ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  ভ্রমণ   যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

  • উঠলো বাই

    সে
    ভ্রমণ | যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে | ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ৩৭৭১ বার পঠিত
  • তখনও গোটা ইয়োরোপে দেশের সংখ্যা এখনকার চেয়ে ডজনখানেক কম, এশিয়ার দেশের সংখ্যাও বেশ কম। ইউরোস্টার রেলপথ তৈরিই হয়ে ওঠেনি, তবে সেটা তৈরি হলে খরচ যেমনই হোক না কেন মানবসভ্যতার ইতিহাসে যে একটা মাইলফলক সৃষ্টি হবে এরকম আলোচনা টুকটাক হয়। ইয়োরোপ তখনও দ্বিধাবিভক্ত এবং দ্বিধাগ্রস্ত।
    সোভিয়েত দেশে তখন স্ট্রাকচারাল পরিবর্তনের কথা পাবলিককে বুঝিয়ে দিয়ে তলে তলে সিস্টেমিক পরিবর্তনের সওদা হচ্ছে, কেও কিচ্ছুটি জানে না। এইরকম একটা টাইমে বয়ফ্রেন্ডের হাতে রেগুলার নিগৃহীত হতে হতে, মধ্য এশিয়ার একটা মরূদ্যান শহরে  আমার মনের মধ্যে হঠাৎ ঘটে গেল সিস্টেমিক পরিবর্তন।
    হাতে তখন আমার মোট দুটো অপশন, হয় পড়ে পড়ে মার খাও, নয়ত পালাও। আমি সেকেন্ডটা চুজ করলাম। গত শতাব্দীর আশির দশকে ভারতীয় মেয়েরা ভীতু হতে শুরু করেছিল (কারন অনেক থাকতে পারে, কিন্তু এটা অবজারভেশন) এবং নো ওয়ান্ডার আমিও সেই দলেই ছিলাম। কথায় কথায় ভয় পাওয়াটা একটা নেশার মতো আচ্ছন্ন করে রাখে। নিজেকে দুর্বল ভাবতে ভাবতে মানসিক ভাবে পরনির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে, যেটা প্রথমদিকে আরামদায়ক এবং খানিকটা রোম্যান্টিক হলেও,  কেমন যেন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার মতো আচ্ছন্ন করে রাখে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে এক ঝটকায় বের হতে হয়, অ্যাটলিস্ট আমাকে বের হতে হয়েছিল এক ঝটকাতেই। সেই প্রসেসটাতে কয়েক ঘন্টার ভেতর ডিসিশন নিয়ে ফেলি যে, বেড়াতে যাবো। একা। এর আগের ছুটিগুলোতে দেশে যেতাম, সেসবে কর্তব্য দায়িত্ববোধ সামাজিকতা সেন্টিমেন্ট এইসব অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে মড়িয়ে একাকার হয় থাকত। এবার সেসব বাহুল্য বাদ দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম একা, সম্পূর্ণ অজানার দিকে। গন্তব্য লন্ডন।
    প্রশ্ন উঠতে পারে, লন্ডন কেন? হোয়াই? বেড়ানোর জায়গা কি আর নেই?
    তা ঠিক নয়,  আশে পাশে অনেক জায়গা ছিল, কিন্তু অনেকটা দূরে যাওয়ার মধ্যে কেমন একটা নিজেকেই পরীক্ষা নেবার ব্যাপার থাকে, যেখানে থাকে শক্ত পরীক্ষায় পাশ করার আনন্দ, ফলে নিজেকেই বেশি নম্বর দেবার প্রবণতা, সম্ভবত নিজের ওপর বিশ্বাস আর ভরসা তৈরি করার জন্যই। 
    আশেপাশে আমাদের হস্টেলে অনেককেই দেখতাম লন্ডন ফেরৎ হয়ে খুব গর্ববোধ করতে, তাই কঠিন টার্গেটটাই সেট করলাম নিজের জন্য।
    প্রথমে হেঁটে, তারপর ট্রলিবাসে, তারপর এরোপ্লেনে চেপে মস্কো পৌঁছে বিশাল সব লাইন টাইনে দাঁড়িয়ে গোটাপাঁচেক দেশের ভিসা নেবার লম্বা প্রসেস অতিক্রম করতেই প্রায় দুসপ্তাহ লেগে গেছল। (এ প্রসঙ্গে আগে লিখেছি "তেহরানের স্বপ্ন" শিরোণামে) । দুটো রাত এবং তিনদিনের জার্নি, কিছুটা জলপথে, অধিকাংশটাই রেলপথে। শুরু হলো যাত্রা দুপুরবেলা। মস্কোর একটা রেলস্টেশন থেকে (বেলোরুস্কি ভাকজাল)।
    দীর্ঘ রেলযাত্রার খুঁটিনাটি এই লেখার প্রতিপাদ্য নয়, প্রাথমিক ঝটকায় ভয়টয় কাটিয়ে দুটো রাত ট্রেনে কাটিয়ে তৃতীয় দিন দুপুরে যখন ফেরিঘাটে ( হুক ভান হলান্ড)  ট্রেন থামল তখন আবার ভয় ভয় অনুভূতিটা ফিরে এলো। বেশ কয়েকঘন্টা পরে ফেরি যখন ভিড়বে ইংল্যান্ডের বন্দরে, তখন যাবোটা কোথায়?
    আমার তো কোনও ঠিকানা নেই।
     
    এটা ভ্রমণকাহিনী নয়। ভ্রমণ করতে গিয়ে বাঙালিদের থেকে সাহায্য পাবার ঘটনা।
    হারউইচে ফেরি থেকে নেমে লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশনের ফর্ম ভর্তি করতে গিয়ে মুশকিলে পড়লাম, ঠিকানা লিখতে হবে। লম্বা  লাইন পাশাপাশি দুটো। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই খশখশ করে ফর্ম ফিলাপ করছে। পেন নেই আমার। পাশের লাইনের একজন ছেলের কাছে পেন চাইলাম, ফর্ম ভর্তি করতে গিয়ে তাকে বললাম
    —আমার তো ঠিকানা এখানে কিছু নেই, কী লিখব এখানে?
    সে স্থিরভাবে বলল, তাহলে তুমি যেতে চাচ্ছো কোথায়?
    — লন্ডন।
    — লন্ডনে যেখানে গিয়ে উঠবে সেখানকার ঠিকানা লিখে দাও।
    — সেসব তো এখনও ঠিক নেই...
    ছেলেটা বিরক্ত হয়ে বলল, তাহলে আমি জানি না।
    লাইন সামনের দিকে এগোচ্ছে। ঝপ করে তার ফর্মে সে যা ঠিকানা লিখেছে সেটা দেখে নিয়ে যতটা মনে রাখতে পেরেছি নিজের ফর্মেও সেটা তাড়াতাড়ি লিখে নিয়ে তাকে কলমটা ফেরত দিলাম।
    ইমিগ্রেশন কিছুই সেভাবে খুঁটিয়ে দেখেনি। ফেরিঘাট থেকে ফের ট্রেন, সেখান থেকে লন্ডনের লিভারপুল স্ট্রিট পৌঁছতে পৌঁছতে রাত আটটা সাড়ে আটটা। আমার পিঠব্যাগটা অসম্ভব ভারি, তাতে রয়েছে খাবার, জলের গোটা পাঁচ ছয় বোতল এবং দুসেট সালোয়ার কামিজ। এই অবধিই আমার টিকিট কাটা ছিল। এখন বাসস্থান খুঁজতে হবে। গ্রীষ্মকাল, তাই শীতবস্ত্রের দরকার নেই, কিন্তু সূর্য অস্তমিত। 
    সিনিয়রদের কাছে শুনতাম তাদের লন্ডনে আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব কিছুই নেই, তবু তারা বেড়াতে যেত, যদিও তারা সকলেই পুরুষ। মেয়ে সিনিয়র কেউ ছিল না তাই মেয়েদের অভিজ্ঞতা আমার অজানা।
     
    মস্কোয় যে হোটেলে থেকেছিলাম ভিসা নেবার সময়টায়, সেখানে রোজই নানানজনের সঙ্গে আলাপ হতো। একজন বাংলাদেশি ছেলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। সিনিয়র। আগেও দুবার লন্ডন গেছে। এবার যাবে কম্পিউটার কিনতে। পারসোনাল কম্পিউটার বলে একটা জিনিস বেরিয়েছে যেটা নাকি এমনি ছোটখাট কম্পিউটারের চেয়ে দামে বেশি এবং দেখতে শুনতেও খুব ভাল। মাইক্রোসফট বলে একটা কোম্পানীর অপারেটিং  সিস্টেমে ওটা চলে। লন্ডন কি সিংগাপুর থেকে কিনে এনে সোভিয়েত বাজারে বেচতে পারলে বিরাট লাভ। সবাই কিনতে পারে না, প্রচুর দাম, বেশ ওজনও আছে। 
    আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কম্পিউটার কিনতে কত পাউন্ড লাগে? তাতে সে যে সংখ্যাটা বলেছিল তেমন টাকা আমাকে বেচে ফেললেও পাওয়া যাবে না। তার নিজেরও অত পুঁজি নেই॥ যাদের অনেক পুঁজি আছে তারা এরকম ছেলেদের কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এবং যাতায়াত-খাবারদাবারের খরচ  টরচ দিয়ে কম্পিউটার আনানোর কাজ করে। মাথাপিছু একটা কম্পিউটার আনলে কাস্টমসে ট্যাক্স দিতে হয় না। যারা অন্যের পুঁজি নিয়ে কম্পিউটার আনতে যায় তাদের নাম "পাইলট"। এই সিনিয়র ভাইটিও একজন পাইলট।
    আমার মাথায় প্রশ্ন খেলে গেছল, তাই সরাসরি সেই ছেলেটিকে বলেছিলাম— আমিও পাইলট হতে চাই।
    — আপনি?
    ভুরু কুঁচকে আমার দিকে একটু তাকিয়েই সে আর হাসি চাপতে পারে নি।
    — হাসছেন কেন? 
    — আপনি কী করে পাইলট হবেন?
    — আপনার চেনা কেউ থাকলে তাকে একটু বলুন না, এই ট্রিরে আমিও তার জন্য কম্পিউটার এনে দেব। 
    সে আবারও হাসতে থাকে।
    — কী যে কন আপনি!
    — কেন? এতে হাসির কী আছে? টাকা নিয়ে তো  আর আমি পালাবো না, আমাকে তো ফিরে আসতে হবেই এখানে লেখাপড়া শেষ করতে!
    — মাইয়া মানুষ পাইলট। নাঃ। কেউ রাজি হবে না।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kaktarua | 99.245.204.9 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ২২:১৮735313
  • দারুন লাগছে পড়তে। আর তার সাথে পিঠে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:2d51:7202:380b:6504 | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৪:০৮735314
  • একটা টিনেজার ছেলে প্রায় দুদিন বাড়ি থেকে উধাও, তার বাবা যদিও সে খবর জানে না, কিন্তু বাড়িতে কারও কোনও উদ্বেগ নেই। যেন কিছুই হয় নি। একেবারে ছোট বাচ্চাদুটো নাহয় তেমন কিছু বোঝে না, কিন্তু বাকিদের মধ্যে কোনও হেলদোল নেই। বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম খাওয়া দাওয়া আড্ডা সবকিছু চমৎকার চলছে। একটা আউটিং এর প্ল্যান পর্যন্ত হয়ে গেল। অদ্ভূত তো! ছেলেটা তো নিশ্চয় স্কুলে টুলে পড়ে, নাকি পাশ করে গেছে? প্রশ্ন করতে সাহস হয় না, আমি তো বাইরের লোক, অনধিকার চর্চা করে বিপদ ঢেকে আনার ঝুঁকি নিয়ে কাজ নেই।
    একটু পরে বড়ো ছেলে বাড়ি ফিরল, তার সঙ্গে আরও একজ, সে আমার চেয়েও বড়ো দেখেই বোঝা যায়। দুজনে অন্যঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প সল্প করে তারপরে ফের এলো বসবার ঘরে। মনোয়ারা পরিচয় করিয়ে দিলেন — এ আমার ছেলে শরিফুল, আর এ আমার সবচেয়ে বড়ো ছেলে শহিদুল।
    দুজনে সঙ্গে করে এনেছে ভিএইসএস ক্যাসেট, হিন্দি সিনেমার গোটা তিনেক ক্যাসেট।
    মনোয়ারা রাগ করেন। রোজ রোজ এত এত পাউন্ড খরচ করে ভিডিও ক্যাসেট কেনা তাঁর ঘোর অপছন্দ। তিনি দেখবেন না সিনেমা। উঠে পড়েন সেখান থেকে, আমিও যাই পিছু পিছু ওঁর সঙ্গে।
    উনি রান্না করতে থাকেন, ভিডিও ক্যাসেট বাজতে থাকে, আমরা গল্প করতে থাকি, মাঝে মাঝে ব্যাকগ্রাউল্ডে শোনা যায়
    হামকো মেরি নেহি মাংতা, লিলি নেহি মাংতা
    হামকো সান্ড্রা ফ্রম বান্দ্রা নেহি মাংতা...
     
    আমি ভাবি, এরা হিন্দি বোঝে? নিশ্চয় বোঝে। উঁকি মেরে দেখলাম সবাই বিভোর হয়ে মিঠুন ও মন্দাকিনীর নাচ দেখছে। গান শেষ হতে না হতেই রিওয়াইন্ড করে ফের সেই গান চাসিয়ে দেয়।
    আমি আঙুলের কড় গুণে বললাম, আপনার তবে পাঁচ ছেলে, তাই না?
    মনোয়ারা ফিসফিসিয়ে বললেন — না, চারজন। ঐ সবচেয়ে বড়োজন আমার না। কিন্তু আমার ছেলে বলেই ওকে আনা হয়েছে। ও হলো আমার ভাশুরের পোলা। কাগজপত্রে ওর বাপ মা আমরা। 
    মনোয়ারা বিশ বাইশ বছর রয়েছেন লন্ডনে। ইংরিজি শেখেন নি, বাংলাও পড়তে বা লিখতে পারেন বলে মনে হয় না। 
    আমি হাঁ হয়ে ভাবি, একা একা বেড়াতে বেরোনোর এই এক মজা। শুধু কি নতুন দেশ দেখা? কত রকমের জীবনযাত্রা দেখতে পাচ্ছি। প্ল্যান করে এলে দেখতে পেতাম নাকি এতসব?
     
    মনোয়ারার কপালের পাশ ঘেঁষে একটা ছোট্ট কালো পোকা নামছে। ঐ পোকাটা আমি চিনি। উকুন। আমি বললাম, আপনার মাথায় উকুন হয়েছে তো।
    — বেশি না। একটা দুটা।
    — ওষুধ দেন না?
    — খাড়ান।
    মনোয়ারা রান্না স্থগিত রেখে নিমেষে বেরিয়ে গেলেন, দশ সেকেন্ডের মধ্যে হাতে নিয়ে ফিরলেন তিন চারটে ছোট ছোট শিশি। উকুন মারার ওষুধ।
    — হ্যাঁ, এইগুলোই তো মাথায় দিতে হবে। কিনে এনে ঘরে রেখে দিয়েছেন কেন?
    — কেনা লাগে না। এগুলা ফ্রি। মরিয়ম মর্জিনার স্কুল থেকে মাঝে মাঝেই দেয়। শিশি দেয়, তারপর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
    —বুঝলাম ব্যাপারটা। তা ওষুধগুলো মাথায় না লাগিয়ে এরকম রেখে দিলে হবে নাকি? 
    — কেমনে ব্যবহার করে জানি না তো! আপনি পড়ে বলেন। 
     
    এরপরের ঘটনা ভয়াবহ। মরিয়ম দায়িত্ব দিলেন আমায় তিনজনের মাথায় উকুনের ওষুধ লাগানোর। মা এবং দুই মেয়ে একের পর এক আমার সামনে মেঝেয় এসে বসছে, আমি চেয়ারে বসে তাদের মাথায় উকুননাশক লোশন লাগাচ্ছি। 
    বসবার ঘর থেকে মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে —
    সাইকেলওয়ালা মাইকেল নেহি মাংতা
    তো কৌন মাংতা?
    জনি জনি ... ইত্যাদি
    মা ও দুই কন্যা প্রবলভাবে মাথা চুলকোচ্ছে, টুপটাপ কয়েকটা উকুন যেন পড়ল ঝকঝকে মেঝের ওপর। 
    আমি এবার অনুভব করলাম আমারও মাথা চুলকোচ্ছে।
     
  • Amit | 203.219.181.74 | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৪:৩৯735315
  • কিন্তু বড়ো মেয়েটা তো ক্লাস ৭ এ পড়ে ? ? সে ওষুধের লেবেল পড়তে পারে নি ?
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:2d51:7202:380b:6504 | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৪:৪৫735316
  • তার বয়ে গেছে পড়তে। মা কে সে পাত্তাই দেয় না।
  • | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৫৪735317
  • কিন্তু মেয়ের মাথায়ও তো উকুন। নাহলে ইস্কুল থেকে দিত না। সে কেন উকুন পোষে! কি নোংরা রে বাবা!
  • Amit | 121.200.237.26 | ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:২৮735392
  • এটা আর এগোবে না ?
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:d5ad:ed82:fe16:cae0 | ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ১৩:০০735393
  • এগোবে। ভুলেই গেছলাম :-)
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:803a:27fd:90d:8ae7 | ২০ জানুয়ারি ২০২২ ০৫:৫৮735396
  • দুই কন্যা, সেজোপুত্র, আরবাব আকন্দবাবু ও আমি — মোট পাঁচজনে দাঁড়িয়ে রয়েছি মাদাম তুসোর মিউজিয়ামের গেটের সামনে, টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন তো বটেই তবে তার চেয়েও লম্বা চওড়া হচ্ছে টিকিটের দাম। তিনজন বাচ্চার টিকিটের মূল্য কম, আমরা অ্যাডাল্ট আমাদের দাম বেশি। বাচ্চাদের হাতে কোনও পয়সাকড়ি নেই, অবশ্য থাকলেও তারা বের করবে না, মরিয়মের কাছে থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু শে খুবই বুদ্ধিমতী, গোবেচারার মত এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।
    এই মিউজিয়ামের নাম আমি সিনিয়র দাদাদের কাছে শুনেছি তো বটেই, বিভিন্ন মোমের মূর্তির সঙ্গে তাদের ফোটোও দেখেছি। ইদানীং ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তিও নাকি এখানে স্থান পেয়েছে। সিনেমাহল টাইপের দেখতে বাড়িটা। আজ সকালে বৃষ্টি বাদলাও নেই, তবু আমার মনের মধ্যে আতঙ্কের মেঘ, এত খরচ করে মোমের পুতুল দেখে পয়সা নষ্ট করতে মন রাজি হচ্ছে না। 
    আকন্দবাবু পুরুষোচিত স্মার্টনেসে কাউন্টারের কাছ থেকে ঘুরে এলেন সুখবর নিয়ে। আমরা পাঁচজনে যদি নিজেদেরতে একটা গোটা ফ্যামিলি বলে দাবি করি, তাহলে টিকিটের দাম কম পড়বে। হাজবেন্ড, ওয়াইফ, তিনটে বাচ্চা। মোট দামের ফিফটি পারসেন্ট দেবেন উনি, ফিফটি পারসেন্ট আমি। তাই ই সই। তারপর চলল আমাদের মাদাম তুসো অভিযান। হিটলারের মোমের মূর্তি একটা কাঁচের বাক্সের মধ্যে রেখেছে, বাকিরা খোলা। আর রয়েছে হরর রুম, একটা ছোট্ট শো, দূর থেকে দেখাচ্ছে ঘচাৎ করে একজনের মুন্ডু কাটা পড়ল। বেশিক্ষণ লাগল না পুরোটা দেখতে। আহামরি কিছু নয় তবু লোকে টিকিট কেটে দেখছে, অথম ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রবেশ মূল্য নেই, সেখানে অত লাইনও নেই। 
    বাইরে বেরোতেই অল্প কয়েক পা হাঁটলে মোড়ের মাথায় খাবারের দোকান। বাচ্চারা খেতে চাইছে। সবাই বিগবারগার খাবে। দেখে হামবুর্গারের মত লাগল। জিনিসটা বড়া খাসি দিয়ে বানানো। আমি হামবুর্গার চাচ্ছিলাম, ওরা বলল ওটা হ্যামবারগার অর্থাৎ হ্যাম দিয়ে বানানো, নিষিদ্ধ মাংস। হামবুর্গে ঐ রকম স্যান্ডুইচের উৎপত্তি বলেই ওগুলোকে হামবুর্গার বলে ব'লে জানতাম, কিন্তু ক্রমে সেটার পরিবর্তন হয়ে হামবুর্গের হাম হ্যাম হয়ে গিয়ে শুয়োরের মাংস বনে গেছে। নতুন জিনিস শিখলাম।
    খাবারের দামের খুব অল্প অংশ আমাকে দিতে হয়েছিল। আর দিন তিনেক পরেই ইদ। সম্ভবত মঙ্গল বা বুধবার। সঠিক তারিখ আগে থেকে বলা যায় না।
    ফিরবার পথে আকন্দবাবু বললেন পরদিন আমাকে লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাবেন। আমি বোকার মত বলে ফেলেছিলাম — অক্সফোর্ড?
    উনি হাসি চেপে বললেন — না। এটা আলাদা ইউনিভার্সিটি। অক্সফোর্ড কেম্ব্রিজের মত অত বিখ্যাত না। 
    আমার হুট করে মনে পড়ে গেল এদেশে আমার এক দাদা থাকে, কাজিন। ডাক্তার। লন্ডনে নয়, অন্য একটা শহরে। শহরটার নাম একটু খটমটে, দাদা যখন কোলকাতায় এসেছিল বিয়ে করতে, তখন নামটা বলেছিল। কয়লা টয়লার জন্য বিখ্যাত। আহা সেই যে বলে না, টু ক্যারি কোল টু ...
    — নিউক্যাসল? 
    ফশ করে বলে ফেললেন আরবাব আকন্দ।
    — হ্যাঁ, ওটাই হবে। কতদূর বলুন তো লন্ডন থেকে?
    — দূরত্ব ভালোই আছে। যাবেন দাদার বাড়ি? চাচাতো ভাই?
    — না। আমার ঠাকুমার মেজদার বড়োমেয়ে বাসন্তীপিসির বড়োছেলে সুমন্তদা। কিন্তু আমি তো ঠিকানা জানি না। কী আর করব অতদূরে গিয়ে! তারচেয়ে এখানেই ভাল। আমি ছাত্র মানুষ, রোজগার তো করি না। 
    — সেটা সত্য কথা।
     
    বাড়ি ফিরে দেখলাম মনোয়ারা পা ছড়িয়ে বসে একটা গামলার মতো বাটিতে কিমার তরকারি দিয়ে ভাত মেখে আপন মনে খেয়ে চলেছেন। জহির নিজের মনে দুষ্টুমি করে যাচ্ছে।
    তিন চারদিন হয়ে গেছে ছেলে বাড়ি ফেরে নি, তার খোঁজ খবর নেই। বাচ্চারা হুটোপুটি করতে লাগল। 
    মরিয়মকে বাজারে পাঠালেন টাকা দিয়ে, সঙ্গে আমিও চললাম।
    একটা বিশেষ দোকান থেকে সে সাপ্তাহিক যতটা মাংসের কিমা দরকার কিনে আনবে। হালাল শপ।
    এরকম দোকান আমি সোভিয়েত দেশে দেখি নি। হালাল শপে মরিয়ম কিমা কিনছে, আমি দেখছি দোকানের বাইরে ফুটপাথে বিকোচ্ছে বাহারি নেলপলিশ। একটা একপাউন্ড তিনটে দুপাউন্ড। কী অসম্ভব সব রং! সবুজ, নীল, কালো, তুঁতে!
    তিনটে কিনে ফেললাম। আমার প্রথম শপিং লন্ডনে। কালো নেলপলিশ পরে সকলকে তাক লাগিয়ে দেব হস্টেলে ফিরে।
    বাজার সেরে ফিরতে ফিরতে সন্ধে।
    মনোয়ারা আমাকে ডেকে একটা নোটবুক খুলে একটা ফোন নম্বর দেখালেন, সেটি ডায়াল করবার সময় আমি যেন দেখি ঠিক নম্বর ডায়াল হচ্ছে কি না। করিডোরের মাঝখানে ফোন রাখা। নম্বর রিং হচ্ছে বুঝতে পারছি।
    উনি আমার দিকে ফিরে বললেন মনিরুলের বন্ধুর মা কে ফোন করছেন।
    —হ্যালো। ... মি মনোয়ারা... আমার ছেলে মাই সান মনিরুল .. আপনার বাড়ি গেছেনি?
    ফোনের অন্যপ্রান্তে যিনি, তিনি বাঙালি নন, ইংরিজিভাষী। তিনি বাংলা না বুঝলেও বুঝেছেন যে মনিরুল বাড়ি ফেরেনি।
     
    ছেলে চারদিন ধরে বেপাত্তা হলে আমরা তো পাগলের মতো হয়ে যেতাম। কী অপরিসীম ধৈর্য ও সহ্যশক্তি এই নারীর।
    টেলিফোনে জানা গেল কেউ জানে না মনিরুল কোথায়।
     
    মরিয়মকে বাংলা পড়াতে হবে, জোর করছেন মনোয়ারা। মরিয়ম পড়বে না। সে ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। অন্য বইখাতা খুলে খুব পড়াশুনোর ভাল করছে। অঙ্কের খাতা লালে লাল। অন্যান্য বিষয়ের অবস্থাও সঙ্কটজনক। একটু জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল যে সে কয়েকটা বিষয়ে ফেল করেছে। তাও প্রোমোশন পায়।
    ওরকমই ব্যবস্থা। কোনওক্রমে ওভাবেই স্কুল শেষ করে ফেলবে। কিন্তু পড়াতে চাইলে পড়বে না। মানতেই চায় না কারোকে। বাবাকে অবশ্য ভয় পায়। কিন্তু বাবা তো তখন হজ করতে গেছেন।
    নজরুলের অবস্থাও একইরকম। মনোয়ারা কি এসব জানেন আদৌ? ছেলেমেয়েরা মাকে পাত্তাই দেয় না।
    তবে কেন উনি মরিয়মকে বাংলা শেখাতে চাচ্ছেন? ক্লাসের পড়াটা আগে মোটামুটি করুক, তারপর তো বাংলা শিখবে।
    অনেক বছর পরে এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই পেয়ে গেছলাম। ঐ দেশে নিজের ভাষায় নিজের মনের কথা শোনানোর জন্য একজনও  ছিল না মনোয়ারার। সারাটাদিন শুধু ঘরের কাজ। কয়েকবছর পরপর নতুন নতুন সন্তান। একটা মানুষ নেই ও বাড়িতে যে তাকে ইংরিজিটা অল্প অল্প শিখিয়ে দেয়। কী জীবন মাইরি! 
    কাল লন্ডন ইউনিভার্সিটি যাব। পরশু ইদ। এদেশে ইদে ছুটি নেই। তবে ওদের প্ল্যান শুনলাম। ওরা রিজেন্ট পার্ক যাবে। পাশেই একটা মস্ক আছে। মস্ক মানে মসজিদ। লন্ডনে এসে আমার নতুন নতুন শব্দ শেখা হচ্ছে।
     
     
  • kk | 97.91.203.114 | ২০ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৪৯735397
  • খুব ভালো লাগছে পড়তে।
  • R.K | 203.18.35.200 | ২০ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:২২735398
  • মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। 
    দীর্ঘ অপেক্ষা বড় কষ্ট দেয় । 
  • Amit | 121.200.237.26 | ২০ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:১১735399
  • অদ্ভুত লাগে। এতো বছর একটা দেশে থেকেও সেই দেশের ভাষা , কালচার বিন্দুমাত্র না শেখা বা না শিখতে চাওয়া।  সেই  এক  নিজের পুরোনো দেশের যাবতীয় কালচারাল আর রিলিজিয়াস রিগ্রেসিভনেস আর ডিসক্রিমিনেশন এর গাম্বাট ব্যাগেজ কাঁধে বয়ে বেড়ানো। হয়তো কারোর কারোর ক্ষেত্রে সুযোগের অভাব হতেও পারে । কিন্তু আমার দেখা অনেক ক্ষেত্রেই ইচ্ছার অভাব টাই প্রিডোমিনান্ট-মানে আমি পার্সোনালি যতটা দেখেছি । 
     
    এমন অনেক কেই  দেখেছি - (হিন্দু বা মুসলিম দু ক্ষেত্রেই - কম বা বেশি ) বহু বছর বিদেশে কাটানোর পরেও কোনো লোকাল বন্ধুবান্ধব একদম নেই। সেই উইকেন্ড এ নিজের রাজ্য বা দেশের লোকজনের সাথে বসে আড্ডা এবং তার মেন্ বিষয়বস্তু হলো এই দেশগুলো কত রেসিস্ট-এদের কালচার কত খারাপ আর আমাদেরটা কত ভালো - মাসের পর মাস সেই এক  চর্বিত চর্বন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। কিন্তু কেও ফেরত যেতে চায়না। 
     
    ভেবে পাইনা এতটা কালচারাল হেট্রেড আর এন্টিপাথি নিয়ে এসব দেশে আসারই  কি দরকার বা থাকারই বা কি দরকার। এবং যেহেতু অনেক ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরণের কূপমণ্ডূক রাই মেজরিটি , তাতে ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট এর ইমিগ্রান্ট দের ওভারঅল ইমেজ টাও খুব পজিটিভ নয় যেটা একদমই স্বাভাবিক। যতদিন  না মেলামেশা হচ্ছে বা কালচারাল এসিমিলেশন হচ্ছে। 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:803a:27fd:90d:8ae7 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০১:১০735400
  • লন্ডন ইউনিভারসিটিও একটা সরু রাস্তার ওপরে। কোলকাতার বিডন স্ট্রীটের সঙ্গে তুলনীয় এর প্রস্থ। আমার বয়স অল্প, হরদম তুলনা করবার প্রবণতা। সোভিয়েত দেশের সব কিছুই যেহেতু প্রকাণ্ড, তাই এরকম ছোট সাইজের ইউনিভার্সিটি দেখে দমে গেলাম। মিস্টার আকন্দ যেখানেই যান সবসময়েই সুটেড বুটেড। ওঁর কোট একটাই, নেভি ব্লু রঙের, সোনালি বোতাম লাগানো, কোটের বয়স হয়েছে অথবা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে তার ওপর ময়লার পরত পড়েছে, গাঢ় রং বলে পিঠের দিকটায় সাদা সাদা গুঁড়োর মত কীসব লেগে রয়েছে বোঝা যায় স্পষ্ট। আমি শাড়ি পরেছি শিফনের। লন্ডনের রাস্তায় এমনিতেই শাড়ি পরা মহিলা বিরল, এবং আমার মত অল্প বয়সী শাড়ি পরা মেয়ে হরগিজ আর একটিও মিলবে না। আমরা দুজনের পোশাকই মূল স্রোতের জনতার থেকে আলাদা। কেউ প্যাটপ্যাট করে তাকাচ্ছে না বটে তবে আড়চোখে যে লক্ষ্য করছে না, তা জোর দিয়ে বলা যাবে না।
    কোলকাতায় থাকাকালীন এসব নিয়ে খুব সজাগ থাকতাম, কে কী বলল, কে কী ভাববে, কেউ আওয়াজ দিল কি না, প্যাঁ খেলাম কি না, এই সব। কিন্তু কয়েক বছর সোভিয়েত দেশে থাকার সুফল হিসেবে ঐ সব সেস্ফ কনশাসনেস থেকে মুক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। ফাইনাল পরিবর্তনটা হয়েছে লন্ডনে আসবার আগে মস্কোয় দু সপ্তাহ পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পাবার ফলে। 
    স্বাধীনতার একটা আলাদা মজা আছে, জিনিসটা নেশার মত। একবার পেতে শুরু করলে আর ছাড়া যায় না। 
    ইউনিভার্সিটির উল্টো ফুটে দাঁড়িয়ে তাই আকন্দবাবুকে আমি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটা সিগারেট অফার করে ফেললাম। ওঁ ঠোঁট দেখেই চিনেছি যে উনি একজন স্মোকার, পয়সার অভাবে নেশা থেকে বঞ্চিত। অথচ আমার কাছে রয়েছে খাঁটি বুলগারিয়ান তামাক দিয়ে তৈরি এক ব্লক সিগারেট। রোদোপি।  লন্ডনে এক প্যাকেট সিগারেটের যা দাম, ঐ এক ব্লকের দাম তার চেয়েও কম। 
    ভদ্রলোক সানন্দে আমার অফার গ্রহণ করলেন। দুজনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্মোক করে নিয়ে ঢুকলাম ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দেখা করব আমরা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বাঙালি অধ্যাপকের সঙ্গে। তিনি ইকোনমিক্সের অধ্যাপক। রিটায়ার করতে বেশি দেরি নেই। ভেতরে টেবিল চেয়ার পাতা একটা মাঝারি হলঘর টাইপের ঘরে বসলাম আমরা। অধ্যাপক এলেন। উনি সম্ভবত আকন্দবাবুর বাবার পরিচিত। দুজনে গল্পে মেতে উঠলেন, আমিও যোগ দিলাম সেই আড্ডায়। অধ্যাপক আমাদের জন্য মিস্টির বাক্স এনেছেন, ভারতীয় মিষ্টি। উনি নিজেও খাচ্ছেন, আমাদেরো উৎসাহ দিচ্ছেন। মিষ্টি আমার ঘোর অপছন্দের জিনিস, আমি এড়িয়ে যাচ্ছি। 
    হলের একটা দিকে একটা কাচের আলমারির মত জিনিস, তার মধ্যে ভর্তি হরেকরকমের কোল্ড ড্রিংক্স। পাশে একটা যন্ত্র আছে তাতে পয়সা ফেললে অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান বা প্লাস্টিকের বোতল ধুপ করে বেরিয়ে আসে। এমন অদ্ভূত যন্ত্র আমি এর আগে কস্মিনকালেও দেখিনি। আমার সোভিয়েত দেশে প্লাস্টিক নেই। অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানও নেই। সব কিছু কাঁচের বোতলে বা বয়ামে করে বিক্রি হয়। প্লাস্টিকের প্যাকেটও নেই। সব কাগজের ঠোঙায়, ঠোঙাও কিনতে হয়। নইলে আমরা কাপড়ের থলেয় করে জিনিস ভরে নিই।
    এতক্ষণে বুঝলাম বাংলাদেশ সেন্টারের লোকটা আমার বোতলগুলোকে কেন সন্দেহের চোখে দেখছিল। জল যে কাঁচের বোতলে করে বিক্রি হতে পারে তা এরা জানে না। এরা হাল্কা হাল্কা প্লাস্টিকের বোতলে করে পানীয় কিনছে, তারপর খাওয়া হয়ে গেলে অবলীলাক্রমে দুমড়ে ময়লা ফেলার বালতিতে ফেলে দিচ্ছে ফাঁকা বোতল বা ক্যান। কী স্মার্ট লাগছে দেখতে ব্যাপারগুলো। ইশ্, আমার সোভিয়েত দেশে এসব কিচ্ছু নেই। নিজেকে গ্রাম্য বোকাবোকা লাগে। হাঁ করে আমি পর্যবেক্ষণ করতে থাকি ঐ ভেন্ডিং মেশিনকে ঘিরে যুবক যুবতীদের আনাগোনা। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৬735401
  • আজ এক নাগাড়ে সব কটা মন্তব্য পড়ে ফেললাম। কিন্তু এখন? আবার অপেক্ষার পালা শুরু। :)
  • সে | 194.56.48.103 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:২০735402
  • অধ্যাপক আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করছেন। হয়ত একাধিকবার। আমি এতটাই বুঁদ হয়ে ঐ মেশিনটা পর্যবেক্ষণ করছিলাম, যে কানে কিছুই ঢোকে নি। আকন্দবাবু আমাকে হালকা করে ঠেলা মারলেন, আমার হুঁশ ফিরল। প্রৌঢ় অধ্যাপক আমার দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে, সে চোখে কৌতুক, সে চোখে মায়া মায়া স্নেহ।
    - ড্রিংক্স খাবে? পিপাসা পেয়েছে?
    - না না!
    আমি লজ্জা পেয়ে যাই।
    উনি পকেট থেকে পয়সা বের করে ভেণ্ডিং মেশিনের দিকে এগিয়ে যান। আমি মাথা নীচু করে ফেলি। আর তখনই নজর পড়ে টেবিলটার ওপর, এটাও প্লাস্টিক! চেয়ারগুলো প্লাস্টিকের!
    আমাদের ইন্সটিটিউটের সবকটা চেয়ার টেবিল স অ অ ব কাঠের এবং লোহার নাটবল্টু লাগানো, আর উঃ কী ভারী সেগুলো। আমি শুধু আবিষ্কার করে চলেছি প্লাস্টিক।
    উনি এক বোতল কোকাকোলা এনে রাখলেন আমার সামনে। কোকাকোলা খেতে খেতে ঠিক করলাম, এই বোতল আমি প্রাণে ধরে কিছুতেই দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দিতে পারব না।
    এরপরে উনি সরাসরি শুরু করেন আমার সঙ্গে কথোপকথন। আমি কী করি, কী নিয়ে পড়াশুনো করছি সোভিয়েত দেশে, এবং আমার এইরকম করে একা একা দেশ দেখতে বেরিয়ে যাবার অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মন, - এ সবেই উনি কেমন মুগ্ধ হয়ে যান। এমনকি আমার বাংলা বলাটাও উনি যাকে বলে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে থাকেন।
    এই পুরো ব্যাপারটা আমি অনুভব করছিলাম, শ্রোতার মুখের অভিব্যক্তি পড়তে না পারার মত বোকা মেয়ে আমি নই।
    এবার উনি আমাকে একটা প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন। প্রস্তাব ও বটে, অনুরোধও বটে। অথবা খানিকটা আদেশও বলা যেতে পারে।
    এই প্রস্তাবের জন্য আমি একদম প্রস্তুত ছিলাম না।
  • সে | 194.56.48.103 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৫৮735403
  • - তুমি থেকে যাও। ফিরে যেতে হবে না রাশিয়ায়।
    - মানে?
    লোকটা পাগল নাকি? কী বলছে, ও নিজে জানে? আমি বেড়াতে এসেছি প্রায় এক কাপড়ে বলতে গেলে, হাতে টাকা পয়সা কিছুই প্রায় নেই, বাসস্থান নেই, আহ ওসব ভাবছি কেন, আমি তো টুরিস্ট। আমামার টুরিস্ট ভিসা, তিনমাসের মেয়াদ। মাস দেড় দুই পরেই আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে, এখানে থেকে যাবো..., কী আবদার!
    - মানে এই লন্ডনে থাকবে, এখানে এই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে, আমি ব্যবস্থা করে দেবো।
    - না।
    - না কেন?
    আমার হাজারটা যুক্তি আছে, এই "না কেন" র উত্তরে। কিন্তু কোনটা আগে বলব সেটা বুঝতে পারছি না। তবু বললাম।
    - আমি টুরিস্ট ভিসায় এসেছি।
    - ওটা কোনও সমস্যা না। ওটা নিয়ে ভাবতে হবে না।
    - আমি ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স ডিগ্রি প্রায় শেষ করে এনেছি, আর মাত্র চারটে সেমিস্টার বাকি...
    - ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হবে না, তুমি ইকোনমিক্স পড়বা।
    আমি হাঁ হয়ে লোকটার দিকে তাকালাম। মামার বাড়ির আবদার! আমি ইকোনমিক্স পড়ব সেটা উনি ঠিক করে দেবেন। উনি বোধহয় ভাবছেন আমি ওঁর এই টোপ গিলেছি। তাই গড়গড় করে কতকিছু বলে যান। তুমি এই করবা, সেই করবা।
    এবার আকন্দবাবুও দেখলাম আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন। আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। ব্যাটা প্রোফেসর ভেবেছেটা কী? আমি ফেলনা? আমার নিজের কোনও পছন্দ অপছন্দ, ভালো লাগা, তারপর ঐ কী বলে যেন... হ্যাঁ, মনে পড়েছে, জীবনের উদ্দেশ্য নেই? আমার প্রাণের অর্ধেকটুকু আমি ফেলে এসেছি আমার ঐ প্রিয় মরূদ্যান শহরে, হোক তা কম আধুনিক, হয়ত তা গরীব, আনস্মার্ট, বোকা, হোক তা যত খারাপ, ঐ টান আমি ছিঁড়তে পারব না। সব আমি বলে যাচ্ছি মনে মনে। নিজের দেশ ছেড়ে প্রথম যখন বিদেশে পড়তে যাচ্ছিলাম, তখনও এত পিছুটান আমার ছিল না। কিন্তু এই কটা বছরে যত ভালবাসা পেয়েছি, যত কিছু শিখেছি, আর যত ভালোবাসা দিয়েছি ঐ দেশটাকে, তা হাজার লোভ দেখালেও দাঁড়িপাল্লায় ব্যালেন্স হবে না।
    অধ্যাপকের কথার উত্তর আর দিই না। উনি তবু ঘুরে ফিরে প্রস্তাব দিতেই থাকেন, দিতেই থাকেন। একবার এরকমও মনে হয়, শালা তুই আমার বাপের চেয়ে বয়সে বড়ো, আমার ওপর এত টান কেন রে?
    উনি নিজেকে মাঝেমাঝেই ইন্ডিয়ান বলেন, আবার শুধরে নেন, যদিও উনি ব্রিটিশ নাগরিক। আসলে জানা যায়, উনি দেশ ছেড়েছিলেন ১৯৪৭ এর আগে। তাই কনফিউজড। বাংলাদেশিরা ওঁকে নিজের লোক ভাবে। কারন উনি ঢাকার লোক, কারন উনি একজন মুসলমান। না দেখেছেন উনি দেশভাগ, না দেখেছেন মুক্তিযুদ্ধ। কোলকাতাতেও নাকি যেতেন সেই অবিভক্ত ভারতে।
    মরুক গে, ওসব ভেবে আমি কী করব?
    আলোচনা, গল্প, আড্ডা, শেষ হলে আমরা বের হয়ে রাস্তায় আসি। আবার মেঘ করেছে, আবার বৃষ্টি শুরু হল বলে।
    কাল খুব সম্ভবত ইদ। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নাকি জানা গেছে কাল আকাশ থাকবে পরিষ্কার।
  • সে | 194.56.48.103 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৪৩735404
  • তারুণ্য ও যৌবনের গর্ব-অহংকারে কোনও লোভনীয় প্রস্তাবকে ধুলিস্যাৎ করায় যে তৃপ্তি আছে, সেটা অনুভব করছি রাস্তায় বেরিয়ে আসার পরে। আকন্দবাবু ও আমার পথ এখন আলাদা। উনি যাবেন কর্মসংস্থানের খোঁজে, সম্প্রতি উনি বেকারভাতা পাচ্ছেন, সেই ভাতা পেতে হলে কাজ খুঁজে চলা মূল পূর্বশর্ত। অতয়েব উনি কাজ খুঁজতে গেলেন এবং আমি একা একা ফিরতে লাগলাম কেনসিংটন সাউথের দিকে। আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বের হবার পরেও কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকি।
    বৃষ্টি থেমে গিয়েছে তবে রাস্তা অল্প ভেজা ভেজা, সময় এখন দুপুর, মোড়ের মাথার কিওস্কটা ঝিমোচ্ছে এবং ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো আশা নিয়ে ঝুলছে কোনও ধীর পথ্চারীর কয়েক ঝলক মনোযোগের অপেক্ষায়। এই মোড়টাতে এলেই আমার প্রত্যেকদিন রাস্তা গুলিয়ে যায়।
    এতক্ষণে বুঝলাম যে দোটানায় পড়ে গেছি। অধ্যাপক অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা প্রশংসার আকারে বলে গেছেন, যেগুলোতে মেয়েদের মন গলবেই।
    সুন্দরী বা মিষ্টি গোছের শব্দ দিয়ে আমার মন জয় করবার বদলে, বুদ্ধিমতী, সাহসী, সপ্রতিভ, এসব বিশেষণ অনেক বেশি কার্যকরী - সেটা উনি বিলক্ষণ জানেন। অল্প বয়সে এদেশে এসেছিলেন, ব্রিটিশ মেমকে বিয়ে করেছেন, ডিভোর্স হয়ে গেছে, দুই কন্যারও বিয়ে হয়ে গেছে, এদেশে উচ্চশিক্ষা, অধ্যাপনা সবই করেছেন, মেয়েদের মন জয় করবার এসব কায়দা তো ওঁর বাঁ হাতের খেলা।
    তবু মন বলে চলে, হয়ত উনি সত্যিই প্রতিভা খুঁজে পেয়েছেন এই আধপাগলা উড়নচন্ডির মধ্যে। হয়ত আমার সন্দেহ ভ্রান্ত। আমি কনফিউজড হয়ে যাই। হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে থাকি, তবে কি সত্যিই থেকে যাবো? গ্রহণ করবো অধ্যাপকের প্রস্তাব? কিন্তু পরক্ষণেই হাতছানি দেয় আমার বর্তমান জীবন, আমার বন্ধুরা, শহর, হোস্টেল, ক্লাসের সহপাঠীরা, আকসানা, লুবা, লরেত্তা, নেল্লী, বারিস, ভোভা, ভালোদিয়ারা। যাদের সঙ্গে এতটাই সখ্যতা গড়ে উঠেছে, যা কোলকাতাতেও কোনও বন্ধুর সঙ্গে হয় নি। কিংবা আমার হোস্টেলের বান্ধবীরা, হোক তারা নানান দেশের, তবু তাদের সঙ্গে যখন স্নানঘরে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প হয়, মনে হয় সেই ঢাকাঢুকি স্যাঁৎসেঁতে আধো আলোর বাথরুম যেন মহেঞ্জোদরোর উন্মুক্ত স্নানাগার। চার পাঁচজন সহচরী সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে রূপচর্চা, আড্ডা, হাসাহাসি, ভাগাভাগি করে শ্যাম্পু করা, এ সমস্তই আমি মিস করব। এমন সখ্যতা লন্ডনে মিলবে না। নাহ! আমি মনস্থির করে ফেলেছি। আমি বাড়ি ফিরে যাব। বাড়ি মানে হোস্টেল। এখানে আর বেশিদিন নয়।
  • জয় | 82.1.126.236 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:০৩735405
  • @সেদি 
    রাশিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন আগে কোথাও? লিখে থাকলে- লিঙ্ক দেবেন বা সাইনপোস্ট করবেন? না লিখলে- তার জন্য বায়না করছি।   
     
    এমন লেখা! আহা! 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:1c44:dd2f:4d07:353c | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:২১735406
  • টু গুড 
  • syandi | 45.250.246.131 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০২:২৩735407
  • 'সে ' সত্যিই গল্প বলতে জানেন। এর আগে কমিউনিস্ট রাশিয়ার ঘটনাগুলিও উনি খুব গুছিয়ে লিখেছিলেন। খুব উপভোগ করছি আপনার এই লেখাটা। 
  • lcm | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:০৩735408
  • জয়,
    আপনি সে-এর রাশিয়ার অভিজ্ঞতা কিছুটা পাবেন এই থ্রেডে -
    https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=11663
    মোটামুটি ২১-২২ পাতা থেকে ফলো করলে পাবেন। আরও এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে সে মাঝেমধ্যে লিখেছেন ওনার রাশিয়ার অভিজ্ঞতার কথা।
  • জয় | 82.1.126.236 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:৫৫735409
  • @lcm
    উরিব্বাস- খনিতো! ধন্যবাদ
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:a0e0:dccc:e2ca:8880 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ২২:০৪735413
  • কালকে
  • :|: | 174.251.168.95 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:৫৯735415
  • টইয়ের প্রথম পোস্টে এই ছত্রগুলি থেকে মনে হচ্ছে লেখিকা সেসময় লিভটুগেদার করছিলেন: "এইরকম একটা টাইমে বয়ফ্রেন্ডের হাতে রেগুলার নিগৃহীত হতে হতে, মধ্য এশিয়ার একটা মরূদ্যান শহরে  আমার মনের মধ্যে হঠাৎ ঘটে গেল সিস্টেমিক পরিবর্তন।
    হাতে তখন আমার মোট দুটো অপশন, হয় পড়ে পড়ে মার খাও, নয়ত পালাও। আমি সেকেন্ডটা চুজ করলাম।"
    আবার আপাত শেষ ​​​​​​​পোস্টটি ​​​​​​​পড়ে ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হচ্ছে লেখিকা ​​​​​​​সেসময় মেয়েদের ​​​​​​​সঙ্গে হোস্টেলে ছিলেন। "কিংবা আমার হোস্টেলের বান্ধবীরা, হোক তারা নানান দেশের, তবু তাদের সঙ্গে যখন স্নানঘরে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প হয়, মনে হয় সেই ঢাকাঢুকি স্যাঁৎসেঁতে আধো আলোর বাথরুম যেন মহেঞ্জোদরোর উন্মুক্ত স্নানাগার। ... নাহ! আমি মনস্থির করে ফেলেছি। আমি বাড়ি ফিরে যাব। বাড়ি মানে হোস্টেল।"
    এখন ​​​​​​​প্ৰশ্ন ​​​​​​​হলো ​​​​​​​কোনটা ​​​​​​​(গল্প হলেও) সত্যি? 
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:5c7b:7ed:307d:ab8a | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৫:৩৩735417
  • সকলের জন্য তেহরানের স্বপ্ন আলাদা টইয়ে তুলে দিলাম। তবে এই টইটাও চলবে।
  • Amit | 60.240.147.97 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:১৬735421
  • চতুর্মাত্রিক এর প্রশ্নটা অদ্ভুত লাগলো। সে একটা হালকা মেজাজের নিজের ট্রাভেলগ লিখছেন - এই টুকুই। সেখানে তিনি তার পার্সোনাল লাইফ র যতটুকু শেয়ার করবেন সেটা তার নিজের অধিকার। অন্য কারোর নয়। সাল তারিখ বা জায়গা ভুল ধরাটা এক জিনিস। আর এগুলো অন্য জিনিস বলেই তো মনে হয় ?
  • sch | 103.88.218.189 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:০৫735422
  • সে দি'র রাশিয়ার লেখা কি বই হবার সম্ভাবনা আছে? ওখানকার একাডেমিক লাইফ শুদ্ধু লিখলে খুব ভালো লাগবে পড়তে
  • Reader | 193.239.232.102 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:২৮735424
  • অমিত এইটেকে সত্যি ঘটনা না ভেবে গল্প ভাবলেই দেখবে গল্পে বড় বড় ফুটো। পিস বাই পিস লেখার ফলে ঢপের খাতা ঠিকঠাক আপডেট হচ্ছে না।
  • :|: | 174.251.168.95 | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ১১:০৪735425
  • ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:১৬- এর প্রতিক্রিয়াটা বেশ অদ্ভুত লাগলো। আমি তো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনও প্রশ্নই করিনি। শুধু ডিস্ক্রিপ্যান্সিটা পয়েন্ট আউট করেছি। হালকা চালের ট্রাভেলগ বলে কাহিনীর কোনও পারম্পর্য থাকবে না নাকি! অদ্ভুত তো! "লেখিকা" বলেছি কারণ কাহিনী উত্তম পুরুষে লেখা হচ্ছে আর নায়িকার নাম কোথাও দেখেছি বলে খেয়াল করতে পারছিনা। যে লেখায় উনি হোস্টের বড় ছেলে না মেজো ছেলে এটুকু ভুলও পরে এসে শুধরে নেন, সেখানে এই রকম একটা ফাঁক এমনিই থেকে যাবে? 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন