• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা  শনিবারবেলা

  • পেন্সিলে লেখা জীবন (২২)

    অমর মিত্র
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ২৯ মে ২০২১ | ১২৪৫ বার পঠিত | ৩ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সাহিত্যিক অমর মিত্র লিখছেন তাঁর জীবনকথা, পেন্সিলে লেখা জীবন। প্রকাশিত হচ্ছে পাক্ষিকভাবে।

    আমি অনেক কথা বলেছি। অনেক কথা বলা হয়নি। আমার দুই কাকা সৌরীন্দ্র এবং তারাপদর কথা কিছুই বলিনি। তারাপদ খুব ভালো চিকিৎসক ছিলেন ওপারে। পূর্ববঙ্গে। এপারে এসে তেমন কিছু করতে পারেননি। চেম্বার করেছিলেন দণ্ডীরহাটে। পশার কেন জমেনি জানি না। অন্য কাকা সৌরীন্দ্র ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা তাঁদের অফুরাণ স্নেহ পেয়েছি বাল্যকালে। ছোট কাকা আমাকে শারদীয় কিনে দিতেন। শারদীয় অলিম্পিক, শারদীয় খেলার মাঠ, শুকতারা এইসব। বাবা দীর্ঘায়ু হয়েছিলেন। ৯২ বছর বয়সে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে চলে যান। সেদিন ছিল ভাদ্র সংক্রান্তি। বাবার মৃত্যু আমি দেখেছিলাম তাঁর পায়ের কাছে দাড়িয়ে। সঙ্গে পবন ( নিরঞ্জন )। মনিটরের গ্রাফ অনুভূমিক হয়ে যেতে ডাক্তার বললেন, নেই উনি। মায়ের মৃত্যু ২০০৪ সালের জুন মাসের ২৪ তারিখে। ফোনে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি নেই। বাবা তাঁর দুই অনুজের মৃত্যু দেখেছিলেন। বলতেন এত বড় আয়ু কেন হলো যে। বাবা ছিলেন সংসারে অনাসক্ত মানুষ। কতকিছু ত্যাগ করতে পারতেন। আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি। তা আমাদের পক্ষে মঙ্গল হয়েছে। দণ্ডীরহাটের বাড়িও বাবা ছেড়েই দিয়েছিলেন বলতে পারি।

    আমার দুই দাদা। মেজ ভাই উদয়ন একা মানুষ। বই আর লেখা নিয়ে থাকে। সে মহাফেজখানার ইতিহাস লিখেছে, বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ নিয়ে, বঙ্কিমচন্দ্র নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছে। লিখেছে মহাকরণের ইতিহাস। বড় ভাই মনোজ সারাজীবন ব্যয় করেছে নাটকে। থিয়েটারে। অভিনেতা নিশ্চয় বড়, কিন্তু তাঁর নাটক উৎকৃষ্ট সাহিত্য। তিনি সারাজীবন আমাদের পরিবারে বটগাছের ছায়া দিয়েছেন। আমাদের অভিভাবক।

    ১৯৮৩ সালে আমি ভয়ানক হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হই। পেটের ডানদিকে ব্যথা হত। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গেলাম। তিনি প্রবীণ। শাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরতেন। সৌম্য চেহারা। ছেলেবেলা থেকে তাঁকেই দেখাতাম। তিনি বললেন, অ্যাপেনডিক্স হয়েছে। শীতের সময় অপারেশন করে দেবেন। তখন সদ্য বিবাহিত। দাদা বিশ্বাস করলেন না ডাক্তারের কথা। নিয়ে গেলেন আর জি কর হাসপাতালে। মেডিসিনের বিখ্যাত ডাক্তার সুনীতি চ্যাটারজি আমার চোখ টেনে, পেটে হাত দিয়ে বললেন লিভার বেড়েছে। কিন্তু ব্যাপার খুব জটিল। দাদা আমাকে নিয়ে গিয়ে স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিন হসপিটালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে এক দিন গেছে। মৃত্যুভয় হয়েছিল। হাসপাতালে কত রাত অবধি জেগে থেকে আগডুম বাগডুম ভাবতাম, কত রকম রোগীর সঙ্গে পরিচয় হলো। ভাগলপুর থেকে এক ব্যক্তি এসেছিলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতে গিয়ে তাঁর গায়ের সব রোম ঝরে গিয়েছিল। একটি কেবিনে থাকতেন তিনি, রেঁধে বেড়ে খেতেন। এক বৃদ্ধর শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল মধ্যরাতে। তাঁকে অক্সিজেন দিতে খাট সরানোর দরকার ছিল। সে কাজ সুস্থ, চেক আপে আসা রোগীরা করেছিল। রোগীদের ভিতরে বন্ধুতা হয়, একে অন্যের কথা ভাবে। একে অন্যের মঙ্গল কামনা করে। হাসপাতাল এক আলাদা পৃথিবী। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কলকাতার পথ ঘাট, চলমান জীবন দেখে অবাক হয়েছিলাম। এসব ছেড়ে ছিলাম কীভাবে। হাসপাতালে মহাশ্বেতাদি, শৈবাল মিত্র, পবিত্র মুখোপাধ্যায় থেকে অনেকেই দেখতে গিয়েছিলেন। সেই রোগের কথা ‘ভিতর ও বাহির’ নামে একটি গল্পে আছে। মৃত্যুপুরী ও পৃথিবীর বিবরণ নামে একটি বড় গল্পও লিখেছিলাম তখন। ছটি মাস প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছিলাম। খুব দুর্বল, হাঁটতে পারতাম না। আমার বোন অপর্ণা লেখালেখির ধারে কাছে নেই। ভালো সংসারী।

    সংসার এক বিচিত্র জায়গা। এখানে অর্থগৃধ্নু মানুষ দেখেছি। ঈর্ষা দেখেছি। অহঙ্কার দেখেছি। দর্প দেখেছি। আমার সঙ্গে মেলেনি। এর মানে আমি কি ওয়াশিং মেসিনে ধোয়া ? তবে অর্থের কারণে, ক্ষমতার কারণে কারো প্রতি আমার ঈর্ষা হয় না। কেন হয় না, আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। কিন্তু ঈর্ষা হয় একমাত্র কেউ যদি ভালো লেখা লেখেন। তখন হতাশ হয়ে ভাবি, এ তো আমিই লিখতে পারতাম, কেন পারলাম না? দর্প, অহঙ্কার করার মতো কিছু নেই। পদ, ক্ষমতা যে সামাজিক প্রতিষ্ঠা দেয়, তা আমার ছিল না, কিন্তু লেখার কারণে সম্মানিত হয়েছি আমার উপরওয়ালাদের অনেকের কাছে। সমাজ সব সময় পদ আর ক্ষমতার প্রতি নতজানু থাকে। না হলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। এক দূর সম্পর্কের বৃদ্ধ এসেছিলেন আমাদের ফ্ল্যাটে। মায়ের সম্পর্কই হবেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কী করি। সবটা শুনে বললেন, তিনি ভেবেছিলেন আমি ম্যাজিস্ট্রেট। হতাশ হলেন। আরো হতাশ হলেন প্রমোশনে আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি শুনে। হ্যাঁ, বাবার যে বছর মৃত্যু হয়, সেই বছর প্রমোশন তালিকা বের হয়। লিখিত আবেদন করেছিলাম, নিজের ডিপারটমেন্টে থাকতে চাই বলে। পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসে যেতে চাই না। তাইই ছিলাম। আমাদের সহকর্মী, বন্ধু লেখক সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রমোশনে হয়েছিলেন মহকুমা শাসক। তাঁর অধীনে চাকরি করতে আমার অসুবিধে হয়নি। গ্লানি ছিল না। সুব্রত গত ২০২০-র ১৬-ই মার্চ চলে গেছে। কী চমৎকার গান গাইত। ছবি আঁকত। আমাদের ভিতরে ভালোবাসা ছিল, আবার আমি তাকে কম ভরতসনা করিনি এক এক সময়। কম রাগ করিনি। আবার সে কষ্ট পেলে আমাকে ফোন করে বলত। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে দুঃখ পেয়ে কেঁদেছিল আমার কাছে। হ্যাঁ, টেলিফোনে।

    আমার একটা বিশ্বাস আছে। তাকে আমি সত্য মনে করি। সত্য আপেক্ষিক হলেও, এই সত্যে পৌঁছতে পেরেছি আমি। একে ধরে থাকি। ক্ষমতাকে মনে করি অন্ধকারের পথে যাত্রা। ছিল না, তাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছি হয়ত। সিভিল সার্ভিসে না যাওয়াও তাই হয়ত। ধ্রুবপুত্র উপন্যাস এই কথাই বলেছে শেষ পর্যন্ত। বুদ্ধের দর্শন তাইই ছিল। নিজেকে নিঃশেষ করতে করতে, শূন্যের কাছে আত্মসমর্পণ। ‘হে নবীন সন্ন্যাসী’ উপন্যাসটি সেই কথা বলতে চেয়েছে। আমি কলহ করি। সুনাম আছে। কিন্তু যখন বুঝি ভুল হয়েছে, আবার এগিয়ে যাই। হে বন্ধু, কাছে এস, হাত ধরো। বন্ধুদের অনেকে ফেরে। ফেরেও না দেখেছি। না ফিরে অপমানও করেছে সত্য।

    মানুষের মান অভিমান হয়। সামান্য ভুল অতি বৃহৎ হয়ে যায়। তা চূড়ান্তে পৌঁছয় যখন, মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একে অন্য থেকে। আবার পরস্পরকে বুঝতে না পারাও সম্পর্কের ভিতর দেওয়াল তোলে। মানুষ এসব থেকে মুক্ত নয়। মুক্ত হয় যখন, তখন জীবনের মূল্যবান সময় পার হয়ে গেছে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে তা, কিন্তু এমন হয়েছে, যতবার আলো জ্বালাতে চাই, নিভে যায় বারে বারে। সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ হয় না। একটা ধুলোবালি থেকেই যায় তার ভিতরে।

    সাতক্ষীরে ধূলিহর যাওয়ার কথা তো লিখলাম না। ২০০০ সালে যেতে পেরেছিলাম পিতৃপুরুষের ভিটেয়। সাতজন লেখক বন্ধু আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম খুলনা। গ্রীষ্মকাল। দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্র জন্মোৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম আমরা। সেখান থেকে এক সকালে আমাদের বাড়ি সাতক্ষীরের অদূরে ধূলিহরে। বেতনা নদী গিয়েছে সেই গ্রামের পাশ দিয়ে। কপোতাক্ষ একটু দূরে। সেই যাওয়া আমাদের দুই ভাইয়ের বই ‘ভাসিয়ে দিয়েছি কপোতাক্ষ জলে’ আছে। নতুন করে কিছু বলব না। তবে কিছু ছবি তুলে নিয়ে এসেছিলাম। সেই ছবি বাবাকে দেখাতে, তিনি নিঃশব্দে অশ্রুপাত করেছিলেন। দেশভাগ এক অংশের বাঙালির জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। তার ভিতরে ওপার থেকে এপারে আসা অগণিত উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি, আর এপারে ভালোবেসে নিজের দেশের মাটি আঁকড়ে থাকা মুসলমান উভয়ের জীবনই আছে। সে আমার অন্য লেখায় আসবে। আফসার আমেদের মতো গুণী লেখক দারিদ্রে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। আমি আর আফসার জমি কিনেছিলাম সল্টলেকের লাগোয়া মহিষবাথানে ১৯৯৫ সালে। আমি নেশাগ্রস্তের মতো বাড়ি করেছিলাম। মাথার উপরে নিজস্ব একটা ছাদ চাই। ন্যাশানাল বুক ট্রাস্টের এক আড্ডায় আমি বলেছিলাম, যেন শূন্যের উপরে একটি ছাদ নির্মাণ করছি। ছাদে গ্রীষ্মের রাত্রিতে চিত হয়ে শুয়ে আকাশের তারাদের চিনব। কোনটা কে ? পিতামহ পিতামহী, আমার দিদি ডিলডিল, দাদা সায়েব। মানুষ মরে গেলে তারা হয়ে যায় সেই কোন ছোটবেলায় কে বলেছিল মনে নেই। তো আফসার আমার বাড়িতে থেকে বাড়ি করবে বলল। আমি বললাম যাও থাকো। বাড়ি করো। কিন্তু যে কারণেই হোক থাকতে পারেনি। না মুসলমান বলে কেউ উত্যক্ত করেনি, অষ্ট প্রহর কীর্তনের ভোগও খেয়ে এসেছিল সপরিবারে। তবু তাদের হয়ত ভয় করত। তখন গুজরাতে দাঙ্গা হয়ে গিয়েছিল। একা বোধ করেছিল। সংখ্যালঘু জোট বেঁধে থেকে বুকে সাহস আনে। আর ধারে কাছে কোনো মসজিদ ছিল না। ফজরের আজান শুনতে পেত না নাসিমা, আফসারের স্ত্রী। ওরা বাগনানে ফিরে গেল। এরপর শিল্পী তপন কর বললেন, তিনি ছবি আঁকবেন, তাঁর কলকাতার বাসায় জায়গা নেই। বললাম থাকুন গিয়ে। চাবি নিয়ে গিয়ে ছবি আঁকতেন মহিষ বাথানের বাড়িতে। নিজে হাতে রান্না করে খেতেন ক’দিন আর নিঝুমবেলায় ছবি আঁকতেন। তারপর সেই বাড়িতে প্রতিবেশী থাকতে আরম্ভ করেন। রাস্তার ওপারেই বাড়ি। মুখোমুখি। তিনি বললেন, দাদা, আমার ঘুম হয় না রাতে, আপনি কত কষ্ট করে বাড়িটি করলেন, চোরে এসে যদি দরজা জানালা খুলে নিয়ে যায়। আমার বাড়ির চাবি তিনি নিলেন। এবং বাড়ি দখল করে নিলেন। সেই দখল কেমন হলো। একটি ঘর ভর্তি করে দিলেন চাষের আলু আর কুমড়োয়। আমার খাটে শুচ্ছেন নাতিকে নিয়ে। গাঁয়ের লোক নিয়ে তাস খেলেন। এদিকে বেলগাছিয়ার বাসায় আমার ঘুম হয় না। ছুটির দিনে ছুটি মহিষ বাথান। ২১৫ নং বাসে চেপে ভেড়ির ধারে নেমে মিনিট পনের-কুড়ি পায়ে হাঁটা। বুঝতাম ভুল করেছি বাড়ি এখানে করে। রাতবিরেতে ঐ নির্জন ভেড়ির ধার দিয়ে হেঁটে আমি বাড়ি ফিরতে পারি, কিন্তু বাড়ির মেয়েদের ভয় করবে। কবে অটো চালু হবে বা রিকশা পাওয়া যাবে জানি না। আসলে গ্রামের মানুষ সাইকেল ব্যবহারে অভ্যস্ত। তাই এখানে এইটুকু রাস্তার জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা করা যাবে না। প্যাসেঞ্জার পাবে না রিকশা কিংবা অটো।

    আমি উদ্বিগ্ন হয়ে বাড়িতে পৌঁছলে তিনি আপ্যায়ণ করতেন চা বিস্কুট দিয়ে। আরে দাদা আসুন। কেমন আছেন? বাড়ির সবাই ভালো তো? যেন তাঁর বাড়িতে আমি অতিথি এলাম। নিজের বাড়িকে মনে হচ্ছে অন্যের বাড়ি। তাইই যেন। মনে হলো খুব ভুল করেছি লোকটাকে থাকতে দিয়ে। বাড়ি করেছিলাম আনন্দে। সেই নেশা ধীরে ধীরে চলে গেল। বাড়ি হয়ে গিয়েছিল ভার। মনে হত বাড়ি আমার থাকবে না। বেলগাছিয়া ছেড়ে ওই জায়গায় বাড়ি করা অনুচিত হয়েছে। লোন শোধ করছি, সঞ্চয় ভেঙেছি, কিন্তু বাড়ি আমার হলো না। বাস থেকে নেমে ভেড়ির পাশ দিয়ে মিনিট কুড়ি হাঁটা। ছেলে মেয়ে ছোট। বাড়ির কেউ ওখানে গিয়ে থাকতে চায় না। বাড়ি বিক্রি করে দিলাম ২০০৭ সালে। বিক্রি করে বাঁচলাম। রবিবারে ডিউটি দিতে মহিষবাথান ছুটতে হবে না আর। গ্রীষ্মের দুপুর। বাড়িতে বিশ্রামের উপায় নেই। সেই মহিষবাথান যেতে হবে। বাড়ি আমার ঠিক আছে তো। একটা ঘরে চাষের আলু, মাছ ধরার জাল, এসবে বোঝাই। বাড়িটা নিজের মনে করে বড়ই আনন্দ হয় রাজেশ্বর মণ্ডলের। আমার খাটে সে নাতি নিয়ে শুয়ে থাকে। তারই বাড়ি, আমার নয়। সুতরাং বিক্রি করে নিশ্চিন্ত। যে আনন্দ পেয়েছিলাম নির্মাণের সময়, তাইই আমার ঝুলিতে রইল। একটি উপন্যাস লিখেছিলাম দু’কাঠা জমিতে ৭০০ বর্গফুট বাড়ি তৈরি নিয়ে, ‘শূন্যের ঘর শূন্যের বাড়ি।’ ওইটুকু লাভ। ভুল হয়েছিল ওখানে জমি কেনা। সেই ভুলে কত যে প্রাপ্তি তা হিশেব করে বলতে পারব না। আর একটি বড় উপন্যাস লিখেছিলাম, ‘পূর্বগামিনী’। বাড়ি হস্তান্তরের দলিল সম্পাদন করে রাজেশ্বরকে টাকা দিয়ে ঘর থেকে বের করতে হয়েছিল। সাহায্য করেছিল গৌতম গায়েন নামে ঐ এলাকার এক যুবক। সে রাজনীতি করত। ফলে তাকে অগ্রাহ্য করতে সাহস পায়নি প্রতিবেশি। একটা বাড়ি করতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়। আমার জমির পিছনে অনেকটা খালি জমি, সেই জমিতে মাদুর পেতে নারিকেল আর নিমের ছায়ার নিচে আমি শুয়ে থাকতাম। দেখতাম মজুররা বাড়ি গাঁথছে। দেখতাম দূরে মাঠের ভিতর দিয়ে মেঘের ছায়া ছুটে যাচ্ছে। গাছের ছায়ায় ঘুম এসে যেত। দেখতাম বিহারী মজুর কিশোরটি আমার বাড়ি গাঁথছে। সে বিকেলে আমার কাছ থেকেও বকশিস নেয় মিঠাই খাওয়ার টাকা। বাড়ি মজফফরপুর। হাসিখুশি কিশোর। ঠিকেদার তাকে বলত ‘পুচকি’। তারা ওখানে অস্থায়ী আশ্রয় বানিয়ে আছে। একটা বাড়ি করতে ইট সিমেন্ট বালি, লোহা সব লাগে। জল লাগে। আর লাগে গায়ের ঘাম। আর থাকে উদ্বেগ। যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছিলাম, সেই শ্যাম, তারক রায়রা পাশেই থাকে। তাদের বাস্তু জমি থেকেই আমি কিনেছি এই জমি। তাদের দুই বোন। বিয়ে দেবে ওই টাকা থেকে। আর যা থাকবে, থাকবে। খুব গরিব। তারা রাতে তাদের স্নানঘর তুলে নিল আমার মজুরদের হাত করে, আমার ইট আমার সিমেন্টে। দেখলাম। বুঝলাম। কিন্তু কিছুই বলতে ইচ্ছে হলো না। এটুকু তো নেবে। তাদের নারকেল গাছটি আমার জমিতে পড়ে গেছে। জমির সঙ্গে নারকেল গাছটিও চলে যাবে, আগে ভাবেনি। ডাব, নারকেল বেচেও কিছু হতো তো। আমি ডাব পাড়ালে তাদেরও দিতাম। আমার ঐ জমি কেনায় যে দালালি করেছিল সে আমাদের বন্ধুর মতো। জমি বিক্রি হয়ে গেলে তারক, শ্যামদের কাছ থেকে ১০০০০ টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি । অথচ সে সরকারি চাকরি করত। থিয়েটার করত। এরপর তাকে আমি তিরস্কার করতে সে বলল, ফেরত দেবে। কিন্তু দেয়নি। একজন বলল, দালালি নিয়েছে ওদের কাছ থেকে। হস্তান্তরের পর আমি আর যাইনি মহিষ বাথানে সেই বাড়ি দেখতে। খোলা ছাদটির কথা মনে পড়ে। গৃহ প্রবেশের সময় তিন দিন ছিলাম। রাতে সকলে ছাদে বসে গল্প করতাম। পূর্ণিমার চাঁদ উঠতে দেখেছিলাম সোনার থালার মতো। কত তারা আকাশে। দক্ষিণ দিকটায় অনন্ত প্রান্তর। মহিষ বাথানের দক্ষিণে আমি জমি কিনেছিলাম। উত্তরের অংশটি বর্ধিষ্ণু। প্রামানিক জমিদার বাড়ি কেন্দ্র করে লবন আন্দোলন হয়েছিল। প্রামানিক বাড়িতে সুভাষচন্দ্র এসেছিলেন। তাঁদের মস্ত বাড়ি দেখেছি ঘুরে ঘুরে। মহিষ বাথানের ধর্মরাজতলায় বড় করে ধর্মরাজের পুজো হয়। প্রাচীন এবং ঐতিহ্যশালী গ্রাম। এখন নিউ টাউন যাওয়ার সময় ডানদিকে মহিষ বাথান গ্রাম দেখতে পাই। দেখে মনে হয় যাই আবার। দেখে আসি আমার বাড়ি। বাড়ি তুমি কেমন আছ? আমি তোমার বাবা এবং মা। তোমাকে জন্ম দিয়েছিলাম আমি। রোদে বয়ে এনেছি জলের কল, দরজার রং, আলোর শেড। আরম্ভ থেকে কত কিছু হলো। হুম হুম করে কুয়ো কাটা হলো। কুয়োয় জল উঠবে না, বলল, সেই রাজেশ্বর। তার কথায় টিউবওয়েল বসানো হলো। টিউবওয়েল বসানোর পর কুয়ো জলে ভরে গেল। ঠিকেদার রাগ করল, কেন ওর কথা শোনেন। দূর জোতভীম গ্রাম থেকে দুষ্কৃতির দল এসে ভ্যান রিকশায় করে ইঁট তুলে নিয়ে গেল রাত্তিরে। নাইট গার্ড আর মজুরদের বুকে ছুরি ধরেছিল তারা। থানায় যেতে ওসি আমাকে বকাবকি করতে লাগলেন, ধুর মশায়, ঐ জংলা জায়গায় কেউ বাড়ি করে, দেখি কী করা যায়। ওসি খবর দিলেন এলাকার সব চেয়ে বড় মস্তানকে। তার বাড়ির দেওয়ালেও মার্বেল পাথর বসানো। সেই মস্তান এসে সব দেখে বলল, ব্যবস্থা নেবে। ক’দিন বাদে থানা আমাকে ডাকল ফোনে। তখন ল্যান্ড লাইন। গেলাম থানায়। ওসি বলল, ইঁট সব উদ্ধার হয়েছে। থানার সামনে টাল করা আছে। ম্যাটাডোর ভাড়া করে সেই ইট ফেরত নিয়ে গেলাম। মজুররা বলল, হাজার দেড় ইট ডাকাতি হয়েছিল, ফেরত পেলাম হাজার তিন। মজুরদের হিশেবে ভুল ছিল, কিংবা কমিয়ে বলে আমাকে শান্ত করেছিল। দিকে দিকে রটে গেল, ডাকাতি করা জিনিশ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এরপর আর ডাকাতি হয়নি। তবে আমার সিমেন্ট আমার বালি আর ইট দিয়ে একরাতে শ্যামরা স্নানঘর তুলে ফেলেছিল তাদের কলতলায়। আর রাজেশ্বর বাড়ির ভিতরের কাজ করেছিল, সিঁড়ি করে নিয়েছিল। দাদারটা মানে তাদেরটা। তারা অবশ্য বলেছিল, সিমেন্ট কিনে এনেছিল। তিন বস্তা সিমেন্ট জমে পাথর হয়ে গিয়েছিল। অমন হয়। বাড়ি লোকে একবার করে এবং ভুল করে কত। সেই ভুল সংশোধন করার উপায় থাকে না। সবই ঐতিহাসিক ভুল। কিন্তু মধ্য বয়সে বাড়ি করার আনন্দই আলাদা। সেই বাড়িতে থাকা গেল না, তাতে হলো কী, বাড়ি আমার একটা উপন্যাস হলো। সেই উপন্যাসের পর নতুন উপন্যাসে মন দিতে হবে। পুরোন লেখায় কি মায়া রহিয়া যায়। সেই মায়ায় তো নতুন লেখায় মন দেওয়াই যাবে না।

    বেলগাছিয়ার অনেক কথা বলেছি। অনেক কথাই বলা হয়নি। বাড়ি পর্বে এসে বলি বরং আরো বৃত্তান্ত। বেলগাছিয়ার যে অঞ্চলে থাকি তা বেসিনের মতো। চারদিকের জল এসে আমার এলাকায় জমা হয়। একটা সময় ছিল, যখন জল সরতে পাঁচ-সাত দিন লাগত। গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকি। বর্ষার সময় অবধারিত জল ঢুকতই ঘরের ভিতর। এক একটা দিন গেছে, রাত গেছে দুঃস্বপ্নের মতো। এমনও হয়েছে, তিন দিন জলে ডুবে আছে ঘর। যাই হোক এখন আর সেই সমস্যা নেই। এখন বেলগাছিয়ায় জল জমে থাকে না। আমফানের সময় জল ঢুকেছিল, কিন্তু তা ঘন্টাখানেকের মতো। আমাদের ছেলেবেলায় এখানে খোলা ড্রেন ছিল। বর্ষায় ড্রেন আর ফুটপাথ এক হয়ে যেত জমা জলে। সেই সময় বহু অচেনা লোক ফুটপাথ ভেবে ড্রেনে পড়ে যেতেন। বালকদে র খেলা ছিল, লোককে ভুল পথ দেখান। নর্দমাকে রাস্তা বলে দেওয়া। তারপর লোকটি নর্দমায় পড়লে বালকরা আনন্দে হাততালি দিত। বালকবেলা নিষ্ঠুরতার বেলাও। বেলগাছিয়ায় আমাদের বাল্যকাল কেটেছে অপূর্ব। পুজো গেলেই ক্রিকেট ব্যাট উইকেট নিয়ে মাঠে। নিজেরা পিচ তৈরি করতাম। পাড়ায় পাড়ায় ম্যাচ খেলতাম। পুজোর সময় জামা প্যান্টের সঙ্গে একজোড়া কোলাপুরি চটি পেতাম। সেই চটি খেলতে গিয়ে অবধারিত মাঠে ফেলে আসতাম। বাড়ি ফিরে খেয়াল হতে মাঠে গিয়ে দেখি, নেই। বাড়িতে বকুনি খাব, সেই ভয়ে চুপ করে থাকতাম। খালি পায়ে ইস্কুল। মা একদিন খেয়াল করলেন, তোর জুতো কোথায় রে ?

    এরপর জুতো বা চটি পায়ে মাঠে যেতাম না। কিন্তু পুজোর পর তো ক্রিকেট মাঠে যাওয়া হত। নতুন জামা, চটি পরে। আবার চটি চুরি হলো। চোখে জল এসে গেল। বংশী বলল, কাল তোর চটি পাবি, বাড়িতে বলবি না। পরের দিন বংশী একজনের চটি এনে আমাকে দিয়ে বলল, পরে বাড়ি চলে যা। আমিই চুরি করলাম তাহলে। সেই কোলাপুরি একটু ছোট ছিল সাইজে। পায়ে এঁটে বসেছিল। খুব টাইট। জরির কাজ ছিল সেই চটিতে। আমি সেইটা পরে বেরতে ভয় পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল ধরা পড়ে যাব। যার চটি তাকে আমি চিনি। বংশী যদি তাকে বলে দেয় ? বংশীকে বিশ্বাস নেই। আমি একদিন কাগজে মুড়ে চটি জোড়া ক্রিকেট মাঠে দিয়ে এলাম। সে যদি পায়, পেয়ে যাবে। পেয়েছিল। খেলা আরম্ভের আগে গিয়ে রেখে এসেছিলাম পিচের উপরে। বংশী অবাক হয়ে আমাকে দেখেছিল। আমি বেঁচেছিলাম। সেই বংশী গেল কোথায় ? আমাদের যত নষ্টামির শিক্ষা বংশী দিত। কোক শাস্ত্র বংশী দেখিয়েছিল। মাঠে বসে পড়েছিল, আমারা গোল হয়ে বসে শুনেছিলাম। বংশী নিয়ে যেত অদ্ভুত সব সিনেমা হলে। বাগুইয়াটির বিনোদিনী হলে নিয়ে গিয়ে মালা সিনহা উত্তমের সাথীহারা দেখিয়েছিল। রেল কলোনিতে রিজেন্ট সিনেমা হলে লাভ ইন টোকিও। খালপাড়ে সুরশ্রীতে সবার উপরে। বিধুশ্রী সিনেমায় ঝিন্দের বন্দী...। বিনোদিনী বাদে কোনো সিনেমা হলই আর আছে বলে জানি না। কলকাতার সিনেমতলার ছায়া বিলীন হয়ে গেছে।

    আমাদের ছোটবেলা কেটেছে ঘরের বাইরেই বেশি। ঘরে জায়গা ছিল কম। রাত সাড়ে চারটেয় প্রথম ট্রাম ছাড়ত বেলগাছিয়া ডিপো থেকে। তারপরই ফুটবল নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম। ভোরের আলোয় ফুটবল ছিল বড় আনন্দের। এক একদিন আমরা ট্রামে চেপে ধর্মতলা চলে যেতাম। ময়দানে বল পেটাপেটি করে রোদ উঠে গেলে ফিরে আসতাম ট্রামে চেপেই। রোববারে কলকাতার সিনেমা হলগুলিতে প্রাতঃকালীন প্রদর্শন হতো। সেখানে লরেল হারডি, চ্যাপলিন থেকে অনেক আকর্ষণীয় ছবি দেখাত। মনে পড়ে ১৫-ই আগস্ট দেখেছিলাম ৪২, শ্রীঅরবিন্দ...এইসব ছবি। কলকাতার বিনোদনের বড় জায়গা ছিল সিনেমা আর বাণিজ্যিক থিয়েটার হল। এখন আর কিছুই নেই। সিনে সোসাইটি ছবি দেখাত রোববার সকালে। বেশিরভাগ পূর্ব ইওরোপের ছবি। আমাদের পাড়ার শিবুদা ছিলেন ফিল্ম সোসাইটির মেম্বার। তিনি আমাকে টিকিট দিতেন। আমি ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ দেখেছিলাম সেই এক রবিবার সকালে। পরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক বিখ্যাত ছবি দেখেছি। আমার বাড়ি ২৭ নম্বর, ৮৩ নম্বরে থাকতেন নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তিনি সেই সময় ব্যতিক্রমী চিত্র পরিচালক। সদ্য যৌবনে তাঁর একটি ছবি দেখেছিলাম অদ্বিতীয়া। গান ছিল চমৎকার সব। তারপর চিঠি, চপার, অশ্বমেধের ঘোড়া এইসব ছবি করেছিলেন। নব্যেন্দুদার বাড়িতে রবিবার সকালে জোর আড্ডা হতো। আমাকে ভালোবাসতেন। তাঁকে নতুন লেখা গল্পও শুনিয়েছি। নব্যেন্দুদার বাড়িতে অনেকের সঙ্গে বন্ধুতা হয়, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, দিলীপ বসু, পার্থ দেব…, এমনি অনেকের সঙ্গে সে কি অপূর্ব আড্ডা। আমি চেয়েছিলাম নব্যেন্দুদার পরশুরামের কুঠার ছবিতে সহকারী হই। তিনি নিজেই নিবৃত্ত করেন, সিনেমা তোমার জায়গা নয়। নব্যেন্দুদার মৃত্যু হয় আচমকা। হার্ট অ্যাটাক। স্মরণ করলাম তাঁকে। ইউ টিউবে তাঁর ছবি আছে। একদিন আবার দেখতে হবে। কেমন লাগবে জানি না। আমার দেখার ধরণ বদলে গেছে। শিল্পবোধ হয়ত আরো নিবিড় হয়েছে। আগে যা পছন্দ হয়েছে পড়ে, এখন তা হয় না দেখেছি। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তা হবে নিশ্চয়।


    (ক্রমশঃ)





    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৯ মে ২০২১ | ১২৪৫ বার পঠিত | ৩ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | ২৯ মে ২০২১ ১৫:২০106571
  • আফসার আমেদ এবং নাসিমা প্রসঙ্গ আমাকে আপনারই কোনো গল্পের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যেখানে এই চরিত্রদুটি ছিল। কালী ঠাকুরের ছবি ছিল সেখানে একটি ঘরে... 


    নামটা এই মূহুর্তে কিছুতেই মনে করতে পারছি না... 

  • Prativa Sarker | ২৯ মে ২০২১ ১৯:৫০106585
  • হ্যাঁ হ্যাঁ পাই, এটাই। 

  • গৌতম | 2402:e280:3d0d:e:618d:d9f9:3d18:5c06 | ২৯ মে ২০২১ ২২:০৯106595
  • অত্যন্ত  সুন্দর । সব চেনা। প্রায়  সবাই চেনা । এই সব লেখা  পড়ার আনন্দ ই আলাদা  । 


    বেশ লাগল।  এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেল্লাম।

  • বিপ্লব রহমান | ০১ জুন ২০২১ ০৭:০০106690
  • বাড়ি নির্মাণ অংশিটি খুব আবেগ দিয়ে লিখেছেন। 


    বিচ্ছিন্নভাবে এই ধারাবাহিকটি পড়ছি। মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম

  • Santosh Banerjee | ০১ জুন ২০২১ ১২:০৩106692
  • দাদা সবার কথা তো বলছেন একবার আপনার এবং আমাদের সকলের নমস্য শ্রী মনোজ মিত্র মহাশয়ের সম্পর্কে কিছু বলুন না , ওনার নাটক ।..'চাক ভাঙা মধু ' ।."নরক গুলজার ""।.."শিবের অসাধ্যি ""।.."নেকড়ে "'।..সাজানো বাগান""।.. "'রাজ দর্শন ""।..."মহাবিদ্যা ""।..এগুলো করেই তো সারা জীবন কাটালাম !!আশ্বস্ত হবো তাহলে !!

  • Goutam Mitra | ০৪ জুন ২০২১ ২৩:৪১494563
  • ভ্রম সংশোধন। 


    আমি শুধু মাত্র দি পত্রিকায় কাজ করেছি দীর্ঘ ৩৬ বছর। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত। 

  • অলোক গোস্বামী | 2402:3a80:a71:2283:3afe:bb5:ca8:a335 | ১০ জুন ২০২১ ২২:১২494823
  • আপনার হাসপাতাল যাপনের কথা জানতাম না। অথচ কত গল্পই না আমাদের হয়েছে। পূর্বগামিনী উপন্যাস পড়ার ইচ্ছে রইলো।

  • চিরঞ্জয চক্রবর্তী | 2402:3a80:1960:da90:8c88:e1b1:a9b:fcb2 | ১১ জুন ২০২১ ১৮:২৫494846
  • চিরঞ্জয চক্রবর্তী


    অসাধারণ  লেখা।

  • চিরঞ্জয চক্রবর্তী | 2402:3a80:1960:da90:8c88:e1b1:a9b:fcb2 | ১১ জুন ২০২১ ১৮:২৫494847
  • চিরঞ্জয চক্রবর্তী


    অসাধারণ  লেখা।

  • Prabhash Chandra Roy | ১৩ জুন ২০২১ ১৮:৩৫494921
  • সাতাত্তরের শেষ দিকে বাইরে চলে যেতে হয়। সে সময় বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগের তেমন সহজ উপায় ছিল না। আশির দশকের কলকাতা ফিরে নিজেদের অফিসেই একটি চমৎকার লাইব্রেরি পেয়ে যাই। আগে লেখকের দুএকটি লেখা পড়া থাকলেও, লেখার সঙ্গে তেমন সখ্যতা গড়ে ওঠার সুযোগ ঘটে নি। 


    এমনসময় হাতে এলো একটি উপন্যাস, ধ্রুবপুত্র। দু'রাত জেগে বইটি শেষ করলাম। তারপর থেকেই লেখক অমর মিত্রের ভক্ত হয়ে গেলাম। অসাধারণ লেখা। এরপর যেখানে যেমন সুযোগ হতো, লেখকের নাম দেখলেই হামলে পড়তাম। ধ্রুবপুত্র আমার পড়া অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।


    জন্মেছিলাম পাহাড়ের কোল ঘেঁষা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। 'কলকাতার ছোটবেলা'র অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। লেখাগুলো পড়তে পড়তে তবুও কোথায় যেন নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। 


    প্রতিটি পর্ব অনন্য।


    ধারাবাহিক ভাবে নয়, তবে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে অনেকগুলো পড়েছি। এখন আবার পড়ছি।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন