• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • ভাঙড় চুক্তি এবং ভাঙড় আন্দোলনঃ একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন প্রচেষ্টা (প্রথম পর্ব)

    পিনাকী মিত্র লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৯০৭ বার পঠিত
  • দীর্ঘ দুবছর ধরে চলে আসা ভাঙ্গড় আন্দোলনে সম্প্রতি (১১ই আগস্ট) সরকার ও পাওয়ার গ্রিড কতৃপক্ষের সাথে আন্দোলনকারীদের একটি চুক্তি সই হয় এবং এর মধ্যে দিয়ে জঙ্গি প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে গ্রামবাসীরা সরে আসেন। আপাততঃ দেখা যাচ্ছে চুক্তির প্রতিশ্রুতিমত সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছেন এবং ভাঙ্গড় সাবস্টেশনের কাজও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় নতুন করে চালু হয়েছে। কিন্তু একটু কান পাতলেই শোনা যাবে এই চুক্তি নিয়ে নানারকম বক্তব্য হাওয়ায় ভাসছে। একদিকে যেমন ভাঙ্গড়ের কিছু গ্রামে বিজয় মিছিল, আবির খেলা, ইত্যাদি উৎসবের ছবি এবং ভিডিও আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে, তেমনি তার সাথেই বাজারে (ফেসবুক/হোয়াটসঅ্যাপে) ঘুরছে এপিডিআর এর একটি চিঠি, ভাঙ্গড় সংহতি কমিটির নামে একটি বিবৃতি, পিডিএসের সমীর পুততুন্ডের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস, আনন্দবাজারে বেরোনো একটি প্রতিবেদন ইত্যাদি। যেগুলোতে মূল বক্তব্য দুটো - এক, আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রামবাসীদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে এই চুক্তি করেছেন এবং এটা আসলে আত্মসমর্পণ। গ্রামবাসীদের অধিকাংশই এখনও 'পাওয়ার গ্রিড চাই না' এই অবস্থানেই অনড় আছেন। এই বক্তব্যকে টেনে নিয়ে গিয়ে কেউ কেউ এমনও বলছেন যে আন্দোলনের নেতা অলীক চক্রবর্তীকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হয়েছে। যাঁদের কল্পনার জোর বেশি, তাঁরা এও বলছেন অলীক চক্রবর্তীকে নাকি এক কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে রাজারহাটে, ইত্যাদি ইত্যাদি। দুই নম্বর যে বিষয়টা আলোচিত হচ্ছে সেটা হল পাওয়ার গ্রিড না হয়ে সাবস্টেশন হওয়ার মধ্যে মৌলিক কোনও তফাৎ হল কি? নাকি এটা টেকনিকাল কথার জাগলারিতে আসলে সাধারণ মানুষকে ভাঁওতা দেওয়া হল? সব মিলিয়ে 'বাম' শিবির (সিপিএম, লিবারেশন, পিডিএস থেকে শুরু করে মাওবাদী এবং তৃতীয় ধারার বামেরা), যারা ভাঙড় আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিল, তাদের মধ্যে অলীকদের নিজের দল রেড স্টার বাদে আর কেউই প্রকাশ্যে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। চারদিকেই একটা সংশয় এবং সন্দেহের আবহ। এই পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আমরা এই লেখায় চুক্তিটা নিয়ে যতদূর সম্ভব বস্তুনিষ্ঠ একটা মূল্যায়নের চেষ্টা করব। সঙ্গে সামগ্রিক আন্দোলন সম্পর্কেও দু একটা বাচাল মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকব না।


    চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টঃ

    সবার বোঝার সুবিধের জন্য চুক্তিপত্রের পাতার ছবিগুলো এখানে (লেখার নিচে) তুলে দেওয়া হল। খুব সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলো সহজভাষায় বললে দাঁড়ায় এরকমঃ

    ১) চুক্তির লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী এটা 'পাওয়ার গ্রিড' নয়, আঞ্চলিক সাব্স্টেশন। যেখানে দুটো ৪০০ কেভি লাইন ঢুকবে এবং দুটো ২২০ কেভি লাইন বেরোবে, যার মধ্যে একটি মাটির তলা দিয়ে, অন্যটি উপর দিয়ে।

    ২) ভারতীয় বিদ্যুৎ আইন মেনে লাইন নিয়ে যাওয়া হবে।

    ৩) SF6 ব্যবহার হবে।

    ৪) ইএমএফ মাপা হবে। কোথাও সমস্যা হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ৫) আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ৬) নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও সাবস্টেশনের মধ্যে যাঁদের জমি গেছে অথচ ক্ষতিপূরণ পান নি, টাওয়ার যাদের জমির ওপর বসবে ও বিদ্যুৎবাহী তার যাঁদের জমির ওপর দিয়ে যাবে তাঁরা সবাই বিভিন্ন হারে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

    ৭) এর সঙ্গে এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সেব্যাপারে প্রশাসন আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা করবেন।

    এর বইরে দুটি বিষয় চুক্তিতে অনুল্লিখিত। ১) গ্রামবাসীরা যে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন, তার মোট মূল্য ১২ কোটি টাকা। ২) প্রশাসনের তরফে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে আরাবুল ইসলাম বা তার অনুগামীরা আন্দোলনের এলাকায় ভবিষ্যতে আর কোনও ঝামেলা পাকাবে না।


  • চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো কী কী?

    এটা সর্বজনবিদিত যে ভাঙড় আন্দোলন তার শুরুর সময় থেকে কিছু বক্তব্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিষয়ে বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছে। সেইসব বিতর্ক এবং তার ধারাবাহিকতায় আজকের 'পাওয়ার গ্রিড বনাম সাবস্টেশন' - এই বিতর্ককে যদি আপাততঃ মুলতুবি রেখে কেবলমাত্র লিখিত চুক্তিতে মনোনিবেশ করা যায়, দেখা যাবে এই চুক্তির কতক্গুলো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের জায়গা রয়েছে যার ফলাফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

    প্রথমতঃ, যদি ধরেও নেওয়া যায় যে প্রথম থেকেই ওখানে সাবস্টেশন হওয়ারই কথা ছিল এবং শেষতঃ ওখানে সাবস্টেশনই হবে ঠিক হল, তা হলেও পিজিসিআইএলের প্রাথমিক সাবস্টেশন পরিকল্পনায় ওখানে মোট ১৬ টি লাইনের কথা ছিল। আন্দোলন পরবর্তীতে সেই ভাবনায় পরিবর্তন এনে তারা কেবল চারটি লাইন করবে বলে ঠিক করে। অর্থাৎ, সাবস্টেশনের বহর কেটে ছেঁটে প্রায় এক চতুর্থাংশ করে ফেলা হল। এটা কিন্তু মোটেই কম কথা নয়। ঘুরে ফিরে ভাঙড় আন্দোলনের সাথে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের তুলনা উঠছে। সেভাবে ভাবলে ভাঙড়ে যা হল তা কিন্তু সিঙ্গুরে ৪০০ একর ফিরিয়ে দিয়ে ৬০০ একরে কারখানা করার যে প্রস্তাব এসেছিল, সরকার সেটা মেনে নিলে যে অর্জন হত তার চেয়েও অনেকখানি বড় অর্জন। কাজেই একে খাটো করে দেখলে সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়া হবে বলে মনে হয়।

    দ্বিতীয়তঃ, ভাঙড়ে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, তার পরিমাণ দৃষ্টান্তযোগ্য। টাওয়ার বসানোর জমিতে এবং যেসব জমির ওপর দিয়ে হাই ভোল্টেজ তার যাবে তাদের মালিকদেরও সর্বভারতীয় রেটের চেয়ে অনেক বেশি হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। জমির ওপর দিয়ে হাই টেনশন তার গেলে শারীরিক ক্ষতিটা বড় সমস্যা নয়, বড় সমস্যা হল জমির দাম কমে যাওয়া। বিক্রয়যোগ্যতা কমে যাওয়া। এ সমস্যা শুধু ভারতের নয়, সারা পৃথিবীর। কাজেই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবী এক্ষেত্রে অত্যন্ত সঙ্গত দাবী এবং তা মেনে নেওয়াও অত্যন্ত সঠিক সমাধান। ভাঙড়ের ক্ষতিপূরণের হার এক্ষেত্রে একটা সর্বভারতীয় দৃষ্টান্ত তৈরী করল এবং ভারতের সমস্ত জায়গায় যেখানে যেখানে আগামীদিনে ট্রান্সমিশন লাইন তৈরী হবে, সেখানেই মানুষের হাতে অনেকটা বেশি দরকষাকষির ক্ষমতা তুলে দিল ভাঙড়ের এই চুক্তি।

    তৃতীয়তঃ, আজকের দিনে উন্নত দেশে এধরণের ট্রান্সমিশন প্রজেক্টে বিতর্ক, সমস্যা, স্থানীয় প্রতিরোধ বহু জায়গায় থাকে। কিন্তু সেসব জায়গায় প্রতিরোধ হলেই মাসলম্যান লেলিয়ে দেওয়া হয় না প্রতিরোধকারীদের ওপর। স্থানীয় লোককে অন্ধকারে রেখে, কী করতে চাওয়া হচ্ছে সে নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা/কনভেনশন/বিতর্ক না করেই পুলিশ/গুণ্ডা দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা পদ্ধতি হিসেবে কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই প্রজেক্টে যত 'জনস্বার্থ'ই জড়িত থাকুক না কেন। ভাঙড় চুক্তির আগের পর্যায়ে দুবছর ধরে সরকারের হাই হ্যান্ডেড আচরণ, আরাবুল এবং ইউএপিএ দিয়ে আন্দোলনকারীদের শায়েস্তা করার অপচেষ্টা এবং তার প্রতিক্রিয়ার আন্দোলনকারীদেরও প্রতিদিনই আরও অনমনীয় হয়ে ওঠা - এসব দেখে মনে হচ্ছিল না যে এই সমস্যার কোনও গণতান্ত্রিক সমাধান আদৌ হতে পারে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বরফ গলতে শুরু করার পর চুক্তিপ্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়েছে তাও কিন্তু অনেকগুলো দিক থেকে দৃষ্টান্ত তৈরী করেছে। যেমন - ১) চুক্তির মীটিংগুলোয় কেবলমাত্র আন্দোলনের 'বহিরাগত' নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন এমন নয়। আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধি নিয়ে প্রায় ৫০ জনের একটি দল আলোচনা করেছেন প্রশাসন এবং পিজিসিআইএলের প্রতিনিধিদের সাথে। ২) চুক্তিতে আছে সাব্স্টেশনের কাজ শুরু হওয়ার পর ইএমএফ মাপা এবং লাইনের দুপাশের রাইট-অফ-ওয়ে দূরত্ব - ইত্যাদি বিষয়ে কোনও সমস্যা হলে সেসবের সমাধান গ্রামবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই হবে। এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রথম থেকেই এইসব বিষয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে কিছু আশংকা এবং সংশয় রয়েছে। তাঁদের সাথে নিয়ে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেলেই একমাত্র সেই সংশয় দূর হতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাধানের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ৩) একই ভাবে চুক্তিতে গ্রামবাসী, প্রশাসন এবং পিজিসিআইলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাবকমিটি তৈরীর কথা আছে, যা চুক্তির রূপায়ণের ব্যাপারটা তত্ত্বাবধান করবে। উপরের তিনটে বিষয়েই স্থানীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে চুক্তির মাধ্যমে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। যা আগামী যে কোনও এধরণের সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

    চতুর্থতঃ, আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে মামলা প্রত্যাহার নিয়েও চুক্তিতে সামগ্রিকভাবে সদর্থক বক্তব্যই রয়েছে। যদিও প্রতি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট আইনানুগ পদ্ধতি মেনেই মামলা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে এবং রূপায়ণ না হওয়া অব্দি এ নিয়ে সংশয় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবুও মামলা প্রত্যাহার করা বিষয়ক নীতিগত সিদ্ধান্ত যে হয়েছে - সেটা খুবই স্পষ্টভাবে চুক্তিতে দেখা যাচ্ছে। এরপরে আইনি অজুহাত দিয়ে মামলা প্রত্যাহার না করলে যে সেটা সার্বিক প্রতারণা হবে সে নিয়ে কোনও সংশয় কারুরই থাকার কথা নয়। এতটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মামলা প্রত্যাহারের লিখিত প্রতিশ্রুতি সাম্প্রতিক অতীতে কোনও আন্দোলনে আন্দোলনকারীরা আদায় করতে পেরেছেন বলে লেখকের জানা নেই। কাজেই সেই দিক থেকেও ভাঙড় চুক্তি একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    পঞ্চমতঃ, কেবলমাত্র সাবস্টেশন সংক্রান্ত বা ক্ষতিপূরণ এবং মামলা প্রত্যাহারের মত আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয় ছাড়াও এই চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে ভাঙড়বাসীর জন্য একাধিক স্থানীয়স্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। সেগুলোর কতটা রূপায়িত হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু গ্রামবাসীদের দিক থেকে আসা উন্নয়ন প্রস্তাব প্রায় হুবহু লিখিত চুক্তিপত্রে স্থান পাওয়ার এরকম নজির প্রায় নেই বললেই চলে।

    ষষ্ঠ এবং শেষতম যে অর্জন তা মূলতঃ রাজনৈতিক। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখনও অব্দি ট্র্যাক রেকর্ড যদি দেখা যায়, সে জঙ্গল মহলই হোক কি গোর্খাল্যান্ডর আন্দোলন, অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে সেগুলোকে মোকাবিলা করা হয়েছে। প্রয়োজনে টাকা/সুবিধা দিয়ে নেতৃত্বকে হাত করে, অথবা পুলিশ এবং পেশীশক্তি প্রয়োগ করে - সব ক্ষেত্রেই ফয়সালা কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছে মমতা ব্যানার্জীর শর্তে। আন্দোলনকারীদের শর্তে নয়। এর মধ্যে 'হোক কলরব' আন্দোলন বা সাম্প্রতিক অতীতে মেডিক্যালের আন্দোলনকে ধরছি না। কারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের চাপে নতিস্বীকার করলেও শাসকের রাজনৈতিক প্রতিপত্তিতে তেমন আঁচড় পড়ে না। কিন্তু ভাঙড়ই এযাবৎকালের মধ্যে প্রথম সেই জায়গা যেখানে সমাধান কেবলমাত্র শাসকের শর্ত মেনে হয় নি। দুবছর ধরে পরে হলেও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হতে হয়েছে সরকার পক্ষকে। কথা বলতে বাধ্য হতে হয়েছে গ্রামবাসীদের পাশাপাশি 'বহিরাগত' নেতৃত্বর সঙ্গেও। প্রকৃতপক্ষে নমনীয়তা দেখাতে হয়েছে দুপক্ষকেই। তবেই মাঝামাঝি একটা সমাধানসূত্র বেরিয়েছে। যেকোনও গণতান্ত্রিক এবং 'সুস্থ' দরকষাকষির যা অন্যতম শর্ত। এর পাশাপাশি তৃণমূলকে মেনে নিতে হয়েছে যে ভাঙড়ে একটি অঞ্চলে অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি এখন আগামী কিছুদিন থাকবে, তারা নির্বাচনে লড়বে, কিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও পাবে। এই মানতে বাধ্য করানোর রাজনৈতিক অর্জনও খুব কম গুরুত্বের বলে মনে হয় না।

    উপরের সবকটা বিষয়কে মাথায় রাখলে আন্দোলনের অতি বড় সমালোচকও মানতে বাধ্য হবেন এই চুক্তিকে গ্রামবাসীরা যদি 'জয়' বলে মনে করেন তাহলে তাঁরা খুব ভুল কিছু করবেন না। অলীক চক্রবর্তী যদি তর্কের খাতিরে সরকারের কাছে সম্পূর্ণ বিকিয়ে গিয়েও থাকেন এবং বিকিয়ে গিয়েও গ্রামবাসীকে এইরকম একটি লিখিত চুক্তি আদায় করে দিতে পারেন, যা কিনা এযাবৎকালের কোনও গণ আন্দোলনে ঘটে নি, তাহলেও তাঁকে গ্রামবাসীরা মাথায় তুলে কেন রাখবেন না তা পরিষ্কার নয়।

    উল্টোদিকে সরকার বা পিজিসিআইএলের দিক থেকে দেখলেও এই চুক্তি যথেষ্ট ইতিবাচকই। একটা সাবস্টেশন এবং সংলগ্ন লাইনগুলো অতখানি তৈরী হয়ে যাওয়ার পর যদি পরিকল্পনা বাতিল করতে হত, তাতে শুধু যে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হত তাই নয়, সারা ভারত জুড়েই গ্রিডকে শক্তিশালী করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা অনেকখানি ধাক্কা খেত। ২২০ কেভির যে লাইনগুলো ভাঙড় থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পরিবহন নিগম (WBSETCL) টানবে সেগুলো অতি অব্শ্যই নিকটবর্তী এবং একটু দূরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের সাথে যুক্ত। সেগুলি না হলে সেই প্রক্রিয়াও ভালোরকম ব্যহত হত। গ্রিড সংযুক্তিকরণের জন্য যে ১৬ টি লাইনের পরিকল্পনা ছিল তার মধ্যে যেগুলো চুক্তি মোতাবেক বাতিল হল, সেগুলোকে পিজিসিআইএলকে অন্যভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। হয়তো একটি সাবস্টেশনে কেন্দ্রীভূত উপায়ে তাঁরা করতে পারবেন না, অন্ততঃ ভাঙড় নিকটবর্তী অঞ্চলে তো নয়ই। সেগুলো কিছুটা সুদূর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হওয়ায় আশু ক্ষতির সম্ভবনা কম। তবু বিশুদ্ধ প্রযুক্তিগত জায়গা থেকে দেখলে সেই ক্ষতি হয়তো ক্ষতিই। কিন্তু মাথায় রাখার বিষয় হল শুধু প্রযুক্তিগত যুক্তি দিয়ে সমাজ চলে না। মানুষ এবং তার ইচ্ছে অনিচ্ছে, সুবিধা অসুবিধা সমাজের প্রধানতম উপাদান। তাই গণতন্ত্রের শর্তেই প্রযুক্তিকে মানুষের ইচ্ছে অনিচ্ছের সাথে বোঝাপড়া করেই এগোতে হবে। এই নিয়ে কপাল চাপড়ে লাভ নেই। প্রযুক্তির সাথে যুক্ত লোকজন, পিজিসিআইএল, WBSETCL - ইত্যাদিরা এটা ভালোই জানেন। কাজেই এই চুক্তি তাঁদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে - এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। সব মিলিয়ে তাঁদের দিক থেকেও ভাঙড়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই চুক্তিকে 'উইন-উইন' বলেই আন্দাজ করা যায়।

    তবে এরকম একটা ভদ্রস্থ এবং সম্মানজনক চুক্তির পরেও এরকম অস্বস্তির এবং অবিশ্বাসের আবহাওয়া কেন? কী চলছে 'বাম' শিবিরের চোরাস্রোত? ব্যক্তি এবং দলগত মনোমালিন্য ও কুৎসার ঊর্ধ্বে এসব কি 'বাম' আন্দোলনের গভীরতর কোনও অসুখের প্রতি দিকনির্দেশ করছে? একটা চুক্তি ছাড়া আর কী রেখে গেল ভাঙড় আন্দোলন? তার সবটাই কি খুব ইতিবাচক? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজব আমরা এই প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।


    পরের পর্ব >>
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৯০৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 560123.148.1256.34 (*) | ১৫ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪০84695
  • ভাল লেখা। পরের পর্বের অপেক্ষায়
  • pinaki | 0189.254.455612.105 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০১:৪৫84704
  • পরে ডিটেলে লিখছি। একটা পয়েন্ট ছোট করে লিখে যাই। সিঙ্গুরের সাথে তুলনা করার অবস্থান আমার নয়। বরং আমার সমালোচনার একটা অন্যতম পয়েন্ট হল আন্দোলনটাকে খানিকটা জোর করে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের রেটোরিকে ফিট করানোর চেষ্টা হয়েছে। এখানে লিখেছি কেবল আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকল্পকে কাটছাঁট করিয়ে নেওয়ার পার্টটুকুতে যদি সিঙ্গুরের সাথে প্যারালাল টানা যায়, তাহলে ওখানে যাঁরা ৬০০ একরের সমাধানসূত্রে খুশি হতেন তাঁদের ভাঙড়ের বেলায় প্রকল্প এক চতুর্থাংশ হয়ে যাওয়াতেও অখুশি হওয়ার খুব একটা কারণ নেই। এটুকুই। আর আমি রেড স্টারের সমর্থক টমর্থক কিছু নই। সমালোচনা ক্রমে আসিতেছে। :-)
  • sswarnendu | 670112.203.563412.207 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০১:৫৫84705
  • দ্বিতীয় পর্ব আসার আগে মন্তব্য করতে চাইছি না,
    কিন্তু পিনাকীদা
    "যদি ধরেও নেওয়া যায় যে প্রথম থেকেই ওখানে সাবস্টেশন হওয়ারই কথা ছিল এবং শেষতঃ ওখানে সাবস্টেশনই হবে ঠিক হল, তা হলেও " -- এরকম লাইন লিখেছে দেখে খুবই অবাক হলাম। পিনাকীদা খুবই ভাল করে জানে এতে ধরে নেওয়ার কিছু নেই।

    আর ১৬ লাইনের জায়গায় ৪টে লাইন, কিম্বা সাবস্টেশন বহরে ছোট হল -- এসবে কি চতুর্বর্গ লাভ হলও জানতে আগ্রহী। লাইনের সংখ্যা কমাতে হবে কিম্বা সাবস্টেশনটাকে একটু ছোটখাটো করতে হবে বহরে, এমন কোন দাবী তো দুরের কথা, সেই সংক্রান্ত কোন কথাই কখনো উত্থাপিত হয়নি। আজ চুক্তি হল বলেই সেইটা বিশাল অর্জন হয়ে গেল? কেনই বা?
  • dd | 670112.51.8912.122 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০২:৪৮84696
  • ইয়েস
  • রৌহিন | 670112.203.348912.28 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৩:২১84697
  • চুক্তিটা অনেক আগেই করা যেত, - সরকারের ক্সছে উইন - উইন সিচুয়েশন ছিল। কিন্তু আরাবুলদের ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা আছে সরকারের। ফলতঃ কিছু অকারণ প্রানহানি।
  • PT | 340123.110.234523.17 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৩:৫২84698
  • এটা পড়লাম যে অন্যত্র!!??
    "প্রসঙ্গত পাওয়ার গ্রিড গোটা দেশজোড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন নেটওয়ার্কটাকে বলে। তাই ভাঙ্গরে কেন, কোন একটা জায়গাতেই 'পাওয়ার গ্রিড' বসানো যায় না। ভাঙ্গরে যা বসার কথা ছিল তাকে বলে ট্রান্সমিশন সাবস্টেশন, এখনও তাইই বসছে।"
    (ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গেঃ স্বর্ণেন্দু শীল)

    অন্যত্র এই খবরটা পাওয়া গেলঃ
    "বছর দেড়েকের এই আন্দোলনের জেরে এর আগেই একবার পাওয়ার গ্রিডের বদলে সাবস্টেশন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার পক্ষ। সাবস্টেশনের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছিল। রাজারহাট-গোকর্ণ-পূর্ণিয়ার দিকে একটি লাইনের কাজ প্রায় হয়ে গিয়েছিল। জিরাট-সুভাষগ্রামের দিকে দ্বিতীয় লাইনের কাজও অনেক দূর এগিয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। মাঝ পথেই থেমে যায় সাবস্টেশনের কাজও।"
    https://www.anandabazar.com/state/stalemate-on-power-grid-project-ends-work-starts-for-substation-in-bhangar-dgtl-1.847569?ref=state-new-stry
  • শেখর | 2345.110.014512.77 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৪:২৭84699
  • কোনও গণতান্ত্রিক আন্দলনই অনন্তকাল ধরে চলে না | আলোচনার মধ্য দিয়ে দাবী-দাওয়ার গ্রহণযোগ্য মীমাংসা করাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের লক্ষ্য | গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সমাজ বিপ্লবের মধ্যে গুণগত পার্থক্যটা আমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলি | তা থেকেই অনেক সংশয় জন্ম নেয় | সেকারণেই ভাঙ্গর আন্দোলনের এরকম বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন জরুরী ছিল | পরের কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম |
  • প্রতিভা | 340123.163.564523.57 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৪:৩১84700
  • ক্ষতিপূরণের হার নিয়েও একটু বললে ভাল হয়। আরাবুল বাহিনী শুরু শুরুতেই যাদের জমি ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়েছিল তারা কি ক্ষতিপূরণ পাবে ? কারণ জমির মালিকানা অনেকদিন হলই তাদের নয়। যারা মারা গেল তাদের প্রাণের দাম এতো কম!
    সিঙ্গুরের ক্ষতিপূরণ আর ভাঙড়ের ক্ষতিপূরণের একটা তুলনামূলক প্যারা চাই পরের লেখায়।
  • প্রতিভা | 340123.163.564523.57 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৫:০২84701
  • এছাড়াও যেটা বলার সেটা হল চুক্তি করবার সময় সংহতি কমিটীকে ডাকা হয় নি। এমন কি কনভেনরকেও নয়। শুধু বাস্তুতন্ত্র বাঁচাও কমটি ও তিন নেতা। এটা একটা রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল শাসকের বিরুদ্ধে। যার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। সেখানে সংগ্রামের সঙ্গীদের সঙ্গেই এই গোপনীয়তা কেন৷?
  • h | 340123.99.121223.135 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৩৪84702
  • -অলীক চক্রবর্তী কে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে (সাময়িক বসবাসের জন্য, নাকি মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার করা হয় নি, সম্ভবত ইচ্ছকৃত ভাবে) খবরটা বেরিয়েছে, আবাপ তে। সমর্থনে কোন তথ্য সূত্র/ডকুমেন্ট কিসুই দেওয়া হয় নি। সরকারের কর্তার মৃদু হাসি ইত্যাদি বলে, গোটা ব্যাপারটাকে আন্দোলনকারী দের আত্মসমর্পণ হিসেবেই পেশ করা হয়েছে। খবরটি তে। ভাঙড়ের মানুষের আনন্দবাজারের কাছে আরেকটু সম্মান প্রাপ্য ছিল। গণ আন্দোলন প্রসঙ্গে আনন্দবাজারের যা ঐতিহাসিক ভূমিকা, বেশ কয়েক দশকের, তাতে খবর টি সম্পূর্ণ ঢপ হলেও আশ্চর্য্যের কিছু নেই। খবরটি সম্পূর্ণ বা আংশিক অসত্য হলেও রেড স্টারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বিরোধিতা করা উচিত , প্রয়োজনে মামলা করা উচিত। আর যদি সত্য হয়, তাহোলে কোরাপ্ট আন্দোলনকারীর তালিকায় এদের নাম ঢুকবে কি আর করা, কোনটাই নতুন কিসু না।
    -এই লেখাটি চুক্তি সম্পাদনা কে উ`দ যাপন করতে গিয়ে বিষয়ের মধ্যে না থেকে অনর্থক যত সুইপিং কমেন্ট করেছে, ততই পক্ষপাতিত্ত্ব প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। কয়েকটা উদাহরণ মোটামুটি এই, সিঙ্গুর প্রসঙ্গ না আনলেই ভালো হত। ক -
    একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের গাড়ির কারখানা, আর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ সংযোগের মত ন্যুনতম ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর বিষয় , স্বভাবে বা জমির পরিমানে তুলনীয় না।
    খ - সরকারের ভূমিকার কনট্রাস্ট দেখাতে গিয়ে আন্দোলনকারী দের নমনীয়তার তুলনা টা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বহিরাগত আন্দোলনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরে কতটা নমনীয় ছিলেন, এই প্রসঙ্গ হাস্যকর। তাছাড়া পদ্ধতিগত ভাবে অবরুদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সিংগুর এর চেয়ে নন্দীগ্রাম এর বেশি মিল।

    গ- ইচ্ছুক অনিচ্ছুকের হিসেব কিছু ছিল না, ভাঙড়ে,

    ঘ - সিপিএম এর এম্নিতে জমি রক্ষা প্রশ্নে ক্রেডিবিলিটি সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম এর পর থেকে মহাশূন্য ঃ-))) ঘোড়া সহ সমস্ত চতুষ্পদের হাসির খোরাক ঃ-))) । তো তাঁরা এই আন্দোলনে সমর্থন করে , কয়েকটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার মত জায়্গায় পৌছতে পেরেছিলেন একটি ই কারণে , সেটা হল ল্যান্ড শার্ক দের ভূমিকার বিরুদ্ধে জনমত, এবং মমতার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পলিসি লাইনের একটা ফাঁক, সেটা হল অধিগ্রহনে সরকারের ভূমিকাই জমি র মালিক দের স্বার্থ রক্ষার বিষয় টি কে একটা আইনী চ্যালেন্জ বা আলোচনার জায়গায় রাখতে পারে, প্রাইভেট ডিল মেকিং সাধারণ ভাবে আরো বেশি একসপ্লয়টেটিভ, বৈদিক ভিলেজ কেস থেকে এটা পরিষ্কার, আর অ্যাকশন এরিয়া ঘোষণার আগের আর্বানাইজেশন গুলি এই বিষয়ে প্রামাণ্য। যথেষ্টের থেকে অধিক।
    ঙ - ভাঙড়ে ভাগচাষী, ক্ষেতমজুরের অধিকার নিয়ে বিষেষ আলোচনা কখনৈ হয় নি, জমির মালিক দের নিয়েই আলোচনা হয়েছে, সিঙুরে সরকারের ডুবিয়াস ভূমিকা সত্ত্বেও এই দুটি পেশার ক্ষতিগ্রস্ত দের আলোচনা থেকে একেবারে বাদ দেওয়া যায় নি। বেলুড়ে ট্রেনিং , নিরাপত্ত রক্ষীর কাজ ইত্যাদি দেওয়া কিছু হয়েছিল।
    চ - সিঙুরের সময় আন্দোলন সমর্থন কারীরা বলেছেন, দেশের অন্যান্য জায়্গার তুলনায় ক্ষতির জমির দাম কম দেওয়া হচ্ছে, তো তাতেও প্রচুর ইচ্ছুক লোক পাওয়া গেছিল। ভাঙড়ে যদি দাবী করা হয় যে তুলনীয় প্রজেক্ট এর তুলনায় বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে, এবং তার প্রাইস ইয়ার বেসিস অমুক, তাহলে এই প্রবন্ধের বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে তার চার্ট পেশ করা উচিত। কোথায় কত ইত্যাদি, নইলে এটি দাবী মাত্র।

    এই চুক্তি কে যদি, পঞ্চায়েত ভোটে কমিটির লোক দের কয়েকটি জয়ের থেকে বেশি গুরুত্ত্বপূর্ণ করে দেখাতে হয়, তাহলে এই বিষয় গুলি খেয়াল রাখা উচিত ছিল।

    আর জেনেরালি, লেখক যদি রেড স্টারের কর্মী বা সমর্থক হন ঠিকাছে, নইলে এই 'সাফল্যের দাবী' যে আন্দোলনকারী রা এই চুক্তির সমর্থনে রয়েছে, ঐ '৫০-৬০' জন আলোচনায় অংশগ্রহণ কারী, তাঁদের মধ্যে থেকেই প্রবন্ধ এলে ভালো হত। চুক্তি পত্রে সাক্ষর অবশ্য সব আলোচনাকারী করেন নি ধরে নিচ্ছি। দীর্ঘ দিন ধরে অঞ্চল কে বিছিন্ন করে আন্দোলন করার বিচিত্র পদ্ধতি র পরে, এই চুক্তি সাধারণ ভাবে অনেক কে রিলিফ দিতেই পারে, অনেক মানুষ খুশি হতেই পারেন, তবে সেটা নিজেরা বেকায়দায় পড়ার জন্য না দাবী আদায়ে সাফল্যের জন্য, এটা নিয়ে প্রশ্নচিহঁঅ থেকে যাবে।

    ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে, 'বহিরাগত' কথাটা সরকার পক্ষ, মালিক পক্ষ সুবিধে মত ব্যাবহার করে। সাধারণত দেখা যায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড ট্রেড ইউনিয়নে অনেকে
    আপত্তি করেন, কারণ তাঁরা মনে করেন, তাতে আন্দোলনের স্বার্থ বিকৃত হয়। তবে সেই দাবী আসে সাধারণত ছোট দলের পক্ষ থেকে। তার পরে ফেডারেশন গুলির সঙ্গে এই ট্রেড ইউনিয়ন গুলির একটা টানা পোড়েন চলতে থাকে, তবে থ্যাংকফুলি বড় স্ট্রাইকে অনেকেই একসঙ্গে কাজ করেন। এই প্রসঙ্গ উত্থাপনের কারণ হল, এই আন্দোলন বা এই 'সমাধান' অন্তত একটা কথা প্রমাণ করে, চুক্তি হতে পেরেছে ছোটো দল বা স্থানীয় মানুষেরা যুক্ত ছিলেন বলে। সিঙুর ও হয়তো একটা সমাধানে পৌছতো অনিচ্ছুক রা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে কথা না বলে নিজেরা কথা বললে ঃ-))) তাতে তথাকথিত ইন্ডিপেন্ডেন্স এর ক্ষতি না লাভ হত সেটা বিতর্কিত। আমার আন্দোলন কারী দের প্রতি শ্রদ্ধা এই আবাপ র খবরে যাবে না। আমি শিল্পের পক্ষে হলেও যাবে না। কিন্তু চুক্তির প্রতিটা শব্দ না পড়ে, বলা যাবে না, এটা কে সমপর্ন বলা হবে না জয় বলা হবে। সমাধান বলা গেলেই অবশ্য চলবে। তবে তাতে অনেক গোল পোস্ট আন্দোলনকারী দের পক্ষ থেকেই সরিয়ে নিতে হবে, এই আর কি ঃ-))))
  • h | 340123.99.121223.135 (*) | ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১১:২০84703
  • একটা কথা আমার পরিষ্কার করে বলা উচিত। এই প্রবন্ধের লেখকের নিন্দে তো করলাম কিছুটা। এই লেখাটি, অন্তত আবপ র ভাঙড় আন্দোলন কে 'ম্যানেজ' করে ফেলার উ`দযাপনের ন্যারেটিভ টি থেকে হাজার গুণে সৎ ও নিষ্ঠাবান। ঐ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনে ভাঙন ধরানো গেছে বলে উচ্ছাস রয়েছে, এবং নেতাদের যাতায়াতের খবর ভেতর থেকে আসছে বলে একধরণের উল্লাস। সাধারণত, ৭০ এর দশক থেকে, ট্রেড ইউনিয়ন মুভমেন্টের বিরোধী বাজারী আলোচনায় অন্তত, মূলত পপুলার ন্যারেটিভ যেটা তৈরী করা হয়েছিল, সেটা হল নেতাদের মুর্খামি বা গোঁয়ারতুমি বা অসততা ভিত্তিক। এখন মহাকালের লীলা, দেখা যাচ্ছে, সরকারী শঠতা, আন্দোলনে ভাঙতে পারার জন্য নেওয়া কড়া মিঠে ব্যবস্থা সমূহের একেবারে উ`দ্যাপন চলছে। পেশাদারী এম্বেডেড সাংবাদিকতার ন্যুনতম চক্ষুলজ্জাটিও গেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন