• খেরোর খাতা

  • সুভাষ-জহরলাল 'সাক্ষাৎ' - আশি বছর পরে, ২০২১এ 

    ANIRBAN MITRA লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ আগস্ট ২০২১ | ১১৭৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)


  • আমাদের এই নীল গ্রহ থেকে তেরোশো কোটি আলোকবর্ষ দূরে একটি নক্ষত্রপুঞ্জ আছে, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার নাম EGS-zs8-1। অন্যান্য হাজার হাজার galaxyর সঙ্গে EGS-zs8-1র এমনিতে কোন তফাৎ নেই, কিন্তু আবার আছেও। কারণ, প্রাচীন স্ক্যানডিনেভিয়া'র নর্স পুরান-রচয়িতারা এর নাম দিয়েছিলেন আসগার্ড। আসগার্ড - নর্স দেবরাজ ওডিন ও থরের স্বর্গ। আসগার্ড - এমন এক স্বর্গ যেখানে একমাত্র নরশ্রেষ্ঠরা অমরত্ব লাভ করে অনন্তকাল সেখানে বাস করার ছাড়পত্র পান।

    আসগার্ড বেশ দৃষ্টিনন্দন মনোরম জায়গা। আমাদের কল্পনার স্বর্গ যেমন হয়। আর আজ, যখন আমাদের এই কাহিনী শুরু, সেখানে পার্কে বসে আছেন এমন একজন যিনি দীর্ঘ সতেরো বছর তাঁর দেশের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। সে অবশ্য অনেকদিন আগের কথা। এখন তিনি একটি বইতে মগ্ন - রবার্ট ফ্রস্টের লেখা 'The New Hampshire'। প্রিয় কবিতার পাতা ওলটাচ্ছেন এমন সময় নজরে এল দূর থেকে হেঁটে আসছে একজন। বহুদিনের পরিচিত, এককালে-বন্ধু-পরে-মতান্তরে-দূরত্ব, এক অনন্য সহযোদ্ধা। অনেক দশক পরে দেখা - ৮০ 'পার্থিব' বছর তো হবেই, বেশিও হতে পারে।



    জহরলাল - আরে! কতদিন পরে দেখা। বস বস। নাও ... (সিগারেটের প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে) চলবে তো?

    সুভাষ - (মুচকি হেসে সিগারেট নিয়ে) হুম ...তাহলে যোগব্যায়মও চলছে, সিগারেটও চলছে? বেশী খেলে ক্যান্সার হয়, শোননি?

    জহরলাল - আরে, সে সব পৃথিবীতে হয়, এখানে নয়। আর তাছাড়া, ধুমপানের কথা যখন তুললেই, আমি তো শুনেছি আজাদ হিন্দের সময় তুমি নিজেই chain smoker হয়ে গিয়েছিলে?

    সুভাষ - তা বটে। তখন সিগারেট বেশিই খেতাম। সকালে আবিদ অফিসে ঢুকে আমার ছাইদানিতে কটা সিগারেটের stub আছে দেখে আন্দাজ করত রাত্রে কতক্ষন কাজ করেছি।

    জহরলাল - বুঝতে পারছি। কাজের নানারকম টেনশন কাটাতে খেতাম। তুমিও তাই নিশ্চয়ই।

    সুভাষ - তাই হবে... তবে, সব কিছুর আগে একটা কথা বলি জহরলাল। তোমাকে আর বিধানবাবুকে ধন্যবাদ দেবার সুযোগ কোনদিন হয়নি। তোমরা অনিতার জন্যে trust করে মাসে-মাসে টাকার ব্যবস্থা করে বড্ড উপকার করেছিলে। যুদ্ধোত্তর ভিয়েনা - সব জিনিসের কি দাম। তোমরা না থাকলে এমেলিয়ে একা চাকরি করে মেয়েকে বড় করতে অসুবিধেয় পড়ত।

    জহরলাল - আরে ধুর, ওটা আর কি! আজাদ হিন্দের ওপর যে তথ্যচিত্রটা পারেখ বানিয়েছিল সেইটার শো থেকে টাকাটা উঠেছিল।.. তার কিছুদিন পরে আমি যখন জানতে পেরেছিলাম এমিলিয়ে'র সাহায্য হলে সুবিধে হয়, তা করব না? ... কমলা যখন সুইৎজারল্যান্ডে চলে গেল তুমিই তো আমার পাশে ছিলে, সুভাষ

    (কয়েক মুহূর্তের নিহস্তব্দতা। দুজনেরই আপনজনদের কথা মনে পড়ে গেছে । কন্যাদের সঙ্গে যে সময় কাটানো যেত দেশের কাজে সেই সময় গেছে জেলে বা নির্বাসনে, আজ আর ভেবে কি হবে?)

    সুভাষ - আরে বলতে ভুলেই যাচ্ছিলাম। তোমার নতুন বইটা পড়লাম - Discovery of India. আহা কি লিখেছ। যেমন তথ্যসমৃদ্ধ তেমন প্রাঞ্জল ভাষা। তোমার এত বিষয়ে এত পড়াশোনা - এই জন্যেই তোমার থেকে এত এত রেফারেন্স বই চাইতাম।

    জহরলাল - থাঙ্কস। জানো, সবচেয়ে ভাল লাগে যে এখনো ভারতীয়রা বইটা পড়ে। আবার ওটা থেকে একটা টিভি সিরিয়ালও হয়েছে।

    সুভাষ - বাহ বাহ। আরে আমাদের সময়ে এই টিভি জিনিসটা ভাল করে ছিল না। থাকলে জনগনের সঙ্গে কিরকম ভাল যোগাযোগ করা যেত, তাই না?

    জহরলাল - তা ঠিক। তবে এখন তো শুনছি ভারতে টিভিও পুরনো হয়ে গেছে। এখন সবার হাতে হাতে ফোন, আবার সেই ফোনেই টিভি, ফোনেই সিনেমা সব।

    সুভাষ - বল কি? কি ভাল লাগল শুনে। তার মানে তুমি আর আমি মিলে যে ১৯৩৭-৩৮এ ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিটি গঠন করে শিল্পোন্নয়ন আর আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক জাতীয় পরিকল্পনা করেছিলাম সেগুলো বেশ কিছুটা বাস্তবায়িত হয়েছে বলছ?

    জহরলাল - সে আর বলতে। আমাদের 'আধুনিক ভারত' স্বপ্ন। আর ভেবে দেখ ওই সময়টা তোমার-আমার সম্পর্কের সেরা অধ্যায়। আর তুমি কতটা জানো জানি না, স্বাধীন ভারত মোটামুটি আমাদের সেই blueprint মেনেই শিল্পোন্নয়ন করেছিল।

    সুভাষ - আমি কিছু কিছু শুনেছি। দিলিপ (কুমার রায়) বলছিল তোমার সময়ে সব নতুন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের কথা। দেশে নতুন নতুন বড় শিল্প, কারখানা, নতুন নতুন ইন্সটিটিউট আর বিশ্ববিদ্যালয়, বড় বড় বাঁধ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

    জহরলাল - হ্যাঁ, শুধু তাই না। টাকাপয়সা কম ছিল, তাও পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ গবেষণাও শুরু করা গিয়েছিল। আসলে বেশ কয়েকজন ভাল বিজ্ঞানী আর technocrats পেয়ে গিয়েছিলাম, স্বাধীন দেশের প্রতি যাদের একটা দায়িত্ববোধ ছিল ।

    সুভাষ (প্রচণ্ড খুশি)- দারুন। শুনেই খুব ভাল লাগছে হে ...আর সত্যি বলতে তুমি ছাড়া এই দূরদৃষ্টি তখন আর কার ছিল?...

    জহরলাল - আরে না না! ভেবে দেখ, পুরো তিরিশের দশকটা তুমি আমি এসব নিয়ে কত ভাবনাচিন্তা করেছি। দেশে-বিদেশে কত কিছু জানার/শেখার চেষ্টা করেছি। আর তাছাড়া - মেঘনাদ সাহা, এম বিশ্বেসরাইয়া-কে নিয়ে... আর সবচেয়ে উৎসাহী তো বোধহয় ছিলেন গুরুদেব। উনি তো আবার সাহা'র সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন।

    সুভাষ - কিন্তু তোমার মনে হয় মহাত্মাজি এসব মেনে নিতেন? করতে দিতেন?

    জহরলাল - জানি না। তবে আমরা তো আর বিড়লা বা বাজাজদের ব্যবসায় ব্যাগরা দিচ্ছিলাম না। আর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা আর পাবলিক সেক্টরে জোর দিলেও আমরা তো বেসরকারি শিল্প ও ব্যবসার রাস্তা খুলেই রেখেছিলাম।

    সুভাষ - হ্যাঁ, তাছাড়া কুটিরশিল্প, গ্রামীণ-সমবায় সবই করার সুযোগ ছিল।

    জহরলাল - কিন্তু, মজার কথা জানো? এখন ভারতে অনেকে আমাদের ওই সব রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, পাবলিক সেক্টর শিল্প, কারখানা স্থাপনকে দোষ দেয়। বলে ওসব করতে গিয়েই দেশের খুব ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নাকি তখন থেকেই সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ আর প্রাইভেট উদ্যোগ'র ওপরেই সব জোর দেওয়া উচিত ছিল।

    সুভাষ (দপ করে বিরক্ত) - ও তাই নাকি?! আমাদের পরিকল্পনা ভুল আর ওরা সব ঠিক? মানে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনতান্ত্রিক-ঔপনিবেশিক বেসরকারি-ব্যবসাদারদের-ঠিকাদার ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আজীবন লড়ে আমরা একই জিনিস স্বাধীন ভারতে শুরু করতাম?? তাহলে স্বাধীনতার লড়াইটা হল কেন? শুধু ওরা সাদা আর আমরা কালো বলে? যারা এসব বলে তাঁরা কি বদ্ধ উন্মাদ?

    জহরলাল - আরে, সময় পাল্টায়। লোকজনের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। কি আর করা যাবে? মনে করে দেখ, ১৯৩৭এ আমরাই ডঃ কোটনিস আর ডাক্তারদের দলকে চিনে পাঠালাম জাপানি হানাদারদের বিরুদ্ধে মাও'র সেনাদের সাহায্য করতে । আর তার চার বছর পরে তুমি ঘটনাচক্রে জাপানিদের সঙ্গে হাত মেলালে?

    সুভাষ - সে তো রাজনীতিতে তো কতকিছুই করতে হয় । তবে হ্যাঁ, তোমার মত ‘ideological block’ আমার ছিল না। তোমার মত আমিও ফ্যাসিস্ট-বিরোধী, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা প্রয়োজনে আমি ওদের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করি নি।

    জহরলাল - আর আজীবন বাম-ঘেঁষা সুভাষচন্দ্রের উগ্র-দক্ষিনপন্থীদের সঙ্গে হাত মেলাতে কোন অস্বস্তি হয় নি?

    সুভাষ - সে তো ছিলই। দেখ, আমি তো লিখেওছি যে ফ্যাসিজম একটা বিষাক্ত জিনিস। সাম্রাজ্যবাদের মতই ভয়ানক। কিন্তু মাঝে মাঝে তো বিষে-বিষক্ষয় করতে হয় না কি?

    জহরলাল - সুভাষ, এই ফালতু মেডিকেল উপমা-টা ছাড় তো। এতে সত্যিই কাজ হয়?? তাহলে তো বলতে হয় স্বাধীন ভারতে কত সমস্যা তাই তালিবানকে ডেকে আনি সমাধান করতে। এটা কোন কাজের কথা হল?

    সুভাষ (একটু আহত) - আমি জানি তোমরা কেউ আমার সঙ্গে একমত নও। আমার কৈশোরের আদর্শ শ্রী অরবিন্দ পর্যন্ত কি বিরক্ত হয়েছিলেন আমি নাৎসি আর জাপানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি বলে। এমনকি আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু দিলীপও বই-তে লিখেছে যে আমি নাকি ঠিক করি নি ...

    জহরলাল - আর গুরুদেব? উনি তো তিরিশের দশকেই জাপানি আর নাৎসি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লিখতে আরম্ভ করেছিলেন। তুমি ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছ জানলে ওঁর কি প্রতিক্রিয়া হত ভেবে দেখেছ?

    সুভাষ - জানি না হে। এটা জানি যে মেজ-দা (শরৎচন্দ্র বসু) ওঁকে বলেছিলেন যে আমি জার্মানি পৌঁছে গেছি... আমি ওঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ, জহরলাল। ত্রিপুরি অধিবেশনের পরে আমায় কতবার সমর্থন করেছেন তুমি তো জানো। এক সময় ওঁর মত মানুষকে আমি কিছু রূঢ় কথা শুনিয়েছিলাম, সে সব মনেও আনেন নি ।

    জহরলাল - সে কি হে? তুমি রবীন্দ্রনাথকে-ও কথা শুনিয়েছ, এটা তো জানতাম না।

    সুভাষ - না না, সেরকম কিছু না। আমার বই Indian Struggleর জন্যে একটা মুখবন্ধ চেয়ে চিঠি লিখেছিলাম। আমি চিঠিতে এও লিখেছিলাম যে বইতে তো আমি মহাত্মাজির প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই করেছি। এদিকে আপনি তো আবার ওঁর কোন সমালোচনা সইতে পারেন না। আপনি কি আমার বইতে মুখবন্ধ লিখবেন?

    জহরলাল - আর গুরুদেব কি উত্তর দিলেন?

    সুভাষ - ও বাবা! আমার অভিযোগের কোন সরাসরি প্রতিবাদ করলেন না। কিন্তু, ভাল করে বুঝিয়ে দিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মাজির ভূমিকা কেন অপরিহার্য।

    জহরলাল - আর তুমি পরের চিঠিতে সেটার ও মতবিরোধ করলে?

    সুভাষ - এই! বাজে বকো না। তুমি কি জানো না আমি চিরকাল মহাত্মাজি-কে সন্মান করে এসেছি। 'আমাদের জাতির জনক' নামভূষণ কার দেওয়া? আমার দেওয়া - আজাদ হিন্দ রেডিওর অফিসিয়াল ভাষণে।

    (সুভাষ বলে চলেছেন)

    কিন্তু আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, জহরলাল। আমি কোনদিন কোন ফ্যাসিস্টদের তাঁবেদারি করিনি। বরং নাৎসিদের মুখের ওপরে বলেছিলাম ওরা সোভিয়েত আক্রমণ করে বিতিকিচ্ছিরি ভুল করেছে এবং ল্যাজেগোবরে হবে। হলও তাই! আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আন্তর্জাতিক পরিবেশে সুযোগ নেবার চেষ্টা করেছিলাম যাতে দেশের সংগ্রামে সুবিধে হয়, এই মাত্র।

    (একটু উত্তেজিত হয়ে বেঞ্চ ছেড়ে উঠেই পড়লেন সুভাষ)

    আর কি করার ছিল বল তো? দেশে থাকলে ইংরেজ সরকার আমাকে জামিন-জেল এই নিয়ে ঘুরপাক খাওয়াত। একে সেই ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬/৩৭ ৬ বছর বাইরে কাটাতে বাধ্য হয়ে যখন ফিরলাম তখন দেখি দিনকে-দিন হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে । এদিকে বাংলায় কংগ্রেসের একগাদা গোষ্ঠী-কোন্দলে অবস্থা শোচনীয়, তার ওপর ওয়ার্কিং কমিটি আমার সব রাস্তা বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগল...আমি কি করতাম? যুদ্ধ শেষ না হওয়া অবধি জেলে বসে থাকতাম?!

    জহরলাল (তীব্র আক্রমণে একটু বিস্মিত) - এত বছর হয়ে গেল তুমি আজও আমায় দোষ দাও তাই না? দেখ, বাঙালি জাতির কাছে না হয় আমি চিরকালের মত অপরাধী হয়ে গেছি, কিন্তু, তুমি তো জানো যে আমি তোমার, বাপুজি আর সর্দারের মধ্যে একটা সমঝোতা করাতে কত চেষ্টা করেছিলাম।

    সুভাষ (ক্ষণিকের উত্তেজনা এবার স্থিমিত... এত বছর হয়ে গেল, আর কি হবে?) - না না। আমিও সে সময় তোমায় অকারণে বড্ড কড়া কড়া কথা শুনিয়ে ঠিক করিনি। কিন্তু জহরলাল, এটা তো মানবে তোমার উচিত ছিল সর্বসমক্ষে আমার সমর্থনে আরও কথা বলা। আমি তো মহাত্মাজি, রাজাজি বা সর্দারের কাছে আমার কর্মপরিকল্পনার সমর্থন আশা করি নি, তোমার মত কমরেডের থেকে আশা করেছিলাম।

    জহরলাল - সুভাষ, এ নিয়ে তোমার-আমার অনেক চিঠি আদানপ্রদান হয়েছে। আমি বুঝিয়েছি কেন আমি তোমার সঙ্গে একমত হইনি। কিন্তু তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে আমি তোমার ইস্তফা আটকাতে শেষ মুহূর্ত অবধি চেষ্টা করেছিলাম। এদিকে তোমার তরফে সমর্থন এত কমজোরি... কংগ্রেস সোশালিস্টরাও তোমাকে সেভাবে সমর্থন করছে না... তাও, কিন্তু, আমি এখন আবার স্বীকার করছি তোমাকে যতটা সমর্থন করা উচিত ততটা করি নি, আমারই অন্যায় হয়েছে।

    সুভাষ - না না, সে বুঝেছি।...সত্যি বলতে কি, পরিস্থিতি অনেকটা তোমার আমার (বা এমনকি মহাত্মাজিরও) হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল... আসলে আমাদের এত বছর নষ্ট হল ওই যে জেলে আর নির্বাসনে... এরকম ধুরন্ধর শত্রুর বিরুদ্ধে এরকম সময় নষ্ট বড্ড ক্ষতি করেছে... চেষ্টা করেও আটকানো গেল না...।

    জহরলাল - আর জাপানি সেনার মত ভয়ঙ্কর অত্যাচারী যদি ভারত দখল করত?... তখন চেষ্টা করেও ওদের আটকাতে পারতে? ওরা যে ইংরেজদের থেকেও নিষ্ঠুর নিশ্চয়ই জানতে?

    সুভাষ - আচ্ছা, কেন বারবার ভাব যে আমি এই দিকটা ভেবে দেখি নি? দেখ, পরিষ্কার বলে দিই। ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলাম কারণ জানতাম যে ভারতে ওরা ঢুকলেও আমাদের সবার সাহায্য ছাড়া কোন মোটেই এ দেশ কব্জা করতে পারবে না। আরে পূর্ব এশিয়া হাতে রাখতে ওদের অবস্থা খারাপ হয়ে আসছিল, ওরা অবিভক্ত-ভারতের মত একটা ছোটখাট মহাদেশ কি দখলে রাখবে? আর করতে হলে তো আমাদের সবার সঙ্গে - গান্ধিবাদী সত্যাগ্রহী, আজাদ হিন্দ সেনা, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সেনা, বাংলা-পাঞ্জাব-মহারাষ্ট্রের বিপ্লবী, কমিউনিস্ট পার্টি, কিষান মোর্চা, ট্রেড ইউনিয়ন সবাইকে হারাতে হত। অত সোজা? আমরা ইংরেজদের হারিয়েছি, জাপানিরা অত সহজে আমাদের বশ করবে? কি যে বল ।

    (জহরলাল চুপ করে শুনছেন। সুভাষ হয়ত ঠিকই বলছে ... )

    সুভাষ (থামার পাত্র নন) - আরে বাবা! শেষে কি হল? যুদ্ধে জিতে over confident হয়ে ইংরেজরা শাহগল, ধিলন আর শাহনওয়াজকে লাল কেল্লায় সামরিক আদালতে ফেলল। ভেবেছিল সবাই ভয় পেয়ে যাবে। উল্টে কি হল? তুমিই তো লিখেছ দেশবাসী এমন প্রতিবাদ ও আন্দলনে নামলেন যে... তার সঙ্গে নৌবাহিনীও বিদ্রোহ করল, ওদিকে তেভাগা কৃষক আন্দোলন শুরু হল। এক বছরের মধ্যে ব্রিটিশদের চালবাজি খতম। আর তোমরা ভেবেই গেলে জাপানি এলে কি করত!?

    জহরলাল - বলতে থাক। শুনছি।

    সুভাষ - তোমাদের যেটা করা উচিত ছিল সেটা হল 'ভারত ছাড়'র মত আরেকটা দুর্দান্ত সংগ্রাম । সবাই তো ছিলই, সঙ্গে আমার আজাদ হিন্দের সেনাদের-ও এবার সঙ্গে পেতে। যদি সবাইকে নিয়ে ওইরকম একটা প্রচণ্ড আন্দোলন করতে, যদি তুমি আর সর্দার মহাত্মাজিকে আরও সমর্থন দিতে তাহলে হয়ত দেশভাগ হত না। হয়ে যে কি সর্বনাশ হল সে তো তুমি আমার থেকে বেশী ভাল জানো। শুনেছি তো এখনো সেই ক্ষত থেকে রোজ রক্ত ঝরছে !

    জহরলাল - হতে পারে হে, তোমার কথা পুরোপুরি ফেলতে পারছি না। আবার কি জানো, ওই যে একটু আগে তুমিই বললে আমাদের এত বছর নষ্ট হল ওই যে জেলে আর নির্বাসনে যে পরিস্থিতি অনেকটাই হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল... সমাজে বড্ড বেশী ঘৃণা ছড়িয়ে গিয়েছিল। ওই ৪২-৪৫ জেলে থাকা আমাদের বড্ড ক্ষতি করল। আর আটকানো যেত কি না সন্দেহ।

    সুভাষ - যা হয়ে গেছে হয়ে গেছে। আশা করি ভারতীয়রা আর একে অপরকে ধর্ম আর জাতপাত নিয়ে খুনখুনি করে না। ওইটুকু আশা করা ছাড়া এখন তুমি-আমি আর কি করব?

    জহরলাল (উৎসাহী) - তবে সুভাষ এটা বলতেই হবে তুমি আজাদ হিন্দে যে সর্বভারতীয় চিন্তাভাবনা এবং প্রতীক এনেছিল সেসব অনবদ্য। স্লোগান, জন-গন-মন জাতীয় সঙ্গীত, টিপু সুলতানের বাঘ, হিন্দুস্তানি-উর্দু-তামিল-মালায়লাম-গুজরাতি এতগুলো ভাষার সরকারি ব্যবহার, জাতধর্ম নির্বিশেষে সবার একসঙ্গে খাওয়া-থাকা, লক্ষ্মীর নেতৃতে মেয়েদের রেজিমেন্ত। অসাধারণ। শিক্ষণীয়।

    সুভাষ (হাসতে হাসতে) - এমনকি আজাদ হিন্দ ফৌজে গান্ধী, আজাদ আর নেহরু ব্রিগেডও ছিল। দেখো, দুটো ব্যাপার parallel ছিল। এক, এসব symbolismএ নিজেদের বিশ্বাস; দুই, শত্রু-মিত্র সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া যে আজাদ হিন্দ হল দেশের অভ্যন্তরে যে মহান আন্দোলন এত বছর চলেছে তারই নবতম overseas সংস্করণ। সেই জন্যেই তো পতাকাও ছিল তিরঙ্গার মাঝে চরকা, রাশবেহারি বাবু ছিলেন আজাদ হিন্দের সর্বোচ্চ উপদেষ্টা। গান্ধীবাদী আর অস্ত্রধারী বিপ্লবী আন্দোলন দুই ধারাই আজাদ হিন্দকে অনুপ্রাণিত করেছে এ বিষয়ে যেন কারুর কোন সন্দেহ না থাকে।

    জহরলাল - কিন্তু, অনেকে মনে করে তুমি তুরস্কের কেমাল আতাতুর্কের মত একনায়ক dictator হতে চেয়েছিলি। আমার অবশ্য এটা ঠিক বিশ্বাস হয় না। এ কথা সত্যি তোমার মধ্যে একটা 'আমার কথা শুনতেই হবে' authoritarian ব্যাপার আছে, কিন্তু তুমি সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জুলিয়াস সিজার হতে চেয়েছিলে এটা আমার কখনো মনে হয় নি।

    সুভাষ - দেখো, আতাতুর্ককে আমি নিশ্চয়ই শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু, ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটা কথাই বলেছিলাম - স্বাধীনতার অর্জনের পরে একটা সংক্ষিপ্ত সময় নেওয়া হবে যখন যারা বিদেশী শোষণ শেষ করতে এত সংগ্রাম করলেন তাঁরা উন্নত ভারত গঠনে full time লেগে পড়বেন। তুচ্ছ রাজনৈতিক ডামাডোলে সময় নষ্ট না করে দেশের যে বহু আর্থসামাজিক সমস্যা আছে সেগুলির দূরীকরণ করতে হবে। একটি সমাজতন্ত্র-ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে।

    জহরলাল - মানে, আজাদ হিন্দ দেশের শাসন নিজের হাতে নেবে?

    সুভাষ (প্রায় চেঁচিয়ে) - কোন মতেই না। আমি কোনদিন এসব চিন্তা সমর্থন করি নি। এবং সেই হিসেবেই আজাদ হিন্দ সরকারের নামকরণ পর্যন্ত করা হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার। Provisional government of free India. অস্থায়ী, provisional. মহাত্মাজির উদ্দেশ্যে আমার বেতার ভাষণ শোননি তুমি? আমি পরিষ্কার বলেছিলাম যে 'দেশের মাটি থেকে শত্রুরা বিতারিত হলে এবং শান্তি ফিরে এলেই অস্থায়ী সরকারের দায়িত্ব শেষ। তারপরে দেশের সরকার ঠিক করবেন একমাত্র ভারতের জনগন।' ...আচ্ছা জহরলাল, একটা সোজা কথা বলবে? আমি কেন মনে করব যে স্বাধীন ভারতে তুমি, সর্দার, মৌলানা এবং সর্বোপরি মহাত্মাজিকে ছাড়া কোন সরকার গঠিত হবে?

    জহরলাল - তা বটে... হয়ত যুদ্ধের পরিবেশ, জাপানী এবং নাৎসিদের সঙ্গে তোমার ওঠা-বসা, সরাসরি যোগাযোগ নেই - হয়ত সেই জন্যেই আমি তোমার কথা বুঝতে পারিনি। তোমায় সন্দেহ করেছিলাম আমারই ভুল, অনুচিত হয়েছিল। ... জানো, তুমি যদি ১৯৪৬-৪৭এ থাকতে তাহলে কি দেশভাগ হত ? জানি না। যেটা ঠেকাতে আমরা পারিনি, হয়ত তুমি পারতে। অন্তত আংশিক পারতে। হয়ত বাংলা দ্বিখণ্ডিত হত না। কে জানে?...

    সুভাষ - আমার মেজ-দা কিন্তু বাংলার ভাগ আটকাতে খুব চেষ্টা করেছিলেন। প্রয়োজনে দেশ থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে স্বাধীন বাংলা একটি দেশের কথাও ভেবেছিলেন। দুভাগে ভাগ হলে বাঙালি জাতির ওপর যে বহুবিদ আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সঙ্কট নেমে আসবে তিনি অন্তত বুঝতে পেরেছিলেন।

    জহরলাল - শরৎ তো sincere চেষ্টা করেইছিল। তবে আমার মনে হয় ১৯৪৬-৪৭এ ধর্মান্ধতার ক্যান্সার এত ছড়িয়ে পড়েছিল যে কোন লাভ হত না। লোকজন কেমন যেন উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কিছু অংশও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হাত মেলাতে শুরু করেছিল।। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা যে কি অসহায় বোধ করেছি! ... এইসব সময়ে যদি দেশবন্ধু থাকতেন। ওঁর অকালে চলে যাওয়া যে কি অপূরণীয় ক্ষতি ...জানি না সুভাষ, হয়ত তুমি তখন থাকলে কিছুটা এসব ঠেকানো যেত। তুমি তো অনেকভাবে অনেককিছু চেষ্টা করতে। মনে আছে তুমি তো কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হবার পরে সাভারকর আর জিন্নাহ'র সঙ্গেও আলোচনায় বসেছিলে।

    সুভাষ - অনেক রকম চেষ্টা করলে একটা না একটা কাজে লাগে। সেই জন্যেই তো ১৯৪০এ জিন্নাহ আর সাভারকর দুজনের সঙ্গেই দেখা করে ওঁদের ইংরেজ-বিরোধী আন্দলনে যোগ দেবার কথা বলি। ধুর! দেখলাম - জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্ন নিয়ে মেতে আছেন, আর সাভারকর আন্তর্জাতিক বিষয়ে কিছুই জানেন না, উনি শুধু ভাবছে্ন কি করে হিন্দু ছেলেরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি হবে। বুঝলাম এঁদের দিয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে না। আমার বইতেও সেই সময়কার কথা লিখেছি, দেখো।

    জহরলাল - আচ্ছা, তুমি জানো পূর্ব পাকিস্তান, মানে পূর্ব বাংলা, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে স্বাধীন দেশ হয়েছে। ১৯৭১এ?

    সুভাষ - আরে, ও তো হবারই ছিল। আমরা কি চিরকাল বলে আসিনি যে ওই two nation-theory ব্যাপারটাই ফালতু। আজকের দিনে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করে শুধু ঠোকাঠুকি লাগে, সাধারণ মানুষের সমস্যার কোন সমাধান হয় না।

    জহরলাল - সে তো বটেই। কতদিন আমরা এসব নিয়ে সাবধান করে এসেছি বল। রাজনীতি-সংস্কৃতি-ভাষা-সমাজিক চিন্তাধারা এতসব যেখানে এত স্বাতন্ত্র্য সেখানে ধর্মের বেড়াজাল করে কে কতদিন একসঙ্গে থাকবে? হল-ও তাই। পশ্চিম পাকিস্তান জোরাজুরি শুরু করল, পূর্ব দিক প্রতিবাদ করল, নিজেদের স্বাধীন করল। ওইটা কিন্তু আরেক স্মরণীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি আরেকটু খুশি কারণ ইন্দু ওই সময়ে ওঁদের অনেক সাহায্য করেছিল।

    সুভাষ - হা হা। তার মানে ইন্দু 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু' নীতি নিয়েছিল? তাই তো? এবার কি বলবে জহরলাল?

    জহরলাল (উত্তেজিত) - অ্যাই ! আবার শুরু করলে? আচ্ছা সুভাষ, সত্যিই কাজ হয় ওতে সবসময়। ... তুমি তো দু বছর নাৎসি জার্মানিতে থেকে এত চেষ্টা করলে, হিটলারের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করলে। সত্যিই কি কাজের কাজ কিছু হল?

    সুভাষ - না হে। স্বীকার করছি তেমন কিছু লাভ হয়নি। হ্যাঁ, ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার স্থাপিত হল, আজাদ হিন্দ রেডিও সম্প্রচার শুরু হল, Indisch Legion গঠন হল, কিন্তু আসল লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পরা হল না। আর সেটা যে হবে না আমি ওখানে যাবার কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝতে পারি। জার্মানির সোভিয়েত আক্রমণ আমার মূল পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়। কি আর করা যাবে?

    জহরলাল - এটা ঠিক যে দেশ ছেড়ে ওইভাবে তোমার মহানিষ্ক্রমণ কজন পারবে জানি না। ওইসব ঘটনা ‘legend of Netaji’র অন্তর্গত হয়ে গেছে (দুজনেই হেসে ফেললেন)। কিন্তু ঐতিহাসিকের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে তোমার শত চেষ্টা সত্ত্বেও জার্মানিতে ওই দুই-আড়াই বছর বেশী কাজ এগোয় নি। তোমার চেষ্টার ত্রুটি নেই, কিন্তু সময় নষ্ট হয়ে গেল। এসব বললে এখন লোকজন রেগে যাবে, কিন্তু তাই নয় কি? যদি ওই সময় জাপানে যেতে পারতে...

    সুভাষ - আরে ঠিকই তো। সবচেয়ে ভাল হত যদি যখন মহাত্মাজি 'ভারত ছাড়' ডাক দিলেন তখনই যদি আজাদ হিন্দ ফৌজ দেশের সীমান্তে পৌঁছে যেত। তাহলে ইংরেজরা ভেতরে-বাইরে বিশাল সাঁড়াশি চাপে পড়ত। কিন্তু কি করব বল? আমি যখন দেশ ছাড়লাম তখন তো আন্তর্জাতিক ঘটনা এদিকে ঘুরে যায়নি। আমি প্রথমে সোভিয়েতদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টাও করেছিলাম, কিন্তু, ওরা বিশেষ সাড়া দিল না দেখে হিটলারের দলবলকে contact করি।

    জহরলাল - আচ্ছা, কেমন লেগেছিল হিটলারকে? একবার তো তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তাই না?

    সুভাষ (হেসে) - একবার। আর ওইটাই যথেষ্ট । আরে আমাদের সেই ইপি'র পাগল ফকিরের মত। এক তরফা বকবক করেই যায়, কারুর কথা শোনে না। উফফফ! বিরক্তিকর। তবে হ্যাঁ, সেদিন যা বলেছিল খুব একটা ভুল বলেনি। ভারতের সীমান্ত থেকে জার্মান ফৌজ তখন সত্যিই বহুদূরে, তাই দুম করে অস্থায়ী ভারত সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে কাজের কাজ তেমন কিছু হয়ত হত না।

    জহরলাল - আর তাই তুমি সাবমেরিন নিয়ে জাপানে এলে?

    সুভাষ - আরে, আমি বলেছিলাম প্লেনে যাব। হিটলার বলল না - যুদ্ধের সময় কোথায় কখন প্লেনে গুলি করে নামিয়ে দেবে। বলল সাবমেরিনে যান।

    জহরলাল - তোমার সাবমেরিন যাত্রাও চিরন্তন legend of Netaji, জানো তো?

    সুভাষ - আরে সে আর কি।লোকজন এসব নিয়ে লাফালাফি করে। আমার জাপান পৌঁছোবার তাড়া ছিল, আর ওই সময়ে সাবমেরিন হল সবচেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা । তাও, তিন মাস লেগে গিয়েছিল।

    জহরলাল - তবে মনে হয় নাৎসিদের চেয়ে জাপানীদের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক তুলনামূলক ভাবে ভাল ছিল, এবং তাই ফলপ্রসূ হয়েছিল।

    সুভাষ - হ্যাঁ বলব, আবার না-ও বলব। দেখো, তোজো আর ওঁর ক্যাবিনেট আমাদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক ছিল। আমি ওঁদের এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে আজাদ হিন্দকে সমর্থন করলে যুদ্ধে জাপানের লাভই হবে। মুশকিল হয়েছিল এই যে তলার দিকে অনেক জাপানী অফিসার ভীষণ বদমাইশ বর্ণবিদ্বেষী উগ্র-জাতীয়তাবাদী ছিল। ইংরেজ বা নাৎসিদের থেকে বেশী তবু কম না। এই হতচ্ছাড়াদের সঙ্গে আজাদ হিন্দের অফিসারদের প্রায়ই খিটমিট লেগে যেত। ওরা দাদাগিরির চেষ্টা করবে, আমার লোকেরা তা মানবে কেন?

    জহরলাল - বুঝতে পারছি। জাপানী সাম্রাজ্যের এই লোকগুলো ভয়ানক বদ ছিল, নাৎসিদের তুল্যমুল্য। আমি তো শুনেছি আন্দামান অধিকার করে ওরা ওখানকার লোকজনের ওপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করেছিল।

    সুভাষ - আর বল না। আন্দামানের ওই সব জাপানী অফিসার একেকটা গুন্ডা। আর ভয়ানক সন্দেহবাতিক। সবাইকে বিপক্ষের চর ভাবে, আর জোরজুলুম করে। ওখানে আমাদের গভর্নর লংনাথান কতবার ওদের অত্যাছারের প্রতিবাদ করেছে, কিছুতেই শুনত না। সবচেয়ে মুশকিল হয়েছিল আন্দামানে আমাদের নিজেদের কোন সামরিক উপস্থিতি ছিল না। সেই জন্যে ওদের ঠেকাতে পারিনি। তবে দেখ, যেখানে-যেখানে আজাদ হিন্দ সরকারের শাসন চলছিল সেসব জায়গায় জাপানীরা কাউকে অত্যাচার করতে পারেনি।

    জহরলাল - বুঝতে পারছি। ওদের এইসব জুলুমবাজির জন্যেই তো আং সান প্রথমে সাহাজ্য নিয়েও পরে ওদের বিরুদ্ধে চলে গেলেন।

    সুভাষ - জানি তো। তবে এটাও দেখ, আং সানের সঙ্গে আমি আলাদা চুক্তি করে নিয়েছিলাম। ইংরেজ-মার্কিন-জাপানী যাই লড়াই করুক, বিরোধী পক্ষে থাকলেও বার্মিজ জাতীয় সেনাবাহিনী আর আজাদ হিন্দ ফৌজ কখনই যেন একে অপরের বিরুদ্ধে না লড়ে।

    জহরলাল (উচ্ছ্বসিত হয়ে) - দারুন করেছিলে। এটাই তো। বড় দেশদের কথায় আমাদের উঠতে-বসতে কেন হবে? আচ্ছা, তুমি জানো ১৯৫০'র দশকে অনেকটা একইরকম চিন্তাভাবনা নিয়েই আমরা Non-Aligned Movement শুরু করেছিলাম?

    সুভাষ - নাহ। জানতাম না। সেটা কি ব্যাপার? স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি?

    জহরলাল - হ্যাঁ। সোভিয়েত বা আমেরিকার সঙ্গে দোস্তি ঠিক আছে, কিন্তু, কারুর শিবিরে যোগ দেব না। আমাদের মত অনেক সদ্য-স্বাধীন দেশ - যেমন নাসের'র মিশর, টিটোর যুগোস্লাভিয়া, আফ্রিকার অনেকে- সব যোগ দিয়েছিল। ভাল কাজ হয়েছিল।

    সুভাষ - শুনে ভাল লাগল। আদর্শ আর বাস্তবিক চিন্তাভাবনার মেলবন্ধন হওয়াই তো কাম্য। আচ্ছে, এখনো কি ভারতে উঁচুজাত-নিচুজাত, হিন্দু-মুসলমান সব নিয়ে মারমার কাটকাট চলছে? আমি তো হরিপুরা ভাষণে দ্যার্থহীন ভাবে ঘোষণা করে দিয়েছিলাম যে ভারতের নাগরিকদের মধ্যে কোন ধর্মভিত্তিক তফাৎ করা হবে না। রাষ্ট্রের কাছে সব ধর্ম সমান... কি ব্যাপার বল তো? আমরা জীবনভর চেষ্টা করলাম, তাও লোকজন শিখবে না?

    জহরলাল - আরে এখনো থেকে থেকেই সেই বন্দে মাতরম ইস্যু চলছে!

    সুভাষ - বল কি! আমি তো ভেবেছিলাম আমরাই ব্যাপারটার নিস্পত্তি করে ফেলেছি। সেই যে ১৯৩৭এ বিশেষ কমিটি করা হল। কবিগুরু'র মতামত নেওয়া হল। কোন গান চলবে, কি চলবে না এসব নিয়ে তুমি-আমি-সর্দার আর সবাই মিলে পাবলিক ঘোষণা করলাম। উফফ - এখনো?...

    জহরলাল - আসলে অনেকেই বোঝে না যে ভারতের মত সুবিশাল দেশে সবাইকে সাথে নিয়ে চলার চেষ্টা করতে হয়, না হলেই অতল খাদ।

    সুভাষ (উত্তেজিত) - ধুর ধুর! আমাদের যা করার আমরা করেছি... মন খারাপ হয়ে যায় এসব শুনলে।

    (দুজনেই একটু চুপ)

    সুভাষ (বিষয় বদলে, অনুযোগের সুরে) - এত কথা যখন হচ্ছে একটা বলেই ফেলি। তোমার কিন্তু উচিত ছিল আমার আজাদ হিন্দের সেনাদের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ভর্তি করে নেওয়া। কেন নিলে না?

    জহরলাল - সুভাষ, তুমি জানো আমি ওঁদের সমর্থনে লালকেল্লার মামলায় পর্যন্ত লড়েছি। নানাভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি, হয়ত আরও করা উচিত ছিল কিন্তু চেষ্টা করেছি। মুশকিল কি জানো সেনাবাহিনীর ওপর দিকে যারা ছিলেন - কেমন জয়ন্ত চৌধুরী এবং শ্রীগনেশ - ওঁদের এ ব্যাপারে আপত্তি ছিল। জানোই তো, ওরা সব discipline শৃঙ্খলা নিয়ে কেমন strict. আর ওঁদের চোখে আজাদ হিন্দের সেনারা অনেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ করে, বিদ্রোহ করে, বিরোধী সেনাদলে যোগ দিয়েছে। স্বাধীনতার জন্যে লড়েছে ঠিক, কিন্তু সেনাবাহিনীর নিয়ম মানেনি। তাছাড়া, দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে র‍্যাঙ্ক আর পদন্নোতির তফাৎ ছিল, যুদ্ধের পরে কত সেনা এমনিতেই ছাঁটাই হয়েছে, এদের নিলে ওদেরও নিতে হবে। এর মধ্যে ভয়ঙ্কর দেশভাগ আর উদবাস্তুদের সমস্যা, কাশ্মীরে যুদ্ধ চলছে - সব মিলিয়ে কতরকম সমস্যা। তুমিই বল ওঁরা সেনাবাহিনীর হেড - ওঁদেরই dept নিয়ে সর্দার বা আমি কতটা ওঁদের ওপর জোর খাটাব?

    সুভাষ - তাই বলে ওদের নিলে না?

    জহরলাল - ঠিক তা না। দেখো, ওঁরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারেনি সেটা ঠিক। কিন্তু, আইন পাস করে ওদের রাজ্য পুলিশ এবং অনান্য forceএ নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে পেনশন পেয়েছেন। তাছাড়া অনেক আজাদ হিন্দ অফিসার বিদেশে আমাদের দূত হয়েছেন - ডেনমার্কে আবিদ, হল্যান্ডে সিরিল জন স্ত্রেসি, পশ্চিম জার্মানিতে নাম্বিয়ার। শাহনাওাজ মন্ত্রী হয়েছে।

    সুভাষ - ভাল... তাও জানো তো, অনেকেই নানা অসুবিধেয় পড়েছিল। ...

    জহরলাল - চেষ্টা করেছি সুভাষ, সব যে পেরেছি তা তো নয়। দুশো বছর লুঠের পরে টাকাপয়সার কি শোচনীয় অবস্থা তখন। আরও সাহায্য করতে পারলে নিশ্চয়ই ভাল হত। ...

    সুভাষ (একমত না হয়ে খুব একটা উপায় নেই) - হুম... তোমার অসুবিধে বুঝছি। জানো, আজ আবার মনে হচ্ছে তোমার-আমার চিন্তাভাবনায় এত মিল, তাও শুরু করেও বেশিদিন একসঙ্গে কাজ করতে পারলাম না। এই ব্যাপারে আফসোস থেকে যাবে মনে হয়।

    জহরলাল - সে আর কি করা যাবে ? আমার যা-যা ব্যর্থতা তার জন্যে আবার ক্ষমা চাইছি সুভাষ.. এখন তো আর কিছু করার নেই। এইটুকু আশা করি যে পরের প্রজন্মরা যেন এটা বোঝে যে দেশের উন্নতিসাধনে আমাদের চেষ্টায় কোন খাদ ছিল না।

    সুভাষ - হ্যাঁ, একদম ঠিক বলেছ।জীবনে সব কিছুতে কার সাফল্য আসে? ... অন্তত এটা যেন সবাই উপলব্ধি করে যে আমরা যেটুকু করার চেষ্টা করেছিলাম - ঠিক বা ভুল, সফল বা ব্যর্থ - সবটাই সেটা দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় ।

    জহরলাল (সম্মতি দিয়ে) - একই কথা সর্দার-ও বলেন ...

    (দুজনেই হাসলেন। অভিমান মতানৈক্য কাটিয়ে বহুদিনের পুরনো বন্ধুত্ব যেন ফিরে এসেছে।)

    জহরলাল (উঠে পড়ে) - চল। যাওয়া যাক।

    সুভাষ - কোথায় চললে?

    জহরলাল - গোপালকৃষ্ণ গোখলে'র বাড়িতে দাদাভাই নরজি আর আব্রাহম লিঙ্কন আসবেন। আরে আজ তো ১৫ই আগস্ট। তাই আমাদের এখানে এই ছোটখাট get together।

    সুভাষ - নিশ্চয়ই যাব। তা মহাত্মাজি কোথায়?

    জহরলাল - আরে উনি আর গুরুদেব গেছেন টলস্টয়'র বাংলোয়। ওঁদের সঙ্গে না হয় আগামিকাল দেখা করা যাবে। এখন চল।

    (এই 'আড্ডা' সত্যি কি না নিশ্চিত হবার কোন উপায় নেই। তবে হ্যাঁ, এখানে যে্সব বিষয়ে দুজনে আলোচনা করেছেন সেই সব তথ্য ইতিহাসের একাধিক বই'য়ে পাবেন। তলায় তথ্যসূত্র দিয়ে দিলাম। বলতে পারেন 'প্রথম আলো' এবং 'সেই সময়' অনুপ্রাণিত ইতিহাস উপস্থাপনা)

    রেফারেন্স

    ১। বসু বাড়ী - শিশির কুমার বসু
    ২। His Majesty's Opponent - সুগত বসু
    ৩। Nehru and Bose: Parallel Lives- রুদ্রানশু মুখোপাধ্যায়
    ৪। A Bunch of old letters , written mostly to Jawaharlal Nehru and some written by him
    ৫। Crossroads, being the works of Subhas Chandra Bose 1938-40
    ৬। Brothers against the Raj - লিওনার্ড গর্ডন
    ৭। The Subhas I knew - দিলীপ কুমার রায়
    ৮। রবীন্দ্রনাথ ও সুভাষচন্দ্র - নেপাল মজুমদার
    ৯। Selected speeches by Subhas Chandra Bose(Introduction by SA Ayer )
    ১০। Builders of modern India - Subhas Chandra Bose - গিরিজা মুখোপাধ্যায়
    ১১। Modern India 1885-1947 - সুমিত সরকার
    ১২। Selected writings of Jawaharlal Nehru, Volume 14
    ১৩। https://www.outlookindia.com/website/story/netaji-wasnt-indias-first-pm-he-was-the-second-and-he-was-no-hindu-pm/319069
    ১৪। https://www.thehindu.com/news/national/Nehru-arranged-financial-support-for-Netaji%E2%80%99s-daughter-and-wife/article14016320.ece
    ১৫। https://thewire.in/history/netaji-files-family-nehru
    ১৬। https://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/subhas-chandra-bose-decided-the name-of-first-movie-based-on-him-directed-by-yasujir%C5%8D-ozu-1.1057553?fbclid=IwAR3s9u3cBMMI4KyeD-uVU8cWrjRSBWNhXdLTvVhO6Pq5CFilZGk5sfYJE2c
    ১৭। https://auromere.wordpress.com/2012/05/12/subhas-chandra-bose-on-sri-aurobindo
    ১৮। https://scroll.in/article/907754/why-did-british-prime-minister-attlee-think-bengal-was-going-to-be-an-independent-country-in-1947
    ১৯। The Indian Struggle 1920-1942 - সুভাষচন্দ্র বসু
    ২০। The Forgotten Army - পিটার ফে
    ২১। The Springing tiger - হিউ টয়ে
    ২২। http://www.aungsan.com/Welcome_India.htm
    ২৩। Indian Annual Registrar Volume II (1937)
    ২৪। Lecture - Nehru and the armed forces - জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরী
    https://www.cambridgetrust.org/assets/documents/Lecture_5.pdf
    ২৫। https://mha.gov.in/division_of_mha/freedom-fighters-rehabilitation-division
    ২৬। http://pensionersportal.gov.in/Briefsssp.asp
    ২৭।https://ips.gov.in/ActsRules/Revised_AIS_Rule_Vol_I_Rule_13.pdf?fbclid=IwAR0S8qU6KWSukoUJMYO_mhxyz5MfWTKnQCdCkbIn4xssK5LMWHFTdG7x-nc

  • বিভাগ : অন্যান্য | ১৪ আগস্ট ২০২১ | ১১৭৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Benami | 27.58.56.19 | ১৪ আগস্ট ২০২১ ২২:২১496764
  • জওহর বাবু আবার  কবে মহাপুরুষ হলেন ?

  • Somnath Roy | ১৪ আগস্ট ২০২১ ২২:৩৫496766
  • চমৎকার

  • &/ | 151.141.85.8 | ১৪ আগস্ট ২০২১ ২৩:০৩496767
  • তেরো লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ তো হয় না, ও আমাদের অবজার্ভেবল  ইউনিভার্সের চেয়ে অনেক বড় মাপ। তেরো বিলিয়ন আলোকবর্ষ বলতে চাইলেন কি? তেরোশো কোটি আলোকবর্ষ ?

  • ANIRBAN MITRA | ১৫ আগস্ট ২০২১ ০০:০৯496774
  • তেরোশো-ই বটে। ঠিক করে দিলাম। থাঙ্কস। 

  • Subroto Mitro | 71.163.48.142 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:১৩497481
  • ২ ইট পসিবলে তো ট্রি আউট কলিং থেমে বিয়া ও ওউইজা তো কন্ফার্ম সুচ সেনারিওস? ই প্ল্যান তো করি ওয়ান ইফ ঠেরে অরে ভলান্টিয়ার্স তো পার্টিসিপেট ইন ঠিক এক্সপেরিমেন্ট। 
  • রমিত | 202.8.114.42 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:৪৮497484
  • এসব কথাবার্তা কি অসগার্ডে বসে হচ্ছিল ? নইলে আসগার্ডের উপস্থাপনা করা কেন ? আর সাধারণ মানুষ একমাত্র যুদ্ধ করতে করতে মারা গেলে তবেই অসগার্ডের ভালহালা তে প্রবেশাধিকার পায়। ভালকাইরিরা এসে তুলে নিয়ে যায়। এতে ঢোকার নিয়মকানুন সাধারণ স্বর্গের মতো নয়। জওহরলাল নেহেরু আর নেতাজি কেউই যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন নি, তাই ওখানে ওনারা যেতে পারবেন না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন