এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • গুরুচন্ডা৯ -- কিছু কথা, কিছু আলোচনা

    ঈশান লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৬ মে ২০১৬ | ১০০৫৭ বার পঠিত
  • গুরু, শুরুর দিন থেকে ধরলে বছর বারো বছর মত হল। অনেক রাস্তা টাস্তা হাঁটা হয়েছে, আমরা একই সঙ্গে নেটে এবং প্রকাশনা জগতে পা ফেলেছি। এখন আর শুরুর দিকের টলমল নেই, নেট এবং প্রকাশনায় গুরুর মোটামুটি একটা ব্র‌্যান্ড ভ্যালু হয়েছে। খুব বড়ো কিছু না, আবার খুব ছোটোও কিছু না। গুরুর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনা আছে, সেটা জানানোর, এবং আলোচনায় ফেলার জন্যই এই পোস্ট। অনেক গুলো কথা একসঙ্গে বলা হয়েছে, একটু ধৈর্য্য ধরে জনতা যদি পড়েন তো বাধিত হব। এছাড়াও খুব তাড়াতাড়ি করে লিখছি, কিছু ভুলভ্রান্তি অনবধানে হয়ে যেতে পারে, সে জন্য আগাম মার্জনা।
    প্রথমে গুরু কিভাবে বই ছাপে, এবং কেন ছাপে, সে নিয়ে দুই লাইন। প্রথম থেকেই আমাদের বই করার উদ্দেশ্যটা ছিল, সস্তা এবং পুষ্টিকর, যে কারণে চটি বই নামক ধারণাটির জন্ম। চটি নামটা একদম ইচ্ছাকৃতভাবেই দেওয়া হয়েছিল। চটি মানে স্রেফ সরু না, ‘চটি’ বলতেই বাঙালির অবচেতনে একটা বটতলার অনুষঙ্গ চলে আসে। ছাপা ও বাঁধাই সহ সেই অনুষঙ্গটা খুঁচিয়ে তোলার জন্যই বইয়ের নাম চটি। সচেতনভাবেই। বস্তুত মলয় রায়চৌধুরির একটা বইয়ের ভূমিকায় এরকম লেখাও হয়েছিল, ‘লেখক চেয়েছিলেন একটি বটতলার বই, আমরা ছেপেছি চটি’। বলাবাহুল্য উদ্ধৃতিটা হুবহু না, এখন আর খুঁজে বার করে দেখতে ইচ্ছে করছেনা, কিন্তু বিষয়টা এটাই। পুষ্টিকর জিনিস ছাপব, পাঠক লুফে নেবে, কিন্তু দামেও বেশি হবেনা, এই ছিল লক্ষ্য। লক্ষ্যটা এক অর্থে খানিকটা রাজনৈতিকও। একদিকে বাংলা ভাষার কোনো পাঠক নেই, কেউ পড়েনা, এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনে আসছি। অন্যদিকে বইয়ের দাম অসম্ভব রকম বেড়ে চলেছে। দুটো একসঙ্গে হওয়া মুশকিল। বই লোকে না পড়লে বেশি দামী বই আরোই পড়বেনা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এটা ঘটে চলেছে। কারণ, প্রকাশকের দিকের লক্ষ্যটা থাকছে, যেহেতু পাঠকসংখ্যা কম, তাই কোনোক্রমে তিরিশ (বা চল্লিশ বা একশ)টা বই বেচেই যেন প্রফিট করে নেওয়া যায়। অতএব দাম হু হু বাড়ছে। এবং বালবাহুল্য পাঠক সংখ্যাও কমে আসছে। বলাবাহুল্য এটা একটা স্বল্পমেয়াদি লাভের আত্মঘাতী ধারণা। শর্টকাটের ধারণা। সেটার বিশদে পরে আসছি। কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের একটা স্টেটমেন্ট দেবার ছিল। যার মূল পয়েন্ট দুটোঃ ১)বইয়ের পাঠক এখনও আছে। ২)কম দামে বই করা যায়। লোকে কেনে। পাঠক সংখ্যা তাতে কমে না, বাড়ে। কারণ লোকে কাগজের কোয়ালিটি পড়েনা, বই পড়ে। বাঁধাই ধুয়ে জল খায়না, ছাপা অক্ষর পড়ে।
    তা, এই স্টেটমেন্টটা আমরা রেখেছি। তাতে নানারকম সমস্যা হয়েছে। অন্তত একটি বড়ো পুস্তক চেন, আমদের বই রাখেননি। কারণ, একটা বইয়ের দাম যদি মিনিমাম তিনশো (বা চারশো ব পাঁচশো) টাকা না হয়, তাহলে তাঁদের প্রফিট মার্জিন বিশেষ থাকেনা। লার্জ স্কেলে অল্প প্রফিটে জিনিসপত্র বেচলে কেন শেষপর্যন্ত বেশি প্রফিট হবেনা, এই যুক্তিজাল তাঁদের মাথায় নেই। তো, এটা জেনেই খেলতে নামা হয়েছিল। কিছু বিকল্প আউটলেট ভাবা হয়েছে এবং হচ্ছে। তার মধ্যে বইমেলাটা সবাই জানেন, কিন্তু আরও বেশ কিছু আউটলেট, তালিকায় জমা হচ্ছে। সেসব যথাসময়ে ও স্থানে প্রকাশ্য।
    তা, এই সমস্যাটা আমাদের জানা ছিল। কিন্তু খুব সাম্প্রতিককালে আরও কিছু সমস্যা দেখা গেল, যেগুলো আগে থেকে ভাবা যায়নি। সমস্যাটার ফোকাল পয়েন্ট একটাই। যে, গুরুর জনপ্রিয়তাকে অনেকেই তাঁদের নিজেদের মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এর গোটা দুই তিন উদাহরণ আছে। শেষ থেকে শুরু করা যাক। আমাদের বইপত্রের জনপ্রিয়তা, যেকোনো কারণেই হোক, ভালো। কারণ বলতে লেখক আছেন, লেখার মান আছে, আমাদের প্রচার আছে, এবং অবশ্যই পাঠকের বিশ্বাস আছে, যে আমরা যা করি বেছেই করি। বই গছিয়ে দেবার জন্য করিনা। ফলে অনেকেই এসে বাঞ্চে বই নিয়ে যান। এবং বইপত্র শেষ হয়ে যায়, পাবলিসিটিও হয়। তা, সাম্প্রতিককালে দেখা গেল, এক লেখকের এরকম কিছু বই আমাদের বিপণনে জনপ্রিয় হবার পর, একটি তুলনামূলক ভাবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান, তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে ফেলল, যে, তারা তাঁর রচনাবলী ছাপবে। সে খুবই আনন্দের কথা। কিন্তু সঙ্গে সাবক্লজ এই, যে, তাঁর আর কোনো লেখা, এমনকি যেগুলো আমরা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করে ফেলেছি, সেগুলোও আমরা আর ছাপতে পারবনা। ফলে, বস্তুত জিনিসটা দাঁড়াবে এই, যে, বিপণনটি আমরা করলাম, কিন্তু এরপরে আগ্রহী পাঠককে পাঁচগুণ দাম দিয়ে সেই বই কিনতে হবে অন্য প্রকাশনা থেকে। পাঠকসংখ্যা নিশ্চয়ই বিপণনের কারণে কিছু বাড়বে। কিন্তু আমরা যে উদ্দেশ্যে বইটি ছাপছিলাম, উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হবে। এটা আমরা আটকাতে পারিনি, কারণ আমরা কোনো লেখকের কোনোরকম স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হোক, এই চুক্তি করিনা। কিন্তু বই প্রিন্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে ন্যূনতম শর্তাবলী আরোপ করার কথাই ভাবা হচ্ছে।
    দ্বিতীয় ঘটনাটি (কালানুক্রমিকভাবে সেটা অবশ্য আরও আগে ঘটেছে) আরও বিস্ময়কর। আমাদের কাছে একটি পত্রিকা ‘অন্য যৌনতা’র একটি লেখা ছাপবে বলে অনুমতি চেয়েছিল, আমরা বলেছিলাম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলে ছাপতে পারেন। কার্যত দেখা গেল এক গাদা লেখা ছেপে বসে আছেন, এবং কোনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার নেই। এটা ছিল একটা পত্রিকা, এবং তারপর, আরও বিস্ময়কর, যে, একজন নামী প্রকাশক, সেটাকে বই বানিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিলেন। তাঁরা অনুমতি চাননি, আমাদের জানানও নি। হয়তো ইনফর্মেশন ছিলনা, তাও হতে পারে, জানা নেই। তা, আমরা জানার পর আপত্তি জানিয়ে এসেছি। বইটা ছাপা হয়েছে বলেও শুনিনি। হয়তো অসদুদ্যেশ্য কিছু ছিলনা, শুধুই যোগাযোগের অভাব ছিল। সেটা আমাদের জানা নেই। কিন্তু আমাদের দিক থেকে ঘটনাটা হল, যে, আমরা একটি উদ্যোগ নেব, দীর্ঘদিন পরিশ্রম করব, কম দামে পাঠকের হাতে তুলে দেব, আর সেটাকে বিনা আয়াসে মলাটে বেঁধে কেউ তিনগুণ দামে বিক্রি করার উদ্যোগ নিচ্ছেন, বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি ছাড়া, এতে করে ‘সস্তায় চটি বই’ কনসেপ্টটি চূড়ান্ত ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমরা হচ্ছি।
    এইগুলো আমার দিক থেকে মনে হছে, অন্য কিছু না, শর্টকাটের প্রসেস। ‘বইয়ের বিক্রি হয়না’, অভিযোগটা যে জায়গা থেকে আসে। বইয়ের দাম প্রচুর বাড়িয়ে চট করে লাভ করে নেবার ধারণাটা যে জায়গা থেকে আসে। এবং অন্য উদ্যোগের ফল থেকে ঝট করে লাভ করে নেবার ইচ্ছেটা(কখনও অনৈতিকভাবেই) যেখান থেকে আসে। প্রচুর পাবলিকেশন হলে সমস্যা নেই। যত বই ছাপা হয়, তত ভালো। কিন্তু ছাপার এবং স্বল্পমেয়াদি লাভ করার বাসনায় পাঠকসংখ্যা কমিয়ে বাংলা বইয়ের অন্তর্জলী যাত্রার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হচ্ছে। কেউ বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছনোর কষ্টসাধ্য কাজটা করছেননা। গুরু এত বছর ধরে যে নেট ওয়ার্কটার পিছনে সময় দিয়ে যাচ্ছে। উল্টোদিকে তৈরি নেটওয়ার্কটা ব্যবহার করে পুশ সেল টেল করে ঝটিতি কর্ম সমাধা করছেন। যেটুকু পাঠকবেস তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে, অত্ঃপর কামড়াকামড়ি হবে। এর বাইরে যে বিরাট আন এক্সপ্লোরড এলাকা পড়ে আছে, সেদিকে কোনো নজরই নেই কারো।
    আমরা এই শর্টকাটের পদ্ধতিটা কখনও নিইনি। এই বারো বছর ধরে আমরা লড়ে গেছি। শূন্য থেকে শুরু করে। আজ পর্যন্ত অন্য জায়গা থেকে যেকটি লেখা আমরা নিয়েছি, প্রতিটি, অনুমতিসাপেক্ষে। এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার সমেত। একটিও ব্যতিক্রম নেই। জয়া মিত্রের একটি অনুবাদ লেখা আমরা প্রকাশ করেছিলাম। আমেরিকান প্রকাশকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে (আসলে ডলারে কিনতে হয়েছিল), দেরি হওয়ায় জয়াদিকে দুঃখ দিয়ে আমরা বই প্রকাশ গোটা একবছর পিছিয়ে দিই। ফলে আমাদের দিক থেকে এই শর্টকাটটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য না। লেখার অনুমতি নেওয়া, সৌজন্য স্বীকার, নেটে হোক বা বইয়ে, আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যেদুটো উদাহরণ দিলাম, তার বাইরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব ঘটেছে। সেটা কাম্য না। আমরা নিজেরা এগুলো মেনে চলি, অন্যরাও মেনে চলবেন, প্রত্যাশা করি। যেকোনো জায়গায়, এর অন্যথা হলে, আমরা যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেব।
    তো, এইগুলো হল বাহ্যিক সমস্যা। আভ্যন্তরীন কিছু গপ্পোও আছে। কিছু সমস্যা, কিন্তু পরিকল্পনা। মূলত যেগুলোর জন্য এই লম্বা এবং বোরিং লেখার অবতারণা। প্রথমে সমস্যাটা বলি। সেটা গুরুর মডেল সংক্রান্ত। মডেল বলতে চটি বই, ইত্যাদি, যেটা আগেই ব্যাখ্যা করলাম। আমরা বইয়ের দাম কম, খুবই কম রাখি। নীতিগতভাবেই। ফলে বইয়ের বিক্রি খুবই ভালো হলেও, আমাদের মেরেকেটে টাকাটা উঠে আসে। কখনও সামান্য কিছু লসও হয়, কিন্তু সেটা অ্যাবসর্ব করে নেওয়া যায়। এগুলোর কোনোটাই কোনো সমস্যা না, কারণ আমরা প্রফিটের জন্য এই খেলায় নামিনি। সমস্যা এই, যে, এইভাবে চললে আমাদের টাইটেলের সংখ্যা প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছেনা। প্রাথমিক বিনিয়োগ কম থাকায়, যেটুকু রোল করছে, সেটা থেকেই পরের বই ছাপতে হচ্ছে, এবং আমরা বছরে চার-পাঁচ-ছয় এর বেশি বই ছেপে উঠতে পারছিনা। শুরুর দিকে, এটা কোনো সমস্যা ছিলনা। ছাপার জন্য অত বই ছিলনা। কিন্তু এখন তো ঠিক শুরুর ফেজ না। প্রকাশযোগ্য বইয়ের সংখ্যা দেখি ভালই। কিন্তু অত বই ছেপে উঠতে পারিনা। ফলে ক্ষতিটা পাঠকেরই হয়। এই হচ্ছে সমস্যা।
    সমস্যা সমাধানের একটা উপায় হতে পারে, ঝট করে বইয়ের দাম বাড়ানো। সেটা করতে চাইনা একেবারেই। নীতিগতভাবে চটি বই শুরু করার লক্ষ্য একটাই ছিল, কম দামে সস্তা বই পাঠকের কাছে পৌঁছনো। সেটা থেকে সরে ‘দামী’ প্রকাশক হবার কোনো মানে নেই। সেটা ভাবাও হচ্ছেনা। পরিবর্তে আরেকটা উপায় ভাবা হচ্ছে। যদি বইয়ের স্পনসরশিপ নেওয়া যায়। ব্যক্তি করুন বা প্রতিষ্ঠান( যদিও কেন কোনো প্রতিষ্ঠান এটা করবেন, জানা নেই, কিন্তু তবুও, বলা তো যায়না)। অফিশিয়ালি সেটার নাম দেওয়া যায় "বই দত্তক নেওয়া"। মডেলটা এরকমঃ যাঁরা প্রোজেক্টটায় আগ্রহী, হাত তুললেন। আমরা সম্ভাব্য বইয়ের নাম বা তালিকা তাঁদের কাছে উপস্থিত করলাম। এবার সেখান থেকে বেছে নিয়ে (যদি পছন্দ হয়)একটি বইয়ের আংশিক বা সম্পূর্ণ খরচ আগ্রহীদের মধ্যে থেকে কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান বহন করলেন। বইতে তাঁদের নাম দেওয়া হল। লেখকও কিছু টাকা পেলেন, বইয়ের দামও সস্তা রাখা হল। বলাবাহুল্য টাকাটা দত্তকদাতা ফেরত পাবেননা। ওটা বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে রোল করবে। এক্সক্লুসিভলি।
    দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাপারেও সাহায্য চাইব। সেটি আর্থিক নয়। একটা গুরুচন্ডালি লেখক-পাঠক সমবায় তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। তেমন কিছু না, একটি মেলিং লিস্ট। সেখানে যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা বইগুলি নিয়ে নানা প্রোমোশানে একটু সাহায্য করবেন। টুকটাক আর কি। এটাও বেশ জরুরি কাজ, কিন্তু খুব বেশি পরিশ্রম নেই। কেউ আগ্রহী থাকলে জানাবেন।
    আমার/আমাদের দিক থেকে মডেল এটাই। চটি পাঠকের কাছে পৌঁছনোর একটা পন্থা। পাঠকসংখ্যা বাড়ানো, পাঠকের কাছে বই নিয়ে যাওয়া, এই আমাদের ঘোষিত অবস্থান। চটি একটা উপায়। চটি ছাপব, দরকার হলে অন্য পন্থাও নেব। কিন্তু পাঠকের বেস বাড়ানোর অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে সরছিনা। বিষয়টায় আগ্রহী হলে জানান। অন্য কোনো মতামত থাকলেও অবশ্যই জানান। সেই জন্যই এই লেখা জনারণ্যে প্রকাশ করা। কীভাবে কী করা হয়, ভাবা হয়, ভাবা হচ্ছে, এই নিয়ে নানা স্পেকুলেশন, প্রচার, অপপ্রচার নানাদিকে হচ্ছে। আমাদের দিক থেকে পরিষ্কার ভাবে জানানো হল। কোনো প্রশ্ন করার থাকলে এখানেই করে ফেলুন। অন্য কোনো স্পেকুলেশনে কান দেবেননা। নানা জায়গায় নানা কথাবার্তা হয়, সেসব আমাদের কানেও আসে। কিন্তু ওতে গুরুত্ব দেবেননা। আমরাও দিইনা। যাকে বলে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মাপ করে দিই। :-)

    পুঃ যাঁরা যোগাযোগ করতে আগ্রহী, [email protected] এ একটা মেইল ঠুকে রাখতে পারেন। এখানে জানালে বা মেসেজ করলেও হবে।

    পুঃ পুঃ ভবিষ্যতে গুরুর একটি নোটিসবোর্ড ব্লগ হবে। এখনও নেই, লেখাটাতেও প্রচুর 'আমি', আমি ' আছে, ঠিক নৈর্ব্যক্তিক নোটিস না। তাই ব্যক্তিগত ব্লগেই থাক। কিন্তু আহ্বানটা গুরুর দিক থেকেই।
  • ব্লগ | ১৬ মে ২০১৬ | ১০০৫৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 116.193.210.162 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:০২53623
  • হ্যাঁ প্রথম বাই বা ভাল বই বেরোনর আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য। এ আকর্ষণ কম লোকেই উপেক্ষা করতে পারে। তবে কম হলেও কেউ কেউ পারে-- এই আর কি।
  • | 116.193.210.162 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:০২53624
  • *প্রথম বই
  • ট্যারান টুলা | 131.241.218.132 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:০৭53569
  • @95.9.20.149

    সো? একটা লোককে আমি যা দেখেছি, সেইটুকুই আমার কাছে যথেষ্ট। তার বাইরে জনৈক গুপ্ত বা অন্য কোনো বাল এসে কী দাবি করলো, তাতে রিয়েলি বাল ছেঁড়া যায়।
  • PM | 59.248.37.218 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:১৬53625
  • দ আর এককের সাথে একমত। নেগেটিভ জিনিষ এ ফোকাস করে কোনো লাভ নেই। আর একটা কথা আমি খুব বিশ্বাস করি --- নিজেদের ছাড়া আর কিচ্ছু পাল্টাবার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই কি করা উচিত ছিলো আপনাদের কিন্তু করা হয় নি , আর কি করতে হবে পরে এরকম ঘটনা এড়াবার জন্য--- এর ওপোরেই ফোকাস করুন।

    [বুড়ো হচ্ছি বোঝা যাচ্ছে ঃ) এরকম জ্ঞান দেবার অভ্যেস আমার কোনো কলে ছিলো না ---মাইরি বলছি ঃ) ]
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:২০53627
  • হ্যাঁ, আমারও মনে হয় এটাকে পেছনে ফেলে এগোনোর কথা ভাবা উচিৎ এবার। এককের বক্তব্যের মূল সুরের সাথে একমত। এবং ইন্ট্রোস্পেকশনের কথা যখন উঠলই, তখন আমার একটা অ্যাড্ভাইস আছে - সেটা এই প্রসঙ্গে বলে রাখি। আমার মনে হয় যারা গুরুর ফেস হিসেবে পরিচিত একটাভাবে, এদেরকে পাবলিক স্পেসে সরাসরি কোনো বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়া থেকে অনেকটা দূরে থাকতে হবে। তার মানে কি সবসময় অন্যের হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে চলতে হবে? নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু যখনই দেখা যাবে সেটা মনোমালিন্যের আকার নিচ্ছে সেই মুহূর্তে সেই ধরণের কনভার্সেশন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হবে। অন্য পাঁচটা লোক যেভাবে নিজেদের মত দেয়, ঝগড়া করে, অভিমান করে, রেগে যায়, অ্যাডমিনদের সেই স্বাধীনতা প্র্যাকটিকালি থাকে না, থাকবে না। বড় কিছু করতে গেলে, অনেককে নিয়ে চলতে গেলে, এটাকে একটা নেসেসারি মূল্য চোকানো হিসেবে দেখতে হবে।

    আমি আজকাল গুরুতে আসি খুবই কম। এখনকার ডায়্নামিক্স সম্বন্ধে আমার ভালো আইডিয়া নেই। তবু আমার ওভার অল এই সুতোয় দেখে ভালো লাগলো অনেকেই গুরুর ওপর কনফিডেন্স রাখছেন। কাজেই যা ঘটেছে সেটাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।
  • pi | 209.94.1.204 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:২০53626
  • কাঠবিড়া৯ দিয়ে লোগো আছে। পাঠালাম হুতোকে।
    ঐ কাঠবিড়ালির কন্ট্রিবিউশন নিয়ে ছোটাইদিকে আমি এখানে প্রথম লিখ্তে দেখেছি

    তবে হ্যা, ভাল লাগার কথা এটাই যে অনেকে এটা রেসিস্ট ও করেছেন। গুরুর পাশে থেকে নিজেদের কোন সে অর্থে কিন লাভ নেই জেনেও। এরকম বহু লোক , এই মেলায় এরকম অনেক পাঠক ক্রেতা পাই বলেই এত কিছুই পরেও এসব হয়ত কিছুই থামিয়ে দিতে পারেনা।
    মনে পড়্ল, গুরুর সাথে থাকা গুরুর নানা কাজ করা লোক্জনকে বাড়ি ডেকে ডেকে নেমন্তন্ন করে এও বোঝানো হয়েছে, গুরুর সাথে থেকে নিজেদের কী 'লাভ' হবে। আর এসবই আমাদের সাথেও প্রচুর বন্ধুত্ব দেখানোর কালে, আমাদের পিছনে।
    আসলে বোধহয় জানা নেই , নিজের ইমেডিয়েট স্বার্থ , লাভের কথা না ভেবেও মানুষ অনেক কিছু করে, সব কিছু অত নিজের পাওনা গণ্ডার হিসেব করে না করেও হতে পারে আর এরকম মানুষ যে বিরল নয় , সেটা জানতে পারাই গুরু করতে গিয়ে। আমার অন্তর পাওনা।নাম নিতে গেলে ফুরাবেনা। আমার জানার বাইরেও কত আছে !
  • Pi | 209.94.1.204 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৪:৪১53628
  • দমদি, অবশ্যি। আমি তো ঐ একটা পোস্ট করেই কাটিয়ে দেব ভেবেছিলাম। মিটিঙ্গ এ চলে এসে গুচ্ছ চাপেও। এসব লিখ্তে বসে ঘুম টুমের সময় গিয়েও চাপ হচ্ছে। কিন্তু অনেক প্রশ্নের উত্তর অয়ত দেওয়া দরকার ছিল , বিশেষ করে কিছু লোকের দেওয়া মিসইনফোর জন্য।

    এবার থামব
    ।সত্যি সামনে প্রচুর প্রচুর কাজ। অনেক হাত এলেও যথেষ্ট নয় কাজ এতটা এতটাই বেড়ে গেছে আর সবার অন্য ব্যস্ততাও।
  • lcm | 118.92.19.123 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৫:০৩53629
  • পিএম-এর সঙ্গে কিছুটা একমত এ ব্যাপারে।

    অনলাইনে বাংলায় লেখালেখির একটা স্পেস গুরুচন্ডালি ডট কম করে দিয়েছে। এই পরিসরে একটা পরিচিতি হয়েছে। লেখক-পাঠকের একটি খোলামেলা বৈঠকখানা, কম্যুনিটি - অনলাইনে (ওয়েব সাইট এবং সোশাল মিডিয়া - ফেসবুক ইত্যাদি)।

    তো, অনলাইন ঠিক আছে, আবার ছাপা প্রকাশনার কি দরকার - এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল - গুরুচন্ডালির প্রিন্ট ম্যাগাজিন বেরোনোর সময়।

    যা বুঝেছিলাম - অনেক আগ্রহী লেখক-পাঠক আছেন যারা অনলাইনে নেই, তাদেরকে ইনভল্‌ভ করানোর জন্য প্রিন্ট ম্যাগাজিন। এবং অবশ্যই এটি একটি নন-প্রফিট এফোর্ট। এবং যেহেতু উদ্দেশ্য ছিল যাদের কাছে অনলাইন গুরুচন্ডালি পৌঁছোচ্ছে না, তাদের কাছে পৌঁছোনো, তাই পাবলিশ্‌ড্‌ ম্যাটেরিয়ালের এর একদম নমিন্যাল দাম রাখা হত। এরপরে আসে বই, কম দামে। মোটামুটি এক ফিলসফি। (মানে আমার যা মনে হয়েছে আর কি)

    বাংলা প্রকাশনায় যুগান্তকারী কিছু করার কোনো অভিপ্রায় গুরুচন্ডালির ছিল বলে আমার মনে হয় নি। প্রিন্ট ম্যাটেরিয়াল-কে অল্টারনেট মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহার - এইটুকু। গুরুচন্ডালির প্রাইমারি স্পেস অনলাইন মিডিয়ামে।

    এবার, একটি ভালো ওয়েব সাইট বা সফটওয়্যার তো একটি টুল। কিন্তু, কম্যুনিটি তৈরি করার একটা এফোর্ট লাগে। বিভিন্ন উৎসাহী লেখক-পাঠক কে এক জায়গায় নিয়ে আসার একটি নিরন্তর প্রয়াস। বিশেষ করে নতুনদের, বা, প্রবীনদের - যারা অনলাইনে বাংলা লেখালেখিতে তেমন স্বছন্দ নন, তাদেরকে উৎসাহিত করা, সাহায্য করা, খুঁটে খুঁটে ভিন্নধর্মী লেখাপত্র জোগাড় করে আনা, অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ করা, প্রুফ রিডিং ইত্যাদি ব্যাপার।

    আর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তো আরো নতুন একটা ব্যাপার (এখনও বিশ বছরও বয়েস হয় নি, একটি বৃহৎ মাছের বাজার)। সেখানে একটি এফোর্ট লাগে, একটু লাগাম লাগে, নইলে এক্কেবারে ক্যাওটিক হয়ে ওঠে কম্যুনিটি।

    এই সব কাজকর্মের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের কয়েকজন মিলে আলাদা হয়ে একটি প্রকাশনা সংস্থা খুলেছেন। যে পদ্ধতিতে এটা হয়েছে তাতে এথিকস, কনফ্লিক্ট-অফ-ইন্টারেস্ট, প্ল্যাগিআরিজ্‌ম্‌, ব্র্যান্ড থেফ্‌ট - এসব কথা আসছে। এই মনে হওয়া স্বাভাবিক। তা নিয়ে ক্ষোভ/অনুভূতি প্রকাশও স্বাভাবিক।

    কিন্তু, এসবের বাইরে তো একটু বেরোতে হবে। ভবিষ্যতে এমন আবার হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বছর দশেক বাদে আবার এমন হতেই পারে।

    কিন্তু, অনলাইনে বাংলা লেখালেখি, কম্যুনিটির স্পেসে ফোকাসটা রাখলেই হবে। এটিই গুরুচন্ডালি-র মেইন জায়গা।

    (এক্কেবারে নিজস্ব অভিমত)
  • pi | 209.94.1.204 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৫:০৫53630
  • তবে এটা একেবারেই এই দুই প্রকাশনা প্রসঙ্গে নয় কিন্তু বান্গ্লা বই প্রকাশনা নিয়ে। যা নিয়ে ব্লগট ছিল। এককের কথায় মনে পড়ল। এই নিয়ে ফেবু খুবই উত্তাল ছিল কদিন। এনিয়ে আমি ঢুকিনি , চাইওনা। কিন্তু লেখাটা নজরে পড়ল বলে রেখে দিলাম। কার লেখা খেয়াল নেই, পড়তে দিয়েছিল কেউ।

    'বইমেলা যত এগোচ্ছে একটা খুব নির্মম সত্য চোখে পড়ছে। ফেসবুকে (মূলতঃ কবিতা) লিখে ও চার পাঁচশো লাইক পেয়ে, বন্ধুদের উৎসাহে অনেকে এবার নিজের বই করেছিলেন। এটা ভাল। কিন্তু খারাপ হল তাঁরা অনেকেই স্বল্প রোজগেরে এবং বইব্যবসার জটিল দিকটি তাদের অনায়াত্য। ফলে পুরো আবেগের বশেই,লাভ করতে নয়, নিছক নিজের লেখাকে আরও বড় বৃত্তে ছড়িয়ে দিতে অনেকেই নিজের কষ্টে জমানো টাকার পুরোটাই বই তৈরিতে লাগাচ্ছেন।
    এখানে আসছেন কিছু প্রকাশক। যারা ব্যবসা বোঝেন। তারা ফেবু থেকে সেই লেখক বা কবিকে পাকড়াও করে বলছে আধাআধি বখড়ায় তারা বই ছেপে দেবে। ডিস্ট্রিবিউশনের দায় তাদের। সরলমনে তাদের কথা বিশ্বাস করছে নতুন লেখক। হিসেবে গরমিল দেখিয়ে মাছের তেলে মাছ ভেজে তার টাকাতেই বই হচ্ছে। ডিস্ট্রিবিশন মানে ফেবু পোস্ট। এবার লেখকের হাতেই বই ধরিয়ে বলা হচ্ছে অর্ধেক বিক্রির দায়িত্ব নিতে।
    সে বেচারা সবাইকে ধরে ধরে বই কিনতে বলছে।ফেবুর লাইক দেওয়া বন্ধুরা গাছে উঠিয়ে মই কেড়ে নিয়েছে। যেহেতু শেষ সময়ের প্রোজেক্ট,তাই বেশিরভাগই ফেবুলেখা। পাঠকদের কথা যে জিনিষ বিনে পয়সায় পড়েছি, তা পড়তে খচ্চা করব কেন? সে টাকায় ফুডকোর্টে গান্ডেপিন্ডে গিলব। ফলে লেখক গাল খাচ্ছে, গাল দিচ্ছে। কি মরিয়া দশা!!আর তাদের অসহায়তা আছড়ে পড়ছে ফেবুর দেওয়ালে। ইনবক্সে।
    মন খারাপ…'
  • তাতিন | 213.110.242.23 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৫:১১53570
  • সিবির পোস্টটা হজম হল না। বরং বলবে ঐ লাইব্রেরিটায় যাও, আমার বাবা লাইব্রেরিয়ান, হেল্প টেল্প করতে পারবেন। এই অদ্ভুত অব্জেক্টিভিটিতে ফুটো আত্মপ্রসাদ ছাড়া কারও কোনও উপকার হল না।
  • শঙ্খ | 113.242.199.93 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৫:৩৯53631
  • পাইয়ের লাস্ট পোস্টের প্রেক্ষিতে আমার নিজের অভিজ্ঞতা লিখি। এবারের বইমেলাতে যা সব দেখলুম আরকি (আমার ফেবু পোস্ট থেকে) ঃ

    'আজকেও বইমেলা গেলুম আবার। প্রচুর বই কেনা হল। গতকাল সুকৌশলে যেটি এড়িয়ে গেছলুম,আজকে পারলুম না। পুশ সেলিং। এখন সবাই সেলিব্রিটি, কোন না কোন ভাবে। ফেসবুকে সবাই লাইক চায়, বইমেলায় সবাই কাউন্টারের ওধারে দাঁড়াতে চায়, বই বেচতে চায়। পাঠককে দয়া করে নিজের বইটা নিজে নিজে খুঁজে নিতে দিন না। যে পড়ার সে ঠিক কোন না কোন ভাবে পড়ে নেবে।

    ...

    পুশ সেলের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ছবিও আছে কিছু। সেই কথাটাও লেখা দরকার।

    স্টলের নাম ভুলে গেছি। এ বই, ও বই দেখতে দেখতে একটা বইয়ের মলাটে চোখ আটকে গেলো। ধরদার লাল ডায়েরি। এটা সেই মীরাক্কেলের কোন একটা সীজনে ধরদা বলে একজন প্রৌঢ় ভদ্রলোক আসতেন হালতু থেকে, আর এক দুটো করে নন-ভেজ জোকস বলতেন। বলার পরে জানাতেন এগুলো তাঁর লাল ডায়েরি থেকে নেওয়া। অনুমান করা শক্ত না, ঐ বইতে আরও ননভেজ জোকস আছে। বইটা হাতে নিয়েছি কি নিইনি, পাশ থেকে কেউ বলে উঠলেন, ওটা আমার লেখা। দেখি নাতি সমভিব্যাহারে ধরদা স্বয়ং। দু একটা মামুলি কথা হল, ওই অবধিই, ধরদাও অন্যদিকে চলে গেলেন, আমিও বই নামিয়ে রেখে স্টল থেকে বেরিয়ে গেলুম। মিথ্যে বলব না, আশংকা করছিলুম, উনি বইটা কিনতে বলবেন, উনি তার ধারেকাছে দিয়ে গেলেন না।

    সৃষ্টিসুখের স্টলে উদয়ন ঘোষচৌধুরির একটা বই দেখে আমি ঋত্বিককে বলছিলুম যে ছেলেটির গদ্যের হাত বেশ ভালো। গুরুতে দুটোএকটা লেখা পড়েছিলুম। সেটা সৌরাংশুবাবু শুনেছিলেন। একটু পরে একটি ছেলে উল্টোদিক থেকে আসছিলো, তার চিবুকে অল্প দাড়ি,মাথায় ক্যাপ, তাকে দেখেই সৌরাংশুবাবু ছুটে গেলেন, অ্যাই উদয়ন এদিকে আয়, এই দুজন তোর লেখা ভালো লাগে বলছেন, আলাপ করিয়ে দি। ছেলেটি একেবারে শামুকের মতো গুটিয়ে গেলো, শত হাত টানাটানিতেও এলোনা। সে প্রচার বিমুখ বা নাকউঁচু কিনা জানিনা,তবে তার এই 'কই দেখি, সই করি' বলে হামলে না পড়াটা ভালো লাগলো, স্বস্তি দিলো।

    ******

    এইরকম উদাহরণ আরো কয়েকটা আছে। কিন্তু এগুলো আউটলায়ার্স, দু এক্জায়গায় ভয়ে ভয়ে গেছি, চেনা জানা লোক যেখানে বেশি, ভয়টাও সেখানে বেশি। আর কে না জানে, যেখানে লেখকের ভয়, সেখানেই পুশ সেল হয়। আমি সেই দুহাজার বারো থেকেই দেখেছি।
    কবিতার বই দেখলেই বলি ফোবিয়া আছে বা অ্যালার্জি আছে গা চুলকোয়, দেখাবেন না, সেটা নাহয় ওইভাবে পাশ কাটালুম, কিন্তু গদ্যের বেলায় তো তা বলতে পারি না। গদ্য পড়ি এবং খুব সিরিয়াসলিই পড়ি। তাহলে উপায়? আমরা যারা, হাতে বই গুঁজে দিলে (বিশেষ করে চেনা লোকেরা), জড়তায় ঘেমে উঠি, অরিন্দম যেইভাবে বললো, সেইভাবে মুখের ওপরে সুস্পষ্টভাবে না নেবো না বলতে পারি না, অজুহাত যুগিয়ে উঠতে পারি না? কয়েকটা টাকারই তো ব্যাপার, ধরে নেবো পকেট থেকে পড়ে গেছে - এই ভেবে মনকে মিথ্যে প্রবোধ দিয়ে এবং অদৃশ্য দাঁত কিড়মিড় করতে করতে মানিব্যাগ বের করি? এবং আমি একা নই। আমাদের কী হবে তাহলে? পরের বারে কি বুকে একটা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে যাবো? 'আমাকে আমার মতো থাকতে দাও, আমি নিজের বইটা খুঁজে নিতে জানি। পুশ সেল করিতে চাহিয়া লোজ্জা দিবেন না'। ইত্যাদি? হ্যায় কৈ সল্যুশান?
  • dc | 167.50.24.182 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৫:৫৫53632
  • খুব সোজা সল্যুশান - আমি বই কিনে পড়িনা, পিডিএফ ছাড়া পড়িনা। বইমেলায় দেখতে এসেছি পড়ার মতো বই কি কি বেরোল, বাড়ি ফিরে ডাউনলোড করে পড়ে নেবো।
  • শঙ্খ | 113.242.199.93 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৬:১৬53633
  • হে হে এটা ভালো বলেছেন, আসলে এবারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুএকটা পছন্দের বই কিনবো বলে হাতে নিয়েছিলুম। তখন তো আর ঐ যুক্তি দেওয়া যায় না। বেচুবাবু/বিবিরা গোল মেরে দিলেন।
  • Du | 182.58.108.2 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৬:৪০53634
  • দাও পিডিএফে বিজ্ঞাপন ঢুকিয়ে। না কিনলে চলবে
    ? ঃ) বিশেষতঃ পুঁজিবাদীদের!ঃ)
  • ?? | 168.130.0.242 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৯:১৪53571
  • লাইব্রেরি =বইয়ের দোকান?
  • ট্যারান টুলা | 131.241.218.132 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৯:৩৫53572
  • সত্যের খাতিরে একটা কমেন্ট করছি (এই টইয়ে লাস্ট কমেন্ট, কারণ এখানে ভ্যালু অ্যাড করার মত কিছু বাকি নেই)। কমেন্টটা আগেই করা উচিত ছিলো - সেইটা ভুল হয়েছে।

    ব্যক্তিস্বাতন্ত্র ব্যাপারটা মাথায় রাখা ভালো। আর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র, নেপোটিজম, কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট ইত্যাদি প্রসঙ্গে কয়েকটা পয়েন্টার -

    (১) আমি মোহনবাগান, কিন্তু আমার বউ ইস্টবেঙ্গল হতেই পারে - কেউই কাউকে অন্যদিকে টানাটানি করবে না এটাই এক্সপেক্টেড। এবং আমার বউ কেন ইস্টবেঙ্গল তাই নিয়ে আমার মোহনবাগানী বন্ধুদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। এইটা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র।
    (২) আমার আপিসের সিটিও অর্গানাইজেশনে ভবিষ্যত কাজের এরিয়া নিয়ে আইবিএম রিসার্চে কাজ করা কাউকে আমি কিছু বলতে পারি না, সে আমার বউ হলেও। এইটা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট সংক্রান্ত।
    (৩) আমাদের রিসার্চ ল্যাবে অ্যাপ্লাই করা কেউ আমার খুব পরিচিত, আত্মীয়, ছাত্র ইত্যাদি হলে সেই ইন্টারভিউতে আমি অংশ নেবো না। এইটা নেপোটিজম সংক্রান্ত।

    এই ব্যাপারটা ওপরে গুলিয়ে গেছে। ঋত্বিকের বউ লিরিকালের কাজ করলে সেটা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা কিন্তু। তার দায় ঋত্বিকের নয়।
  • সিকি | 233.176.154.250 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৯:৫১53573
  • সম্পূর্ণ একমত।
  • Arpan | 119.159.50.20 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:০৯53574
  • অরিজিতকে ক।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:৫২53575
  • আমি কাল এইটা অত ক্যাচালে মিস করেছিলাম। হ্যাঁ অরিজিৎকে সম্পূর্ণ সমর্থন। কালকেই বলা উচিৎ ছিল।
  • pi | 74.134.66.54 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:০৬53576
  • এগুলো যদি আমাকে বলো তো বলে দি, দায় তো কেউ দেয়নি।মানে আমি দিয়োনি। আমার পোস্টটা ভাল করে পড়ো। কারুর ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়েও একটি কথাও বলা হয়নি। কিন্তু ৩ নং যে কথাটা বললে, এবং সেটা ছাড়াও নিজের ইন্ভলভমেন্ট থাকলে নিরপেক্ষ ভাবে বলা, এই কথাগুলো তো বলা যায়না। এই কাটাছেঁড়ায় সে একেবারে আউটসাইডার হিসেবে অবজেক্টিভ ভিউ রাখছে, এরকম দাবিদাওয়া না করলে কিছু বলতে যেতামও না। নিজেদের খারাপ লাগা অনেকদিন ধরেই নিজেদের কাছে রেখেছি।

    এই মেলায় কতজন এসে বলে গেছে, ৯ দেখে ভেবেছি ওটাই গুরু স্টল, ফেবুতে কতজন বলে গেছে ( চাইলেই নিজেরাও দেখে নিতে পারেন)। একেবারে এই উদ্দেশ্যই ছিল, যাতে সফল হয়েছে।
    তোম এগুলো এতদিন ধরে কারুর চোখে না লাগলে, খারাপ মনে না হলে, সেই নিয়ে কিছু না বললে, সে নিয়ে আমাদের কেন খারাপ লাগল, সেটা বোঝানোরও দায় নেই।
  • de | 24.139.119.174 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:১২53577
  • হ্যাঁ - ঋত যা করেচেন তার দায় ওনার, বৌয়ের দায় ওনার নয় - এটা ঠিক।

    যা বলি, যা ঠিক বলে বিশ্বাস করি, কার্য্যক্ষেত্রেও তাই করি - এমনটা করা সোজা নয়। ভেস্টেড ইন্টারেস্টের ফাঁদে পা না দেওয়াও কি সোজা?
  • de | 24.139.119.174 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:১৬53578
  • এমনিই একটা প্রশ্ন মনে এলো - গুরু থেকে কাদের বই বেরোবে, এই সিদ্ধান্ত কি শুধু গুরুর কোর কমিটি নেন? কিসের বেসিসে এটা ঠিক করা হয়?
  • pi | 74.134.66.54 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:২৩53579
  • আর হ্যাঁ। ঋত্বিক নিজেও লিরিক্যালের কাজ করেছে, সেটা আমার নিজের চোখেই দেখা, নানাজনের কাছে শোনা। গোড়া থেকেই এই পরিকল্পনার কথা জানে বলেই শুনেছি। নানাজনকে যে মেইল করা হয়, তাতে ও থাকে বলে শুনেছি। এবং শোনার পরেও তো এতদিন কিছু লিখিনি। ও এসেছে, দেখা করেছে। কথা বলেছি। অনেক খারাপ লাগা নিয়েও বলেছি।
    এই কথাটাও কাল বলেছিলাম, সেটাকে ইগনোর করে বউয়ের কথাই বারবার তোলা হচ্ছে কেন, সেটাও বুঝিনি। বউয়ের কথা দায় থেকে আসেনি, ক্লোজ কেউ যুক্ত থাকলে বাধ্যবাধকতা এসে যেতে পারে, সেই প্রসংগে এসেছে।
    আর হ্যাঁ, সেটাও কেউ করলে সেটা অবশ্যই তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। কারুর নিজের চয়েজ নিয়েও আমার কিছুই বলার নেই। এবং অন্তত কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে করব, ইনফর্মড চয়েজ। সব জেনেবুঝে যা ঠিক মনে হয়েছে, সেটা চুজ করে নেওয়া। কিন্তু সেখানে কারুর নিজেকে নিরপেক্ষ দেখানোর দায় থাকলে সেটা নিয়েও আমার আপত্তি থাকবে।
  • | 183.24.110.20 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:২৪53580
  • অরিজিত,আমার বর মোহনবাগানের সমর্থক, মাঠে যাবার আগে আমি তার জল, ব্যাগ,ছাতা গুছিয়ে দিই বলে ইস্টবেঙ্গলের লোক আমাকে গালাগাল দেয়- আমার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে হস্তক্ষেপ।

    আমি মোহনবাগানের গ্যালারিতে বসে তাদের পতাকা দোলাই, গোল হলে পুইইই করে সিটি বাজাই এবং ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের বলি ভাই আরে হারজিত তো থাকেই, আয় মশলা খাই- সেটাকে কি বলে?
    ভন্ডামি বল্লে ঠিক শোনাবে?
  • ট্যারান টুলা | 131.241.218.132 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩৪53581
  • মামী - এখানে লেখাবেই? ইচ্ছে করছে না।

    ফ্র্যাঙ্কলি, কোশ্চেন হল আমি মোহনবাগানের গ্যালারিতে বসে তাদের পতাকা দোলাই, গোল হলে পুইইই করে সিটি বাজাই, কিন্তু ধরা যাক এখানেই ইস্টবেঙ্গলের সাপোটারদের সাথে কী দোস্তি নেই? না থাকা উচিত নয়? আমার একটা রুমমেট সিপির ক্যান্ডি ছিলো, আরেকটা এবিভিপির। রুম বদলানো উচিত ছিলো? নাকি বিড়ি কাউন্টার করা বন্ধ করা উচিত ছিলো?

    উদাহরণটা ঠিক হল না।

    বরং, যদি বলতে মোহনবাগানের গ্যালারিতে বসে তাদের পতাকা দোলাই, গোল হলে পুইইই করে সিটি বাজাই, অথচ ইস্টবেঙ্গলের সাপোর্টারদের বলি - আমি ভাই এদেশী লীগ দেখি না, আমি বার্সার ফ্যান, তোরা কেন যে কলকাতা লীগ নিয়ে ঝগড়া করিস - সেইটা খাপে খাপ হত।

    দ্বিতীয় কেসটা আরো ক্রিটিক্যাল। আইবিএম রিসার্চে কাজ করা আমার বউ (বাই দ্য ওয়ে, এটা জাস্ট গল্প) যদি আমাকে তাদের রিসার্চ সংক্রান্ত ক্রিটিক্যাল ইনফো গল্পচ্ছলেও বলে (যদিও বলা উচিত নয়), আমার কি আমাদের ল্যাবে সেইটা শেয়ার করা উচিত? প্রফেশনালি?
  • ট্যারান টুলা | 131.241.218.132 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩৮53582
  • যদিও, প্রফেশনালি, এই ফ্যাক্টটা আমার জানিয়ে দেওয়া উচিত যে আমার বউ আইবিএম রিসার্চে আছে, ব্যাস ওইটুকুই।

    এর মধ্যে কোন নর্মগুলো ভায়োলেটেড হয়েছে আমি জানি না, কাজেই আমার বলাটুকু শুধু ওপর থেকে একটা অবজার্ভেশন হিসেবে ধরে নেওয়াই ঠিক হবে।
  • pi | 74.134.66.54 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৩৯53583
  • আর আরো একটা কথা স্পষ্ট করে বলে যাই। বউয়ের কথা আমি লিখতে যাইও নি। নিজে থেকে মেনশনও করিনি। ও খুব স্পেসিফিকভাবে বারবার জানতে চাওয়ায় বাধ্য হয়ে বলেছি। নইলে এগুলো আমার কিছু নতুন জানা নয়।

    আমাদের সম্পূর্ণ অজ্ঞতসারে , আমাদের সাথেই কাজ করতে করতে একটি অন্য প্রকাশনা করা, আমরা যে বই বের করেছি, করছি, আমাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে সেই বই প্রকাশ করতে চাওয়া, আমাদের সাথে কাজকর্মে আর নানাভাবে যুক্ত প্রায় প্রতিটা লোককে যুক্ত করতে চাওয়া, এবং সেগুলোও কিছু আমাদের না জানিয়ে। এগুলো জানার পরেও এসব খারাপ মনে না হলে, সেই নিয়ে আমাদের খারাপ লাগা থাকবে। থাকবেই। অনেকে বলেছেন, খারাপ লাগা রেখোনা। তাঁদেরও এখানেই উত্তর দিয়ে দিচ্ছি, সম্ভব নয়।

    দেদি, লিখছি পরে।
  • পাঠক | 24.139.222.45 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৪১53585
  • আমি একটু সামারি করি।

    ১। লিরিকালের পক্ষ থেকে এথিকাল বিষয়ে বলার কেউ / কিচ্ছু নেই। নিজেদের স্বপক্ষে তাঁদের সেরেফ আইনী বিষয় সমূহ, গুরু কিস্যু করতে পারবে কিনা, চুরি প্রমাণ করতে পারবে কিনা ইত্যাদিই বিচার্য। (মানে আমায় যদি বেঁটে বল, আমি বলব অঙ্কে কাঁচা, এই লাইনে খেলা)

    ২। ছোটোলোক ওরফে সে ওরফে যোষিতা সেই কবে চাগ্রীর গপ্পো লেখা হঠাৎ থামিয়ে লিখেছিলেন এই লেখা যেন গুরুর কেউ কোত্থাও না ছাপান। অনুমান করা যায় সেই শুভক্ষণেই তাঁর গুরুভক্তি কমে যায় ও তিনি এই গপ্পো নিজেই ছাপিবার উদ্দেশ্যে নতুন প্রকাশনার কথা ভাবেন (এটা কাল্পনিক)। সেই ক্ষণ থেকেই তিনি গুরুর যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখতে শুরু করেন (কি ভাবে তা জানা যায় নি) তবে এই মুহুর্তে উনি শুধু সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েই ভাবিত।

    ৩। গুরুর তরফে যাঁরা লিখছেন তাঁরা সরাসরি গুরু-র লোক বলে নিজেদের সার্টিফাই না করলেও কোনো দায় ছাড়াই তাঁরা গুরুকে নৈতিকভাবে সমর্থন করার দায়িত্ব পালন করছেন। উল্টোদিকে লিরিকালের কর্ণধারদের একজন নিজেই জানেন না যে গুরুর হিসেবের খাতায় এখনও তাঁর নাম আছে। লিরিকালের আইনি উপদেষ্টা নিজেই গুরুর পাতায় আর লিখতে না পারার দুঃখে কাতর হয়ে পড়ছেন। আর বইমেলা চলাকালীন লিরিকালের স্টল সাজানো-গোছনো থেকে শুরু করে স্টলে উপস্থিত থেকে যাবতীয় কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা যিনি স্ট্যাটাস হিসেবে ক্ষণে ক্ষণে জানিয়েছেন তিনিও এই কাজের 'দায়' স্বীকার করতে রাজি নন ! না না গুরুর পাতায় লিখে বা স্টলে মুখ দেখিয়ে বই বেচে কেউ সেটাকে 'দায়' মনে করেছে বলে এখনও চোখে পড়ে নি !

    যাঁরা ব্যাক্তিস্বাধীনতা ও দায় সংক্রান্ত ব্যাপারে পোস্ট করছেন তাঁদের সঙ্গে একমত হয়েও জানাতে হচ্ছে যে তাঁরা সম্ভবতঃ লিরিকালের সঙ্গে ঋত্বিকের যোগাযোগটা দেখেন নি তাই বুঝছেন না যে আদৌ এখানে অন্য কারুর কাজের দায় চাপানো হচ্ছে না। আর ব্যাপারটা চয়েস না হয়ে দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে কেন, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।
  • Rit | 213.110.242.24 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৪১53584
  • আমি গুরুর লোক কবে হলাম সেটাই তো ক্লিয়ার হল না, তারপর তো কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট! আমি গুরুর এই ওয়েবসাইটের বাইরে গুরুর বইমেলা স্টলে গেছি শুধু দুটো বইমেলা তে। ২০১৪ আর ২০১৭। আর শুধুই বই কিনতে। কোনও ভাট, কোনও পিকনিক, কোনও মিটিং, মিছিল কিছু অ্যাটেন্ড করিনি কিন্তু। স্টলে বসা তো দূরের কথা।

    আমাকে গুরুর এমপ্লয়ী ভেবে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট বলাটা একটু বেশী বাড়াবাড়ি। রজ্জুতে সর্পভ্রম কিন্তু অনেক সমস্যার মূলে।
    আমার শেষ পোষ্ট করে গেলাম। গুরু র ফেসবুক গ্রুপ ও ছেড়ে দিলাম। এর পর যে বা যারা আমাকে ফেসবুকে বা অন্যত্র ডিলিট করতে চান, ওয়েলকাম।

    যাঁরা এর পরেও থাকবেন, তাঁদের সাথে আমার যেটুকু বন্ধুত্ত্ব হয়েছে সেটা আমার দিক থেকে নষ্ট করবো না।
  • pi | 74.134.66.54 (*) | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৪৪53586
  • ঋতকে গুরুর লোক বলে কোন দাবিদাওয়া তো করিনি। বুশের আমরা ওরা নিয়ে বলেছি। আমি ঋতকে লিরিকালের লোকই মনে করি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন