
আপনি যখন আপনার ফোনে কোন অ্যাপ ইনস্টল করেন তখন নানারকম টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনকে মেনে নিতে হয় (সময় বাঁচাতে আমরা এই টার্মসগুলো না পড়ে I accept –এ ক্লিক করে ফেলি)। সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি (উদাহরণ স্বরূপ ধরুন ফেসবুক) আপনার ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডেটাতে অযাক্সেস পেয়ে যাইয়, যেমন আপনার লোকেশন,মেল আইডি,আপনার ক্লিকিং হ্যাবিট, বন্ধুবৃত্ত, আপনার রোজকার যাতায়াতের রুট, বাইং হ্যাবিট, ফোনের গ্যালারি এবং অবাক লাগলেও সত্যি ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনেও অ্যাক্সেস পায় কিছু কিছু অ্যাপ। অর্থাৎ আপনি কী শুনছেন, কী বলছেন বা কি দেখছেন সবই সেই কোম্পানিগুলো দেখতে/শুনতে/অ্যাক্সেস করতে পারে।এখন প্রশ্ন হল আপনি আপনার স্পাউসের সাথে কোন রেস্তরাঁয় খেতে যাবেন সেই নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন অথবা অন্য শহরে থাকা মা-বাবার সাথে তাঁদের মেডিক্লেমের টপ আপটা বাড়িয়ে নেওয়া বিষয়ে কথা বলছেন জেনে সেই কোম্পানির লাভ কী? ... ...

দেশে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল না থাকার মানেই হচ্ছে সুশাসনের ভারসাম্যহীনতা। রাষ্ট্র বিজ্ঞান নামক একটি শাস্ত্রে পন্ডিতগণ বলেছেন, বিরোধীদল হচ্ছে, shadow government বা ছায়া সরকার। বিরোধীদলের দ্বারা ক্ষমতাসীন সরকারের দোষ ত্রুটি কঠিন এবং সুতীক্ষ্ণভাবে সমালোচনা করার অর্থই হচ্ছে, সরকারকে পথ নির্দেশ করা। সরকারকে আরো একবার ভেবে দেখার প্রণোদনা দেওয়া। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে কথা বলে উঠে দাঁড়ানোর মত কোনো বিরোধীদল আর অবশিষ্ট নাই এই বাংলাদেশে। সবার লেঙ্গুর তেলচর্বিতে জবজবে ভারি আর টাকাখোর হয়ে গেছে। ... ...

আইডিওলজি ব্যাপারটা তো কোনও বিমূর্ত, ওপর থেকে চাপানো প্রত্যয়ের বিন্যাস নয়। আর আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুমানসমূহ এবং ভাবনা ও অভ্যাস কেবল অন্যের দ্বারা কলকাঠি নাড়ার ফলাফল নয়। কিংবা তা প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ নয়, যে, যখন ইচ্ছে থামিয়ে দেয়া চলে বা গুটিয়ে নেওয়া যায়। তা যদি হতো তাহলে সংস্কৃতিকে যেদিকে যেমন ইচ্ছে চালনা করা যেতো। ইরানের শাহ শত চেষ্টা করেও নিজের ইচ্ছেমতন চেহারা দিতে পারেননি সেদেশের সংস্কৃতিকে। আবার খোমেইনিও সফল হননি। সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত চাপের দরুন পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গেল। সোভিয়েত দেশও ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে গেল এবং টুকরোগুলো নিজের সংস্কৃতিতে ফিরে গেল। যোগোস্লাভিয়া ছিৎরে গেল। অথচ চাপিয়ে দেয়া নান্দনিকতার রেশ থেকে সংস্কৃতিটির বিশুদ্ধ মুক্তি বেশ কঠিন, বলা যায় অসম্ভব — পদাবলী বা মঙ্গলকাব্যে আর ফেরা যায় না। পক্ষান্তরে, তৃণমূল স্তরে প্রতিরোধগুলো যতদিন টিকে থাকে ততদিন সংঘর্ষ চালিয়ে যায়। ... ...

নিজস্ব আলোভাবের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় না গিয়েও সাধারণভাবে বলা যায় ভাসন্ত ধূলিকণায় বিচ্ছুরিত সূর্যাস্তের আভা, দূরান্তরের তারা ও ছায়াপথ থেকে আসা আলোর রেশ রাতের আকাশকে পুরোপুরি অন্ধকার হতে দেয় না কখনোই। এই আলো উন্নয়নের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ খালি চোখে ছায়াপথ দেখতে পায়না। সেটা বিষম ক্ষতি বলে যদি নাও মনে হয়, পৃথিবীতে বাস্তুতন্ত্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কিন্তু অপূরণীয়। ওই আলোর রেখা ধরে পথ চলে ( navigate ) এমন পশুপাখীর সংখ্যা খুব বেশি। চাঁদের আলোয় রাস্তা চেনে এমন প্রাণীও কম নেই। তীব্র আলো তাদের চোখ ধাঁধিয়ে রাস্তা ভুলিয়ে দিচ্ছে এমনটি ঘটছে আকছার। ... ...

পরিবেশ বলতে কী বুঝি আমরা? গাছ-পালা,পশু,কীটপতঙ্গ, নদ-নদী, পাহাড়, সমুদ্র, অন্তরীক্ষ এইসব? মানে মানুষ এবং তার সমাজের বাইরের জিনিসপত্র। জাতিভেদ মেনে নিয়ে প্রজাপতিকে চুমু খেলে তা কি সু-পরিবেশ চেতনা? ধোঁয়াহীন ইলেক্ট্রিক গাড়িতে করে দিল্লি-মথুরা হাইওয়ে দিয়ে চলতে চলতে জানালা দিয়ে চিপসের খালি প্যাকেট ফেলে দেওয়া? পরিবেশের বাইরে আসলে কে? কী? যে স্মলপক্সের ভাইরাস নির্মূল করার জন্য আমাদের দীর্ঘ অধ্যাবসায় আসলে তো প্রকৃতি সেও। গোড়াতেই তাই মেনে নেওয়া ভালো যে মানুষের পরিবেশ চেতনা আসলে মানুষেরই স্বার্থে। কখনো সেটা প্রত্যক্ষ ভাবে অর্থ, কখনো বা নন্দনবোধ, কখনো বা কারুণ্য ও সহমর্মীতা। এবারে দ্যাখার দরকার যে স্বার্থটা য্যানো দীর্ঘমেয়াদী হয়। ... ...

প্রতিদিন অজস্র বিজ্ঞাপনে এ-কথাই নানাভাবে বোঝান হচ্ছে যে, পুরুষের করায়ত্ত হয়ে তার যৌনকামনা মেটানোর জন্যে নারী সর্বদাই প্রস্তুত, দরকার কেবল সঠিক ডিওডোরান্ট, সঠিক মাউথ-ফ্রেশনার, অমুক দাড়ি কামানোর সাবান কিংবা তমুক জাঙিয়ার। অর্থাৎ নারী এবং যৌনতা, দুই-ই পণ্য, এবং বিক্রয়ের জন্য হাজির। অন্য নানা পণ্যের সঙ্গে এগুলোকেও কেনা যায়। ক্রেতব্য সাবানের যেমন কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকে না, তেমনি ক্রেতব্য নারীর নিজস্ব ইচ্ছার প্রশ্নটাও অবান্তর। থাকলেও, তা চুক্তিভঙ্গের সামিল, এবং ক্রেতাসুরক্ষা দপ্তরে নালিশ ঠোকা যায়। ... ...

ওয়েটার বাদাম দিয়ে দুটো খালি গ্লাস নিয়ে গেলো। পঞ্চম পেগটা বানিয়ে আমি তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। গ্লাসটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে রইল। এরপর এক চুমুক দিয়ে টেবিলে থুতনি ঠেকিয়ে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে রইল- আমি অনেক দিন তার থেকে দূরে থেকেছি। কলকাতায়। বিয়ের পর ওখানে আমাকে পড়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো চিঠি লিখেননি। তিনি চিঠি লিখেছেন তার বৌদিকে। ভাতিজি ইন্দিরাকে। এবং দেশি বিদেশি অসংখ্য বান্ধবীকে। ... ...

চারটে বাচ্চা হয়েছিল। সাদা কালো পশমের বলের মতন। ভাল করে হাঁটতেও পারত না। দাঁড়াতে গেলে পা বেঁকে যেত। তুরতুর করে ছুটে ছুটে গলির এই ধার থেকে ঐ ধার করত তারা। তাদের নেড়ি-মা ডাস্টবিন, হোটেলের আশপাশ, হাসপাতালের ময়লা জঞ্জাল আবর্জনা ঘেঁটে যদি কিছু পেত, মুখে করে নিয়ে আসত। রাত্রিবেলায় মায়ের পেট ঘেঁসে ঘুমোত চারখানা চোখ সবে ফোটা বাচ্চাগুলো। গতকাল একটা তীব্র স্পিডে ছুটে আসা সুইফট ডিজায়ার দুটো বাচ্চাকে মাড়িয়ে দিয়ে গেল। রাস্তার ওপরেই খেলা করছিল তারা। গাড়ির আওয়াজ বুঝে সাবধানী এবং সচকিত হবার মত অভিজ্ঞতা ছিল না। গাড়িটাও, চাইলে স্পীড কমাতেই পারত। গলির মধ্যে আর কত স্পিডেই বা গাড়ি চালানো সম্ভব! দেখতে পায়নি এমনও নয়, কারণ তখন দুপুরবেলা। হয়ত, দেখতে পেয়ে গতি হালকা কমিয়ে দুখানা হর্ন দিতে পারত। অথবা স্টিয়ারিং হালকা বাম দিকে ঘুরিয়ে দিলেও কাজ চলে যেত হয়ত। কিন্তু, সম্ভবত দাঁড়াতে চায়নি। সম্ভবত, তার অনেক তাড়া ছিল। ... ...

এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিচালক নির্বাচিত সরকার। সে সংবিধান এবং আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্র আইনী প্রতিষ্ঠান, ফলে দেশের বিপথগামী বা সুপথগামী নাগরিকদের কোন কাজে শাস্তি দিতে হলে সে আইনী সীমা লঙ্ঘন করতে পারবে না। মাওবাদীদের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা দেশের সংবিধানকে অস্বীকার করে এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ও কার্যকলাপ ঘোষিতভাবে বেআইনি। তারা যদি দেশের শত্রু হয়ে থাকে, তাহলে দেশদ্রোহ আইনে তাদের সাজা দিতে হবে। মিথ্যে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা চলবে না, আত্মসমর্পণ করতে চাইলে বুলেটে তার জবাব দেওয়া যায় না। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং বা বিচারবহির্ভূত হত্যা যদি সবক শেখাবার সহি রাস্তা হতো তাহলে পঞ্চাশ বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসছে কিভাবে ? ... ...

মা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করল কিন্তু আব্বু আরও রেগে যেতে লাগল। বলতে লাগল, আমি না কি বেশি শিক্ষিত হয়ে গিয়েছি। এখানে একটা কথা বোঝা দরকার। আমাদের গ্রামে আমিই প্রথম যে সায়েন্স নিয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো জনা দশেক গ্র্যাজুয়েট পাওয়া যাবে। তাই আব্বুর মুখের এই কথাগুলোর প্রেক্ষাপটটা বুঝতে পারতাম। আচ্ছা, শিক্ষাও কি কাউকে সংখ্যালঘু করে দেয়? আর এই ক্রমাগত চাপ সহ্য করতে পারছিলাম না। একসময় বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে পালালাম। কোথায় যাব জানি না। কিভাবে যেন গিয়ে পৌঁছলাম মুম্বাই। কন্সট্রাকশন ওয়ার্কারের কাজ নিলাম বেঁচে থাকার জন্য। সেখানে খুব কাছ থেকে দেখলাম শোষণের আরেক রূপ। তবে সেইসব গল্প তোলা থাক অন্য আরেকদিনের জন্য। ... ...

আলী যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে তখন সে প্রথম বারের মতো কলকাতা যায়। সেবার হুগলী নদীর উপর বিশাল লোহার ব্রীজ হয়েছে। আজব সে ব্রীজ! তার তলায় থাম নেই, উপর দিয়ে বাস-ট্রাম-ট্যাক্সি চলে, লোকে পায়ে হেঁটে যায়, আর নিচ দিয়ে লঞ্চ-স্টীমার যায়। আলীদের বাড়ির সবাই গোটা ব্রীজ হেঁটে হেঁটে পার হয়। ওপাড়ে গিয়ে আরও হেঁটে ময়দান, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাইকোর্ট সব ঘুরে দেখেছিলো। নিউ এম্পায়ার থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে দেয়ালের ছবি দেখেছিলো। মামীদের খুব ইচ্ছে ছিল থিয়েটার দেখার, কিন্তু এতগুলো মানুষের টিকিট কেনা সম্ভব ছিলো না। এই দিন আলী জীবনে প্রথম বারের মতো দোকানে বসে কাবাব-রুটি আর কুলফি খেয়েছিলো। অমন খুশবুদার আর মাখনের মতো মোলায়েম কুলফি আলী আর কোনদিন খায়নি। দোকানে আরেকটা খাবার দেখেছিল, তার নাম ‘ফালুদা’। নানা রকমের ফল, বাদাম, সিরাপ, ক্ষীর, বরফ দিয়ে বানানো। কি লোভনীয় দেখতে, আর কি তার খুশবাই! ... ...

‘তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার কী হল?’ কোশ্চেনটা জরুরি, কিন্তু আপাতত তা মুলতুবি থাক। আগে এই নীতির ফলাফল কী হতে পারে দেখা যাক। আসামের দিক থেকে দেখলে ‘ভারত হিন্দু আশ্রয়স্থল’ নীতির বিশেষ তাৎপর্য আছে। ২০১৪-এর নির্বাচনের সময়ে মোদিজি অর্ণব গোস্বামীকে সাক্ষাৎকার দেন। অর্ণব জিজ্ঞেস করেন বাংলাদেশে দেড় কোটি হিন্দু আছে। আপনারা দেড় কোটি লোককে ভারতে (পড়ুন আসামে) চলে আসার আমন্ত্রণ দিচ্ছেন না তো? মোদিজি স্বভাবসিদ্ধ প্রাজ্ঞতায় জানান হিন্দু কোনও ধর্মই নয়, জীবনশৈলী। সাংবাদিকদের বাংলাদেশে গিয়ে হিন্দুদের ওপর গবেষণা করা উচিত। ফিজি নিয়ে বলছেন না কেন? ইত্যাদি। হিন্দুদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি মোদি সরকার বলবৎ করবে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। ... ...

এর সংগে আছে মৌলিক অধিকার হনন। সারা দেশ জুড়ে আদিবাসীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মনিয়োজনের অধিকাগুলো থেকে বঞ্চিততো হনই। এর চেয়ে বড়ো অধিকার হনন ঘটে তাঁদের সাংবিধানিক মর্যাদার বঞ্চনায়। যেমন আসামেঃ এখানকার চা-বাগান, এখানকার শস্যক্ষেত্র, এবং আর্থনীতিক সমৃদ্ধিতে ঝাড়খণ্ড সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রা থেকে আসা আদিবাসীদের অবদান বিপুল। অথচ, এ রাজ্যে তাঁরা তফসিলি জনজাতি (এস-টি) মর্যাদা পাননা। কারণটা শ্রেণিগত – এ মর্যাদা পেলে সাংবিধানিক রক্ষা কবচগুলো ব্যবহার করে অন্তত একটা অংশের আদিবাসী নিজেদের জীবনযাত্রার মান বাড়াবার সুযোগ পাবেন, কিন্তু সেটা পেলে অবিশ্বাস্য সস্তা মজুরিতে চা-বাগানে কাজ করবে কে? সরকার, স্পষ্টত, অসমিয়া শাসকশ্রেণির পক্ষে, বা তাদেরই প্রতিভু। এর উপর আছে কথায় কথায় ঝাড়খণ্ডী আদিবাসীদের উপর সরকারি মদতে আসামেরই বোডোদের মতো কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর অকল্পনীয় হিংসা – গত শতাব্দীর ভারতে আসামের কোকরাঝাড় জেলায় লক্ষ লক্ষ সাঁওতাল বোডো জঙ্গীদের হাতে প্রাণ হারান, গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে লোকেরা পালাতে বাধ্য হন শরণার্থী শিবিরে। ... ...

শ্রী অশোক কুমার মুখোপাধ্যায় যে ‘নিবন্ধের’ কথা লিখেছেন, এবং লীলা মজুমদারের ওপর বেরনো যে বইটির কথা এখানে উঠেছে, আমার এই লেখাটি আমি সেই প্রসঙ্গেই লিখছি। ৬ মে সকালে রবিবাসরীয়তে অশোকবাবুর লেখা পড়ার পর দুপুরবেলায় আমি আনন্দবাজারের সম্পাদককেও একটি ইমেল লিখেছিলাম। তিনি তখন তখনই উত্তর দেন, এবং বলেন যে, বিষয়টির কথা তিনি জেনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমি আমার ইমেল এবং সম্পাদকের বক্তব্য প্রসঙ্গে একটি পোস্ট লিখেছিলাম ফেসবুকে। দু’দিন পর অশোক মুখোপাধ্যায়ের এই ঋণস্বীকার। আমি এই কথাটাই আনন্দবাজারের সম্পাদককে লিখেছিলাম, যে, আপনারা একটা লাইন ছেপে দেবেন দুঃখ প্রকাশ করে। ব্যাস, আপনাদের দিক থেকে আপনারা পরিষ্কার হয়ে যাবেন। ... ...

প্রাথমিক মুগ্ধতা কেটে যাওয়ার পরে, আমার অশোক মিত্রের লেখা খুব ভালো লাগতো না। তবে এটুকু স্বীকার করে নিচ্ছি, আমি তাঁর লেখাতেই সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য, অরুণ কুমার সরকারদের কথা পড়েছি। শুধু এই জন্যেই তাঁকে মনে রাখা যায়। পরে যোগাড় করে কিছুটা পড়েছি, কিন্তু আধুনিক সমসাময়িক সাহিত্য চর্চা মানেই যে একেবারেই বহুল প্রচলিত পাঠকের রুচি নির্মাণে আগ্রহী সাহিত্য পত্রিকা, কিম্বা শুধুই ক্রুদ্ধ, সমান্তরাল অন্তর্মুখী অতি নাগরিক জগত তৈরি করে নেওয়া ছোটো পত্রিকার লেখা পাঠ নয়, তার যে একটা খোঁজ আছে, ইতিহাস আছে, এবং আধুনিকতা জিনিসটা যে একেবারে টুপ করিয়া পড়িল গোছের কৃষ্ণপ্রেমে নিবেদিত কদম্ব পুষ্প না, এই বোধটা যে কজনের লেখা পড়ে তৈরি হয়েছিল, অশোক মিত্র তাঁদের মধ্যে একজন। ... ...

এখন কথা হল, নারী কোন একমাত্রিক পরিচিতি নিয়ে চলে না। যোনিগত পরিচিতি ছাড়াও মেয়েদের বংশ, জাত, ধর্ম, শ্রেণী ইত্যাদি নানা পরিচয় থাকে।যত জীবন চলতে থাকে ততই মৌলিক পরিচয়গুলির সঙ্গে যুক্ত হয় তার প্রথাগত শিক্ষার তকমা, পেশার পরিচয়, তার রাজনৈতিক অথবা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কজনিত পরিচয়।আর এই যে লিঙ্গ, জাতপাত, ধর্মীয়, শ্রেণীগত, যৌনতা অথবা শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বিষয়ে মেয়েদের পরিচিতি, এর মধ্যে কোন পরিস্থিতিতে কোন পরিচয়ের কারণে তাকে ধর্ষিত, নির্যাতিত হ’তে হবে, তা নির্ভর করে তার পরিচিতিগত অবস্থানের প্রান্তিকতার ওপর।অনেকসময় একাধিক প্রান্তিক পরিচিতির কারণেও মেয়েদের ওপর অত্যাচার নেমে আসে। ... ...

খোয়াবের কথাতেই মুহাম্মদ আব্দুস সামাদের ভ্যাল লেগে যায়। তার খোয়াব দেখার বাই আছে। সে কারণে তাকে বাল্যকালে বেশ ভুগতে হয়েছে। বাপে ক্ষেত খামারের কাজে লাগাতে পারেনি। কাঁচি হাতে পাঠালেই হয় তার হাত কাটত। অথবা কাকপায়া ঘাসের বদলে ধান গাছ কেটে ফেলত। এমন কি মাঝে মাঝে তার সন্ধানই পাওয়া যেত না। পাওয়া যেত, বটতলার ঝুরির ভেতরে চিত হয়ে সে ঘুমিয়ে আছে। মুখে মিটি মিটি হাসি। এই করেই শেষ পর্যন্ত পাঞ্জু শাহর দলে ঢুকে পড়েছে। ... ...

আগরতলা বইমেলাতে বিমলেন্দ্র চক্রবর্তীর কাছে ছবি ও কবিতার দাবী জানাতেই পাওয়া গেল দুটি ছড়া ও তাঁর অলঙ্করন। পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হলো এখানে! ... ...

হো হো হাসিতে তলিয়ে যায় সন্দেহবাজ লোকগুলো। আলোর দিকে পেছন দিয়ে বসে থাকে ওরা। অন্ধকারে মিশে যায় ওদের সাম্প্রদায়িক অসুন্দর মন। বাগানের অন্যদিকে তখন গান গাইছে দিভাই আপুলিরা, আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ, মায়ার কুঞ্ঝটিজাল যাক দূরে, যাক যাক যাক -- কোনো এক নদীগন্ধমাখা শহরের তরুণ প্রাণরা বৈশাখকে বরণ করে নিতে কত কিছুই না বানাচ্ছে। পোস্টানো ছবিতে আমি ওদের হাত দেখি, হাতের আঙুল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রঙ, কাগজ। উদ্ভাসিত আলো এসে ছুঁয়ে গেছে ছেলেমেয়েদের চোখ মুখ। ওদের হাসি, হাসিতে বৈশাখী হাওয়া, ঝড়, বৃষ্টি, রোদ্দুরের জন্যে অনাবিল আহবান। কেউ কেউ ডাকে, ম্যাম আসুন। আসুন না প্লিজ। এ তো আপনারও শহর। দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে আলপনা হবে। রঙ কেনা হয়ে গেছে। আপনিও আল্পনা আঁকবেন আমাদের সাথে। কি যে ভালো লাগবে ম্যাম! ... ...

এই ঝড় সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না আমার। জানতাম কেবল, এই ঝড় সৃষ্টির পেছনে আমার কোনো হাত নেই। জানতাম, আমাকেই খোঁজা হচ্ছে এখন। যতক্ষণ ঝড়ো বাতাস বইতো, ততক্ষণ আমি ঘামতে থাকতাম এই জানালাবিহীন গুমোট কক্ষে। এত ঝড় বাইরে অথচ এখানে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো বাসাটুকুও কষ্ট করে সঞ্চয় করতে হয়। মাথার ওপর দিয়ে কয়েকটি চামচিকা অনবরত যায়-আসে। ভয় হয়, ওরা শেষমেশ এই গোপন আস্তানার খবরটা ঝড়ের কাছে ফাঁস করে না দেয়। টিকটিকিটাকেও চোখ শাসিয়ে বারণ করে দিই। মাকড়সা দেখলেই মনে পড়ে যায় স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের কথা। আচ্ছা, ব্রুস যদি ঐ মাকড়সার প্রচেষ্টাকে গুনুত্ব দিয়ে না দেখতেন, কিংবা মাকড়সা যদি সত্যি সত্যি সেদিন না থাকতো ওখানে, তাহলে কি তিনি জয়ী হতে পারতেন? একটা মাকড়সার কারণেই কি তিনি তার রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারলেন--বদলে গেল একটা দেশের ইতিহাস? ... ...