এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কাইজার গান্ধী 

    Nabhajit লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০২ মে ২০২৪ | ১৬২ বার পঠিত
  • কাইজার এখন দিল্লীতে পুলিশ কোয়াটারে থাকে সি ব্লকে , চিত্রগুপ্ত রোডের পেছনেই।  ভীষণ সুরক্ষিত জায়গা । আকাশ আর কামাত দুজনেই এখনো দিল্লীতে।  ওরা কেউ এখনো বিয়ে করেনি।  আড্ডা চলছে পুরোদমে।  একদিন হঠাৎ রাতে কাইজারের ফোন বেজে ওঠে। 
     - আপনি কি কাইজার গান্ধী বলছেন? বাংলায় প্রশ্ন।
     - হাঁ, আপনি ?
     - কাইজার, আমাকে চিনতে পারবে কি না জানি না, আমি সুকুমার দা। 
     - আরে সুকুমার দা , তোমাকে ভুলতে পারি ? বলেই কাইজারের বুকে দামামা বাজতে শুরু করে। 
    কলকাতায় কলেজে পড়ার সময় কাইজারের আর এক অভিজ্ঞতা হয় কিন্তু সেটা সুখস্মৃতি নয়।  কলেজে হোস্টেল না পেয়ে মরিয়া হয়ে থাকার জায়গা খুঁজছিলো , সেই সময় জুবিনের এক বন্ধু কাইজারের থাকার অন্য একটা বাড়িতে কয়েকমাসের জন্য ভাড়ার একটা ঘরের ব্যাবস্থা করে দেয়।  আমহার্স্ট স্ট্রিটে একটা দোতলা বাড়ি, ওদের একটা ঘর ছিল নিচে আর একটা বাথরুম, কোনো রান্না ঘর নেই।  কোনো পরিবারকে এই ঘর  ভাড়া দেওয়া মুশকিল , কাইজারের মতো ছাত্রের জন্য এর থেকে ভালো ব্যাবস্থা আর কিছু হতেই পারেনা। আমহার্স্ট স্ট্রিটের   একটা মেসে  দুবেলা খাবার খেতে যেত, আড্ডা হতো আরো জনা পাঁচেক লোকের সাথে , তারপর ঘরে এসে পড়াশোনা আর ঘুম।  বাড়িওয়ালা একজন নিতান্ত ভদ্রলোক , সুকুমার দা।  সাদামাটা জীবন, সরকারি চাকরি , পেটমোটা বাঙালি নয়, যথেষ্ট পেটানো চেহারা। মাঝে মাঝে কাইজারের সাথে আড্ডা মারতে চলে আসতেন নিচের ঘরে।  কখনো বিয়ার এর বোতল বা ছোট একটা হুইস্কি নিয়ে আড্ডা মারতেন।  কাইজারের জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছিলেন জুবিনের বন্ধুর থেকে।  জুবিনের যে বন্ধু সুকুমার দার বাড়িতে কাইজারের থাকার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন সেই বন্ধু সুকুমার দা কে সব বলেছিলেন কাইজার সম্মন্ধে।  সেই থেকে কাইজারের প্রতি সুকুমার দার একটা ভালোবাসা মেশানো শ্রদ্ধা আছে।  একদিন রবিবার দুপুরে সুকুমারদার বাড়িতে খাওয়ার নেমন্তন্ন এলো। সুকুমার দার স্ত্রীর সাথে আলাপ হল।  নাম লাবণ্য।  চেহারায় লাবণ্য কম চটুলটা বেশি। বয়েসে সুকুমারদার থেকে অনেক ছোটো। কাইজার দের সমবয়সী হবে। অনেক আড্ডা হলো সেদিন।  লাবন্যর চোখের চাহুনি মাঝে মাঝেই কাইজার কে অস্থির করে ফেলছিলো।  যাইহোক সেদিন ভালো খাওয়া দাওয়া হলো, আড্ডা হলো।  সাধারণত কাইজার ভাড়ার টাকা দিতো সুকুমার দার হাতে যখন উনি আসতেন আড্ডা মারতে।  সেবার ভাড়ার টাকা নেওয়ার জন্য সুকুমার দা এলেন না , বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে সুকুমার দার কোনো পাত্তা নেই।  মাসের দশ তারিখ পার হওয়ার পর কাইজার ভাবলো ওপরে গিয়ে টাকা তা দিয়ে আসবে।  সেদিন ছিল রবিবার।  দুপুরে মেস থেকে খেয়ে, কিছুক্ষন আড্ডা মেরে বিকেল চারটে নাগাদ কাইজার ওপরে উঠে দরজার কড়া নাড়লো, লাবণ্য বেরিয়ে এলো।  একটা ঢিলা নাইটি পরে।  পেছনের জানালা থেকে তখন দিনের আলোর আভাস।  লাবণ্য নাইটি র নিচে কিছুই পড়েনি তা দেখা যাচ্ছে পেছনের আলো ছায়ায়।  লাবন্যর চোখে সেই চটুলটা। 
     - বৌদি, ভাড়ার টাকা নিয়ে এসেছিলাম, সুকুমার দার সাথে বেশ কয়েকদিন দেখা হয় নি , তাই দিতে পারিনি - বলে লাবন্যর হাতে টাকা দিলো কাইজার। আরো জিজ্ঞাসা করলো  - সুকুমার দা কোথায়? সব ঠিক আছে তো ?
     - আগে ভেতরে এস, চা বানাচ্ছি  বলে লাবণ্য দরজা খুলে একটু সরে  দাঁড়ালো।
     - আরেক দিন আসবো বলে কাইজার চলে যাচ্ছিলো।
    লাবণ্য প্রায় ঝাঁপিয়ে পরে কাইজার হাত ধরে টান মারলো। 
     - এস তো ভেতরে।
    কাইজার লাবন্যর পেছনে ঘরে এসে ঢুকলো। লাবণ্য দরজা বন্ধ করতে করতে বললো
     - তোমার সুকুমার দা অফিসার কাজে দিল্লি গেছে , ফিরবে পরের সপ্তাহে।
    এবার কাইজার এর অস্বস্থি বাড়তে লেগেছে।  এভাবে একজন মহিলার বাড়ি আসা ঠিক হয় নি।  লাবণ্য  নিজের মতো ছিল নিজের বাড়িতে , অযথা অপ্রস্তুত হলো কাইজারের জন্য।  এদিকে কাইজারের মনেও যে ধীরে ধীরে একটা লিপ্সা জন্ম নিচ্ছে না তা নয়। আমাদের সভ্যতার মূল মন্ত্র হলো কামনা কে আড়ালে রাখা। মনে যাই হোক , আমরা জন্তুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে শিখিনি। 
    লাবণ্য গেছে রান্না ঘরে চা বানাতে , কাইজার সোফায় বসে একটা ম্যাগাজিন ওল্টাচ্ছে।  কিছুক্ষন বাদে লাবন্যর প্রবেশ , হাতে দু কাপ চা।
     - বিসকুট খাবে  - জিজ্ঞাসা করতে করতে ঝুঁকে পরে কাইজার কে চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো লাবণ্য। 
    নাইটি র ফাঁক দিয়ে তখন লাবন্যর বুক সম্পূর্ণ উন্মুক্ত , কাইজার লাবন্যর নাভি পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে।
    গলা দিয়ে না, হাঁ কিছুই বেরলো না। লাবণ্য বোধহয় বুঝতে পেরেছে। কাইজার প্রায় একচুমুকে চা শেষ করে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
     - আজ আসছি বৌদি।  বলে দরজার দিয়ে এগিয়ে গেল। 
    লাবণ্য আজ এই সুযোগ হয়তো ছাড়তে  চাইছিলো না।  মরিয়া হয়ে কাইজার গলা জড়িয়ে ধরলো। লাবন্যর ঝুলন্ত বুক কাইজারের বুকে চেপে বসেছে।  এক দুবার কাইজার চেষ্টা করে লাবণ্য কে সড়িয়ে দিতে , কিন্তু পারলো না।  লাবন্যর কপালে ঘাম। 
     - কি দেখছিলে আমার জামার ফাঁক দিয়ে ? লাবণ্য জড়ানো গলায় জিজ্ঞাসা করলো।
    কাইজারের হাত তখন লাবন্যর জড়ানো হাত দুটো থেকে নেমে লাবন্যর পিঠের দিকে।  বেশি চাপ দিতে পারছে না কাইজার , লাবন্যর নরম বুক প্রায় থেঁতলে গেছে ওর বুকে।  গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না।  লাবণ্য প্রায় টানতে টানতে কাইজারকে নিয়ে এসেছে ওদের বেডরুমে।  লাবন্যর হাত এখনো  কাইজারের গলা জড়িয়ে আছে।  এবার কাইজার শেষ চেষ্টা করলো , কিন্তু আবার অসফল হলো।  লাবণ্য এক ঝটকায় নিজের নাইটি খুলে ফেলেছে।  কোমরে একটা কালো সুতোর মাদুলি বাদে আর কোনো কিছু নেই। আবার এগিয়ে এসে কাইজারকে জড়িয়ে ধরলো লাবণ্য।  এর পর আর কোনো বাঁধন নেই।  কাইজারও সুযোগের অপব্যবহার করে নি সেদিন।  মাঝে একবার সংকোচ হচ্ছিলো লাবন্যর শরীরে প্রবেশ করার আগে।  কিন্তু লাবণ্য আসস্থ  করলো
     - ভয় নেই , আমার পিরিয়ড গত পরশু শেষ হয়েছে।
    এই অভিজ্ঞতায় কোনো প্রেম ছিল না , শুধু ছিল কামনা আর ভয়।
    এই ঘটনার কিছুদিন পর কাইজার কলেজের হোস্টেলে একটা ঘর পেয়ে যায়।  সুকুমার দার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলো না কাইজার।  নিজেকে বিশ্বাসঘাতক মনে হচ্ছিলো ওর।  যাইহোক, এই অভিজ্ঞতা কাইজারের জীবনে আর যেন না আসে এই ভেবে সুকুমারদার বাড়ি ছেড়ে হোস্টেলে পারি দিলো সে।  মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে যায় সেই ভেজা স্বপ্ন দেখে।  
     
     - তোমরা কোথায় ? কোথা থেকে ফোন করছো  - কাইজার জিজ্ঞাসা করে। 
     - আমরা এখন কলকাতায়, তোমার ফোন নম্বর জোগাড় করেছি অনেক কষ্টে, জুবিন ভাই এর আশ্রম থেকে।  তোমাকে খুব দরকার ভাই।  আমি আর লাবণ্য দিল্লী আসছি দু দিনের জন্য।  লাবণ্যের বাবা র সাথে দেখা করতে।  তোমার সাথেও দেখা করতে চাই। 
    কাইজার একটু ইতস্তত করছিলো, কিন্তু সুকুমার দা কে 'না' বলতেও ইচ্ছা করছিলো না। 
     - সুকুমার দা,  তোমরা আমার কোয়াটারেই থেকো , আমাকে জানিয়ে দিও কবে কি ভাবে আসছো, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেবো। 

    কিছু মানুষ আছে যাদের উপেক্ষা করা যায় না , সুকুমার দা তাদের মধ্যে একজন।  অত্যন্ত পরোপকারী একজন ভদ্রলোক।  লাবণ্য কে নিয়ে কাইজারের একটু ইতস্তত ভাব থাকলেও সে অনেক দিন আগের ঘটনা।  জীবনের জোয়ারে অনেক অসাবধানতা, অনেক ভুল ভ্রান্তি আমরা করেই থাকি , কিন্তু সেই ভুলকে ভুলে গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নাম ই জীবন।  আশাকরি লাবণ্য সেই ভুল নিয়ে এখনো বেঁচে নেই ।
    দু দিন পর সুকুমার দা আর লাবণ্য এসে হাজির।  এক লহমায় লাবণ্যের দিকে তাকিয়েই কাইজার বুঝেছে যে লাবণ্য 'দুঃখিত' বলতে চাইছে।  রাতের ডিনারের পর তিনজন গল্প করতে বসলো।  অনেক পুরোনো কলকাতার কথা তারপর সুকুমার আসল গল্পটা বলতে শুরু করলো। 

    লাবণ্য র মা এর নাম ছিল উষা আর বাবা ছিলেন মুনাবার।  লাবণ্য র বিয়ের পর পর ই ওর মা মারা যান। বাবা একটা রেডিমেড গার্ম্মেন্ট কোম্পানি তে ভালোই চাকরি করতেন, বিয়ের পর লাবণ্য আমার সাথে কলকাতায় চলে আসে।  মা মারা যাওয়ার পর কিছুদিন বাবার সাথেও ছিল লাবণ্য , তারপর ফিরে আসে কলকাতায়।  হঠাৎ একদিন খবর আসে যে মুনাবার কে  পুলিশ গ্রেফতার করে , কারণ মুনাবার ড্রাগ ব্যবসায় জড়িত।  এই খবরে আমরা সকালেই চমকে যাই।  মুনাবার কোম্পানিতে একটা বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন চালাতো আর মালিক পক্ষের তা ভালো লাগতো না।  মুনাবার এর দলের সকলকেই মালিকরা হাত করেছিল টাকা পয়সা দিয়ে কিন্তু মুনাবারকে পয়সার লোভ দেখিয়ে তেমন কোনো সুবিধা হয় নি।  শেষে নিজের দলের লোকজন মালিক পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে মুনাবার কে গ্রেফতার করায়।  পাঁচ বছরের মেয়াদ।  তিন বছর হয়ে গেছে , কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মুনাবারকে নির্দোষ প্রমাণ করা যায়নি , অনেক অভিমান নিয়ে মানুষটা মুখ বুঁজে সব সহ্য করছে।  হয়তো মনের ভেতর কোনো প্রতিশোধের আগুন আছে, কিন্তু আমরা চাই উনি সব ভুলে একটা শান্তিপূর্ণ জীবন পান।  আমরা ওনার সাথে দেখা করতে প্রায়ই আসি দিল্লি, সান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষা পাইনা , অনেক বার বলেছি যে এখান থেকে বেরিয়ে আমাদের সাথে থাকতে কিন্তু উনি রাজি নন।  শেষ জীবন একাই কাটাতে চান আর তাও  দিল্লিতেই। আমাদের আশংকা উনি এবার সত্যি কোনো অপরাধ করে ফেলবেন।  আমি জানতাম তুমি পুলিশে আছো, দিল্লিতেই আছো , তাই তোমার শরণাপন্ন হয়েছি ভাই। ওনাকে একটু বুঝিয়ে বোলো। 
    কাইজার শুনেছে কিন্তু কোনো মন্তব্য করার মতো কিছু নেই , শুধু মুনাবার কোন জেলে আছে জেনে নিলো।      
    সুকুমারদা মুনাবার সম্মন্ধে যা বলেছিলেন, শুনে কাইজারের মনে হয়েছিল লোকটাকে অকারণে অপরাধী বানানো হয়েছে।  কিন্তু এই মুহূর্তে জাজমেন্টাল  হয়ে লাভ নেই।  তিহার জেলে প্রায়ই কাইজার কে যেতে হয় , জেলারের সাথে ভালো আলাপ আছে।  মুনাবার এখন তিহারেই আছে। 
    পরদিন সকালে সুকুমারদা আর লাবণ্য গেলো মুনাবারের সাথে দেখা করতে, কাইজার কাজে বেরোলো।  কাজের ফাঁকে তিহার জেলের জেলার অবস্থিজি র সাথে ফোনে কথা হলো।  কাইজার বললো মুনাবারের কথা। এতো অপরাধীর মধ্যে এক মুহূর্তে অবস্থি জি বললেন যে উনি মুনাবারকে জানেন , অত্যন্ত ভদ্রলোক , জেলে থাকাকালীন ওর কোনো খারাপ রেকর্ড নেই।  স্কুলের বাচ্ছাদের জন্য ড্রেস বানান আর বিক্রি করে বেশ টাকাও রোজগার। কাইজার বলে যে একদিন ও এসে মুনাবারের সাথে দেখা করতে চায়।  অবস্থি জি রাজি হয়ে যান কিন্তু বলেন যে মুনাবার কারো সাথে বেশি কথা বলে না , চেষ্টা করে দেখতে পারেন যদি আপনাকে কিছু বলে।       
    সুকুমারদা আর  লাবণ্য কলকাতা ফিরে যাওয়ার আগে একদিন লাবণ্য কে একলা পেয়েছিলো কাইজার।  লাবন্যর চোখে জল, ' খুব ভুল হয়ে গেছিলো সেদিন'  - বলে কাঁদছিলো। 
    ' আমিও নিজেকে সামলাতে পারিনি , সরি ' - কাইজার এই বলে পার পেতে চাইছিলো। 
    এর পর লাবণ্য শুধু বলেছিলো ' আমার বাবা কোনোদিন ড্রাগের চোরাচালান করতেই পারেন না, সারা জীবন আদর্শ নিয়ে চলেছেন , আমার জীবনে আদর্শ কোনো মানুষ আমার বাবার থেকে কেউ বড় নয়।  খুব অভিমান নিয়ে গুমরে মরছেন।  আমার ভয় হয় , কোনো অঘটন না ঘটিয়ে ফেলেন ! '
    নিজের অপরাধবোধ নাকি সামাজিক দায়িত্ববোধ বা হয়তো একজন নিরাপরাধ মানুষের জন্য ন্যায় বিচারের প্রয়োজনবোধ সব মিলিয়ে একটা বিশেষ বোধ থেকে কাইজার লাবণ্য কে বলে 'আমি দেখছি'। পরদিন লাবণ্য আর সুকুমার দা চলে গেলেন। 

    দু দিন পর কাইজারের আগমন তিহার জেলে।  অবস্থি জি ঠিকই বলেছেন।  মুনাবার মুখ খুলতে চাইছেন না।  প্রথমে কাইজার নিজেকে পুলিশের ACP র পরিচয়ে কথা শুরু করে।  যখন বরফ গলছে না তখন কাইজার মুখ খোলে।  আপনার মেয়ে জামাই দুজনেই আমার খুব পরিচিত। ওরা আমার সাথেই ছিল গত দুদিন  যখন আপনার সাথে ওদের দেখা হয়।
     - আপনার ব্যাপারে সব কথাই লাবণ্য আর সুকুমারদা আমাকে বলেছে, আমি আপনার কথা শুনতে চাই আপনার মুখে, কাইজার মুনাবার কে বলে।
     - কি হবে সব শুনে ? শুধু প্রমান করতে পারিনি বলে , আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় ড্রাগ কেসে।  যে শ্রমিকদের জন্য লড়াই করছিলাম তারাও পয়সার লোভে আমার বিরুদ্ধে কথা বলে।  মাঝে মাঝে মনে হয় পায়ের নিচে মাটি নেই, কারো ওপর ভরসাই করা যায় না  - বলতে বলতে মুনাবারের চোখ দুটো সজল হয়ে ওঠে।  শুধু মেয়ে আর জামাই আছে তাই বেঁচে থাকার সামান্য প্রয়োজন বোধ করি।  সুকুমার খুব ভালো ছেলে , হয়তো বড়লোক নয়, কিন্তু খুব বড় মনের মানুষ, লাবণ্য কে খুব যত্নে রেখেছে।   
    এর পর বেশ কিছুদিন কাইজার হানা দে তিহারে।  অবস্থি জির সাথেও কথা হয় মুনাবার কে নিয়ে।  চেষ্টা করলে মুনাবার কে এখন ছেড়ে দেওয়া যায় , ওর রেকর্ড খুব ভালো। কাইজার যে কাজে আছে ওকে ইনফর্মারের ওপর ভরসা করতে হয়, মুনাবারের প্রোফাইল ওর ভালো লেগেছে।  লোকটা বাংলা, উর্দু আর হিন্দি লিখতে পড়তে জানে।  দর্জিগিরি  করলেও, কলকাতার বাদল দার সাথে থেকে বই পড়ার অভ্যাস রয়ে গেছে।  জেলেও বই পড়ে মুনাবার।    
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০২ মে ২০২৪ | ১৬২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ভূতনাথ - Nabhajit
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন