এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৬ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং , অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 57.29.229.61 (*) | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২২60223
  • এই যে, এই ওয়ার্কপ্লেস হ্যারাসমেন্টগুলো উচ্চমধ্যবিত্ত মেয়েদের সমানভাবে হয় ? আর কোন সার্ভে হলে এগুলোর রিপোর্ট আই টি তে কাজ করা মেয়েদের চেয়ে বেশি বেরোবে মনে হয় ? এঁদের মধ্য কটা সার্ভে হয়েছে ?

    অক্সফ্যামে হয়েছিল, উপরে তার ফলাফল দিয়েছি।

    -----------------

    "ও দিদিমা তোমার নাতি রোজ রাত্তিরে এ ঘরে এসে জ্বালায় -আজ থেকে আমি দরজা বন্ধ করে ঘুমাব।
    চুপ র বেআদব ।
    গরু ছাগলের মত বেচাকেনা ঠিক বলবনা আমার মতামতের তোয়াক্কা না করে হাত বদল হতে হতে আমি তখন এক মারোয়াড়ী পরিবারে বুড়ো বুড়ির দেখভালের জন্য খাওয়া পড়ার লোক । জয়েন্ট ফ্যামিলি ,বড় বাড়ি , টিকিয়া পাড়ার জয়সোয়াল পরিবারের মত খাওয়া পড়ার কষ্ট নেই । সবাই ব্যস্ত ,বুড়ো বুড়ি এক কোনায় থাকে আর আমি তাদের খাবার দেওয়া ,ওষুধ দেওয়া ,পা টিপে দেওয়া ,ফাইফরমাশ খাটা ,বিছানা পাতা ইত্যাদি করে থাকি -খাটে বুড়ো আর বুড়ি আমি মেঝেতে । রাত্তিরে যদি কাউকে ডাকতে হয় , বুড়োর যদি হাঁপানির টান বেড়ে যায় ,বাড়ির লোক কে খবর দিতে হবে -আমি তো দরজার ছিটকানি হাত পাইনা তাই দরজা খোলা রাখার নিয়ম ,আর এই নিয়মের ফাঁকে ঢুকে পড়ে লোভী ,ভীতু ,শুয়োরের বাচ্চারা ।
    রাজাবাজার না পার্কসার্কাসের সেই অদ্ভুত বাড়ি থেকে ফিরে আত্মাদের ভর থেকে বেরোতে আমার প্রায় তিনমাস সময় লেগেছিল । তবে এই তিনমাস তো আর বিছানায় শুয়ে থাকতাম না,চরম অভাবের সংসারে রোজগেরে মেয়ের সেই সুযোগ থাকেনা । খাল বিলের ধার থেকে নলখাগড়ার ডাল ভেঙ্গে শুকিয়ে নিতাম -সারা বছরের জ্বালানী ,আর রোজ গজগজ করতাম । কাদা মাখতে আমার জন্মের অরুচি । মাঠ থেকে গোবর কুড়িয়ে কাঠিতে লাগিয়ে লম্বা লম্বা লাঠি বানাতাম -আমার মা তা দিয়ে খুদ জোগাড় করে এনে আমাদের খাওয়াত । বাবা তো ভিনদেশে প্রোজেক্টের কাজ নিয়ে -বিঘার পর বিঘা ধান কাটতে গেছে । অভাব কাকে বলে সেই বিষয়ে আমার পাঠক বন্ধুদের কারো কারো ধারণা থাকতে পারে কিন্তু চরম অভাবেও আমার মাকে যেভাবে মাথা উঁচু করে হাসি মুখে আমাদের মানুষ করতে দেখেছি সেই শক্তির কিছুটাও যেন ভগবান আমাকে দেন । দেশে আমাদের তখন চরম অভাব , একজনের খাবার তিন ভাই বোন ভাগ করে একবেলা খাওয়া ,আমি আস্তে আস্তে অজানা ভয় থেকে বেরিয়ে আসছি। আবার কাজের খোঁজে এলাম কোলকাতা । এইবার এসে উঠলাম মানিকতলায় এক মারোয়াড়ী পরিবারে । বিরাট বাড়ি ,আমরা দুজন সবসময়ের কাজের লোক । টিকিয়াপাড়ার মত রান্নাঘরের মেঝেতে নয় ছাদের ওপর আমাদের থাকবার আলাদা ঘর ,বাথরুম । মাসে মাইনে ১৫০টাকা । কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হল গোরু ছাগলের মত হাতবদল । মালিকের এক বন্ধুর বাড়ির কাজের লোক দেশে গিয়ে আর ফিরছেনা ।
    'আলপনা কালসে তুম হামার এক দোস্ত কা ঘর মে কাম পে লাগ যাও ‘।
    সেই দোস্তের বাড়িতে আমি একদিন ভুল করে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম । কাজ থেকে এসে মালিক আমাকে সোফায় ঘুমাতে দেখে কাঁচা ঘুম থেকে তুলে ফাঁকা ছাদে আটকে রেখেছিল সারা রাত । আমি কিন্তু ভয় পাইনি ,কিছুক্ষণ ছাদ থেকে কলকাতার উঁচু উঁচু বাড়ি ,রাস্তার গাড়ি দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম । বৃষ্টি না হলে ছাদ মন্দ কি ? সোফার থেকে অনেক ভালো ।
    সেই বাড়িতে মাস দুয়েক কাজ করবার পড়ে আবার এক বাড়িতে হাতবদল । এইভাবে ছয়মাসের মধ্যে চার বাড়ি বদল করে এসে উঠলাম বুড়ো বুড়ির বাড়ি ।
    আমি তখন মাত্র ১০বছর কয়েকমাসের মেয়ে । গ্রামে তো সবার মতই আদুল গায়েই ঘুরে বেড়াতাম । শহরে কেবল ফ্রক বা টেপ জামা । শরীরের নিয়ে কোন বোধই তৈরি হয়নি । হঠাৎ একদিন ঘুমের মধ্যে মনে হল শরীরে কার যেন হাত । ভয়ে গুটিয়ে গেলাম -ভেজানো দরজা খুলে কে যেন চলে গেল। খালি পায়ে কুকুরের গু মাড়িয়ে দিলে যেমন একটা ঘিনঘিনে মনে হয় ,হাজার বার টিউকলের তলায় পা ধুলেও যেমন সেই মনে হওয়া লেগে থাকে অনেকক্ষণ আমার কেন জানিনা সেই ঘিনঘিনে ভাব হতে থাকলো । ঘুমই এলোনা সারা রাত্তির । ওদিকে।।।
    বকিত ঃ
    http://www.guruchandali.com/default/2017/03/10/1489166828710.html
    চণ্ডালিনী বৃত্তান্ত ঃ- পর্ব ৫
    আলপনা মন্ডল
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৪৮60224
  • সৈকতের মূল লেখাটা ভাল লেগেছে।

    পাই-এর শেষ পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে মেয়েরা যত ভালনারেবল , সেখানে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট তত বেশি হবে, এটাই মনে হয়। তাই আন অর্গানাইজড সেক্টরে, দরিদ্র মেয়েদের ক্ষেত্রে অত্যাচার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা।
    ক্লাস অ্যাঙ্গেল অব্শ্যই আছে, এইদিক থেকে।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২৯60225
  • অরণ্যদা কি জেন্ডার প্রশ্নে ক্লাসকে কনফাউন্ডিং ভেরিয়েবল হিসেবে ট্রিট করছেন? :p
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪১60226
  • কনফাউন্ডিং ভেরিয়েবল খায় না মাথায় দেয়, তাই জানি না, হামি মুখ্যু আছে :-(

    আন অর্গানাইজড সেক্টরে লোয়ার ক্লাসের গরীব মানুষজন অনেক বেশি সংখ্যায় থাকবে। আন অর্গানাইজড সেক্টরে মেয়েদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট বেশি, কমপেয়ারড টু অর্গানাইজড সেক্টর। সুতরাং লোয়ার ক্লাস ওয়ার্কিং উইমেনরা বেশি হ্যারাসমেন্টের শিকার, কমপেয়ারড টু আপার ক্লাস ওয়ার্কিং উইমেন - এইরম তত্ব দেওয়ার চেষ্টায় আছি।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৮60227
  • হ্যাঁ, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট সব ক্লাসেই আছে। তাই ক্লাস এখানে আসল কনট্রিবিউটিং ফ্যাক্টর না, আসল ফ্যাক্টর হয়তো সমাজ ব্যবস্থা বা মানসিক গঠন, যেটা না পাল্টালে, শুধু ক্লাস ডিফারেন্সকে কমানোর চেষ্টা করলে এই সমস্যার সমাধান হবেনা। এরকম তত্ব আরকি।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫৬60228
  • উল্টোদিকে ক্লাস কোন ফ্যাক্টর না বললেও ঠিক ততটাই সমস্যা। কারণ সব ক্লাসে 'সমানভাবে' নেই। একটা প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টর বাদ দিয়ে দিলে সমস্যার বইকি। সেটাকে রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে রাখতে বলা তো কনফাউণ্ডিং ফ্যাক্টর হচ্ছে বলার সাথে এক না।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০১60229
  • তাহলে আমার আগের লেখাটা আরেকবার পোস্ট করি (রৌহিনের পোস্টের প্রসঙ্গে যেটা লিখেছিলাম)ঃ "আমি এর সাথে একমত নই। আমার মনে হয় ক্লাস কোনভাবেই জেন্ডার এর সুপারসেট নয়, এরা দুটো আলাদা সেট যাদের কিছু কিছু ইন্টারসেকশান পয়েন্ট আছে। ক্লাসকে প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্ট হিসেবে দেখিয়ে জেন্ডার সমস্যার সমাধান সম্ভব না।"

    "ক্লাস কোন ফ্যাক্টর না" এটা কিন্তু বলিনি। বলেছি ক্লাস আর জেন্ডার এর কিছু কিছু ইন্টারসেকশান আছে। কিন্তু ক্লাসকে প্রিন্সিপাল ডায়লেক্ট হিসেবে ট্রিট করলে জেন্ডার সমস্যার সমাধান করা যাবেনা।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৩60230
  • যে পোস্টের প্রেক্ষিতে এটা লিখেছিলামঃ "এরা সকলেই একটা প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্টে বিলং করে - সেটা ক্লাস ডায়ালেক্ট"

    এর সাথে একমত নই। জেন্ডার কোন প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্টের আন্ডারে না, এটা বলতে চেয়েছি।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৬60231
  • জেন্ডার সমস্যার প্রকৃত সমাধান কোনদিনই হবে কি? একটা থিয়োরি আছে না -বায়োলজিকালি ছেলেরা সারাক্ষণই যৌনতার সন্ধানে -এইরম কিছু?

    সেটা সত্য হলে তো মেয়েরা বরাবরই একটা রিস্কি অবস্থানে থাকছে।

    আইন-কানুন, উন্নত সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা - এসব দিয়ে যতটা চেষ্টা করা যায়
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১১60232
  • শিক্ষা আর অ্যাওয়ারনেস, তার সাথে নানান সাপোর্ট গ্রুপ, লিগাল সিস্টেমের উন্নতি, এই সবকিছুই চালিয়ে যেতে হবে। এই যে আস্তে আস্তে সমাজের নানান স্তরে, বিভিন্ন দেশে অ্যাওয়ারনেস বাড়ছে, এরও দরকার আছে। অ্যাওয়ারনেস বাড়লে রেসিসট্যান্সও বাড়বে।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৫৭60233
  • বেশ তো, গুগল বিষয়ক মন্তব্যটা প্রত্যাহার করলাম। ওটা এমনিতেও আমার বক্তব্যের অংশ না। তবে ওই আর কী, হতাশ তো লাগেই। এই জন্য যে, এত এত এত কিছু চিৎকার হৈচৈ, হাতের কাছে নেট, দুনিয়া জুড়ে লোকে একবার বেসিকগুলো পড়ে নেবার চেষ্টা করেনা। কিংবা কি জানি, পড়ে হয়তো, কিন্তু কারেক্টনেসের বড়ো চাপ। সবকথা কি আর পড়লেই বলা যায়? একটা কারেক্ট জুতো বানিয়ে ফেলা হয়েছে, এবার পা টাকে তো ঢোকাতেই হবে।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:০৭60234
  • আর এই শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে রেসিস্ট্যান্স, স্লোগানটা ভালো লাগল। মার্ক্সসিজমের অফিশিয়াল পাঠে এই ধরণের সরলরৈখিক চিন্তাভাবনা চালু ছিল। এবার জেন্ডার, কাস্ট আর রেসের হাত ধরে সেই সরলমতি বিশ্বাস আবার ফেরত আসছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর কী। :-)
  • sm | 52.110.207.35 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:৩৮60235
  • সব্বাই পড়েনি এমন তো নয়। যারা একাডেমিক লোক তাঁরা নিশ্চয় পড়েছে। ইলেকশন ক্যাম্পেন এর সময় হিলারির বিপক্ষ লোকজন নিশ্চয় পড়েছে।সেখানে নিশ্চয় অনেক বড়ি সে বড়ি পন্ডিত লোকজন আছেন।এখন এই জেন্ডার পে গ্যাপ বা একশো ভার্সেস ৭০ এর ত্রুটি গুলো বেশি রকম হাইলাইট করা হয়নি কেন?কারণ এতো সেনসিটিভ ইস্যু যে লোকজন সরাসরি ত্রুটি ধরিয়ে দিতে চায় না।
    ঠিক যেমন ভারতে সংরক্ষণ ইস্যু নিয়ে সরাসরি কোনো দল
    বিরুদ্ধাচরণ করেন বা করতে ভয় পায়।
    পার্লামেন্ট এ নারী সদস্য সংরক্ষণ নিয়েও কংগ্রেস বা বিজেপি সরাসরি কিছু বলেনি।বলেছে সমাজবাদী দলের মতন কিছু ছোট দল।
    তাঁদের মতে এই সংরক্ষণ চালু হলে ইন্দিরা বা সোনিয়া র মতন বিত্ত ও উঁচু শ্রেণীর লোকজন ই সুবিধা পাবে।
    নারীবাদীরা খুশি নাও হতে পারে।কিন্তু পিছিয়ে পড়া শ্রেণী খুশি হবে বৈকি।
  • পাই | 24.139.221.129 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:০১60236
  • ওয়েক গ্যাপ নিয়ে 18 November 2017 01:35:59 I র পোস্টটা পড়ছিলাম। এটা নিয়ে কী মত বাকিদের ?

    তবে, এই যে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানো নিয়ে প্রায় সেভাবে কোথাওই কোন দাবিদাওয়া উঠতে দেখিনা, সেটা সত্যিই হতাশাজনক।

    এর মানে এও নয় যে কাস্ট বা জেন্ডারের জন্য আলাদা করে সমস্যা নেই, অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই সমস্যাগুলো যেখানে , সেখানে অনেক বেশি ফোকাস পড়ে কাজের কাজ হত বলে মনে হয়, যেখানে সমস্যা সেভাবে নেই, বা যা আছে তাকেও অন্যভানে প্রোজেক্ট করায়। আসল সমস্যা আরো লঘু হয়ে যায় বলে মনে হয়।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২২60237
  • জেন্ডার ওয়েজ গ্যাপ নিয়ে আমারও দুকথা বলার আছে, কারন ইয়ে, আমিও এনিয়ে সামান্য কিছু পড়েছি ঃ) তবে কিছু বলতে গেলে দুশোটা কথা না বলে থামতে পারবো না, এই ভয়ে আর এগোচ্ছি না।

    যদিও আমি কিনেসিয়ান ক্যাপিটালিস্ট, তাও আমি মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানোর পক্ষপাতী, বিশেষ করে মহামতি ক্রুগম্যান যেখানে ডেটা দিয়ে সাপোর্ট করেছেন সেখানে আর না বলার উপায় কি। কিছু ক্যাভিয়েট আছে অবশ্য।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২৩60238
  • পাই, ওবামার সময়ে কিন্তু ডেমরা মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানোর কথা প্রায়শই বলতো। আগেও লিখেছি, ওবামা ফেডারাল গভঃএর কর্মচারী/কন্ট্রাকটারদের জন্য মিনিমাম ওয়েজ বাড়িয়েছিলেন। কিছু রাজ্যেও (মুলত ডেমদের) মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানো হয়েছিলো। এক্জ্যাক্টলি মনে পড়ছেনা কোথায়; কিন্তু গুগল সার্চ করে লিন্ক দিতেও আবার ভয় লাগে।

    বার্ণী এবং হিলারী দুজনেই মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানোর কথা বলেছিলেন তাদের ক্যাম্পেইনে। কিন্তু সেইসময়ে রিপাব্লিকানদের পাল্টা যুক্তি ছিলো যে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ালে এমপ্লয়মেন্ট কমবে।

    এখন তো একেবারেই অন্য দুনিয়ায় বাস করছি। ঐসব কথা তাই আর ওঠেওনা। জিওপির ট্যাক্স পলিসি, বাজেট পলিসি, হেল্থকেয়ার পলিসির যা অবস্থা।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২৫60239
  • "কিন্তু সেইসময়ে রিপাব্লিকানদের পাল্টা যুক্তি ছিলো যে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ালে এমপ্লয়মেন্ট কমবে" - এটা আসলে কিনেসিয়ান অবস্থান।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪৫60240
  • ডিসি, ক্লাসিকাল ম্যাক্রো-ইকনমিক মডেলে ওয়েজ রেট আর এম্প্লয়মেন্ট লেভেলের ইনভার্স রিলেশনশিপের কথাই বলা হয়েছে।



    ওয়েজ যদি w* থেকে বাড়ে তাহলে লেবার সাপ্লাই বাড়বে। নতুন w এর থেকে হরাইজন্টাল একটা লাইন টানুন সাপ্লাই কার্ভ অবধি। এইবারে ঐ লাইনটা যেখানে সাপ্লাই কার্ভকে ইন্টারসেক্ট করছে সেটা হবে নতুন সাপ্লাই যা কিনা আগের সাপ্লাইয়ের (Q*) থেকে বেশি। আর ঐ হরাইজন্টাল লাইনটা যেখানে ডিমান্ড কার্ভকে ইন্টারসেক্ট করছে সেটা হবে নতুন ডিমান্ড যা কিনা আগের ডিমান্ডের থেকে কম। এইটাই এক্সপ্লনেশন।
  • dc | 132.174.121.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:০২60242
  • হুঁ, কিন্তু মহামতি ক্রুগম্যান বলছেন মানুষ তো আর গম নয়, তাই এরকম ডিম্যান্ড সাপ্লাই রিলেশান মানুষের ক্ষেত্রে খাটে না।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:০২60241
  • এইবারে যা বলবো, সেটা শুনলে ইকনমিস্টরা আমাকে মুখ্যু ঘোষনা করে দেবে।

    মাথায় রাখবেন যে এটা মডেল, ফর্মুলা নয়। আমরা ইন্জিনিয়ার আর সায়েন্সের লোকেরা মাঝে মধ্যেই এই দুটো জিনিস গুলিয়ে ফেলি। এই মডেলে ধরে নেওয়া হয়েছে যে অন্য কোনো কিছুই চেন্জ হবেনা।

    কিন্তু ওয়েজ রেট বাড়ালে তো যারা কাজ করবে তাদের আয় বাড়বে, ফলে তারা বেশি খরচ করবে, ফলে বেশ কিছু লোকেদের চাকরী হবে, ফলে তারাও খরচ করবে, ফলে আরো লোকের চাকরী হবে ইত্যাদি।

    অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ফিসকাল ইম্পেটাস, ফিসকাল স্টিমুলাস দেওয়া হয় যেগুলো কর্পোরেটদের পেটে যায়। অথচ ওয়েজ রেট বাড়ানো যাবেনা।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৪১60243
  • মুখ্যু ভাবার কিছু নেই। এটা স্ট্যান্ডার্ড ডিম্যান্ড সাপ্লাই কার্ভ। লেবার মার্কেটেও প্রযোজ্য। আর আপনি যে অথনীতির মডেলটার কথা বলছেন, এটাকে ডিম্যান্ড সাইড ইশকুল বলে। এর মোদ্দা কথাটা হল কোনো ভাবে রাষ্ত্রীয় উদ্যোগে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ালে সেটা গোটা অর্থনীতিতেই রক্তসঞ্চার করবে। এবার ডিমান্ড বাড়ানোর নানা পদ্ধতি হল একটা পদ্ধতি হল মজুরি বাড়ানো। আরেকটা হল সোশাল সিকিউরিটি দেওয়া (যাতে লোকে নির্ভয়ে খরচা করে, সেক্ষেত্রে অবশ্য সঞ্চয় কমবে)। এমনকি ভারতবর্ষে বামপন্থীরা যে ভূমিসংস্কারের কথা বলেন, সেটাও এই একই চিন্তা প্রসূত। ভূমিহীন বা গরীব কৃষকের হাতে পয়সা বাড়লে, তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, ইত্যাদি।

    উল্টোদিকে সম্পূর্ণ একটা উল্টো ঘরানা আছে। সেটা সাপ্লাই সাইড। সেখানে উৎপাদনের দিকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উত্সাহ দেবার কথা বলা হয়। ব্যবসার ট্যাক্স ছাড়, শুল্ক কমানো, এইসব হল উৎসাহের উদাহরণ। বলা হয়, এগুলো করলে, অপনার ওই ডিম্যান্ড কার্ভটার কেন্দ্রাতিগ একটা সরণ ঘটবে। ফলে ইকুইলিব্রিয়াম বদলে বেশি মজুরির দিকে যাবে। সোজা কথায়, ট্যাক্সে ছাড় দিলে বেশি বিনিয়োগ হবে, বেশি ব্যবসা হবে, শ্রমের চাহিদা বাড়বে এবং মজুরি বৃদ্ধি পাবে।

    বাঁ দিকের লোকেরা সাধারণত ডিমান্ড সাইডার। ডান দিকের লোকেরা সাপ্লাই সাইডার। মাঝামাঝি লোকজনই যদিও বেশি। যেমন ভারতে কংগ্রেস, আমেরিকায় ডেমোক্র্যাট, ব্রিটেনের লেবার, সবাই একটু ডান দিক ঘেঁষা মাঝামাঝি অবস্থানে আছে।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:০২60244
  • হুম। সাপ্লাই সাইড ইকনমিক্স হলো ক্লাসিকাল ইকনমির থিয়োরি। যাতে সাপ্লাই কার্ভটা বাঁদিকে সরবে, এম্প্লয়মেন্ট কমবে। আর ডিমান্ড সাইড হলো কেইনিসিয়ান ইকনমিক্সের মডেল, যাতে ডিমান্ড কার্ভ ডানদিকে সরে এম্প্লয়মেন্ট বাড়াবে।

    বিগত আধ শতাব্দি ধরে দেখা গেছে ট্যাক্স কমিয়ে অ্যাসেট প্রাইস বাড়া ছাড়া কোনো লাভ হয়নি, কিন্তু মিনিমাম ওয়েজ বাড়ালে ইকনমি এক্স্প্যান্ড করেছে।

    কিন্তু তা তো হবেনা। আম্রিগার নতুন ট্যস্ক বিলটা দেখেছেন? ইস্কুল মাস্টার পড়ানোর জন্য স্টেশনারি কিনলে আগে ট্যাক্স ব্রেক পেতেন, আর পাবেন না। অথচ প্রাইভেট জেটের মালিকাদের ট্যাক্স ব্রেক দেওয়া হচ্ছে (শুনছি সেও নাকি কোন ডেম সেনেটারই আগে প্রোপোজ করেছিলেন)।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:১৫60245
  • উল্টো বললেন। আপনার এই গ্রাফটা লেবার মার্কেটের গ্রাফ। ফলে সাপ্লাই ডিম্যান্ডটা উল্টো।
  • modi | 195.104.120.2 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:১৬60246
  • S, ক্লাসিকাল ইকনমিকসে লেবারের যে ডিম্যান্ড আর সাপ্লাই কার্ভ আঁকলেন সেটা সেটেরিস প্যারিবাস ধরে নিয়ে। অর্থাৎ, মজুরী বাড়লে আর কিছুই বদলাবে না সেটা ধরে নিয়ে।

    কিন্তু, মজুর তো শুধু শ্রমের সরবরাহকারী নয়। তারা উপভোক্তাও বটে। মিনিমাম ওয়েজ বাড়লে যাদের মাইনে বাড়ে তাদের সঞ্চয়ের চেয়ে ব্যায়ের প্রবণতা বেশী। সেটা হলে বাজারে ব্যায় বাড়বে, ভেলোসিটি অফ মানি বাড়বে। তাতে জিডিপি বাড়বে (মুদ্রস্ফীতি কম থাকবে ধরে নিয়ে)। তার জন্য উৎপাদন বাড়তে হবে। সেটা ঘটার জন্য শ্রমের চাহিদা বাড়বে।

    অর্থাৎ, মিনিমাম ওয়েজ বাড়লেই বেকারী বাড়বে, এরকম একটা সরল ধারণা ক্লাসিকাল অর্থনীতি সমর্থন করে না।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৩60247
  • ঈশনদা, মনে হয় ঠিকই বলছি। চিরকালই সব সাপ্লাই কার্ভ প্রাইসের সাথে সাথে বাড়ে আর ডিমান্ড কার্ভ কমে, সব কিছুর জন্যই। প্রোডাকশান হোক বা লেবার।

    মোদিজী, আপনার প্রথম দুটো প্যারায় আপনি আমার কথাই আবার লিখেছেন। কোনও দ্বন্দ নেই।

    কিন্তু ক্লাসিকাল অর্থনীতি "মিনিমাম ওয়েজ বাড়লেই বেকারী বাড়বে" এটাকে সমর্থন করে বলেই জানি। অন্তত ছোটোবেলা থেকে তো তাই পড়লাম। কোনও সোর্স দিতে পারলে ভালো হয়।
  • dc | 132.164.124.147 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৬60248
  • S, সাপ্লাই সইড ইকনমিক্স কিন্তু ঠিক ক্লাসিকাল থিওরি বলা যায়না। এটা রেগান আর বুশ জমানায় অ্যাপ্লাই করা হয়েছিল, কিন্তু তারপর অনেক ডিবেট হয়েছিল আর অনেক ইকনমিস্ট বলেছিলেন যে ট্যাক্স কাটের ফলে ইকনমির তেমন কোন এক্সপ্যান্সন হবেনা। এ নিয়ে দুয়েকটা টেক্স্টবইও আছে। বরং কিনেসিয়ান ফিসকাল পলিসি, বা সরকারি খরচার পলিসি আরো আগের জমানার, সেই অর্থে ক্লাসিকাল থিওর বলা যেতে পারে।
  • dc | 132.164.124.147 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৮60249
  • তবে কিনেসিয়ান থিওরিতে বলে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ালে বেকারি বাড়বে।
  • dc | 132.164.124.147 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৮60250
  • ওহ S আগেই লিখেছেন।
  • modi | 99.31.57.5 (*) | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৯60251
  • আমার লেখায় একটু গন্ডগোল হয়েছে। আমি বলতে চাইছিলাম আপনার পরের পোস্টে আপনি যেটা বলেছেন সেটাকে ক্লাসিকাল ইকনমিকসে মডেল করা যায়। এটা বলতে চাইনি যে আপনি ভুল বলেছেন।

    আমার আগের পোস্টে আমি যে মডেল বলেছি (মিনিমাম ওয়েজ বাড়ল - ব্যায় বাড়ল - ভোগ্যদ্রব্যের চাহিদা বাড়ল - উৎপাদন বাড়াতে হবে তাই শ্রমের চাহিদা বাড়ল) সেটায় ক্লাসিকাল অর্থনীতির বাইরে কিছু কিন্তু ব্যবহার করা হয় নি। অবশ্যই আমি ইলাস্টিসিটি ও অন্যান্য প্যারামিটার মডেল করিনি, সেটা এখানে সম্ভবও নয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন