
পট্টর আঁকা ছবি ... ...

তিতিরের ছবি ... ...

মল্হারের ছবি ... ...

রু-এর ছবি ... ...

পুজো বললেই আমাদের কুঁজোর কথা মনে পড়ে। আকৃতি বললে গোবর গণেশ, প্রকৃতি বললে ল্যাবা কাত্তিক। আমরা লক্ষী বলতে ট্যারা বুঝি আর কলা বলতে বৌ। গনেশ প্রায়ই ওল্টায় বলে আমাদের ভবানী থাকেন ভাঁড়ে। বাজেটের এই হাল নিয়ে থিম-টিম আমাদের পোষাবেনা। তাই পুজো হলেই বা কি, পেরিয়ে গেলেই বা কি, আমাদের কোনো কোনো হেলদোল নেই। এবার আমাদের কোনো থিম নেই। ... ...

পুজোর জগতেও এবার এসে গেল পরিবর্তন। ষষ্ঠীর দিন এক বাংলা চ্যানেল জানালেন, এবার ফোকাসে পরিবর্তন। আর কলকাতা-কলকাতা নয়। এবার পুজো গোটা বাংলার। এবার পুজো বৃহৎ চেতনার। বঙ্গ চেতনা ও মানবচেতনার। ছোটোখাটো ইস্যুতে থিমকে আর বেঁধে রাখা যাচ্ছেনা যাবেনা। হাওড়ার পুজো কমিটির প্রধান জানালেন, তাঁদের এবারের পুজোর থিম জঙ্গলমহল, সাঁওতাল সমাজ ও নাগাল্যান্ড। জঙ্গলমহল আর ভূমিপুত্র না হয় বোঝা গেল, কিন্তু নাগাল্যান্ড কেন? না, নাগাল্যান্ড সরকার তাদের ভূমিপুত্রদের নিয়ে যে ধরনের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, বাংলার সরকার দশকের পর দশক ধরে তার কানাকড়িও করতে পারেননি। ... ...

পুজোয় কী কী সিনেমা না দেখলে জীবন বৃথা? চেখে দেখে জানাচ্ছেন লেখক। হ্যাঁ পুজোর রিলিজ বলতে আবার পুজোর মধ্যেই রিলিজ হল ভাববেন না। আমাদের উৎসব ঢের আগেই শুরু হয়ে গেছে। ... ...

(মেয়েরা ভালোবাসেনা বলে রোজ সন্ধ্যেবেলা রাগ হয় আর সেই রাগ থেকে এই সব লেখা) আপেল দেখে আদমি চেনা যায়। সুব্রতর বাড়িতে দাদা-বৌদি বেড়াতে গেল, আমরাও রাতে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে ভিসিআর ভাড়া করে পানু দেখার ব্যবস্থা করলাম। সে কি সাংঘাতিক পানু। মেয়েদের মতো বুক আছে আবার ছেলেদের মতো ইয়ে। সেই প্রথম ঐ জিনিস দেখলাম। অনেক পরে জেনেছি তাদের কী বলে ইত্যাদি কিন্তু তখন আমাদের মধ্যে দারুণ তর্ক - ওরা আসলে ছেলে না মেয়ে। সুব্রত জ্ঞানী ছিল। বলল ওরা ছেলে। অ্যাডামস অ্যাপল খালি ছেলেদের থাকে। ... ...

সাঁঝের ঝোঁকে তিন মূর্তি হাজির। জলপথে আড্ডা চলছিলো এক শুক্কুর সন্ধ্যায় বন্ধু পম্পা-নীলাঞ্জনের ছাদে, সেখানে প্রায় চাঁদেরই সাম্পান বেয়ে হাজির, সৈকত, বরুণ আর গৌরব। তিনজন তিন আকৃতির। সৈকতকে ভীমের রোল দিলে আর কেউ ঠেক খাবে না। গৌরব বেশ গণেশ মতন, আর বরুণ ফ্রেঞ্চ কাটে কাত্তিকটি। এরা তিনজনাই বেঙ্গলী-ইন-ব্যাঙ্গালোরের ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। সাঝেঁর ঝোঁকে এহেন অতর্কিত হামলা - কওহে ইহার কারণ কী? ... ...

অমল ধবল পালে খুব একটা হাওয়া এখনো লাগে নি, বরং আগের হপ্তাটা যা গরম গেল, "ভিক্ষে চাইনে মা, কুকুর সামলা' অবস্থায় নিয়ে এসেছে আপামর ইউ এসের পূর্ব উপকূলবাসীদের। সাউথ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ইত্যাদি নাকি সেই '৫৭ সালে এইরকম গরম পেয়েছিলো, আমাদের এদিকটা ঠিক ততটা না হলেও "ছোটে মিয়াঁ শুভানাল্লা', চল্লিশের ঘরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে ঘোরাঘুরি করেছে। (দেখেছো? ডিগ্রী সেলসিয়াস বেরিয়ে এলো, ফারেনহাইটে ব্যাটারা কী সব এইট্টি নাইন্টি হাঁকে, শুনেই গরম লাগে, ওসব সাহেবসুবোদের জন্যে, তারচেয়ে দ্যাশের টান, ঐ সেন্টিগ্রেডই ভালো) ... ...

দেশজুড়ে চারদিকে যখন অরাজনৈতিকতার জোয়ার, মানুষ ব্যাপক এবং বিশাল গণআন্দোলনে যোগ দিতে দিতে জানান দিচ্ছেন যে তারা রাজনীতি করছেন না, তখন একটি কাগজ ( একা এবং কয়েকজন গুয়াহাটি) "অসমের বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনা" এরকম একটা বিষয় বেছে নেয়াতে মনেই হয় তারা স্রোতের বিরুদ্ধে পা ফেলতে চাইছেন। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধেও একটা স্রোত রয়েছে--- বলিউড পরিচালকেরাও প্রায়ই উচ্চারণ করে থাকেন "জরা হটকে"। বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও কিন্তু এই "জরা হটকের" বড় জটিল জাল ছড়ানো রয়েছে। একে "রাজনীতি", তায় "এই জাল"-কথা বলতে বেশ ভয় করেই বটে। ... ...

ভারত সরকারের অনুসৃত "নিও লিবারেল' অর্থনীতির ফলে ভারতীয় সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ভৌগোলিক-জনগোষ্ঠীগত ও শ্রেণিগত অসাম্য, দরিদ্রতা ও রোজগারহীনতা তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিও লিবারেল গ্রোথ মডেলের "ট্রিকল ডাউন এফেক্টের' অসারতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সমাজের মুষ্টিমেয় ধনকুবেরদের ধনভাণ্ডার ক্রমাগত স্ফীত হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজের গরিষ্ঠাংশ দরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে গ্রোথরেট বৃদ্ধির সুফল স্বাভাবিকভাবে বাজারের নিয়মে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পৌঁছে যাওয়ার দাবির অন্ত:সারশূন্যতা প্রমাণ করে দিয়ে এক ক্ষুদ্র সচ্ছল অংশের মধ্যেই আবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। বাজারচালিত উন্নয়নের পথ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পরম্পরাগত রুজি-রোজগারের মাধ্যমকে কেড়ে নিচ্ছে, সেজের মত ব্যবস্থাগুলির ফলে কৃষকদেরকে হারাতে হচ্ছে তাদের চাষের জমি, বিকৃত উন্নয়নের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি গ্রাম-সমাজকে করছে বাস্তুভিটেহারা, গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে রুজি-রোজগারের সন্ধানে শহরমুখী প্রব্রজনের ফলে শহরে বিস্তৃত "ঘেটোগুলি' গড়ে উঠছে, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সম্পদের অবাধ লুণ্ঠন প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে পরিবেশ দূষণের চরম বিপদ ডেকে আনছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ অহিংস থেকে সহিংস বা তার উল্টো কিংবা এই দুটোর মিশ্রণের বিভিন্ন রূপ, মাত্রা ও ব্যাপ্তির বিদ্রোহ যে গড়ে তুলবে তাই স্বাভাবিক। সচেতন কিংবা স্বত:স্ফূর্ত এই বিদ্রোহগুলিই আমাদের নীতি-নির্ধারকদের তাদের অনুসৃত জনবিরোধী পথে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়, বাধ্য করে থমকে দাঁড়াতে কিংবা সাময়িকভাবে পিছু হঠতে। ... ...

মুম্বইয়ের "মোকা ক্লাব' শর্টফিল্মের ব্যপারে অনেক চেষ্টা-চরিত্র করেছেন। নিজেদের ক্লাবে দেখানো ছড়াও ওঁরা একটা সংস্থা খুলতে চেয়েছিলেন যারা এসব ছবির ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ করবে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হলোনা। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন হলেন কুনাল জাভেরী। কুনাল বলছিলেন ""আমরা ভেবেছিলাম শর্টফিল্মের জন্য একটা "বাজার' তৈরী করা দরকার। কিন্তু পেরে উঠলাম না। টিভি চ্যানেল গুলো তো কোন উৎসাহই দেখালোনা। সব শর্টফিল্মগুলোর একটা ক্যাটালগ বানিয়ে উঠতে পারলে হয়তো কিছুটা লাভ হতো। কিন্তু সেও প্রায় অসম্ভব। প্রত্যেকটা ছবির পরিচালকদের সাথে দেখা করে, ওঁদের দিয়ে বিশ-চল্লিশ পাতার চুক্তি সই করিয়ে আনতে যা সাময় লাগবে তার মধ্যে সে ছবি দেখার জন্য আর কেউ বসে থাকবে না''। মোকা ক্লাবের উদ্যোক্তারা "রাজশ্রী ফিল্মস'এর অনলাইন ধারার সাথেও কথা বলেছিলেন। জাভেরী বললেন -- ""ওঁরা অবশ্য আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। বেশ কয়েকটা ছবি ওঁরা ন্যায্য দাম দিয়ে আমাদের থেকে কিনে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিনামুল্যে দেখাবার ব্যবস্থা রেখেছেন। rajashri.com সাইটে এখনও ছবিগুলো রয়েছে। কেউ ইচ্ছে করলে দেখতে পারেন।'' জাভেরী মনে করেন যে আগে ছবি দেখানোর ভালোমত ব্যবস্থা না করতে পারলে ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ আরো কঠিন হবে। ""এই ধরণের ছবি সম্পর্কে আগে লোকের মধ্যে আগ্রহ জাগানো দরকার। নাহলে বাজার তৈরী হবে কী করে?'' ... ...

ঠাকুরদা কালীকিশোর ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করার অপরাধে নিজের গ্রাম ইট্না থেকে বিতাড়িত হন। কিশোর জর্জকেও স্কুল জীবনে সহপাঠিদের থেকে তাড়না সহ্য করতে হয়েছিল "ম্লেচ্ছ' অপবাদে। ১৯২৭ সালে কলকাতায় কলেজে পড়তে এসে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে সংযোগের সূত্রে ঠাকুরবাড়িতে প্রবেশাধিকার পান জর্জ। তখনকার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত প্রধান ব্যক্তিদের গান শোনানোর সুযোগও এসে যায় এইভাবে। তবে এই "ম্লেচ্ছ' কিশোরটি সৃষ্টিচেতনার প্রথম থেকেই ইতরযানী চেতনার পতাকা বহন করেছেন আজীবন। অস্বস্তিকর আভিজাত্যের দাসত্ব করেননি কখনও, না ব্যক্তিজীবনে, না শিল্পীজীবনে। পারিবারিকসূত্রে যদিও তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে আবাল্য পরিচয়, কিন্তু এই সঙ্গীতধারাটির নিয়মমাফিক শিক্ষা তাঁর ইন্দিরা দেবীর কাছে। কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে যেসব দিগগজ রবীন্দ্রসঙ্গীত গুরুরা সেই সময় শিক্ষণ প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের কারুর কাছেই জর্জ পরম্পরাগত শিক্ষা লাভ করেননি। সত্যি কথা বলতে কি তাঁর দিগ্দর্শক ছিলো স্বরবিতান, নিজের কান ও নিয়মভাঙা অফুরন্ত সৃজনশীলতা। একে যদি তাঁর সীমাবদ্ধতা বলি, তবে তাই। আর যদি বলি এখান থেকেই তিনি সূত্রপাত করেছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতে সম্পূর্ণ নতুন এক ঘরানা, জনপ্রিয়তায় যা ছিলো শীর্ষস্থানে, কিন্তু কোনও দ্বিতীয় ঘরানাদার তৈরি হতে পারেনি। অর্থাৎ জর্জদা রবীন্দ্রসঙ্গীতে একাই একটা বাতিঘর হয়ে রয়ে গেলেন। ... ...

আমি এমন "গায়ক'এর গানও শুনেছি যিনি আমার নিজের বানানো গানের তাল পালটে সেটিকে আত্মস্থ করে গেয়েছেন। শ্রোতারা খেয়ালও করে নি যে গানটার রিদমটাই পালটে গেছে। এইভাবেই আমার একটা ৫ মাত্রার গান নির্দ্বিধায় ৬ মাত্রা, কখনও কখনও ৮-মাত্রাও হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং একজন শ্রোতার একটা ভুরুও বাঁকে নি, বরং গানশেষে সেই গায়ক অজস্র তারিফ এবং তারিফ পেয়েছেন। এইসব বিখ্যাত আর জনপ্রিয় শিল্পীরা গানের মাত্রা বদল কেবল শস্তা জনপ্রিয়তা পাবার জন্যেই করেন নি, তাঁরা এটা করেছেন কারণ ৫-মাত্রার গান হ্যান্ড্ল করা তাঁদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই একজন সেটাকে ৬ মাত্রায় বদলে নিলেন, আরেকজন, ৮ মাত্রায়। পরিশেষে, শ্রোতাদের তৃপ্ত মুখগুলি আর শিল্পীর খুশি-খুশি মুখ দেখে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে ভাবলাম, একদিন আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে এই দেশে ফিরে এসে গানকে জীবিকা হিসেবে নেবার বিরুদ্ধে সাবধান করেছিলেন, তাঁদের কথা সেদিন শুনলে আজ আমাকে এই জিনিস দেখতে হত না। আমি কিছুই করতে পারি নি, নিজের ক্ষোভ, রাগ, হতাশা, কিছুই ব্যক্ত করতে পারি নি সেই দিন। আজ, তেষট্টি বছর বয়েসে, জীবনে অনেক কিছু দেখবার পরে, আজ হয় তো সময় হয়েছে, আমি গলা ছেড়ে বলতে পারি এই বং সোসাইটি (ঞ্ছবাঙালিঞ্জ নয়) আর এই বং জীবনযাত্রার প্রতি আমার অপছন্দ, আমার ঘেন্নার কথা। "বাংলা' বলে আর কিছু বেঁচে নেই। অনেকদিন আগে মরে গেছে। অনেকদিন আগে শোনা এক বাউল-গান মনে পড়ে যাচ্ছে - "বাউল বাউল করো তোমরা / বাউল কে আছে / বড় দু:খ পাইয়া বাংলার বাউল মইরাছে।' ... ...

অ্যাফস্পা ১৯৫৮ পুরস্কার পেল, যা আমরা আলোচনা করছিলাম,তাই এটা আমাকে পীড়া দিচ্ছে। আমি জানি আমি যে সব সংস্থার জন্য কাজ করি সেখানে আমি এই সব জিনিস একজন আধিকারিক হিসাবে দেখাতে পারব না, কিন্তু একজন শিল্পী, একজন নাগরিক, একজন ভারতীয় হিসাবে আমি বাঁচতে পারব না যতক্ষণ আমি এই সত্যটাকে কোথাও, কোনো আকারে লিপিবদ্ধ করছি। তাই আমি নিজেই একজন দ্বৈত সত্ত্বায় পরিণত হচ্ছি, একজন আধিকারিক সত্ত্বা, যে তার পরিচয় বহন করে, চেষ্টা করে এমন কিছু করার যা খুব অবাস্তব নয়, একদম ডাহা মিথ্যে কথা নয়। আমার কর্মরত সংস্থার জন্য মণিপুরের ওপর একটা ছবি করার সময় কোনোভাবে মণিপুরের সত্যটাকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার ভেতরকার যন্ত্রণাদীর্ণ সত্ত্বা ভালোভাবে ঘুমোতে পারে না, আমি যে সব নিজের চোখে ঘটতে দেখেছি। আমি সবার সঙ্গে মদ্যপান করি, যেহেতু মণিপুরে মদ নিষিদ্ধ তাই আপনি খোলাবাজারে মদ পাবেন না, তাই আমাদের মদ্যপান করতে আর্মি পিআরওর কাছে, অসম রাইফেলস পিআরওর কাছে যেতে হয়, সব মিডিয়ার লোকজনেরও আর্মি পিআরওর কাছে কোটা বাঁধা আছে। সেখানে অনেক মালায়ালি অফিসার আছেন, উকিল অফিসার আছেন, তো আপনি তাদের সঙ্গে বসে মদ খান, আর ৪-৫ পেগের পরে, একটা অন্য মণিপুর, যেখানে হিন্দি গান মানা, হিন্দি গান গাওয়া হয় না, আর রাতে মনিপুরিদের কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো জিনিস যা পাওয়া যায় তা হল হিন্দি গান। তাই রাতের একটা মনিপুর আছে, রাত ৯টা ১০টার পর, মণিপুর যা অ্যাফস্পাতাড়িত নয়। ... ...

ঠিক এখান থেকেই শুরু হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনাটা। ধরে নিন, আজকে ১৫ ই অগাস্ট কেউ ইন্টারনেট-এ পোস্ট করলেন বহু পুরোনো একটি কম্যুনিষ্ট শ্লোগান। "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়'! কি হবে? বা কি কি হতে পারে? ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। এই শ্লোগানটা তার কিছু চিহ্ন বহন করছে অবশ্যই। কেউ কেউ যেমন ভাবতে পারেন সাদা চামড়ার লোকেরা চলে গিয়েছে তেমনি কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে তার জায়গায় এসে বসেছে বাদামী সাহেবরা। এমন ভাবনান্তর থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশেষত, আজকের এত বছর পরেও খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের কিই বা উন্নতি হয়েছে? শহরে হাস্যকর রকমের খরচ বাড়ানো বড়লোকের নার্সিংহোম, বেসরকারী হাসপাতাল বাড়া ছাড়া কি পেয়েছি আমরা স্বাস্থ্যে? আমলাশোলে বা খয়রাশোলে লোক মরলে আসে খবরে। এলে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়ে যায় সেটাও। আর যদি ওইভাবে না মরে ধুঁকে ধুঁকে মরে, তাহলে খবরেও আসবে না। আমরা প্রজ্ঞাসম্পন্নরা সেমিনারে বা ভোটবাজারে মুখ গম্ভীর করে আলোচনা করবো অনেক। কেউ কেউ বলতেও পারেন (আমি শুনেছি খাদ্য সম্পর্কে হওয়া একটি সেমিনারে), যে আসলে দারিদ্রের কারণ হল লোকের অলসতা। এই কিছুদিন আগে যেমন বাংলাদেশের বন্ধুরা আলোচনা করছিলেন অনেক খাওয়াই নাকি খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ, এমন বলেছেন বাংলাদেশের কোনো এক মন্ত্রী। আমাদের এখানে প্রফুল্ল বাবু খাদ্য "কাঁচকলা খাক্' বলে কাঁচকলা প্রফুল্ল হয়ে গিয়েছিলেন। খাদ্য আন্দোলন হয়েছিল। শিক্ষা মানে এক বিভীষিকাময় ব্যবস্থা। বাকী সব প্রসঙ্গেই এমন কথা বলাই যায়। আর কথা বাড়াচ্ছিনা এ প্রসঙ্গে। বলার কথায় চলে আসছি। যদি এই সব দেখে কেউ লেখেন "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়' তাহলে? ... ...

আরো একটি ব্যাপার হয়েছে। দূরের ঘটনা হিসেবে প্রাক-স্বরাজ সময়টি আমাদের কাছে কতকটা যেন polemic-হীন সময় হিসেবে প্রতিপন্ন হয়। যেন তারই প্রমাণ হিসেবে আমরা বিনা চিন্তা-ভাবনায় গান্ধী-ক্ষুদিরাম-রবীন্দ্রনাথ-সুভাষ-নেহেরুদের ছবিকে মালা পরিয়ে এক লাইনে বসিয়ে দিতে পারি। অবশ্য তৃতীয় ব্যক্তিটিকে আমরা সচরাচর স্বাধীনতার জন্মদিনে মনে করি না (তাঁর "জনগণমন' বা "ও আমার দেশের মাটি' ছাড়া)। আমরা প্রাক-স্বাধীনতা যুগের কথা ভাবি অনেকটা গোটা মহাদেশের ম্যাপ দেখার মত করে, উঁচু-নীচু বন্ধুরতা সব কেমন সমান মাপের মনে হয়। মনে হয় স্বাধীনতা নামের আগুনের কুন্ডের চারপাশে সবাই একই মাপের চামচ দিয়ে ঘি ঢেলে ঢেলে যজ্ঞ করেছেন। আমাদের এই ঝাপসা উত্তরাধিকার স্বাধীনতার জন্মদিন পালনের ব্যাপারেও এক সমালোচনা-হীন দেশপ্রেমী "নাগরিকবৃন্দ' বানিয়ে দিয়েছে। ... ...

দেহমনে ভাঙনের পদশব্দ, তথাপি আলমোড়া হইতে শান্তিনিকেতন ফিরিবার পর নানান কর্মকাণ্ডে জড়াইয়া পড়িতেই হয়। সহসা মন উতলা হইল, দিনকয়েকের জন্য একবার পতিসর মহাল ঘুরিয়া আসিবার জন্য। শান্তিনিকেতনের রাঢ়ভূমি হইতে বরেন্দ্রির খাল-বিল-নদী-নালা ঘেরা সেই শ্যামল জনপদে। সেই গহন জলযাত্রার পূর্বেকার স্মৃতি তো তাঁহাকে ছাড়ে নাই - ... ...

এইসব জ্ঞান শতবর্ষপ্রাচীন লেখনীর। এইসব গান শতবর্ষেরও পূর্বে স্বরলিপিকৃত। অথচ আজিকার এই ন্যানো-বায়ো প্রযুক্তসভ্যতার শিখরদেশে, দূরবর্তী সম্পর্কের ট্রমাঘোরের সাইকো-বিশ্লেষণে, অনির্দিষ্ট যুক্তিজালের ফাজিনেস্-এর মধ্যেও সেই প্রাচীন অক্ষর আর প্রাচীন সুরতালের মন্দ্ররোল শুনিতে পাইতেছি আমরা। প্রায় নিরুচ্চারে রাতের পাখির ন্যায় একাকী গভীরে প্রতিভাত হয় বাণী তাঁর। আমরা বুঝিব না, এই বাণী অনাগতকালের আবার ইহারই উচ্চারণ বিশ্ববীণার তন্ত্রীসমূহে স্থলে জলে নভতলে উপবনে অসীমকালের হিল্লোল হইয়া বাজিয়াছে? আর ঠিক সেই কারণটিতেই, আজিকার এই খণ্ডমুহূর্তে, এই সামান্য জীবনের বারিসিক্ত আচ্ছাদনটিতেও আমাদের উদ্বেলতার উদ্ভাস লইয়া শ্রুত হইতেছেন তিনি, গুরুদেব। ... ...