• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • এইভাবে শরতঋতু ও অন্যান্য কবিতা

    সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০৫ নভেম্বর ২০২০ | ১৯৮ বার পঠিত | ৪/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • এইভাবে শরতঋতু
    ~~~~~~~~~~~
    কিছু কিছু কাশফুল ঘরদোর গুছিয়ে নিয়েছে আকাশে
    এভাবেই হয়তো শরতঋতু আসে। লক্ষ্য করিনি আগে
    শিউলির কুঁড়ি, এলোমেলো হাওয়া ছুটির মেজাজে।
    লক্ষ্য করিনি আগে, তার চলে যাওয়া। যদিও তেমন কিছু নয়
    তবু মনে হয়, না গেলেও মন্দ হত না। চলে গিয়ে
    যত না আনন্দ পেল কষ্ট পেয়েছে তার বেশী - স্পষ্ট বুঝিনি
    ঠিকই, প্রমাণ চাইলে 'পরে পারবো না দিতে। কিন্তু ঐ ঘরে
    সুদৃশ্য সমস্ত ইঁটে, কেন বল দেখি, মনে হয় জমে আছে
    মৃত মানুষের পোড়া ছাই? চাই বা না চাই, তার কথা
    কখনো সখনো মনে পড়ে, বেখেয়ালে, পুরোনো অভ্যাসে।
    তলিয়ে ভাবিনি, তবে আজ মনে হল, এই ভাবে শরতঋতু আসে।

    মনে পড়ছে সেই রাস্তার শেষটা ছিলো কালো
    চারধারে তার চৌকো কাঁটার বেড়া
    ফুটো ফাটা কিচ্ছুটি নেই, অটুট নিশান ওড়ে
    যেন আগুন
    ধিকধিকিয়ে পোড়ে, বিছিয়ে রেখে ছাই
    হাওয়া দিলেই বেবাক উধাও এমনই অস্থায়ী
    আদরযত্ন, আদিখ্যেতা যত
    বদলাবে না, গভীর মজ্জাগত অসুখ যেমন ঘুণ ধরিয়ে হাড়ে
    কানের কাছে মন্ত্রণা দেয় আহ্লাদে, আবদারে
    বিদায়কালীন শ্বেত চাদরের ঘ্রাণ
    থামলো গাড়ি শেষের ইস্টিশান, প্ল্যাটফর্মে কেউ ছিল না
    অচেনা পথঘাট
    একটা ভাঙ্গা বেঞ্চি ও তার পোকায় কাটা কাঠ
    আপনজনের মতই কেবল পোড়ায়, নিজেও পোড়ে
    সে সব কথা কেউ জানে না, জানবে কেমন করে
    ছিটকিনি আর কুলুপ এঁটে রেখেছি অন্দরে, ভুলেও গেছি কিছু
    কিছু আবছা আছে মনে
    আটকে থাকা, তীব্র বাঁধন, নিশ্বাসে চন্দনে
    ধরতে গেলেই বেবাক উধাও এমনই অস্থায়ী
    আপনজনের মতই পুড়ে বিছিয়ে গেছে ছাই

    তুমি থেকো দ্বিধাহীন গ্রস্ত অন্ধকারে
    নিবিড় তমিস্র রাত ঢাকা দিয়ে যাক আমাদের দৃশ্যজ্ঞান
    যাবতীয় শোক, ভালবাসা
    অনাবিল কুয়াশায় দু'হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলা, অবয়বহীন
    যেন শান্তিজল ঝরে গেছে শিয়রে পাঁজরে
    এখন মৃত্যুর মুখ শ্বেত নয়, নীল নয়, শ্রান্ত সবুজে বহুরূপী
    শীতল, হিমেল
    তোমাকে স্পর্শ করে
    নিরিবিলি পাথরের মত তীব্র ইচ্ছা জাগে
    'ঠাঁই দাও, মরীচিকা দাও
    বুকে রাখি মুখ'
    দিগন্তের খোঁজে উৎসুক আমি সেই শেষ পদাতিক
    যতক্ষণ পাথরে, প্রান্তরে, তীব্র ঘুণ খুঁড়ে ফেলে অযাচিত আলো
    গভীর ডুবিয়ে ঠোঁট, দীর্ঘ পারাপারে
    ঢেউ এসে ডেকে নিয়ে যায়
    প্রতিটি সড়কে জমে আয়নামিছিল
    সাধ হয় নীরব জলেতে ডুবে যাই, স্তিমিত আড়ালে
    একা একা, দীর্ণ হই গ্রস্ত অন্ধকারে
    তুমি থেকো...

    অতখানি সময় কোথায় তুমি বলো
    জানলার গ্রিলে জমে ওঠে মোমদানা
    ডাঁই হয়ে জমে থাকে বাসী দিনরাত
    জানি অপরিষ্কার লাগে, সোঁদা গন্ধ, ঘাম, কান্নাকাটি
    সাফ করে ফেলা ভালো
    চুণকাম করা ঘর, পুরোনো আঁচড় নেই
    পেরেকের গর্তগুলো দিব্যি উধাও
    সবাই বলবে, 'আহা! বেশ! নয়নলোভন!'
    অতখানি সময় কোথায়
    এই যে জড়িয়ে আছি ছেঁড়া টান, ভালোবাসাবাসি
    দুমড়ে মুচড়ে রাখা মায়াবী শপথ
    এ সব চলে না জানি - দীর্ণ, পুরাতন
    দৃশ্যসুখ নেই, মুক্তোশরীর থেকে ঠিকরিয়ে পড়া আলো
    জোছনার রঙ, আলতো চুমুর ঘ্রাণ
    সে সব কোথাও নেই

    ~~~~


    ভুল হয়ে গেছে
    ~~~~~~~~~~~~~~
    ভুল হয়ে গেছে
    যে সমস্ত গাছে কোনদিন রোদ ডেকে বলেনি দাঁড়াও
    গুটিকয় কথা কই কানে কানে
    আমার উঠানে সেই গাছ বেড়ে ওঠে ব্যাকুল শ্রাবণী ধারাপাতে
    কাছে এসে বসে দেখি - কাঁটা
    তীক্ষ্ণসুখে ডেকে বলে কাছে এসো, আরো কাছে
    দূরে যাই
    দৌড়ে পালাই, খোলা পড়ে থাকে
    দরজা, জানলা, চৌকাঠ
    আমাকে গিলতে চায় ফুটিফাটা মাঠ বৃষ্টির ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে সাবধানে
    বড় ভুল হয়ে গেছে

    ~~~~


    তোমাকে চিনেছি আমি
    ~~~~~~~~~~~~~~
    আমি ঠিক চিনেছি তোমাকে
    চৌরাস্তায় সারাবেলা কত কোলাহল জমা হয়ে থাকে
    দু'দিকে তাকিয়ে, সাবধানী
    ভাল মানুষের মতন ফুটপাথে এসে উঠি
    আমি জানি
    নিঃসন্দেহে বাড়ি পৌঁছোব
    কে হে তুমি? এত প্রশ্ন কর অকারণে
    গেরুয়া পরেছ বটে, গম্ভীর মুখ
    তবু তুমি নিপাট আনাড়ি
    খোলো দেখি সিন্দুক, কি রেখেছ যত্ন করে
    এত দিন ধরে গোপনে যা করেছ বোঝাই
    আমি তার সমস্তই চাই
    ল্যাজামুড়ো, শুদ্ধ করে বলি, অগ্র ও পশ্চাত
    বাকি সব বাদ
    বেদম দুঃখগুলো, মরচে হলুদ হয়ে লোহার শিকের ফাঁকে ফাঁকে
    যতই লুকিয়ে থাক
    আমি ঠিক চিনেছি তোমাকে

    ~~~~


    মাকড়সাটা, ঘরের মধ্যে
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~
    ঘরের মধ্যে মাকড়শাটা হাত চালিয়ে জাল বুনেছে
    রূপোলি জাল
    কঙ্কালসার হয়েও তাতে আটকে আছি, অস্থি মজ্জা
    সব গিলেছে, তবুও এখন আমড়াগাছি দিন থেকে দিন প্রান্তদেশে
    খাঁকরে গলা, অল্প কেশে বলছি
    আমায় জবাই কর, কিসের দেরী
    নেহাত পরও তুমি তো নও, বলতে গেলে
    আপন বলা যেতেই পারে
    এ সংসারে করছি এমন দিবস যাপন, (হায় যামিনী
    তোমায় কেন বাদ দিয়ে যাই, নিত্য দিনই
    মাফ করে দাও) যতই তুমি মাথায় চাপো
    চিবোও মুড়ো, হাড়গোড় আর পাকস্থলী
    তোমায় বলি, আটকে যখন গেছিই জালে
    কান দু'খানা করছি এঁটো
    দুলকি চালের আমড়াগাছি, মাকড়সা আর
    ঘরের মধ্যে আমরা দু'জন
    ভালই আছি

    ~~~~


    উদ্বাস্তু করেছে প্রেম
    ~~~~~~~~~~~
    উদ্বাস্তু করেছে প্রেম বিকালের রোদে, এ তো ছেলেখেলা
    যখন সূর্য ডোবে, জানলাতে, গাছের চাতালে, ছায়া ছায়া
    যেন মেলা বসে যায় পশ্চিমের ছাদে, ঠিক ঐখানে
    ওখানে দাঁড়িয়ে একা
    আভাসে ইঙ্গিতে কথা বলি, শ্রোতা শুধু চিলেকোঠা ঘর
    অতঃপর কেউ এসে কাঁধে রাখে হাত, এমন বরাত
    কোনদিন বলে না সে, 'চল যাই গঙ্গার ধারে, উঁহু
    নদী নয়, বরং পাহাড়ে যাওয়া যাক'
    নির্বাক, হাবভাব দেখে মনে হয়, বোবা নাকি
    আমিও অবস্থা বুঝে চুপ করে থাকি
    কি বলব, কি যে বলা যায়
    অসহায় লাগে, মনে হয় যেন আলপথ
    মনে হয় যেন হেঁটে গেছি গ্রহণের রাতে
    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ০৫ নভেম্বর ২০২০ | ১৯৮ বার পঠিত | ৪/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
বিনোদ - Pradip Ray
আরও পড়ুন
সময় - Pradip Ray
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন