এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  স্বাস্থ্য

  • ভূতের বেগার: দ্বিতীয় অধ্যায়

    Arindam Basu লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | স্বাস্থ্য | ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ | ৪২০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • পর্ব ১ | পর্ব ২
    গত অধ্যায়ে লিখেছিলাম কৃবু তে, বিশেষ করে মেশিন বা ডীপ লার্নিং এর ক্ষেত্রে, যেখানে মেশিনকে শেখাতে হয়, সেই সব কাজ করতে গেলে প্রচুর ডাটা বা তথ্যের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে যেখানে ধরুন মেশিনকে ছবি চেনানো বা নানান রকম প্যাটার্ণ চেনানোর প্রয়োজন পড়ে। শেখাতে গেলে প্রথমে যেটি শেখানো হচ্ছে সেটি যে ঠিক কি তার একটি নামকরণ (ইং লেবেল) করে দিতে হয়, না হলে মেশিনের পক্ষে শিখে ওঠা সম্ভব নয়। এটা যে শুধু তথাকথিত supervised learning মানে যেখানে মানুষের তত্ত্বাবধানে মেশিন শিখছে সেই প্রেক্ষিতেই শুধু প্রযোজ্য তাই নয়, যে সব ক্ষেত্রে মানুষের তত্ত্বাবধান না থাকলেও মেশিন "শেখে", যাকে বলা হয় unsupervised learning, সেখানেও মানুষের প্রয়োজন পড়ে। unsupervised learning এর ক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা করে লেবেলিং এর হয়ত প্রয়োজন পড়ে না, কারণ মেশিনকে প্রদত্ত ডাটা থেকে সে নিজে নিজে প্যাটার্ণ বার করতে সক্ষম হয়, তাহলেও সে যা শিখল তা ঠিক না ভুল বা তাকে সংশোধন করার কারণেও মানুষের প্রয়োজন। 

    অতএব প্রচুর ডাটার বা তথ্যের প্রয়োজন এবং মানুষের কোন না কোন প্রকার তত্ত্বাবধানের যেহেতু প্রয়োজন পড়বেই, সেই সব কারণে এ আই বা কৃবু জনিত যে সব ব্যবসা বা গবেষণা, সেখানে বহু মানুষের প্রযোজন পড়ে। এদের সকলে যে খুব টেক স্যাভি হবেন, বা কমপিউটার বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ হবেন, তা নয়। বরং সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন যারা লেবেল বা নামকরণ করতে সক্ষম, বা কমপিউটার নামকরণ বা যে ধরণের শ্রেণীবিভাগ করেছে সে ঠিক মতন করেছে কিনা তাকে নির্ণয করার মত বোধবুদ্ধি থাকলেই চলবে। এসব ব্যাপারে যে বিশেষ পড়াশোনার প্রয়োজন তাও নয়। মোটামুটি চলনসই পড়াশোনা করা থাকলেই কাজ হবে। 

    একটি বাজে ;-) উদাহরণ দিই, তাতে হয়ত কি বলতে চাইছি খানিকটা আরেকটু স্পষ্ট করে বোঝাতে পারব। মনে করুন আপনি একটি এ আই বা কৃবু ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে চান | আপনি একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরী করেছেন সেখানে,কারো ধরা যাক মিষ্টি খাবার ইচ্ছে হয়েছে, বা মিষ্টির অর্ডার দিতে চান। তিনি তাঁর পছন্দ মতন মিষ্টির ছবি তুলে বা মিষ্টির বর্ণনা দিলে, যে মিষ্টি তাঁরা খেতে চান, আপনার ওয়েব অ্যাপে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের সঙ্গে ব্যবস্থা করা আছে, তারা আপনার ওয়েবসাইটের গ্রাহকের কাছে মিষ্টি পৌঁছে দেবেন। আপনি মিষ্টির সার্ভিস দিলেন মিষ্টির দোকানের ব্যবসা হল, মিষ্টিপ্রেমী আপনার অ্যাপ ডাউনলোড করে সাবস্ক্রাইব করলেন, এইরকম । 
     
    এখন এই জাতীয় একটি ব্যবসা যদি কৃ্ত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করতে হয়, তাহলে আপনার কমপিউটারকে সর্বপ্রথমে মিষ্টির ছবি বা মিষ্টির বর্ণনা থেকে মিষ্টির নাম চেনাতে হবে। একবার কমপিউটার মিষ্টির ছবি বা বর্ণনা থেকে নাম নির্ধারণ করতে শিখলে তারপর সেই মিষ্টি কোথায় পাওয়া যায় বা আপনার সার্ভিসের গ্রাহকের বাড়ির ঠিকানার (বা যে ঠিকানায় তিনি মিষ্টি পেতে চান) তার কাছাকাছি মিষ্টির দোকানের ঠিকানা ইত্যাদি যোগাড় করে বাকী কাজটা করা যেতে পারে। এখন মুশকিল হচ্ছে যে এত রকমের মিষ্টি, কোন এক বা একাধিক মানুষের পক্ষে সব নামকরণ করে নির্ধারিত করা মোটেই সহজ কাজ নয়, হলেও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। শুধু তাই নয়, আরো মনে করুন, আপনি এই কাজ করার অভিপ্রায়ে প্রায় হাজার দশেক বিভিন্ন প্রকার মিষ্টির ছবি সংগ্রহ করেছেন। 
     
    এবার ভেবে দেখুন যে এই হাজার দশেক মিষ্টির প্রতিটির কী নাম, সে সব যদি আগে থেকে লেবেল করা থাকে বা নির্ধারিত করা থাকে, তো সে এক রকম ব্যাপার। সেটা না হওয়াই স্বাভাবিক, এবং সেক্ষেত্রে, আপনাকে নিজেকে, বা কাউকে বা একাধিক মানুষকে দিয়ে এ কাজটি করাতে হবে। পুরো ব্যাপারটি অত্যন্ত সময় এবং ব্যযসাপেক্ষ। আমি ১০ হাজার মিষ্টির ছবির কথা লিখলাম বটে, কার্যক্ষেত্রে এর থেকে অনেক বেশী ছবির প্রযোজন হয়, এমনকি আপনি যদি transfer learning নামে একটি এলগরিদম ব্যবহার করেও আপনার ব্যবসা চালাবার কথা ভাবেন, তাহলেও খুব কম করে ৫০-৬০ হাজার ছবির আপনার প্রয়োজন পড়বেই | এখন এই বিপুল পরিমাণ ছবি যদি আপনি নিজে একা লেবেল করতে যান, তাহলে সারাদিনে আর অন্য কোন কাজ না করে আট-দশ ঘন্টা ধরে শুধু এই কাজ করলেও আপনার প্রায় ৫০০০ থেকে ৬৫০০ দিন পড়বে, গড়পড়তা বছরে ৩০০ দিন কাজ যদি করেন, তাহলে প্রায় বছর কুড়ি লেগে যাবে। পাঁচ দশ জন লোক লাগিয়েও যে খুব সুরাহা হবে তা নয়। 
     
    এবার ধরা যাক আপনি ১০০০ লোককে জোগাড় করলেন, প্রত্যেকে গড়ে ৫০-৬০ টি ছবি ট্যাগ বা লেবেল করবেন, তাহলে ঐ একই কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যেতে পারে । এখন এই কাজটি যে আপনি কেবল একবার মাত্র করবেন, এবং  করলেই হবে তা নয়, মাঝে মাঝেই আপনাকে নানান মিষ্টির ছবি, একই মিষ্টির নানান "রকমের" বা "ধরণের" ছবি দিয়ে চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের রুচি বদলায়, নিত্যনতুন নতুন রকমের মিষ্টির আবিষ্কার হয়, ফলে কাজটি বহুকাল ধরে, মানে আপনার ব্যবসায়ে অন্তত যতদিন চলবে, চালিয়ে যেতে হবে। আপনি সবে শুরু করেছেন, আপনার পক্ষে একসঙ্গে হাজার লোককে দিয়ে কাজ করানো অসম্ভব, প্রায় অবাস্তব ধারণা। হলেও তাদের পাবেনই বা কোথায়, তারা কোথায় এসে কাজ করবে, আপনি তাদের কাজে বহাল করবেনই বা কিভাবে? এই প্রশ্নগুলো সহজ প্রশ্ন নয়, এবং এদের উত্তর জটিলতর। এই ব্যাপারটি কেবল যে আপনার বা কৃবু কেন্দ্রিক ব্যবসায়ের সমস্যা তাই নয়, অন্যান্য বহু ব্যবসাতেই এই জাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শুধু ব্যবসা বলে নয়, বহু গবেষণার ক্ষেত্রেও এই জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়।  

    গত অধ্যায়ে লিখেছিলাম যে আমাজন কোমপানি তাদের অনলাইন ব্যবসা শুরু করার সময়ে এই সমস্যাটিরই মুখোমুখি হয়েছিল | যে কারণে তারা এমটার্ক প্রোগ্রামটির সূত্রপাত করে। 
     
     

    চিত্র ১ | আমাজনের এমটারক কি ব্যাপার এই নিয়ে আমাজনের ব্যাখ্যায়িত চিত্র | যিনি কাজ দিচ্ছেন আর যারা কাজ করছে তাদের পারস্পরিক অবস্থান নজর করুন। 

    ২০০৬ সাল | আমাজন তখন এখনকার মতন বিশাল বহুজাতিক কোমপানী হয়নি, তারা বই বিক্রি ছাড়াও নানান পণ্যের অনলাইন বাজার রূপে আত্মপ্রকাশ করছে। নবীন সহস্রাব্দের এমন সময়ের কথা বলছি যখন সোস্যাল মিডিয়াও সেভাবে ছিল না, যেমন ফেসবুক এবং টুইটার সবেমাত্র শুরু হয়েছে | তো আমাজন যখন অনলাইন বাজার হিসেবে শুরু হয়েছিল, অবধারিত ভাবে বহু পণ্যের ডুপলিকেট বা প্রতিলিপি নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। সেই সমস্যার সমাধান কমপিউটারের পক্ষে সমাধান করা অসম্ভব, কারণ প্রতিলিপি চিনে তাকে শনাক্ত করার ক্ষমতা একমাত্র মানুষই পারে, মেশিনের সে ক্ষমতা নেই (আধুনিক মেশিন লার্নিং এর যুগে হয়ত কিছু অংশে তার সমাধান সম্ভব, তাও পুরোপুরি আজও সম্ভব নয়) | আর যেখানে হয়ত কয়েক লক্ষ প্রতিলিপি, সেখানে অল্প সংখ্যক মানুষকে দিয়ে প্রতিলিপি শনাক্তকরণের কাজ অবাস্তব | 
     
    আমাজন সেই সমস্যার সমাধান করতে এমটারক আবিষ্কার করে, যার সফটওয়্যার লিখেছিলেন ভেঙ্কট ("ভেঙ্কি") হরিনারায়ণ নামে এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র। কি ছিল সেই সমাধান? মনে করুন আপনি একটি ওয়েবসাইট সারফ করছেন, এবং আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য আপনি আপনার ব্যক্তিগত সফটওয়্যারে ডাউনলোড করতে চান। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে তথ্য আদানপ্রদান করার জন্য Application Programming Interface বা সংক্ষেপে API এর সাহায্য নেওয়া হয় (আমরা সবাই এর সাহায়্য নিই, আপনি সফটওয়্যার প্রোগ্রামার হলেও নেন, না হলেও নেন) । এপিআই সাধারণত অনলাইনে এক মেশিন বা এক কমপিউটার বা সারভার থেকে অন্য মেশিনে তথ্য আদানপ্রদানের কাজে ব্যবহার করা হয়। হরিনারায়ণ  এক অভূতপূর্ব সমাধান আবিষ্কার করলেন, যেখানে তিনি এমন একটি এপিআই সফটওয়্যার লিখলেন যেখানে তথ্যের আদান প্রদান শুধু নয়, ত়থ্য এবং মানুষের একপ্রকার মেলবন্ধন সংগঠিত হল। তথ্য চাইতে গিযে শুধু তথ্যই নয়, মানুষকেও পাবেন!

    ব্যাপারটা কেমন জানেন?

    মনে করুন আপনার সেই মিষ্টির অ্যাপের ছবি লেবেলিং এর কাজের জন্য আপনার হাজার খানেক "কর্মী/worker" এর প্রয়োজন। আপনি এমটার্ক এর ওয়েবসাইটে নাম লেখালেন যে আপনি একজন "কাজ-করার-লোক-প্রার্থী", যার পোষাকী নাম এদের সাইটে "requester" | আপনি হলেন রিকোয়েসটার |  আপনি যা চান অর্থাৎ আপনার ক্ষেত্রে মিষ্টির ছবি আর কাজের তালিকা তৈরী করে দিলেন, এই লিখে যে ছবিপিছু আপনি পাঁচ মার্কিন সেনট পয়সা দেবেন। আমাজন আপনার "কাজ" তাদের এমটারক সাইটে নথিবদ্ধ করল। আর একদল মানুষ (ছবির ডানদিকের তলায় বহু মানুষ), তারা কাজ খুঁজছে। তারাও এমটার্ক সাইটে নাম লিখিয়েছে | আপনি তাদের খুঁজে পাবেন কি করে? সাধারণত এপিআই দিয়ে তথ্য আদানপ্রদান করা যায়, মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় না তো! হরিনারায়ণের লেখা সফটওয়্যার সেই কাজটিকে সম্পন্ন করল যাতে শুধু তথ্য নয়, তথ্যের পিছনে মানুষের অবধি হদিশ পাওয়া যেতে পারে |
     
    অতএব আমাজনের এমটারক ব্যবহার করে আপনি "লোক" খুঁজে পেলেন, তারা  আপনার কাজ করতে চায়, সেই কাজ তারা "ধরল", কাজ সম্পন্ন করল, আপনি যে মজুরী দেবেন প্রতিশ্রুতি দিযেছিলেন (সন্তোষজনক কাজ হলে), আপনার প্রতিশ্রুতি মতন আমাজনের মাধ্যমে তাদের কাছে মজুরী পৌঁছল। এর মাঝখানে আমাজন যেহেতু মধ্যস্থতা করেছে, তারা এ বাবদ "টাকা কেটে" নিল | এমটারক কে ব্যাখ্যা করার যে ছবিটি আমি রেখেছি, সেটি ব্যাপারটিকে ব্যাখ্যা করছে, তবে তার থেকেও বড় কথা, আমার মনে হয়, এই ধরণের কাজকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির এ যেন একটি প্রতীকী চিত্র। কেন লিখলাম এ কথা ক্রমশ প্রকাশ পাবে, তবে আপাতত এইটুকু বলা যায় যে এই বিচিত্র কাজের জগতে আমাজনের কাছে আপনি, যিনি কাজ দিতে চাইছেন, আর তিনি, যিনি আপনার কাজ করে দিলেন, আপনারা উভয়েই  "গ্রাহক", এর বেশী কিছু নন। যে বা যারা আপনার কাঙ্খিত কাজটুকু করে দিল, যে মানুষেরা না হলে আপনার কাজটি হয় না, তাদেরকে আপনি চিনলেন না, তারা আপনার কাছে অদৃশ্য রয়ে গেলন, তাদের পরিচয় আপনার কাছে অজ্ঞাত রযে গেল একটি সাংকেতিক চিহ্ন রূপে, আর যিনি আপনার কাজটি আপনাকে করে দেবেন, তিনিও আপনাকে চেনেন না, তাঁর কাছেও আপনি একটি সাংকেতিক চিহ্ন বই আর কিছু নন। 
     
    মাঝে রয়ে গেল কাজ |

    মানুষের সভ্যতায় কাজ সংগঠনের ইতিহাসে শ্রমিক মালিকের পরস্পরকে না চেনার অনেক রকমের ব্যাপার হয়ত রয়েছে, তথাপি এই ধরণের বিচিত্র ব্যাপার অদ্যাবধি দেখা যায় নি। বলতে গেলে, এ এক অদ্ভুত কাজের জগৎ, যেখানে কাজ হচ্ছে অথচ কেমন যেন এক অশরীরী, প্রেতের মতন কিছু মানুষ কাজ করে যাচ্ছেন, কারণ কাজ যাই হোক, এক্ষেত্রে মানুষেরা গৌণ, মুখ্য চরিত্র এখানে platform, এই ব্যাপারটির প্রেক্ষিতে আন্তরজাতিক শ্রম সংগঠন, international labour organisation একে platform labour নাম দিয়ে অভিহিত করেছেন। আবার বহু মানুষের কাছে এই ধরণের কাজ এবং সংলগ্ন যে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি গড়ে উঠেছে বা উঠছে, তার নাম দিযেছেন gig economy (বাংলা ব্যাণ্ড গানের ভাষা ধার করে বললে "মাচার অর্থনীতি") | তারপর সমাজতত্তবিদ মেরী গ্রে এবং মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র সঞ্জয় সুরী এর নাম দিয়েছেন "ghost work", ভূতের বেগার। গ্রে এবং সুরি এই প্রেত কাজ নিয়ে একটি দীর্ঘ গবেষণামূলক বই লিখেছেন, বইটির নাম GHOST WORK HOW TO STOP SILICON VALLEY FROM BUILDING A NEW GLOBAL UNDERCLASS| সেখানে তাঁরা ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানুষ,যাঁরা এই কাজ করে দিন গুজরান করছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এবং তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখাটি লিখেছেন। শুধু তাঁরাই নন, প্ল্যাটফর্ম ইকনমি নিয়ে আরো দীর্ঘ গবেষণা হয়েছে | 
     
    এখানে আমার আলোচনার বিষয় এই ধরণের অসংগঠিত কাজের ক্ষেত্রে  নিয়োজিত মানুষের  কায়িক, মানসিক, সামাজিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তাভাবনার একটা দিক রয়েছে, দুঃখের বিষয় যেটি প্রায়ই অনুল্লেখিত রয়ে যায়। এই সিরিজে আমরা ক্রমশ দেখব ব্যক্তিগত এবং সমাজ জীবনে "গিগ ইকনমির" ("মাচা অর্থনীতি"র) কি অদ্ভুত ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব। তার সবটা যে সামগ্রিক ভাবে "খারাপ" তা হয়ত নয়, সবটা যে ভাল তাও নয়। ভাল খারাপ মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। যেহেতু এখানে সাবেক কাজের পরিবেশ নেই,  এই কর্মীবৃন্দ নিয়ে কোন ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের মাথাব্যথা নেই, কারণ ভূতেদের কে কবেই বা দেখেছে | তাহলে কি হবে, এঁদেরও শ্রমিক সংগঠন তৈরী হয়েছে | 
     
    এঁরা algorithm এর কাছে, যন্ত্রের কাছে শ্রমিক। 

    মানুষের ইতিহাসে খুব সম্ভবত এই প্রথমবার যন্ত্র মানুষের কাজকে, অন্তত কিছু মানুষের কাজকে মালিকের মতন নিয়ন্ত্রণ করছে।  

    এহেন অভুতপূর্ব পরিস্থিতিতে মানুষ --> ভূত | 

    (ক্রমশ প্রকাশ্য)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • আলোচনা | ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ | ৪২০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 122.164.84.195 | ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৫527699
  • এটাও একটা ইন্টারেস্টিং দিক। গিগ ইকোনমিতে আরও নানারকম রোলে অনেকে কাজ করছেন, যেমন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ডেলিভারি এজেন্টরা, ট্যাক্সি বুকিং অ্যাপের ড্রাইভাররা, আরও নানারকম অ্যাপ বেসড সার্ভিসের সাথে যুক্ত ফ্রিল্যান্সাররা।   
  • Arindam Basu | ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:০৬527700
  • একদম।
    সর্বত্র এই চলছে। 
  • যদুবাবু | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০৫:০৬528003
  • @অরিনদা, অনেকদিন পর পড়ার অবকাশ হলো। খুব ভালো লাগছে। ডিসির মন্তব্য সবসময়ই খুব ভালো কমপ্লিমেন্ট করে যে কোনো ভালো আলোচনা।  
     
    টই চলুক। এই শ্রমিক শোষণের দিকটা এ আই নিয়ে হট্টগোলের মাঝে চাপা পড়ে যায়। যতটা তুলে রাখা যায় আর কি। আমি ইন ফ্যাক্ট ভাবছি আমার মেশিন লার্নিং ক্লাসে একটু সিলেবাসের বাইরে গিয়ে এই জিনিসগুলো পড়াবো এবার থেকে। শুধু অঙ্ক আর অ্যালগো শিখে হবে না। 
     
    এই প্রসঙ্গে, মেকানিকাল টারকের ইতিহাস নিয়েও একটু লিখবেন আশা করি। 
  • Arindam Basu | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০৭:৪৬528004
  • যদুবাবু, আপনার ফিডব্যাক পেয়ে খুব ভাল লাগল। 
     
    মেকানিকাল টারকের ইতিহাস নিয়ে কিছুটা আগের অধ্যায়ে লিখেছিলাম, আরেকটু লেখা দরকার ছিল মনে হয়। তবে সেটা অবশ্য এই মানুষ মেশিনের পারস্পরিকতার নিরিখে লেখা হয়েছিল। একটা ব্যাপার জেনে ভারি ভাল লাগল যে আপনি মেশিন লার্নিং এর ক্লাসে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে "মানুষের" শ্রমের দিকটায় নজর দিতে চাইছেন, এটা যে কতটা প্রয়োজনীয়, আমার মনে হয় সর্বত্র ব্যাপারগুলো পড়ানোর একটা জায়গা আছে (আমার ক্ষেত্রে যেমন অকুপেশনাল এপিডেমিওলজি পড়াতে গিয়ে ব্যাপারগুলো আসবে ) | 
     
  • dc | 2401:4900:634c:7de1:242d:4bf:46c2:3be9 | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১০528005
  • "আমি ইন ফ্যাক্ট ভাবছি আমার মেশিন লার্নিং ক্লাসে একটু সিলেবাসের বাইরে গিয়ে এই জিনিসগুলো পড়াবো এবার থেকে"
     
    এটা হলে তো দারুন ব্যাপার হবে! :-)
  • যদুবাবু | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১৯528006
  • হ্যাঁ আপনি আগের কিস্তিতে লিখেছিলেন তো বিশদে। আমি অনেকদিন পর পড়লাম বলে পুরো ভুলে গেছি। লজ্জার ব্যাপার। 
     
    আর ওইটা বহুদিন ধরেই ভাবছিলাম। এবার করেই ফেলবো। আমার বন্ধু রোহানের একটা ভালো কোর্স আছে "Ethics and Data Science"। সেখান থেকে কিছু রেফারেন্স নেবো। সেই কোর্সের লিংকটা দিয়ে যাই। যদি আপনার বা অন্য কারুর কাজে লাগে। (বিশেষ করে উইক টু- এর রেফারেন্সগুলো দেখার অনুরোধ রইলো)। 
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন