এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৫১ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং , অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৫১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৩৫60132
  • আমার কোন পোস্টের ধরণে খুব মজা পেলেন জানালে ভালো হয়। এই টইতে কাউকে ব্যাঙ্গ করেছি বলে মন পড়েনা।

    একটা লিন্ক দিয়েছিলাম এইখানেইঃ
    https://www.aauw.org/research/the-simple-truth-about-the-gender-pay-gap/

    এইদুটো ফিগার থেকে ক্লাস ভিত্তিক ইনকাম গ্যাপের একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে।



    <
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৩৭60134
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৩৭60133
  • ধুর।

  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৫৩60135
  • @পাই, বিগত কয়েকদিনে যাসব খবর বেড়োলো তাতে মনে হয় এজিনিস ইউবিকেউটাস। ক্লাস ভেদে পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তাতে ঠিক কি প্রমাণ হচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছেনা।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০২:২৮60136
  • ওটা আপনাকে বলিনি তো।
  • SS | 160.148.14.151 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৫60163
  • S,
    ইন কাম ইনকুয়ালিটি, ওয়েজ গ্যাপ এই সব তো আছেই। সেটা তো কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু ক্লাসেকে প্রমোট করতে গিয়ে অনেক সময় বিশেষে 'আইটিতে যৌন হেনস্থা বিরল' টাইপের মণিমুক্তো ছড়িয়ে থাকেন সময় সময়। জেন্ডার, রেস এগুলো সমস্যা হিসাবে এখন প্রথম সারিতে, কারণ দেখা যাচ্ছে এই সমস্যাগুলো সব ক্লাসেই সমানভাবে আছে এবং সামাজিক প্রগতির জন্যে এই সমস্যাগুলোর সমাধান প্রয়োজন। আবার ইন ইকুয়ালিটি বেড়ে ক্লাস আবার ফোরফ্রন্টে আসতে পারে কখনো। তখন আবার ক্লাস নিয়ে বেশি মাতামাতি হবে। এইটুকুই।

    ঈশান,
    বাবলে থেকে আর মি টু ক্যাম্পেন করে যদি হার্ভি ওয়েনস্টিন, রজার এইলস, ট্র্যাভিস কালানিক দের মত লোকেদের বিদেয় করা যায় তাহলে বাবলই সই। কালই সেনেটর ক্রিস্টিন জিলিব্যান্ড আর জ্যাকি স্পিয়ার মি টু বলে একটা বিল পেশ করেছেন। পল রায়ান বলেছেন কংগ্রেসপার্সন আর তাদের এড্সদের জন্যে ম্যান্ডেটরি ট্রেনিং চালু হবে। চালিয়ে যান।
    এর পাল্টা অবশ্য আপনি এই ফোরামে হ্যাশট্যাগ শ্রেনীসংগ্রাম বলে একটা ক্যাম্পেন চালু করে দেখতে পারেন!
    অন আ সিরিয়াস নোট, 'আইটিতে যৌন হেনস্থা বিরল' - এই রকম লাইন যত বেশি আসবে, তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে আরো বেশি মি টু ক্যাম্পেন হবে। ফেসবুক আর টুইটারে মিডিয়া ট্রায়াল বাড়বে। ব্যাপারটা আস্তে আস্তে ভিজিল্যান্টি জাস্টিসের দিকে না যাওটাই কাম্য।
  • ঈশান | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:১০60137
  • প্রথম কথা হল যে রিপোর্টের কথা পাই লিখেছে, সেটা এনএফএইচএস। ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে। ন্যাশানাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্টে প্রচুর আন্ডার রিপোর্টিং থাকে বলে, এই সার্ভের রিপোর্টটাই ব্যবহার করা হয়। অন্য নানা সমালোচনা থাকতে পারে সার্ভেটা নিয়ে, কিন্তু আমি কোথাও আন্ডার-রিপোর্টিং এর অভিযোগ শুনিনি এটা নিয়ে। কীভাবে আন্ডার রিপোর্টিং হচ্ছে, সেটা একটু বিশদে লিখুন।

    দ্বিতীয়ত, কোথায় কী জাস্টিফাই করছি জানতে পারলে ভালো হত। আমি আবার এই ব্যাপারটায় ইদানিং একটু সেন্সিটিভ হয়ে পড়েছি।

    বাকি পরে লিখছি।
  • sm | 52.110.201.60 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২৩60164
  • SS ,আই টি সেক্টরে যৌন হেনস্থা কি রকম হয় দু একটা এক্সাম্পেল দেবেন? পে গ্যাপই বা কি ভাবে ঘটছে ?
    মানে একটু বিশদে হলে ভালো হয়।
    মি টু ক্যাম্পেন গুলোতে অহরহ সেলিব্রিটি দের বলতে শুনি।
    কিন্তু এরা তো অশিক্ষিত বা অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া লোকজন নন!
  • | 52.106.56.172 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২৪60138
  • কিন্তু আপনারা আইটিতে সেক্স্যুয়াল হ্যারাসমেন্ট না আইটিতে ওয়ার্কপ্লেস ডিসক্রিমিনেশান কোনটা নিয়ে কথা বলছেন বলেন তো? একজন লিঙ্ক দিচ্ছেন সেক্স্যুয়াল হ্যারাসমেন্টের আরেকজন উত্তর দিচ্ছেন কোড রেড প্রোজেক্টে রাত্তিরে থাকতে না চাইলে প্রোজেক্টে নেওয়া যাবে না।
    আমি পুরো ঘেঁটে গেলাম।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২৬60139
  • এনিয়ে আগেই বিশদে লিখে দিয়েছি যে এই পার্টিকুলা সার্ভে নিয়ে কথাটা বলিনি; কিন্তু সিমিলার সার্ভের অনেক উদাহরণ দিয়েছি।

    "কিন্তু সেই অস্বাস্থ্যকর ইঁদুর দৌড়টাকে ছেড়ে দিয়ে স্রেফ জেন্ডারের নামে বিল কাটা"
  • S | 202.156.215.1 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৩১60165
  • অলরেডী দিয়েছেন।
  • ঈশান | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৮60140
  • হ্যাঁ। সিইও প্রসঙ্গে। আমি সিইও দের পুরো খোঁজ রাখিনা, তবে মহিলা সিইও ভারতবর্ষের আইটি কোম্পানিতে বিশেষ নেই বলেই মনে হয়। সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটরও মনে করিনা। কারণ মমতা- মায়াবতী - জয়ললিতা দাপটে মুখ্যমন্ত্রীত্ব করার পরও রাজনীতিতে মহিলাদের পার্টিসিপেশন বাড়েনি তেমন। সিইও দের সংখ্যা বাড়লেও কর্মরতা মহিলাদের সংখ্যা বা বেতনের উপর খুব প্রভাব পড়বে এমন না। তবুও, আইটির উপরতলায় মহিলা কম কেন জানতে যখন চাইছেন, আমার যা মনে হওয়া বলি। দুটো কারণ আছে। ১। সিইওরা যে বয়সের হন, সেই প্রজন্মে মেয়েদের পার্টিসিপেশন ইন্ডাস্ট্রিতে কম ছিল। আইটিতে কর্মরতা পুং/নারীর অনুপাত ওই প্রজন্মে এমনিতেই কম। ২। তার উপরে আইটিতে মেয়েদের ড্রপ আউট অনেক বেশি হয়। সাংসারিক কারণে বা ব্যক্তিগত চয়েসে অনেকেই কাজ ছাড়েন, বা কম চাপের কাজ বেছে নেন। ক্লাসিক উদাহরণ হল নারায়ণমূর্তি এবং তাঁর স্ত্রীর। দুজনেই একই সঙ্গে ইনফোসিস শুরু করেছিলেন, কিন্তু মহিলা কাজ ছেড়ে বাচ্চার দিকে মনোনিবেশ করেন। ৩। স্টার্ট আপে, তখন এবং এখনও মেয়েদের সংখ্যা খুব কম। চারিদিকে অনেক স্টার্টাপ হল এবং গেল বা থাকল, কিন্তু একটিও মহিলাকে জানিনা যিনি রিস্ক নিয়ে স্টার্টাপ শুরু করেছেন। এটা সম্পূর্ণতই চয়েসের ব্যাপার।

    এই তিনটে কারণ নেহাৎই আমার মনে হওয়া। অন্য কিছুও থাকতে পারে। কিন্তু ড্রপ আউট যে হয়, সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। শুধু আইটিতে নয়, নানা জায়গায় মহিলাদের সংখ্যা কমে আসা দেখি। আগে পাড়ার বা ফ্ল্যাটের কমিটি টমিটিতে মহিলাদের পার্টিসিপেশন দেখতাম। আমার বন্ধু, একাধিক বন্ধুর মা, এঁরা সব ফ্ল্যাট, কো-অপারেটিভ, পাড়ায় নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ইদানিং উঁচু বহুতল গুলোতে সেটা একেবারে দেখিনা। মহিলারা নমোনমো করে স্রেফ কালচারাল সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলান, ব্যস। পার্টিসিপেশন কেন কমে আসছে? জানিনা। রাজনীতিতেও তথৈবচ, যদিও কেসটা এত সোজা নয় সেখানে। তা, এগুলোও ড্রপ আউট।
    এগুলো নিয়ে সিরিয়াস চিন্তাভাবনা হওয়া দরকার। কোথাও কোথাও বৈষম্য আছে নিশ্চয়ই। যেমন হরিয়ানায় নিশ্চয়ই বৈষম্য একটা কারণ ড্রপ আউটের। কিন্তু আলোকপ্রাপ্ত মহিলারা কেন ড্রপ আউট করে যাচ্ছেন, তার পুরোটাই বৈষম্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে ইনকিলাব জিন্দাবাদ করলে সমস্যাটার দিকে তাকানোই হবেনা। আপনি যে সমস্ত কারণ বলেছেন, যেমন, মেয়ে বলেই মিটিং এ চাপিয়ে দেওয়া, এসব সত্যিই দেখিনি তো। এই কষ্টকল্পনা গুলো দিয়ে কোনো অ্যানালিসিস হওয়া সম্ভব নয়।

    এই কষ্টকল্পনাগুলো যেরকম আধিপত্য বিস্তার করছে, সে দেখলে খারাপই লাগে। একটা উদাহরণ দিই। ধরুন আপনি ইনকাম ইন-ইকুয়ালিটির একটা চিত্র দিয়েছেন। সেটা বাস্তব। বেশ কবছর ধরে, আমরা সবাইই জানি, আমেরিকায় এটা নিয়ে হট্টগোল চলছে। যে, ছেলেরা গড়ে এক টাকা উপার্জন করলে মেয়েরা করে সত্তর পয়সা। ভাবটা এমন, যে, দুষ্টু কর্পোরেটরা জেন্ডার ডিসক্রিমিনেট করছে। তা নিয়ে কত হইচই। এইটা নিয়ে মাইক্রোসফটের সিইওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি বলেন, মেয়েরা ভাল কাজ করলে নিশ্চয়ই ভালো মাইনে পাবে, বা এরকম কিছু একটা। সে নিয়ে আন্দোলন, এবং তাঁর ক্ষমা চাওয়া। এইসব হল।
    অথচ, যে রিপোর্টে ওই ইনকাম ইনইকুয়ালিটির কথা ছিল, সেখানেই খুব স্পষ্ট করে কারণটাও বলা ছিল। আমি সেই রিপোর্ট পড়েছি। দুষ্টু কর্পোরেটরা ডিসক্রিমিনেট করছে, এই ইঙ্গিত টুকুও কোথাও ছিলনা। যেটা ছিল, সেটা হল নানা ধরণের জব প্রেফারেন্সের জন্য এই হাল। মেয়েরা বিপুলভাবে যে কাজগুলি করে, যেমন অফিস সেক্রেটারি, অ্যাসিস্ট্যান্ট, এইচ আর, স্কুল মাস্টারি, -- এইগুলি কম মাইনের চাকরি। বেশি মাইনের চাকরি, যেমন গাড়ি মেকানিক, ট্রাক ড্রাইভার, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এগুলিতে মেয়েরা নেই। মেয়েরা সবই কম মাইনের চাকরি করে এমন না, যেমন নার্সিং তো মেয়েদের প্রায় একচেটিয়া। কিন্তু সব মিলিয়ে চিত্রটা এরকম। তা এই চিত্রটা হ্যান্ডল না করে, মাইক্রোসফটের সিইওর নামে ইনকিলাব জিন্দাবাদ করলে কিছু কি লাভ হবে? শুধু ইনকিলাব জিন্দাবাদে শেষ হলেই একরকম্ ছিল। ইদানিং অ্যানালিসিসে ভুল হচ্ছে ধরালে, তৎসহ প্রশ্নও আসে, আপনি কি অমুককে জাস্টিফাই করছেন? এ আরেক বিপদ। আমি মাইক্রোসফট, বিল গেটস, আইটি কোম্পানি কারোরই ভক্ত না। কিন্তু অ্যানালিসিস তো অ্যানালিসিস, তার সঙ্গে ভক্ত হওয়া বা জাস্টিফাই করার কোনো সম্পর্ক তো নেই।
  • ঈশান | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫১60141
  • @ দ। আমি তো প্রথমে হ্যারাসমেন্ট নিয়েই লিখছিলাম। তারপরে প্রোমোশন আটকে দেওয়া, মিটিং এ চাপিয়ে দেওয়া, এইসব এল। তাই পরেরটা লিখলাম।
  • Du | 182.56.6.80 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০১60166
  • ওয়েজ গ্যাপ, হ্যারাসমেন্ট এইগুলো নিয়ে ইন্টারপ্রিটেশনের ব্যাপার থাকলেও এখন এমন সব সমস্যা সোজা মেয়েদের ওপোর চেপে যাচ্ছে যেমন বার্থ কন্ট্রোল রাইটের ওপরই কোপ। যায়ে তো জায়ে কহা।অবশ্য এটা গরীব মেয়েদেরকেই বেশি আঘাত করবে।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১২60142
  • ঈশানদা, আমি আপনার প্রত্যেকটা কথারই জবাব দিয়েছি এর আগেই। তবুও আরেকবাদ দিয়ে দিই।

    আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে যেসব মহিলারা আইটিতে কাজ করতে শুরু করেছিলেন (তখনো প্রচুর মহিলারা আইটিতে ছিলেন) এবং কাজ চালিয়ে গেছেন, তাঁরা কি এই মুহুর্তে তাদের পুরুষ কলিগদের সাথে সমান জায়্গায় আছেন?

    আপনি এর আগের একটি পোস্টে রাত্রে থাকার কথা বলেছেন। তাহলে বিপিওতে এতো মেয়েদের-মহিলাদের কাজ করতে দেখি কেন?

    কষ্টকল্পনাগুলো নিয়েও কয়েকটা লিন্ক দিয়েছিলামঃ
    https://www.theatlantic.com/magazine/archive/2017/04/why-is-silicon-valley-so-awful-to-women/517788/
    http://fortune.com/2016/08/06/women-wall-street-bro-talk/

    আর আপনি বলেছেন যে মহিলারা কম মাইনের চাকরি নিচ্ছেন। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে একই প্রফেশনে থেকেও মহিলারা কম পাচ্ছেন যার মধ্যে নার্সিংও আছেঃ


    নারায়ণমূর্তি এবং তাঁর স্ত্রীর হলেন জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশনের ক্লাসিক উদাহরণ। কেন না বুঝলে বলবো যে আমার আর আপনার আলোচনার কোনো মানে হয়্না, কারণ আমরা দুজন একদম দুটো আলাদা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছি।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৫60143
  • সত্য নাদেলার বক্তব্য ছিলোঃ

    It's not about asking for the raise, but knowing and having faith that the system will actually give you the right raises as you go along... And that, I think might be one of the additional superpowers that quite frankly women who don't ask for a raise have. Because that's good karma. It'll come back because somebody's going to know 'that's the kind of person that I want to trust. That's the kind of person I want to really give more responsibility to.' And in the long term efficiency, things catch up. And I wonder… And I’m not saying that’s the only approach.

    I wonder whether taking the long-term helps solve for what might be perceived as this uncomfortable thing of ‘hey, am I getting paid right? Am I getting rewarded right?’ Because reality is your best work is not followed with your best rewards. Your best work then has impact, people recognize it and then you get the rewards so you have to somehow think that through, I think.
  • | 144.159.168.72 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৮60145
  • ও আচ্ছা।
    ওয়ার্কপ্লেস ডিসক্রিমিনেশান খুব ভালমত আছে তো। অন্তত ইন্ডিয়ান আইটিতে।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৮60144
  • সত্য নাদেলার বক্তব্য সংক্রান্ত কতগুলো কোটেশানঃ

    ইনি ফেসবুকের সিও-ও।
    Sandberg’s book points out that women who ask for a higher salary are typically viewed as more demanding than men who do the same thing. “Aggressive and hard-charging women violate unwritten rules about acceptable social conduct. Men are continually applauded for being ambitious and powerful and successful, but women who display these same traits often pay a social penalty. Female accomplishments come at a cost,” wrote Sandberg in her book.

    One of the examples Klawe provided was when she accepted the position of Dean of Engineering at Princeton University without a specific salary. Klawe recommended the audience to learn from her mistakes and do their homework in terms of finding out what is an acceptable salary before selecting the job.

    ভাবুন।
  • sm | 52.110.201.60 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৯60168
  • এগুলো তো সবই ইনভেস্টর রিলেটেড।ক্লিয়ার কাট যৌন হেনস্থা।সব কিছুই থানায় রিপোর্ট করা যেতো বা উচিত।
    হিন্দি মুভির চিত্র কল্প। কিন্তু এতে করে তো আইটি সেক্টরের ডে টু ডে চিত্র টি পাওয়া গেলো না।
  • | 144.159.168.72 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২৫60146
  • মোটামুটি প্রায় বছর কুড়ি কলকাতা, দিল্লি, গুরগাঁও, পুণে সামান্য কিছু ব্যাঙ্গালোর পুণেতে নিজে একেবারে এন্ট্রি লেভেলে প্রোগ্রামার থেকে পরে ভারতের বিভিন্ন শহরে টিম চালানো অক্রস কোম্পানি প্রোগ্রাম ম্যানেজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম। টানা ৩০ ঘন্টা অফিসেই রয়েছে এমন মেয়ে খুব বিরল নয়, এবং তাদের প্রোমোশান কোনও অজ্ঞাত কারণেই হয় না কিম্বা অনেক দেরীতে হয়। এবং অতি অবশ্যই প্রোগ্রাম ম্যানেজারের উপরের লেভেলে মেয়েদের প্রায় দেখাই যায় না।

    হ্যাঁ হ্যাঁ কোনওটাই "ও তো মেয়ে" এমন কারণ অফিশিয়ালি দেখিয়ে হয় না।
    যাগ্গে আর নয়।
  • | 144.159.168.72 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২৬60147
  • মোটামুটি প্রায় বছর কুড়ি কলকাতা, দিল্লি, গুরগাঁও, সামান্য কিছু ব্যাঙ্গালোর পুণেতে নিজে একেবারে এন্ট্রি লেভেলে প্রোগ্রামার থেকে পরে ভারতের বিভিন্ন শহরে টিম চালানো অ্যাক্রস কোম্পানি প্রোগ্রাম ম্যানেজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম। টানা ৩০ ঘন্টা অফিসেই রয়েছে এমন মেয়ে খুব বিরল নয়, এবং তাদের প্রোমোশান কোনও অজ্ঞাত কারণেই হয় না কিম্বা অনেক দেরীতে হয়। এবং অতি অবশ্যই প্রোগ্রাম ম্যানেজারের উপরের লেভেলে মেয়েদের প্রায় দেখাই যায় না।

    হ্যাঁ হ্যাঁ কোনওটাই "ও তো মেয়ে" এমন কারণ অফিশিয়ালি দেখিয়ে হয় না।
    যাগ্গে আর নয়।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৪৭60148
  • এগুলো সবকটাই আগে পড়েছি। নতুন করে ভাবার কিছু হয়নি। আপনি পুরো রিপোর্টটা পড়ুন। অবশ্যই। আর দুই সিইওর বক্তব্য পড়ুন। পুরুষই হোন বা মহিলা, তাঁরা নিজেরা মিডিয়ান এমপ্লয়ির চেয়ে কত শো গুণ বেশি পান, ইনকাম ইনিকুয়ালিটির আলোচনায় সেটাই ভুলে গেছেন।

    আর প্রোগ্রাম ন্যানেজমেন্ট তো অনেক পরের কথা। ডেভলাপমেন্ট টিম লিড পোজিশনেই আনুপাতিক হারে মেয়ে অনেক কম। আমি অফশোর এবং অনশোরে যা দেখি। ওদিকে টেস্টিং এ প্রায় ১০০% মেয়ে। এইচআর বাদই দিলাম। কিন্তু কোর ডেভেলাপমেন্টে এন্ট্রি লেভেলের পরই অনেক কম। কেন? জানিনা।
  • dc | 132.174.107.55 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৫২60169
  • আইটি সেক্টরের ডে টু ডে চিত্র এখানে পাওয়া যেতে পারেঃ

    Vassallo and Madansky surveyed more than 200 women who had at least 10 years of work experience, many of whom are employed at Google, Apple, or other large companies, as well as tech startups. Although they are primarily located in Silicon Valley and the San Francisco Bay area, the range of ages is broad, and 75% have children.

    Among their more significant findings about harassment in the workplace:

    90% witnessed sexist behavior at company offsites and/or industry conferences
    60% reported being the target of unwanted sexual advances from a superior
    60% who reported sexual harassment were dissatisfied with the outcome
    One in three say they felt afraid for their personal safety because of work-related circumstances

    https://www.fastcompany.com/3055395/60-of-women-in-silicon-valley-have-been-sexually-harassed
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:০২60149
  • ঈশান দা, আমি এখানে অলমোস্ট কোনো রিপোর্টই না পড়ে দিইনা। আমি অবাক হচ্ছি যে এইসব রিপোর্টের বক্তব্য আপনি যা লিখেছেন তার পুরো উল্টো কথা বলা সত্ত্বেও আপনি আবার পড়তে বলছেন।

    "তাঁরা নিজেরা মিডিয়ান এমপ্লয়ির চেয়ে কত শো গুণ বেশি পান, ইনকাম ইনিকুয়ালিটির আলোচনায় সেটাই ভুলে গেছেন।"
    দুটো আলাদা ইস্যু। সিইও বা সিনিয়র ম্যানেজারদের কথা তোলা হয় কারণ সেখানে ডেটাগুলো খুব স্পস্ট আর পাবলিক। আপনার যুক্তি যদি হয় যে সিইও যেহেতু অলরেডি অনেক বেশি পান, তাই ওদের নিয়ে কথা বলা যাবেনা। তাহলে বলতে হয় যে যদি সিইওর লেভেলেই এই রকম পেগ্যাপ থাকে তাহলে নীচে থাকতে বাধ্য।

    তাছাড়া নার্সদের কেসটাও দিয়েছি। তাতেও যদি নতুন করে কিছু ভাবার না থাকে, তাহলে তাই হোক।

    কবে দিন বদলাবে আর সাম্য আসবে আর সিইও আর অন্য সব এমপ্লয়ি একই মাইনে পাবেন সেই চিন্তায় মসগুল হয়ে থেকে হাতের কাছে যেসব সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধান করা যাবেনা সেটা মানতে অসুবিধে হয় আরকি।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:০৬60150
  • আর নারায়ণমূর্তির কেস জেন্ডর স্টিরিওটাইপিঙ্গ এর জ্ন্য নয় তো বলিনি। কিন্তু তার সঙ্গে আইটি ইন্ডস্ট্রির কোনো সম্পর্ক নেই। যেভাবে জে মেয়েটি রত করে ফিরতে চায়না তর সঙ্গেও স্টিরিওটাইপিঙ্গ এর একটা গপ্পো আছে কিন্তু সেটা আইটি সন্গ্ক্রন্ত না। এই সোজা জ্ল্নিসটা না বুঝলে আমিইবা কি করি।
    বাকি পরে। রিপোর্টটা নিয়েও না হয় দু লাইন লিখব তখন।
  • Ishan | 183.24.110.20 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১১60151
  • নার্সদের নিয়েও পরে লিখব। সন্গ্ক্ষেপে বলি ওখানে অন্য ভ্যারিয়েবল আছে। সেই কারণেই হাবিজাবি পপুলার জিনিস না পড়ে আসল রিপোর্টটা পড়তে বলছি। আর এর সঙ্গে সাম্য ইত্যাদির সম্পর্ক নেই। ইনকাম ইনিকুয়ালিটির আছে। সেটা শ্ধু জেন্ডারেই কেন সীমাবদ্ধ বোঝা গেলনা।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৫60152
  • আসল রিপোর্ট বলতে কোনটা?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৭60153
  • যাচ্চলে এত আলোচনার পরে ক্লাস ভেদে পার্থক্য আছ্হে তো কী, এতো সীতা কার বাবা হয়ে গেলে। ক্লাস ব্যাপারটাইকেই জেন্ডার প্রশ্নে পুরো নেই করে দেওয়া হয়, সেই নিয়েই তো লেখার অংশ থেকে তর্ক বা আপনি ঐ যাকে বলেন আলোচোনা, তার শুরু !
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৮60154
  • file:///C:/Users/q19h396/Downloads/joc120033_2410_2417.pdf

    Conclusion: Gender differences in salary exist in this select, homogeneous cohort of mid-career academic physicians, even after adjustment for differences in specialty, institutional characteristics, academic productivity, academic rank, work hours, and other factors.
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন