ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • (বুড়ো) শিশুদিবস

    Swati Chakraborty লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ১৮৯ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • শিশুদিবসে শিশুদের নিয়ে কিছু লিখব সেটাই ভেবেছিলাম কিন্তু হ্যাংলা মন নিজের শিশুকাল থেকেই এখনো বেরোতে পারে নি। আর শিশুকালের প্রশ্রয় পাওয়া যায় তো একমাত্র স্কুলে। বাড়িতে মা বাবাও বাবাঃ কবে যে স্কুল খুলবে বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। আমি পড়তাম কোএড স্কুলে। স্যার এবং দিদিমনি সকলের শাসন ও ভালবাসা পেয়েছি। সেই সব স্মৃতিই আজ ঢেউ তুলছে। মনের গুদোমঘর হাতড়ে দেখি আপাতত কটা মণি মুক্তো পাওয়া যায়।

    আশালতা ঘোষদস্তিদার, সব টিচার দের নাম খুঁজে দেখা গেল সুদেষ্ণার কথাই ঠিক। দুটো নাম আর দুটো টাইটেলের আর কোনো টিচার পুরো স্কুলে নেই। বাংলা পড়াতেন উনি। পান মুখে দিয়ে ক্লাসে আসতেন। খুব সুন্দর একটা গন্ধ বেরোতো। কাউকে বিশেষ বকাঝকা করতেন না, পড়ানোটাও বয়সের দোষে এখন আর আমার বিশেষ মনে নেই। তবে তখন ওনাকে কাছে গিয়ে মনের কথা বলা যাবে মনে হত। মনের অলিন্দে সেই গন্ধ এমন বসে আছে, যখন‌ই পাই ক্লাসরুমে ফিরে যাই।
     
    যেদিন স্নিগ্ধার দিদা মারা গেলেন সেদিনটা আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। সুবর্ণা দিদিমনিকে স্কুলে একজন খবরটা দিল। সেদিন আমাদের পরীক্ষা চলছে হাফ ইয়ার্লি। মনে আছে পরীক্ষার রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন শচীন স্যার কারন ওখানে তখন স্নিগ্ধা বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু আমি জানলার সামনাসামনি বসায় দেখলাম সুবর্ণা দিদিমনি মাঠের মাঝখান দিয়ে ধীরে পায়ে হেঁটে চলেছেন, কিন্তু ওঁর পায়ের তলার মাটিটা হয়তো কেঁপে উঠেছিল, দিদিমনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন। শচীন স্যার ভগিনীসম সহকর্মীকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে এলেন স্টাফ রুমে।
     
    রিঙ্কু আর সাবিত্রী ক্লাসের সামনে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে। টিফিন চলছে। ক্লাসের দুই সুন্দরী। মাঝেমধ্যেই লাল গোলাপ, দীর্ঘ, নাতিদীর্ঘ চিঠিপত্র আসে। আমরা নায়িকার বোন, বন্ধুর রোলে থাকি। তা হঠাৎ কোথা থেকে একটা আলো বারবার রিঙ্কুর মুখের ওপর এসে পড়তে লাগলো। এবং দেখলাম সুব্রত স্যার স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন এবং একটু পরে দুজন দুঃসাহসী তরুণকে পাকড়াও করে নিয়ে এলেন। তারা তাদের ভৌতবিজ্ঞান পড়াকে হাতিয়ার করে ওদের মুখের প্রতিফলন ঘটিয়ে ফটো তোলার চেষ্টা করছিল। স্কুলে তো হ‌ইহ‌ই পড়ে গেল। এমন সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানীদের নিয়ে কি করা যায়। তবে, টিফিন এর সময়‌ও স্যারদের এমন কড়া তদারকিই যে মা বাবার স্বস্তির আসল কারণ বোঝা গেছিল।
     
    স্কুল-এর বন্ধুদের বিভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্হা ছিল। কারোর উচ্চ মানের কারোর ঢালু দিকে। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক সেভাবে চলত না। ক্লাস ফাইভ থেকে টুয়েলভ স্যার দিদিমণিরা শিশু হিসাবেই দেখে গেছেন। বড় শিশু, ছোটো শিশু। লায়েক স্যার এর এগিয়ে আসা লাঠি যা কখনো কারোর পিঠে পড়ে নি, খেলার সঞ্জয় স্যারের কাছে কখনো বলতে বাড়তি লজ্জাবোধ হয় নি যে স্যার আজ আমি পিটি করব না, পেটে ব্যাথা। বিজ্ঞানের তাপস স্যারের বাড়ি গিয়ে সেমিনার এর প্রস্তুতি করে এসেছিলাম। সফিউদ্দীন স্যারের সরস্বতী পূজোয় নিখুঁত বোঁদে ভাগ। ইংরাজীর  স্টপগ্যাপে নতুন স্যার এলেন। বিশপ উইথ ক্যান্ডেল নাটক করালেন। নাটক শেষে প্রত্যেকের জন্যে ক্যাডবেরি আর হাতে করা অয়েলপেইন্টিং এর বুক মার্ক। সেদিনই বুঝেছিলাম ইংরাজী ব্যাপারটার মধ্যে কোনো আটপৌরে ব্যাপার নেই।

    আর একটা ঘটনা দিয়ে লেখা শেষ করব। ক্লাস ওয়ান। একটা বন্ধু কেন জানি না রোজ টিফিনে টমেটো আনত। সুন্দর লাল রঙের টমেটো। আমি যখন যেটা মা দিতো নিয়ে যেতাম। খাওয়ার খুব একটা সময় থাকত‌ও না তাই টিফিন নিয়ে বিশেষ মাথাও ঘামাতাম না। কিন্তু ওই বন্ধুটি রোজ ওই টমেটো এমন আপেল খাওয়ার মত করে খেত যে আমার মনে হল টিফিনে টমেটো না খেলে জীবন বৃথা। বাড়িতে বসে খেয়ে সে মজা নেই। মায়ের কাছে প্রস্তাব দিলাম। মা এমন অদ্ভুত প্রস্তাবে বিরক্ত, অবাক, মজা সব‌ই একসাথে অনুভব করেছিল আজ বুঝি। কারণ আমার সেই প্রস্তাব সেদিন বিশেষভাবে গৃহীত হয়েছিল এবং আগামী সাতদিন শুধু ওই একই টিফিন পেয়েছিলাম যতক্ষন না নাক কান মোলেছিলাম এই বলে যে আর কখনো কারোর কিছু দেখে বাড়ীতে এসে চাইব না।

    কতশত ঘটনার মালা দিয়ে শিশুকাল আঁকা হয়। শিশু কখনো সম্পূর্ণ ভাবে মুছে যায় না জীবনে পোড় খাওয়া কোনো মানুষ এর মন থেকেও। তাই তো সব বড় চায় আবার শিশু হয়ে যেতে, আবার শিশুর চোখ দিয়ে জীবনকে উপভোগ করতে। তাই আজকের শিশুদিবস আমি সব বুড়োশিশুদের নামে করেছি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন