এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • কমিউনিস্ট রাশিয়া তে একচুয়ালি কী হত ?

    একক
    অন্যান্য | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ৩৩৬৯৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PM | 233.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:০৯627896
  • "ফ্রীডম অফ স্পিচ" এর স্ট্যন্ডার্ড ঠিক করা সত্যি জরুরী। সেই স্ট্যান্ডার্ড ঐ সময় কোথায় ফলো হতো সেটাও জানা জরুরী। যদি বলেন মার্কিন স্ট্যান্ডার্ড ধরতে হবে তাহলে এখানে কি ম্যাকার্থিস্ম এর কম্যুনিস্ট উইচ হান্ট নিয়েও আলোচনা করা যাবে?

    যদি বলেন যে সেই সময় প্রকৃত "ফ্রীডম অফ স্পিচ" কোথাও -ই ছিলো না তাহলে আলাদা করে USSR নিয়ে আলোচনা করে কি হবে?
  • lcm | 118.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:০৯627885
  • ঠিক।
    কিন্তু, ইউক্রেনে চাষীদের ক্ষেত্রে এমন মৃত্যু কিন্তু প্রচলিত ব্যবস্থা ছিল না।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:১১627907
  • এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য (সেগুলো শুধরোবো না মনে হচ্ছে প্রোপাগ্যান্ডা থেকে প্রাপ্ত তথ্য)। কোল্ড ওয়ার এখনো আছে। স্তালিন অসংখ্য মানুষ মেরেছে এটা ঐতিহাসিক সত্য।ঐ সিস্টেমে ফ্রীডম অফ্‌ স্পীচ্‌ ছিলো না। থাকলে সিস্টেম ধরে রাখতে পারত না।
    তবে নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া মুশকিল (জেম্‌স্‌ বন্ড দেখে রাশিয়া দেখা সম্ভব নয়)। প্রচুর অ্যান্টি সোভিয়েট প্রোপাগ্যান্ডা ফিল্ম ছিলো। অন্‌ দ্য কন্ট্রারী অ্যান্টি ক্যাপিটালিস্ট প্রোপাগ্যান্ডা ফিল্ম সেরকম নাই।
    অটোক্র্যাটিক সিস্টেম ছিলো। দেশ ভেঙ্গে যাবার পরেও আছে। ভেঙ্গে যাওয়া দেশের মধ্যে যেমন কাজাখস্তান এখনো রাশিয়ার প্রভুভক্ত। ভেঙ্গে যাওয়া দেশগুলোতেও ডিক্টেটটর্স ক্লাব রয়েছে। স্তালিন বেঁচে থাকতেই নিজের নামে স্তালিনগ্রাদ বানিয়েছিলো। কাজাখস্তানের নুরসুলতান নাজারবায়েভ বোধয় ৫০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট - নিজের নামে ইউনিভার্সিটি বানিয়েছে। এখনো জীবিত। সেকেন ওয়ার্ল্ড ওয়ারে জার্মানিকে হারানোর জন্যে ঐ সিস্টেম দরকার ছিলো। শুধু ব্রিটেন অ্যামেরিকা লড়ে যুদ্ধ জেতায় নি। এটা স্বীকার না করলে কিছুই বলবার থাকে না।
  • lcm | 118.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:২২627918
  • ইউক্রেনের চাষীদের (ইউক্রেন কম্যুনিস্ট পার্টি) মারা হয় ১৯৩২-১৯৩৪।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়া সিনে আসে ১৯৪১ নাগাদ।

    সুতরাং, হিটলার-কে হারানোর জন্যে ইউক্রেনের চাষীদের খাবার বন্ধ করে মারার তেমন যোগাযোগ নেই বোধহয়।
  • lcm | 118.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:২৫627929
  • ইউএস-সোভিয়েত কোল্ড ওয়ার শেষ হয়ে যায় ১৯৯০-এ গ্লাসনস্তের সঙ্গে সঙ্গেই।
  • PT | 213.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:২৬627940
  • "না খেতে পেয়ে চাষী মারা যাচ্ছে, সেই চাষী জানতে চাইবে কেন খাবার পাচ্ছি না, আমাদের তৈরী ফসলই তো -"

    অত্তো সহজ? মার্ক্স পড়ার দরকার নেই-আরেকবার অশনি সংকেত দেখে নিন। আর নাহলে এটা পড়ুনঃ With nearly a fourth of its 1.1 billion population hungry, India indeed is the world’s hunger capital. http://www.deccanherald.com/content/21720/india-still-worlds-hunger-capital.html

    এ হল গিয়ে ২০১২/১৩-র খবর। এই লোক গুলোর বৃহদাংশই চাষ-বাস নিয়ে থাকে।
  • dhur | 177.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:২৭627951
  • টই টা হারিয়ে জাচ্ছে।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:৪৮627962
  • যুদ্ধবন্দীদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। তারা কোনোদিন নিজেদের দেশে ফিরতে পারে নি। হয় মরে গেছে নয় থেকে গেছে। হাজার হাজার মাইল দুর্গম অঞ্চলে দুনিয়ার দীর্ঘতম রেললাইন বসানো হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে একটা করে ফলক। এরা হয় যুদ্ধবন্দী নয় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। কয়েদি খাটিয়ে সেই শ্রমের ব্যবহার সব দেশই করত - এখনো করে। এইত সেদিনই কীসব স্ট্যাটিস্টিক্স দেখলাম যেন। বিনামূল্যে শ্রম পাবার এরচেয়ে ভালো উপায় নেই।
    ইন্‌ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ছাড়া উন্নতির অন্য উপায় ছিলো না। যুরোপে শিল্প বিপ্লব হয়ে গেছে তাল না মিলিয়ে উপায় নেই। অথচ ক্লোজ্‌ড্‌ ইকোনমি, তাই অন্যদেশ থেকে সেভাবে সাহায্য পাবার উপায় ছিলো না।
    ফ্রান্সের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো মেট্রো বানানোর জন্যে। ফ্রান্স এমন দাম হেঁকেছিলো যে যুদ্ধ পরবর্তী ইউ এস এস আর এর পক্ষে তা কেনা সম্ভব হয় নি। নিজেরাই বানিয়েছিলো। খুব একটা খারাপ বানায় নি।
    যিহুদীদের এরাও মেরেছে। ক্রিমিয়ার তাতারদের রাতারাতি উৎখাত করে ট্রেনে ভরে ভরে সেন্ট্রাল এশিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই রেলপথে সকলে বেঁচে থাকেনি। ট্রেন থেকে নামলেই গুলি।
    আবার এরাই স্পেস টেকনোলজিতে এগিয়ে থেকেছে। সবার আগে মহাকাশে যন্ত্র পাঠিয়েছে, কুকুর, মানুষ। চাঁদে নয় অবশ্য -রোম্যান্টিকতার অভাব।
    অলিম্পিকের মেডেলও কুড়িয়েছে। শিল্পও হয়েছে নানারকম। স্টীলের কথা বলছি না। বলছি ব্যালে, গান, সিনেমা, অপেরা, ছবি, ভাষ্কর্য।
    আবার সাখারভের ঘটনাও হয়েছে।
    হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে থেকেছে। ইন্‌ফ্রাস্ট্রাক্‌চার বানিয়েছে। কুটিরশিল্পে সেভাবে মনোনিবেশ করেনি। প্রকৃতিক সম্পদ প্রচুর। খনিজ প্রচুর। সেগুলোর সদ্‌ব্যবহার করেছে।
    ডিক্টেটরেরা নয়ছয় করেছে, টাকা উড়িয়েছে।
    রেলিজিয়ান প্রাধান্য পায় নি। দেশের লোক এতে দুঃখ পেয়েছে। চাপা ক্ষোভ থেকে গেছে। প্রকাশ্যে ধর্মাচরণ করতে না পবার ক্ষোভ। জোর করে সবাইকে কমুনিস্ট বানানোর ক্ষোভ। গুপ্তচর বানানো। যেমন করেছে ইস্ট জার্মানীতে। ঘরে ঘরে গুপ্তচর - স্টাজি। সোভিয়েত ইউনিয়নে তেম্নি কেজিবি। স্টাজি ও কেজিবি দুটোর অর্থই এক। রুমানিয়ায় চাউচেস্কোর আমলে যেমন বাড়ীর শিশুরা ছিলো গুপ্তচর। জার্মানীতে (ইস্ট) স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস নেই - চরের কাজ করছে।
    আবার সিস্টেম যেই ভেঙ্গে গেল - যে যেভাবে পেরেছে লুটেছে। রাতারাতি শিল্পপতি বনে গেছে। ঐ অবধি ঠিক আছে। কিন্তু পোলিটিক্যাল অ্যাম্বিশান থাকলে তুমি মরেছো। খাদারকোভ্‌স্কির সেই অবস্থাই হয়। দীর্ঘ জেল খাটার পরে সুইট্জারল্যান্ডে চলে যায়। প্রচুর টাকা সেখানে রাখা আছে।

    ফ্রীডম অফ স্পীচ্‌ তো ছিলো না। এখনো নেই। পুটিন হুড়কো দেবে। হোমোসেক্সুয়ালদের ও ফ্রীডম্‌ নেই।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:৫১627973
  • "সুতরাং, হিটলার-কে হারানোর জন্যে ইউক্রেনের চাষীদের খাবার বন্ধ করে মারার তেমন যোগাযোগ নেই বোধহয়।" - ইউক্রেনের চাষীদের খাবার বন্ধ করে মারার ব্যাপারে কিছু লিখি। ওগুলো আপনি লিখেছেন, আপনিই রিলেশান টানছেন।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৫:৫২626929
  • ইউক্রেনের চাষীদের খাবার বন্ধ করে মারার ব্যাপারে কিছু লিখিনি*
  • ম্যামি | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:০৩626940
  • আমি ভেবেছিলাম অর্থনৈতিক সাফল্যের বিচার হচ্ছে। একটা তুলনা সহজেই করা যায়। war ravaged ইউরোপের রিকন্সট্রাকশন। এক দিকে ইস্ট ইয়োরোপ (রাশিয়ার ট্রেড ব্লক) অন্যদিকে জার্মানি সহ অন্য পশ্চিমী দেশ। এই দুই সেট দেশের রিকন্সট্রাকশন তথা অর্থনৈতিক উন্নতি আকাশ আর পাতাল।
  • | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:১১626951
  • তা ঠিক ম্যামি। তবে ওয়েস্ট ইউরোপের রিকনস্ট্রাকশনে মার্শাল এইডটাও হিসেবে ধরতে হবে।
  • ম্যামি | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:১৬626962
  • ফ্রান্স নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশের রাস্তাঘাট সমস্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। রিকন্সট্রাকশনের জন্যে বিরাট আকারের রিসোর্স দরকার ছিল। সেই রিসোর্স এইসব দেশের ছিল না। আমেরিকা ছাড়া আর কোনও দেশের সামর্থ্য ছিল না সাহায্য করবার। এইসব দেশ এখন সুপার পাওয়ার।
  • ম্যামি | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:১৮626973
  • হ্যাঁ মার্শাল এইড হিসেবে ধরেছি।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:২৬626984
  • দুটো আলাদা নিয়ম। সম্পূর্ণ আলাদা অর্থনীতি।
    সোভিয়েত সিস্টেমে ব্যাঙ্ক ছিলো না সাধারনের জন্যে। একটাই ব্যাঙ্ক। সেটা আমাদের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতো জিনিস।
    লোকে টাকা জমাবে কোথায় ? না পোস্টাপিসে। সুদ নেই। বেশি টাকা জমাতে গেলেই কেজিবি ধরবে।
    আবার ট্যাক্স ছিলো না। নো ইনকাম ট্যাক্স।
    আবার নো সেল্স ট্যাক্স। কেননা কোনো প্রাইভেট ব্যবসাই ছিলো না। শুধু চাকরী।
    ব্যক্তিগত মালিকানা (স্থাবর সম্পত্তিতে) ছিলো না।
    আবার এডুকেশন ফ্রি, চিকিৎসা ফ্রি, অ্যাবর্শান ফ্রি, থাকা ফ্রি। স্থাবর সম্পত্তি নেই তাই তাতে উত্তরাধিকারও নেই। মরে গেলে আমার বাড়ী আমার ছেলে পাবে না। আমার মোটরগাড়ীটা পেতে পারে।
    মানুষ সঞ্চয় করতে চায়। সেটা ভালোবাসার জনকে স্নেহের জনকে দিয়ে যেতে যায় নিজের অবর্তমানে। অনেক মানুষই সন্তান চায় ( ব্যতিক্রম থাকতেই পারে)। নিজের সন্তানকে বা ভালোবাসার জনকে যখন সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে যাওয়াটা মুশকিল হয়ে যায়, সেটা খুব ব্যর্থতার অনুভূতি।
    দিয়েও কিছু হয় না হয়ত। তবু।
    বিদেশে যাবার ক্ষেত্রে বাধা। চুড়ান্ত বাধা। ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট (পাসপোর্ট) জোগাড় করা দুষ্কর তার পরে বিদেশ থেকে ফিরে এসেই সেটা সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হতো। কঠিনতম বর্ডার সিকিওরিটি কন্ট্রোল। কাস্টম্‌স্‌ কন্ট্রোল। দেশটাকেই তখন একটা জেলখানা মনে হতে পারে। বেরোনোর পথ নেই।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩০626993
  • ভুল লিখেছি। পোস্টাপিসে নয়, "সেভিংস্‌ কাউন্টার" এ। যেখান থেকে রাষ্ট্র রাতারাতি টাকা বাজেয়াপ্ত করে নিতে পারে।
  • hu | 188.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩৪626994
  • বিদেশে যাওয়ার বাধার কথা শুনেছি। এটা কেন ছিল? মানে রাষ্ট্র কি আশঙ্কা করে নাগরিককে বিদেশে যেতে দিতে চাইত না?
  • 100* | 125.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩৭626995
  • বিভিন্ন বই পড়ে যা বুঝেছি সেটা হল - গিয়ে যদি না ফেরে, যদি বদনাম করে, যদি ইনফো পাচার করে দেয় ইঃ। তবে এসব বইই ওই জেম্‌স বন্ড মার্কা - এই যেমন ফরসাইথের উপন্যাসগুলো। কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা (যেমন ইউক্রেনের ম্যাসাকারটার মত) আর মনের মাধুরী।
  • 100* | 125.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩৮626998
  • *সলঝেনিৎসিন*
  • 100* | 125.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩৮626996
  • ইভেন সলঝ্নিৎসিনের বইগুলোর ওপরও ১০০% নির্ভর করতে পারিনা।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:১১626999
  • হু কে লিখছি।
    প্রথমে বিদেশ যাওয়া নিয়ে।
    রাষ্ট্র ভয় পেত। তথ্য পাচারের ভয়। এবং বিদেশে গিয়ে অন্যরকমের জীবন দেখে সেই লোভে পড়ে গিয়ে লোকগুলো যদি আর না ফেরে, অথবা ফিরে এসে সেই বর্ণনা অন্যদের করবে। ভাঙ্‌চি দেবে। দেশপ্রেম কমে যাবে। জাতীয়তাবাদ কমে যাবে। শ্লোগানধর্মীতা কমে যাবে এইসব ভয়।
    বিদেশীরা কোনোভাবেই ন্যাচারালাইজ্‌ড্‌ হতে পারত না। এখন হয়ত পারে। খুব কম বিদেশীই বিয়ে করে ওদেশে থেকে যেত। অধিকাংশই বিয়ে করে স্পাউসকে নিয়ে বেরিয়ে যেত।
    হয়ত অন্য রেস মিশে যাবে এইরকমের ভয় কাজ করত। অথচ বিদেশীদের রক্ত খুব কম হলেও মিশছিলো। সেই নতুন জেনারেশান সংখ্যায় কম হলেও মূলস্রোতে মিশছিলো।
    সবসময় "দ্রুঝবা (বন্ধুত্ব) ও মীর (শান্তি)" এর শ্লোগান পাখিপড়া করে শেখানো হচ্ছে অথচ কাজের বেলায় সেগুলো শুধু মুখের বুলি হয়েই থেকে যাচ্ছিলো।
    লোকে বিদেশে গেলে ডেমোক্র্যাসি দেখবে, একাধিক পার্টি সিস্টেম দেখবে, আমোদ আহ্লাদের অজস্র সামগ্রী দেখবে, চেষ্টা করলে বড়োলোক হওয়া যায় সেটা দেখবে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি দেখবে, সেগুলো কুপ্রভাব ফেলবে জনমানসে। এই ভয়।

    দুই উচ্চশিক্ষা নিয়ে।
    আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সিস্টেম ছিলো না। একসঙ্গেই পোস্ট গ্র্যাজুয়েট। গোটা দেশে একটাই সিস্টেম। এছাড়া কারিগরী শিক্ষা। সেগুলো থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট লেভেলে যাবার কোনো উপায় ছিলো না। ১০+৫ (প্রায় সমস্ত উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শাখা), ১০+৬ (চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আর্কিটেক্‌চার ইঞ্জি), ১০+৪(ইকোনমিক্‌স্‌, স্কুলের শিক্ষকতা, সম্ভবঃ কন্‌সের্ভাটরিতেও)। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা ইকিউভ্যালেন্ট প্রতিষ্ঠানে। সমস্তই ফ্রি, এমনকি বইপত্র।
    কারিগরী ও হাতের কাজ এবং অন্যান্য (নার্সিং ইঃ) তে ১০ + ৩, বা অন্য ব্যবস্থা। কিন্তু আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেল (ব্যাচিলর) এর কনসেপ্ট ছিলো না। পরে এসেছে। ১৯৯৪ নাগাদ।
    কার কোনদিকে প্রতিভা - গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, ক্রীড়া, সমস্তই স্কুলে খুব ছোটো ক্লাস থেকেই লক্ষ্য রাখত শিক্ষকেরা। সেইভাবেই তাদের বিষয় ঠিক করা হয়ে যেত ১০ ক্লাস পেরোনোর আগে থেকেই। খেলাধুলো, জিম্‌ন্যাস্টিক, ব্যালে, গান, বাজনা, এসবে তালিমের সুযোগ পেত খুব এরা খুব ছোটো ক্লাস থেকে।
    যাদের প্রতিভা অপেক্ষাকৃত কম তাদের জন্যে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা যাতে কর্মসংস্থানের অসুবিধে না হয়। বেকার না থাকে। দেশে জনসংখ্যা কম, তাই কাজের লোক চাই অনেক।
    তবু অনেক মেয়ে চাকরি না করে সংসার করতেই চাইত।
  • de | 190.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:১৫627000
  • সে র লেখাগুলো ভালো লাগছে -- আপনি কি রাশিয়ায় পড়াশুনো করেছেন? এতো জানলেন কি করে?

    আরো লিখুন। গল্পের মতো করে ইতিহাস শুনতে বড়ো ভাল্লাগে।
  • ম্যামি | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:২৩627001
  • সে, ফোর্সড সেভিং ছিল। লেভেল অফ কনজামশনকে কম রাখা ডেভেলপমেন্টের বিরাট হাতিয়ার।
  • সে | 203.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:৪২627002
  • শুধু উচ্চশিক্ষিত দিয়ে দেশ চলে না। মুচি, মেথর, ধোপা, নাপিত, রাঁধুনি, ড্রাইভার, মিস্তিরি, রাজমিস্তিরি, ডোম, দারোয়ান, দোকানদার, কুলি - এদের বাদ দিলে সংসার চলবে কেমন করে?
    সবকিছু মেশিন দিয়ে হয় না। চাষী নাহয় ট্র্যাক্টর চালিয়ে চাষ করল। সেই ফসল নয় তুলল আরেক মেশিন। ঝাড়াই বাছাইও মেশিনই করল। (এই জন্যে ইন্ডাস্‌ট্রিয়ালাইজেশন)। খামারে নয় গরু পালা হলো, তার দুধ দোয়ালো মেশিন, পাস্তুরাইজেশন করল মেশিন, প্যাকেটে ভরল মেশিন, গাড়ীতে তুলল মেশিন (এজন্যেও ইন্ডাস্‌ট্রিয়ালাইজেশন এর দরকার)। কিন্তু এদের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে মানুষ। তাদের সকলে উচ্চশিক্ষিত নয়।
    অপেক্ষাকৃত "নীচু" কাজগুলো - যেগুলো লোকে ভালোবেসে করতে চায় না সেগুলো করবে কে? কারা? হয় যাদের স্কিল নেই, যাদের প্রতিভা ছিলো না, কোনোমতে ইস্কুলে পড়েছে, অথবা তারা যাদের ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে, জেল থেকে বেরিয়ে "ভদ্র" কাজ পাচ্ছে না। এরা তখন ছুতোর মিস্তিরি হয়ে যায়, মেথর, ডোম, কুলি, কলের মিস্তিরি।
    তবে শ্রমের বণ্টনে মেয়েপুরুষের ভেদাভেদ তখনো অবধি ছিলো না। হয়ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এত পুরুষ মরে যাওয়ায়, মেয়ে পুরুষের রেশিও ঘেঁটে গেছল। মেয়েরা সবকাজ করত। সমস্ত কায়িক শ্রম - কেবল মাইনিং বাদ। প্রকান্ড ট্রাক চালাচ্ছে তাতে পাওয়ার স্টিয়ারিং নেই। বাস চালাচ্ছে, ট্যাক্সি চালাচ্ছে, ধোপার কাজ করছে (মেশিনেই কাচছে), ট্রেন, এরোপ্লেন, মহাকাশযান। কৃষি তখনই উন্নতি করতে পারে যখন সাথে থাকে মেশিনারি।
    ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকার একটা সুবিধে - আল দিয়ে দিয়ে জমি কমে যায় নাঃ-)

    তবুও প্রচুর কায়িক শ্রম লাগে অনেক ফসলের ক্ষেত্রে। সব্জি, ফল, তুলো, এগুলো সবটা মেশিন পারে না - হাত লাগে, চোখ লাগে। তখন ডাক পড়ে মানুষের। নিঃশর্ত কায়িক শ্রম। প্রায় বিনামূল্যে।
  • PT | 213.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:৪৭627003
  • "ঘরে ঘরে গুপ্তচর - স্টাজি। "

    hmmmm!!

    নিজের দেশের চাষীরা কেন না খেয়েও বিপ্লব না করে জীবন কাটায় তা এই ২০১৪-তে বসেও বলতে পারিনা বা বুঝতে পারিনা। কিন্তু ইস্ট জার্মানিতে ঘরে ঘরে গুপ্তচর ছিল ১৯৪০-এর দশকে-সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত!!

    হিচককের কোন ছবিটা যেন ইস্ট জার্মানি নিয়ে তৈরি হয়েছিল?-সেখানে ঐ ঘরে ঘরে গুপ্তচর ব্যাপারটা ছিল।
  • | 69.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:৫৫627004
  • ১৯৪০ সালে তো ইস্ট জার্মানি ছিল না। আর স্টাসির ইনফর্মার নেটওয়ার্ক জানার জন্য হিচককের মুভি দেখতে হয় না। স্টাসির ফাইলগুলো ফর্মার ভিকটিমদেরজন্য খুলে দেয়া হয়েছে।
  • Blank | 180.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৭:৫৭627005
  • Torn Curtain
  • PT | 213.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৮:০১627006
  • @ ত

    উত্তেজিত হইয়েন না। "১৯৪০-এর দশকে" লিখেছিলাম। পুর্ব জারমানি ১৯৪৯-এ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    যাক লেহাটা এবার রাশিয়া ছেড়ে পুর্ব জার্মানির দিকে ধাওয়া করেছে।
  • cm | 127.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৮:৩১627007
  • টই খুলেছেন একক, ফ্রীডম অফ স্পীচ নিয়ে আলোচনা চলছে। উনি ভাটে এ বিষয়ে ওনার মত দিয়েছেন তা এখানে পেস্ট করলাম। আশা করি কিছু মনে করবেন না।

    name: Ekak mail: country:

    IP Address : 24.96.48.240 (*) Date:10 Feb 2014 -- 05:26 PM

    ফ্রীদম অফ স্পিচ একটা ফিউস বাল্ব। ভল্ত্যারের ওই লাইন টা যখন প্রথমবার পড়েছিলুম তখন খুব গা গরম হয়েছিল। পরে মনে হয় ওটা একটা প্যারাডক্স। ইদীয়লোজিকে কে ইম্প্লিমেন্তেসনের জায়গায় পলিটিকালি সীল করে দিয়ে শুধু স্পিরিচুয়াল এক্সর্সাইস হিসেবে রাখার নাম ফ্রীদম অফ স্পিচ। যাতে শেষ অবধি প্রেসার কুকার নিজের প্রেসারে ফেটে না যায়। বাজারু দের হেব্বি পছন্দের জিনিস। আসলে প্লেসিবো। ইত ক্রিয়েত্স নাথিং বাট আ ফলস সেন্স অফ পার্টিসিপেশন এমং পিপল। বাজারকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে খুব জরুরি টুল।
  • PT | 213.*.*.* | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১৮:৩৮627009
  • "প্রকান্ড ট্রাক চালাচ্ছে তাতে পাওয়ার স্টিয়ারিং নেই।"

    ঠিক কবে থেকে পশ্চিম বিশ্বে পাওয়ার স্টিয়ারিং চালু হয়েছে?

    আমি তো NH-6 দিয়ে গাড়িতে যাওয়ার সময় আদ্দেকের বেশী ট্রাকের ব্রেক লাইটই দেখিনা এই ২০১৪-তেও!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন