এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুয়ারে ভিক্ষা এবং মধ্যবিত্ত সমাজের গোঁসা

    Surajit Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ জুন ২০২৪ | ৫৮৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বেশ কিছুদিন হলো চাকুরিসুত্রে এই জায়গাতে এসেছি। পরিবার নিয়েই এসেছি। কারণ এই বয়সে একা বসবাস করার সাহস হয় না। পরিবার থেকেও এখন আর একা ছাড়তে চায় না। একটা ভাড়া বাড়ীতে থাকি, অফিসের খুব কাছেই বাড়ীটা। একটু মফস্বল গোছের জায়গাটা। ঠিক শহর নয় আবার গ্রামও নয়। তবে গ্রামের স্নিগ্ধতা, নিরিবিলি আছে, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক আছে। এরমধ্যেই এই জায়গার অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে, প্রতিদিনই পাড়ার বয়স্ক লোকেদের একটা আড্ডা বসে সন্ধ্যাবেলায়। অফিস থেকে ফিরে সেই আড্ডায় না যেতে পারলে এখন মনটা খারাপ হয়ে যায়, রাতের ঘুমটা ভালো হয় না। বাড়ীর খুব কাছেই পুকুর পাড়ে একটা বসার জায়গা তৈরী করে নিয়েছে সবাই মিলে, সেখানেই সবাই বসে, আমিও আড্ডার লোভে চলে যাই প্রতিদিন। পাশের চায়ের দোকান থেকে দু-তিনবার চা আসে সকলের জন্য। সবাই এত আন্তরিক এবং মিশুকে যে এই মাস দুয়েকের মধ্যেই কেমন যেন আপন হয়ে গিয়েছে।

    সেদিন সন্ধ্যায় আড্ডা মারছিলাম সকলে, নারায়নবাবুকে বেশ গম্ভীর বলে মনে হলো। তিনি ঠিক আড্ডায় অংশ নিচ্ছিলেন না, আমাদের কথায় মাথা নেড়ে তার মত প্রকাশ করছিলেন। কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি বল্লেন, তার একমাত্র ছেলের কোনো একটা রাজ্য সরকারী দপ্তরে চাকুরীর প্যানেলে নাম উঠেছে। পনেরো লক্ষ টাকা লাগবে বলেছে তার ছেলে। তবে চাকুরীতে জয়েন করার চিঠি আসবে। তিনি সামান্য একজন মধ্যবিত্ত সরকারী চাকুরীজীবি, আমাদেরই মতো, কোথায় এতগুলো টাকা পাবেন। সেকথা শুনে প্রায় সকলেই তাদের গোচরে এসেছে এরকম অনেকগুলো উদাহরণ দিলেন মুহুর্তের মধ্যে। বুঝলাম, এইযুগে জন্ম মিলে আমাদেরও সরকারী চাকুরী হতো না, পয়সার অভাবে। 

    উদাস মনে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে বাড়ী ফিরে এলাম, গিন্নিকে বললাম কথাগুলো। গিন্নি শুনে বললো, এদিকে বিশাখার কথা ভাবো। বিশাখা হলো আমাদের বাড়ীর কাজের মেয়ে, ঘরদোর পরিষ্কার করে, বাসন মাজা, কাপড় কাচা ইত্যাদি করে। মাসে দেড় হাজার টাকা মাইনে নেয়। মফস্বল শহর বলে মাইনে অনেকটাই কম বোধহয়। তবুও আমাদের মতো মধ্যবিত্ত লোকের কাছে টাকাটা বেশীই। গিন্নি বলতে থাকে, বিশাখা কিছুদিন আগে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করে সোনার হার বানিয়েছে নিজের জন্য। তার কিছুদিন আগেই চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করে হাতের চুড়ি বানিয়েছে। বিশাখার সংসার বলতে সে, তার স্বামী আর দুটো ছেলে। স্বামী এলাকায় রিক্সা চালায়, সে নিজে প্রায় দশ বাড়ীতে কাজ করে, ছেলে দুটোই দোকানে কাজ করে। বড় ছেলের বিয়ে দিয়েছে, বৌমা এসেছে বাড়ীতে। মোট পাঁচজনের সংসার, মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা রোজগার করে সকলে মিলে।

    সরকারের দেওয়া বিনা মূল্যের রেশন, বাড়ীর দুই মহিলার জন্য লক্ষীর ভাণ্ডার, সকলের জন্য স্বাস্থ্য সাথী, যুবশ্রী, কর্মশ্রী, নিজ গৃহ নিজ ভূমি, বিনা মূল্যে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষাশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পের সাহায্যে মোটামুটি তাদের চারজন বা বর্তমানের পাঁচজনের সংসারের অর্ধেকের বেশী চলে যায়। বাকিটা চালাতে তো পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগে না মাসে। তার মানে প্রতিমাসে অনেক টাকাই জমে যায় তাদের।

    আমাদের কথা শুনে প্রসূন, আমাদের ছেলে, বলে উঠলো, বাবা, একটা কথা ভেবে দেখেছো কি? এদের পরিবারগুলোর কোনোদিন কোনো চাকুরীর প্রয়োজন নেই। কারণ সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা তৈরী করা এদের হয়ে ওঠে না, যে কোনো কারণেই হোক। এদের যে অভাবের সংসারে নিত্য টানাটানি, সেখানে সরকার এদের কাছে এক বন্ধুর ভূমিকায়। চাকুরীর দরকার আমাদের কারণ আমরা কোনোদিন রিক্সা টানতে পারবো না, ক্ষেতে কাজ করতে পারবো না, দোকানে কাজ করতে পারবো না বা লোকের বাড়ীতে কাজ করতে পারবো না। আমাদের মতো লোকের সংখ্যা কতো? নিশ্চয়ই ওদের চেয়ে বেশি। কিন্তু আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাগ আছে। কেউ বামপন্থী, কেউ ডানপন্থী, কেউ গেরুয়া, কেউ অতি বাম, অনেক রকমের ভাগাভাগি। ওরা, আমাদের চেয়ে সংখ্যায় কম হলেও পুরোটাই ফ্লোটিং ভোটার। কিন্তু সরকারের ভূমিকার কারণে তারা সকলেই সরকারের দিকে।

    আমাদের চাকুরী যদি খোলা বাজারে বিক্রি হয়, তাহলেও আমাদের মধ্যে বিভাজনটা থেকেই যায়, ভাগাভাগিটা একটু এদিক ওদিক হয় মাত্র। ওরা কিন্তু সরকারের দিকেই থেকে যায়। ওরা ছোটবেলা থেকে যে অভাবের মধ্যে বড় হয় সেখানে চালের বা গমের গুনগত মানের খামতি দেখা দিলেও সমর্থন পাল্টায় না।

    রাত্রে শুয়ে শুয়ে গিন্নি আর ছেলের কথা ভাবছিলাম। সত্যি এইভাবে তো ভেবে দেখিনি কোনদিন। আমরা নাম দিয়েছি, দুয়ারে ভিক্ষা, আমাদের চোখে, আমাদের সমাজের চোখে একটি হিন্য কাজ। আমরা চাই সরকারী নিরাপত্তা, প্রথম জীবনে পড়াশুনা করবো, তারপরে একটা চাকুরী পাবো। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলে আসবো, ব্যাস সারাজীবন নিশ্চিন্তে, সুখে, দুধে ভাতে কাটাবো। যারা ছোটবেলা থেকেই অভাবের মধ্যে মানুষ হচ্ছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করানো যাদের কাছে নিতান্তই বিলাসিতা মাত্র, তাদের কাছে চাকুরী বলতে তো বিভিন্ন দোকানে কর্মচারীর কাজ করা। সরকারী চাকুরীর নিশ্চিন্ত ঘেরাটোপ তাদের কাছে জাগতিক কোনো বিষয় নয়, স্বপ্নেও তারা এত বিলাসিতার কথা ভাবতে পারে না। সরকার চাকুরীর দরজা খুলে দিলেও তাদের পরিবারগুলোর সুখ সুবিধার ইতরবিশেষ পরিবর্তন হবে না। 

    ফলে এই চাওয়া পাওয়াটা নিতান্তই আপেক্ষিক। আবার সরকার কিন্তু অনেকদিন ধরেই চাকুরী শব্দটি তুলে দিয়ে কর্মসংস্থান কথাটির প্রচলন করেছে। অর্থাৎ সরকারের কাছে চাকুরীর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার চেয়ে কর্মদিবস তৈরী করার গুরুত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে। এই কর্মদিবসের বৃহৎ অংশ তৈরী হয় চাকুরীর পরিসীমার বাইরে। সুতরাং চাকুরী, চাকুরী করে মধ্যবিত্ত শ্রেণী যতই লম্ফঝম্ফ করুক না কেনো সরকার, নিম্নবিত্ত এবং দরিদ্র শ্রেণীর এতে কোনো মাথাব্যথা নেই এবং কিছু যায় আসেনা। এদের মিলিত সংখ্যা এবং ক্ষমতা কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চেয়ে অনেক বেশী। 

    আমায় জেগে থাকতে দেখে বোধহয়, ছেলে জিজ্ঞেস করলো, আমার শরীর খারাপ করছে কিনা। আমি বললাম, তোর আর তোর মায়ের কথাগুলো চিন্তা করছিলাম, তাই ঘুম আসেনি এখনও। ছেলে বললো, ঘুমিয়ে পড়, এত চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ হবে, সরকারের সিদ্ধান্ত কি পাল্টাবে এতে? আমি বললাম, সিদ্ধান্ত না পাল্টালে যে তুই চাকুরী পাবি না! প্রসূন বললো, এই দুয়ারে ভিক্ষা যাকে বলছো তোমরা সেটা কিন্তু দরিদ্র শ্রেণী, অন্ত্যজ শ্রেণীর দারিদ্রতা দুর করছে। এদের আগে দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে, তবেই এদের শিক্ষা-দীক্ষা আসবে, উন্নতি আসবে। তারজন্য হয়তো মধ্যবিত্তের দু-একটা প্রজন্মকে হতাশায় ভুগতে হবে।

    আমি বললাম, তবুও এই চাকুরী বিক্রির ব্যাপারটা? একেই চাকুরী নেই কোথাও, যেটুকু চাকুরী হচ্ছে সেটাও যদি খোলা বাজারে বিক্রি হয়, তাহলে মধ্যবিত্ত কোথায় যাবে? প্রসূন বললো, বাবা সমাজে দুর্নীতির ইতিহাস সেই প্রাচীনকাল থেকেই পাওয়া যায়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ আজ অব্দি পাওয়া যায় নি। কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতি মানুষের মজ্জাগত হয়ে গিয়েছে। ভুক্তভুগীরা ছাড়া কারুর যে কোনো মাথাব্যথা নেই তার প্রমাণ তো গত অনেক বছর ধরেই দেখতে পাচ্ছো। এতদিন ধরে কিছু বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে যে ধর্না দিচ্ছে, সরকারের দরজায়, কোর্টের দরজায় ঘুরছে, কারা এদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে? সমাজের কটা লোক এদেরকে সাহায্য করছে? যদি আমরা সবাই মিলে এদের সাহায্য করতাম, এদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতাম, এদের সমস্যার সমাধান অনেকদিন আগেই হয়ে যেতো। আমি বললাম, তবুও সরকার দুর্নীতি করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। ছেলে বললো, তুমি আমাকে বলো, সরকারীস্তরে দুর্নীতি কবে হয়নি? 

    প্রসূনের প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার কাছে ছিল না। দুর্নীতিকে যে আজও মন থেকে মেনে নিতে পারি না। আমরা কি তাহলে শুধুই বক্তৃতা দেবো ঘরে বসে? প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, এই শব্দগুলো কি তাহলে মধ্যবিত্তের অভিধান থেকে মুছে গিয়েছে? মধ্যবিত্তের শিরদাঁড়া কি আগের মতো আর সোজা নেই? না কি কোনোকালেই সোজা ছিল না?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.200.235.11 | ০৬ জুন ২০২৪ ১১:১৫532763
  • আবার ভুল ভাল, লোক দেখানো ও ঠকানো।
    আমাদের একমাত্র পুত্র প্রবাসে ঝাড়খন্ডে, Larsen tubro তে engineer একুশ বছর বয়স থেকে সংসারের জোয়াল বইছে, বাবা গত ২০ বছর ক্যানসার আক্রান্ত, , মাসে উপার্জন ৬৫ হাজার, ৫ জনের সংসার, বাড়ী ভাড়া সংসার খরচ, চিকিৎসার জন্য খরচ করতে প্রায় পারে না, তাতেও এক হাজার কন্যার জন্য সেভিংস, ছাড়া ৫ দিন প্রায় হরিমটর। 
    পিতা মাতা উপার্জন করেনি বিগত ২৬ বছর।
    Rishra শহরে দুই কামরার ঘুপচি তে বাস।
    কোথায় ছাতা কোথায় ভাতা, তলামূলের উপাদক
    সব ভোকাট্টা।
    বাড়ীতে সবার ব্যধি প্রবেশ করুক বুঝবেন সব চটি চাটা , কাব্যি ছুটে যাবে।
    ৪০ বছর বিনা পারিশ্রমিক ছাত্র পড়িয়েছি।
  • :|: | 174.251.161.123 | ০৬ জুন ২০২৪ ১১:৫৯532769
  • লেখাটি পড়িনি। কমেন্টটি পড়লুম। "বাড়ীতে সবার ব্যধি প্রবেশ করুক" -- শুভেচ্ছা দেখে জানাতে ​​​​​​​ইচ্ছে ​​​​​​​হলো ​​​​​​​যে সব বাড়িতেই ব্যাধি আছে। মৃত্যু আছে। আজ নয়, সেই যখন তথাগত বুদ্ধ পুত্রহারা মাকে সর্ষে আনতে বলেছিলেন তার বেশ অনেকটা আগে থেকেই আছে। আপনি হয়তো নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রথম জানলেন। সে ঠিক আছে। এমন হয়েই থাকে।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b5bd:1a73:4b1d:a69a | ০৬ জুন ২০২৪ ১২:০৭532771
  • কিছুদিন হলো সৃষ্টিছাড়ার কমেন্টগুলো নানা টইতে পড়ি। আপনি বোধায় বেশীরভাগ সময়ে আধা বাক্য লেখেন বলে ঠিক মতো বুঝতে পারি না। তবে মোটামুটি যা বুঝতে পেরেছি, আপনি বোধায় সিনিয়র সিটিজেন, আর কঠিন সময় পার করছেন। আপনার কষ্ট কিছুটা ফিল করতে পারি। আশা করি এই সময় পেরিয়ে যাবেন। উইশ ইউ অল দ্য বেস্ট। 
  • | ০৬ জুন ২০২৪ ১৩:২৭532781
  • নিজের কঠিম্ন সময় অন্যকে অকথ্য গালিগালাজের লাইসেন্স দেয় না তো। কতটা হীন মানসিকতা হলে সম্পুর্ণ অপরিচিত লোকের বাড়িতে ক্যান্সার চাওয়া যায়? কথাতে বলে মানুষে শত্রুরও ক্যান্সার চায় না আর এই সৃষ্টিখেউড়া যার ক্লেম ট্যু ফেম হল ২০ বছর ধরে ক্যান্সার সার্ভাইবার।  
     
    আমারই নিকটাত্মীয়,  বন্ধু কতজনে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর ২ মাসও বাঁচে নি, সেখানে ২০ বছর অনেক লম্বা সময়।  লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দরকার হলে রিষড়া মিউনিসিপালিটিতে গিয়ে ফর্ম ভরে জমা দিলেই হয়ে যাবার কথা। যে কোন ওয়েলফেয়ার স্কীমেই টাকা পেতে গেলে ফর্ম ফিলাপ করতে হয়। সেটুকুও না করে এদিক ওদিক ছুবলে বেড়ালে ওই ছোবল আর গলা অবধি বিষ তিক্ততাই সার হবে। 
     
    এরা আবার নিজেদের সাম্যবাদী বলে বেড়ায়! এদের ঘেন্না করতেও ঘেন্না হয়। 
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:1833:f91f:521f:23af | ০৬ জুন ২০২৪ ১৪:২৪532788
  • সৃষ্টিছাড়া মশাইয়ের অসুস্থতা আর দুরবস্থার কথা জেনে খারাপ লাগল। তবে এই যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এর নেপথ্যে একটি সামাজিক সুরক্ষার ভূমিকা রয়েছে, অন্তত আমি যতদূর জানি, এতে বিশ্বব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের শুধু এই খাতেই খরচ করার নির্দেশিকা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ব্যাপারটায় সদর্থক ভূমিকা নিয়েছেন, অন্তত আমাদের নিজেদের অ্যানালিসিস যা বলে। এখন এর যে দিকগুলো তুলে সমালোচনা করা হচ্ছে একে কিন্তু ভিক্ষা বলা চলে না। আপনি যদি Asian Development Bank বা বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক ডাটাবেস দেখেন,দেখবেন, এশিয়ার মধ্যে এই ধরণের সামাজিক সুরক্ষা খাতে জাপান, কোরিয়া, আজারবাইজান (বা প্রাক্তন সোভিয়েত ব্লকের এশিয়ান দেশগুলো) তাদের জিডিপির অনেকটা পরিমাণ ব্যয় করে, তুলনায় ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশের এই খাতে খরচা খুবই কম। সেদিক থেকে দেখলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রয়াস প্রশংসনীয়। 
     
    এখন আপনার বর্ণিত hardshipএর সমস্যাটি জটিল। তবে আমি ভারতে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছি তো, আমি আপনাকে এইটুকু বলতে পারি আপনি যদি সরকারী স্বাস্থ্য দপ্তরে আপনার কেস নিয়ে যোগাযোগ করেন আপনার অসুখ জনিত খরচার সুরাহা হবে। মানুষের মঙ্গল কামনা করুন, (আমার 'মালিকের' ভাষ্যে "মেত্তা,করুণা,মুদিতা,উপেক্ষা ' যাকে অবশ্য ব্রহ্মবিহারও বলতে পারেন ,:-) )
    দেখবেন আপনার নিজের উপকার হবে (নিছক কথার কথা লিখছি না)। করে দেখুন না।
  • PRABIRJIT SARKAR | ০৬ জুন ২০২৪ ১৯:৫২532797
  • যারা নিচের তলার লোক তাদের কাছে এই ভান্ডার ভিক্ষা হলেও কাজের। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। এই যে অভিজিৎ নোবেল পেলো তার তত্ত্ব এই অনুদান দিতে বলে। সরকার স্কুল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে এই দান করবে। রাহুল গান্ধী গতবার জিতলে এরকম কিছু করত আরো ব্যাপক ভাবে। তাই অভিজিতের সঙ্গে অনেক বৈঠক করেছিল।
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.209.117.69 | ০৭ জুন ২০২৪ ২০:১৮532855
  • বাস্তব অবস্থা প্রকাশের জন্য ব্যধির উল্লেখ অপরের অসময় প্রত্যাশা করবার সৃষ্টিছাড়া কে?  
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.209.117.69 | ০৭ জুন ২০২৪ ২০:২৩532856
  • আমার মত রেউড়ি কালচার 
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.209.117.69 | ০৭ জুন ২০২৪ ২০:২৫532857
  • আমি চিরকালই নীচের তলার 
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.209.117.69 | ০৮ জুন ২০২৪ ০৭:২৫532881
  • Neobladder reconstruction আর ছয় ধাপে ৩৫ টি  Chemo ও Radiation therapy, খুব অন্যায় সৃষ্টিছাড়া র বেঁচে থাকা। 
    ১৯ বছর বয়স থেকে পুত্র জোয়াল বইবে, স্ত্রী ornament বেচে দেবেন, সমাজ সভ্য জগৎ কি করে মেনে নেবে একজন সমাজকর্মীর পরিবারের এই প্রচেষ্টা এক সামাজিক অপরাধ। দুই এক জন ঠিকই বলেছেন।
    সুপ্রিম কোর্টে ইউথেনেশিয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। গুরুদের পরামর্শে আত্মহত্যা ই তো শ্রেয়।
    সমাজ সচেতন সু নাগরিক শিক্ষিত জনই তো পথ দেখাবেন।
    Rishra Municipality তে সমব্যথী র আবেদন হবে না, দেহদানের অঙ্গীকার করা আছে, আস্তাকুঁড় আগেই বাছা আছে। পারলৌকিক ক্রিয়া পরিবার অশৌচ পালন করবে না। সৃষ্টিছাড়া আগেই আবেদনপত্র লিখে দিয়েছে।
    চিন্তা নেই হে সমাজ সচেতন জনগণ! 
    বন্ধু আত্মীয় যাঁরা মরণে মশা মারা ধূপ দিতে আসেন, তাঁদেরও খবর দিয়ে সময় নস্ট করা হবেনা , নিশ্চিন্ত থাকুন গুরুরা।
    বেঁচে থাকা ভীষণ অপরাধ।
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.209.117.69 | ০৮ জুন ২০২৪ ১০:০৯532885
  • গুরুরা একটু বলবেন এই সাংবিধানিক পরিকাঠামো তে *ইমাম ভাতা* *পুরোহিত ভাতা* কি মহান social benifit scheme! 
    আমার পিতামাতার পারিবারিক পুরোহিত মাসে ৪৬ হাজার টাকা পেনশন পান, কাশীপুর Gun & Shell এর কর্মী ছিলেন, পুত্র টি সরকারী হাই স্কুলের শিক্ষক, জজমানি করে, প্রাইভেট টিউশন করে মাসে লাখ খানেক উপার্জন করে, কর ফাঁকি দিয়ে।
    রিষড়া শহরের আটটি মসজিদের সব ইমাম, মোয়াজ্জেম দের আত্মীয়রা পৌরসভা, পঞ্চায়েত, মাদ্রাসা কর্মী। 
    এর নাম Welfare, টই তে কয়েকজন অশ্রাব্য গালি দিয়ে, পৌরসভার কাছে আবেদনপত্র দিয়ে welfare নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
    Am I a consumer to the country?
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন