এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অনন্যা নারী 

    Sayanti Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ | ৮৫ বার পঠিত
  • পর্ব  ১০ 

    শেষ ঘণ্টায় জয়িতার একটা ক্লাস থাকে। এক একদিন জয়িতা ভাবে ক্লাসটা বাদ দেবে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা এসে যায়। তাদের আগ্রহের কাছে কোন অজুহাত জয়িতা নিজেকে দিতে পারে না। অল্প কয়েকদিনেই জয়িতা কলেজের বেশ জনপ্রিয় লেকচারার হয়ে উঠেছে। যদিও জয়িতার মনে হয় তাঁর জন্য জয়িতার লেখিকা সত্ত্বাও অনেকটা কারণ। জয়িতার লেখা পাঠক মহলে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু আজ জয়িতার একটু তাড়াই ছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ক্লাসে এল। তাড়াতাড়ি শেষ করে বেড়িয়ে যাবে।

    জয়িতা অনেকক্ষণ একটানা পড়ানোর পর একটু থামল। অন্ধকার হয়ে এসেছে। কিন্তু এখন তো সন্ধ্যে হয় নি। জানালার দিকে চোখ পড়তেই বুঝতে পারল বাইরে ঘন কালো মেঘ জমেছে আকাশে। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে। জয়িতা চিন্তায় পড়ল। বাড়ি ফেরার তাড়াটা আছে। না আর বেশি দেরি করা যাবে না। তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।

    সকালে বেড়োনোর সময় ডাকবাক্স থেকে চিঠিগুলো বের করেছিলো জয়িতা। কিন্তু পড়া হয় নি। বেশির ভাগ প্রকাশকের চিঠি। কিছু সভাসম্মেলনের নিমন্ত্রণ পত্র। একটা বাইরের চিঠি। জয়িতা সেটা ব্যাগে ভরে চলে এসেছিলো কলেজে। অফ পিরিয়ডে দেখবে বলে। দেখেওছিল। আমেরিকার এক কলেজের নিমন্ত্রণ পত্র। অতিথি লেকচারার হিসেবে। এতটা জয়িতা ভাবেনি নিজেকে নিয়ে। অর্ণবের সাথে যখন ওদেশে গেছিল, জয়িতার জীবনটা অর্ণবের স্ত্রী হিসেবেই কেটেছে। জয়িতার নিজের কেরিয়ার, নিজের ইচ্ছেগুলো ডানা মেলতে পায় নি। জয়িতার তা নিয়ে দুঃখ বোধ না থাকলেও একটা অভাব বোধ ছিল। কিন্তু জয়িতা ঠিক বুঝতে পারছে না এই নিমন্ত্রণ গ্রহন করা উচিৎ কিনা…।

    অর্ণবের চলে যাবার পর একটা সময় জয়িতার কাছে ঐ দেশটা একটা দমবন্ধ পরিবেশে পরিণত হয়েছিল। জয়িতা হার না মানলেও, কিছুতেই সেই সময়টা মানিয়ে নিতে পারছিল না। ইন্ডিয়া না এলে হয়ত জয়িতার পক্ষে নিজেকে সামলানো সম্ভব হত না। মা কে পাশে পেয়ে জয়িতা অনেকটা বল পেয়েছিল। আবার সেই দেশে। মার সাথে কথা বলাটা খুব দরকার। জয়িতার বাড়ি যাবার তাড়া আছে আজ সে কারণে।

    ক্লাস শেষ করে জয়িতা রুম থেকে ব্যাগটা নিল। কিন্তু ততক্ষণে জোর বৃষ্টি নেমে গেছে। জয়িতা হতাশ হয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। ছেলেমেয়েরাও বেরোতে পারে নি কেউ। সব ইতস্তত জটলা করে গল্প জুড়েছে। খুব জোর বৃষ্টি নেমেছে। কলকাতায় আবার একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জল জমে যায়। বাস পাওয়া যায় না। ট্যাক্সিগুলো অত্যাধিক ভাড়া চায়। বৃষ্টি কখন থামবে কে জানে। তুতুল হয়ত এতক্ষনে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছে। তুতুলের যদিও দিম্মা থাকলেই হবে। বাড়ি ফিরে যত গল্প তো সেই দিম্মার সাথেই। মা তুতুলের দায়টা অনেকটাই নিয়ে নিয়েছে।

    জয়িতা অনেকটা ফাঁকা সমায় পায় সেই জন্যই। সংসারের গণ্ডিতে আর নিজেকে বেশি জড়াতে জয়িতার ভালো লাগে না। অর্ণব যদিও নতুন সংসার করেছে । ঐ খবরটুকুই শুনেছে। তাঁর বেশি কিছু জানার আগ্রহ জয়িতার হয় নি।
     
    জয়িতা ভাবনার জগতে ছিল। বারান্দার ওপাশের জটলা থেকে একটা মেয়ের গলা, অন্য একটা মেয়কে ডাকছে। যাকে ডাকছে সে একটু দূরে একা দাঁড়িয়েছিল। ডাক শুনে জটলার দিকে এগিয়ে গেল। দুতিন মিনিটের ব্যবধান, পুরো জটলাটা একসাথে বারান্দা থেকে কলেজের গেটের দিকে  বৃষ্টির মধ্যেই চলে গেল হই হই করতে করতে। কয়েক সেকেন্ডের ঘটনা। জয়িতার চোখের সামনে একটা ছবি ভেসে উঠল। তনিমা, জয়, অর্ণব…আর জয়িতা। সেই বৃষ্টিতে ময়দানে যাওয়া। একসাথে গল্প, হইহই। এই তো সেই সেদিনের কথা। সব কিছু যেন জীবন্ত এখনও। জয়িতা মুহূর্তের জন্য হারিয়ে যায় অতীতে। তারপরই নিজেকে সামলে নেয়। যা অতীত তা অতীতই। তাকে আঁকড়ে থাকলে যন্ত্রণাই হবে। বরং সামনে তাকানোই ভালো।

    বৃষ্টিটা ধরে এসেছিলো। জয়িতা ব্যাগটাকে বুকের কাছে চেপে ধরে বারন্দা থেকে নেমে এলো বাইরে বেরোনোর জন্য।
     
    সমাপ্ত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন