এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৯ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং , অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sswarnendu | 41.164.232.149 (*) | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:১৮60072
  • দুরন্ত
  • sswarnendu | 41.164.232.149 (*) | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:২২60073
  • যদিও লেখাটায় কেমন একটা তাড়াহুড়োর ছাপ।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৪২60074
  • ঈশান দা অনেকটা সময় কভার করেছেন উনার লেখায়। আমারো সিমিলার অবজারভেশন, তবে নব্বই থেকে। কিছু কিছু জায়্গায় মতাভেদ আছে যদিও। যেমন, হিলারীর কালোদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বোধয় উনার লাস্ট নেমের জন্য।

    দুটো কথা না লিখে পারছিনাঃ

    ১) এটা ঠিক যে কট্টর বার্ণী আর কট্টর হিলারীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ভোটের আগেও ছিলো, এখনো আছে। ২০১৬র ইলেক্শন হারার অনেক কারণের মধ্যে এটিও একটা। তবে এই বিরোধ দুপক্ষের মধ্যেই আছে; এক্দল আরেকজনকে ভোট দেবেনা। তাতে পার্টির চুরান্ত ক্ষতি হয়েছে/হচ্ছে। সেই বিরোধ না কমলে পরবর্তী ইলেক্শনেও ডেমোক্র্যাটদের খুবেকটা ভালো ফল হবে বলে মনে হয়না। বিল মেহর অনেক হাবি জাবি কথার মধ্যে একটা খুব দামী কথা বলেছেন "an imperfect friend is better than a dangerous enemy"

    ২) ঈশানদা একটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট ইস্যু তুলেছেন, তা হলো বামপন্থীদের ক্লাস স্ট্রাগলের কি হলো? কেন পশ্চীম বঙ্গ ২০০০ সালের পরে মল, মুত্র, মাল্টিপ্লেক্স, ফ্লাইওভার, সেক্টর ফাইভের পাল্লায় পড়লো। কেনই বা আম্রিগাতে এখন এইসব শাইনিঙ্গ লোকেরা লেফট লিবারিলিজমের ঠিকাদারি নিয়েছে?

    আমার মনে হয় এর দুটো কারন আছে। ঈশানদার নিজের লেখাতেও কিছুটা রয়েছে। সোভিয়েত ভাঙ্গার পরে সকলে জানতে পারলো যে তেমন স্বর্গ রাজ্য কিছু ছিলোনা, লোকজন বেশ খারাপ অবস্থাতেই ছিলো। বাম ইকনমির কোনো সফল মডেল হাতের সামনে নেই। চীনের মডেলে ক্রমশ ফ্রি ট্রেড, গ্লোবালাইজেশন, ট্যাক্স, মার্কেট ঢুকছে। অন্যদিকে, ততদিনে লোকে আম্রিগা দেখে ফেলেছে। ৯০ এর দশক আম্রিগার অন্যতম সেরা দশক। কমিউনিজমের পতন, প্রথম ইরাক যুদ্ধ, পার্সোনাল কম্পিউটার, গ্লোবালাইজেশন, বিল ক্লিন্টন, একাধিপত্য, ব্যালেন্সড বাজেট, লিবারিলিজম, হলিউড, দারুন ইকনমিক গ্রোথ - সব হয়েছে। আর তার থেকে ভাগ খেয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে কাছের শহর ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদ। ছেলে পিলেরা এসে বলছে সেসব শহরের কথা (শুধু ভালোটুকু)। ইনফোসিসের ক্যাম্পাস দেখলে মনে হতো - ক্যাপিটালিজম জিন্দাবাদ। আমাদের শহরে কবে হবে? তাই সবাই ধরেই নিলো যে ক্যাপিটালিজমই একমাত্র মডেল, ওর মধ্যে থেকেই যা করার করতে হবে। দু চারটে র‌্যাগস টু রিচ উদাহরণ বেরোতে লাগলো। অতেব সিলেবাস থেকে ক্লাস স্ট্রাগল বাদ পড়লো।

    আম্রিগাতে বোধয় ক্লাস স্ট্রাগল ব্যাপারটা কোনোদিনই ছিলোনা। প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্স, পিছড়ে বর্গদের (পড়ুন কালো-ল্যাটিনো) কিছু সুযোগ সুবিধা, আর দুয়েকটা বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা - এর বাইরে কেউ ভাবতেও পারতোনা। সোশালিজম ওয়াজ অ ট্যাবু ওয়ার্ড। ব্যাপারটা বদলালো ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পরে। দুটো ক্যাম্প তৈরী হলো। একদিকে বার্ণী, ওয়ারেণের মতন লোকেরা; অকুপাই ওয়াল স্ট্রীট। তাদের মতে ক্যাপিটালিজম ইজ নট ওয়ার্কিঙ্গ, বিকজ ইট ইজ রিগড ইন ফেভার অব বিগ ব্যান্কস অ্যান্ড কর্পোরেশনস। চেন্জ চাই। ২০০৮এর ইলেক্শনে জন ম্যাকেইন হারলেন (সারা প্যালিনও ছিলেন, ইনি মহিলা হলেও ইনাকে কেউ ফেমিনিস্ট বলেছে বলে মনে পরেনা - ঈশান দার একটা প্রশ্নের উত্তর বোধয় এখানেই পাওয়া যায়)। ২০১২ তে ব্যারাক ওমাবা আবারও জিতলেন।

    এইবারে আরেকটা দল তৈরী হলো, যারা জল ঘোলা করতে নেমে গেলো। রিশেসনের কারণ অবশ্যই গ্লোবালাইজেশন। কিন্তু তার জন্য দায়ী যারা কাজ অন্য দেশে পাঠিয়েছে এবং ফায়্দা লুটেছে, তারা নয়। দায়ী হলো যারা এইসব কাজ পেয়েছে, তারা। তারা দায়ী নয় যারা ক্রাইসিসের পরে বিনা ইন্টারেস্টে বিলিয়নস অব ডলারস লোন নিলো। দায়ী হলো তারা, যারা সরকারের থেকে মাসে কয়েকশ ডলারের ভিক্ষা পায় - নইলে মারা পড়তো। তেলের কোম্পানির সুবিধার্থে যুদ্ধে যাওয়া যায় ট্রিলিয়ন খরচ করে, কিন্তু কয়েক মিলিয়ন ডলার দিয়ে এনপিআর চালানো যায় না। আর কত লিখবো? ইরাক যূদ্ধের জন্য ওবামাকে দায়ী করে, এমন লোকও এদেশে আছে। শুধুমাত্র সাদা আর পুরুষ হওয়ার সুবাদে আর সফল হওয়া যাচ্ছেনা এই দেশে (কেউ পারলে ম্যাড মেন দেখবেন)। ফলে ন্যারেটিভ চেন্জ হয়ে গেলো। যেসমস্ত এলাকা, শহর, রাজ্য গ্লোবালাইজেশন, লিবারিলিজম, ইমিগ্রেশনকে এমব্রেস করলো সেখানে উন্নতি হলো। ফলে ক্লাস স্ট্রাগল বাদ পড়লো আবারো।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৪৯60075
  • "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?"

    অবশ্যই নয়। কিন্তু পলিসি যখন তৈরী হয় তখন তো আর ইন্ডিভিজুয়াল ধরে তৈরী হয়না। এখন অবশ্যি হচ্ছে। রিপাব্লিকানদের নতুন ট্যাক্স প্ল্যানে নাকি গল্ফ কোর্স ওয়্নারদের বড় ট্যাক্স ব্রেক দেওয়া হচ্ছে। একেবারে লাস্ট নেম ধরে দিলেই হতো।

    কালো মানুষ বা মেয়ে মানেই নিপীড়িত নয়; কিন্তু একজন অ্যাভারেজ কালো মানুষ বা মহিলা পিছিয়ে আছে - সেটা মানতেই হবে। পারলে ম্যাড মেন দেখতে হবে। এই কয়েক দশক আগেও মহিলাদেরকে কেমন ডোরম্যাটের মতন ব্যবহার করা হতো, সেটা দেখার জন্য।

    আরো অনেক অনেক কথা বলার আছে। কিন্তু অত লিখতে পারবোনা। কখনো দেখা হলে বলবোখন।

    Back in 1979, white Americans earned an average hourly real wage of $19.62 compared to $16.07 for blacks, making for an 18.1 percent wage gap. While the gap narrowed in the late 1990s, it began to expand again in 2000. According to new research by the Economic Policy Institute, in 2015, the racial wage gap stood at 26.7 percent, with whites taking home an hourly real wage of $25.22 on average, compared to $18.49 for blacks. The gap is especially wide for young black women and black male college graduates, both of whom trail their white counterparts' earnings by a significant distance.
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৫৬60077
  • মহারাজ সুবলের পুত্রের কায়্দায় একটাকে আরেকটার বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়ে ঘোঁট পাকিয়ে দেয় তো! তারপরে কুরুক্ষেত্তর !
  • dd | 59.207.59.177 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৪৯60078
  • ঈশেনের লেখা ভালো লাগলো। ভাল লাগলো মানে একমত হলাম আর কি। না হলে কি আর পছন্দ হয়?

    আমার একটাতেই অসুবিধে, এই যে আমেরিকান পোলিটিকাল ঘটনাবলী লেখা হোলো - সেগুলি খুবই ভাসা ভাসা জানি। রিলেট করতে পারি না। তবে বাকীরা বোধহয় খুবই স্বচ্ছন্দ।

    লেফট লিবেরেলদের "বিশ্বাসযোগ্যতা" , আমাদের সময়ে তর্কাতীত ছিলো। এখন বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় (এমন কি গুচতেও) একটানা ফেক নিউস দিতে দেখি ।গেরুয়া চাড্ডী আর বাম চাড্ডীদের কোনো ফারাক নেই। সেই নন্দীগ্রাম থেকে শুরু আর এখন তো গমগমিয়ে চলছে।

    পিনাকি মিত্তির বাবুও এট্টু আট্টু লিখলেই পারেন। তাহলে বেশ জমে।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:২৩60081
  • ডিডিদা মাঝে মাঝে স্মরণ করেন। ভাল্লাগে। কিন্তু বড় চাপ। সময় নাই মোট্টে। দেখি সামনের বছর একটু আচ্ছে দিন আসে কিনা। :-(
  • de | 69.185.236.51 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ১০:৪৭60079
  • বিশাল সময় কভার করা - ভালো লেখা!
    লিবারালদের ঘোর দূর্দিন দুনিয়া জুড়ে - লেফট কি রাইট!
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ১২:২১60076
  • ক্লাস, কাস্ট, রেস, জেন্ডার -এ সব কিছু নিয়েই লড়াই তো একই সাথে চলতে পারে।

    একটার জন্য অন্যটাকে বাদ দিতে হবে, এমন তো নয়
  • ??? | 116.208.3.149 (*) | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ১২:২৭60080
  • “একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি” ঠাট্টাইয়ার্কি এখনো জারি আছে তো? শ্রেণীচেতনা বর্জিত লিবারেলবাজির হাত থেকে মুক্তি সর্বাগ্রে কাম্য। বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া ওনাদের বিশেষ অবদান নেই।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ০১:০৫60082
  • মিত্তির বাবু লিখলে আমিও খুশী হই, ঋদ্ধ ইঃ হই :-)
  • রৌহিন | 116.203.161.0 (*) | ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৫৮60083
  • একটা বিষয় আমার খুব অদ্ভুত আগে - কেমন যেন কনফিউজড হয়ে যাই। এই ধরণের ডিসকোর্সে বারবার দেখি ক্লাস স্ট্রাগলকে জেন্ডার, কাস্ট, রেস প্রভৃতি আইডেন্টিটি থেকে আলাদা করে দেখা হয়। আমার কেমন জানি মনে পড়ে ছোটবেলায় বুঝেছিলাম, জেন্ডার বা কাস্ট ডায়ালেক্ট (পরবর্তীকালে রেস ডায়ালেক্টও) খুব প্রবলভাবেই এক্সিস্ট করে, কিন্তু এরা সকলেই একটা প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্টে বিলং করে - সেটা ক্লাস ডায়ালেক্ট। সেক্ষেত্রে এই প্যারালাল টানাটা, জেন্ডার বা কাস্ট নিয়ে কথা বলতে হলে ক্লাসের অস্তিত্ব কেন অবলিটারেট করতে হবে এটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারিনা। কোথায় ভুল ছিলাম আমরা?
  • sswarnendu | 138.178.69.138 (*) | ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৯60084
  • ফেবুতে লেখাটা শেয়ার করার সময় লিখেছিলুম, এইখানেও থাকুক।

    " নভেম্বর বিপ্লবের একশ বছরে আর একটা জরুরী লেখা। বিষয়বস্তু অসাধারণ, যদিও Saikat দার তুলনায় লেখাটায় একটু তাড়াহুড়ো অযত্নের ছাপ। আর শ্রেণীর রেটোরিকের বদলে শাইনিং অ্যাক্টিভিজমের উত্থানের কন্ট্যুরটা চিহ্নিত হলেও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্রেণীর মতই এথিক্স বিষয়টা জলাঞ্জলির কন্ট্যুরটা ততটা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয় লেখাটায়, তাই শেষ লাইনে 'বিশ্বাসযোগ্যতা' শব্দটার পরিপ্রেক্ষিত লেখার শরীরে পরিষ্কার হয় না। "
  • ??? | 116.208.69.37 (*) | ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৪60085
  • রৌহিনের প্রশ্ন ভাল লাগল, কাস্ট আর ক্লাস প্রসঙ্গে কোশাম্বি স্মর্তব্য।
  • pinaki | 118.171.129.188 (*) | ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৩৪60086
  • @রৌহিন, জেন্ডার বা কাস্টকে শ্রেণীর 'অধীনে' দেখা হত। আর সেভাবে দেখতে গিয়ে বাস্তবতঃ দেখা হত না, অথবা জাস্ট শ্রেণীদ্বন্দ্বকে তীব্র করার সহায়ক টুল হিসেবে দেখা হত। এটা মার্ক্সবাদীরা বদমায়েসি করে করত এমন নয়। ফর্মূলেশনটাই ওরকম ছিল - যেখানে 'শ্রেণী' বর্গটা অর্থনীতি অর্থাৎ 'বেস' এর সাথে যুক্ত বিষয়, আর জেন্ডার, কাস্ট - এগুলো 'সুপারস্ট্রাকচার' এর সাথে যুক্ত বিষয়। আর বোঝাপড়াটা হল 'সুপারস্ট্রাকচার' 'বেস'কে ফলো করে। তার নিজস্ব কোনো 'স্বাধীন' চলন নেই। এই বোঝাপড়ার কারণেই শ্রেণী বাদে অন্যান্য সত্ত্বার সমস্যাগুলো দ্বিতীয় সারিতে চলে যেত। সেটা যে খুব ভালো কিছু হত তা নয়। তাই এই ধরণের সত্ত্বাগুলোর নিজস্ব আন্দোলন-সংগঠন-বিশ্ববীক্ষা - এগুলোর প্রয়োজন ছিল। এখনও আছে। কিন্তু এখানে একটা ট্র্যাপ আছে। যেটা দেখা যাচ্ছে বাস্তবতঃ শ্রেণী বিষয়টাকে বাদ রেখে অন্যান্য সত্ত্বার রাজনীতি নিয়ে এগোতে থাকলে একটা সময় পরে সেটা শ্রেণী রাজনীতির উল্টোদিকে ব্যবহৃত হয়ে যাচ্ছে।

    আমার মতে শ্রেণীসহ সমস্ত রকমের পরিচিতি সত্ত্বার নিজস্ব আন্দোলন সংগঠন বিশ্ববীক্ষা থাকুক। লেফট্দের মূল বিষয় হল 'শ্রেণী'। তারা সেটা নিয়েই ভাবুক। জেন্ডারের সমস্যা নিয়ে বা কাস্টের সমস্যা নিয়ে ভাবুক তাদের নিজস্ব সংগঠন। কোনো ইস্যুতে এরা কনভার্জ করতে পারে (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই করবে), কোনো ইস্যুতে নাও করতে পারে। সেই টানাপোড়েন থাকুক। নইলে 'হোয়াইট মেল ওয়ার্কিং ক্লাস' আর 'কৃষ্ণাঙ্গ ওবামা + মহিলা ও ফেমিনিস্ট হিলারি'র মধ্যে পক্ষ নিতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হবে।
  • সৌভিক | 57.15.9.233 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৩৩60087
  • শুধু কাস্ট আর জেন্ডারের আইডেনটিটি মুভমেন্টই যে ক্লাস মুভমেন্ট এর জায়গা নিয়েছে তা নয়। এই দুটো মুভমেন্টও অসাম্য বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথাই বলে। কিন্তু সোভিয়েত ভাঙনের পরে আমাদের দেশে ও বিশ্বজুড়ে রিলিজিয়নের বাড় বাড়ন্ত হয়েছে সোশ্যাল স্পেসে, স্টেটের পলিসিতে। ইরানে খোমেইনির বিপ্লব সত্তর আশির সন্ধিক্ষণেই হয়ে গিয়েছিল। তারপর মিশর তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের এই দুটো অতি গুরূত্বপূর্ণ দেশেও অনেক বাঁক বদল হয়েছে। আফগানিস্থান ধরে মুসলিম টেরর অর্গান তৈরিতে স্টেট ইন্টিলিজেন্স ও ক্যাপিটালকে স্রোতের মতো ঢেলে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারপর তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়েছে সোভিয়েত উত্তর জমানায়। গোটা বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া নানা মাত্রায় মাথাচাড়া দিয়েছে। রিজন এর পরিবর্তে ডিসকোর্সে মেটাফিজিক্স, রিয়ালিটির জায়গায় পোস্ট ট্রুথ ক্রমশ আধিপত্য বিস্তার করছে।

    ক্লাস এসবের পাশাপাশি কখনো কখনো তেড়েফুঁড়ে উঠতে চেয়েছে। গ্রীসে সিরিয়া, স্পেনে পোডোমস, ব্রিট্রেনে করবিন, মার্কিনে বার্নি স্যান্ডার্স প্রায় একই সময়ের পাশাপাশি উত্থান। ইউরোপে ওয়ার্কাস স্ট্রাইক বিপুল সমারোহে ফিরেছে কয়েকটি দেশে। তবু সার্বিক বিশ্বাস ফেরার কাজটায় খুব বেশি দাগ কাটা গেছে তা নয়। তবে মাঝের শান্তিকল্যাণ নীরবতা পেরিয়ে আবার একটা আলোড়ন টের পাওয়া যাচ্ছে।
  • sm | 52.110.196.167 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৩৮60113
  • ইউকে স্ট্যাট দেখাচ্ছে গ্রাজুয়েট লেভেল এ সায়েন্স স্ট্রিমে ৪০ শতাংশ মেয়ে।পোস্ট গ্র্যাড লেভেলে ৩০ শতাংশ।
    প্রফেশনাল ও রিসার্চ লেভেলে ২০ শতাংশের ও কম।
    স্টাডির কনক্লুশন মেয়েদের ল্যাক অফ কনফিডেন্স ও অনিচ্ছা এর জন্য দায়ী।
    এটা সায়েন্স ও রিসার্চের জন্য প্রযোজ্য।
  • | 52.110.150.28 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৪১60114
  • উপসংহার ছাড়া বাকি অংশের সাথে প্রায় সহমত।বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের সাথে 'শ্রেণী'অসাম্য দুরীকরণের অস্তগামী চেতনার সম্পর্ক কতটা? চিন্তায় রামধনু-বহুস্বর ফুটলেই বা কতটা? সৎ ভাবে যেকোনো কিছুই নিষ্ঠা নিয়ে করলে বিশ্বাসযোগ্যতা টাল খাওয়ার কথা নয়। তার মানে কি যেকোনো পথচলারই সততা প্রশ্নহীন নয় বলছেন। তাহলে ঠিক আছে।কিন্ত এ তো আগেও তাইই ছিলো।
    তবে কথা হোলো এই যে আগে জাতি-লিঙ্গ এগুলোর চেয়ে শ্রেণী গুরুত্ব বেশী পেয়েছে সেইটা কি জাতি-লিঙ্গ নিয়ে কথা তোলার মানুষদের শক্তিময় অবস্থান ছিলো না বলে?সাবল্টার্ন কথা বলতে পারতেন কি? তাদের স্বর এসে উঠতে পারতো শক্তির উপরের স্তরে থাকা মননে? যাবতীয় মর্মস্পর্শী মননও কি নৈতিকতার নির্মাণ করে চলেনি নিজেরই প্রতিফলিত প্রতিঅস্মিতায়! তাই হয়তো জাতি-লিঙ্গ কেন্দ্রীক সাম্যের আকুতি প্রায় অদৃশ্য থেকেছে সেই চোখেও।
    আজ যে শাইনিং ঘেঁষা এক্টিভিসমের কথা উঠছে তার দর্শক কে? ধারক কে? একটা শহুরে,নাগরিক এবং প্রিভিলেজড চেতন ঋদ্ধ মন নয় কি? এবং তদ্দারা জাগ্রত সমাজের নানা অংশ?
    শ্রেণীচেতনা কার জেগেছিলো,সমাজের কোন অংশের? তারা নিজেরাও কি এলিট সমাজেরই নয়? সেই এলিট সমাজের বাইরের স্বর কতটা এসে দ্যাখা দিয়েছিলো তাদের কাছে।
    আজ যখন সেই এলিট এবং শক্তিধর সম্প্রদায়ের বাইরের স্বরগুলো ততটাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে যতটা হলে সমানে সমানে ঝগড়া করা যায়,হয়তো যুক্তি না মেনেও,তখন হয়তো মনে হচ্ছে শ্রেণী চেতনা অস্তমিত। প্রায়োরিটি নব নব রূপ নিচ্ছে যাকে খামচে ধরে নিপীড়ক বিলাসতন্ত্র নাচাচ্ছেও শাইনিং প্রত্যয়ে।
    অধোগতের স্বর প্রকাশ পেলে এ কী অনিবার্য নয়! 'দলিত' ছাত্রী এমন ভুতুড়ে লিস্টি বানাবেন - এইটা পঞ্চাশ বছর আগে ভাবা যায়না। দলিত মানুষ তখনও হয়তো আত্মহত্যা করেছেন,তবে তখন তিনি হয়তো ছাত্র ছিলেননা এলিটদের সমাজে তাই তার নাম কেই জানতে পারেনি।
    যেটা বলতে চাইছি তা হোলো যে লিঙ্গ/জাতির চেতনা কারুর বিনিময়ে আসেনি বলে মনে করি।শ্রেণীচেতনা কমে তার বদলে এসেছে এমন তো নয়ই। শ্রেণীচেতনা নিজেই কমেছে। নানা কারণে। যার একটা অবশ্যই কে দেখছে, কে বিচার করছে।অর্থনৈতিক শ্রেণীদের একটা বিশ্বাস আসছে যে উত্তরণ সম্ভব(হয়তো এও ছকে ফেলে জোর করে নির্মিত)।সে উত্তরণে শ্রেণী সংগ্রামের প্রয়োজন কমছে এলিটদের। আর তাই সূর্য অস্তমিত হতেই দ্যাখা দিচ্ছে আরও নানা তারা।যারা কেউকেউ কিনা আগেও ছিলো। শুধু সূর্যের সাথে একত্রে দ্যাখা যেতো না। তারাদের নৈকট্যও বাড়ছে,বেড়েছে। অনিপীড়ক বিলাসতন্ত্র হাত ধরেছে সবার - এই ভাবনার নির্মাণ চলেছে সরল গতিতে।
    শ্রেণীসংগ্রামের চেতনা এই হাত ধরার কাজ কি করেছিলো? নাকি বলেছিলো শ্রেণীসাম্য এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
    মানুষ তো হাত ধরা সখাকেই বিশ্বাস করতে চায়।সখার মুখ থাক বা মুখোস..
  • sm | 52.110.199.4 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:০৪60115
  • ইটা কতবার পড়লে ঠিক বুঝতে পারবো -দাদা /দিদি?
    কি লেখাই নামালে !
    এট্টু লেগ ডাস্ট !মিলবেক?
  • SS | 110.36.141.42 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৩২60088
  • ক্লাসের সাথে জেন্ডার, রেস, রিলিজিয়ন ইত্যাদির একটা ফান্ডামেন্টাল পার্থক্য আছে। ক্লাসের মধ্যে মোবিলিটি আছে, যেটা ডিসক্রিমিনেশনের অন্য টুলগুলোতে নেই। এক জেনেরেশান থেকে অন্য জেনেরেশনে এমনকি এক জেনেরেশনেও ক্লাস চেঞ্জ হয়ে যায় প্রায়্শই। আজ যে নিম্নবিত্ত, কয়েক বছরের মধ্যেই সে মধ্যবিত্ত, এমনকি উচ্চবিত্ত হয়ে যেতে পারে। ক্লাস চেঞ্জ হলে তার ক্লাস সংক্রান্ত প্রায়োরিটিও চেঞ্জ হয়ে যাবে। আর একশ বছর আগে শ্রমিক শ্রেণী বলতে যা বোঝাত আজ আর তা নেই। ক্লাসের আপওয়ার্ড মোবিলিটি যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় কখনো, তাহলে হয়ত আবার ক্লাস আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে।

    অন্যদিকে জেন্ডার, রেস বা রিলিজিয়ন ডিসক্রিমিনেশন ক্লাসের পরোয়া করে না। একশ বছর আগে মেয়েদের ব্যালট বক্সের অ্যাকসেস ছিল না। আজকের দিনে উবারের মহিলা ইন্জিনিয়ার, হলিউডের অ্যাকট্রেস আর ম্যাকডোনাল্ডের মিনিমাম ওয়েজের মহিলা ওয়ার্কার কে সমানভাবে ওয়ার্কপ্লেসে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের মুখে পড়তে হয়। কে কোন ক্লাসে খুব একটা ম্যাটার করে না। সেই রকম মিলিয়্নেয়ার এনেফেল প্লেয়ারকে পুলিশ ব্রুটালিটির মুখে পড়তে হয়, আফ্রিকান আমেরিকান হবার জন্যে। আপার, লোয়ার সব ক্লাসের জুইশরা গ্যাস চেম্বারে দাঁড়িয়ে ছিল। ইন ফ্যাক্ট, লাস্ট একশ বছরে রেস, জেন্ডার, রিলিজিয়ন, ন্যাশনালিটি বেসড ডিসক্রিমিনেশানের অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে, যা কিনা শুধু ক্লাস দিয়ে সমাধান করা যাবে না।
  • pi | 57.29.201.40 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৩৬60089
  • সব ক্লাসের মেয়েকেই সমান সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়, এটা কীসের ভিত্তিতে বলা ? স্টাডি আছে ?
  • b | 135.20.82.164 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫৭60090
  • এস এস "সমান" বলেন নি "সমান ভাবে"।
  • Ishan | 202.189.128.12 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৫60116
  • এই লিংগুলো পড়ে কী করব? আইটিতে মহিলারা প্রচন্ড সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার মেনে নেব? সিইও ফিইও লেভেলে জানিনা, সাধারণ কর্মচারীদের জিজ্ঞাসা করুন, এই গুরুতে যাঁরা আছেন, তাঁদেরই জিজ্ঞাসা করুন, পেশাগত জগতের সঙ্গে এগুলো মিলছে কিনা।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১১60117
  • S, আপনি লিখেছেন আণ্ডাররিপোর্টেড বলে। আমি কিন্তু রিপোর্টেড কেসের কথা আদৌ বলিনি। ভাল করে পড়ে দেখুন, ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেল্ত্থ সার্ভের ডাটা বলেছি। সার্ভের ডাটাকে রিপোর্ট আন্ডাররিপোর্ট বলেনা, কারণ আগেই বলেছি এখানে আইডেন্টিটি গোপন রাখা হয়। এটা ক্রাইম রেকর্ড্স ব্যুরোর ডাটা নয়। সেই ডাটায় প্রচণ্ড আণ্ডাররিপোর্টিং এর সমস্যা আছে বলেই সার্ভের ডাটা দেখা হয়েছিল।

    আর মাইনের ডিসপ্যারিটি নিয়ে এখানকার লোকজন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলছ্ন না কেন ?

    দেদির লাস্ট পোস্টে ক। আর এই দেরি হওয়ার ফ্যাক্টরকে ব্যালান্স করতেই এবার সায়েন্সে অন্ততঃ মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তোলা হচ্ছে বা অনেক শিথিল করা হচ্ছে বলে শুনলাম।
  • SS | 160.148.14.134 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৩60091
  • ধন্যবাদ b।
    হ্যাঁ। সমানভাবে। কোয়ালিটেটিভ সেন্সে। হলিউডের অ্যাকট্রেস, যিনি আপার ক্লাসে, তাকে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে নিজের শরীরকে ব্যবহার করতে দিতে হয়, অন্যের সেক্সুয়াল প্লেজারের জন্যে। উবারের ইন্জিনিয়ার, ধরে নিচ্ছি ইনি মধ্য কি উচ্চ মধ্যবিত্ত, তারো এক কেস। চাকরি ছেড়ে ব্লগপোস্টে জানিয়েছিলেন। আর ক্লাস স্ট্রাকচারে এক্দম লোয়ার স্ট্রাটায় থাকা ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করা মহিলা, তাকেও যে ম্যানেজারকে সন্তুষ্ট করতে হয় সেটাও সবার জানা।
  • rabaahuta | 132.167.19.7 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৪৩60118
  • দেদি লিখেছে -
    "on 15 November 2017 16:40:04 IST
    ...সন্তানের চাপ, সংসারের চাপ থোড়ি কারোকে নিজের কাজ ভালোবাসা আর ভালোবেসে করা থেকে আটকে রাখতে পারে!" বিভিন্ন লোকের কাছে বিভিন্ন সময়ে প্রায়োরিটি পাল্টে যায় সেটা মাথায় রেখেই বলা হয়েছে আশা করি; মানে এটা ধরে নেওয়া হচ্ছেনা যে সংসার ও সন্তান সর্বদাই চাপ আর কাজটা সর্বদা ভালোবাসা।
    নারী পুরুষ নির্বিশেষে ইনফ্যাক্ট।

    পুরুষদের ক্ষেত্রে আবার কাজের চাপ কাটিয়ে দিয়ে সংসার/ সন্তানের প্রতি ভালোবাসাকে পূর্ণ সময় দেওয়াটা একরকম অসম্ভব।
  • ঈশান | 108.222.93.92 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৪৭60092
  • এগুলো এভাবে বলা মুশকিল।

    প্রথমত, ক্লাস ওরকম দুমদাম বদলায়না। ক্লাসিক আমেরিকান ড্রিমের বিজ্ঞাপনে বদলাতে পারে, কিন্তু সে এক আধটা। বহুলাংশেই সেটা হয়না। প্রভার্টি ট্র্যাপ ইত্যাদি নিয়ে এইজন্যই এত কাজকর্ম করা হয়। ফলে লোকে দুমদাম করে শ্রেণী বদলে ফেলতে পারে, এরকম একটা ধারণা, চূড়ান্ত ট্রিভিয়ালাইজেশন ছাড়া কিছু না।

    দ্বিতীয়ত, জেন্ডারের প্রশ্নেও কোনো সরলীকরণ টানা মুশকিল। একজন আইটির কর্মী মহিলা আর একজন ইটভাটার মজদুর মহিলা, উভয়েই একইরকম যৌন হেনস্থার শিকার, এটা হওয়া মুশকিল (আইটিতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যৌন হেনস্থা বিরল, আইটির কর্মরতা মহিলারা সাক্ষ্য দিতে পারেন।) এখানে স্পষ্টতই হেনস্থার একটা শ্রেণীগত বিভাজন আছে।
    ঠিক, উল্টো বিভাজন, আরেকটা আছে, যদিও, সেটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত আন্দাজ থেকে বলা। ভারতবর্ষে পাবলিক ট্রান্স্সপোর্টে যৌন হেনস্থার শিকার মূলত মধ্যবিত্ত মহিলারা। নিম্নবিত্ত মহিলারা, যাঁরা ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে যাতায়াত করেন, বা বাড়ি-বাড়ি কাজ করেন, তাঁদের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সেইরকম যৌন সুখ পেতে কাউকে দেখিনি। ফলে এখানেও একটা ক্লাসের ব্যাপার আছে।
    আবার অ্যাকাডেমিক্সে, শুনেছি, যৌন হেনস্থা ভালই হয়, যদিও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ্তা নেই। সেখানেও একটা শ্রেণীগত গল্প থাকা সম্ভব, যেহেতু মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাই অ্যাকাডেমিক্সে যাবার সুযোগ পান। অবশ্য অন্যরকমও হতে পারে। সেক্ষেত্রে এখানে শ্রেণীগত বিভাজন ধোঁয়াটে। যাঁরা একাডেমিক্সে আছেন, বলতে পারবেন ভালো। কিন্তু মোদ্দা কথা হল, এই জটিল চিত্রটা শ্ণীগত বিভাজন বাদ দিয়ে ভাবাই অসম্ভব।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৫১60119
  • 'সংসার/ সন্তানের প্রতি ভালোবাসাকে পূর্ণ সময় দেওয়াটা ' বোরিং-ও হয়ে যেতে পারে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে ।

    কাজ + সংসার/সন্তান এই কম্বোতে, যদি ম্যানেজ করা যায়, বৈচিত্র্য বেশি।

    অবশ্যই পসন্দ আপনা আপনা
  • SS | 160.148.14.151 (*) | ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১২60120
  • এই গুরুতে যারা আছেন, তাদের অ্যানেক্ডোটই যে কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শেষ কথা তা জানা ছিল না।
    সেই হিসাবে এই গুরুতে যারা আছেন, তারা সবাই ক্লাস হিসেবে আপওয়ার্ডলি মোবাইল বলে আমার মনে হয়। তো সেই হিসেবে শ্রেণীসাম্য ইরেলিভ্যান্ট। তাহলে অরিজিনাল পোস্টে যে সমস্যার কথা বলা হয়েছিল, যে লোকে আর শ্রেণী নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না, তার কারণ পাওয়া গেল। আর তাহলে কোনো সমস্যা নেই। ঝামেলা মিটল।
    এলেন পাও এর ট্রায়াল এর পর সিলিকন ভ্যালিতে একটা সার্ভে হয়েছিল। তাতে প্রায় ৬০% মহিলা জানিয়েছিলেন তারা কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার। এরা এই ফোরামের বাইরে নিশ্চই।

    https://www.elephantinthevalley.com/

    S,
    ক্লাস মোবিলিটির উদাহরণ খোঁজার জন্যে ফোর্ব্স কেন পড়তে হবে? ওটা তো একটা একস্ট্রিম। সাধারণত, যেটা দেখা যায়, ব্লু কলার ফ্যামিলি থেকে আসা ছেলেপুলেরা হায়ার স্টাডিস শেষ করে হোয়াইট কলার জব করে। একটা ধাপ তো এগিয়ে গেল। অনেকেই ফার্স্ট জেনেরেশান কলেজ গোয়ার। আর এই আমেরিকান ড্রিম কিন্তু স্প্রিন্ট নয়, র‌্যাদার রিলে রেস। প্রতিটা প্রজন্ম তার পরের প্রজন্মকে কিছুটা এগিয়ে দেবে। অবশ্য লাস্ট দশ বছরে এই মোবিলিটির রেট কমেছে এই রকম একটা ডেটা দেখেছিলম। কিন্তু রেট স্লো হলেও এখনো মোবিলিটি আছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন