
মিহির সেনগুপ্তর লেখা বিষাদবৃক্ষ গতবছর আনন্দ পুরস্কার পেয়েছে; বইটির প্রকাশক সুবর্ণরেখা, দেড়শো টাকা দাম। মলাটে লেখা আছে, "বিষাদবৃক্ষ একখানি শক্তিশালী এবং বিষাদময় আত্মস্মৃতি যা এই উপমহাদেশের এক ভয়াবহ সময়ের প্রতিবিম্বিত দর্পণমাত্র।" অবতরণিকাতে মিহির লিখছেন, "যাঁরা পঞ্চাশের ছিন্নমূল কাফেলা, তাঁদের জীবনভর দু:খ সংগ্রাম, হারিয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার কথা নিয়ে নির্মাণ হয়েছে কত লেখা, ছবি, ছায়াছবি। আজও উপমহাদেশ জুড়ে বন্ধ হয়নি তার হাহাকারি চর্চা, রোমন্থন। কেউ সামগ্রিকতায়, কেউ নৈবক্তিক খন্ডিত গন্ডিতে অব্যাহত রেখে চলেছেন সেই দু:স্বপ্নের ব্রতকথা। .... স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলাম যারা ... যাদের অভিভাবকদের এপারে কোনও সহায়-সম্পত ছিল না চলে এসে স্থায়ী হয়ে, থিতু হয়ে বসার মত, তারা সেদিন কীভাবে তথাকার স্বাধীনভূমিতে বেড়ে উঠেছিল বা কতটা নাগরিক অধিকার লাভ করেছিল, এ গ্রন্থ তারই একটি আলেখ্য রচনার প্রচেষ্টা। ... ...

ভারত সরকার নাকি সতেরোখানা ওয়েবসাইট/ ব্লগসাইটকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তি চমৎকার। নেট আসার পর উগ্রপন্থী কার্যকলাপ নাকি হাতের মোয়া হয়ে গেছে। অতএব, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, এই ব্যান দরকারী। সরকারী সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তির কোনো সম্পর্ক সাধারণত: খুঁজে পাওয়া যায়না, নচেৎ প্রশ্ন করা যেত, ব্লগ সাইটের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঠিক কি সম্পর্ক? আর ব্লগ ব্যান করে জাতীয় নিরাপত্তাই বা কিকরে বাড়ানো যায়? ... ...

পর পর দু বছর দেশে ফেরা না হলে যা হয়। সবাই মিলে জানতে চায়, কী হল, কেন দেশে গেলে না। আমার চেনা নাসিম ওমরের পেশা কার্পেট ব্যবসা। আগে ছিল টাকা ধার দেওয়া কাবুলিওয়ালা। সে পেশার বারো বাজলো নানা ব্যাংক হাউস-কার-ট্রাভেল-এডুকেশন মায় পারসোনাল লোন দেওয়া শুরু করার পর থেকে। ব্যাঙ্কই ক্রাইসিসে তো নাসিম কীভাবে বাঁচাবে তার আদি ব্যবসা! বলে, ভালই হয়েছে, গালিমন্দ করে টাকা আদায় আর ভাল লাগে না। ... ...

এই রিপোর্টটি সিটিজেনস কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (সিসিএইচআর) এর লেখা, মুখবন্ধে য়ান ইস্টগেট সই করেছেন। আমি ছোটো করে ইনস্ট্যান্ট ভাষান্তর করলাম। এর একমাত্র উদ্দেশ্য রিপোর্টটির এক কপি সাদা বাংলায় রেখে দেওয়া। সকলের পড়া উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি। ইংরিজি শব্দে জর্জর ভাষান্তরের সময় নিজের বায়াস যাতে না ঢোকে তার কনশাস চেষ্টা করেছি। সিসিএইচআর তাদের এই রিপোর্টটির বাংলা গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে। ... ...

শিশুটি ক্ষিধে পেলে খেতে চায়, ঘুম পেলে শুতে। আর বাকি সময় সে প্লাগপয়েন্টের ফুটোয় ঢুকিয়ে দেয় ললিপপের কাঠি। পাশের প্লাগেঁ জে রাখে অন্য আরেকখানা ক্যান্ডি -- রচিত হয় সিমেট্রি। সে ড্রয়ারে ভরে রাখে জুতো, মোজার ভিতর বাদামভাজা। ছোট্টো পুতুলকে বসিয়ে রাখে কালো চেয়ারে, সোফার উপরে রাখে একলা কুকুরছানাটিকে। টিভির পাশে থাকে চামচ, জুতোর ফিতে, ক্যাসেটের খাপ। মেঝেতে ছবির ফ্রেম, পেনের রিফিল, এবং সানগ্লাস, পাশাপাশি। টেবিলের উপরে থাকে ঝর্ণাকলম আর তোবড়ানো কোকের বোতল। ... ...

ষোড়োশ শতাব্দীর মধ্য ভাগ, ঠিক বছর বলতে গেলে ১৫২৫। দুনিয়া কাঁপানো কিছু তেমন ঘটেনি সেই শতকে। অটোমান সাম্রাজ্য লম্বা পা ফেলে দখল করে নিচ্ছে মিশর ও আরব দেশ, লিওনার্দো ততদিনে এঁকে ফেলেছেন মোনালিসা, আর মার্টিন লুথার তার প্রতিবাদী ধর্মের থিসীস খাড়া করে ফেলেছেন। সারা দুনিয়া মাত্র ৪৫ কোটী মানুষ। ... ...

মনু বলে একজন খুব প্রাচীন লোক নাকি বলেছেন এই কথা। কি বলছেন ? ক্লিশে হয়ে গেছে? তাতে কি? বাক্যটা তো সব্বাই এখনও কেমন মেনে চলে। আর কোন প্রাচীন বাক্য মানুক আর মানুক এটা কিন্তু ঠিক মেনে চলে। 'কখনও বা ডার্লিং, কভু তুমি স্নেহময়ী সিস্টার' হলেও ইন জেনার্যাল ঐ 'নরকের দ্বার'। ... ...

"আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি কাউকে ঘৃণা করিনা। আমার পরিবারকে আমি ভালোবাসি। মৃত্যুদন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত সকলকে জানাবেন, তারা যেন হাল না ছাড়ে, বিশ্বাস রাখে।'' - এই ছিল মৃত্যুদন্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত কার্লোস ডিলুনার শেষ অফিসিয়াল বক্তব্য। খুনের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় টেক্সাসের একটি আদালত। প্যানকিউরিক ব্রোমাইড ইনজেক্ট করে সেই মৃত্যুদন্ডাজ্ঞা কার্যকরী করা হয় ১৯৮৯ সালের সাতই ডিসেম্বর। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে এই জাতীয় দার্শনিক উক্তি সত্ত্বেও, যাজক ক্যারোল পিকেট জানাচ্ছেন, মৃত্যুর ঠিক আগে কার্লোস ভয় পেয়েছিল। হাসতে-হাসতে জীবন দিতে বা নিতে পারে, এমন কোনো পেশাদার খুনীর মতো না, নাইন্থ গ্রেডের স্কুলছুট এই যুবকটিকে তখন মৃত্যুভয়াক্রান্ত এক স্কুলবালকের মতো লাগছিল। তখন তার বয়স ছিল সাতাশ। দন্ডাজ্ঞায় লেখা ছিল - নাম: কার্লোস ডিলুনা। জাতিতে হিস্পানিক। চুলের রঙ কালো। উচ্চতা পাঁচ আট। ওজন একশ পঁচাশি পাউন্ড। চোখের রঙ বাদামী। ... ...

বাল্যকালে গুরুজনদিগকে অধিক জ্বালাতন করিলে, উঁহারা আমাদিগকে সামলাইবার নিমিত্ত রাত্রিকালে প্রেত-রাক্ষসাদি এবং দিবাকালে পুলিশ-ছেলেধরাদি নামক জুজুর ভয় দেখাইয়া প্রশমিত করিতেন। যদিচ ছেলেধরা, প্রেত, রাক্ষসের সহিত চাক্ষুস মুলাকাৎ হয় নাই, তথাপি পথে চলিতে ফিরিতে পুলিশ দেখিতাম। উহারা কখনো সাদা কখনো বা খাকি পোশাক পরিহিত, মাথায় টুপি, হস্তে কাহারো লাথি কাহারো বা পকেটে আগ্নেয়াস্ত্র শোভা পায়। দেখিয়া দূর হইতেই এই মর্মে ভীত হইতাম যে একবার যদি আমাকে দেখিতে পাইয়া পাকড়াইয়া লইয়া যায়, তাহা হইলে আর নিস্তার নাই। ... ...

ইউক্যালিপটাস আর গাম ট্রীর আড়ালে মেপলগাছগুলি পাতা ঝরায়। বাদামী ভঙ্গুর পাতা হাওয়ায় পাক খায়। ঈষৎ উঁচুতে উঠে মাটিতে পড়ে। ধুলো হয়। বাসী খবর যেমন। অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক স্কুলে স্ক্রিপচার ক্লাস চলছে গত এক শতক। অপশনাল ক্লাস। স্কুলে ভর্তির সময় ফর্মে অভিভাবককে লিখে দিতে হয় ছাত্রটি স্ক্রিপচার ক্লাস অ্যাটেন্ড করবে কি না, কোন্ ধর্মের ক্লাস করবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই মতো ব্যবস্থা নেন। ... ...

ভোটে জিততে হলে কেমন করে চুল বাঁধতে হয় জানেন? কেমন মেক-আপ করতে হয়? কেমনধারাই বা পোশাক পরতে হয়? বাজি ফেলে বলতে পারি জানেন না। আসুন শিখি। ইংল্যাণ্ডে গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের খরচের ডিটেলস প্রকাশিত হয়েছে কিছুদিন আগে, একটু চোখ বোলাই, কেমন? ... ...

আউটসোর্সিং শুনলেই ফস্ করে মনে হয় আই.টি. বা আরো গোদা ভাষায় বললে কম্পিউটারের কথা। গির্জা বললেই পাদরী অথবা "মাস" এর কথা, আর মৃত্যু মানেই কফিন-কবর কিম্বা দাহকার্য্য। তো, আউটসোর্সিং এর সাথে কম্পিউটার ব্যবহার করে করা কাজকম্ম এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, হঠাৎ মাস-সার্ভিস বা ফিউনেরাল সার্ভিস আউটসোর্স হচ্ছে শুনলে কিরকম একটা ব্যোমকে যাওয়া ভাব হয়। ... ...

সম্প্রতি বেজায় হাঙ্গামা হয়েছে নরনারীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে। এ নিয়ে একটা সিনেমাও রিলিজ করলো, আর তার পরপরই হাতেনাতে জলজ্যান্ত প্রমাণ। সিনেমাটা দর্শককে খুব ভাবিয়েছিলো, নৈতিকতার প্রশ্নে বিবেকের প্রশ্নে যাকে বলে একটা ওয়ার্ক অফ আর্ট। কিন্তু বাস্তবেরটা সিনেমার চেয়েও ঘাঁটা কেস। কেসটা নতুন কিছু নয়, তবু আপাতত পাড়ার চায়ের দোকানে, অফিস ক্যান্টিনে, ইন্টারনেটের চ্যাটে, এটা এখন হট টপিক, কাগজে হেডলাইন। সমাজ যে কতটা উচ্ছন্নে যেতে বসেছে তার উদাহরণ নিম্নরূপ। ... ...

আঁধার সম্যক কৃষ্ণবর্ণে ক্রমশ ফুটে উঠতে থাকে রঙ্গীন সূচিশিল্প, মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে। এই ভাবে নিজেকে নিজে আস্বস্ত করি, এমনটাও কানে আসে আত্মহত্যা করা মহাপাপ। মুস্কিলটা হচ্ছে এই পাপ-ফাপ যেমন বুঝি না তেমন এটাও বুঝতে পারি ক্রমশ আত্মহত্যাই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, সকলেই এগিয়ে চলেছি সেই লক্ষ্যে। সুতরাং আখ্যান আরম্ভ। ... ...

কর্মীদের বসন্ত উপলক্ষে জামাটামার রিবেট-সেল, প্রেম টেলিসোপ অপ্রেম মদ জুয়ো ফুটবল বেঁচে থাকবেন। আবার পরের বছর বোশেখে সানডে রিচ লিস্ট আপনাদের ও দেশীয় আমরিবাংলা সাময়িকপত্রাবলী আমায় চেনা অচেনা স্বপ্ন দেখাবে। ভারতীয়দের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। এসো হে বৈশাখ। ... ...

ঐ উৎপত্তি নিয়েই তো বিপত্তি। সামান্য রথ - অথচ ওর ইতিহাসেই লুকিয়ে রয়েছে আর্যদের আদিভুমি'র বিতর্কের চাবিকাঠি। কিছু সাহেব বলেছেন রথ - বিশেষত: যুদ্ধরথ ইরান আর ইরাকের মধ্যবর্তী পাহাড়ী অঞ্চল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে পাশের রাজত্বে। হামুরাবীর সাম্রাজ্য ধ্বসে গেছে প্রায় দুশো বছর। এইবার ঐ যুদ্ধরথ চালকেরা পুর্ব দিকে বিস্তার করলেন। হরপ্পা বা সরস্বতী সভ্যতা গেলো সেই অভুতপুর্ব মিলিটারি টেকনলজির মুখে। ... ...

ঈস্টার আর অ্যানজাক ডের ছুটি শেষ। জনগণ কাজে ফিরছেন। বাতাসে মৃদু হিমভাব, আপিসফেরতা হাল্কা জ্যাকেট,এক ঘন্টা দেরীতে সকাল। অস্ট্রেলিয়ায় এখন হেমন্ত, এপ্রিল ফুরিয়ে এল স্কুলের দু সপ্তার ব্রেক শেষ হ'তে এখনও কদিন বাকি-পাবলিক লাইব্রেরি থেকে 'প্রিমিয়ার রিডিং চ্যালেঞ্জ'এর বই ইস্যু হচ্ছে প্রচুর। ... ...

রুনু গুহ নিয়োগীর মেমোয়ের্স। ছোটোবেলা, প্রথম প্রেম ... এ সব নিয়ে খুব আদিখ্যেতা করেন নি। প্রায় প্রথম পাতা থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তার কর্ম জীবন নিয়ে। প্রথম দুটো খন্ডে কয়েকটা ইন্টেরেস্টিং প্রতারনার ঘটনা, এ ছাড়া প্রায় সবটাই নকশাল আন্দোলন নিয়ে। অনন্ত সিং-এর কাজ কারবার নিয়ে অনেক লিখেছেন, বার বারই প্রকাশ করেছেন ঐ দলের শৃংখলা বোধ আর বুদ্ধিমত্তার। সততার আর সাহসের। এ যেন দুই পেশাদারের লড়াই, যুদ্ধ শেষে পরাজিতকে মনের থেকে বাহবা দেওয়া। ... ...

সিল্ক রোড নিয়ে ভালোবাসার শুরু বেশ ছোটবেলায়। এবং মধ্য এশিয়া,আফগানিস্তান। স্বপ্নে গোবি-তাকলামাকানের বরফঢাকা প্রান্তর। তারপর তো দেশে-বিদেশে হাতে পেলাম-সেই ঘোর লাগা rugged terrain। গৌতম ঘোষের তথ্যচিত্র। ডিসকভারি-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের কল্যাণে মাঝেমধ্যে মঙ্গোলিয়া-ইউরেশিয়ান স্তেপ। বিলেতে এসে সম্প্রতি হাতে পেলাম সান শুয়ানের বই, যার কথা লিখেছি আগে। আগ্রহ আর একটু বাড়লো, মনে হলো আর একটু পড়ি। তাই হাত বাড়ালাম স্বেন হেদিনের দিকে। সিল্ক রোড নিয়ে সম্ভবত: সবচেয়ে বিখ্যাত বইটির দিকে। ... ...

দিল্লীতে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া বারন হয়েছে। প্রকাশ্য শব্দটার ইংরিজি হলো পাব্লিক প্লেস। নিজের ঘরের শোবার বিছানা বাদ দিয়ে সবটাই পাব্লিকের। যেমন পার্ক। এই সমস্ত জায়গায় কোনো ছেলে মেয়ে এক সাথে দেখা গেলেই তাদেরকে ফাইন করা হবে ৫০০ টাকা। আগে ৫০ ছিলো কিন্তু বিশ্বায়নের কথা মাথায় রেখে একটা শুন্য মারা। কারন ওরা ইল্লুতেপনা করে চুমু খাবে এবং চুমু খাওয়ার মতো নোংরা জিনিস খুব কম আছে। যারা ফাইন করছে তাদেরকে চুমু না খেলেও আইন তার নিজের পথে চলবে। ... ...