• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • ওড়িয়া, বাংলা ও অসমিয়া সাহিত্যে নারীদের লেখালিখির দর্পণ

    তৃষ্ণা বসাক
    পড়াবই : পড়শির কথা | ০২ আগস্ট ২০২০ | ৬৯৭ বার পঠিত
  • পড়শির কথা — ১

    শব্দ সরস্বতী। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মহানদী তীরের নারীসাহিত্য-প্রতিভাদের নিয়ে রচিত একটি বিরল গ্রন্থ। এবং এ গ্রন্থ শুধু সেই প্রতিভাদের লেখালিখির আলোচনাতেই সীমিত নয়, অবরুদ্ধ অন্দর থেকে শুরু করে আজ নারী যে জায়গায় এসে পৌঁছেছে, তার একটা রুটম্যাপ যেন। রচিত ওড়িয়া ভাষায়। লেখক মনোরমা বিশ্বাল মহাপাত্র। বাংলা তরজমা করেছেন ভারতী নন্দী। পড়লেন লেখক ও তরজমাকার তৃষ্ণা বসাক


    ‘সব শেষ হওয়ার পরও তোকে খুঁজব অবক্ষয়ের পরিধিতে, আশার বেঁচে থাকা হাসিটুকুতে বেঁধে রাখব তোর বিশ্বাস, বার বার ফিরে আসব পৃথিবীতে, সব শেষ হওয়ার পরও তোর হাতে রেখে যাব অবশেষের অক্ষয়কে।’

    —অক্ষয়, হরপ্রসাদ দাস



    এইভাবেই অবশেষের ঐশ্বর্যের মধ্যে অক্ষয় হয়ে থাকে মহৎ সাহিত্য, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অব্যাহত থাকে তার বহতা। ওড়িয়া সাহিত্যের বিবর্তনের দিকে চোখ রাখলে সেই সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলার মতো ওড়িয়া কবিতার সূচনাতেও আছে চর্যাপদ। তারপর থেকে ওড়িয়া সাহিত্যকে সুস্পষ্ট কয়েকটি পর্বে ভাগ করা যায়।

    সরলা দাস, পঞ্চশাখা, উপেন্দ্র ভঞ্জ, রাধানাথ, সত্যবাদী, মার্কসবাদ বা প্রগতি যুগ, রোম্যান্টিকতা বা সবুজ সংঘ, উত্তর- ঔপনিবেশিকতা—ওড়িয়া সাহিত্যের এক-একটি গৌরবময় অধ্যায়। ঈশ্বর বন্দনা থেকে মানবতাবাদী তীরভূমি ছুঁয়ে ক্রমে আধুনিক, উত্তর-আধুনিকতার দিকে বেঁকে গেছে সাহিত্যের গতিপথ। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সরলা দাসের মহাভারত, তারপর পুরাণনির্ভর কাব্যকথার প্রেক্ষিতে প্রথম উল্লেখযোগ্য নাম রাধানাথ রায়। গদ্যসাহিত্যের সূচনালগ্নে যাঁরা মহিরুহের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম করতে হয় ফকিরমোহন সেনাপতি (১৮৪৩-১৯১৮), কালিন্দীচরণ পানিগ্রাহী (১৯০১-১৯৯১), গোপীনাথ মহান্তি (১৯১৪-১৯৯১), সুরেন্দ্র মহান্তি (১৯২২-১৯৯০) প্রমুখের। পরবর্তীকালে এসেছেন প্রতিভা রায়, বীণাপাণি মহান্তি, শান্তনু কুমার আচার্য, এবং আরও অনেকে।

    এই ধারার সুযোগ্য উত্তরসূরি মনোরমা বিশ্বাল মহাপাত্র (জন্ম ১৯৪৮)। শিশুসাহিত্য থেকে লোকসাহিত্য পর্যন্ত তাঁর অবাধ যাতায়াত। মূলত কবি হলেও প্রবন্ধ তাঁর বিশেষ ভালোবাসার ক্ষেত্র। ‘ভাবনার ভাস্কর্য’, ‘স্মৃতিত কদাপি নহে ফিরিবার’, ‘সাত সমুদ্র তের নই’ ‘কবি মানসিংহক কাব্য প্রীতি’—তার কয়েকটি উদাহরণ। শান্তিনিকেতনের শিক্ষাকাল তাঁর চিন্তাজগতকে এক আন্তর্জাতিকতা দিয়েছে। এই সময়ের স্মৃতি নিয়ে একটি অসাধারণ গ্রন্থ ‘শান্তিনিকেতন অনুভূতি’।

    ওড়িয়া সাহিত্য অকাদেমি-সহ বহু পুরস্কারে সম্মানিত, বহু ভ্রামণিক মনোরমা এইবার এমন একটি কাজ করলেন, যার জন্য শুধু ওড়িয়া সাহিত্য নয়, অসমিয়া এবং বাংলা সাহিত্যও তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মহানদী তীরের নারীপ্রতিভাদের নিয়ে তিনি রচনা করেছেন শব্দ সরস্বতী গ্রন্থটি। এই গ্রন্থটি হাতে নিয়ে লজ্জায় পড়তে হয়। কই, আমরা তো আমাদের পড়শিদের নিয়ে এমন কিছু করা দূরে থাক, ভাবিইনি। আমাদের দৃষ্টি হাইপারমেট্রোপিয়া আক্রান্ত। ভাষান্তর করতে গেলেই আমাদের মাথায় আসে দূরের স্প্যানিশ, ফরাসি বা জার্মান ভাষা, কিন্তু হাতের কাছের পড়শি ভাষাগুলির দিকে মোটেই চোখ যায় না।

    মনোরমা সেই অত্যন্ত জরুরি কাজটি করেছেন, তিনি শুধু ওড়িয়া ভাষার লেখিকাদের নিয়েই কাজ করেননি, একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্মরণ করেছেন প্রতিবেশী বাংলা ও অসমিয়া ভাষার পথিকৃৎ লেখিকাদের। তাই তাঁর লেখায় যেমন আসে ওড়িশার কবি মাধবী দাস, নিঃশংক রায় রাণী, সুলক্ষণা পট্টনায়ক, দেবভূতি, অন্নপূর্ণা দেবী থেকে শুরু করে প্রতিভা রায়ের কথা, তেমনি আসেন বাংলার কৈলাসসুন্দরী দেবী, রাসসুন্দরী দেবী থেকে স্বর্ণকুমারী দেবী, জ্যোতির্ময়ী দেবী, সাবিত্রী রায়, রাধারাণী দেবী, আশাপূর্ণা দেবী,কবিতা সিংহ, নবনীতা দেবসেন আবার অসমিয়া সাহিত্যের পদ্মপ্রিয়া, হিমিলা, যমুনেশ্বরী দেবী থেকে আধুনিক যুগের নির্মলপ্রভা বরদলই, ইন্দিরা গোস্বামীও আছেন তাঁর আলোচনায়।

    এঁদের জীবনের ও সাহিত্যের বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে মনোরমা ফুটিয়ে তুলেছেন নারীর লেখকজীবনের বন্ধুর পথের কথা। অবরুদ্ধ অন্দর থেকে শুরু করে আজ নারী যে জায়গায় এসে পৌঁছেছে, তার একটা রুটম্যাপ যেন এই বইটি। কখন অজান্তেই তা হয়ে ওঠে তুলনামূলক সাহিত্যের পাঠ। মনোরমা দেখিয়েছেন বাংলার কবিতা সিংহের সঙ্গে ওড়িয়া কবি প্রতিভা শতপথীর মিল। কবিতা যেমন প্রথম বিদ্রোহিনী ব্রাত্যকন্যা, তেমনি প্রতিভা শতপথী তাঁর অভিব্যক্তির জন্যে বারবার বেছে নেন শবরী-র মতো চরিত্র।

    ‘রামায়ণের বর্ণময় চরিত্রগুলির মধ্যে আমি কেন তাকে (শবরীকে) নির্বাচিত করলাম? বোধহয় ঐশ্বর্য, আভিজাত্যের অহংকারে সুসজ্জিত পুরাণের চরিত্রগুলির মধ্যে সে একেবারেই পৃথক মনে হয়েছিল, সাধারণ একটি নারীর মধ্যে সেই অমোঘ সত্তার উপস্থিতি আমি প্রত্যক্ষ করেছিলাম।’ (শবরীর পৃষ্ঠবন্ধ, প্রতিভা শতপথী)

    নবনীতা দেবসেনের সুন্দর শৈশব, বাড়ির সারস্বত পরিবেশ যেমন তাঁর লেখার মানসভূমি গড়ে দিয়েছিল, তেমনি অসমিয়া লেখিকা ইন্দিরা গোস্বামীর শৈশবে ছিল প্রকৃতির অকৃপণ দান।

    ‘আমার কাকার হাত ধরে বাড়ির এক পাশে থাকা মস্ত জঙ্গলটায় ঢুকতাম। কী সুন্দর গন্ধ বুনোফুল, কাগজি লেবুর গন্ধ। শাল, শিমুল, গামারি, নাগেশ্বর। ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ দিকে আমাদের সত্র-র সেই অপরূপ ছবি আমার মনের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে। এই স্মৃতিকথা ভিত্তি করে ‘উই খাওয়া হাওদা’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম। এই উপন্যাস লেখার সময়ে অতীতে আমার প্রিয় চরিত্রগুলির সঙ্গে যেন সত্রে সত্রে ঘুরে বেড়াতাম।’ (ইন্দিরা গোস্বামী)

    অসমিয়া ভাষার প্রখ্যাত কবি গল্পকার নির্মলপ্রভা বরদলই-র জীবন কি তাঁর শতাব্দী প্রাচীন পূর্বসূরী বাংলার রাসসুন্দরী দেবীর থেকে খুব আলাদা? বাল্যবিবাহ এবং তার পরবর্তী ভয়ানক জীবন তাঁর সারস্বতচর্চায় দীর্ঘ ছেদ আনে, বহু বছর পরে, নিজের চেষ্টায় তিনি আবার শুরু করেন লেখা। আমাদের মনে পড়তে পারে রাসসুন্দরী কীভাবে রান্নাঘরের মেঝেতে কাঠকয়লা দিয়ে লিখতে শিখেছিলেন একা একা!

    মনোরমা না কলম ধরলে আমরা তো জানতেই পারতাম না ওড়িয়া লেখিকা প্রতিভা রায়ের ‘যাজ্ঞসেনী’ বলে একটি অসাধারণ উপন্যাস আছে, যেখানে মহাভারতের পরিচিত চরিত্রগুলোকেই নতুন আলোয় দেখা হয়েছে। জানতে পারতাম না কীভাবে ওড়িয়া লেখক বীণাপাণি মহান্তি কবি থেকে হয়ে উঠলেন এক কথাকার।

    ‘১৯৬৫ সালে লুকোচুরি না করে গল্প আমার পথরোধ করে দাঁড়ায়। বুঝতে পারলাম কবিতা শক্তিতে পারবে না, তাই তাকে লুকিয়ে রাখলাম নিজের ভিতরে, গল্পের স্পর্শে লজ্জাবতী লতার মত চোখ বন্ধ করে সে ঘুমিয়ে পড়ল আমার হৃদয়ের গোপন কক্ষে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমি গল্পকে স্বাগত জানালাম আমার টেবিলে থাকা কাগজ কলম দিয়ে। সেদিন থেকে আমি গল্পকেই নিজের করে নিয়েছি। গল্প তো একটা ঘর নয়, ঘরের পরে ঘর, কত যে ঘর, কত মানুষ, কত বড় তার এলাকা, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড থেকে বড়। তার সীমা পরিসীমা, বসন ভূষণ এবং অভিনব চমৎকারিতা অথচ রক্তাক্ত যন্ত্রণাকাতর আত্মার সার্বজনীন আবেগের মধ্যে আমি আত্মহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’

    এইভাবেই এই বই হয়ে ওঠে বাংলা ওড়িশা আসামের নারীসাহিত্যে বিশ্বের দলিল। একবার হিন্দি কবি অনামিকা লিখেছিলেন—

    ওরা আমাদের দায়সারাভাবে পড়ে,
    যেমনভাবে লোকে পড়ে
    বাচ্চার নোটবই থেকে ছেঁড়া পাতা
    চানাচুর গরমের ঠোঙা হয়ে যাবার আগে।
    ওরা আমাদের দিকে আড়চখে তাকায়,
    যেমন কেউ তাকায় আধঘুমে অ্যালার্ম ঘড়ির দিকে
    যখন সেটা খুব ভোরে বেজে ওঠে,
    ওরা আমাদের অমনস্ক শোনে
    যেমন ভিড় ঠাসা বাসে সস্তা ক্যাসেটে বাজা
    ফিল্মের গান শোনে কেউ

    মনোরমা সেই পাপক্ষালন করেছেন বহু পরিশ্রমে ও ভালোবাসায়। ওড়িয়া থেকে এর চমৎকার অনুসৃজন করেছেন ভারতী নন্দী।

    কিন্তু এত জরুরি বইটি সাজানো খুব এলোমেলোভাবে। এর সম্পাদনার প্রয়োজন ছিল। মুদ্রণপ্রমাদ প্রচুর। প্রকাশককে এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে অনুরোধ করছি।

    শব্দ সরস্বতী—ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মহানদী তীরের নারীপ্রতিভা
    মনোরমা বিশ্বাল মহাপাত্র
    অনুসৃজন ভারতী নন্দী
    প্রকাশক: প্রভা প্রকাশনী
    প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর ২০০৮
    মূল্য ১৫০ টাকা
    প্রাপ্তিস্থান: অসীম মন্ডল, প্রভা প্রকাশনী
    ১কে, রাধানাথ মল্লিক লেন, কলকাতা - ৭০০ ০১২, মোবাইল: ৯৪৩৩১৯৪২১৮


    বাড়িতে বসে বইটি পেতে হোয়াটসঅ্যাপে বা ফোনে অর্ডার করুন +919330308043 নম্বরে।





    ফকির মোহন সেনাপতির বিষয়ে বিশদে জানতে এখান থেকে পড়া যেতে পারে।



    কালিন্দীচরণ পানিগ্রাহীর বিষয়ে বিশদে জানতে এখান থেকে পড়া যেতে পারে। (লগ-ইন করে নিখরচায় পড়া যায়)



    গোপীনাথ মহান্তির বিষয়ে বিশদে জানতে এখান থেকে পড়া যেতে পারে।



    সুরেন্দ্র মহান্তির বিষয়ে বিশদে জানতে এখান থেকে পড়া যেতে পারে। (লগ-ইন করে নিখরচায় পড়া যায়)
    পড়শির কথা — ১
  • বিভাগ : পড়াবই | ০২ আগস্ট ২০২০ | ৬৯৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • | 2401:4900:1fea:44e3:d7ff:7046:68d4:dc1f | ০২ আগস্ট ২০২০ ২০:৫৬95863
  • ওড়িয়া সাহিত্য বিষতে একেবারেই কিছু জানি না। আসামের ইন্দিরা গোস্বামীর লেখা সামান্য কিছু পড়েছি।
    এই বইটা অবশ্যই সংগ্রহ করব। অজস্র ধন্যবাদ তৃষ্ণা বসাককে।
  • সোনালি | 1.23.168.38 | ০২ আগস্ট ২০২০ ২১:০৭95864
  • ঋদ্ধ হলাম,  সেই সঙ্গে আশ্বস্ত ও। কারণ আমিও নারী কলমচি। তবে কেউ আমাদের কথাও বলবে।     

  • স্বাতী রায় | 2402:3a80:a9e:c380:56b0:3e83:e650:7f0d | ০৩ আগস্ট ২০২০ ০৩:০৭95873
  • এই বিভাগটি ভাল লাগল। আশা করব  পরে পরে এই রকম আরো ইন্টারেস্টিং বই এর সন্ধান পাব। আগামীর অপেক্ষায় । 

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.9.150 | ০৩ আগস্ট ২০২০ ১৫:১৯95875
  • বুক রিভিউ গুলোর মধ্যে এই লেখাটায় আগ্রহ পেলাম সবার আগে, কারণ আর কিছুই না , ফকির মোহন। উনি ঈশ্বর। হ্যাঁ তার কমে কিছুই নন।

    আমার প্রশ্ন গুলো মোটামুটি এরকম।

    "এই গ্রন্থটি হাতে নিয়ে লজ্জায় পড়তে হয়। কই, আমরা তো আমাদের পড়শিদের নিয়ে এমন কিছু করা দূরে থাক, ভাবিইনি। আমাদের দৃষ্টি হাইপারমেট্রোপিয়া আক্রান্ত। ভাষান্তর করতে গেলেই আমাদের মাথায় আসে দূরের স্প্যানিশ, ফরাসি বা জার্মান ভাষা, কিন্তু হাতের কাছের পড়শি ভাষাগুলির দিকে মোটেই চোখ যায় না।"

    এই বাক্য কয়েকটি থেকে শুরু করে, এই অবস্থান সম্পর্কে আমার প্রশ্ন আছে, তবে বিরাট বিরোধ কিসু নেই। এই বাক্যটি বেছে নেবার আরেকটি কারণ হল, এ কয়েকটি ছাড়া ইনসাইসিভ বিশ্লেষণ আর পাচ্ছি না, কিন্তু সেটা কি শুধুই এটা ধরে নেবার জন্য , যে পাঠক সরল ও গোলগাল, তার আগ্রহ বাড়লে তার্পরে বড়দের কথা বলা হবে? ঃ-))) মানে পরবর্তীতে কয়েক্টা পয়েন্ট বলছি, সেগুলো এই বইয়ে যদি না থেকেও থাকে, এই প্রবন্ধে খুব অপ্রাসংগিক হত বলে মনে হয় না।

    প্রথমত ফকিরমোহন কে আমি অন্তত ঈশ্বরের বরপুত্র না স্বয়ং ঈশঅর বলে মনে করি, একটা লোক ঊনবিংশ শতকে যে সব জিনিস ভেবে গেছেন, লিখে গেছেন, প্র‌্যাকটিকালি বলা উচিত ১৯৩০ এর দশকে এসে যেটার নাম হয় প্রোগ্রেসিভ রাইটিং তার অন্তত ২০-৩০ বছর আগে এই ভদ্রলোকের হাত দিয়ে সেসব হয়েছে। ভূমিহীন কৃষকের কথা যখন লিখেছেন, তখন অন্যান্য ভারতীয় ভাষা সাহিত্যে জমিদার নন্দন বা নব্য শিক্ষিতেরা দাপাচ্ছেন। মেয়েদের পড়াশুনোর ইচ্ছে নিয়ে যখন সাহিত্যে বলছেন তখন সেসব চল ছিল না। কিন্তু আমার পয়েন্ট হল, ফকিরমোহন, মনোজ দাস, জয়ন্ত মহাপাত্র, মনোরমা নিজে সর্বভারতীয় পরিচিতি কিন্তু পাচ্ছেন , দুটো পদ্ধতি তে, এক অকাদেমীর প্রোগ্রেসিভ রাইটিং এর স্টেট ব্যাক্ড এন্টারপ্রাইস এর মধ্যে দিয়ে, কার কটা বই ইংরেজি বা অন্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে র থেকেও বোঝা দরকার ভারতীয় ভাষার সর্বভারতীয় বাজার এই এন্টারপ্রাইজের হয় প্রোডাক্ট নয় বাই প্রোডাক্ট। এবং এছাড়া রয়েছে, বেসরকারী প্রকশানা। অনুবাদ সাহিত্য জিনিসটাই যেহেতু প্রভিন্স এর রাজনীতির খোপে পড়ে না , তাই এর মুক্তি একমাত্র ইংরেজি অনুবাদ হলে। আমার জতদূর মনে পড়ছে, আমি ওড়িয়া সাহিত্য , অকাদেমী এবং প্রাইভেট পাবলিকেশন দুটৈ ইংরেজিতে পড়েছি। এবং আমি যখন পড়েছি, কলকাতায় না থেকেও, মনোজ দাশ আর জয়ন্ত মহাপাত্র প্রচুর প্রচুর বাংআলি আর অন্য রাজ্যের লোক পড়েছে। এরা ৭০ , ৮০ র দশকের স্টল ওয়ার্ট। ইংরেজি তে বেসরকারী পাবলিকেশনের মাস প্রোডাকশন অনুবাদ বেরোনো টা কবে হয়েছে আমি ঠিক জানিনা। কিন্তু পত্র পত্রিকায় আগে যেরকম খুল্লেই একটি রাস্কিন বন্ড, একটি এ কে রামানুজন , বা কমারশিয়াল পত্রিকা হলে, একটি প্রীতিশ নন্দি একটি শোভা দে, একটি খুশওয়ান্ত সিংঘ পাওয়া যেত, তেমনি একটি মনোজ দাশ, একটি জয়ন্ত মহাপাত্র পাওয়া যেত। খুব সআভাবিক ভাবেই, আমার ব্য্কতিগত হিরো রাইটার ছিলেন ফকিরমোহন ও মনোজ, আমি বড় হয়ে মনোজ ও বুড়ো হয়ে ফকিরমোহন হতে চেয়েছিলাম ঃ-)))))))

    এবার পয়েন্ট গুলো তাহলে কি দাঁড়ালোঃ

    ১। অকাদেমির স্টেট এনটার প্রাইজের বাইরে বেসরকারী পাবলিকেশন, ওরিয়া সাহিত্যের কি অনুবাদ করছে ? কার বাজার কখন ভালো হচ্ছে? এই বিষয়্টা আরেক্টু খোঁজ দরকার। নইলে শুধুই বাংআলি পাঠকের দৈন্য প্রমাণের কাজে অনুবাদ সাহিত্য ব্যবহৃত হবার চান্স। এবং সেটা অসম্ভব ক্লিশে। ইনটারনেটে যে ফকির মোহন অনুবাদ পাছি, সেটা সরকারী ছাপা, ১৯৬৭ তে। মাস ইংরেজি অনুবাদ কখন বেরোচ্ছে?
    আকাদ্মীর এন্টার প্রাইজের চল কমার পরে, ৯০ এর দশকে ভাষাবন্ধন গাঁতিয়ে ভারতীয় ভাষার অনুবাদ ছেপেছে, সম্ভবত মহাশ্বেতা নিজে আডভাইজর হিসেবে থাকায়। আমি ইন্দিরার লেখা ভাষা বন্ধনেই প্রথম পড়েছি। আমি মারাঠি সাহিত্য সরকারী আর বেসরকারী পাবলিকেশন দু ই পড়েছি, বে সরকারী ই বেশি, পশ ও দেশী দুটি ভ্যারাইটির ই।
    কিন্তু তত দিনে দিল্লী তে দলিত ও আঞ্চলিক্ক সাহিত্যের বাজার ভালো হয়েছে, দক্ষিন ও বম্বে তে তো বরাবরি ভালো ছিলো।
    উর্দু, হিন্দু র সরকারী প্রকাশনের বাংলা অনুবাদ স্কোপের বাইরে রেখেও আলোচনা করা যেতে পারে, তার আলাদা রাজনীতি, সর্বভারতীয় নামক গোদা প্রোজেক্টের সংগে জড়িত, উর্দু অনুবাদ ব্যবহৃত হচ্ছে, মূলতঃ হিন্দী ভাষার প্রচারে একটা উত্তরভারতীয় লেজিটিমেসী আনার জন্য। বেসরকারী প্রকাশন আলাদা। সকলেই কিসন চন্দর যা পড়েছে, তার একটা বড় অংশ বেসরকারী পাবলিকেশন।
    ২। ১৯৩০-৪০ থেকে যখন বাংলায় আধুনিকতার খোঁজে ইন্টেলেকচুয়াল রা তেড়ে ইংরেজির বাইরে কন্টিনেন্টাল সাহিত্য পড়ছেন, বোদলেয়ার , প্রুস্ত,র‌্যাংবো পড়ছেন, অনুবাদ করছেন, এটা বিশআস করা কঠিন একই সময়ের কটক বা আসামের ইনটেলেকচুয়াল রা সে খোঁজ করেন নি বা পড়েন নি। অতএব পশ্চিমে তাকানো টা এক্সক্লুসিভলি সমসাময়িক বাংআলি অপরাধ কিনা জানতে চাইছি।
    ৩, এর পরে হল যদুপুর। তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাষার চর্চা করছে, তারা কি তামিল বেশি করেছে পূর্বাঞ্চলীয় সাহিত্যের তুলনায়?
    ৪। তার পরে ধরুন এন আর সি। অহমিয়া ভাষার ইনটেলেকচুয়াল রা, সে ভাষার ইনটেলেকচুয়াল দের থিয়োরাইজেশন এর সাহায্য ছাড়া সেখানকার শভিনিজম গ্রো করে কি করে। হ্যাং আমরা জানি ইন্টারনাল রেজিসটান্স কিছু ছিল ও আছে, কিন্তু আমার যেটা বক্তব্য মনোরমা যে বইটার তাত্তইক ধাঁচা তৈরী করেছেন, তাতে আঙ্চলিক শভিনিজম এর উত্থান কে ঠিক কি ভাবে থিয়োরাইজ করেছেন। বইটার আলোচনায় এই পার্ট টা নেই কেন, নাকি বইতেই এটা নেই।
    আমি একবার জাস্ট কৌতুহল বশে, সজল নাগের লেখা পড়ে বার খেয়ে, একটা রাফ সার্ভে করেছিলাম। লেফ্ট অফ সেন্টার জার্নাল বলে পরিচিত জার্নাল গুলো তে পূর্বাঞ্চলের জাতি সমস্যা কে স্টেট (পড়ুন কেন্দ্র) যেমন ভাবে দেখছে তার উনিশ বিশ দেখা হয়েছে, এবং পরে যখন আঞ্চল্লিক শভিজম এর প্রকোপ বেড়েছে, তখন সেটাকে হয় থিয়োরাইজ করা হয় নি, অথবা নতুন উত্তর ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী দক্ষিনপন্থী শক্তির সংগে পাওয়ার শেয়ারিং এর বাস্তব কে অস্বীকার করে করা হয়েছে। এই বিষয় টি এই বইয়ে একেবারেই অনুপস্থিত।
    ৫। সুনীতিবাবু কৃত নানা ভাষার উৎঅপত্তি সংক্রান্ত থিয়োরাইজেশন যে নানা রাজনৈতিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে, সম্পর্কে মনোরমার বক্তব্য কি, সে ব্যাপারে রিভিউয়ার আরেকটু বললে ভালো হত।

    নারীবাদী সলিডারিটির প্রসংগ জরুরি, কিন্তু এই সময়্টি জুড়ে তো ভাষা জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতা অবশেষে আলোচনার সময়ে এন আর সি , এই গুলো ভাতীয় রাজনীতির কনটেম্পোরারি দিক, এটা বিশআস করা কঠিন মনোরমা এই বিষয় ছোঁ নি, আর না ছুঁয়ে থাকেন, সেটা রিভিউ তে ক্রিটিসিজম হিসেবে আসবেনা কেন।।।ইত্যাদি।

    এর পরে ফাইনালি একটি কথা, আমি এখানে যে কজন লেখকের নাম বলেছি, গুরুচন্ডালির ওয়েব সাইটের অনেক পাঠক প্রত্যেকে সেসব পড়েছেন, এসব লেখা দুর্লভ কিছু না। তাই যদি হয়, হোয়ার ইজ দ্য ক্রাইসিস, হ্যা ইট হ্হ্যাজ টু কন্টিনিউ, বাট হোয়ার ইজ দ্য ক্রাইসিস। লেখাপড়া জিনিস্টা উঠে গেছে, সেটা তো জেনেরাল ক্রাইসি। যারা ফকির মোহন পড়ে নি, তারা বোরহেস, পড়ে উল্টে দিছে, ভাবা কঠিন। আঅর যারা পড়ছে, তারা কোন ভারতীয় ভাষার লেখাই পড়ে না, কারণ আন্তর্জাতিক অ্যাসপিরেশন ইত্যাদি। কিন্তু সেটা কি ওড়িয়া সাংস্কৃতিক জীবনে নেই, নাকি ১৯৪০ থেকে ২০০০ এর মধ্যে কখনৈ ছিল না।

    রিভিউয়ার কে ধন্যবাদ। আরো ডিটেলে যদি কিছু লেখেন, এবং লেখার জন্য গুরুচন্ডালি কে বেছে নিয়ে আমরা অনেকেই কৃতজ্ঞ থাকবো।

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
  • Sunil | 119.59.127.125 | ০৩ আগস্ট ২০২০ ১৬:৩৩95876
  • উড়িষ্যা নামে কোনও আলাদা রাজ্য নেই, তা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত। সেটা ইংরেজরা করেছে প্রশাসনিক কারণে, কিন্তু বাঙালিরা মনে করে, উড়িষ্যা যেন বাংলারই একটা অংশ। ওড়িয়াদের নিজস্ব ভাষার কোনও মর্যাদা নেই। সর্বত্র বাংলা ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব স্কুল কলেজে বাংলা পড়ানো হয়, অধিকাংশ শিক্ষক, এমনকী প্রধান শিক্ষকরাও বাঙালি। উকিল ব্যারিস্টার-জজ-ম্যাজিষ্ট্রেট-ডাক্তারদের মধ্যেও বাঙালির সংখ্যা প্রচুর। অনেক জমিদারিও বাঙালিদের। এই বাঙালি-প্রভুত্বের বিরুদ্ধে ওড়িয়াদের ক্ষোভ জমছে দিন দিন। তারা যত শিক্ষিত হচ্ছে, ততই নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে মর্যাদাবোধ জাগছে, বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির চাপে সেই মর্যাদা হারাতে তারা কিছুতেই রাজি নয়।

    অবশ্য উড়িষ্যার কিছু কিছু লেখক প্রথমে বাংলা ভাষাতে সাহিত্য শুরু করেছিলেন, বাংলা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে তাঁরা বাঙালিদের সমকক্ষ হতে চেষ্টা করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে নিজেদের ভাষায় ফিরে এসেছেন।

    বিহারীলালের বাড়ির আসরে প্রায়ই আসেন মধুসূদন রাও, তিনি উড়িষ্যার একজন গণমান্য কবি। তিনি বাংলাতেও কবিতা লিখেছেন, কলকাতার পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। মধুসূদন রাও নির্বিবাদী শান্তশীল মানুষ, কিন্তু ফকিরমোহন সেনাপতি নামে আর একজন লেখকের সঙ্গে ভরতের আলাপ হয়েছে, তিনি অত্যন্ত উগ্র ধরনের। ভরতের ব্যাঙ্কের হেড ক্লার্কের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব আছে। তিনি কেঁওনঝর স্টেটের ম্যানেজার, মধ্যে মধ্যে কটুকে আসেন, তখন ব্যাঙ্কে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে যান। তিনি হাসতে হাসতে এমন সব গল্প বলেন, যার মধ্যে তীব্র বিদ্রুপ আর রাগ ঝকঝক করে।

    একদিন তিনি বলেছিলেন, তাঁর অল্প বয়েসের এক কাহিনী। বালেশ্বর জেলায় গভর্নমেন্ট স্কুলে একজন শিক্ষক ছিলেন কান্তিচন্দ্র ভট্টাচার্য, তিনি পড়াতেন ওড়িয়া আর সংস্কৃত। সে ভদ্রলোক ওড়িয়া ভাষা পড়তে পারতেন মোটামুটি, কিন্তু উচ্চারণ করতে পারতেন না একেবারেই। ওড়িয়া ভাষার ন এবং ণ-এর উচ্চারণ আলাদা, বাঙালিরা মূর্ধ ণ-এর উচ্চারণ জানেই না। ওড়িয়াতে ল-এর উচ্চারণও অন্যরকম। ভটচার্যিমশাই এমন বিকৃত উচ্চারণ করেন যে তা ইসির উদ্রেক করে। তিনি হে বালকগণ’ এর বদলে বলেন ‘হে বাড় গনো’, তা শুনে ছাত্ররা হেসে গড়াগড়ি যায়।

    ছাত্রদের হাসি থামানো যাচ্ছে না দেখে ভট্টচার্যিমশাই এক বুদ্ধি বার করলেন। একদিন তিনি বলেই ফেললেন, আরে বাপু, ওড়িয়া তো আর আলাদা ভাষা কিছু নয়, বাংলারই বিকৃতি মাত্র, তা হলে আর ওড়িয়া ভাষা পড়ার দরকার কী?

    তিনি ঝটপট একটা পূস্তিকা লিখে ফেললেন, ‘ওড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নয়’। হেডমাস্টারও বাঙালি, তিনি সেই পুস্তিকাখানি জুড়ে দিয়ে একটা রিপোর্ট পাঠালেন ইনসপেক্টরের কাছে। সেই সময়ে স্কুল বিভাগের ইনসপেক্টর যদিও সাহেব, কিন্তু তার অফিস মেদিনীপুরে এবং সেখানকার সব কর্মচারীই বাঙালি। সবাই মিলে সাহেবকে এমনভাবে বোঝাল যে সাহেব এক সাকুলার দিয়ে দিল, বালেশ্বর গভর্নমেন্ট স্কুলে শুধু সংস্কৃত আর বাংলা পড়ালেই চলবে, ওড়িয়া পড়াবার দরকার নেই। উড়িষ্যার শিক্ষা বিভাগে উচ্চপদস্থ সব কর্মচারীই বাঙালি, সবাই বলল, ঠিক ঠিক। শুধু সরকারি স্কুলে কেন, সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতেও ওড়িয়া ভাষা তুলে দেওয়া হোক।

    এইভাবে ওড়িয়া ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলেছিল।

    ছাত্ররাও তখন এর প্রতিবাদ করেনি। কারণ ওড়িয়া ভাষা তখন দ্বিতীয় ভাষা হিসেবেও বাধ্যতামূলক ছিল না। পাস করার কোনও কড়াকড়ি নেই, তা বলে আর শুধু শুধু পড়তে যাওয়া কেন?

    ফকিরমোহনই তখন কিছু লোককে বুঝিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সভা করে এর প্রতিবাদ জানাতে আরম্ভ করেন।

    এই কাহিনী বলার সময় হঠাৎ এক সময় থেমে গিয়ে তিনি ভরতের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ওহে, তা বলে সব বাঙালির নামেই আমি দোষ দিচ্ছি না। দৈত্যকুলেও প্রহ্লাদ জন্মায়। এই উড়িষাতেই এমন বাঙালিও আছেন, যাঁদের উদ্দেশে আমি শত সহস্র প্রণিপাত করি। যেমন বাবু গৌরীশঙ্কর রায়। তিনি ‘উৎকল দীপিকা নামে পত্রিকা বার করেছেন, সেখানে প্রতি সপ্তাহে আমাদের ভাষার সমর্থনে প্রবন্ধ বার করতেন। অতি যুক্তিপূর্ণ সে সব প্রবন্ধ। তিনি আমাদের চেয়েও অনেক জোরাল ভাষায় আমাদের ভাষার পক্ষ নিয়ে লিখেছেন। তাঁর ভাই রামশঙ্কর রায় ওড়িয়া ভাষায় নাটক লিখেছেন, উপন্যাস লিখেছেন।

    (প্রথম আলো, ২য় পর্ব, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.9.150 | ০৩ আগস্ট ২০২০ ১৭:২৫95877
  • অভ্যাস না থাগলে যা হয়, নানা ভুল হলঃ

    ক -

    "এবং আমি যখন পড়েছি, কলকাতায় না থেকেও, মনোজ দাশ আর জয়ন্ত মহাপাত্র প্রচুর প্রচুর বাংআলি আর অন্য রাজ্যের লোক পড়েছে।"
    কারেকশন---
    কলকাতার বাইরের বাংলাতে থেকেও.....

    খ -
    এবং পরে যখন আঞ্চল্লিক শভিজম এর প্রকোপ বেড়েছে, তখন সেটাকে হয় থিয়োরাইজ করা হয় নি, অথবা নতুন উত্তর ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী দক্ষিনপন্থী শক্তির সংগে পাওয়ার শেয়ারিং এর বাস্তব কে অস্বীকার করে করা হয়েছে। এই বিষয় টি এই বইয়ে একেবারেই অনুপস্থিত।

    কারেকশন ---
    এই বিষয় টি 'কি' এই বইয়ে একেবারেই অনুপস্থিত? নাকি দাবী করা হয়েছে, রাজনীতিতে মহিলা নেতৃত্ত্ব থাকলে বিচ্ছিন্নতার দাবী কমত। এরকম কনজেকচার থাকলে খুব ই অবাক হব।

    গ-
    নারীবাদী সলিডারিটির প্রসংগ জরুরি, কিন্তু এই সময়্টি জুড়ে তো ভাষা জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতা অবশেষে আলোচনার সময়ে এন আর সি , এই গুলো ভাতীয় রাজনীতির কনটেম্পোরারি দিক, এটা বিশআস করা কঠিন মনোরমা এই বিষয় ছোঁ নি, আর না ছুঁয়ে থাকেন, সেটা রিভিউ তে ক্রিটিসিজম হিসেবে আসবেনা কেন।।।ইত্যাদি।

    নারীবাদী সলিডারিটির প্রসংগ জরুরি, কিন্তু এই সময় জুড়ে তো ভাষা জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতা অবশেষে বর্তমান আলোচনার সময়ে এন আর সি , এই গুলো ভারতীয় রাজনীতির কনটেম্পোরারি দিক, এটা bishwaas করা কঠিন মনোরমা এই বিষয় ছোঁ নি, আর যদি না ছুঁয়ে থাকেন, সেটা রিভিউ তে ক্রিটিসিজম হিসেবে আসবেনা কেন ...ইত্যাদি।

    যাই হোক এটা সম্ভবত আলোচনা করা দরকার, যে সমস্যাটা তাহলে কোথায়, এই বিষয়্গুলি যে আসে নি, মনোরমার বইয়ের স্কোপের সীমাবদ্ধতা , নাকি রিভিউয়ার এর দিক থেকে বেছে নেওয়া স্কোপ বা পরিসর এর সমস্যা, নাকি সম্ভাব্য অনাগ্রহী, সিরিয়াস অনুবাদ সাহিত্য পাঠে অনভ্যস্ত বলেই পাঠক কে ধরে নেওয়া হয়েছে, নাকি সমস্যাটা সম্পাদকীয় ব্রীফ এর , যারা লেখার অনুরোধ করেছেন, তাঁরা কি স্পেসিফিকলি, এই আঞ্চলিক রাজনীতির ক্যাচাল এই লেখায় চান নি, শুধু সঅল্প পরিচিত মহিলা লেখকদের একটা স্বীকৃতি চেয়েছেন, কোনটাই অসৎ উদ্দেষ্য না, শুধু এই অমিশন গুলো আমায় কিছুটা অবাক কোরেছে।

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
  • শম্পা রায় | 2402:3a80:a2d:985a:0:5c:1ddb:1801 | ০৪ আগস্ট ২০২০ ২১:২১95910
  • খুব সুন্দর আলোচনা। ভাষা না জানায় মূল বইটি পড়তে অপারগ, তবে এই  আলোচনা পড়ে শব্দ সরস্ববতীর বঙ্গানুবাদ পাঠে আগ্রহ জাগছে।

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত