এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  পড়াবই  কাঁটাতার

  • ৫০ বছরে বাংলাদেশ যা পারে, ভারত পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গ ৭৫ বছরে তা কেন পারে না?

    ইমানুল হক
    পড়াবই | কাঁটাতার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৪৮৭১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৮ জন)
  • ১৯৪৭ উত্তর ভারতবর্ষ জন্ম দিয়েছিল নতুন কিছু শব্দবন্ধের। এই প্রবীণরা কখনও স্বাধীনতা বলেননি, বলেছেন পার্টিশন, তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে শব্দ ভারতের অবদান। পার্টিশনের হাত ধরে এসেছে উদ্বাস্তু। রিফিউজি কলোনি। তারও পরে এসেছে অনুপ্রবেশ। বসেছে কাঁটাতার। এসেছে এনআরসি, নতুন নাগরিকত্ব আইন। শুরু হয়েছে "বৈধ-অবৈধ" বিচার। শোনা যাচ্ছে, নতুন শব্দবন্ধ, "অবৈধ অনুপ্রবেশ"। যাঁরা বিচার করছেন, তাঁদের বিচার কে করে। এসব শব্দের, আখ্যানের জন্ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশভাগের এই আদি পাপ, মুছে দেবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এভাবেই থেকে গেছে বেদনায়, ভাষায়, আখ্যানে। থেকে গেছে, এবং এখনও যাচ্ছে। সেই আখ্যানসমূহের সামান্য কিছু অংশ, থাকল পড়াবই এর 'কাঁটাতার্' বিভাগের দ্বিতীয় সংখ্যায়।


    লেখা।

    দু অক্ষরের শব্দ।
    কিন্তু ব্যাপ্তি বিশাল।
    লেখার কোনো মূল্য নেই যদি না তাতে দর্শন থাকে। দর্শন মানে ভিন্ন চোখে দেখা ও একটি জীবন দর্শন। যে জীবন দর্শন না দেখাকে দেখতে বলে, অথবা দেখাকে ভিন্ন চোখে দেখতে শেখায়।

    অমল সরকার পেশায় সাংবাদিক, নেশায় জীবনপড়ুয়া।
    তিন দশকের বেশি সাংবাদিক জীবন। রাজনীতি অর্থনীতি সমাজের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভারতের দুই তৃতীয়াংশ রাজ্য নির্বাচন ইত্যাদি কাজে গেছেন। গেছেন একাধিকবার বাংলাদেশ। পাকিস্তানে যান নি। কিন্তু পাকিস্তান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন মনস্ক ভাবে।

    অমল সরকার একটা বই লিখেছেন, আমার দেশ আমার দ্যাশ
    দেশভাগ ও পরবর্তী কুফল সুফল-- দুই আছে তাঁর আলোচনায়। ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ আছে তার আলোচনায়।

    স্বাধীনতার পরও পশ্চিমবঙ্গ শিল্প, শিক্ষা  ও কর্মসংস্থানে অন্য অনেক রাজ্যের চেয়ে এগিয়েছিল। পিছিয়ে পড়ল। কেন? মূলত, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি। যে সরকারই দিল্লিতে এসেছে, কংগ্রেস, জনতা বা বিজেপি-- কেউই পশ্চিমবঙ্গের ভালো চায় নি। মাশুল সমীকরণ নীতি, লাইসেন্স দিতে গড়িমসি, প্রাপ্য টাকা না দেওয়া, ভারি শিল্প দুর্গাপুর ছাড়া আর কোথাও সেভাবে না গড়া, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা দূরে গেলে সস্তা হবে, আর তুলো দূর থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনলে দামি হবে-- এইসব কারণে পশ্চিমবঙ্গ মার খেয়েছে। এটা শুধু শ্রমিক অসন্তোষ বা বাম আন্দোলনের দায় নয়। শুধু ৩৪ বছরকে দোষ দেওয়া ঠিকনয়,মনে করেন লেখক।

    আর রাজ্যের যে-সব নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে গণি খান চৌধুরী, অজিত পাঁজা ও  মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া রাজ্যের জন্য কেউ তেমন কাজ করেন নি। এবং আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ছাড়া বাকি দলের বড় নেতারা সর্বভারতীয় হতে চেয়ে গায়ে যাতে বাঙালি ও প্রাদেশিক ছাপ না লাগে তার দিকে নজর  রাখতে গিয়ে বাংলার ক্ষতি করেছেন। ১৯৭৭-১৯৮৬ বামফ্রন্ট বিশেষত, অশোক মিত্র বাংলার তপথা রাজ্যের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি সরকার ছাড়লেন।পরে কম্ল। ১৮৮৪-এ ন্তুন শিল্পনীতি। নতুন ভাবনা।

    অশোক মিত্র পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার জন্য যাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব  ছিলেন, সেই প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনিই তো আটকে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের টাকা, প্রক্রিয়া। গুজরাট ও রিলায়েন্সের স্বার্থে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের লাইসেন্স প্রাপ্তি ২০ বছর আটকে রেখেছিল কে এবং কারা? কটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন রাজ্যের প্রভাবশালী কংগ্রেস বা বিজেপি নেতারা-- নিজের এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গের একটা নেতিবাচক প্রবণতা হল, প্রাকৃতিক বিপর্যয় অন্য রাজ্যে সব দল কেন্দ্রীয় সহযোগিতা চেয়ে দিল্লিতে দরবার করে। এ-রাজ্যে সরকারি দলকে বিপদে ফেলতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে থাকা দল সবসময়ই বিরোধিতা করে। বলে, টাকা দিও না।

    রণজিৎ রায়ের পর সাংবাদিক  অমল সরকার বই লিখে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, কীভাবে বাংলা বঞ্চিত। অশোক মিত্র, তপন মিত্র, অশোক দাশগুপ্তরাও বাংলার বঞ্চনা নিয়ে লিখেছেন। অমল সরকার একটা আস্ত বই লিখে ফেলেছেন বাংলার বঞ্চনা নিয়ে।

    তিনি দেখিয়েছেন, ১৯৭৭ এর অবস্থা থেকে বামফ্রন্ট সরকার অনেকটা এগিয়েছিল রাজ্যকে। কিন্তু অসীম দাশগুপ্তের ঘাটতি শূন্য বাজেট নীতি, দিল্লিতে বছর বছর টাকা ফেরৎ যাওয়া, এই খাতের টাকা ওই খাতে খরচ করা, বেতন পেনশন ও ঋণশোধে  সিংহভাগ ব্যয়, কেন্দ্র থেকে প্রাপ্য ঠিক মতো ও সময়ে না পাওয়া, ভোটের ভয়ে কর না বসানো, বিক্রয়কর আদায়ে ঢিলেঢালা ভাব, কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কম আসা, সর্বোপরি স্থিতবস্থার রাজনীতি -- রাজ্যের উন্নয়নের বাধা।  ২০১৩ তে একটা আন্তর্জাতিক সমীক্ষা হয়, তাতে ৮১টি বিষয়ে তুলনামূলক বিচার করে ভারতের ৩৪ টি রাজ্যের একটা পর্যায়ক্রম করা হয়। তাতে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দাঁড়ায় ২১।

    ২০১১ তেও তাই ছিল। তবে ২০২০তে অনেক  এগিয়েছে রাজ্য। লেখক জানাচ্ছেন, 'ইন্ডিয়া টুডে'-র সমীক্ষা অনুযায়ী বেস্ট পারফরমিং স্টেটের বিচারে পশ্চিমবঙ্গের স্থান এখন ১০। এবং বেস্ট ইমপ্রুভড স্টেটের বিচারে চতুর্থ। 

    বইটিতে অজস্র তথ্য, পরিসংখ্যান আছে। আগ্রহী পাঠক দেখতে পারেন। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বিচিত্র পরিসংখ্যান মিলবে  বইয়ে।

    লেখক লিখেছেন: বর্তমানকে জানতে, বুঝতে সুদূর এবং নিকট দুই অতীতকেই জানা জরুরি। সেই জানতে ও জানাতে লিখেছেন আটটি লেখা। এক জাতি, দুই দেশ, ধর্মনিরপেক্ষতা-স্বাধিকার-সাম্য এবং বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা, অনুপ্রবেশ-তোষণ-এনআরসি-সিএএ এবং বিভাজনের রাজনীতি, বাংলা-বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ, সোনার বাংলা ও এক বাবা ও মেয়ের কাহিনি, সোনার বাংলা সোনার পাথরবাটি, বাংলাদেশ: আমরা যা শিখতে পারি ।

    অমল সরকারের পূর্বপুরুষ পূর্ব বঙ্গের মানুষ। দেশভাগের আগেই চলে আসা। এই ধরনের পরিবারের সদস্যদের লেখায় অনেক সময় নস্টালজিয়া বা হা-হুতাশ বড় হয়ে দেখা দেয়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।

    কিন্তু অমল সরকার এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের ব্যতিক্রমী।

    দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ ৭৫ বছর পার করল। আর বাংলাদেশ দুটো দেশভাগ দেখেছে। দ্বিতীয় দফায় তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। নতুন রাষ্ট্র। সমস্যা লাখ লাখ। কারখানা নেই তেমন। ভারি শিল্প নেই। বিপুল খনিজসম্পদ নেই। সোনার ভাণ্ডার নেই। বিদেশি মুদ্রা আসে দান হিসেবে। সেই দেশ  বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন, আত্মত্যাগ ও তাঁর কন্যার শাসনকালে এবং সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ নিয়ে কীভাবে এশিয়ার সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের দেশ হয়ে উঠল -- এটা দেখিয়েছেন অমল সরকার।

    দু পাড়েই বাংলা ও বাঙালি।
    বাংলাদেশ পারল পশ্চিমবঙ্গ  কেন পারল না?
    জানতে বুঝতে পড়তে হবে 'আমার দেশ আমার দ্যাশ'।

    ভারতের উন্নতি কেন থেমে গেল? পাকিস্তানে কেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হল না, আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ না ঘটলে বাজার ও শিল্পের বিকাশ ঘটে না।
    অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব। দেখিয়েছেন অমল সরকার।
    বাংলাদেশ যে যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানে। বঞ্চনা, অবকাঠামো, অনুন্নয়ন, বিমাতৃসুলভ মনোভাব-- সবকটির শিকার ভারতে পশ্চিমবঙ্গ।
    তাহলে পূর্ব পাকিস্তান  কেন পূর্ব বঙ্গ থেকে বাংলাদেশ হতে পারল?
    কারণ তাঁরা মেনে নেয় নি, এবং মনে নেয় নি।

    পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের বড় অংশ দিল্লির কাছে সর্বভারতীয় হয়ে ওঠার দায় দেখাতে হয়েছে। ফলে বিধানচন্দ্র রায় থেকে জ্যোতি বসু বঞ্চনার কথা বলেও চুপ করে আপোস করতে হয়েছে।

    মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' হয়ে ওঠার আগেই ছয় দফা দাবি তোলেন। তোলেন পূর্ববঙ্গের নিজস্ব মুদ্রা, মুদ্রাভাণ্ডার ও  নিজস্ব রিজার্ভ ব্যাংকের কথা। কেন্দ্রীয় সরকারের কেন অর্থমন্ত্রী থাকবে? এগুলো তো থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। সোভিয়েত ইউনিয়নে তো তাই হয়েছে। তাই উন্নতি করতে পেরেছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন মুজিবুর রহমান। অমল সরকার মুজিবুর রহমানের সংসদ ভাষণ, ছয় দফার দাবি অনুপুঙ্খভাবে তুলে এনে দেখিয়েছেন পূর্ব বঙ্গ কীভাবে বঞ্চিত।

    'আমার দেশ আমার দ্যাশ' বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৭২।
    লেখা মাত্র  আটটি। কিন্তু প্রতিটি লেখায় অজস্র উপপ্রসঙ্গ, স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা, পাঠ, মত বিনিময়, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সমাজদর্শন, ভিন্নতর বীক্ষা ও দিশার বিপুল হদিস মিলবে। এই বইয়ের সব লেখার সঙ্গে আপনি একমত নাও হতে পারেন, বিশেষ করে, আপনার নিজের মত তৈরি থাকলে তো বটেই, কিন্তু বইটি পাঠ শেষ করে আপনাকে ভাবতে হবে-- আগের ভাবনায় কতটা দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। বা পারা উচিত নাকি আরেকবার পড়তে শুরু করবেন তর্ক করবেন বা তুলবেন বলে। এ বই তর্ক তোলার, তর্ক থামানোর নয়।

    বইটির উৎসর্গ পত্রে নাম আছে রণজিৎ রায়, দেবাশিস ভট্টাচার্য, পরিমল সরকারের।

    রণজিৎ রায় অতীতের নামী সাংবাদিক। পশ্চিমবাংলা কীভাবে বঞ্চিত হচ্ছে দিল্লির মসনদীদের হাতে, ধ্বংসের পথে বাংলা, বলে জানিয়েছিলেন তিনি। মাশুল সমীকরণ নীতি, লাইসেন্স রাজ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশি টাকা নিয়ে গিয়ে কম টাকা ফেরৎ দেওয়া, বিমাতাসুলভ আচরণ-- অনুপুঙ্খভাবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন রণজিৎ রায়। বাঙালি তাঁকে মনে রাখে নি। একদিন দিল্লির বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আর কোনো খবর পাওয়া পায় নি। তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট না বাঙালি-- প্রশ্ন ওঠে। রণজিৎ রায়ের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করেছেন অনেকটাই অমল সরকার। যদিও আরো অনেক তথ্য দরকার। আরো বিস্তারিত আলোচনা। এই বিষয়ে আরেকটি পৃথক বই লেখার দাবি রইল।

    সাংবাদিকতার বিশ্বকোষ দেবাশিস ভট্টাচার্য। অমল সরকার এবং দুজনেই তাঁর সহকর্মী ছিলাম। তখন এবং পরে বহু বিষয়ে তিনি দিক নির্দেশনা দেন। এই বইয়ে দেবাশিস ভট্টাচার্যের সহকর্মের ও সহমর্মের পরিচয় কিছুটা মিলবে।।

    বইয়ের প্রথম লেখা শুরু স্মৃতিচারণ দিয়ে। উদ্বাস্তু কলোনির অভিজ্ঞতা। কিন্তু এখানে চোরা মুসলিম বিদ্বেষ নেই। দেশভাগ নিয়ে বহু লেখাতেই যা অনিবার্য বিষয়।
    ভালভভরা রেডিও ছিল কলোনির প্রধান আকর্ষণ। পাকা বাড়ি বলতে স্কুল। সালমান রুশদির  'স্যাটানিক ভার্সেস' এবং 'হ্যারি পটার'-এর প্রকাশক রিচার্ড চারকিন ঢাকা ক্লাবে এক সকালের প্রাতরাশে বলেছিলেন, উদ্বাস্তু কোনো দেশের বিপদ নয়, দেশের সম্পদ।
    তাঁরা নতুন বসতির উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতিতে যথেষ্ট সহায়তা করেন।
    ইউরোপ থেকে শুরু করে সব দেশের ক্ষেত্রেই এটা সত্য।
    আমাদের বাংলায় শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশে উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম।
    যেকোনো কলোনি এলাকা দেখবেন, বিদ্যালয় পাবেন একাধিক। নাটক খেলার সংস্থাও চলে জোর কদমে।
    এবং এঁরা এটা করে থাকেন মানসিক শক্তির জোরে।

    নিজের মায়ের উদাহরণ দিয়েছেন লেখক। আজকের দিনে 'সমাদৃত' কেন্দ্রীয় বাহিনী পুলিশের সহযোগিতায় নকশাল আন্দোলনের সময় ঘর থেকে যুবকদের রাতে তুলে নিয়ে যেত। এঁরা অনেকেই ফিরতেন না।
    মেজদার খাতায় লেখা ছিল কেমিস্ট্রির ফর্মুলা, তাকে বোমা বানানোর ফর্মুলা ধরে তরুণ সুবিমল সরকারকে ধরে নিয়ে যাবে উল্লসিত বাহিনী। শিকার পাওয়া গেছে।
    মায়ের অসাধারণ সাহস আর জেদের কাছে হার মানতে হয়।

    এই উদ্বাস্তু কলোনির কাছে মুক্তিযুদ্ধ এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে। ঘরে ঘরে উচ্চারিত হয় মুজিবুর রহমানের নাম।
    তারপর বাংলাদেশ ও ভারতে পরিবর্তন এল। মুজিবুর রহমান নিহত হলেন।
    ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হলেন ভারতে।
    কলেজ বা বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালগুলো উঠল রাজনীতি ও অর্থনীতির বুলেটিন। দেওয়াল লিখন তখন নিছক ভোট দিন আর সম্মেলন সমাবেশের বিজ্ঞপ্তিতে পরিণত হয় নি‌।

    কেন্দ্র রাজ্যের পুনর্বিন্যাসের দাবিতে রাজ্যে গড়ে উঠল আন্দোলন। জ্যোতি বসু  প্রমোদ দাশগুপ্ত অশোক মিত্র তাকে অন্য ভাষা দিলেন। জ্যোতি বসু বললেন, খানিকটা যেন মুজিবের স্বরেই, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে টাকা ছাপানোর মেশিন আছে। ওদের যখন ইচ্ছে টাকা ছাপিয়ে নেয়। রাজ্য সরকারকে ভাগ দেয় না। আর রাজ্য সরকারের হাতে টাকা ছাপানোর মেশিনও নেই।'
    স্বর আরেকটু উঁচু পর্দায় যেতে পারত। গেলে দেশের মঙ্গল হতো। গেল না। কারণ সর্বভারতীয় হতে চাওয়ার দায়।

    অমল সরকার লিখেছেন: কংগ্রেস, বিজেপি যখন যে দল ক্ষমতায় থেকেছে, রাজ্যগুলিকে শোষণ করেছে। রাজ্যগুলিকে একদিকে রাজস্বের ভাগ কমিয়ে দিয়ে বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার সীমা স্থির করে দেওয়ার পাশাপাশি নানা শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার যে হাজার হাজার কোটি টাকা ( এখন লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা; গত সাত বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ বেড়েছে ৪৯ লাখ কোটি থেকে বেড়ে এক কোটি দুই লাখ  কোটি টাকা)  ঋণ নিচ্ছে তা নিয়ে জবাবদিহির বালাই নেই।

    রেডিওর সামনে সত্তর দশকে মুজিবুর রহমানের কথা শুনে লেখকের মনে পড়েছে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বীরত্বের কথা। 
    সাংবাদিকতা করতে এসে আরো বেশি করে চেনেন বাংলাদেশকে, এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে এ-দেশের মানুষের অজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট ধারণা কে।
    যে ধারণা আসলে অনুকম্পা এবং বিদ্বেষজাত । তার বাইরে যে বাংলাদেশ, আসল বাংলাদেশ-- তাকে ছুঁতে পারেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের কথায়:
    'আপনি ক্যাবল ইসসা লন।' আপনি কেবল ইচ্ছা করুন। থাকা খাওয়া ফ্রি।  অতিথি হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি এসেছে এই বাংলার কথা।
    সত্তর দশকে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান আন্দোলন নয়ের দশকের শেষে উল্টোপথে হাঁটতে থাকে। প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয় 'ভাষা ও চেতনা সমিতি'। অশোক মিত্রসহ বহু প্রতিষ্ঠিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী বামফ্রন্ট সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরব হলেন। বাংলা ভাষা আন্দোলন গড়ে উঠল। সারাদিন নববর্ষ উৎসব, সারা বাংলা ভাষা উৎসব পালন শুরু হল। এরপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি' ও অশোক দাশগুপ্তের নেতৃত্বে 'নবজাগরণ'। কলকাতায় হল বাংলায় নামফলক লেখা অভিযান।

    এর আগেই নয়ের দশকের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে অযোধ্যায় বাঙালি করসেবক, ইটপূজা। আর লেখক তখনকার অতি শক্তিশালী বিশ্বহিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘলের মুখে শুনেছেন ভিন্নকথা: আমি তো শুনেছি বাঙালিরা ভগবানে বিশ্বাসী নয়। বাংলা দেখেছে রামনারায়ণ রাম থেকে বাম, রাম সত্য হ্যায়, শুনেছে জয় শ্রীরাম।

    এর পটভূমি যে তৈরি ছিলি তার একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন লেখক।
    মুসলিম বৃদ্ধসহ মুসলিমরা  ভোট দিচ্ছেন ১৯৯৮-এ দমদম কেন্দ্রে পদ্মের পক্ষে, আসলে সিপিএমের বিরুদ্ধে-- বাবরি মসজিদ ওখানে ভেঙেছে এখানে তো মসজিদ ভাঙেনি।

    দ্বিতীয় উদাহরণ ট্রেনের। ১৯৯৪-এর।
    নৈহাটি লোকালে দুই তরুণীকে বিরক্ত করছে কিছু অবাঙালি তরুণ। যাত্রীদের কারো কারো প্রতিক্রিয়া: এদের ঘাড় ধরে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত'। কথাকাটাকাটি। গণধোলাইয়ের জোগাড়। তখন তরুণরা বলে উঠল, 'আপলোগ কেয়া সোচতে হ্যায়, হামভি হিন্দু হ্যায়'।
    'বদলে গেল পরিবেশ। ছেড়ে দিন ছেড়ে দিন। এসব বয়সকালের অসুখ।' একটু আগেই তরুণদের মুসলিম ভেবে পাকিস্তান পাঠিয়ে দিতে চাওয়া লোকের গলায় ভিন্ন সুর।

    মনোজগৎ বদলেছে আগে। তারপর রাজনীতির দুনিয়া। উপলব্ধি লেখকের। লেখক আক্ষেপ করেছেন:
    লোকসভা উপনির্বাচনে অন্ধ্র থেকে প্রার্থী হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের নেতা নরসিংহ রাও। অন্ধ্রপ্রদেশে তখন কংগ্রেস বিরোধী এন টি রামা রাও। তিনি বললেন, নরসিংহ রাও তেলেগু জনতার গরিব। আমরা প্রার্থী দেব না। জিতলেন নরসিংহ রাও।
    আর জ্যোতি বসুকে যখন বিজেপি বাদে কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল সাধাসাধি করছে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিপিএম নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হতে না দিতে ভোট দিলেন।

    বিজেপির সদর দপ্তরে সেদিন উল্লাস দেখেছিলেন বহু সাংবাদিক।
    বিজেপির সেই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকার গড়া। আজ তাঁরা দেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি।

    ##

    ভারতের বাংলা ও বাঙালির পিছিয়ে পড়া লেখকের আক্ষেপ ও যন্ত্রণার বিষয়। কলকাতায় বাঙালি সংখ্যালঘু হতে দেখেছেন তিনি, রামমোহন রায়ের গ্রামে দেখেছেন তপশিলি জাতির জন্য শ্মশান আলাদা। 
    লক্ষ্য করেছেন, করাচ্ছেন, ১৯৯১ থেকে ২০০১ থেকে বাংলায় হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়, শনি মন্দির থেকে নানা মন্দির ও মসজিদ দ্বিগুণ বেড়েছে।

    আর এখন তো হনুমান মন্দির ক্রমবর্ধমান।
    বর্ধমান গির্জা ও মসজিদও।

    #

    লেখক ভারতের বাঙালি ও বাংলাদেশের বাঙালিকে পরস্পরের থেকে শিক্ষা নিতে বলছেন।
    পশ্চিমবঙ্গে নকশাল আন্দোলন, বাংলাদেশে বাকশাল--নিয়ে লেখকের সিদ্ধান্ত:
    নকশালবাড়ির রাজনীতির মতো এক সকালে উঠে চলো গ্রামে তাই বলে বিপ্লবের ডাক দিলে বিপ্লব হয় না।
    আবার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে তাঁরা অর্থনীতি সংস্কৃতি স্বাস্থ্য সমাজকল্যাণে এতোটা এগোল স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও ভারত কেন তা পারল না।
    শিশুদের মৃত্যুহার বাংলাদেশে কম,  প্রসূতি মায়ের মৃত্যু কম, গড় আয়ু বেশি, গড় আয় বেশি-- কেন পারলো বাংলাদেশ।
    ইচ্ছাশক্তি ও মনের জোর এবং সদিচ্ছা এবং নিজস্ব জীবনাদর্শ। যা হারিয়ে যাচ্ছে।

    ###

    'বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা' অধ্যায়ে লেখক বলেছেন: শেখ মুজিব শুধু রক্তাক্ত বাংলার নায়ক নন, তিনি গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রক্তাক্ত যুগসন্ধিক্ষণের নব নায়ক। নতুন ইতিহাসের নির্মাতা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সন্দেহ নেই।

    আবার 'সোনার বাংলা এবং এক বাবা ও মেয়ের কাহিনি' অধ্যায়ে ' ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টোদের মতো শেখ হাসিনা মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী শক্তির নিশানায় রয়েছেন'  এই মন্তব্য করে লেখক বলেছেন, হাসিনাকে লড়াই করে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে। ইন্দিরা গান্ধীর সরকারি উন্নয়ন ও হাসিনার উন্নয়নের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার পাশাপাশি ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ, খনি জাতীয়করণ একাধিক শিল্পের রাষ্ট্রায়ত্তকরণের মতো সাহসী পদক্ষেপ এই উপমহাদেশের ইতিহাসে তাঁকে চিরস্থায়ী আসন দিয়েছে।
    অন্যদিকে হাসিনার সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো। ভারতের তুলনায় তো যথেষ্ট ভালো। 

    ২০২১ এ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় চলে এসেছে বাংলাদেশ। কেবল ঢাকা নয় তৃণমূল স্তরে উন্নয়ন হয়েছে। গোটা দেশ জুড়ে হাইওয়ে সম্প্রসারণ ঘটেছে, ঢাকা মেট্রোসহ রেলের একাধিক প্রকল্পের সুবাদে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।
    একের পর এক নদী সেতু নির্মাণ হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ছে। মাথাপিছু আয় বাড়ায় চীন, জাপান, আমেরিকা বাংলাদেশের বাজার ধরতে আগ্রহী। 

    উল্টোদিকে পাকিস্তান পিছনে পড়েছে। পিছিয়ে পড়ছে ভারতও। বিশ্বব্যাঙ্ক, ইউএনডিপি, এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাঙ্কসহ নানা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বলছে, 'বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক উন্নতির মতো বিষয়গুলিতে উপমহাদেশের অনেক দেশ এমনকী ভারতের থেকেও এগিয়ে।। বাংলাদেশের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে লক্ষ্যণীয় হারে'।

    মায়ানমার থেকে নিপীড়িত অত্যাচারিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে নিজের ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন শেখ হাসিনা। 
    রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্যানিটারি প্যাড বিতরণের গল্প বলেছেন লেখক। বলেছেন রিলিফ নির্ভর দেশ আজ রিলিফ দিচ্ছে। 

    খোকা ইলিশ তথা জাটকা ধরতে না দেওয়ার হাসিনা সরকারের কঠোর নীতির প্রশংসা করেছেন লেখক। এতে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে। ১৬ হাজার কোটি টাকা আসছে ইলিশ থেকে। সামগ্রিক ভাবে মাছ উৎপাদনে উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ  ইংলিশ। প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বলছে, 'বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক উন্নতির মতো বিষয়গুলিতে উপমহাদেশের অনেক দেশ এমনকী ভারতের থেকেও এগিয়ে।। বাংলাদেশের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে লক্ষ্যণীয় হারে'।

    ###

    'অনুপ্রবেশ' শব্দটা সত্তর দশকে শোনেননি লেখক। লোকে গর্ব করে বলতেন, বরিশাল আমার দ্যাশ।  ১৯৯০-এর পর শব্দটিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হতো লাগল। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হল,নাম বাদ দিতে।লেখক দেখেছেন, বনগাঁ-তে বস্তা বস্তা নাগরিকত্বের  দরখাস্ত। রেশন কার্ড, ছেলে-মেয়ের জন্ম অশক্ষার প্রমাণপত্র। কিন্তু ভোটাধিকার মিলছে না।    ১৯৯৮ থেকে ' অনুপ্রবেশকারী' আর 'শরণার্থী' বলে বাংলাদেশ থেকে আসাদের ধর্মীয় পরিচয় বড় করে তোলা হল। তাতে কেন্দ্রের উপ্প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি  ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একসুর।
    মতুয়া রাজনীতি, সিএএ--সব বিষয়েই আলোকপাত করেছেন লেখক।

    এসেছে সংখ্যালঘু তোষণের প্রসঙ্গ।লেখক মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান সংসদে বক্তৃতা দীর্ঘভাবে উদ্ধৃত করে দেখিয়ে দিয়েছেন,হিন্দু মুসলিমের স্বার্থ অভিন্ন। মানুষ হিসেবে তাঁরা এক। জাতি হিসেবেও। পশ্চিমবঙ্গে 'সংখ্যালঘু তোষণ' চলের কথাটা মিথ--লেখক তথ্যসহ প্রমাণ করেছেন। সরকারি চাকরির ২০ ভাগ মাত্র মেয়ে। তার মধ্যে  মুসলিম মেয়ে অতি নগণ্য। বিজেপি নেতারা অন্য রাজ্যে লক ডাউনের মাঝে রাম মন্দিরের ঘটা করে উদ্বোধন করলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা বড় সংবাদমাধ্যম প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা মুসলিমদের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে অনেকেই লাফিয়ে ওঠেন। লেখক বলছেন, এর পিছনে আছে মুসলিমদের নিয়ে অনীহা।

    এবং বহুদিন ধরে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। লেখকের বক্তব্য, দুর্গাপুজা কালীপূজা ইদ মহরম  কোনো কিছুতেই শুভেচ্ছা জানানো্র রীতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ছিলনা।এবং মন্দিরে দরগায় যাওয়া। যেটা এখন হচ্ছে। এবং চোখে পড়ছে।  অবশ্যই বামনেতারা ব্যতিক্রম।

    পাকিস্তান নিয়ে অমল সরকারের সাফ কথা মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ নেই। যারা জোতদার তারাই শিল্প-কারখানার মালিক,ব্যাংক বীমার মালিক, তারাই আমদানি-রফতানির মালিক, আবার তারাই সেনাবাহিনী এবং তারাই অসামরিক আমলা।

    ভারতেও সেদিকে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে।
    এ বই সতর্কতার। এ বই সময়ের। 
    এ বই একজন গবেষক ও সাংবাদিকের।

    কিছু মুদ্রণপ্রমাদ আছে। অল্প পুনরুক্তি আছে। উপেক্ষণীয়। তবু লেখক ও প্রকাশক নজর দিতে পারেন। প্রচ্ছদ, ছাপা,  বাঁধাই ভালো।


    আমার দেশ আমার দ্যাশ
    অমল সরকার
    দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা-৭৩
    মুদ্রিত মূল্য - ৩৯৯ টাকা


    বাড়িতে বসে বইটি পেতে হোয়াটসঅ্যাপে বা ফোনে অর্ডার করুন +919330308043 নম্বরে।



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • পড়াবই | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৪৮৭১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 42.110.137.81 | ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৩১522566
  • কি প্রগাঢ় ইতিহাস জ্ঞান!
  • দীপ | 2402:3a80:1cd6:a88f:778:5634:1232:5476 | ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫৭522936
  • একাত্তরের আগে ষাটের দশকে যে সব বাঙালি বুদ্ধিজীবী  বা শিল্পী সাহিত্যিক   পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে ভ্রমণ করতেন, সকলের অভিজ্ঞতা খুব ভাল ছিল। সকলেই বলতেন পশ্চিম পাকিস্তানের অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ দেখে তাঁরা মুগ্ধ। বেশ কজন হিন্দু শিল্পীও পশ্চিম পাকিস্তানে বাস করতেন, এবং বেশ সম্মানও পেতেন। আজই রামেন্দু মজুমদারের চাকরিসুত্রে করাচিতে বাস করার অভিজ্ঞতা শুনছিলাম, তিনি বলছিলেন তিনি বেশ ভাল ছিলেন করাচিতে।   ষাটের দশকের  পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুরাও  ততটা অসম্মানিত হননি, এখন যতটা হন। পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার  পর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ --দুটো দেশেই এখন সাম্প্রদায়িকতা ভয়াবহ, মৌলবাদ ভয়ঙ্কর, ধর্মান্ধতা অবিশ্বাস্য। 

    ভারত ভাগের পর পাকিস্তানের নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন, দ্বিজাতিতত্ত্ব ভুল ছিল,  সভ্য হতে চাইলে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে এক জাতি হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মান্ধতা যে ছিল না তা নয়। ছিল। কিন্তু এখনকার মতো এতটা  ছিল না। আমার তো মনে হয় যদি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ না করতো, বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করতো, তাহলে হয়তো এত ভয়াবহ ধ্বংস দেখতে হতো না দুটো দেশকে। এই  সূত্র ধরে বলবো, যদি ভারত ভাগ না হতো, তাহলে আরও বেশি অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মান্ধতা মুক্ত থাকতো ভারতবর্ষ। হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গা সুস্থ রাজনীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। অবিভক্ত স্বাধীন ভারতবর্ষ নেহরুর আদর্শে যদি চলতো, তাহলে সেক্যুলার রাষ্ট্রে  সেক্যুলার শিক্ষা পেত হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলে।  সচেতনতা বৃদ্ধি পেত;  ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, বিজ্ঞান মনস্কতার চর্চা হতো। ধর্মান্ধতার অবসান হতো ধীরে ধীরে। দাঙ্গা হাঙ্গামা কমে যেত। এখন তো ভারতেও মুসলমানের আক্রমণের ভয়ে হিন্দুত্ববাদ জেগে উঠছে। সত্যিকার সেক্যুলারিজম উপমহাদেশ থেকে, আমার আশঙ্কা, পাকাপাকিভাবেই  বিদেয় হবে।
     
    - তসলিমা নাসরিন।
  • দীপ | 42.110.147.74 | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:১৪523526
  • অসামান্য আধুনিক চিন্তা!
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:৩৩523622
  • সব টই গুলো আপনি নিয়ে নেন কেন ? নিজে টই খুলে লিখুন না। কিংবা আপনার যা মতামত সেটা একটা দুটো কমেন্টে নিজে লিখে ফেলুন। আলোচনা করুন। কিন্তু টই কেড়ে নিচ্ছেন কেন ?
  • দীপ | 42.110.139.5 | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:৩৬523624
  • আমি কি ট‌ই কেড়ে নিয়েছি? 
    আমি তো আলোচনা করছি, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র দিচ্ছি।
    আপনিও আলোচনা করুন।
    আর আমাকে কুৎসিত ভাষায় গালাগালি দিলে তখন চুপ থাকেন কেন? 
    তখন আপনার বিবেকবোধ জাগ্রত হয়না!
    চমৎকার 
  • দীপ | 42.110.139.5 | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:০৯523628
  • গত তিন বছরে এই ব্লগে হাজারেরও বেশী লেখা বেরিয়েছে। এর মধ্যে খুব বেশি হলে দশ-পনেরোটি লেখায় আমি মন্তব্য করেছি।
    আর আপনি বলছেন আমি সব ট‌ই নিয়ে নিচ্ছি! মিথ্যা কথা বলার আগে একটু ভেবেচিন্তে বলবেন! 
    আর এখানে যখন একের পর এক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা লেখা হয়, তখন আপনার বিবেক জাগ্রত হয়না! কিন্তু তার বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় আপনার সমস্যা হয়!
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:৪৩523629
  • একটা টইতে নাগাড়ে মন্তব্য করার কি প্রয়োজন। শুধু ফেসবুক থেকে স্ক্রিন শট পর পর। আপনি চালিয়ে যেতে চাইলে আপনার ইচ্ছা। আমি আর কি বলব। 
  • দীপ | 42.110.146.159 | ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:৪৮524209
  • একজন বাউল আক্রান্ত হয়েছেন। আর সেই খবর মুছে দেওয়া হয়েছে।
    চমৎকার!
  • দীপ | 2402:3a80:196b:c2c8:678:5634:1232:5476 | ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ১২:২০525557
  • অসামান্য আধুনিক চিন্তা!
  • দীপ | 106.201.49.58 | ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ১১:০৫525708
  • অসামান্য আধুনিক চিন্তা!
  • fb | 2405:8100:8000:5ca1::ba:9900 | ২২ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৫০526376
  • জেলহত্যা দিবসের এই দিনে আমি এই কথাগুলো সবাইকে পড়তে বলি। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এগুলো ঘটেছিলো কেন, কি কারণে, ভারত কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ফ্যাক্ট, ভারত বিদ্বেষ কেন বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যু তা কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে।
    এ কথা এখন কেউ বলে না ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশের’ ঘোষণা দেয়নি ভারতের ভয়ে!
    ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মেজর ডালিম রেডিওতে ঘোষণা করেছিলেন, ‘দেশে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে এবং এখন থেকে বাংলাদেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিগণিত হবে’।
    এই ঘোষণায় পাকিস্তান উল্লাসে ফেটে পড়ে। পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হেনরি বাইরোড নিজ দেশকে এক বার্তায় জানান, পাকিস্তানের সরকার, গণমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষ মেজর ডালিমের এই ঘোষণায় বাংলাদেশের সঙ্গে কনফেডারেশ করা যায় কিনা সে বিষয়ে আশান্বিত হয়ে উঠেছে।
    ওদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে জেনে এক এক করে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে যা বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালীন কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। ডালিমের ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট মোশতাক কি বলেন সেটা জানার আগ্রহ ছিলো সকলের। প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান পরিস্কার না করে বরং ঘোলাটে করে রাখলেন। তিনি বললেন না বাংলাদেশ এখন থেকে "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র"। তিনি আসলে ডালিমের ঘোষণার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ‘বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত কি বলে সেটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
    ভারতের তখনকার রাষ্ট্রদুত সমর সেন খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে দেখা করে ভারতের অবস্থান জানানো একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। এ বিষয়ে সমর সেন ভারতের ফ্রন্টলাইন পত্রিকার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে ২১ নভেম্বর কথা বলেছিলেন এবং কোলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক মানস ঘোষ এক কলামে একই রকম বিবরণ দিয়েছেন যা সমর সেন ফ্রন্টলাইনে দিয়েছিলেন। সমর সেন জানান, কটুনৈতিক নোটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে লেখা ছিলো, ‘যদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করা হয় এবং কোনো দেশের সঙ্গে কনফেডারেশন করা হয়, তাহলে ভারতের কাছে থাকা বৈধ চুক্তির আওতায় ভারতের সেনাবাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’
    এরপরই ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সম্পর্কে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন মিশরের দৈনিক আল আহরাম পত্রিকায় একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে সকল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সে সকল আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে কাজ করতে হবে।’
    বাংলাদেশ কাগজে কলমে ইসলামিক শাসনে চলে যেতে পারেনি ভারতের এই হুমকির পরই। বাংলাদেশ ভৌগলিক দিক দিয়ে ভারতের কাছে নানাভাবে টিকে থাকার জন্য নির্ভর। তাই ভৌগলিক রাজনীতি, অথনৈতিক রাজনীতিসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা হিসেব কষে ভারতকে ক্ষ্যাপিয়ে আনুষ্ঠানিক ইসলামী শাসনতন্ত্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে বিসমিল্লাহ বসানোসহ অন্যান্য ইসলামিকরণ শুরু করে মোশতাক থেকে জিয়াউর রহমান পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন ও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেরারেশন করা সম্ভব হয়নি ভারতের থ্রেটের কারণে এ কথা তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদুতও তার নোটে উল্লেখ করেছেন। ভারতের এই "দাদাগিরি" কখনোই বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিতে পারেনি।
    ১৯৬৫ সালে পুরো পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে গুজবে ছেয়ে যায় যে পূর্ব পাকিস্তানে ইন্ডিয়ার স্পাইয়ে ভরে গেছে। এরা দেশের তথ্য ভারতের পাচারের জন্য দেয়ালে কান পেতে আছে। এই দালালরা হচ্ছে দেশের মধ্যে থাকা হিন্দুরা। ৬৪-৬৫ সালে বড় রকমের হিন্দু খেদানো হলো পূর্ব পাকিস্তান থেকে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভারত বিরোধীতা ছিলো বলেই পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে এখানে খাকা হিন্দুদের খেদানো এবং বাঙালী মুসলমানকে হিন্দু বাঙালী থেকে পৃথক এক জাতিসত্ত্বা করে গড়ে তুলতে নানা রকম প্রজেক্ট গ্রহণ করা সহজ ছিলো। যেমন বাংলা ক্যালেন্ডার সংশোধন, সিলেবাস থেকে বাংলা সাহিত্যের হিন্দু লেখকদের অপসারণ ইত্যাদি।
    এর মাত্র কয়েক বছর পরই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এই ভারত বিরোধী জনতাই ভারতের সেল্টার নিয়ে ভারতের মাটিতে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মেজর জলিলের ‘সম্মুখ সমরে’ বইতে এই অবস্থানটি তুলে ধরা হয়। তিনি লিখেন, ৬৫ সালে তিনি যাদের মারতে গুলি চালিয়ে ছিলেন তাদের সঙ্গেই আজ প্লাণ করছেন ওপারে গ্রামগুলো যারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে যাদের সঙ্গে কাধে কাধ রেখে ৬৫ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। মেজর জলিলের দেশ স্বাধীনের পর তার ভারত বিরোধীতা ছিলো চরমে। ভারত বাংলাদেশ থেকে সব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে এটা দিয়েই তিনি শোরগোল শুরু করেন এবং পরবর্তীতে রাজাকার হাফেজ্জি হুজুরের শিষ্যত্ব নিয়ে ইসলামিক রাজনীতি শুরু করেন।
    একথা অস্বীকার করা যাবে না ১৫ আগস্টের খুনিরা মুক্তিযোদ্ধাই ছিলো। কিন্তু তারা ভারতের সাহায্যে সেক্যুলার বাংলাদেশের জন্ম মেনে নিতে পারেননি। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষও তাই। আজকাল যখন ভারত বিদ্বেষের কথা উঠে তখন কেউ কেউ সাম্প্রতিককালের সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে তারা দাবী করেন ভারতের এইসব কাজ কারবার বাংলাদেশের মানুষকে ভারত বিরোধী করে তুলেছে। এটা বলে তারা বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক ভারত বিরোধীতার নেপথ্যে যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব আছে তা আড়াল করতে চান। তাই এবার দেখা যাক সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ কেমন করে শুরুতেই ভারতের প্রতি তার পুরোনো বিদ্বেষ বজায় রেখেছিলো। মুক্তিযুদ্ধে আশ্রয় দিয়ে, ট্রেনিং দিয়ে, নিজের সৈন্য দিয়ে সহায়তা করা একটা দেশ রাতারাতি বাংলাদেশের কাছে শত্রু হয়ে গেলো কেমন করে? দেখা যাচ্ছে ৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা তুঙ্গে উঠে যা ৭৪-৭৫ সালে সব বাধ ভেঙ্গে যায়। কুটনৈতিক সুত্রগুলো জানাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছিল। ভারত আসলে নিজের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশকে দিয়ে যুদ্ধ করিয়ে পাকিস্তান ভাঙ্গিয়েছে। যুদ্ধে ভারতেরই লাভ হয়েছে কারণ তারা বাংলাদেশের গোলাবারুদ টাকা পয়সা সম্পদ সব লুট করে নিয়ে গেছে। ভারতের রাষ্ট্রদুত সমর সেন বলেন, এরকম ভারত বিরোধী মনোভাবের সময়ই ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফরে আসেন জুলফিকার আলী ভুট্ট। যে লোকটি বাংলাদেশের গণহত্যার রক্ত তার হাতে মেখে আছে তাকে বাংলাদেশের মানুষ একনজর দেখতে রাস্তায় ভীড় জমান এবং স্বাদর অভিনন্দন জানান!
    ভেবে আশ্চর্য লাগে যে মানুষটির বাংলাদেশর গণহত্যার দায় রয়েছে, অগুণতি নারীর ধর্ষণের দায় যার, তাকে নিয়ে এদেশের মানুষ এত উচ্ছ্বসিত ছিলো কেন? মাত্রই যে দেশের মানুষের ভালোবাসা আর সহযোগিতায় আমরা দেশ স্বাধীন করলাম তাদের কেন ফের শত্রু ভাবা শুরু করলাম? উপকারীকে তার উপকারের জন্যই সন্দেহ করা হচ্ছে! সে ধারা আজো অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ ইসলামী রিপাবলিক হতে পারেনি ভারতের বিরোধিতার কারণে এই ক্ষোভ তো সহজে যাওয়ার নয়!
    [তথ্য সূত্র : ষড়যন্ত্রের জালে বিপন্ন রাজনীতি, আবেদ খান। মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড, মিজানুর রহমান খান। ফ্রন্ট লাইন, ২১ নভেম্বর ১৯৯৮]
  • দীপ | 2401:4900:3fab:9d83:d5c0:9171:7439:7d95 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:২৫526910
  • খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট বাহিনী কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সভাপতি লিটন চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা ও ইউপিডিএফ সংগঠক রুহিন ত্রিপুরাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং ইউপিডিএফ সংগঠক হরি কমল ত্রিপুরা, নীতি দত্ত চাকমা ও মিলন চাকমাকে অপহরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন।
  • kc | 188.236.198.193 | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৭526946
  • এই ট্রিলজির প্রথমটা পড়বেন আগে, 'মধ্যাহ্ন'। সেখানে আবার এমন কথা আছে যেগুলো আবার আপনার পছন্দ হবেনা।
  • দীপ | 42.110.147.189 | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:১২526949
  • আহা, সবকিছু কি সবার পছন্দ হয়? 
    দেখুন না এখানে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ধ্বজাধারীরা রমেশ মজুমদার, অশোকা গুপ্ত, ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা মুছে দেন! 
    সে তো পছন্দ হয়না বলেই। তখন অবশ্য আপনি প্রতিবাদ করেন না! নিশ্চয় সেটা আপনার পছন্দ হয়! 
    এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের লেখা মুছে দেওয়া হয়েছে! তখনো কিন্তু আপনার প্রতিবাদ শোনা যায়নি! 
    আমাকে দিনের পর দিন কুৎসিত আক্রমণ করা হয়েছে! তখনো কিন্তু কারো প্রতিবাদ শোনা যায়নি!
     
  • দীপ | 2402:3a80:196b:631c:678:5634:1232:5476 | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:৩৬526957
  • যথারীতি পোষ্য সারমেয়কুল আবার সব মুছে দিলো!
    এখন অবশ্য কারো প্রতিবাদ শোনা যাবেনা!
  • খ্যাখ্যা | 65.49.68.34 | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০৪526960
  • আজিব একটা দুকান কাটা পাবলিক laugh 
  • দীপ | 42.110.139.11 | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:১৫527048
  • মৃত্যুঞ্জয় শহীদুল্লাহ কায়সারের কথা মুছে দেওয়া হলো!
    তবে গালাগালি গুলো মোছা হয়না! 
    চালিয়ে যা শুয়োরের বাচ্চারা!
  • কামাল পাশা | 74.82.60.40 | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:৩৭527051
  • অ্যাই চাড্ডি গদাম খাবি?  
  • জামাল | 2a03:94e0:243a:dead::1 | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৫২527052
  • হ হ দিয়া দ্যান। সারা দ্যাশে চাড্ডিগো কাছে গদাম খাইলে কুথাও ত শোধ দিবার লাগে।
  • স্প্যাম | 208.127.71.79 | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:১২527053
  • নিজের স্প্যামের দায় বড় মানুষদের বক্তব্যের ওপর চালাতে চাইলে হবা?

    কন্টেন্টের জন্য পোস্ট ডিলিট হয় না, তার স্প্যাম প্রকৃতির জন্য হয়।
  • কান খুল কর শুন লো | 51.158.115.62 | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:৫৭527069
  • বড় মানুষদের লেখা কোট করা মানেই স্প্যাম পোকিতি।
  • দীপ | 2402:3a80:196f:34e9:878:5634:1232:5476 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৯528357
  • আবার মনে করিয়ে দিলাম।
    অবশ্য এগুলো নিয়ে কথা বললেই সে চাড্ডি! 
    অবশ্য একটু পরেই মুছে দেওয়া হবে!
  • &%৳@ | 2a0b:f4c0:16c:3::1 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৫528359
  • আসিফার কথা মনে আছে নাকি রে শুকরশাবক? বাংলাদেশের মন্দির ভাঙা নিয়ে ওত্ত বাতেলা। ভারতের মন্দিরে রেখে  ধর্ষণ করে মেরে ফেলা আট বছরের আসিফার কথা মনে করালেই খিস্তাতে শুরু করবি। বিলকিস বানোর বাচ্চা মেয়েকে পাথরে আছড়ে  মারা সেই ধর্শকদের ছেরে দিলে ফুলের মালা পরানো এইগুলো মনে পড়ে? নির্লজ্জ দুকানকাটা চাড্ডি।
  • &%৳@ | 2a0b:f4c0:16c:3::1 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৮528360
  • মিথ্যুক চাড্ডিটা মিথ্যে ছড়ানোর জন্যি পয়সা পায়।
  • কামাল পাশা | 64.62.219.194 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৯528361
  • অ্যাই চাড্ডি গদাম খাবি?  
  • দীপ | 2402:3a80:196f:34e9:878:5634:1232:5476 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:০৩528365
  • গতকালের ঘটনা।
    সবাই পয়সা খাচ্ছে!
  • &%৳@ | 5.255.127.222 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৫৬528366
  • মিথ্যেবাদী শুকরশাবক আগে নিজের পোঁদের গু ধুয়ে তারপরে অন্যদেশের সংখ্যালঘু নিয়ে কানতে বসিস। ভন্ডের হাতবাক্স কেউ জিগ্যেস করলে তখন একলাইন প্রতিবাদের ভান করিস। মিথ্যুক আবার ন্যাকা সেজে বলে আমি ত বলেছি।
  • দীপ | 42.110.166.138 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৬528367
  • নিজেদের পরিচয় ভালোভাবেই দিচ্ছিস!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন