এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৫০ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং , অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৫০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৩60093
  • জেন্ডার ডিসপ্যারিটি মানে শুধুমাত্র সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট নয়। আম্রিগাতে সব স্তরেই জেন্ডার অপ্রেশান চলে - বিভিন্ন প্রকারে, বিভিন্ন প্রকরণে। এবং সেটা শুধুমাত্র সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। ওয়েজ রেটে গ্যাপ আছে। গ্লাস সিলিঙ্গ আছে। আইটি সেক্টর তার মারাত্মক উদাহরণ। কটা মহিলা সিইও আছেন? বা ওয়াল স্ট্রীটে? এমনকি কঙ্গ্রেসে। বিগত এক বছরে কমলা হ্যারিস বা এলিজাবেথ ওয়ারেণের সাথে যে ব্যবহার করা হয়েছে, কোনো পুরুষ কঙ্গ্রেসম্যানের সাথে সেইরকম ব্যবহার করা হতো বলে মনে হয়না। আর এই প্রথম কোনো ওপেনলি ট্রান্সজেন্ডার লেজিস্লেচার হলেন।
  • pi | 57.29.213.166 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৮60121
  • পুরুষদের ক্ষেত্রে আবার কাজের চাপ কাটিয়ে দিয়ে সংসার/ সন্তানের প্রতি ভালোবাসাকে পূর্ণ সময় দেওয়াটা একরকম অসম্ভব।

    --

    এটা কেন, হুতো? মানে সামাজিকভাবে এভাবে টিউনড বলেই তো? আর সেজন্যই বোধহয় আগের প্যারার নারী পুরুষ নির্র্বিশেষে টা বিশ্শেষ ভাবে নারীদের জন্য প্রযোজ্য হয় আর পুরুষদের জন্য হয়না।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:২৩60094
  • তবে ক্লাস মোবিলিটিটা মনে হয় আম্রিগান ঢপ। কোথাও একটা পড়েছিলাম যে ফোর্বসের লিস্টে যাদের নাম বেরোয়, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ফ্যামিলিসুত্রে সেই ধনসম্পদ পান। পেয়ে বাড়িয়েছেন - সেটা হতে পারে, কিন্তু ফ্যামিলির থেকে না পেলে ঐ লিস্টে নাম উঠতো না। আর বাকীরা যারা নিজেদের কেরামতীতে ঐ লিস্টে গেছেন (বিল গেটস প্রমুখ), তাঁরাও ভালো ঘরেরই ছেলেপিলে (মানে বাবা মা দুজনই কলেজ গ্র্যাজুয়েট)। একেবারে ব্লু কালার থেকে মাল্টি মিলিয়নেয়ার (লটারী না জিতলে) হওয়া আম্রিগাতেও মুশকিল।
  • Rabaahuta | 132.167.19.7 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:৩০60122
  • হ্যাঁ, সামাজিক।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:৪৪60095
  • * ব্লু কলার
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৩৮60096
  • সমানভাবে একটু ধোঁয়াশাময়। এটার মানে, এই তিন ক্লাসের সবাইকেই সেক্স্যুয়াল হ্যারাসমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়, তাই তো ? নাকি একইরকম হ্যারসমেন্ট ?
    সে তো কোন ক্লাসে হতে হয়না, এমন হবেনা। কিন্তু এরকম জেনেরাল স্টেটমেন্ট দিলেই প্রশ্ন আসবে কম বেশি বিষয়ে, হ্যারসমেন্টের পরিমাণ , তীব্রতা বিষয়ে। নাহলে ক্লাস কোন ফ্যাক্টর কিনা বোঝা যাবে কীকরে, সেজন্য কোয়ান্টিটেশন দরকারই।
    দেশের ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ডাটা, ফেমিলি হেল্থ সার্ভে থেকে নিয়ে, বিশ্লেষণ করার সময় দেখেছিলাম, শ্রেণীভেদে প্রচুর পার্থক্য আছে, অন্য কিছু ফ্যাক্টার এক রাখলে। দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে অনেক বেশি মহিলা গৃহহিংসার শিকার।
    ওয়ার্কপ্লেসেও , একটা ইঁটভাটা কি খেতমজুরি করা মহিলার এক্স্প্লয়েটেশন আর সেটা করার সুযোগ আপার ক্লাসের মহিলার থেকে অনেক বেশি।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪০60097
  • আচ্ছা, দেশে সরকারি কোন জায়গায় তো ছেলেমেয়েদের মাইনে আলাদা হয়না। বরং আকাডেমিক ফিল্ডে বলতে পারি, এবার মেয়েদের সুযোগসুবিধা অনেক্বেশি দেবার জন্য বিল আনা হচ্ছে বলে শুনেছি ( যার অনেক ক্লজই ওয়েলকাম)।
    কর্পোরেট দুনিয়ায় একই পোস্টে ছেলে আর মেয়েরা আলাদা বেতন পান ?

    আম্রিগার সরকারি যে ব্যবস্থা দেখেছি, তাতেও মাইনের কোন ডিসপ্যারিটি দেখিনি। কর্পোরেট নিয়ে পড়ি, লোকজনের অভিজ্ঞতা কী ?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:০৩60099
  • পড়েছি বলেছি, এখানকার লোকজনের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছিলাম।
  • de | 69.185.236.53 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:০৫60100
  • পাই, দরিদ্র শ্রেণীর সেক্সুয়াল বা ডোমেস্টিক এক্সপ্লয়টেশন তাঁরা বলতে ভয় পান না, খোলাখুলি বলতে পারেন, বর পেটায় বা ঠিকাদার শুতে বলে - সেই তুলনায় মধ্যবিত্ত মহিলারা, বিশেষতঃ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নন যারা, তাঁরা অনেক অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েও চেপে যান। সম্মান, সন্তান অনেককিছুর মুখ চেয়ে। সেটাও মাথায় রেখো। গৃহহিংসা অত্যন্ত কমপ্লিকেটেড ব্যাপার - এখানে ক্লাস স্ট্রাগলের চাইতে জেন্ডার স্ট্রাগল বেশী প্রাধান্য পাবে। একমাত্রিক কিছুই নেই!
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১২60102
  • ফ্যামিলি সার্ভেতে এগুলো কি খুব ম্যাটার করে ? কারণ পরিচয় গোপন রাখা হবে, ব্যক্তিগত কোন ডাটা বেরোবে না এগুলো ভাল করে বুঝিয়েই সার্ভে করা হয়। মানে, সম্মান, সন্তান ফ্যাক্টরগুলো এখানে অন্ততঃ সেভাবে ভ্যালিড নয়, তাই বলছি।
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১২60101
  • দেশে সায়েন্টিস্ট সেক্টরে সাংঘাতিক বায়াস - ভালো কাজ করা মহিলাদের বেশীর ভাগ সময়েই নীচু গ্রেড দেওয়া হয়, নানারকম ছুতো দেখিয়ে। এর মধ্যে ম্যাটারনিটি থেকে সিসিয়েল সবই আছে। কজন মহিলারা বিভিন্ন সায়েন্টিফিক অ্যাওয়ার্ডের জন্য দেশ থেকে নমিনেটেড হন? হাজব্যান্ড-ওয়াইফ একই রকম অ্যাকাডেমিক সিভি নিয়ে বিদেশ থেকে ফেরার সময়ে হাজব্যান্ড সরকারী চাকরী আগে পেলে, ওয়াফের টেনিওর ট্র্যাক বা নন-পারমানেন্ট পোজিসন প্রায় নিয়মিত ঘটনা!
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১৩60103
  • ইন্ডিয়াতে মারাত্মক আন্ডার রিপোর্টেড। আপনার মনে হয় বলিউডের কেউ কোনোদিন মুখ খুলবে?
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১৬60104
  • * ওয়াইফ

    বিভিন্ন কমিটি মেম্বার, ডিয়েই, ডিএসটির গভর্নিং বডিগুলোতেই বা মহিলাদের পার্সেন্টেজ কতো? ওপরের লেভেল অব্দি তো বেশীর ভাগ মহিলাদের আসতেই দেওয়া হয় না। অনেক আগেই আটকে দেওয়া হয়। এখানে জেন্ডার বায়াসের এমন চোরাস্রোত চলে, বাইরে থেকে মনে হবে ইকোয়ালিটির নদী কুলকুল করে বইছে - ইদিকে নদীতে পাথরে, পলিতে বোঝাই - সেসব ড্রেইজিংয়ের লোকই নেই!
  • Ishan | 202.189.128.12 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১৭60123
  • শেষে অনলাইন সার্ভে? তাও ইনভাইটেড? এর চেয়ে গুরুর অ্যানেকডোট বেটার। সত্যি সত্যি বলছি, বাবলে থাকবেননা, আপনার চেনা লোকজনকে জিজ্ঞাসা করুন আইটি প্রসঙ্গে।

    এছাড়াও। শিল্পে উন্নতি হবে, প্রতি প্রজন্ম একটু করে এগোবে, ট্রিকল ডাউন ইকনমির থিয়োরি তো এভাবেই বলে। কিন্তু গল্পটা ঠিক এরকম হয়না। দুটো কারণে। ১। প্রভার্টি ট্র্যাপ। এতে নিচু তলার মানুষের অবস্থা অ্যাবসলিউট স্কেলে একই থাকে, বা খারাপতর হয়। ২। ইনকাম ইনইকুয়ালিটি। অ্যাবসলিউট স্কেলে রোজগার বাড়লেও রিলেটিভ স্কেলে কমে। অর্থাৎ, উপরের দশ শতাংশের তুলনায় নিচের দশ শতাংশের কী অবস্থা, মোটামুটিভাবে সেটাই এখানে বিবেচ্য। এই অ্যানালিসিসটা আজকের নয়। সেই মান্ধাতার আমলে করা।
    ফলে ১ এবং ২ যোগ করিয়া পাই, মাস আপওয়ার্ড মোবিলিটি একটি অলীক গপ্পো।

    এখানে আরও একটা ব্যাপারও বলা দরকার। এ কথা অনস্বীকার্য, ভারতের শ্রমিকদের তুলনায় আমেরিকান শ্রমিকরা অনেক বেশি স্বচ্ছল। তুলনার বিচারে অনেক এগিয়ে। সেখানে আবার শ্রেণী নয়, প্রথম এবং তৃতীয় বিশ্বের অসাম্যই বড় ভূমিকা নেয়। এই জন্যই 'দুনিয়ার মজদুর' আজকের দুনিয়ায় কখনই এক নয়। সায়েব কয়লাখনি শ্রমিক, শ্রমিক হলেও সায়েব, আর ঝরিয়ার বস্তিবাসী কয়লাখনি শ্রমিক হল থার্ড ক্লাস মাল। এবং ওই একই কারণে, গুগলে কর্মরতা একজন মহিলা হলেন মেম, আর লক্ষীকান্তপুর লোকাকে যে কাজের মাসি যাতায়াত করেন, তিনি ঝি।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১৭60105
  • আর স্ত্রী আগে সরকারি চাকরি পেলে ? আনেকডোটই যদি বল তো আমি উল্টোটা দেখেছি, এরকম কেস এই মুহূর্তেই তিন চারটে মনে করতে পারছি, রিসেন্ট ফেজে।

    আর এটা তো ঐ কাপলের মধ্যে আডজাস্টমেন্টেরও গল্প কিছুটা। মেয়েরাও ঐ মেয়েদেরই আডজাস্ট করতে হবে কি সংসার প্রায়োরিটি আর ঐ স্যাক্রিফাইসের মোহ থেকে বহু ক্ষেত্রে বেরোতে পারেনা, যেটা অতটা উচ্চশিক্ষিত হয়ে, নানাদিক থেকে প্রিভিলেজড হয়েও না বেরোতে পারলে সিস্টেমের সমস্যার সাথে সাথে ব্য়্ক্তিগত দায়ের জায়গাও থাকে বলে মনে করি। আর চয়েজ হলে কী আর বলব।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:২৬60106
  • আমাদের ডিরেক্টর জেনেরালই মহিলা, আর বিভিন্ন বিভাগের মাথাতেও অনেক মহিলা। কিন্তু যেটা সমস্যার, সেটা তো দেখছি এন্ট্রি থেকেই মহিলা কম। মহিলা বৈজ্ঞানিকের অনুপাত, আমার জায়গাতেই ৩ঃ ১৬ ঃ(
    এদিকে আর এ লেভেল অব্দিও অনেক মেয়ে দেখি, ইন্টারভ্যু নিতে গেলে দেখি এমনকি মেয়ে আপ্লিকান্টের সংখ্যা বেশি। কিন্তু এদের অনেককেই পরের স্টেপ গুলো আর সেভাবে পেরোতে দেখিনা। ঐ কুমুদি যেমন লিখেছিল, তেমনি অভিজ্ঞ্তা আছে, হচ্ছে। কেরিয়ার নিয়ে সিরিয়াস কম হওয়া, বিয়ে, বিয়ের পর বাচ্ছা প্রায়োরিটি দেওয়া, মেয়েদের ক্ষেত্রে সিলেক্টিভলি এগুলো তো দেখছিই। আর এগুলো তাদের উপর পারিবারিক কি সামাজিক কোন কমপালশনও না, একেবারে চয়েজ্জ হিসেবেই আসতে দেখছি। অবশ্যই এই চয়েজ বহুবছরের নির্মাণের প্রভাব মুক্ত হতে পারেনি, ব্যতিক্রমও দেখি, তাদের সংখ্যা বাড়তেও দেখি, তবে সব মিলিয়ে বাড়ছে কি বাড়ছে না, এনিয়ে এখনো ধন্দে।

    ফিজিক্স টিজিক্সে , ভেবে দেখো, আরো আগে থেকেই, গ্র্যাজুয়েশন থেকেই মেয়েদের কী অনুপাত ছিল ?
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৩২60107
  • জোকাতে আমাদের ব্যাচে ২৫০ জনের মধ্যে মনে হয় ২৫-৩০ জন মেয়ে ছিলো। যদুপুরে ৮০-৮৫ জনের মধ্যে ২০ জন।
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৩৪60108
  • স্ত্রীই আগে অ্যাপ্লাই করেন ইউজুয়ালি বর্তমান কালে - সেটাই আমরাও বলে থাকি। কিন্তু কাজ পাবার সময়ে স্বামী-স্ত্রী ব্যাপারটা ম্যাটার করবেই বা কেন? এসব প্রশ্ন প্যানেলের লোকে অনায়াসে করে থাকে, যে হাজব্যান্ড কি করে? পারমানেন্ট চাগ্রী কিনা ইঃ ইঃ!

    আর প্রায়োরিটিজ আর চয়েজের প্রশ্ন বলছো? - বাচ্চা থাকলে মায়ের সমস্ত প্র্যায়োরিটিজ সেই বাচ্চার ভালোকে ঘিরে আবর্তিত হয়! খুবই কঠিন ব্যাপার। স্যাক্রিফাইস অধিকাংশ ক্ষেত্রে, বাচ্চার মুখ চেয়ে, মাকেই করতে হয়। মোহ-টোহ নয়, সিম্পলি মানবিকতার প্রয়োজনে। বাচ্চা তো আর এমনি এমনি মানুষ হয়ে যাবে না!

    যাগ্গে, এসব এই টইয়ের বিষয়ও নয় -
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৩৮60109
  • আমার ফিজিক্স অনার্স গ্রাজুয়েশনের ব্যাচে কিন্তু মেয়েরা মেজরিটি ছিলো। পোস্ট গ্রাজুয়েশনে প্রায় ৪০% মেয়ে ছিলো - তারা সব কই গেলো, এটাই ভাবি আজকাল। এমনিতে আজকাল এন্জিনিয়ারিংএ অনেক মেয়ে - কিন্তু বেসিক সায়েন্সে বা রিসার্চে সেই অনুপাতে অনেক কম!
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৪৭60110
  • কিন্তু বাচ্চা তো বাবারও ! অবশ্যই আমাদের দেশে ছেলেরা এখনো সংসার কি বাচ্চার দায়িত্ব সবাই 'সমানভাবে' নেয় না, কিন্তু এটার মধ্যে অবশ্যই পিতৃতান্ত্রিক ধারণা গেঁথে আছে, যেটা সবসময় সচেতন ভাবে প্লে করেনা। আর এটা ছেলে মেয়ে দুজনের মধ্যেই। সন্তানের ক্ষেত্রে বলার পরেও বাবা কোন দায়িত্ব পালন করল না, এই বাধ্যবাধকতা থেকে মায়েদের বাচ্চার কাজ বেশি করতে হচ্ছে, এটা থাকলেও, বিয়ের পর কি উচ্চশিক্ষার পর কাজ না করা , এখানে ক'টা ক্ষেত্রে কমপালশন বলবে ? মাস্টার্স করেও , কি পিএইচডি করতে করতেও ছেড়ে বিয়ে করে নিল, এরকম তো চোখের উপরে দেখলাম কত। কুমুদির লেখা আবারো স্মর্তব্য। বেকারির যন্ত্রণায় এখনো মেয়েদের সমান সংখ্যায় , বা সব মেয়েদের 'সমানভাবে' ভুগতে দেখিনা, এটা মেয়ে হিসেবে যন্ত্রণাদায়কই লাগে। সমাজ পিতৃতান্ত্রিক সন্দেহ নেই, কিন্তু বহু বছরের গাঁট ভাঙ্গতে গেলে সিস্টেম শুধরানোর চেষ্টার সাত্থে সাথে অনেক বেশি সংখ্যক মেয়েদের নিজেদের উদ্যোগে এগোনোটাও , হয়ত অনেক ক্ষেত্রেই বেশি চাপ নিয়ে হলেও খুব বেশি করে দরকার। নইলে , ভিশাস সাইকেল।

    আর টু বডি প্রবলেম নিয়ে পরে লিখছি।
    আরো কয়েকটা কথা লেখার আছে, প্রোজেক্ট সাবমিশনের ধাক্কা ঘাড় থেকে নামলে লিখছি।
  • S | 202.156.215.1 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৫৫60124
  • @পাই, সার্ভের রিপোটও আন্ডাররিপোর্টেড হয় সেনসিস্টিভ কেসে। ড্রাগ ইউসেজ বা অ্যালকোহলিজম নিয়ে যেসব সার্ভে হয়েছে সেখানে অনেক সময়ই আন্ডাররিপোস্টিঙ্গ হয়েছে দেখা যায়। আবার অনেক সময়ে ওভার রিপোর্টিঙ্গও হয়। সেক্স সংক্রান্ত পোলিঙ্গ গুলোতে অনেক পুরুষ ব্র্যাভাডোর কারণে তাদের এক্সপিরিয়েন্স বাড়িয়ে চাড়িয়ে বলেছে বলেও শুনেছি। জেন্ডারের কেসেও সেইরকম বায়াস থাকার সম্ভাবনা আছে। এমনকি বিগত কয়েকবছরে ইলেক্শন পোলিঙ্গ ভুল হওয়ার পরে একটা থিয়োরি ছিলো যে রাইট উইঙ্গ ভোটাররা মেইনস্ট্রীম মিডিয়াকে (যারা সাধারনতঃ সেন্ট্রিস্ট বা বাম পন্থী) যথার্থ উত্তর দেয়না কারণ সামনের জন (যিনি সার্ভ্টা করছেন) তিনি তাকে বাইগট ভাবতে পারেন বা জাজ করতে পারেন এই ভয়ে।

    কিন্তু তার থেকেও বড় কথা হলো ইন্ডিয়াতে অনেকেই হ্যারাসমেন্ট বুলিয়িঙ্গ এই ব্যাপারগুলো একদম বোঝে না। কোনো আইডিয়াই নেই। লোকে বিরক্ত করে, তোমাকে মুখ বুঝে সহ্য করতে হবে - এটা অনেকেই মনে করে। এসমস্তও নাকি মেয়েদের শিখে নিতে হয়। কাজের জায়্গায় এগুলো মানিয়ে চলাটাই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ। ইত্যাদি। তাই আপনি জিগালেও অনেকে জানেই না যে তিনি অপ্রেস্ড। মিটিঙ্গে মহিলাদের কথা চাপিয়ে দেওয়া বা মতটা উড়িয়ে দেওয়াও যে সেক্সিজম, সেটাই অনেকে বোঝে না। প্রোমোশন আটকে দেওয়া হয় অনেক সময়ে। আমি অবশ্যি চিরকালই মহিলা বসেদের আন্ডারে কাজ করেছি। আমার প্রথম বস মহিলা, তার বসও মহিলা ছিলেন। আমার এক কোম্পানির সিইও মহিলা ছিলেন। অ্যাকাডেমিয়াতে কাজ করতে এসে এখনো অবধি আমার সব ডীনই মহিলা। কিন্তু তাতে করে জেন্ডার ডিসপ্যারিটি কম আছে বলে মনে করিনা।
  • S | 202.156.215.1 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:১৮60125
  • নভেম্বর বিপ্লবের টইতে এইসব নিয়ে লিখতে গিয়ে নিজেরই হাসি পাচ্ছে। শুধু আম্রিগা নিয়েই আলোচনা করে যাচ্ছি সেই কখন থেকে। ঈশানদা এলিটিজমের কথা বলছিলেন। হেঁ হেঁ।

    ১) ট্রিকল ডাউন ইকনমিক্সের মুল মন্ত্র (বাংলা ভাষায়) হলো কর্পোরেশন আর বড়লোকেদের ট্যাক্স কমাও, যাতে তারা বেশি করে ইনভেস্ট করে। তাতে লং রানে পুরো সোসাইটি (ইনক্লুডিঙ্গ মধ্যবিত্ত ও গরীব) বেনিফিটেড হবে থ্রু মোর জব্স আর বেটার ইনকাম।

    ২) বুশ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে বড়লোকেদের ট্যাক্স কমিয়েছিলেন। তাতে ইনকাম ইনিকুয়ালিটি বেড়েছে। লোকে ট্যাক্স কম দিয়ে, মার্কেটে আর প্রপার্টিতে ঢেলেছে। মার্কেট আর প্রাপার্টি প্রাইস বেড়েছে। জব ক্রিয়েটিঙ্গ ইনভেস্টমেন্ট হয়নি। তাই আম্রিগাতেও এই পলিসি ফেইল করেছে বলে একাংশ দাবী করে।

    ৩) আম্রিগার ইনকাম ডিস্ট্রিনিউশন ইন্ডিয়ার থেকে আলাদা। আম্রিগাতে মিডল ক্লাস অনেক বড় (অন্তত ছিলো, এখন কমে আসছে)। পুওর কম। ইন্ডিয়াতে পপুলেশনের একটা লার্জ পার্ট হলো পুওর, পওপার। এছাড়া যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত, তারাও বেসিকালি গরীবই। তাই আম্রিগাতে বার্ণী স্যান্ডার্সও মিডল ক্লাসদের নিয়ে বেশি চিন্তিত (ভোটও অনেক বেশি)। উনিও মিডলক্লাস আর পুওরদের একসাথে ক্লাব করেন। একই পলিসি প্রোপোজ করেন। ইন্ডিয়াতে সেম পলিসিতে গরীব আর মধ্যবিত্তদের ভালো নাও হতে পারে।

    ৪) ডেভালাপ্ড নেশনগুলোতে ক্লাস কনফ্লিক্ট নিয়ে কথা বলাটা প্রায় অন্যায়ের জায়্গায়। ওদের বক্তব্য হলো কেউ বড়লোক হয়েছে মানেই তাকে ঘৃণা করা উচিত নয়। বরং শেখা উচিত তার কাছ থেকে। তার মতন হার্ডওয়ার্ক করলে তুমিও বড়লোক হবে। অতেব হার্ডওয়ার্ক করে যাও।

    ৫) আমেরিকান ড্রীম এখনো আছে? একটা সময় অবধি ছিলো। ওরাও বলতো - ইট ওনলি গেটস বেটার। আমার মনে হয়েছে ব্যাপারটা কনজিউমারিজমকে এনকারেজ করে। ভবিষ্যতে ইনকাম বাড়বে, অতেব আজকেই নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে গাড়ি কেনো। কিন্তু সেই দিন আর নেই। আজকে কেউ জানেনা নেক্সট মাসে কত ইনকাম করবে। এই মুহুর্তে আউটলুক খুব ডিম, আনসার্টেনটি খুব বেশি।

    ৬) ঐ ৪ নম্বর পয়েন্টটাও আমেরিকান ড্রীমের পার্ট। বেসিকালি বড়লোকেদের ট্যাক্স কমানোর একটা চাল। আপনি মধ্যবিত্ত, আপনি চাইবেন যে মিলিয়নেয়ার ক্লাসেরা বেশি ট্যাক্স দিক। কিন্তু আপনি যদি এই স্বপ্ন দেখেন যে আপনিও একদিন ঐ ক্লাসে যাবেন, তাহলে আপনি আজকে থেকেই ওদের ট্যাক্স কম করার পক্ষ নেবেন।
  • Ishan | 202.189.128.12 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৫৬60126
  • মিটিংএ মহিলাদের কথা উড়িয়ে বা চাপিয়ে দেয়? ভারতে? আইটিতে? সিরিয়াসলি? কথা চাপিয়ে বা উড়িয়ে দেওয়া নিশ্চয়ই গাদা গাদা হয়, পৃথিবীর যাবতীয় জায়গায়। কিন্তু "মহিলা বলে" উড়িয়ে দেওয়া? কারা দেয়? আপনার এত বস মহিলা লিখেছেন, আমারও গোটা তিনেক মহিলা বস মনে করতে পারছি, তো উড়িয়ে দেয় টা কারা? আইটি ওয়ার্কফোর্সে মহিলা গাদা গাদা, তারাও পুংদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে উড়িয়ে দেয়? মহিলারা মহিলা বলে প্রোমোশন আটকে দেওয়া হয়? আপনার বসরা প্রোমোটেড হননি? এখন হয়ে শাশুড়ির মতো ইয়ং মেয়েদের প্রোমোশন আটকে দিচ্ছেন?

    বাকি কোনো ইন্ডাস্ট্রির কিচ্ছু জানিনা। কিন্তু আইটিতে লোয়ার বা মিডল লেভেলে, এগুলো জাস্ট অ্যাবসার্ড। এগুলো আইটির মহিলাদের বললেই বিশ্বাস করবেনা কেউ।
  • Ishan | 202.189.128.12 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ১০:১৫60127
  • আগেও লিখেছি। তখন কলকাতায় চাকরি করতাম। একটা খুব ক্রিটিকাল প্রজেক্ট। টিমলিড নেওয়া হবে। ইন্টারনালিই। রেজুমে ম্যাচ করলে কথাবার্তা বলে নেওয়া হবে। প্রথম ছেলেটির ম্যাচ করেনি। দ্বিতীয় আসবে একটি মেয়ে। আমার বড়োকর্ত্রী, লক্ষ্য রাখবেন, কর্ত্রী, বললেন, রাতে থাকতে পারবে কিনা জেনে নিও। ইঙ্গিতটা পরিষ্কার। ক্রিটিকাল প্রজেক্ট। বিবাহিত মহিলা, নেবার আগে চাপ নেবে কিনা জানতে হবে। আমি বললাম, ধুর, ওরকম জিজ্ঞাসা করা যায় নাকি? তা, তিনি বললেন, আহা কায়দা করে।
    যথাসময়ে মেয়েটি এল। আমাদের পিএম ঝানু ছেলে। সেই মনে হয় কায়দা করে জিজ্ঞাসা করল। আমাদের প্রচন্ড চাপ, রাতে থাকটে টাকতে হবে কিন্তু, এরকম কিচু একটা। সে আর ঠিকঠাক মনে নেই। এবং মেয়েটি পরিষ্কার বলল, বলল, রাতে থাকা সম্ভব না। অসুবিধে আছে। মেয়েটাকে আর নেওয়া হলনা। সে অন্য কোথাও গেল নির্ঘাত, সে আর জানা নেই। ওদিকে আমাদের প্রজেক্ট লাল থেকে সবুজ হল। সক্কলে দারুণ রেটিং পেল। মেয়েটি সেই লিস্টে ছিলনা, এইটা জানি। যারা পেল, তাদের মধ্যেও কটি মেয়ে ছিল। সবারই কমবয়স। কেউ অবিবাহিতা। কেউ সদ্য বিবাহিতা। লিড পোজিশনে তিনটিই ছেলে।

    এবার কেউ রোজ সন্ধ্যে ছটায় বাড়ি যাবে, এ নিশ্চয়ই খুব যথাযথ দাবী। তাতে কোনো দোষ দেখিনা। ঘর সংসারের দাবী তো থাকবেই। কিন্তু জালিম ইন্ডাস্ট্রি এইরকমই দাঁড়িয়েছিল দেশে, যে, উন্নতি করতে গেলে দশ বারো চোদ্দ ঘন্টা সময় দিতে হবে। যারা দেয়নি কেরিয়ারের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। খুবই অস্বাস্থ্যক্র অবস্থা। কিন্তু সেই অস্বাস্থ্যকর ইঁদুর দৌড়টাকে ছেড়ে দিয়ে স্রেফ জেন্ডারের নামে বিল কাটা, সে তো পুরো বিষয়টাকেই এড়িয়ে যাওয়া। এই করে কোনো সমস্যার সমাধান হবে?
  • S | 202.156.215.1 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৭60128
  • প্রথমত, আইটির বাইরেও একটা মস্ত বড় দুনিয়া রয়েছে।

    তবুও যখন আইটি নিয়েই এতো কথা হচ্ছে। শুধু একটাই পোশ্নোঃ ভারতে কটা আইটি কোম্পানিতে মহিলা সিইও আছেন? আম্রিগাতেই বা কজন আছেন? আচ্ছা সিইও না হয় বাদ দিলাম। আপনি বলছেন যে আইটি ওয়ার্কফোর্সে মহিলা গাদা গাদা। তার মধ্যে কজন ভিপি পজিশনে আছেন? সিইও আর ভিপি হওয়ার সাথে রাত জাগার নিস্চই কোনো সম্পর্ক নেই।

    আর উড়িয়ে দেওয়া নিয়ে যদি না দেখে থাকেন, তো এই দেখুনঃ
    https://www.theatlantic.com/magazine/archive/2017/04/why-is-silicon-valley-so-awful-to-women/517788/

    আইটির বাইরে বহু ইন্ডাস্ট্রি আছে যেখানে অনেক অনেক বেশি সময় দিতে হয়। যেমন ওয়াল স্ট্রীট, ল ফার্মস, ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিঙ্গ (অডিটের সময়)। সেখানে সপ্তাহে ৭৫-১০০ ঘন্টা দিতে হয়। এবং ইন্টেন্সিভ ভাবে দিতে হয়। সেখানেও বেশ কিছু মহিলা কাজ করেন। কিন্তু তাদের মধ্যেও রাত্রে অফিসে থাকা নিয়ে তেমন দোষারোপ শুনিনি। কিন্তু লেফট আউটের অনেক ঘটনা আছে।

    http://fortune.com/2016/08/06/women-wall-street-bro-talk/

    আপনি যখন পার্সোনাল এক্সপিরিয়েন্সেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান তখন লিখিঃ

    আইটিতে আমি যেটুকু কাজ করেছি, তাতে খুবেকটা ডিমান্ডিঙ্গ বলে মনে হয়নি। রাত জাগা ডেভালাপমেন্ট প্রজেক্ট খুব কম ছিলো; ঐসব প্রজেক্টগুলো সাধারণতঃ ভুল কোট করে নেওয়া হয়ে থাকে। আমি আমার সাড়ে তিন বছরের আইটি-কন্সাল্টিঙ্গ এক্সপিতে হাতে গোনা কয়েক দিন রাত্রে ছিলাম বা খুব লেট করে ফিরেছি। তেমন মারাত্মক দরকারও ছিলোনা। অনেক সময়ই শখ করে থেকেছি; পুল বোর্ডটা খালি পেতাম বলে। দুদিন ডর্মে ঘুমিয়েও নিয়েছিলাম। যাগ্গে, এগুলো সব খুবই সংকীর্ণ এক্সপিরিয়েন্স। ডেটা ছাড়া কোনো দাম নেই। তাই ঐ ভিপি আর সিইওর কথা বলছি।

    আর আমার বসেরা মহিলা ছিলেন বলেই বোধয় আমি এই ব্যাপারে খুব সেন্সেটিভ। আপনার মতন এতো লিবারেল যুক্তিবাদী লোককে এই ব্যাপারে যাস্টিফাই করতে দেখে খুব কস্ট পেলাম। আমি যদি ভুল হই, তাহলেই বেশি খুশি হবো।
  • de | 69.185.236.54 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ১১:১০60111
  • সে তো ঠিকই পাই, সন্তানের চাপ, সংসারের চাপ থোড়ি কারোকে নিজের কাজ ভালোবাসা আর ভালোবেসে করা থেকে আটকে রাখতে পারে! একটু দেরী হয় টাইমলাইনগুলো মিট করতে, এই যা!

    এইসব অজুহাত খাড়া করে যে সব মহিলারা কাজ করতে বেরোয় না, তাদের জন্যই এইসব কর্মক্ষেত্রের জেন্ডার বায়াসের এতো প্রাদূর্ভাব - পিতৃতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশী উৎসাহ এরাই দেয়!
  • পাই | 57.29.220.45 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:১০60129
  • ওই সার্ভে আদৌ ওয়ার্কপ্লেস নিয়ে ছিলনা মশায় যে লোকে সেক্সিজম বা ডিস্প্যারিটি কী তা বোঝেনি বলে উত্তর দেয়নি।

    যাহোক, এখানে একজনের পোস্টের ধরণে খুব মজা পেলাম। তিনি ডাটা ছিল কোয়ালিটিটিভ কথা বলেন, আবার যখন নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা জিগেশ করা হয়, তখন ব্যংগ করেন, ডাটা ছেড়ে আনেকডোট কেন! ঃ)

    যাহোক, এখনো অব্দি এই নিয়ে কোন ডাটা পেলাম না , যে সেক্সুয়াল বা নানাবিধ হ্যারাসমেণ্টে ক্লাস ভেদে কোন পার্থক্য হয়না!
    উলটে উল্টোটা পেয়েছি।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:২৫60130
  • পাই, আমি পার্টিকুলারলি আপনার সার্ভের কথা লিখিনি। বলেছি যে জেন্ডার বায়াসে বা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের ক্ষেত্রে আন্ডার রিপোর্টিঙ্গ হয়।

    https://hbr.org/2016/10/why-we-fail-to-report-sexual-harassment

    এরপরে আপনি লিখেছিলেন যে সার্ভেতে আন্ডার রিপোর্টিঙ্গ হতে পারেনা। তার উত্তরে আমি লিখেছিলাম যে কিছু কিছু সেন্সিটিভ ক্ষেত্রে সার্ভেতেও আন্ডার বা ওভার রিপোর্টিঙ্গ হয়েছে। লিন্ক আর দিইনি। একটু গুগল সার্চ করলেই সেগুলো পাওয়া যাবে।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:২৮60131
  • তাও একটা লিন্ক দিলাম। এইটুকু পড়লেই বুঝতে পারবেন যে সার্ভেতেও কেমন আন্ডার রিপোর্টিঙ্গ হচ্ছে।

    According to some statistics, sexual assault is virtually nonexistent at U.S. colleges and universities. An Inside Higher Ed survey of hundreds of college presidents last year found that only 6 percent of respondents believe it’s prevalent on their respective campuses. And according to a recent American Association of University Women (AAUW) analysis of newly released Education Department data, the vast majority of colleges and universities in the U.S.—91 percent—reported zero incidents of rape last year.

    Few would doubt that these numbers seriously underestimate how often sexual assault happens in college. After all, it’s conventional wisdom that, nationally, one in five female students will experience sexual violence before graduating. “If the data was accurate it’d be something to celebrate, but we know it's not accurate,” Lisa M. Maatz, the AAUW’s vice president of government relations, said earlier this month, commenting on the AAUW’s revelation.

    https://www.theatlantic.com/education/archive/2016/01/why-the-prevalence-of-campus-sexual-assault-is-so-hard-to-quantify/427002/
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন