লোয়ার কোর্টে পরাণ বাগ্দীর যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা ঘোষিত হল প্রায় তিন বছর ধরে মামলাটা চলার পর। সাক্ষ্যপ্রমাণ সব পরাণের বিরুদ্ধে গেল। মানে, পরাণের পক্ষে দেবার মতো সাক্ষী পাওয়া গেল না। দেবমাল্য সরকার উকিল হিসেবে পরাণের জন্য প্রচুর লড়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে পরাণকে নির্দোষ প্রমাণ করা গেল না। সেসান জজ সুহৃৎ মিত্র নিজেও বোধহয় জানেন যে পরাণ পুরোপুরি নিরপরাধ। কিন্তু তার কিছু করার ছিল না ... ...
( দ্বাদশ ও অন্তিম পর্ব ) দীপ্সিতার ফোনের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করে বসে আছে কলতান। সে নিশ্চিত ছিল এ ফোনটা আসবেই। দীপ্সিতার কল এল এগারোটা নাগাদ। ------ ' হ্যা বল দীপ্সিতা ..... কিছু এসেছে ? '----- ' হ্যা স্যার ..... রিপ্লাই এসেছে। সাড়ে চারটের সময় লেকের পাশে দেখা করতে রাজি হয়েছে ..... '----- ' ওহ্ .... ফ্যান্টাস্টিক। তুমি তৈরি হয়ে যাও .... '----- ' কিন্তু .... আমার খুব ভয় করছে স্যার ... ...
পাড়ায় ঢুকতে ঢুকতে পাঁচটা বেজে গেল। স্বস্তিক দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার মোড়ে। ঠিক দাঁড়িয়ে ছিল না, ওখানে অস্থির পায়চারি করছিল। রুদ্রা হাঁচোড়পাঁচোড় করে এসে পড়ল সেখানে। ----- ' কি হল ..... কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছ ? ' তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে হাঁফিয়ে গেছে রুদ্রা ।----- ' তা ... প্রায় কুড়ি মিনিট হবে ..... '----- ' এত ট্র্যাফিক জ্যাম ... ...
কলতান দীপ্সিতাকে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় থানায় একটা জেনারেল ডায়েরি করালো। দেখা গেল ও সি মোহন সিং কলতান গুপ্তর নামের সঙ্গে ভালভাবেই পরিচিত। কলতানকে অবশ্য এই প্রথম চোখে দেখল সে। যথেষ্ট সম্মান দেখাল কলতানকে। ----- ' আপনি চিন্তা করবেন না ..... কয়েক ঘন্টার মধ্যে ট্রেস করে ফেলব ...... ' মোহন সিং-এর স্বর আত্মবিশ্বাসী ... ...
মেসেজে ইংরেজি হরফে যা লেখা আছে সেটা হল ------ Je gache se to ar firbe na ..... michi michi mon kharap kore luv ki .... Notun kore jibonta suru karo ... tomar anek kichu pabar ache e jibon theke.... ami sob samay tomar sange achi.... ... ...
কুলচা রাত সাড়ে আটটার সময় এল হন্তদন্ত হয়ে। ----- ' আরে ..... এ ক'দিন এত প্রিঅকুপায়েড ছিলাম যে তোমার সঙ্গে একদম কানেক্ট করার সময় পাইনি ..... প্রোজেক্টের কাজ চলছে। তারপর ..... দীপ্সিতার ম্যাটারটার আউটকাম কি হল ? ' ---- ' এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে ..... আউটকাম ইজ কোয়াইট প্রমিসিং ... ...
দীপ্সিতা দু কাপ চা করে নিয়ে এল। সঙ্গে নোনতা বিস্কুট। ----- ' তোমাকে বড্ড কষ্ট দিলাম ..... '----- ' কি যে বলেন ...... আমি কি বা করলাম.... পরে আর একদিন আসলে ঠিকমতো আপ্যায়ন করার চেষ্টা করব ..... '------ ' আরে ..... সে হবেখন ..... 'কলতান বিস্কুটে কামড় দিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিল। ----- ' আ..... আ : ..... দারুণ হয়েছে .... ... ...
রাত আটটা বাজতে চলল। কুলচা বলল, ' আর এক কাপ কফি খাবে নাকি ? ' কলতান সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে ছিল। বলল, ' হ্যা, তা চলতে পারে ..... ওতে আমার কোন অরুচি নেই, শীতেই হোক আর গ্রীষ্মেই হোক ..... 'কুলচা আজ আর বাড়ি ফিরবে না। বাড়িতে জানিয়ে দিয়েছে ... ...
আজ সোমবার। বেলা দেড়টা বাজতে চলল। কলতান ব্যাঙ্কশাল কোর্টের উকিল সুদীপ্ত নিয়োগীকে ডায়াল করল। সুদীপ্ত তার ছোটবেলার বন্ধু। বেশির ভাগ সময়েই সে এত ব্যস্ত থাকে যে ফোন ধরতে পারে না। পরে কল ব্যাক করে। ভাগ্য ভাল, সুদীপ্ত এখন সঙ্গে সঙ্গেই ফোন ধরল। ------ ' হ্যালো বস্ .... বল ..... কি খবর ? অধমকে কি মনে করে হঠাৎ ..... অনেক দিন দেখা হয় না তোর সঙ্গে ..... '----- ' আরে কি বলব ..... সময় পাইনা একদম .... আর তোরও তো একই অবস্থা .... তাই ..... '----- ' যাক ..... কেমন আছিস বল .... তুই ... ...
কলতান বলল, ' কি ঝঞ্ঝাট দেখ তো ..... দীঘায় আনন্দ করতে গিয়ে কি ঝামেলায় পড়তে হল তোমাদের। আচ্ছা মৃদুল তোমার কি মনে হয়..... সৌপ্তিক আগে থেকে অসুস্থ ছিল কিংবা কোন ক্রনিক ডিজিজ ছিল ওর ? '------ ' ক্রনিক কোন মেজর ডিজিজের কথা আমার জানা নেই। তবে পেটের ট্রাবল ছিল ..... ছোটবেলা থেকেই ... ...