• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • নববর্ষের এলোমেলো লেখা আর আগরতলার গল্প

    শক্তি দত্তরায় করভৌমিক
    ব্লগ | ১৬ এপ্রিল ২০১৯ | ২০৪ বার পঠিত

  • খুব গরম। দুপুরের ঘুম ডাকাতে নিয়ে গেছে। মনে পড়লো গতকাল অর্থাত্ হারবিষুর দিনে তেতো খাওয়া। আগের দিন বিকেলে আমার বিশালাক্ষী, চোপায় খোপায় সমান ঠাকুরমা আমাকে ভীষ্ম আর হারুকে নিয়ে সরজমিন তদন্তে নেমেছেন,--- গাঙ্গের তলে (চৈত্রের গরমে জল নেমে যাওয়া নদীর ঘাটে) দেখছিলাম রাইজ্যের গিমা শাক, চল্ কয়ডা তুইল্যা আনি। প্রাক্তন ডাকাত জব্বর আলি এখন আজ্ঞাবহ মুনিশ। জব্বর, বাপ্ যাওসেন সতু রুনুরার বাগানো গিয়া কয়ডা বন জামিরের পাতা ছিঁড়া আনসেন। ভীরু চোখে তাকায়, আমতা আমতা করে প্রাক্তন ডাকু, জেডিমা সকালে তিতা না খাইয়া কুইশ্যারের (আখের) রস খাইলে পেট মস্তক ঠাণ্ডা থাকে। তিতা কেনে খাইতা। সে জানে সবার সঙ্গে তাকেও সকালে আধকাপ তেতো খেতে হবেই। অতি সুন্দরী আর নিরীহ গৌরী কাকিমা ঘোমটার তলায় স্মিতমুখী। তাঁকেই হামনদিস্তায় ভোররাতে চৌদ্দ তেতোর রস করতে হবে। জব্বর, সুস্থ থাইক্যা খাইট্যা খুইট্যা সংসার চালাইতে গেলে ইতা খাইতে লাগে। জব্বর সায় দেয়, ঠিকউ কথা। তখন তো বাজারে সব গুছিয়ে বেচে না। জোগাড় করতে হয়, তেলাকুচো পাতা, ব্রাহ্মী শাক। দুপুরবেলা চৌদ্দ তেতোর শাক, তেতো ডাল, নিমপাতা ভাজা। সেওয়াই, সন্দেশ, নাড়ু ঘিয়ে ভাজা চিঁড়ের জলখাবার বিকেলে।

    ~~~
    আজকে সংক্রান্তি। তেতো নৈব নৈব চ। জলখাবারে খই দই, গুঁড়ো খইএর ঝাল ঝাল গুড়ের কড়াপাক নাড়ু, মোয়া। দুপুরবেলা সীম বীচি ভাজা দিয়ে ঢেঁকি শাক, মটর ডালের বড়া আর ঘি গরম মশলা দিয়ে এঁচড়, আম দিয়ে মিষ্টি ডাল, আম টক। নিরামিষ কিন্তু পিঁপিড়া কাঁদিয়া যায় পাতে। এঁচোড় কাটা কি সোজা? আমাদের গাঙ্গুলি বাগানের বাজারে এঁচোড়ে পাকা মাসিরা জিজ্ঞেস করে, কিরম কাটা এঁচোড় চান, ঘটি না বাঙাল? আরে বাঙাল বুঝি একরকম? বাঙালের কতো শাখা প্রশাখা। গাঙ্গুলি বাগানের বাঙাল এঁচোড় আমাদের মতো না। আমাদের পরিপুষ্ট বীচি বাইরের আবরন ছাড়িয়ে, পুষ্ট কোয়া আলাদা করে নিয়ে খোসার মাংস মতো অংশ যুত করে কাটাতে হয়। ধৈর্য, সূক্ষ্ম নজর না হলে "ইঁচড়"খাওনের কাম নাই ।

    পশ্চিমবঙ্গের মায়েরা নীলপুজোর দিন বলে মানেন আজকের দিনটা।উত্তর পূর্বাঞ্চলে বাঙালির কাছে হারবিষু নাম। নীলপুজো করেন অনেকে, তবে ঘরে ঘরে হয়না। নববর্ষের প্রথম দিনে পয়লা বৈশাখ মাছ মাংস দৈ মিষ্টি। অসমে এই সময়টাতে রঙালি বিহুর নাচ গান।ত্রিপুরায় গড়িয়া পুজো, বিজু উৎসবের ধূম। গাজন সঙ ঢাকির নাচ আমরা দেখি অংশ গ্রহণ করেন বেশির ভাগ গ্রামীণ চাষীরা। তাঁরা ভাঙর ভোলা শিবের প্রিয়। কে জানে কি নিয়ে আসবে নূতন বছর ।আশা আশঙ্কা দুইই থাকে মনে।

    কালকে তো নববর্ষ। কোনো বাধা নেই, মাছ, মাংস, দই, মিষ্টি সব খাও তবে দিয়ে থুয়ে। একলা খাইও না। আমরা দুদিন নিরামিষের পর মসূরডালে পেঁয়াজ ফোঁড়ন আর মাছভাজা খাই। পয়লা বৈশাখ পান্তা ভাত খাওয়ার কথা পাঁচ সাত বছর আগে ও শুনিনি। পুরোনো বছরের বাসি রান্না কিছুই খেতে নেই শুনেছি। তবে পান্তা ভাত গরমের সকালে বেশ ভালো খাবার। সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা হলে কথাই নেই। ঠাকুরমার নিয়ম একটুখানি পরিবর্তন পরিমার্জন হয় যদি ক্ষতি কি?

    ~~~

    গতবছর অনেক দিন পর ত্রিপুরায় ছিলাম। বইমেলা উপলক্ষ করেই যাওয়া। সায়ন কোনোদিন ত্রিপুরার রেল চড়েনি তাই একদিন উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর যাওয়ার প্ল্যান হলো। সেই সঙ্গে ঊনকোটি, কৈলাশহর। গেলাম ট্রেনে ফেরাটা ট্রেনে হলো না।স্করপিও না কি একটা আরামপ্রদ গাড়ি ভাড়া করা হোলো। দিনটা গেল, বছরের হারবিষু। মনে ছিলো নিরামিষ খেতে হবে, তেতো খাওয়া প্রথা। নিরামিষ খাবার পাওয়া যাবে, তেতো পাওয়া কঠিন।সুকন্যার মা, বাবা, আমি আর সায়ন। সুকন্যার বাবা অমায়িক মিশুকে মানুষ। আমি, সায়ন, সুকন্যার মা সে তুলনায় কম সপ্রতিভ। খুঁতখুঁতে সবাই প্রায় এক রকম। চা খাওয়া হোলো, ডাব খাওয়া হোলো, মধ্যাহ্নভোজের জায়গা আর মনোমতো হয়না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল - তেলিয়ামুড়া পাহাড়ের গায়ে একটি সুন্দর জায়গা পাওয়া গেল। উঠোন পরিচ্ছন্ন। মুকুলিত দুটি আমগাছ। ফুলে ভরে আছে একটি নিমগাছ। পেছনে মালিকের সম্ভ্রান্তরুচি বাড়ির আভাস। পরিচ্ছন্ন খাবার ঘরে কেউ কেউ খাচ্ছেন। টিয়া পাখি ঝুলছে খাঁচায়। কয়েকটা পরিষ্কার জলের সুবিধা যুক্ত ওয়াশরুম যা এসব এলকায় থাকেই না। বিদেশে যেমন রেস্ট এরিয়া থাকে অনেকটা সেইরকম। এতক্ষণ ধুলিধূসর পথযাত্রার পরে হাতমুখ ধুয়ে স্বস্তি। রতিরঞ্জনবাবু ততক্ষণে মালিকের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন। উঠোনের গাছ থেকে কচি নিমপাতা ছিঁড়ে মুচমুচে গরম ভাজা, বাড়ির ভেতর থেকে এলো ঘি আর সোনামুগের ডাল। কচি আমের পাতলা টক। আর কি চাই? হয়ে গেল সেবারের হারবিষুর আচার পালন।
    পাহাড়ের কোলে ছোট্ট আড়ম্বর মুক্ত সেই হোটেলটির নাম সাগর লাইন হোটেল। আতিথেয়তার বাড়তি ব্যঞ্জনা নিয়ে হোটেল পরিচয় ছাড়িয়ে মনে থাকলো। সীমা -প্রাচীর পেরোনো এমন কি আর কঠিন।

    ~~~

    অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা, প্রতিশ্রুতি নিয়ে একটা নূতন বছর মানুষের সামনে দাঁড়ায়। মলিন, বিমর্ষ সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রোজ্জ্বল সুদিনের স্বপ্ন দেখে, অপরকে দেখাতে ভালোবাসে, না হলে এগোবে কি করে। নিজের শুভ কামনা প্রিয় জনকে জানায়, তার জন্য খোঁজে নিজস্ব সরণি। কেউ বা ঐতিহ্য কে বেছে নেয়।

    অনাদি অনন্ত বিশ্ব, কাল নিরবধি। তার আবার নূতন কি পুরোনোই বা কি। রাজা শশাঙ্ক না মোগল সম্রাট না আর কেউ বঙ্গাব্দের প্রবর্তক সে তর্ক তোলা থাক্ পণ্ডিত জনের জন্য। অনাদি কালকে যুগ বত্সর মাসের হিসেবে ভাগ করা হয়েছে সে তো আজকে নয়। সেই সঙ্গে জড়িয়ে গেছে প্রণাম আশীর্বাদ আলিঙ্গনে প্রীনন প্রথা। কোলাকুলির সৌজন্যে এই সেদিন ও শত্রু মিত্র মিলিত হতেন। আর নববর্ষের চিঠি - না, দামী কম্পানির কার্ড নয়, হাতে লেখা চিঠি। কাঁপা হাতে লেখা ঠাকুমার আশীর্বাদ পাকা হাতের লেখায় জ্যাঠামশাইয়ের কুশল কামনা, গোটা গোটা অক্ষরে বৌদির শুভেচ্ছা, কাঁচা হাতে প্রবাসী পিতাকে শিশু কন্যার প্রণাম। মনে কি পড়ে?

    চিঠি আর লেখা হয় না, একজনের মনের কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়ার সুখ, এমনকি বহুযুগের পরেও তাতে চিরন্তনের সোনা খুঁজে পাওয়ার আনন্দ, পরবর্তী প্রজন্ম বুঝি তার থেকে বঞ্চিতই থাকলো। হবু স্বামী ভাবী স্ত্রীকে সোনালী হরিণ আঁকা কার্ডে লিখেছেন শুধু শুভ নববর্ষ - সেই শুভেচ্ছার অপার বৈভব মৃত্যুঞ্জয়ী।

    যে মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তার পক্ষে এই বিশ্বাসও স্বাভাবিক যে আমার শুভ কামনা ইশ্বর আমার প্রিয় জনের জন্য সফল করবেন। ঈশ্বর বিশ্বাস মানে যদি হয় কল্যাণে, মঙ্গলে বিশ্বাস, তবে অন্তর্লীন আনন্দে অবগাহন, দুঃখ দিনেও গান আসে -'এই করেছো ভালো নিঠুর হে'। তীব্র দহন বহন করার জন্য যে সুমহান ধৈর্য প্রয়োজন তা রবীন্দ্রনাথকে ঈশ্বর দেন, জীবনানন্দ পান অতল বিষণ্ণতা। তিনি যখন কষ্ট দেন "নিঠুর পীড়নে নিঙাড়ি বক্ষ দলিত দ্রাক্ষা সম" তার ভয়ঙ্কর ভীষণতা যদি না উপলব্ধি করতেন রবীন্দ্রনাথ তাইলে ঐ উপমা তাঁর কলমে আসতো না। দুঃখের অন্ধকার তাপ তমসায় বার বার শিশুকাল থেকে ডুবছেন ভেসে উঠে স্মিত হেসে আকাশে চোখ মেলে বলছেন - আনন্দ রূপমমৃতমযদ্বিভাতি। প্রতি নববর্ষে লিখছেন নূতন আশার গান। অসাধারণ ভাষণ, অনবদ্য চিঠি। আমাদের মতো আকুল মানুষেরা তাঁর গানে কাব্যে কথায়ই ঈশ্বর কে স্পর্শ করতে চাই। পত্রসাহিত্য হয়তো পরবর্তী প্রজন্মের ধরা ছোঁয়ায় অল্পই থাকবে। নূতন দিনের ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসয়াপ শুভ নববর্ষ বার্তায় ভরে ওঠে; তা উঠুক না - গতানুগতিক অভিনব সব শুভেচ্ছাবাণীতে। আমার তো ভালোই লাগে।

    ~~~

    তা যাক, খাওয়া দাওয়ায় ফিরি। ঠাকুরমার নিয়ম পাল্টে গেছে তো বটেই। যুগ পাল্টেছে যখন পাল্টাতে বাধ্য। যদিও এখনও অনেক বাড়িতে নববর্ষ বিজয়ায় পাঠার মাংস ছাড়া কিছু হেঁশেলে ঢোকেনা কিন্তু অনেক বাড়িতে পছন্দের পদ মুরগী, কোয়েল, আদিবাসীরা শুয়োরের মাংস পছন্দ করলেও শুভদিনে অনেকেই এড়িয়ে চলেন। রাজবাড়ির, উজীরবাড়ির বা তাঁদের অনেক আত্মীয়দের বাড়িতে গৃহদেবতা প্রতিষ্ঠিত। পুরোনো নিয়মে তাঁরা শাস্ত্রীয় বিধান মানেন। আবার পাহাড়ের অনেক গোষ্ঠীর পূজায় শুয়োর এবং মোরগবলি বিধিসম্মত। আমার ঠাকুরমা যেমন তাঁর পুরোনো ঐতিহ্য মেনে নববর্ষের মেনু বলতেন কুসুম কলি কলই বা মাতাই কতর রিয়াংএর ঠাকুরমা তাঁদের ঐতিহ্য মানবেন, সেটাই স্বাভাবিক। জীবন কেটেছে ত্রিপুরার নানা জায়গায়। লেখার শুরুতে ছিলাম বরাক উপত্যকার কুশিয়ারার তীরে। শেষে চলে এসেছি গোমতী, হাওড়া, ধলাই, রাইমা শরমার কূলে। ত্রিপুরার ছোট পরিসরে অনেক জাতি সম্প্রদায় নিজেদের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেও মিলেমিশে চলেন। মণিপুরীরা বাড়ির হেঁশেলে মাংস ঢোকান না। লেখিকা করবী দেববর্মন তাঁদের নিজস্ব ঘরানার সিদ্ধ চালে সীমের বীচি কাঁঠাল বীচি দিয়ে অসাধারণ পোলাও রান্না করে খাওয়াতেন। ছাত্রীরা বাড়ি থেকে বাঙ্গুই নিয়ে আসতো। বাঁশের চোঙে নানা রকম মশলা পাতা দিয়ে পুড়িয়ে নেয়া খরগোশের, সজারুর বা বুনো পাখির মাংস। উত্তর দক্ষিণ পশ্চিম ত্রিপুরার বাঙালিদের মধ্যেও রীতি নীতি খাওয়া দাওয়ার পার্থক্য আছে। উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর কৈলাশহর সিলেটী অধ্যুষিত এলাকা। দক্ষিণে সাব্রুম বিলোনীয়ায় নোয়াখালীর প্রাধান্য। তাঁদের নববর্ষের চেয়েও বড় পরব চৈত্র সংক্রান্তি। চড়ক, গাজন, নানা সব্জি দিয়ে পাঁচন, নারকেল দিয়ে তৈরি খণ্ড ওখানকার বৈশিষ্ট্য। আগরতলার অধিবাসী বেশির ভাগ কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আগত বাঙালি। খাওয়াদাওয়া বলতে মাছ মাংস দৈ মিষ্টি নাড়ু সন্দেশ। যতকিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে। তবে অনেকের কাছে শুঁটকি প্রিয় হলেও নববর্ষ বিজয়ার ভোজে ব্রাত্য।

    খাওয়াদাওয়া হবে ঠিক আছে কিন্তু একটা কথা না বললে নববর্ষ উদযাপনের কথা বলাই হয়না। ভোরে উঠে স্নান করে নিজের পছন্দমতো ঠাকুরের নাম লিখতে হবে। সে ঠাকুর হরি বিষ্ণু কার্লমার্কস গাঁধীজী যে কেউই হতে পারেন। তারপর অঙ্ক ইংরেজি বাংলা সব একটু একটু পড়তে হবে। আমি তো এই বুড়ো বয়সে ও লিখি পাঁচ বার শ্রীহরি নমঃ তারপর ছোটবেলার হাতের লেখা অভ্যাসের বয়ান গড ইজ গুড - এটা ঠাকুরের নাম লেখা ও হোলো, ইংরেজি লেখা ও হোলো। অঙ্কে বরাবর কাঁচা তাই সোজা অঙ্ক ৫+৩=৮ ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই করতে করতে গেদুমিঞার মসজিদের ফজরের নামাজ হয়ে যায় একটু নাদিরশাইল ধানের মুড়ির মোয়া বা ঘিচূড় খেয়ে নিয়ে দল বেঁধে নানা বয়সী বন্ধুরা পথে বেরিয়ে পড়ার পালা, বেশিরভাগক্ষেত্রে গন্তব্য লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ী মন্দির। ঠাকুর চাঁপা ফুলের মালা, গুলঞ্চ ফুলের মালায় চন্দনে সেজে নিয়েছেন পরিপাটি। দিঘীর বাঁধানো ঘাটে মধুর পবন। সূর্য দিঘীর চোখে প্রথম আলো ছুঁইয়ে বলছেন -বলো তুমি সুন্দর। বলো আমি ভালোবাসি। কৈশোর যৌবনের লাজুক কবিতারা জলে দেখছে আলোক লতার কাঁপন। সবাই কি আর কবি? পেটুকরা ভীড় জমায় "বুড়া মহিলার প্যাড়ার দোকানে" (ওটিই দোকানের নাম)। ঠাকুরকে ছুঁইয়ে নিয়ে পেটায় নমঃ। উপরি পাওনা লক্ষ্মীনারায়নজীর সুস্বাদু চরণামৃত। বাইরের মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সুগারের রোগীরা ঢুকতে শুরু করেছেন, বেশি চিনি দিয়ে ফোটানো চা নিমকি ক্ষীরতোয়া খেয়ে নিচ্ছেন একটুখানি। বাড়িতে গিন্নির, কন্যার এমনকি মায়ের শাসন, খেতে দেয়না কিচ্ছু ।
    ~~~
    আগরতলার যেমন লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ী, উদয়পুরের মায়ের বাড়ি, সাব্রুমে দৈত্যেশ্বরী কালীবাড়ী, আগরতলার বুদ্ধমন্দির নববর্ষের ভোরে নদীর পাড়ে, কাটাখালের ব্রীজ, আস্তাবলের ধার, মন্ত্রীবাড়ি রোড (সরকার পরিবর্তনের পর এই রাস্তার নাম শ্যামাপ্রসাদ মার্গ হয়ে গেছে)। সবই বেড়ানোর জায়গা। নববর্ষের প্রভাতে কোন বড় সংগঠিত শোভাযাত্রার চল ছিলো না, পাড়ার ছেলেরা প্রভাতফেরিতে বেরুতো যদিও। ছোট শহর, সবাই সবার চেনা। প্রণাম, কোলাকুলি, চোরা হাসির ছড়াছড়ি। পথপাশে পাখি পুচ্ছ নাচায়, বৈষ্ণব ভোর কীর্তন গায়। পথের ধারে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কুর্চি, কনকচাঁপা। সবচেয়ে বেশি সোঁদালের হলুদ, মে ফ্লাওয়ারের গোলাপী, লাল শিরিষের রক্তিমা। বিকেলের গান বাজনা, কবিতার আসর, নিখাদ আড্ডা, মালঞ্চনিবাসের অঙ্গনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আসর হ্যাজাকবাতির আলোয়, অনেক দূরে বড়মুড়া পাহাড়ের রেখা ধরে নেমে আসে সন্ধ্যা।

    ~~~

    "হায় রে কবে চলে গেছে কালিদাসের কাল "--না বোধহয়। গেল বছর নববর্ষের সকালে ছিলাম তো আগরতলায়। সত্য বিজন তেওয়ারী (সতব্রত ভট্টাচার্য, বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী, সরযূ তেওয়ারী - তিন হরিহরাত্মা, সে যুগের আগরতলার যেকোন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে এই তিনজন ছিলেন অপরিহার্য) উপস্থিত ছিলেন না কিন্তু রবীন্দ্র পরিষদ জনাকীর্ণ দেখলাম। যাই যাই করেও সব যায় না।

    সেই প্রভাতে কিছু পুরনো মুখ হারিয়ে যায়, কিছু নতুন মুখ আসে। তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি।

    বৈশাখ এরকমই নূতন হয়ে দেখা দিচ্ছে, সে কতদিন হয়ে গেল, বারবার।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৬ এপ্রিল ২০১৯ | ২০৪ বার পঠিত
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • খাতাঞ্চী | 232312.172.2356.96 (*) | ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:১৬47799
  • .
  • i | 783412.157.89.253 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৩:২৯47800
  • এই সব লেখাপত্র যেন শান্তিজল-
  • Ela | 342323.191.2356.42 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৩:৪৭47801
  • আহা বসেছিলাম কবে আপনি লিখবেন!
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৫:৩৮47802
  • আহা তিতার ডাইল, আম ডাইল, সইজনাফুলের বড়া নিমপাতা ভাzI এইসবই চৈত্র বৈশাখে খেতে হয়।
  • শিবাংশু | 90045.205.122323.36 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৮:৩৫47803
  • অক্ষরের স্বস্তিভাষ, জুড়িয়ে দেয়...
  • de | 238912.57.01900.221 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৮47804
  • কি সুন্দর!
  • শঙ্খ | 2345.110.893412.225 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ১২:৩১47805
  • বাহ, খুব সুন্দর। মনকাড়া লেখা
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ১২:৫৪47806
  • পড়ে শেষ করলাম। ভারী চমৎকার। বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয় (যটা এই ফেসবুক করে করে গোল্লায় যেতে বসেছে)।
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ১২:৫৬47807
  • ধুত এটা এই ব্লগের না। ইগনোর ইগনোর
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত