• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • ঈদের মেনু

    আবু তোরাব মোল্লা
    বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১১ জুন ২০১৯ | ১৬ বার পঠিত
  • ছেলেবেলার ঈদে হৈচৈ ছিল আনন্দের মূল উৎস। আব্বা মাদ্রাসা শিক্ষক হলেও ঈদে দামী পোশাক আমাদের দিতেন না। ঈদে নতুন লুঙ্গি পাঞ্জাবী পেতাম, তাও বড়ই সাদামাটা।

    অন্য বন্ধুদের জিন্স দেখে মনে দুঃখ হয়। তখন পাঞ্জাবির এখনকার মতো নিত্য নতুন ডিজাইন ছিলনা। পোশাকের আনন্দ সেরকম না হলেও আমাদের আনন্দ ছিল মূলত বন্ধুদের সঙ্গে চাঁদ রাত থেকেই একসঙ্গে অনেক রাত পর্যন্ত হৈ হুল্লোড় আর বাজী পোড়ানো কেন্দ্রিক। এই ঈদেই আমরা স্বাধীন ভাবে অনেক রাত অবধি বাড়ির বাইরে কাটাতে পারতাম। বড়দের চোখ রাঙানি ছিলনা। পাসের গ্রামের সামসুল আলম সৌদি থাকতো। সে বড় সাইজের বাইনোকুলার এনে তা দিয়ে চাঁদ দেখার চেষ্টা করেছিল এক বছর। ঐ যন্ত্রটা একবার দেখার আনন্দ আজও অনুভব করি।

    এই সব টুকটাক আনন্দের সঙ্গে আর একটি বিষয়ের জন্য ঐ দিনের অপেক্ষা সারা বছর করতাম। ওপাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ঢিলা ও বাজি যুদ্ধ ।

    ঈদের দিন নামাজের পর কোলাকুলি করে মনে প্রচুর আনন্দ পেতাম। বড়দের কদমবুচি করে (পায়ে হাত দিয়ে হাতে চুমা, অনেকটা প্রণাম) নিজেকে শুদ্ধ মনে হত। তবে ঈদীর মত সচ্ছলতা আমাদের ছেলেবেলায় আসেনি। খাওয়া দাওয়া তখনও আমার তেমন আনন্দের উৎস ছিল না। এখনকার মত রকম রকমের পদ তখন ছিলনা। চালের আটার রুটি, সেমাই আর কষা মাংসই ঈদের পদ হিসেবে কমন ছিল। কখনো সখনো লাচ্ছাও হত।

    নিজে যত বড় হলাম ছোটোবেলার আনন্দও তত কমতে লাগলো। আস্তে আস্তে জায়গা করে নিল রকমারি পদ। আমাদের আব্বা-চাচাদের নিয়ে যৌথ ঈদের খাওয়া চলে আসছে আমাদের ছোটোবেলা থেকেই। বেশ কয়েক বছর বড় হাঁড়িতে আমরা ভাইয়েরা ঈদের আগের রাতে যৌথ রান্না করতে শুরু করেছি।

    গত বছর আমরা চারটি স্পেশাল পদ রেঁধেছিলাম। এই সুযোগে পরিবারের সদস্যদের সকলেই রান্না শেখার সুযোগ হয়ে যায়। আর খাওয়ার থেকে বানাবার মজাটাই আমাদের বেশি হয়। গতবারের চারটি পদ ছিল - দুধ ডিমের হালুয়া, কিমা কলিজা, ইষ্টু ও সীর কুরমা।

    এবার কিন্তু অল্প সময়ে যোগার ঠিকমত না করতে পারায় মাত্র দুটি পদ রেঁধেছি। মূলত আমি ও আমার চাচাতো ভাই বরকত ঈদের রান্নার দায়িত্ব নিই। বরকত পড়াশোনা বেশি করে উঠতে পারেনি। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ও অনেক বছর কাজ করেছে। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফ্রি রান্নার কাজ করে। আসলে রান্নার বিষয়ে ওর একটা আবেগ কাজ করে। আমি ওর সহকারী হিসেবে কেনাকাটা থেকে ঈদের রান্না যায় খাওয়া অবধি থাকি। বড় দালানে বিছানা পেতে বাড়ির সকলে একসাথে খাওয়া দাওয়া হয়। যত অন্য আনন্দ কমে আসছে আমরা তত খাওয়াকে আঁকড়ে ধরছি।

    যেহেতু "সীর কুরমা" একেবারে নতুন পদ, বানাবার পদ্ধতি দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি।



    #উপকরণ
    ১) দুধ ২কেজি
    ২) চিনি ২৫০গ্রাম (প্রয়োজনে কমবেশি করতে পারেন)
    ৩) চারুলী ৫০গ্রাম (এক বিশেষ বাদাম)
    ৪) পেস্তা ৫০গ্রাম
    ৫) কাজু ১০০ গ্রাম
    ৬) আলমন্ড ১০০ গ্রাম
    ৭) কিসমিস ৫০ গ্রাম
    ৮) খুরমা খেজুর ৫০গ্রাম
    ৯) কেসর ১/২ গ্রাম
    ১০) সেমাই ৫০ গ্রাম
    ১১) ঘি ৫০ গ্রাম
    ১২) এলাচ ৬-৭ পিস

    #পদ্ধতি

    প্রথমে কাজু ও আলমন্ড কুচি কুচি করে কেটে রাখুন।
    খুরমা কুচিয়ে রাখুন।
    কিসমিস জলে ভিজিয়ে রাখুন। একেবারে শেষে মেশাতে হবে। নাহলে দুধ কেটে যেতে পারে।
    সমস্ত উপকরণ আলাদা আলাদা রাখবেন।
    একটি হাঁড়িতে দুধ দিয়ে ফোটাতে দিন। কাঠের হাতা দিয়ে লাগাতার নাড়া দিতে থাকুন। এলাচ ফেলে দিন। দুধ ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে দিন যাতে দুধ উতলে না যায়। এবার ঐ দুধে কেশর দিয়ে দিন।
    দুধ যখন কমে ১কেজি ৬০০গ্রাম মত হয়ে যাবে ওতে চারুলী দিয়ে দিন। এরপর ১০০গ্রাম কমলে কাজু পেস্তা আলমন্ড দিয়ে দিন। আরও ১০০ গ্রাম কমলে চিনি দিয়ে দিন। এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে হাতা দিয়ে লাগাতার নাড়তে হবে। সর পড়া ও নিচে পুড়ে যাওয়া (ধরে যাওয়া) থেকে বাঁচতে। এবার কুচানো খুরমা দিয়ে দিন।
    দুধ যখন ১৩০০গ্রাম হয়ে যাবে একটি কড়াইয়ে ঘি দিয়ে সেমাই কুচি করে ভেজে দুধে ঢেলে দিন।
    লাগাতার নাড়াতে থাকুন।
    এবার কিসমিস দিয়ে দিন।

    কিছুটা কমলে নামিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে কেসের সামান্য রেখে নামাবার সময় দিতে পারেন। ভালো ফ্লেবার পাবেন। স্বাভাবিক ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন । পরিবেশনের সময় কাজু পেস্তা পেষ্ট ছড়িয়ে দিতে পারেন। অনেকে ফ্রিজের ঠান্ডা "সীর কুরমা " পছন্দ করেন। বানিয়ে খেয়ে ভালো লাগলে জানান!

  • বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১১ জুন ২০১৯ | ১৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত