেকে সেই খয়েরি রঙের চাছিটা দিয়ে গোবিন্দভোগ চালের ভাত মেখে যখন আমাদের জন্যে বরাদ্দের দলাটা হাতে তুলে দিতেন, তখন সেই সুস্বাদে নাতি-নাতনিরা আহ্লাদে আটখানা। দুধ জ্বাল দেওয়া শেষ হলে রান্না শুরু হবে। বাবুমার একটা বিশেষ রান্না ছিল চাপড় ঘণ্ট। তার জন্যে কী নিপুণভাবে যে সব তরকারি কাটতেন আর ঝিরিঝিরি করে থোড় কুচোতেন – তা ছিল দেখার মত। বাবুমা বলতেন, তরকারি কাটার ওপরেও অনেকটা নির্ভর করে রান্নার স্বাদ। কুটনো কাটার মুন্সিয়ানার কথা অনেক পরে শুনেছি অন্য প্রসঙ্গে। বেলুড় মঠের বারান্দায় বসে নবীন ব্রহ্মচারীদের সবজি-কাটা দেখেই রামকৃষ্ণ মঠের প্রথম সঙ্ঘ্যাধ্যক্ষ রাজা মহারাজ স্বামী ব্রহ্মানন্দ বলে দিতে পারতেন, কার ধ্যান ভালো হবে। কারণ নিখুঁতভাবে আনাজ কাটার মধ্যেও ছিল ব্যক্তিগত আন্তরিকতা, মনোযোগ, কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং নিষ্ঠারই প্রকাশ – যা আধ্যাত্মিক উন্নতির পক্ষেও জরুরি। আর সুন্দর করে কোটা আনাজ যে রান্নাকে আরও স্বাদু করে তুলতে পারে, তা মার্কিন রন্ধন-বিশারদ লেসলি ব্রেনারের মন্তব্যেও জানা গেল – তিনিও বলছেন, রান্না করা পদের স্বাদ-গন্ধ বাড়াতে আনাজ কাটার গুণাগুণের মস্ত ভূমিকা।

    এই কুটনো কোটার এক অনুপম ছবি আমরা পাই শান্তিনিকেতনের আশ্রম-কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথের বিশেষ স্নেহধন্যা রানী চন্দের স্মৃতিকথায় – “ভোরবেলা মা হাত-মুখ ধুয়ে বাসি-বাস ছেড়ে সবার ঘরের উঁচু দাওয়ায় বসেন। মামীরা তাঁর সামনে জলের গামলা, বারকোষ, বঁটি, থালা, তরকারির ডালা সব পর পর সাজিয়ে দেন। মা বসে বসে তরকারি কোটেন। তরকারি কোটায় মা’র বরাবরের সখ। মা তরকারি কেটে গামলার জলে ধুয়ে ভাগে-ভাগে এমনভাবে থালায় বারকোষে সাজিয়ে রাখেন দেখে মনে হয় যেন দেবতার সামনে নৈবেদ্য সাজানো হয়েছে। কোনো তরকারি রাখেন কাঁসার থালায়, কোনো তরকারি বারকোষে, কোনো তরকারি বেতের ডালায় বা বাঁশের সাজিতে। বলেন, নইলে কোটা তরকারির স্বাদে তারতম্য ঘটে পাত্রের বৈষম্যে। ঝোলের আলু, ঝালের আলু – আলুর টুকরোয় তার গড়ন হয় আলাদা। আমাদের নজরে পড়ে না তা, কিন্তু মা ঠিক ধরতে পারেন। অসাবধানে একটা-দুটো মিশে গেলে অসন্তুষ্ট হন। মা’র তরকারি কোটার নিপুণতা শেখবার জিনিস, দেখবার জিনিস। বারকোষ ভরে লাউ কেটে দিয়েছেন মা – থরে থরে এমনভাবে কোটা লাউয়ের গোছা রেখেছেন – যেন জুঁই ফুলের এক স্তূপ। চোখে ভাসে ছবি – ঘোমটায় ঢাকা মামীমা কাঁধ বরাবর উঁচু করে বাঁ হাতের তেলোয় লাউভরা বারকোষ নিয়ে চলেছেন উঠোন পেরিয়ে রান্নাঘরে যেন পূজারিণী চলেছে মন্দিরের ফুল নিয়ে।” পরিবারে উৎসাহী মা-কাকিমার অভাব বা বাড়িতে শাক-সবজি কাটার অক্ষমতার শূন্যস্থান আবার গ্রামীণ মহিলাদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন ব্যবসার সুযোগ। কলকাতার বিভিন্ন বাজারে এঁরা এখন যে সব আনাজ কাটা বিশেষ ঝকমারির – সেই কচুর শাক, থোড়, মোচা, কচুর লতি, ডুমুর – সবই কেটে দিচ্ছেন।

    আজ ভাবি, ঠাকুমা, বড়মা, কাকিমণি, মা, মাসিরা কত পরিশ্রম করে, কী অসামান্য সব রাঁধতেন, অথচ এর জন্যে কখনও তাঁদের কোনও বিরক্তি দেখিনি। সকলে খেয়ে খুশি হলে তাঁদের ছিল অপার তৃপ্তি। আজকালকার বাড়িতে নিরামিষের নানান পদ রান্নার চল প্রায় উঠেই গিয়েছে। এর একটা বড় কারণ সময়ের অনটন এবং কুটনো কাটার সেই পারদর্শিতার অভাব। এই সব পুরোনো স্মৃতি আজকাল আরও বেশি করে মনে পড়ে যায়, যখন সকালে চায়ের টেবিলে খবরের কাগজের ভাঁজ খুলতে গেলেই ঝপ-ঝপ করে চার-পাঁচখানা রং-বেরংয়ের ঝকঝকে লিফলেট ঝরে পড়ে। কোনোটা নানান রেস্তোঁরার বিজ্ঞাপন। কোনোটা আনাজ-সবজি, ফল, ডিম, মাছ-মাংস বিপণনের প্রচারপত্র। বাইরে খেতে যাওয়া, বাজারে যাওয়ার হ্যাপা নেই। বাড়িতে বসে স্রেফ রকমারি অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা হোয়াটসঅ্যাপে নিজের প্রয়োজনটুকু জানিয়ে কিউ আর কোড স্ক্যান করে বা ইউপিআই পদ্ধতিতে জি-পে, পেটিএম ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় পেমেন্ট করলেই হল। পছন্দের বিরিয়ানি, কাবাব, চাওমিন, ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, পাস্তা, পিৎজা, ডাম্পলিং, দোসা, ইডলি, স্যান্ডউইচ, চপ, কাটলেট, রোল সবই দুয়ারে হাজির। বাড়িতে খেটে-পিটে রান্না করে নিজেদের খাওয়া বা অন্যেকে খাওয়াবার ঝামেলা নেই। করোনা সংক্রমণের ভয়ে বাইরে যাওয়ার অনীহা তো ছিলই – মাস্ক, স্যানিটাইজারের ঝক্কি যদিও বা মেনে চলা গেল, পথে বেরিয়ে বাজারে, দোকানে শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করা তো আমাদের জনবহুল দেশে অলীক কল্পনা।

    ই-কমার্সের সূচনা আগেই হয়েছে। জামাকাপড়, বইপত্র, ঘরকন্নার এটাসেটা, বাসনপত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী সবই তো ফরমায়েশ করলেই এসে যাচ্ছে। অন্তত মুদি, স্টেশনারি আর কাঁচা বাজারটুকু করতে যাঁরা অতিমারীর আগেও পাড়ার দোকান-বাজারে যেতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদেরও একটা বড় অংশ গত দেড় বছরে এখন বাজার-বিমুখ। আর ক্রেতা-মনস্তত্ত্বের এই পরিবর্তনকে ভিত্তি করেই এখন রমরমিয়ে বেড়ে চলেছে অনলাইন সংস্কৃতি। শুধু বাজার কেন, নতুন প্রজন্ম তো এখন জীবনের নানা কাজেই পুরোপুরি অ্যাপ-নির্ভর। অন্যদিকে বাজারেরও বিস্তর বিকেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। কার্যত এখন দুয়ারে বাজার। বাড়ি থেকে বেরোলেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে সবজি, ফল সবই সারি সারি। দু’পা এদিক ওদিক হাঁটলেই পথের পাশেও ছোটখাটো বাজার – মাছ, মাংস সবই মিলছে। মলে ঢুকলে অজস্র পণ্যের মধ্যেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেলোফেনে মোড়া থার্মোকলের পাত্রে টুকরো করে কাটা সবজি। ছোট পরিবারের উপযোগী শুক্তো রাঁধতে গেলে যে যে আনাজ প্রয়োজন সবই সাজানো রয়েছে তাতে। তবে সে সবজির সতেজতা, কোটার নিপুণতা – এসব যাচাই করার সূক্ষ্ম বিচারবোধসম্পন্ন দক্ষ বাজারু আজ আর কোথায়? গুছিয়ে বাজার বা রসিয়ে রান্না করার সেই মানসিকতা বা অবসর কোথায় আজকের অণু-পরিবারের ব্যস্ত জীবনে? ছেলেমেয়ের পড়াশুনো সামলে কর্তা-গিন্নি নাজেহাল কর্পোরেট যুগের চাকরি বাঁচাতে। আধুনিক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে কবেই বিদায় নিয়েছে শিল-নোড়া। মডিউলার কিচেনে স্থান করে নিয়েছে মিক্সার-গ্রাইন্ডার বা ফুড প্রসেসর। আদা-বাটা, রসুন-বাটা তো পাউচেও হাজির। সর্ষের পাউডার প্যাকেট থেকে বের করে উষ্ণ জলে গুলে নিলে সর্ষেবাটাও রেডি। সাবেকি সিনেমা হলের নস্টালজিক সাদা-কালো ছবির জায়গায় এখনকার মাল্টিপ্লেক্স বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্যে যেমন বিশেষ ধরণের মুভির চল, ঠিক তেমনই খেয়াল করলে দেখা যাবে নোনা-ধরা, হলুদ দেওয়ালের রান্নাঘর থেকে বেরনো সেই সব অতুলনীয় পদগুলির জায়গা নিয়েছে আজকালকার ফিল-গুড ফ্যামিলির টিপটপ মডিউলার কিচেনের উপযোগী হালফিল ক্যুইজিন। ‘টেক্সট’-এর ভিতরে না ঢুকে জীবন এখন ‘মেড ইজি’তে মজেছে। তাই আগে যা নেহাতই ছিল স্বাভাবিক আর সাধারণ আজ তাই নানাভাবে হয়ে উঠেছে ‘অসাধারণ’। হোম শেফের ‘পপ-আপ’ কিচেনের শিলে পেষা মশলার সাবেকি রান্নার ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পরে ‘সোল্ড আউট’ হতে সময় লাগে না। একই ভাবে ‘সান ড্রায়েড’, ‘হ্যান্ড ক্রাফ্টেড’, ‘কিউরেটেড’ কথাগুলির ইদানিং বিশেষ ব্যঞ্জনা। কাজেই নিজস্ব উদ্যোগের বদলে, আবশ্যিক পরিশ্রমটুকু না করে পছন্দসই সুখাদ্যের জন্যে মহার্ঘ্য মূল্য ধরে দিতে অনেকেই রাজি। সময় বাঁচে। ঝক্কি নেই। রিল্যাক্স কর আর পয়সা ফেল। বাকিটা পুরো মৌজ। তাই ছোট পরিবারের বিশেষ দিনটির উদযাপন আজ সেলিব্রেশনের মোড়কে বুটিক রেস্তোঁরায়।

    তবে অনলাইনের বাজার আর খাবারে কি সবসময় সবার মন ভরে? অ্যাপ আর অনলাইনের প্রলোভন কাটিয়ে সশরীরে একবার বাজারে যেতে পারলে কিন্তু অনন্য অভিজ্ঞতা। শীত পড়তেই বাজারে এখন টাটকা সবজির রঙের বাহার। ক্রেতার ভিড় তেমন নেই। অনেক চালু দোকান বন্ধ। বেশ কিছু দোকানির পরিচিত মুখগুলি চোখে পড়ল না। কেমন আছে তারা? জানি না। এমন বিষন্নতার মধ্যেও অনেকদিন পরে দেখা হওয়ায় উদ্ভাসিত সবজিওলা যুবক পরম উৎসাহে তুলে ধরল পায়রাডাঙার সরেস বেগুন, রাসায়নিক সারবিহীন চন্দনপুরের ফুলকপি। নিজের বাড়ির গাছের মাখনের মতো নরম শ্বেত-শুভ্র থোড়। গোবর সার দেওয়া ছোট পাতার পালং, সুগন্ধি ও ঝাল সবুজ-কালো আকাশমণি কাঁচালঙ্কা। উল্টোদিকের প্রৌঢ় দোকানির স্পেশালিটি মিষ্টি কুমড়ো আর ওল। আর কিছু তিনি বেচেন না। কিন্তু বাজারের সেরা ওই দুটো জিনিস তার কাছেই। আবার শনি মন্দিরের দাওয়ায় বসা সলিলের ইউএসপি ন্যায্য দামে তরতাজা গন্ধরাজ ও পাতিলেবু, বেলডাঙার সরু লঙ্কা, দিশি ধনেপাতা, আদা, রসুন, রোদে শুকনো বিউলির ডালের বড়ি, গ্রীষ্মের মরসুমে গাছপাকা ছোট বেল। দেখতে পেলাম না গলায় কন্ঠী সেই বয়স্ক মানুষটিকে, যিনি বনগাঁর কচুর লতি আর ঝুনো নারকেল নিয়ে বসেন। গাঁট্টা-গোট্টা চেহারার আর এক দোকানির সম্ভারে লাল, হলুদ বেল পেপার। সবুজ ক্যাপসিকাম, পুদিনা, পার্সলে, সেলেরি, মাশরুম, স্প্রিং ওনিয়ন। কচি বিনস, লাল গাজর। ওদিকে মাছের বাজার। ক্যানিং থেকে আনা টাটকা ভেটকি, ট্যাংরা, পাবদা, পার্শে, বাগদা, গুরজালি, কাতলা। অ্যাপ আর অনলাইন যত সুবিধাই করুক, নিজে দেখে বাজার করার বিকল্প নেই। আর রান্না? স্বাস্থ্যকর পরিবেশে, সেরা উপাদান দিয়ে বাড়িতে বানানো খাবারের সঙ্গেও কি রেস্তোঁরার খাবারের তুলনা চলে?

  • খ্যাঁটন | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৮৪৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 103.60.200.23 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৪:৫১502276
  • এই আগের কালের মা ঠাকুমা দের সারাদিন ধরে পঞ্চ ব্যঞ্জন রান্না আর তার স্বাদ নিয়ে এতো গুচ্ছের গল্প আসে, কোথাও কিন্তু আগের কালের বাবা জ্যাঠা বা ঠাকুরদা দের সেসব খাবার গান্ডেপিন্ডে গেলা ছাড়া আর কিছুতে কোনো হাত লাগানো র গল্প দেখিনা কোথাও। এক বাজার করা ছাড়া। আগের জেনারেশন এর ​​​​​​​মেয়েদের ​​​​​​​জীবন ​​​​​​​রান্নাঘরেই ​​​​​​​শুরু ​​​​​​​আর ​​​​​​​শেষ ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​ব্যতিক্রম ​​​​​​​ছাড়া। 
     
    এখন যা হয়েছে বা হচ্ছে একদিকে ভালোই হচ্ছে। মেয়েরা রান্নাঘরের শেকল ছিড়ে বেরিয়ে চাকরি করে টেকাওয়ে খেলে খাক। অথবা এতো আগের দিনের রান্না খেতে শখ হলে ছেলেরাও নিজে রান্নাঘরে হাত লাগাতে শিখুক। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:2df5:6101:517a:a3f7 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:১৫502279
  • সেকালে মেয়েদের কাজই ছিল রান্না করা। এখন ভাগ্যিস টেক্যাওয়ে এবং অনলাইন অ্যাপ হয়েছে! 
  • | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:৪৩502284
  • ফ্রিজ আর এলপিজি গ্যাসের উনুন মেয়েদের জীবনে যে বিপুল মুক্তির হাওয়া এনেছে তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করি।  মাইক্রোওয়েভ  মিক্সি প্ত্যাদি আরো পরে পরে সুরাহা করেছে নানান জিনিষে বটে। তবে প্রথমে ঐ গ্যাস আর ফ্রিজ। একেবারে নিজেদের পরিবারে দেখেছি মা মামীদের  মন ও শরীরের উপরে পজিটিভ বদল আসা। 
  • bodhisattvagc dasgupta | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:১১502286
  • রেগুলার রান্না বাড়ি থেকে উঠে যেদিন যাবে, গোটাটাই ইনডাসট্রিয়ালাইজড প্রি কুকড ফুলের উপরে সমস্ত স্তরের লোকের নির্ভরতা বাড়বে, যেদিন‌ বাড়ির কাজের লোক আর নানা গোত্রের ডোমেস্টিক হেল্প উঠে যাবে অথবা প্রচন্ড একসপেনসিভ ফর্মাল কন্ট্রাক্ট দিয়ে ইউনিয়ন সদস্য ছাড়া যেদিন লোক আর পাওয়া যাবে না আমাদের দেশে সেদিন মোটামুটি বোঝা যাবে দেশ খানিকটা অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়েছে। 
  • bodhisattvagc dasgupta | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:৩১502287
  • আমার আনেকডোটাল অভিজ্ঞতা হল শ্রমজীবি ক্যান্টিন গুলোয় অনেকেই খাবার নিতে আসতেন যাঁরা অল্পবয়সী মহিলা, রান্না করে টিফিন আনতে পারেন নি, বা কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত থাকবেন। আরেকটা হল এমন পুরুষ রা খাবার কিনে চট  করে বাড়িতে বড়দের বা ছোটোদের দিয়ে আসতেন, বা বলতেন দাদা ট্রেনের আগে খাবার পাবো ? আমরা পরে ট্রেনের টাইম জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী একটা পার্ট খাবার দিয়েছি, এটা বালিগঞ্জ স্টেশনের পাশের সেন্টারে কমন অভিজ্ঞতা। শস্তার মোটামুটি স্বাস্থ্যকর প্রি কুকড ফুভের জন্য পার্মানেন্ট বাজার আছে । আমার ইচ্ছে আছে টাকা জোগাড় করতে পারলে , মানুষ কে রাজি করাতে পারলে কি গ্রীষ্মের ছুটি, পুজোর ছুটি পরীক্ষার আগে বা শীতকালে একটু সিজনাল প্যাটার্ন অনুযায়ী তখন ছোটোদের আর বুড়োদের সাপোর্ট দিতে বাড়ির জোয়ান দের বেশি খাটতে হয় ঐ সময়ে রাস্তার হোটেলে বা স্টেশনে র হোটেলে সীমিত সংখ্যক খাবার সাবসিডাইজ করার। আমি এবছর টা এটা পারিনি তবে অদূর ভবিষ্যতে চেষ্টা করবো। 
  • ঠিক | 2605:6400:40:fec5:3c19:b3c1:b8a1:1f27 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:৩২502288
  • সারাক্ষণ স্যান্ডুইচ পিজা না খেয়ে বাড়িতে রান্নাবান্না করলে ম্যাকডি ডোমিনোজের মত গরিব অসহায় কোংদেরই বা কি হবে? ডাক্তার আর হাসপাতালের বিল কম হলে জিডিপি কমে যাবে।
  • bodhisattvagc dasgupta | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:৪৭502289
  • সনাতন রুটি মিল ভাত মিল টিপিনক্যারি বা ডাব্বা, পাড়ার স্নেক বার থেকে চিলি চিকেন চাউমিন, পাহাড়ী মোমো,  সর্বভারতীয় তড়কা রোটি,  সিকুলার ফ্রায়েড রাইস বিরিয়ানি কাবাব রোল, রুমালি তন্দুরি আলুর দম , লিবটার্ড শস্তা বার্গার সব ই রয়েছে। মিশ্র অর্থনীতি। 
  • একক | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:১৫502291
  • হ্যাঁ একদম। আর সমস্ত খাবারের দোকানে এফ এস এস আই মাস্ট হোক। হাইজিন ঠিক করতে খাবারের দাম বাড়বে ত কুছ পরোয়া নাহি। কত আর বাড়বে?  ফুড কমিশনার এর তোলা ইত্যাদি ধরে থারটি পারসেন্ট??  হোক হোক। 
     
    তখন নয়,  রান্না খাবার অকেশনালি আনিয়ে খাওয়া যাবে। রেগুলার কন্সাম্পশনের জন্যে এনার্জি বার,  ভিটামিন ট্যাবলেট ইনাফ। থালা বাসনের খচ্চাও কম।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৯502292
  • উনুনের কালো ধোঁয়া আগেকার মা ঠাকুমা দের ফুসফুসে বসে যেত, নাক ঝাড়লেও কালচে সর্দি বেরোত অনেকের। গ্যাস এসে দিগন্ত খুলে গেছে স্বাস্থ্যের। 
  • kk | 68.184.245.97 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ২১:২২502297
  • এই 'হোম-শেফ' কথাটা অতিশয় ভুলভাল। কুক আর শেফ এক নয়। প্রোফেশন্যাল ট্রেনিং নিয়ে, পরীক্ষা পাশ না করলে তাকে 'শেফ' বলে ডাকা যায়না। যে কেউ ভালো রান্না করেন, তড়বড়িয়ে এগিয়ে এসে "আমি বাড়ির হেড শেফ" বলে দেন। তিনি একজন 'হোমকুক' ছাড়া কিছু নন। সে যত ভালো রান্নাই করুন না কেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে, বা কারুর থেকে শুনে আমরা অনেকে সর্দি-কাশি-জ্বর-্পেটখারাপের ওষুধ টকাটক বলে দিই ও খাই। তার জন্য কি আমাদের 'ডাক্তার' বলে ডাকা যাবে? 'হোম-ডক্টর'?

    লেখার মূল বক্তব্যের সাথে একমত হলাম না। স্বাস্থ্যকর ভাবে, সেরা উপাদান দিয়ে, সুস্বাদু রান্না চাইলেই করা যায়। তার জন্য সাবেক উপায় আঁকড়ে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
  • kc | 37.39.150.161 | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৩৯502303
  • একক | ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:১৫
     
    এফ এস আই? গড়িয়া স্টেশনের পাশের ছোট হোটেলে ক্রেতার পাতের উচ্ছিষ্ঠ সব এক করে ঘ্যাঁট বানিয়ে পলিথিনে মুড়ে বিক্রি হয়। কুড়ি টাকা পার প্যাকেট। circa 2021।
  • রমিত | 202.8.114.32 | ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:৩৫502318
  • Kc, ওইসব দোকানে তো এমনিতেই 20-30-35 টাকায় এক প্লেট খাবার পাওয়া যায়। উচ্ছিষ্ট কিনবে কেন 20 টাকা দিয়ে ? আমি জানি না এই বিষয়ে।
     
    তবে উচ্ছিষ্ট খাওয়ার ব্যাপারটা ফিলিপিন্সেও শুনেছি। বড় দোকানের অর্ধভুক্ত বা উচ্ছিষ্ট ফেলে দেওয়া খাবার কুড়িয়ে এনে ধুয়ে রগরগে করে রান্না করে সস্তায় বস্তিবাসী দের বিক্রি করে। এটাকে বলে পাগপাগ। pagpag । এশিয়ান বস চ্যানেলে এই নিয়ে একটা ভিডিও আছে, দেখতে পারেন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:৩০502339
  • হাফ-স্যান্ডউইচ শুনে শেল্ডন কুপার বলেছিল, হাফ অব সামওয়ান এল্স'স স্যান্ডউইচ? ঃ-)
  • অনিন্দিতা | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:১৬502366
  • মহিলাদের হেঁশেল-বন্দিত্ব কে রোমান্টিসাইজ করা বন্ধ হোক। অন্যকে খাইয়ে অপার খুশি সেই বন্দিত্বেরই এক অজ্ঞতাপ্রসূত প্রতিরূপ। 
    বিধবা ঠাকুমাকে দূর থেকে মাছ দেখিয়ে নেওয়ার মধ্যে যে নিষ্ঠুর সামাজিক রীতি লুকিয়ে আছে তাকেও অনুধাবন করুন। 
  • ডোন্ট ওরি | 5.2.70.198 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:২২502367
  • এদানী ক্লাউড-কিচেন খুব হিট যাচ্ছে। ওতে হেঁসেল আছে, কিন্তুক আপনজনদের খাইয়ে আনন্দ পাবার কেস নেই, ক্যাশ আছে। ক্যাশওয়ালা হেঁসেল বিষয়ে সমাজ খুবই উদার।
  • r2h | 2405:201:8005:9947:e008:92c3:96fe:c093 | ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ২১:৪১502369
  • বাজার ইত্যাদি পড়ে কৌতুহল হল, কিন্তু পড়ে হতাশ হলাম, খুবই টিপিক্যাল। 
     
    যেমন-
    "ছেলেমেয়ের পড়াশুনো সামলে কর্তা-গিন্নি নাজেহাল কর্পোরেট যুগের চাকরি বাঁচাতে।"
    আমার মা বাবা সরকারি চাকরি করতো, শুধু চাকরি বাঁচানো না, কর্তব্যের জন্যেও মনে হয়, আদৌ সময় ছিল না। বাজার আর রান্না নৈমিত্তিক শির:পীড়া হিসেবেই দেখেছি। রেডি মিক্স, গ্যাস ফ্রীজ, পরে অল্প স্বল্প হোম ডেলিভারী চালু হতে বিপুল সুবিধে হয়েছে। 
    খুব নতুন কথা না, আশি - নব্বই, কুড়ি বছর হয়ে গেল।
  • b | 14.139.196.16 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ১১:১২502497
  • ক্লাউড কিচেন মানে কি? সেই গুগাবাবায় যেমন আকাশ থেকে মিষ্টি  নামছিলো ? 
  • একক | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ২০:১৪502498
  • ক্লাউড কিচেন মানে কিচেনের মধ্যে ক্লাউড। ভুটে দেশে থাকতে খুপ হত!  সকালবেলা স্লো কুকারে বীফ স্যুপ বসিয়ে আপিস চলে গেচি দুফুরে এসে দেখি রান্নাঘর ধোঁয়ায় সাদা কিচ্চু নজরে আসে না। ইকিরে বাপ স্যুপ সব বাষ্প হই গ্যালো নাকী। তাপ্পর বুঝলুম এতো ক্লাউড। পাহাড়ি বাচ্চা বাচ্চা মেঘ জানলা দিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ঘরময় দাপিয়ে বেড়াচ্চে!!  ক্লাউড ই ক্লাউড। ক্লাউড কিচেন! 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৩৫502501
  • ভারতীয় মহিলাদের জীবনকে এই রান্নাঘরে আটকে রাখা নিয়ে একটা সিনেমা দেখলাম, দি গ্রেট ইন্ডিয়ান কিচেন। এই দৈনন্দিন যন্ত্রণার নিদারুণ ছবি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন পরিচালক। সবাইকে রেকমেন্ড করছি।
  • গবু | 223.223.142.230 | ০৬ জানুয়ারি ২০২২ ২২:২২502526
  • | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ১১:১২
    হোম ডেলিভারির অন্য নাম। তবে কায়দার খাওয়া বেশি। রেগুলার খাওয়া নয়।
    হোয়াটসআপ বা swiggy জিনি দিয়ে হয় জেনেরেলি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন