• খেরোর খাতা

  • লিখবো নাকি হে, কবিতা?

    অন্বয় দীপ্ত পাল লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  •  দ্রোহীর বিদায়বেলা


     


     ক্ষমা করো প্রিয়া।


    হয়তো কোনোদিন মিলবে না নয়নে নয়ন আর—


    হয়তো ঐ কালো চোখে


    দেখতে পাবো না আমার প্রতিবিম্ব।


    ক্ষমা করো প্রিয়া।


     


    ঐ দেখো ঐ লেলিহান শিখা ঈশান কোণে


    আগুন মেঘের গগন ভেদিয়া


    বুলেট হয়ে বুকে বেঁধে যেন শত্রুর হুংকার!


    গ্রেনেডের শব্দে যেন আজ মিশে গেছে আর্তের চিৎকার!


     


    জানি, নয়ন আজ তোমার ছলোছলো


    হৃদয়ে মিশে আছে শঙ্কা—বিষাদের মেঘ।


    হারাবার ভয় হয় সে-ই তো ভালোবাসা!


    ভালোবেসেই যেতে দাও মোরে প্রিয়া!


    ভালোবেসে মরতে জানি আমি


    তোমায় ভালোবেসেই যে মরতে যাচ্ছি আজ!


     


    যোদ্ধা যে আমি! অগ্নিদ্রোহ


    মিশে আছে আমার প্রতিটি শিরায় উপশিরায়—


    বুলেটের মুখে বুক পেতে যে দাঁড়াতে জানে না


    কিসের যোদ্ধা সে! বীরত্ব যে মেকি তার।


    যুগে যুগে লড়েছি আমি, মরেছি বারংবার


    কুরুক্ষেত্রের সংশপ্তক যে আমিই!


    কালে কালে শত্রুর হাতিয়ারের সুমুখে


    দাঁড়িয়ে গেছি আমিই অকুতোভয়ে—


    রণক্ষেত্রে হোক বা রাজপথে


    আমিই দ্রোহ, আমিই বিপ্লব, আমি বিদ্রোহী!


     


    শত্রুর হাতিয়ারে যখন নশ্বর দেহ ক্ষতবিক্ষত—


    হৃদয়ের প্রতিটি শোণিতবিন্দু যখন ঝড়েছে ধূলায়


    প্রতিটি রক্তবিন্দু প্রতিমুহুর্তে করবে না কি আর্তনাদ!


    তোমার উষ্ণতা, তোমার কোমল ভালোবাসার ছোঁয়া


    প্রতিক্ষণে শেষবারের মত স্মরণ করবে তারা?


    কিংবা তোমার প্রণয়ের স্পন্দন যা


    মিশে আছে প্রতিটি রক্তকণায়—প্রাণময়


    ধূলায় ঝড়ে পড়া সে ভালোবাসার বীজ


    কবে পরিণত হবে ভালোবাসার মহীরুহে


    ভালোবাসার জল ঝড়াবে সমগ্র পৃথিবীতে?


     


    প্রিয়তমা! কথা দিলাম তোমায়


    তবু আমি লড়ে যাবো শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত।


    যদি না-ই বা ফিরি,


    তোমার প্রেমিক যদি তার প্রেয়সীর বাহুবন্ধনে


    এবারই শেষ দেখা দু-জনার সজল নয়নে!


    যোদ্ধার প্রেয়সী তুমি, তুমিও দ্রোহী,


    ভেঙে পড়ো না। আগামীকালের মিছিলে


    তোমারেই যেন আগে দেখে দুর্বৃত্ত—


    তোমার প্রেমিকের রক্তের প্রতিশোধ


    তোমার কণ্ঠেই যেন সবার আগে—বজ্রনাদে!


     _______________________________________________


    দু' কড়ির ভালোবাসা


    দু-পয়সার প্রেম বিক্রি করবো।


    কিনবে কি তুমি?


    মাত্র দু-পয়সা।


    তার বেশিও নয়, কমও নয়।


    অবাক হচ্ছো কেন?


    "প্রেম কি এত শস্তা!"


    না গো প্রিয়তমা।


    প্রেম যে ভারি দুর্মূল্য!


    যদি ন্যায্য মূল্য চাই,


    পারবে নাকো চুকাতে।


    পুরো পৃথিবী জয় করে আনো!


    মহাসমুদ্রের সমস্ত রত্ন একত্র করো!


    ইতিহাসে শত্রুর হাতে হারানো


    সমস্ত সম্পদ এনে দাও!


    তবুও প্রেমের মূল্য দিতে পারবে না।


    তবুও দু-পয়সা কেন মাত্র?


    ভালোবেসে বিকোচ্ছি যে!


    শুধু তোমার জন্য—


    আমার প্রেমের মূল্য ধরলাম দু-পয়সা মাত্র!


    _______________________________________________


    কারে ভালোবাসি?


    ভালোবাসি আমি তারে—


    ভালোবাসা যার শোণিত ভেদিয়া


    অন্তরেরও অন্তরে


    বহু ক্লেশে এসে পৌঁছায় মোর


    হৃদয়—পর্ণকুটিরে।


    সন্তর্পনে সে, সলজ্জ নয়নে


    বলে, সখা! প্রাণখানি মোর


    বাঁধিলাম তব প্রাণখানিরই সনে


    অন্তর্ভেদী যতনে!


    না চাই কিছু মূল্য—


    চাই শুধু–পুরিয়া হিয়া


    ঠাঁই দাও ঐ হৃদয় কুটিরে!


    ক্লেশে,সুখে গো—জীবন ব্যাপিয়া


    সংসার বাঁধি নন্দিয়া!


    ভালোবাসি আমি তারে।


    ভালোবেসে তারে দিতে পারি এই


    হৃদয়খানি চিড়ে—


    দুটি হৃদয়ই এক হয়ে যেন


    স্পন্দে—এক অন্তরে!

  • ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
বিশেষত  - Chin Matic
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন