• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • সেপ্টেম্বর

    অলোকপর্ণা
    ইস্পেশাল | উৎসব | ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ৩৬০ বার পঠিত | ৪.৫/৫ (২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কাল সকাল জানালা খুলতে ধূপের গন্ধ ঘরে প্রবেশ করল। গন্ধকে না করা যায় না। স্মৃতিকেও। বৃষ্টি দেখতে শুনতে ভিজতে ভালো। দুধ গরম করি। কর্নফ্লেক্স ঢেলে দিই। আমি তেমনই মানুষ যে বাটিতে দুধ আগে ঢালে। বৃষ্টি পড়ে। দুধ ঠান্ডা হয়। গরম কিছুতে শরীর আনচান করে। সেক্স কমে গেছে বহুদিন হল। সেভাবে পেতই বা কবে? ট্যাবুর উপর ট্যাবু জমে পাহাড় হয়ে আছে। বরফ পড়ে সেখানে মাঝে মাঝে। যৌনস্বপ্নে ঘুম ভাঙে না। যৌনতা দেখতে শুনতে ভিজতে ভালো।
    সকাল সকাল জানালা খুলতে ধূপের গন্ধ ঘরে প্রবেশ করল।
    গন্ধকে না করা যায় না।
    স্মৃতিকেও।
    বৃষ্টি দেখতে শুনতে ভিজতে ভালো।
    দুধ গরম করি। কর্নফ্লেক্স ঢেলে দিই।
    আমি তেমনই মানুষ যে বাটিতে দুধ আগে ঢালে।
    বৃষ্টি পড়ে। দুধ ঠান্ডা হয়।
    গরম কিছুতে শরীর আনচান করে।
    সেক্স কমে গেছে বহুদিন হল।
    সেভাবে পেতই বা কবে?
    ট্যাবুর উপর ট্যাবু জমে পাহাড় হয়ে আছে।
    বরফ পড়ে সেখানে মাঝে মাঝে।
    যৌনস্বপ্নে ঘুম ভাঙে না।
    যৌনতা দেখতে শুনতে ভিজতে ভালো।

    চুপ করে বসে থাকা কাক, বালিশ আর জীবনধর্ম হয়ে উঠেছে।
    মাঝে মাঝে মনে হয় যদি অন্ধ হতাম?
    বাথরুমের বাল্ব কেটে গেছে পনের দিন হল।
    রাতের বেলা অন্ধকার হাতড়ে বাথরুমে গিয়ে চুপ করে বসে থাকি।
    আমার চুপ করে থাকারা বিখ্যাত হতে চায়।
    আলো চায়, মোহ চায়, চিৎকার করে বলে আমায় দেখো!
    অন্ধের দৃষ্টির মতো চুপ করে বাথরুমে বসে থাকি।
    বাথরুম ভাবনাঘর।
    ক্ষতেরা যেমন ছিল তেমনই আছে। মাঝে মাঝে দুধ, চিনি চেয়ে পাঠায়।
    ঘরে ভালো কিছু রান্না হলে বাটি পাঠিয়ে দিই ঢাকা দিয়ে।
    ফেরত আসে দুটো রসোগোল্লা বা একফালি কেক।
    কাক ডেকে ওঠে একেকদিন।
    কাক ডাকা সাঙ্গ হলে ঘুমোতে পারি।
    যৌনতার চেয়ে কান্না বেশি পায় বরাবর।
    আজকাল কান্নাও কমে এসেছে অনেক।
    ভালো থাকারা চুপ করে বাথরুমে বসে থাকে।
    কে জানে কেমন আছি আজকাল।
    অন্ধ আছি। বন্ধ আছি।

    লকডাউনের শুরুতে অস্থিরতা ছিল।
    শোরগোল ছিল।
    এর ওর তার খোঁজ নেওয়া ছিল।
    তারপর সব স্তিমিত হয়ে গেল। অভ্যাস জুড়ে বসল বয়সে।
    নেশা ছেড়ে দিয়েছি বছর খানেক।
    এখন পড়ে আছে আধখাওয়া পেয়ারা টেবিলের উপর।
    তাকে ঘিরে স্বল্পশরীর মাছিরা উড়ছে।
    মাছির মতো স্বল্প হতে ইচ্ছে করে কখনো কখনো।
    একবার এদিক, আরেকবার ওদিক।
    অস্থিরতা মাছির ধর্ম। মাছি চক্ষুষ্মান।
    তাই কি অস্থির?
    কুঅভ্যাসে কুঅভ্যাসে ঘুম আসে।
    চোখ লাল চাঁদ সূর্য তারা জেগে রই।
    আজকাল চাঁদ পুরনো হয়ে গেল। দেখে দেখে।
    জীবন অসেচনক হবে বলেছিল।
    কৃতঘ্ন জীবন টেবিলের উপর আধখাওয়া পেয়ারা সেজে পড়ে আছে।
    পিঁপড়ে যাকে খায় সে মহান। পিঁপড়ে জীবন খায় না।
    কুড়ে কুড়ে খায় না। জীবন টেবিলের উপর পড়ে থেকে পচে যায়।
    নিজেকে সময় বলে মানার মতো অহংকারী হয়ে ওঠে।
    অহংকার পতনের কারণ।
    আপেলের অহংকারে আপেল ঝরে, অশ্রুর অহংকারে অশ্রু।
    স্বপ্নের অহংকারে স্বপ্নের সাততলা থেকে ঝরে পড়ি, খসে পড়ি, টুপ করে কোলে।
    আমিই অশ্রু, আমিই সবরমতী।

    অজুহাতে অজুহাতে বয়স বাড়ছে।
    চুলে পাক ধরছে অবিরত। আমি চলে যেতে আটকাই না কাউকেই।
    ত্রিশটা বছর হল।
    সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে গেলে বলা যায় আমি ত্রিশটা জুলাই দেখেছি।
    ত্রিশটা আগষ্ট।
    ত্রিশটা সেপ্টেম্বর বয়ে গেছে আমার ধমনী দিয়ে।
    মানুষ বেঁচে কেন থাকে এই রহস্যে এখনো জেগে উঠি।
    অবাক হয়ে দেখি সকাল হচ্ছে, সকাল হল।
    সকলের সকাল হয়। সকলের রাত আসে। কেউ চায় না তাও রবাহুত।
    লিখতে বসলে অন্যমনস্ক হয়ে উঠি।
    শব্দেরা হাঁ করে চেয়ে থাকে।
    শব্দের মুখ থেকে লালা ঝরে যায়, অন্যমনস্কতায় সিনেমা দেখছে যেন।
    আমার সিনেমায় আমি পার্শ্ব চরিত্র।
    পার্শ্ব চরিত্রদের বিকেলের মতো দেখতে। মায়া মায়া।
    আহা, উহাদের গল্প বলা হল না!
    জীবন আসলে স্বল্পদেহী মাছি।
    মাত্র দিন কুড়ির গড় আয়ু নিয়ে সে খাবার থেকে খাবারে জাঁকিয়ে বসে।
    যেদিকে যায় সবকিছু পচে ওঠে। পেটে রোগ নিয়ে ঢুঁ মেরে বেরায়।
    এখানে মরেনি এমন কেউ নেই।
    এখানে মৃত নয় এমন কিছু কখনো জন্মায়না।

    গরু একটি শান্ত শিষ্ট গবাদি পশু।
    একমনে ঘাস খাওয়া ছাড়া বিশেষ কিছুই সে করেনি।
    তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করাটা একটা আর্ট।
    সেই আর্টে মানুষই পারে পারদর্শী হতে। পারদর্শিতা মানুষকে বিশেষ করেছে।
    একটি পিঁপড়ে যদিও পারদর্শী।
    একটি পাখি যদিবা পারদর্শী কুজনে।
    তবে সে কুজনকে রাজনৈতিক ভাবে কক্ষনো ব্যবহার করেনা।
    রাজনীতি ব্যতীত মানুষের হস্তরেখা পোড় খায় না।
    হতবুদ্ধি মানুষ, বোকাসোকা মানুষ রাজনীতির ওভারডোজে ঢুলছে। তাকে জাগাও।
    মুচি মেথর ভারতবাসী, আমার ভাই ভারতবাসীর কপালে ফোঁটা। যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
    আমি জেগে থাকি। চুপচাপ।
    পাঁচিলে বসা কাকের মতো বিজ্ঞ দেখায় আমায়।
    যদিবা মাছের গন্ধ ছাড়া আমি কিছু জানিনা।
    আমার পিছনে আমার কোনোরকম কোনো অভিসন্ধি নেই। ছিল না কোনোদিনই।

    শীত করে। সেপ্টেম্বর। শীত করে অপরূপ।
    রবীন্দ্রনাথের মতো দেবালু হওয়া হল না।
    জীবনানন্দের মতো সন্দেহপ্রবণও নই।
    টুথব্রাশে লেগে থাকা টুথপেস্টের মতো অকহতব্য পড়ে আছি।
    কতটুকু পাঁচিল ডিঙ্গিয়েছি?
    কতটুকু ঘাস খেয়েছি?
    কতটুকু ডুব দিয়ে ঠোঁটে মাছ তুলে আনতে পেরেছি যে নিজেকে কহতব্য বলে গণ্য করা যাবে?
    লাল টুকটুকে আপেল সেজে জীবন বসে আছে টেবিলের উপরে।
    পাকছে না। পচছে না। এমনই নকল। এমনই মেকী।
    একটা স্পেনদেশীয় গল্প লিখতে ইচ্ছে করে।
    একটা আমেরিকান গল্প।
    একটা নির্জন ইউরোপীয় গল্প লিখতে পারলে বর্তে যাই।
    একটা ভারতীয় ভাবনা নিয়ে মধ্যবিত্ত মানসিকতার গল্প লিখি।
    সেখানে একজন জন্মায়। একজন মরে। একজন খুন করে আনন্দ পায়।
    এর চেয়ে বেশি কিছু লেখার ক্ষমতা নিয়ে আমি বিভূতিভূষণ নই।
    চেয়ারের কাঠের পায়া আমার ভার সম্পর্কে উদাসীন।
    বিমর্ষ।
    বিমর্ষতায় জীবনানন্দের একচেটিয়া কিছু নেই। তবু চেয়ার জীবনানন্দ হয়ে ওঠে।
    টিকটিকি রবীন্দ্রনাথের মতো পদ্মপাতায় জল।
    আপেল পেয়ারা রামকৃষ্ণের মতো টসটস করে টেবিলের উপর।
    পচে না। পাকে না। শাশ্বত।
    একা থাকতে আমি কখনো ভয় করিনি আগে। আমার একা থাকারা শাশ্বত হয়ে আছে।

    পিঠে ব্যথা করে বসে থাকতে। তবু তো জীবন।
    আমি কী ক্লান্ত হয়ে উঠেছি বহুদিন?
    জোর করে নতুন হই। জোর করে জেগে উঠি।
    স্বপ্ন স্বপ্নের মতো উঁচু থেকে নীচে পড়ে। অভিকর্ষে।
    রাজনীতি নিয়ে ভাবি। দেশ নিয়ে ভাবার মতো বিলাসিতা করি।
    মাসোহারা নিয়ে ভাবার মতো ভাবালুতা অভ্যাস করি।
    রাজনীতি নিয়ে আলোচনা না করলে মানুষকে বড় দেখায় না।
    দেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করলে মানুষ পোড় খায়না।
    আলুর দাম, পেঁয়াজের দাম মুখস্থ না থাকলে মানুষ সংসারী হয় না।
    মনে পড়ে ছোটবেলায় “এ” মানে হলুদ রঙ, তিন মানে সবুজ ভাবতাম।
    কবিতার কথা ভাবতে হয়নি ছেলেবেলায়।
    কবিতার কথা মানুষ ভাবে কোন বয়সে এসে?
    কত বছর বাঁচলে পড়ে মানুষই কবিতা হয়ে যায়?
    কত বছর বাঁচা গেলে একটা গল্প জেগে ওঠে রাতের আকাশে?
    গল্প লিখতে এসেছিলাম। গল্প লিখে চলেছি।
    সত্যি কথা কাউকে বলছি না। সত্যি কথা বলতে ভালো লাগেনা অনেকদিন হল।
    সত্যি রোদের মতো প্রখর। ওতে চোখ বুজে আসে। মানুষ সত্যি কথা কখনো শুনতে চায় না।
    জীবনের সার্থকতার গল্প সে পছন্দ করে।
    আমাদের কোনো শাখা নেই। আমারা কোনো পথপ্রদর্শন করি না।
    মানুষ জন্মায়, মানুষ মরে। মানুষ বেঁচে থাকে বিস্কুটের মতো টেবিলের উপর।
    বাতাসে জীবন মিয়ে যায়।

    বহুদিন হল পাহাড়ে যাই না। বহুদিন হল নদীকে দেখিনা তেমন চোখে।
    জোর করে নিজেকে সবুজের অংশ বানিয়েছি।
    কবি কবি ভাব আনতে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছি, যেখানে গাছের সাথে আমার তিল পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক কখনোই ছিল না।
    তারা ভালোবাসতাম।
    দূরের জিনিস যেমন লোভী চোখে দেখে বাচ্চারা, ট্রেনের জানালা দিয়ে।
    সকলই হরমোন। মন নেই কোনো তার।

    ভগবানকে ডাক্তারের মতো বিশ্বাস করি। রোগাকীর্ণ হলে পড়ে।
    একা থাকা নিয়ে বেশি কিছু ভাবতে গেলে ক্লান্তি হয়।
    নিজেরে জুড়ে দিই “এ ফর আপেলে”।
    কতদূরই বা যাবো। না গেলেই বা কার কী।
    গ্যাস জ্বলে। দুধ ফোটে। দুধ উপচায়।
    কান্না যখন আসার আসে।
    মন যখন খারাপ হওয়ার হয়।
    বৃষ্টি পড়ার হলে পড়ে।
    মনে পড়ার হলে পড়ে।
    দেওয়াল ঘড়ির মতো নির্বিকার সেপ্টেম্বর।
    গত বছর কোলকাতা মনে পড়ে।
    নতুন জায়গায় যাওয়ার মতো উদ্যম আনার চেষ্টা করি।
    উদ্যম আসে। উদ্যম থাকে। উদ্যম ভাড়া মিটিয়ে হোটেল ছেড়ে দেয় কিছুদিন পর।
    শীত আসে। শীত যায়।
    বরফ পড়ে।
    সেক্স আসে। সেক্স যায়। সেক্সের কুকুর ডাকে মাঝরাতে।
    তাকে আগন্তুক দিতে হয়, ফাঁকা রাস্তায়। হলুদ আলো জ্বালিয়ে।
    বিস্কুট লেলিয়ে দিতে হয়।
    ফ্রিজের মধ্যে ডিম, পুরনো ডিম জমে থাকে।
    বরফ হয়ে।
    ডিম ফুটে পোচ হয়। ফুল ফুটে ফুলের মৃত্যু।

    কবিতা লিখবো না এমন পণ করিনি।
    পণ করার মানুষ নই তো।
    কাউকে কিছু ডেকে জানানোরও প্রয়োজন ছিল না কখনো।
    মানুষকে বখে যেতে দিয়েছি। নদীকে বয়ে যেতে।
    হাঁকডাক করা ছোটোলোকামি ভেবে এলিট সেজেছি।
    পায়ে ক্ষয়ে যাওয়া হাওয়াই চটি। তাতে পথ লেগে আছে।
    ধুলো ধুলো হাত। স্যানিটাইজার ব্যবহার করি, হাত থেকে রেখা তুলি। হাত থেকে নিয়তি মুছি।
    নিয়তির আলো ভোরবেলা মুখে এসে পড়ে।
    পিঠে ব্যথা হয়। বাম লাগাই।
    গরম জল ভরি রবারের থলেতে।
    গরম জল হাত থেকে পড়ে আচমকা জীবন মেঝেতে ছড়িয়ে যায়।
    বিজনের গল্প লিখি। রতনের গল্প। রুমকির গল্প। সুমনার গল্প। বুকাইয়ের গল্প বলি।
    অলোকপর্ণা লেখা হয়না।
    অনীহা জাগে, অলোকপর্ণায়।
    আলস্য হয়।
    রোদের মতো এলিয়ে পড়ে থাকি শার্সিতে।
    সেক্স আসে। সেক্স যায়।
    সেক্সের কুকুর লেলিয়ে দিই না।
    আমাকে বোবায় পেয়েছে সেই থেকে।
    সেই থেকে সেপ্টেম্বর।
    সেই থেকে হয় তেরো তারিখ। হয় চৌদ্দ।
    অথবা ছাব্বিশ। অথবা দুই।
    বাস মিস করলেও আজকাল আক্ষেপ হবে না জানি।
    বন্ধুরা ভালো থাক। জীবন পাউট করা ছেলে।
    লোকে হাসে। লোকে তাকায় না।
    ছেঁড়া খবরের কাগজ ওড়ে। ছেঁড়া মেঘ। ছেঁড়া গান।
    সব কিছু ছিঁড়ে পড়ে আছে কবে থেকে।
    কবে থেকে এমন অন্যমনস্ক হলাম?
    কবে থেকে এমন মেদুরতা?
    কবে থেকে সব হাত থেকে মাটিতে পড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল?
    কবে থেকে সমস্ত কিছু ছত্রাকার?
    কবে থেকে ছেঁড়া চটি পড়ে হাঁটা শুরু করেছি?
    কবে থেকে না করিনা কাউকে?
    কবে থেকে গায়ে বাকল উঠছে তো উঠছেই।
    কবে থেকে এমন শীত করে থেকে থেকে?
    কবে থেকে চুপ করে আছি?
    কবে থেকে গল্প বলতে চাইছি নিজেকে না বলে?
    কেন এমন চুপ করে আছি?

    চুপ করে থাকলে চুপ করে থাকার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে?
    তাহলে কাকেরা পুরস্কার পেত। পুরস্কার পেত দেওয়াল। পুরস্কার পেত মধ্যবিত্ত মায়েরা।
    ছেলেমেয়ে সূর্যে যাদের দিন আনি দিন খাই।
    একটা দিন শেষ হচ্ছে।
    একটা বছর আসছে।
    বছরে বছরে নতুন কিছু নেই কবে থেকে?
    অর্থহীনতা পেয়ে বসেছে যেমন পাঁচিলকে পেয়েছে কাক।
    কাক দেখতে ভালো লাগে। বিশেষত দাঁড় কাক।
    নিরেট যেকোনো কিছু টেনে ধরে।
    ধবধবে সাদা। কুচকুচে কালো। টকটকে লাল। মিশমিশে সবুজ। ফ্যাকফ্যাকে হলুদ। ঘিষঘিষে কমলা। চিকচিকে নীল।
    আকাশ।
    আকাশ আমায় টানেনা আর। নদী নদীর মতো চলে।
    বস্তুবাদ বুঝতে শিখেছি।
    পেটে গ্যাস হয় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে।
    খিদে চেনাকে বড়বেলা বলে জানি।
    কোলকাতা চিনতে শিখলাম না এখনো।
    মানুষের মুখ দেখতে ভালো লাগে।
    মানুষের দুঃখ দেখে অবাক হই।
    মানুষের আনন্দ দেখে উদ্বেল।
    লিখতে ইচ্ছে করে।
    লেখা পায়।
    সেক্সের চেয়ে বেশি লেখা পায়। এটাকি কোনো অসুখ?
    নিজেকে লেখক ভাবতে অনীহা হয়।
    ঋষিপ্রতিম ভেক ভালো একদিকে।
    ভুলে থাকা ভালো। তুমি থাকা ভালো।
    অকহতব্য আলো ওঠে। ঘুম ভেঙে দেখি দুধ কেটে গেছে কবে,
    তাল কেটে গেছে, সুর কেটে রক্ত পড়ে আছে মাটিতে।
    খুন করে পার পাওয়া যায়। খুন করে পৃথিবীতে সকলই পার পেয়েছে।
    বন্ধুদের বিয়ে হয়।
    বন্ধুদের প্রসববেদনা ওঠে।
    নিজেকে ক্যালেন্ডারের পাতার মত সেপ্টেম্বর বলে মনে হয়।
    আসছি আর যাচ্ছি।
    চাঁদ সূর্য গ্রহ তারা, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো শাশ্বত জোছনা।
    নিজেকে নোংরা লাগে। জং ধরা বালতির মতো পিচ্ছিলতায় পোড়খাওয়া।
    সবজির স্বাদ বুঝতে শিখছি। বনলতা সেন বুঝতে শিখছি।
    অবাক হচ্ছি।
    জীবন অভিধানের মতো একঘেয়ে অথচ তাজ্জব করে।
    পাতা উল্টে যাই। পাতার পর উল্টে যাই।
    ছবি থেকে ছবি।
    পুরনো সব ছবি হয়ে বাবা মা ছেলে মেয়ে ভাই বোন বর বউ জেগে আছে।
    ঠাকুমা দিদিমা ছবি জেগে থাকে।
    বিড়াল পায়ে জীবন আসছে যাচ্ছে।
    চুপিসারে জীবন আসছে যাচ্ছে। কী যেন চুরি করেছে এমন।
    ভিজে বেড়াল জীবন পায়ের কাছে মূর্ছা গেছে।
    পায়ে বল এলেই পাস করে দিতে বলা হয়েছিল।
    জীবন পাস করে দিই।

    নিজেকে বলিনা কতদিন হল?
    গদ্য লিখিনা কতদিন?
    সিগারেট খেতে মন করেনি কখনো।
    মদ খেয়েছিলাম কবে কবে।
    মদ খেতে ভালো লাগত। গাঁজা খুব উচাটন করেছে।
    গাঁজাকে নিজের ভাইবোন বলে মনে হয়।
    নিজেকে নিজের আপন লাগে।
    আমার নেশার জন্য নেশা করার প্রয়োজন পড়েনা।
    চুপ করে কাক সেজে পাঁচিলে বসে থাকলেই নেশা ধরে।
    নিখুঁত শ্যাওলা দেখি। নিখুঁত শামুক।
    নিখুঁত সমস্ত কিছু দেখে বমি পায়।
    বমি করি না অনেকদিন হল।
    বমি করা আমার স্বভাবে ছিল না কোনোদিন। গিলেছি সব কিছু।
    ঘেন্না পিত্ত নেই একচুল।
    ট্রেন দেখতে ভালো লাগে।
    ট্রেনের গন্ধ শুঁকতে ভালো লাগে।
    টিকিট পরীক্ষক দেখে মায়া হয়।
    শিয়ালদা স্টেশন দেখে মায়া লাগে।
    কোলকাতা থেকে দূরে গেলে কোলকাতা লিখতে পারি।
    নিজের থেকে দূরে যাওয়া হবে না বলে নিজেকে লেখা হয়না। ভয় করে।
    সব কথা বলতে ভয় পাই।
    দাগী হওয়ার ভয়।
    ভ্যান গঘকে পর্যবেক্ষণ করি।
    ভ্যান গঘের হাঁ মুখের ভিতর তারাকীর্ণ রাত্তির দেখতে পাই।
    সূর্যমুখী খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
    খুব ভালো লেগে গেলে কিছু কামড়ে চুষে খেয়ে ফেলতে পারি।
    মুখে তুলোফুল গুঁজে, মুখে কুলুপ এঁটে ব্যাঙ্গালোর। বছর ছয়েক হল।
    কম তো নয়।
    সবসময়ই পুজো আসছে। বাঙালী জীবনের ইহাই পরাকাষ্ঠা।

    ঘুমের ভিতর নিজেকে কুত্তা বলে ডাকি।
    আয় আয় তু তু।
    পায়ে পায়ে এগিয়ে আসি। এগিয়ে যাই।
    আমাকে দেখতে কেমন?
    আমাকে শুনতে কেমন?
    আমাকে নিয়ে পৃথিবী কেন ঘুরছে?
    আমাকে ফেলে পৃথিবী কেন রেললাইন ধরে এগিয়ে যাচ্ছে?
    কেন আমার জায়গা হল না কোথাও?
    কেন আমিই সবদিকে ছেয়ে আছি?
    ছুঁতে গেলে ছেঁকা লাগে।
    ক্লান্তি লাগে। উপেক্ষা করি।
    আনন্দ পাই উপেক্ষা করি।
    উপেক্ষা করি বলে বেঁচে আছি।
    জীবন উপেক্ষা করি।
    মরণকে উপেক্ষা করতে হয়না এমনই গায়ে পড়া।
    কবুতর বাসা বেঁধে আছে রান্নাঘরের এক্সস্ট ফ্যানের গর্তে।
    তারা ডিম পাড়ে।
    তারা বড় হয়।
    তাদের বকম বকম।
    তাদের রকম সকমে রান্নাঘর উত্তেজিত হয়ে থাকে।
    গ্যাসে দুধ গরম হয় রোজ। এতে অন্যথা নেই।
    ণত্ব বিধান ষত্ব বিধান পড়িনি। টার্মস এন্ড কন্ডিশন পড়া ধাতে ছিল না।
    আই এগ্রি। আই এগ্রি।
    সমস্ত কিছুতে হ্যাঁ।
    হ্যাঁতে হ্যাঁ মিলাই। পাশাপাশি। উপরনিচে।
    সবকিছু মঞ্জুর করে দিই।
    স্মৃতি হাতড়াতে ক্লান্ত লাগে। কথা বাড়াতে ক্লান্ত।
    সব কিছু থেমে যাক,- এ ইচ্ছেও হয়না বেশি আর।
    ফুঁ দিতে অনীহা জাগে।

    ত্রিশটা বছর কম তো নয়।
    ত্রিশটা শরৎ।
    ত্রিশটা হাসিমুখ হাত বাড়ালেই হাতে লেগে যায়।
    পালাতে পারেনা কোথাও।
    কোথায়ই বা পালাবে?
    যা দেখেছি, তা রয়ে গেছে।
    যা দেখেছি, তা কয়েদ।
    যা দেখেছি, তা জায়েজ।
    যা শুনেছি, যা পেয়েছি, যা করেছি, যা বলেছি, যা লিখেছি, তা জায়েজ। বা নাজায়েজ?
    জায়েজ। অথবা নাজায়েজ।
    কোথাও কোনো ক্ষতি নেই।
    ত্রিশটা বছর হল।

    সেপ্টেম্বর এমনই।


    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ৩৬০ বার পঠিত | ৪.৫/৫ (২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সায়ন্তন চৌধুরী | ২৯ অক্টোবর ২০২০ ০৫:৫৭99306
  • বেশ ভালো লেখা; কোথাও সহজ ন্যারেটিভ স্টাইলে বুকোওস্কি মনে পড়ল।

  • একলহমা | ৩০ অক্টোবর ২০২০ ০৪:৩৯99378
  • ছবিগুলো ভালো লেগেছে। কখনো কখনো একটু অগোছালো লেগেছে। 


    আচ্ছা, দ্বিতীয় স্তবকের প্রথম পংক্তি, মানে এই পংক্তিটা কি ঠিক আছে? "চুপ করে বসে থাকা কাক, বালিশ আর জীবনধর্ম হয়ে উঠেছে।" আমি এইটিকে এইভাবে পড়ে নিলাম "চুপ করে বসে থাকা কাক আর বালিশ, জীবনধর্ম হয়ে উঠেছে।

  • সাদিক হোসেন | 2402:3a80:a3b:ea68:0:35:f751:e01 | ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১২:১৩99414
  • দারুণ লাগল। আপনার লেখা সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলি। খুব ভালো লাগল।    

  • পুরোন্দর দাস | 116.193.128.190 | ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ২১:৪০100900
  • বাল বুকোওস্কি।  কার সাথে কে!

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন