• খেরোর খাতা

  • হাসির মুক্ত ধারা!

    Asok Kumar Chakrabarti লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ এপ্রিল ২০২১ | ৫২৬ বার পঠিত
  • বদনাম কিংবা সুনাম যাই হোক, বাঙালি নাকি খেতে পেলে শুতে চায়! পেটে দুমুঠো অন্ন পড়লেই, মেঝেতে পড়ে দে ঘুম। যাতায়াতের পথে, তখন দেওয়াল লিখন চোখে পড়তো, “বাঙালি জাগো”। কলকাতার সর্বত্র আলকাতরা দিয়ে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে বীরত্ব দেখাতো অন্যের দেওয়াল নষ্ট করে। এটা দেখতে দেখতে লোকের চোখ জোড়া যখন পচে যাওয়ার উপক্রম, এমনি সময়ে কে কারা লুকিয়ে ক্রশ চিন্হ দিয়ে পাশেই লিখে দিল – “কাঁচা ঘুম ভাঙাবেন না “। এতো কড়চা!

    কে বলে বাঙালি হাসতে ভুলে গিয়েছে? একেবারে ভুল ধারনা। রসে -বশে দিব্যি দিন কাটছে বাঙালির ! কলকাতার কড়চায় মাঝে মধ্যেই উঠে এসেছে নানা মজার খোরাক। কড়চায় একবার লেখা হলো, “রাজ্যে যখন অন্ন বাড়ন্ত, প্যারডি গাইয়ে  মিন্টু দাশগুপ্ত গান বাঁধলেন” – সন্দেশের বদলে কাঁচ কলা খাও,” ওদিকে বিয়ে-বৌভাত অনুষ্ঠানে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন সাঁড়াশির মতো চেপে ধরলো সাধারণ গেরস্তকে, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রফুল্ল। আবার চতুর্দিকে হিংসা-হানাহানি, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে সেই সময় সিদ্ধার্থ। ওই জমানার পর অন্ধকারে নিয়ম করে ডুবতে থাকলো আমাদের রাজ্য। প্রতি দিন ঘন্টার পর ঘণ্টা টানা লোডশেডিং।কারন কোলাঘাট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় অচল। আবার তারও কারন নাকি কয়লা ভিজে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তবু অবস্থা সামাল দেওয়া গেলনা। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেই দোর্দন্ড প্রতাপশালী জ্যোতি বসু। “হাস্যরস” আর কাকে বলে!

    বাংলা সিনেমা তখন লোকে দারুনভাবে উপভোগ করতো। ছবিতে নায়ক-নায়িকা ছাড়াও দর্শক আগে দেখতো হাসির চরিত্রে কে কে আছেন। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর রায়, হরিধন মুখোপাধ্যায়, নৃপতি চাটুজ্জ্যে, রবি ঘোষ, অনুপ কুমার, চিন্ময় রায়, বঙ্কিম ঘোষ, শ্যাম লাহা, এমনি আরও কত নাম। লোকের ধারনা ছিল – এই সব অভিনেতা থাকা মানেই পেটে খিল ধরা কে আটকায়? হলে বসে তিন ঘন্টা মুখ গোমড়া করে বসে থাকতে হবেনা। “বসন্ত বিলাপ” ছবি তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তো একাই একশো! অন্যদিকে “ছদ্মবেশী” ছবিতে মহানায়ক উত্তম কুমারের অভিনয় যে কোনো কমেডিয়ান কে হেলায় পেছনে ফেলে দিয়েছে সেই সময়ে দাঁড়িয়ে। প্রমান হয়ে গিয়েছে উত্তম কুমারের ধারে কাছে কেউ নেই হাসির ছবিতেও। আওয়াজ উঠলো – গুরু,গুরু!

    খবরের প্রথম পাতায় চন্ডী লাহিড়ী সেই সময় কার্টুন আঁকতেন। “তির্যক” নাম দিয়ে প্রতিদিন বেরুতো। খবরের আগে পাঠকের নজর কাড়তো ওই কার্টুন – “তির্যক”। মুখে মুখে ঘুরতো শ্লেষ ভরা ওইসব কার্টুন। কুট্টিকে বাঙালি পাঠকের নিশ্চয়ই মনে আছে! যেসব নেতা কুট্টিকে হাতের কাছে পেয়েছেন, রেগে যাওয়ার পরিবর্তে সাদরে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন তাকে নিয়ে কার্টুন আঁকার জন্যে। কুট্টির তুলির আঁচড় রাতারাতি হিরো করে দিতো কোনো থার্ড গ্রেড রাজনৈতিক নেতাকে। দুজন পাঠক মুখোমুখি হলেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতো – “কুট্টির কার্টুন টা দেখেছিস?”

    সত্যিই সেসব এক দিন গিয়েছে! দৈনন্দিন জীবনে বাঁচার মজা টুকু রাতারাতি উধাও!

    সেই সব কৌতুক শিল্পীরা গেলেন কোথায়? তখন দুজন সঙ্গীত শিল্পীর মাঝখানে একজন আবৃত্তিকার অথবা একজন কৌতুক শিল্পীর অনুষ্ঠান রাখা হতো। নজরুল- পুত্র কাজী সব্যসাচীর “বিদ্রোহী” সেই সময় খুব চলতো। কৌতুক শিল্পী দীপক গাঙ্গুলি, সোনা ভট্টাচার্য্য এমনি আরও কত নাম। অল্প পয়সায় দিব্যি স্টপ-গ্যাপ। এই সময় মূকাভিনয় শিল্পী যোগেশ দত্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মুখ্য আকর্ষণ ছিলেন।

    কলেজগুলোতে নিয়মিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। আমরা যখন কলেজে পড়ি, তখন কলেজ সোশ্যাল হতো আশপাশের কলেজগুলোকে টেক্কা দিয়ে। ১৯৬৭-৬৮ সালে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়মে আমরা যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছিলাম, সেখানে কাজী সব্যসাচী বেশ কয়েকটি আবৃত্তি শুনিয়েছিলেন। দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় গেয়েছিলেন মহালয়ার সেই গান – “জাগো তুমি জাগো “! আর এসে ছিলেন অভিনেতা জহর রায়। কৌতুক শিল্পী হিসেবে তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। এদিন জহর রায় ছিলেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। একাই একশো। ওয়েটিং-রুমে একা বসে ছিলেন। আমি কাছে যেতেই কাছে ডেকে বসতে বললেন। আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই উনি জানতে চাইলেন – “কখন তোমরা আমাকে মঞ্চে ডাকবে?”
    একেবারে শেষে শুনে হাত ঘুরিয়ে ঘড়ি দেখলেন – সাড়ে বারোটা। সকাল নয়টায় ফাংশন শুরু হয়েছিল। দু’টো নাগাদ হল ছেড়ে দিতে হবে। আরো কিছুটা সময় বসতে হবে শুনে উনি বিরক্ত হলেন না। বলতে শুরু করলেন – “একবার একটা ফাংশনে যেতে পারিনি। মেয়ে সাংঘাতিক ভুগছিলো। তখন ফোন ছিল না। কলকাতার বাইরে। পাশকুড়ার দিকে মেচোগ্রামের আশপাশে খোলা মাঠে মাচার অনুষ্ঠান। পরে ওখানকার একজন বাড়িতে এসে অগ্রিম দেওয়া পাঁচ শো টাকা ফেরৎ চাইলো। আমি সত্যি ঘটনা জানানো সত্ত্বেও জেদাজেদি শুরু করলো। আমি উঠে গিয়ে বাথরুম থেকে একটা কলগেট-টিউব এনে হাতে দিয়ে বললাম, খানিকটা পেস্ট টিপে বের করো। ছেলেটি তাই করলো। এবার বললাম, বেরিয়ে আসা পেস্ট যেখানে ছিল, সেখানে পাঠিয়ে দাও। ছেলেটি অসম্ভব বুঝে আমার মুখের দিকে তাকালো। হয়তো লজ্জা পেলো। না, টাকাটা আমি মেরে দিইনি। ক্লাবের হিসেবের টাকা। ফেরৎ দিয়ে ছিলাম । চা-জলখাবার  খেয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করে গেলো। “হাসির রাজা” এবার নিজেই সেই পরিচিত ,আপন করে নেওয়া দর্শক ভোলানো হাসি হাসলেন। নিজের থেকে না বললে অতো শতো কে জানতো! 


    ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে জহর রায়।

    সেই সময় একটা বাংলা সিনেমা দারুন চলে ছিল। “ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট”। মার মার, কাট কাট ছবি। হলে বহুদিন চলে ছিল‌। অনেক বার দেখেছেন কেউ কেউ।

    সেই ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম দিন উপলক্ষে রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজন করা হয়েছিল একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান – “হাসির মুক্তধারা”। তারিখটা ছিল ২৬ আগস্ট, ১৯৮৩। রবিবারের আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি মাত্র বিজ্ঞাপন। তাতেই প্রেক্ষাগৃহ কানায় কানায় পরিপুর্ণ। ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই অবস্থা। ভাগ্যিস সেইসময় মুঠো ফোনের অস্তিত্ব ছিল না! টিকিট না মেলায় অনেক দর্শক ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কে না ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে? বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ছড়াকার অমিতাভ চৌধুরী “হাসির মুক্তধারা” অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ঘনাদা-র সৃষ্টিকর্তা সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র এই অনুষ্ঠানে “প্রিয়দর্শীর নগর দর্শন” বইটির প্রথম কপি অমিতাভ চৌধুরীর হাত থেকে গ্রহন করেন। বন্ধু ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইলেন -“যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন-“। সাহিত্য এবং চলচ্চিত্র জগতের প্রায় সবাই হাজির। কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ী, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র, লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, তারাপদ রায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণ ধর। আবৃত্তিকার প্রদীপ ঘোষ সরস ভঙ্গিতে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন। হাসির তোড়ে সময় ফুরুৎ। মিন্টু দাশগুপ্ত গান গাইলেন। সত্য বন্দোপাধ্যায়, তরুণ কুমার, রত্না ঘোষাল যৌথভাবে একটি মজার অভিনয় উপস্হাপন করলেন। পেটে খিল ধরালেন চিন্ময় রায়! মমতা শঙ্কর, সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়, ঊর্মি মালা বসু সবাই দর্শক দের দাবি মেনে ছড়া কবিতা আবৃত্তি-হাসির গল্প পাঠ করলেন। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙাল কথায় দুনিয়াকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন -” মাসিমা মালপো খামু” - এই একটি মাত্র ‌ সংলাপ তাকে  অমরত্ব দিয়েছে । অনুষ্ঠান সভাপতি প্রেমেন্দ্র মিত্র অকপটে জানালেন ,সাড়ে চুয়াত্তর ছবিটি তিনি যতবার টিভিতে দেখিয়েছে, ততবারই দেখেছেন।

    বাংলা সাহিত্যে এক সময় হাসির লেখার‌ যথেষ্ট কদর ছিল। শিবরাম চক্রবর্তী, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়,তারাপদ রায়, পরিমল গোস্বামী, হিমানীশ গোস্বামী আরও কতো নাম। পুজো সংখ্যায় টেনিদা বা ঘনাদা বাড়তি আকর্ষন ছোট-বড় সব পাঠকের কাছেই। এখন বই মেলায় হাসির বইয়ের আলাদা কোনও স্টল বা কাউন্টার দেখা যায় না। যেহেতু হাসির  খোরাক এখন হামেশা চোখে পড়ে ,তাই আলাদা করে কেউ খোঁজ করেনা।

    সেই সময় খ্যাতিমান লেখকদের লেখায় ভীষন রকম অনুপ্রাণিত হত তরুণ পাঠকেরা। তারই এক ছোট্ট নিদর্শন ভোলানাথের জলসা। এখন কার তরুন সমাজ কে অনুরোধ, তারা যেন হাসির জগৎ থেকে সরে না আসে , নিজেকে কঠিন বাস্তবের মধ্যে আটকে না রাখে।




    তবে হঠাৎ হুজুগে লাফিং ক্লাব ইদানীং সর্বত্র রমরমিয়ে চলছে। কলকাতার দেশবন্ধু পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর, মধ্যম গ্রাম, হাওড়া কোথায় নেই? লোকে যোগ দিচ্ছে দল বেঁধে। এটা এক ধরনের এক্সারসাইজ। যোগব্যায়াম। দেহমনের সতেজতা বৃদ্ধি পায়। হাসলে নাকি হার্ট ভালো থাকে । দেহমনের সতেজতা বৃদ্ধি পায়।ফিস্ নামমাত্র। আগ্রহ বেড়েছে। বয়েসের সীমারেখা নেই। ভিড় বাড়ছে সবখানেই। তবে বলে-কয়ে কি হাসি আসে? ফিলিং বা অনুভুতি কবে থেকে অনুশাসন নির্ভর হলো?

    টিভি সিরিয়াল বাঙালিকে ঘরকুনো করে দিয়েছে। তবে সেখানেও হাসি উধাও। যত সব বস্তা পচা দৈনন্দিন ঘরপোড়া মানুষের চেনা গল্প। হঠাৎ পর্দায় নতুন সিরিয়াল “খড়কুটো” সব হিসেব উল্টে পাল্টে দিয়েছে। সন্ধ্যায় কেউ ফোন ধরেন না। বাড়িতে লোকজনের আসা যাওয়া বন্ধ। কেননা “খড়কুটো” চলছে! নতুন নতুন ছেলে-মেয়েরা সত্যিই ভালো অভিনয় করছে। টি আর পি হু হু করে বাড়ছে। হয়তো দিনে দিনে আরও বাড়বে। এখন কাগজে শুধুই ভোটের খবর। খেলা হবে হোক। আমরা ভোটাররা একদিনই খেলবো। ফলের অপেক্ষায় থাকবো দোসরা মে পর্যন্ত। এই খেলায় নিশ্চয়ই হারজিত আছে। কে হাসবেন আর কে কেঁদে রুমাল ভেজাবেন তা আগাম জানতে অনেকে  জ্যোতিষীর আখড়ায় ধর্ণা দেন। ফুটপাতে পাখির খাঁচা নিয়ে যারা বসেন, এই ভোট-বাজারে ভিড় সেখানেও। মন্দির রাত দিন খোলা। পুরোহিত মশাই আশীর্বাদ করছেন প্রাণ খুলে। ভোটার-ভজনায় সব প্রার্থী এখন দুয়ারে দুয়ারে করজোড়ে হাজির -“দয়া করে ভোটটা দেবেন।”

    কোনো কথা হবে না। বিনিময় হোক হাসি। শুধুই হাসি! কে না জানে, বোবার যেমন শত্রু নেই, হাসির তেমন কোনও বিকল্প নেই। হাসি মুখের জয় সর্বত্র। ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে বিশ্ব জয় করা? সে এমন কি কঠিন কাজ! মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেন প্রকৃত উদাহরণ!

     

  • আরও পড়ুন
    বার্ড - Sambaran Sarkar
    আরও পড়ুন
    জিগীষা - Tanima Hazra
  • বিভাগ : অন্যান্য | ১৪ এপ্রিল ২০২১ | ৫২৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন