এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  খবর  টুকরো খবর

  • জনসন্ত্রাসের রাজধানী

    সুমন মান্না লেখকের গ্রাহক হোন
    খবর | টুকরো খবর | ৩০ মার্চ ২০১৯ | ৬৮৪১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • আজকাল সকালে অফিসে ঢুকি, একটা কফি নিয়ে ঘরে আসি, তা শেষ হতে না হতেই সিস্টেমে লগ-ইন হয়ে যায়। তারপর থেকে প্রায় যন্ত্রের মতো কাজকর্ম চলতে থাকে। চারটে পেন্ডিং কাজ থাকে, যা শেষ করব ভাবি, নতুন পাঁচটা কাজ চলে আসে “আর্জেন্ট” তকমায়। তার মধ্যে ফোন বাজে, লোকে তাগাদা দেয়, স্কাইপে তে ভেসে আসে কেউ কাজের মাঝখানে, তার কাজের তদবির নিয়ে। মাঝে মধ্যে বাইরের হাওয়া খেতে নামি, ওইটুকু সময়ে একটু “গুরু” খোলা, ফেসবুক করা।

    এর মধ্যেই পেট্রল পাম্পগুলিতে পেট্রল ডিজেলের দাম আর প্রধাণমন্ত্রীর মুখ সমানুপাতে বাড়তে দেখি। বিশ্বকর্মা পুজো, সরস্বতী পুজো, গণেশ পুজো আরও সব নানা ধর্মীয় বিসর্জনের সময়ে বড় বড় ট্রাকে ডিজি ও ডিজের যুগপৎ তান্ডবে জ্যামে ফেঁসে থাকা জানলা মোড়া গাড়ির মেঝে কাঁপে। যাদের তান্ডব যত বেশি তাদের ট্রাকে তত বড় ভারতের পতাকা। এও সমানুপাতিক।

    খুব একটা কথাবার্তা হয় না অফিসের বাকি লোকজনের সঙ্গে। ২০১৪ র আগে তাও হ'ত। পিজে -টিজে বলতামও, মাঝে মধ্যে প্যান্ট্রিতে দাঁড়িয়ে চা বা কফি নিয়ে গল্পগাছাও চলত। তা বন্ধ একদিনে হয় নি। এক একটা দলের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে দেখেছি তাদের কথা থেমে গেছে, এক এক করে সরে পড়ছে। এটা বোঝা যায়। মানুষের কাছে এলে, কাছাকাছি মানুষ থাকলে কোনও শব্দ উচ্চারণ না করেও তাকে বোঝান যায়, সে অপাঙ়্ক্তেয়।

    সব নষ্টের মূল ওই ফেসবুক। কলকাতাতেও অফিস করেছি (অবশ্য সে গত শতাব্দীর ঘটনা), সেখানে চুটিয়ে আড্ডা হ'ত অফিসের নিচে চায়ের দোকানে। সিপিএম-কংগ্রেস-তৃণমূল, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল একে অপরের সিগারেট জ্বালিয়ে এন্তার বাজে বকত। ঝগড়াও। কিন্তু “ওই লোকটা আলাদা” এমন ভাবে দাগিয়ে দিতে দেখিনি। তা যা বলছিলাম, ফেসবুকে দুর্গাঠাকুরকে হাবিবের পার্লারে যেতে দেখে অযাচিত ভাবে কেউ কেউ এসে জ্ঞান দিতে গিয়ে যুক্তির উপদ্রব দেখে পালিয়ে বাঁচেন। ব্যাপারটা বিরক্তির মাত্রা ছাড়য়েছিল বলে সেই দু-একজন কে সামনা সামনি হয়ে গেলে নড করা বন্ধ করেছিলাম। তাদের সঙ্গে এর বেশি সম্পর্ক ছিলও না।

    এদের হিসেবে খুব একটা জটিলতা নেই। একে মাছ-মাংস খায়, তার ওপর সিগারেটও ফোঁকে। তার ওপরে দুর্গা-ঠাকুরকে মুসলমানের দোকানে পাঠাল — নেহাৎ কলিযুগ নয়ত কবে বজ্রাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়! ছিঃ!

    পুলাওয়ামা ঘটনার পর “দেশপ্রেম” আচমকা বেড়ে গেল সবার। তারিখটা আবার প্রেমের দিবসেরও। যাতে এইবার কেন জানি না “ভগৎ সিং এর ফাঁসি” ঠিক হয়ে ওঠেনি। তা, এই ঘটনার পর দেশের প্রধাণমন্ত্রী তো ভাষণে ফাটিয়ে দিতে থাকলেন। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর বাইরে থেকে আওয়াজ পেয়ে বারান্দায় এসে দেখি মিছিল চলছে জনা পঞ্চাশ লোক, মোমবাতির বদলে হাতে মোবাইলের ফ্লাশলাইট। স্লোগান শুনলাম একবার “ভারতমাতা কি জ্যায়” পিছু পাঁচবার করে “পাকিস্তান মুর্দাবাদ”। বলা বাহুল্য পড়শী দেশের উল্লেখের সময়ে তাদের “জোশ” যেন ফেটে ফেটে বেরোচ্ছিল। পরে শুনি এই মিছিল ছোট ছোট করে সারা দেশে বেরিয়েছে, কলকাতাতেও। যেন রাস্তার ধারে পাকিস্তান বসে বিড়ি বাঁধছে বলে খবর, এরা খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    দেখেছি এই ইন্ধন সত্ত্বেও দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করা যায় নি। তাই বোধ হয় পাইন মারতে প্লেন ছোটান হয় পুলাওয়ামা ঘটনার তেরো দিনের মাথায়। সেদিন তো দেশপ্রেমের হদ্দমুদ্দ। অফিসের প্যান্ট্রি তে, লাঞ্চের পর অফিসের বাইরে ছোট ছোট জটলায় মানুষ উদ্ভাসিত। একজন তো সেদিনের হীরো। তার নিজের এক বন্ধু গিয়েছিল সে বিমান হানায়। বোম মেরে ভোরবেলা ঘরে ফিরেই এই ছেলেটিকে ফোন করেছে। এই ছেলেটা তাকে তখন কী খিস্তি মারল তা অবধি পুরোটা উচ্চারণ করল। তখন সেই পাইলট বন্ধু বলে - টিভি খোল। তবে সে দেখল কী ঘটনা। তারপর সে বিমানহানার নিখুঁত বিবরণ, যেন সে পাশেই বসে, একটা পর একটা জঙ্গী দের বাড়ি গুঁড়িয়ে যাচ্ছে, জঙ্গীরা তাদের ঠিকুজি কুষ্ঠী লিখে বুকে সেঁটে পরলোকে যাচ্ছে, সে একেবারে বিরাট কেলো। হোয়াটস্যাপে কী সব ভিডিও আসছে এক একটা মিসাইল তো লোকের পিছু পিছু ধাওয়া করে দৌড় করিয়ে মারছে!

    একদম! এর একচুল বাড়িয়ে বলা নয়।

    যে দিন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বিমান হানা প্রতিহত করতে গিয়ে পাকিস্তানে ধরা পড়েন, সেদিন অফিসে যাই নি। অন্য কাজ ছিল। হোয়াটস্যাপে কিছুটা জেনেছিলাম ভারতীয় পাইলটের “নিখোঁজ” হওয়ার খবর। তার পরে তাকে মারধর বা রক্তাক্ত অভিনন্দন এর নানা ভিডিও র একটা দেখেছি কি দেখিনি ফোনের চার্জ শেষ। বাড়ি ফিরে দেখি “ডন” এর পোস্ট করা একটি ভিডিও যাতে অভিনন্দন চা খাচ্ছেন, তাকে করা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। যা তথ্য দিতে পারবেন না সেটাও পরিষ্কার বলছেন। ভালো লাগল, দেশের পাইলট সুস্থ আছেন জেনে। “ডন” পাকিস্তানের নামকরা সংবাদমাধ্যম। তা, সেই ভিডিও শেয়ার করি।

    অবব্যহিত পরেই অফিসের এক প্রাক্তন (দশ বছর আগে এক বছরের জন্য একসঙ্গে একই ডিপার্টমেন্টে একই প্রোজেক্ট এ কাজ করেছিলাম) সহকর্মী স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জানালেন “আর্মির জওয়ানদের নিয়ে এমন ভিডিও শেয়ার করা ঠিক নয়”। — “ কেন” প্রশ্ন করায় জবাব আসে “এটা ফেকও তো হতে পারে।” তাকে বলি “ডন” কোনও ভুঁইফোঁড় ফেসবুক পেজ নয়, দ্বিতীয়তঃ এই ভিডিওতে আমাদের উইং কমান্ডার কে খুব দৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী দেখাচ্ছে, আর সবচেয়ে বড় কথা দুই পড়শী দেশের সেনাবাহিনীর লোক একসঙ্গে চা খেতে খেতে কথা বলছে - এতে তো মানব সভ্যতা ও ইতিহাসের কোনও খারাপ দিক দেখায় না। দুই দেশ পরস্পরের শত্রু হ'লে তো এই ভিডিও শেয়ার করা উচিৎ আরও বেশি করে।

    সে বোঝে না। তাকে একটু উপদেশ দিই, বলি, তোমার যদি এই ভিডিও নিয়ে আপত্তি থাকে বা এটা ফেক মনে হয় তাহলে বরং তুমি “ডন” এর সম্পাদক মণ্ডলীর কাছে আপত্তি জানাতে পার বা অনুযোগ করতে পার। তারা এই ভিডিও পাবলিক করেছে। আমার কাছে এইটা “হিউম্যান ভ্যালুর” এর একটা দৃষ্টান্ত মনে হয়েছে। আমি শেয়ার করেছি।

    সে খুশি হয় না। বুঝি। বুঝি গত দশ বছরে একবারও সাড়াশব্দ না করা ফেসবুক “বন্ধু” কীসের তাড়নায় এসে আমার ফেসবুক পোস্টের নিচে লিখতেই থাকে, লিখতেই থাকে।

    পরের দিন ইমরান খান ঘোষণা করেন উইং কমান্ডার কে নিঃশর্তে ছেড়ে দেওয়া হবে। খবরটা পেয়ে খুব খুশি হই। একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার এখনও ক্রিকেটটাকে “জেন্টলম্যানস গেম” হিসেবে রাখতে চাইছেন মনে হল। মনে পড়ল পুলাওয়ামা কাণ্ডের পর ইমরান খানের প্রতিক্তিয়ার কথা যাতে স্পষ্ট বলেছেন “বুঝি, ভারতে নির্বাচন আসছে…”।

    পরের দিন ছাড়া পাবেন অভিনন্দন। অফিসে নিউজ চ্যানেলগুলো খোলে না। কাজের ফাঁকে বাইরের হাওয়া খেতে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ দেখি, ফেসবুকে দেখি যদি ছাড়া পাওয়ার খবর আসে। সন্ধে হয়ে যায়। বাড়ি ফিরে টিভি চালাই। সব টিভি চ্যানেল একযোগে পাকিস্তানের তুলোধনা করে, কোথাও দেখান হয় না, বলা হয় না যে পাকিস্তানেও লোকজন অভিনন্দনের মুক্তি চেয়ে পথে নেমেছেন। বড় বড় তাবড় রাজনীতিক, বিরাট সব সমর বিশারদ কেউ একবারও বলেন না কীভাবে পাকিস্তানের মতো এক কট্টর দেশের প্রধাণমন্ত্রী হয়ে তাদের মিলিটারিকে বুঝিয়ে এত দ্রুত ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দনের মুক্তি ঘোষণা করতে পারেন! বিশেষত যে দেশের গত বেশ কয়েকজন প্রধাণমন্ত্রী গদি থাকে নামার পরেই সোজা জেলখানা চলে যান বা রহস্যজনক ভাবে মারা পড়েন।

    এক সময়ে অভিনন্দন ছাড়া পান। ওয়াঘা বর্ডারে তাকে নিতে আসা দুই ভারতীয় সেনার একজন তার পাকিস্তানী কাউন্টারপার্টকে একটা আলগা স্যালুট ছুড়ে দেন। ভাল লাগে সেটা দেখতে, তবু সেটার উল্লেখ কাউকে করতে দেখি না।

    কিন্তু আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। “মেনি থ্যাঙ্কস ইমরান খান” লিখে পোস্ট করি ফেসবুকের দেওয়ালে। অমনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু হয়ে যায়। অফিসের একজন বলেন - “এটা কি নিজের পরাজয় স্বীকার করার জন্য?” তাকে বোঝাতে চাই বা বোঝাতে যাই যুদ্ধ-পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও যে এত তাড়াতাড়ি উইং কমাণ্ডার কে ছেড়ে দেওয়া হল তাতে ইমরান খান এর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দেখতে পাই, সেসব না বলে একটা থ্যাঙ্কস জানাতে দোষ কীসের - যখন আমাদের উইং কমান্ডার মোটামুটি সুস্থ ও সসম্মানে ফিরে এসেছেন। জবাব আসে — পাকিস্তান যে কত ভারতীয় মেরেছে! বলি - সেইজন্যই তো আরও বেশি থ্যাঙ্কস দেওয়া উচিৎ।

    ফিরে আসেন আগের বার চা -খাওয়ার ভিডিও তে কমেন্ট করা প্রাক্তন সহকর্মী, গত দশ বছরে দ্বিতীয়বার ঠিক তিনদিনের মাথায়।

    তিনি আরব এমারেটসে থাকেন কাজের সূত্রে, তার উল্লেখ করে জানান — “এতে ইমরান খানের কোনও কৃতিত্বই নেই, পাকিস্তানের ওপর আমেরিকা সমেত প্রতিটি আরব দেশের সাংঘাতিক চাপ ছিল, যা এখানকার খবরের কাগজগুলিতে সরাসরি না লিখলেও ‘'বিট্যুইন দ্য লাইন” জানিয়েছে। শুধু ভারতের মিডিয়াই নাকি ইমরান কে মাথায় তুলে নাচছে। তুমি দেখ, যে মুসলিম দেশগুলো পাকিস্তানের বন্ধু ছিল, তারা আজ ভারতের বন্ধু। পৃথিবীর একটা দেশও বলে নি ভারত কিছু ভুল করেছে বলে। ভারতের আগ্রাসনের নিন্দা কেউই করে নি, তারা শুধু ভারত পাকিস্তান - এই দুই দেশকেই সংযত হতে বলেছে। এই পরিস্থিতিতে যা খুবই স্বাভাবিক উপদেশ। ভারতের এটা সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক জয়। একজন ভারতবাসী হিসেবে এটা আমাদের বোঝা উচিৎ ও স্বীকার করা উচিৎ।”

    বলা যেত অনেক কিছুই। যেমন, কীভাবে খবরের কাগজের রিপোর্টে ঠিক বিপরীত অর্থ প্রকাশ পায়। জিজ্ঞেস করা যেত - কোন ভারতীয় মিডিয়া ইমরান খানের প্রশংসা করেছে - আমি তো খুঁজে পাই নি। তবু, তাঁকে সবিনয়ে জানাই যে আমাদের মিডিয়াপ্রসূত হাজার সাফাই সত্ত্বেও আমি যখন দেখি পাকিস্তান দিনের শেষে আমার আমার দেশের একজন উইং কমান্ডার সসম্মানে বাড়ি ফিরে এসেছেন, আমি খুশি হয় ও আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আমার কাছে আমার নিজের দেশকে ভালোবাসার অর্থ কিন্তু অন্য দেশকে ঘৃণা করা নয়। তুমি যেভাবে তোমার সাফাই তে সন্তুষ্ট আছ, আমার কাছে আমার যুক্তিটাই যথেষ্ট তাকে থ্যাঙ্কস জানানর জন্য।৷

     আরও একজন, একটু বিনয়ী, দেখা সাক্ষাৎ হ'লে দাদা বলে। বলল - “দয়া করে থ্যাঙ্কস দেবেন না দাদা”। তাকে বলি খেলার শেষেও দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে হাত মেলায় আর এ ক্ষেত্রে ওনার সিদ্ধান্তে আমাদের উইং কমান্ডার সসম্মানে ফিরে আসেন দেশে অবিশ্বস্য দ্রুততায়। এই ধন্যবাদ তার প্রাপ্য।

     ঘটনাচক্রে এও দেখি যিনি আগে বলেছিলেন “নিজের পরাজয় স্বীকার করার জন্য কি এই ধন্যবাদজ্ঞাপন?” আর যিনি এটা ভারতের অন্যতম সেরা “কূটনৈতিক সাফল্য” হিসেবে দেখেন তারা নিজেরা সহমত হ'ন যে আর যাই হোক “মেনি থ্যাঙ্কস ইমরান খান” লেখাটা নাকি আমার ঠিক হয় নি। এমনকি ওই লেখাটির উল্লেখ করে জানান, দেখ, কেমন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে জলের মতো যে ভারতের কত বড় জয় হল এতে। সারা বিশ্ব অবাক। একে একে অন্যান্য বিদেশি খবরের কাগজের লিঙ্ক তুলে দিই। কিছু অন্য বন্ধুরা খুঁজে দেন। তবে এরা আর কথা বলেন না।

    আর একজন (ইনি আবার বঙ্গসন্তান) প্রশ্ন তোলেন এই থ্যাঙ্কস কি অনেক ভারতীয় কে মারার জন্য? তাঁকে জিজ্ঞেস করি কাকে কবে মারলেন ইমরান খান? সে বলে - কেন আজকেও তো ডিফেন্স এর লোক মারা গেছে। এও জুড়ে দেয় ও তারা আবার ডিফেন্সের লোক, সাধারণ ভারতীয় তো নয়! তার সঙ্গে কথা চালাতে ভাল লাগে না। বলি তা আমাকে তো বলে লাভ নেই, বরং ৫৬” কে বলো, যদি কিছু করেন।

    অফিসে ফের আসি যাই। বাইরে হাওয়া খেতে বেরোনর সময়ে আরও একজন সামনাসামনি হয়ে “ক্যা চল রহা হ্যায়” বলে কথা থামিয়ে দেন না। একটু জিজ্ঞাসু চোখে প্রশ্ন রাখেন - আপনি নাকি আজকাল খুব ঝগড়া করছেন ফেসবুকে?

    বলি, ইমরান খান কে একটা ধন্যবাদ দেওয়া যাবে না - এটা কোন দেশী নিয়ম? সে শুরু করে, আপনি বুঝছেন না দাদা, জানেন….

    থামিয়ে দি। বলি একটা ধন্যবাদের এত সাফাই দরকার পড়ে না। আপনার যুক্তি আপনার কাছে রাখুন।

    টিভির নিউজ চ্যানেল দেখি না, সেদিন অভিনন্দন ফিরবে বলে চালিয়ে রেখেছিলাম। আমি এই মুহূর্তে এই দেশ কে বিশ্বের অন্যতম জন-সন্ত্রাসী দেশ বলতে দ্বিধাবোধ করি না। অফিস যাই, কাজ করি, বাইরে হাওয়া খেতে যাই মাঝে মাঝে, দরজা বন্ধ করে লাঞ্চ করার সময়ে স্ত্রী কে ফোন করি।

    প্রধাণমন্ত্রী যখন বলেন “দেশ বদলে গিয়েছে” - আমি জানি এই কথাটাই তাঁর বলা একমাত্র সত্যি কথা। কুড়ি বছর ভিনরাজ্যে বসবাস করার পরে এখন, গত কয়েক বছরে আমি বুঝি, কীভাবে ঘেন্নার দৃষ্টি আমাকে ছুঁয়ে যায়, আচমকা এক একটা দলের সামনে পৌঁছে গেলে প্যান্ট্রিতে কফি নেওয়ার সময়ে, তাদের কথা বার্তার তাল কেটে যায়। বিভেদ কীভাবে মানুষকে আলাদা ঘেটোয় আটকে রাখে দেখেছি। এই দেশ আমার অচেনা, টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগপৎ হানায় একটা বিরাট অংশ এখন একটা মব। শুধু বিপক্ষকে ঘৃণার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া তাদের বন্ধুত্ব এই রাজধানী সন্নিহিত অংশের এক বড় অংশকে কট্টর সন্ত্রাসী করে তুলেছে। তাদের নিজের কোনও আলাদা ভাবনা -চিন্তা নেই, যা টিভিতে দেখছে তাই বিশ্বাস করছে। যেন এক মারাত্মক নেশায় বুঁদ।


    এইভাবেই দেখি, ক'দিন চলে, কীভাবে চলে। অপেক্ষায় আছি।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • খবর | ৩০ মার্চ ২০১৯ | ৬৮৪১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • i | 452312.169.89.70 (*) | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ০৭:৪৮79178
  • রঞ্জনদাকে দেখে খুব‌ই খুশি হয়েছি।
  • S | 2390012.156.561223.1 (*) | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ০৮:৫০79179
  • রঞ্জনদা, দারুন খুশি হলাম আপনাকে দেখে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ নিয়ে আরো লিখুন।

    আমি ঐ স্ট্যান্ডাপ কমেডিই দেখি সারাদিন। বার বার। কুনাল কামরা দারুন। দারুন। ওর জন্য সত্যিই চিন্তা হয়। বরুন গ্রোভারও ভালো। সন্জয় রাজৌরা মানবসভ্যতার (মানব অসভ্যতা) ভীত ধরে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
  • Amit | 340123.0.34.2 (*) | ০৩ এপ্রিল ২০১৯ ১১:৪৬79180
  • রঞ্জনদা যেগুলো বললেন, সেগুলো আমরা দেখি রেগুলারলি, এই লোক গুলোর জন্য সত্যি ভয় হয়, কামরা বা বরুন কে কবে টার্গেট করবে কে জানে। আজকাল UP তে ইনভেস্টিগেটিং পুলিশ অফিসার কেই এনকাউন্টার করে উড়িয়ে দেওয়া হয়, সেখানে এদের সুরক্ষা আর কতদিন।

    কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি লোকজন এখনো ইউটিবে এ অতটা সড়গড় নন, এই আমার মা কেই যদি ধরি, উনি সারাদিন নিউস বা সিরিয়েল দেখেন টিভি তে। সন্ধেবেলা সবাই মিলে একসাথে টিভি দেখা একটা রিচুয়াল এখনো অনেক ঘরেই। এবার এনাদের কাছে যদি অন্য অপসন না থাকে, শুধু চাড্ডিদের চ্যানেল ই দেখতে হয় রাত দিন, তাহলে ধীরে ধীরে ব্রেন ওয়াশ হতে বাধ্য। এমনিতেই তথাকথিত শিক্ষিত বাঙালির যা কথা বার্তা বা হোয়াটস্যাপ পোস্ট দেখি আজকাল, ভয় লাগে।
  • রঞ্জন রায় | 238912.69.5612.97 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০২:০৭79188
  • ফরিদা, পাই , সিকি ও অন্যান্য বন্ধুদের বলছি।
    আমি এখন গুরুগ্রামে। বছরখানেক ধরে।
    আপনারা কি এ'মাসের বইমেলায় দিল্লি আসছেন?
    ওই তিনদিনের কোন একদিন আমি ঘন্টা দুইয়ের জন্যে যাব।
    সেখানে আড্ডা দেব, কোলকাতার কথাও শুনব। কফি খাব। সব লেখা যায় না , তাই।
    গুরুতে রিসার্চ স্কলার বেশ কিছু আসেন। আমি খালি ডিগ্রিধারিদের কথা বলছি না । মিঠুন, সিকি, শাক্য, ডাক্তার ও আরও অনেকে।
    কিছু কাজ করা যেতেই পারে।
    ২০১৯শে কে জিতল সেটাই শেষ নয় , হারলেও নয়।
    দরকার হারানো স্পেস আবার কেড়ে নেওয়া। বিদ্যাসাগর,
    বিবেকানন্দ , রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ভগত সিং ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য। ওরা মিথ্যে অর্ধসত্য বলে বোকা বানাচ্ছে, গুলিয়ে দিচ্ছে। কোলকাতায় ন্যাশনাল লাইব্রেরি আছে, আরও অনেক আছে।
    যেমন গুরুর পাতায় অশোক মুখোপাধ্যায় রাজেন্দ্রলাল মিত্র নঈয়ে লিখেছিলেন। কীভাবে প্রাচীন ভারতের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ওঁর অথেন্টিক রিসার্চএর উল্লেখ এন সি আর টি'র পাঠ্যবই থেকে এন ডি এ আমলে মুছে দেওয়া হয়েছে।
    আমরা বাঙালীরা ক'জন জানি যে ভগত সিং কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাস করতেন? ক'জন জানি যে উনি ওই বয়সেই নাস্তিক ছিলেন? ওঁর 'হোয়াই আই অ্যাম অ্যান অ্যাথেইস্ট' বলে বই আছে? ওরা তো ওঁকে গেরুয়া পাগড়ি পরিয়ে ছেড়েছে।
    হিন্দিতে কাজ শুরু হয়েছে, বাংলায় দরকার।
    সবার জন্যে একই কাজ করা সম্ভব নয়।
    তোমার হাতে নাই ভুবনের ভার!
    গুরু সংস্থা হিসেবে এই ধরণের কাজ করছে, এবং করতে পারে--তাই বলছি।
  • PT | 340123.110.234523.18 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৩:৩৭79183
  • মানুষকে প্রথমে মুরগি করা হয়। তারপরে তারা ক্রেমে ক্রেমে ছাগলে পরিণত হয়। ডারউইন সাহেব সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ঘটনার পর্যালোচনা করে এইজাতীয় সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছিলেন।

    কথা হচ্ছে যে এই মুরগিকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা জড়িত থাকে!! ২০০৬-২০১১ পর্যন্ত যারা এই প্রক্রিয়াতে মদত দিয়েছিল তারা কেউই বিশাল ক্ষমতাশালী মিডিয়ার মালিক ছিল না।

    মনে পরে কি অনশন মঞ্চে রাজনাথ-তথাগতর উপস্থিতি? যারা সেই সময়ে চুপ করে ছিল তারা এখন কি আর আয়নায় মুখ দেখে?
  • dc | 342323.228.9007812.26 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৩:৫০79184
  • আয়নার বিক্রি কি আগের থেকে বেড়েছে? তাহলে হয়তো দেখে।
  • PT | 340123.110.234523.5 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৪:১৩79185
  • সর্বনাশের শুরুটাই যারা দেখতে পায়নি, তারা আর আয়্নায় কি দেখবে!!
  • ফরিদা | 12.38.45.14 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৪:২১79186
  • রঞ্জন দা,
    ভরসা পেলাম আপনার কথায়।

    এটাও হয়, যখন একটা দিকের ভয় বাড়তে থাকে, শূন্যতা গ্রাস করে তখন অনেক নতুন জায়গা তৈরি হ'তে থাকে। নতুন সমমনস্ক বন্ধুদের পাওয়া যায়৷ প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেন না।

    আরও মনে হয়, যখন আপাত কোনও সঙ্কটকাল নেই, সে সময়ে মানুষ হয়ত চিন্তার জায়গা থেকে একটু অলস হয়ে যায়। বিপদ দেখলে আবার সক্রিয় হয় শুভচিন্তারা।

    এভাবেই হয়ত চলে।

    রঞ্জন দা, ছত্রিশগড়ের আঁখো দেখা হাল নিয়ে লেখার জন্য অনুরোধ আমিও রাখলাম।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৪:২৭79187
  • এবারের সবথেকে ইম্পর্ট্যান্ট স্টেটগুলোর মধ্যে ছত্তিশগড়ও আছে। এইসব রাজ্যে বিজেপি ২০১৪তে স্টেলার পারফর্মেন্স করেছিলো। সব/প্রায় সব সীট পেয়েছিলো। দেখা যাক এবারে কি হয়।

    পবের গুরুত্ব অন্য কারণে।
  • পিনাকী | 568912.224.7856.161 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ০৫:২৮79189
  • রঞ্জনদা কেমন আছো? অনেকদিন পর কথা হচ্ছে।

    ভগৎ সিং এর বইটার বাংলা আছে বোধহয়। ‘কেন আমি নাস্তিক’ খুব সম্ভবত। কোন প্রকাশনা মনে নেই।

    তবে ফান্ডামেন্টাল লেভেলে কাজ হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে তো কোনো দ্বিমতই নেই।
  • pi | 785612.51.5623.114 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ১২:০৪79181
  • রন্জনদা, আমি সর্বভারতীয় চ্যানেলের কথা বলছিলাম, যেগুলো কোটি কোটি লোক দেখেন।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ ১২:১৭79182
  • সেদিন একজন বললেন যে এদের অনেকের শোতে আইবি থেকে লোক এসে বসে থাকে।
  • রঞ্জন রায় | 232312.162.786712.232 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৬:১৪79190
  • ভালো আছি, পিনাকী।
    হ্যাঁ, সম্ভবতঃ আছে। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।
  • | 670112.220.4567.194 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৬:২০79191
  • হ্যাঁ বাংলা অনুবাদ আছে। কৃশানু, স্বাতীরা মনে হয় ওদের বই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে এই বইটা শেয়ারও করে। দেখেছি মনে হচ্ছে।

    আমি বহুবছর আগে পড়েছিলাম।
  • রঞ্জন রায় | 232312.162.786712.232 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৬:৩৮79192
  • ছত্তিশগড়ের কিছু খবরঃ
    গত বিধানসভা নির্বাচনে ৬২ সিটের ঢাক বাজিয়ে ওরা পেয়েছে ১৫ টি সিট; তার বিশ্লেষণ বলছে অজিত যোগী ও বহুজনের জোটের সৌজন্যে দশটি পাওয়া। অর্থাৎ ওয়ান টু ওয়ান হলে ৫টায় দাঁড়াত।
    এবার লোকসভায় অজিত যোগীর দল কোন প্রার্থী দিচ্ছে না । বলছে বসপা যে কটা দেবে তাকে সমর্থন করবে।
    অর্থাৎ প্রায় সবকটা সিটে ওয়ান টু ওয়ান ফাইট!
    এ দিকে বিজেপি নিজেদের ঝগড়ায় যা তা অবস্থা। প্রাক্তন বনমন্ত্রী নিজে গিয়ে কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দস্তাবেজ দিয়ে এনকোয়ারি করতে অনুরোধ করেছে। পিডীএস নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অমিত শাহ সব পুরনো এম পি ও বিধায়কদের নাম কেটে নতুনদের দিয়েছে।
    ক্ষমতায় আসার অল্পদিন পরেই কৃষি ঋণ মাপ করায় গ্রামে কংগ্রেসের বিশ্বসনীয়তা বেড়েছে।
    আমি গতমাসে বিলাসপুরে পিউসিএল এর সম্পাদক, সিপিএম ও আপ দলের এবং কংরেসী নেত্রী ও মেয়র আর অনেক ইয়ং ছেলেমেয়ের (সবমিলিয়ে জনা কুড়ি) সংগে এক অন্তরঙ্গ আলোচনায় বসেছিলাম । উপলক্ষ ছিল বইমেলায় আমার "দেকার্ত --জীবন ও দর্শন " ( অনুষ্টুপ প্রকাশন) নিয়ে কিছু বলা।
    ধুয়ো ছিল একটাই-- সবকিছুকেই প্রশ্ন করার স্বাধীনতা।
    দেকার্তের সময় ঈশ্বরবিরোধী ; এখন চার'শ বছর পরে রাষ্ট্রবিরোধী।
    দেখলাম ওরা খুব আশাবাদী। কংগ্রেস কে সমর্থন য় সমালোচনা দুটোই চালাচ্ছে।
    দুজন নামকরা সাংবাদিক, রুচির গর্গ এবং রাজকুমার সোনী, প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে চাকরি খুইয়েছিলেন। এখন সসম্মানে ফিরে এসেছেন।
    রুচির গর্গ এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন। আদর্শবাদী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। ওর বাবা আমাদের কলেজে ইংরেজি পড়িয়েছেন। পরে উনিও সাংবাদিকতার পেশা বেছে নেন।
    বস্তারের ওপর দুজনেরই ভাল কাজ আছে।
  • রঞ্জন রায় | 232312.162.786712.232 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৬:৪৫79194
  • কেয়াবাৎ পিটি!
    আগেও আপনার সৌজন্যে নীল ঘুর্ণি ও আরেকটি বই এভাবেই পড়েছিলাম। এখানকার সৌজন্যে হিন্দি ও ইংরেজি ডাউনলোড করেছি। কিন্তু বাংলায় পড়ার আনন্দই আলাদা।
  • PT | 340123.110.234523.23 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৮:১৫79195
  • RRঃ তোমাকে লিখতে দেখে ভাল লাগছে।
  • রঞ্জন রায় | 232312.162.9001212.104 (*) | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৮:৫৯79196
  • ঃ))))
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৩৯79199
  • ভাটে আকাশ ব্যানার্জীর লিন্ক দিয়েছি।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৪০79200
  • রন্জনদা আপনি রভীশ কুমার দেখেন নিস্চই।
  • রঞ্জন রায় | 238912.69.5667.86 (*) | ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৫79197
  • পাই,
    হিন্দিতে মেইনস্ট্রিম নিউজ চ্যানেল ' স্বরাজ এক্সপ্রেস' দেখ। বিশেষ করে কৃষি নিয়ে সন্ধ্যে ৬টায় উত্তর ভারতের ফিল্ড রিপোর্ট এবং রাত আটটা ও নটায় রোজগার, স্টার্ট আপ মুদ্রা নিয়ে সরকারি ডেটার ব্যবচ্ছেদ ও ইকনমিস্ট এবং বিজেপি মুখপাত্রদের এনে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা। কোন চিৎকার চেঁচামেচি নয়। বড় জার্নালিস্ট ভারতভূষণ , যিনি কলকাতার রণবীর সমাদ্দারের 'ক্যালকাটা রিসার্চ গ্রুপ'এর সঙ্গেও যুক্ত, এঁর রোজ রাত্রে বড় ইন্টারভিউয়ের সেশন। যেমন প্রাক্তন উপ রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি ও ডিএমকের কানিমোঝি ম্যাডাম।
  • রঞ্জন রায় | 238912.69.5667.86 (*) | ০৬ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৯79198
  • আর দিল্লির আকাশ ব্যানার্জির 'দেশভক্ত' চ্যানেল ইউটিউবে দেখুন। স্যটায়ারের সঙ্গে পার্টির ম্যানিফেস্টো ও ফেইল্ড প্রমিস নিয়ে কাঁটাছেড়া। ইনি আগে ্টাইমস নাঊ এ অ্যাংকর ছিলেন। দশমাস আগে চাকরি ছেড়ে বাড়ী বেচে এটি শুরু করএছেন। এস্টাব্লিশমেন্টকে কড়া প্রশ্ন করছেন ওদেরই ডেটা নিয়ে ।
  • আমাদের | 238912.73.563423.51 (*) | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৭:১১79201
  • সবারই কমবেশী এক অব্স্থা। অফিসে আত্মীয়-পরিজন মহলে, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি গ্রুপে, সর্ব্ত্র আমরা পরিত্যাজ্য, দেশদ্রোহী, সেকুলার ইত্যাদি। কিন্তু আমি দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছি, বিনা যুদ্ধে না ছাড়িব সূচগ্র্য মেদিনী।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৪৫79202
  • কিন্তু একটা বা একাধিক সেকুলার, সায়েন্টিফিক, লজিকাল পার্টি তো দরকার! যারা নির্বাচিত হয়ে এসে দেশব্যাপী সরকারী চাকরির শূন্যপদগুলো ভরাবেন, সরকারী স্কুলগুলো রিভাইভ করবেন, প্রাইভেট স্কুলগুলোকে কড়া ইনস্পেক্শনের আওতায় এনে হয় ব্যবসা করতে দেবেন (সব বিধি মানলে) নাহয় করতে দেবেন না। দেশব্যাপী কৃষকদের নানারকম সরকারী সাহায্য দেবেন, কাজ কীরকম হচ্ছে সেগুলো দেখাশোনার ব্যবস্থা করবেন। রিভার ক্লিনিং প্রোজেক্ট তৈরী করে সারাদেশের নদী পরিষ্কার করাবেন(প্রচুর লোকের চাকরিও হবে সাময়িকভাবে এই প্রোজেক্টে)। বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফান্ডিং বাড়াবেন যাতে নানাধরণের গবেষণা(তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক) ভালো হয়।
  • lcm | 900900.0.0189.158 (*) | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৪৮79234
  • পিটি-র দেওয়া জিনি ইন্ডেক্স-এর লিংক থেকে দেখা যাচ্ছে ১৯৫০-এর দশক থেকে ধরলে, মোটামুটি ৩০-৪০ রেঞ্জে ছিল। কমে আসছিল, একটা ট্রেন্ড ছিল, কিন্তু শেষের দিকে আবার উঠে এসেছে।
    অ্যাক্চুয়ালি, ১৯৯০ এর রিফর্মের পর থেকে অসাম্য মোটামুটিএক হারে বেড়ে গেছে, মানে ট্রেন্ড-টা ধরলে।
    যাইহোক যেটা প্রাথমিক প্রতিপাদ্য ছিল, যে দাদু-নাতি-হাতি দের সময় বাজে, আর অন্যদের সময় ভাল - তেমন কিস্যু বোঝা যাচ্ছে না।
  • lcm | 900900.0.0189.158 (*) | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৫৭79235
  • রঞ্জনদা,
    মার্কেট ইকনমি-তে প্রচুর কাজ তৈরি এবং আপেক্ষিক দারিদ্র-র সম্পর্ক ঠিক সরলরৈখিক নয়, বেশির ভাগ সময়ই নয়। ধরুন, দেশ জুড়ে প্রচুর কাজ তৈরি হল, কিন্তু সেগুলি সব নমিন্যাল পে, খুব কম মাইনের কাজ। তাহলে দেখা যাবে সবার কাজ আছে, বেকারত্ব কমে গেছে, কিন্তু আপেক্ষিক দারিদ্র্য কমে নি।
    জিনি ইন্ডেক্সে চিন-এর কার্ভটা খেয়াল করুন। বিগত কয়েক দশকে, প্রচুর চাকরি, কিন্তু অসাম্যও তালে তালে বৃদ্ধি।
    ইউএসএ-তেও এটা একটা প্রবলেম, আনএম্‌প্লয়মেন্ট লো, কিন্তু আপেক্ষিক মাইনে বাড়ে নি, এখন একটা চেষ্টা চলছে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানোর, কিন্তু হচ্ছে না তেমন।
  • sm | 2345.110.234512.194 (*) | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ ০২:১৪79236
  • তাহলে এলসিএম স্বীকার করলেন অসাম্য 90 এর দশক থেকে বেড়ে গেছে।গুড। কিন্তু,গত এই তিন দশকে সবচেয়ে বেশি রুল করেছে কে?ওই দাদু,ঠাকুমা,ফ্যামিলি। সুতরাং তাঁদের ওপর দায়টা বেশি বর্তায় বই কি!
    দুই, অসাম্য বাড়লে,দারিদ্র দূরীকরণ আপেক্ষিক ভাবে হয় না,এটা মানছেন কি?
    আপনার দেওয়া ইউ এস এর তথ্যের উদাহরণ দিয়ে বলি।
    আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,ইউ এস এর পর ক্যাপিটা ইনকাম 50000 হাজার ডলার মতন।তাহলে তিন জনের ফ্যামিলিতে গড় আয় 1 লক্ষ ডলার মতন।
    কিন্তু মজা দেখুন,ইউ এস এর প্রভার্টি লাইন আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী 21 হাজার ডলার!এতো আকাশ পাতাল তফাৎ কেন?অর্থাৎ অসাম্য প্রবল,সেই দেশে।
    আজ, ইউ এস জিডিপি দ্বিগুণ হলে, পার ক্যাপিটা 1 লাখ ডলার হয়ে যাবে।
    কিন্তু প্রভার্টি লাইন হয়তো 30 হাজার ডলার পার ফ্যামিলি দাঁড়াবে। এটাকে আক্ষরিক অর্থে দারিদ্র দূরীকরণ বলে না।বলে দারিদ্র তুলনামূলক ভাবে বাড়ছে।
    এই টুকুই।এটা বোঝা শিশি বোতল কিছু নয়।
  • sm | 2345.110.124512.165 (*) | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ ০২:৪৯79204
  • একমাত্র সিপিএম ক্ষমতায় এলে এই অধরা কাজ গুলো ধীরে ধীরে সমাপ্ত হয়ে যাবে।মার্ক্সবাদ সাক্ষী।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ ০২:৫৮79205
  • এইসব অ্যাজেন্ডাগুলো তো সবরকম মানুষের জন্যই। এসবের মধ্যে তো কৃষক শ্রমিক মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী পরিবেশপন্থী গবেষক ডাক্তার উকিল ছাত্র শিক্ষক ইত্যাদি প্রভৃতি সবরকম মানুষেরই স্বার্থ আছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন